লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করলেন খালেদা জিয়া

 

সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া লন্ডনে বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় ঈদ উদযাপন করেছেন।

২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছিলেন তিনি। এরপর দীর্ঘদিন দেশে ও কারাবন্দি অবস্থায় ঈদ পালন করতে হয় তাকে। এবার পরিবারের সান্নিধ্যে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ‘বেগম জিয়া বর্তমানে সুস্থ আছেন এবং পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন। এটি আমাদের জন্য একটি আনন্দের মুহূর্ত।’

তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন জানান, ‘ম্যাডাম তারেক রহমানের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদ করেছেন। তার দুই পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও সৈয়দা শর্মিলা রহমান এবং তিন নাতনি ব্যারিস্টার জায়মা রহমান, জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান তার সঙ্গে ছিলেন। অনেক দিন পর পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোয় তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলেন।’

তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো। চিকিৎসক অধ্যাপক জন কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে তিনি লন্ডনে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

চিকিৎসার জন্য গত ৮ জানুয়ারি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। সেখানে ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিক’-এ ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ছেলের বাসায় ওঠেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরে তিনি লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দি হন খালেদা জিয়া। পরে করোনার সময় সরকার তাকে বিশেষ শর্তে মুক্তি দেয়। এর ফলে চারটি ঈদ তিনি কারাগার ও হাসপাতালে কাটান।

দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে পরিবারের আবেদনে সাড়া দিয়ে তাকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দেওয়া হয়। এখন তিনি পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কিছু ছাত্র প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে: নুর

গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, “এক সময় ছাত্ররা ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক সচেতনতার জন্য লড়াই করত, কিন্তু এখন কিছু ছাত্র প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে (ইউএনও অফিস, ডিসি অফিস, এসপি অফিস ও থানা) অনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক।”

শনিবার (২৯ মার্চ) বিকেলে গলাচিপা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গণঅধিকার পরিষদ গলাচিপা উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, “একসময় ছাত্ররা বৈষম্যের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করত, কিন্তু বর্তমানে আন্দোলনের নেতারা রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এটি আগে সবার জন্য একটি মুক্ত প্ল্যাটফর্ম ছিল, কিন্তু এখন স্বার্থান্বেষীরা দলীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ছে।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে প্রতিবাদী চেতনা সৃষ্টি হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থান সম্ভব হয়েছে। জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো গণআন্দোলন সফল হতে পারে না।”

নুর বলেন, “মেধাবীরা রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকায় দুর্বৃত্তরা আধিপত্য বিস্তার করছে। ফলে সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাব দেখা দিচ্ছে। মেধাবীদের রাজনীতিতে আসা উচিত, যাতে ন্যায় ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।”

তিনি বলেন, “আমি পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। জনগণের সমর্থন পেলে সংসদে গিয়ে তাদের অধিকার রক্ষায় কাজ করব।”

তিনি জানান, “গলাচিপার রামনাবাদ নদীর ব্রিজ বাতিল হওয়ার পথে ছিল। তবে যথাযথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে এটি পুনরায় টেন্ডার করা হয়েছে। আশা করি শিগগিরই এর নির্মাণকাজ শুরু হবে।”

ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা কমিটির আহ্বায়ক মো. সৈয়দ নজরুল ইসলাম লিটন, সদস্য সচিব মো. শাহআলম, উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মো. জাকির হোসেন মুন্সি, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মহিবুল্লাহ এনিম ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আবু নাঈম।

গণঅধিকার পরিষদ, যুব অধিকার পরিষদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এই মাহফিলে অংশ নেন। ইফতারে প্রায় ৩ হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুমকিতে শহীদ বীর পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (ZRF) উদ্যোগে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় শহীদ বীর পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় ZRF এর প্রেসিডেন্ট জনাব তারেক রহমানের নির্দেশনায়, যেখানে ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিমের তত্ত্বাবধানে ঈদ উপহার বিতরণ কর্মসূচির আহবায়ক কৃষিবিদ আনোয়ারুল নবী মজুমদার বাবলা, সদস্য সচিব ডা. মোস্তফা আজিজ সুমন ও অন্যান্য সহযোগীদের উপস্থিতিতে এ কাজ সম্পন্ন হয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বরিশাল বিভাগের মনিটর অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ। তিনি দুমকি উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের ঝাটারা নিবাসী শহীদ মোহাম্মদ মিলন হাওলাদার এবং পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী নিবাসী শহীদ মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন এর পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ডা. মো. মহিবুল্লাহ্ রুবেল, এটিএম সাইফুদ্দিন হীরা, জাকারিয়া আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম রাতুল, খালিদ রাফি, সুমন শরীফ, সৈয়দ রিয়াদ, মো. রেজওয়ান ইসলাম রামিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এটি একটি মহৎ উদ্যোগের অংশ হিসেবে শহীদ বীর পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমর্থন জানিয়ে তাদের ঈদ উপহার দেওয়া হয়। ZRF-এর এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা শহীদ বীর পরিবারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং ঈদ আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি সুন্দর পদক্ষেপ নিয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এবার আরো ছোট হয়ে আসছে শেখ হাসিনার পৃথিবী!

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: কোন দেশ আশ্রয় দিতে রাজি নয় সাবেক স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে। তাঁকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে নানা তথ্য বাতাসে ভেসে বেড়ালেও শেষ পর্যন্ত কেউ রাজি হয় নি। ভারতও চেষ্টা করেছিল হাসিনাকে তৃতীয় কোন দেশে পাঠাতে।

কিন্তু ফিনল্যান্ড,যুক্তরাজ্য,সংযুক্ত আরব-আমিরাত কেউই রাজি হয় নি। এমন মূহর্তে ভারতেই থাকতে হচ্ছে হাসিনাকে। ভারতের ওপর চাপ ছিল ওয়াশিংটনের। চাপ ছিল ঢাকারও। ওয়াশিংটন দিল্লীর কাছে জানতে চেয়েছে,হাসিনা ঠিক কোন স্ট্যাটাসে ভারতে বসবাস করছেন?

অন্যদিকে ঢাকার দাবি ছিল হাসিনা ভারতে বসে কোন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে পারবেন না।

গত ৮ আগস্ট অন্তবর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভারতকে দাবি জানিয়ে আসছে হাসিনা যেন, রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারে।তারপরও যুক্তরাজ্যে ভার্চুয়াল সভায় বক্তব্য দেন হাসিনা,যা ছিল ৮ ডিসেম্বরের ঘটনা।পরদিন ৯ ডিসেম্বর ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রী।

দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠকে ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়,ভারতে বসে হাসিনার বক্তব্য পছন্দ করছি না আমরা। অবশেষে নয়া দিল্লীতে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন,বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষমতাচুত্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনাকে ভারত সমর্থন করে না,এবং এটি বাংলাদেশ ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুবই ছোট বা ‍তুচ্ছ বিষয়।

এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন,শেষ পর্যন্ত ভারতও মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে। তাঁরা মনে করছেন এ অবস্থায় আরো ছোট হয়ে আসছে হাসিনার পৃথিবী।




জুলাই বিপ্লব না হলে হাসিনাকে বিতাড়িত করা যেত না: মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নী জেনারেল মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেছেন, “যুলাই বিপ্লব না হলে এদেশ থেকে ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে বিতাড়িত করা যেত না।” তিনি উল্লেখ করেন, এই আন্দোলনে পটুয়াখালী জেলায় ১৪ জন শহীদ হয়েছেন, যার মধ্যে ৬ জন বাউফলের সন্তান। বাউফলের মানুষ, তাদের অবস্থান নির্বিশেষে, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি এই শহীদদের প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

আজ শুক্রবার বাউফল উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শহীদ, আহত যোদ্ধা ও সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত দোয়া ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা ১০ টাকা কেজি চাল দেয়ার ওয়াদা দিয়ে ক্ষমতায় এসে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছেন। হাসিনা সরকারের লুটপাটের কারণে দেশের অস্থিরতা দেখা দিলে ছাত্রজনতা তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং এর ফলে ফ্যাসিস্ট হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন।

শাহিন আরও বলেন, “এই বিপ্লব যদি ব্যর্থ হতো, তবে আমাদের একজনকেও জীবিত রাখা হতো না।” তিনি আওয়ামী লীগের শাসনের সমালোচনা করে ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের হত্যাকাণ্ড এবং ১৯৮২ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শহীদ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এর পর জাতীয় পার্টি নামে একটি দল জন্ম নেয়, যা সবসময় হাসিনার চামচামি করেছে, কিন্তু এখন এই দলটি বিলুপ্তির পথে।”

এছাড়াও, বাউফলে খুন, লুটপাট ও ধর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাউফল থানার ওসিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “অপরাধী যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। এভাবে চলতে থাকলে বাউফলের শান্তি বিনষ্ট হবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “জুলাই বিপ্লবে শহীদ হওয়া কিংবা আহত হওয়া যাদের পরিবারের কেউ হয়রানির শিকার হলে তাদের কোনো ছাড় দেয়া হবেনা।”

এছাড়া, সকল রাজনৈতিক দলকে আহ্বান জানিয়ে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, “আপনারা কোন দুর্বৃত্তকে দলে আশ্রয় দেবেন না, কারণ তারা অপকর্ম করলে তার দায় দলকেই বহন করতে হবে।”

অধ্যাপক আমিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম, শহীদ মেহেদি হাসানের বাবা মোশারেফ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অহিদুজ্জামান সুপন, বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক জনকণ্ঠের নিজস্ব সংবাদদাতা কামরুজ্জামান বাচ্চু, বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি জলিলুর রহমান, এবং বাউফল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

 

মো : আল-আমিন, পটুয়াখালী।



এক পরিবারের স্বার্থে আটকে যাবে না দেশের সংস্কার: তাসনিম জারা

জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনিম জারা মন্তব্য করেছেন, “এক পরিবারের স্বার্থে দেশের সংস্কার আটকে যাবে না।” তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাতে এ মন্তব্য করেন।

তার পোস্টে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দেশের সংস্কারের অগ্রযাত্রা কোনো এক পরিবারের স্বার্থের কাছে থেমে যাবে না। তবে, তাসনিম জারা তার পোস্টে কোনো বিশেষ পরিবারের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন কিনা, তা স্পষ্ট নয়। তবে ওই পোস্টের নিচে কিছু কমেন্ট এবং সমকাল পত্রিকার একটি নিউজের লিঙ্ক শেয়ার করা হয়, যার শিরোনাম ছিল “প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর পক্ষে নয় বিএনপি।”

কমেন্টে একজন লেখেন, “এক পরিবারের স্বার্থে দেশের সংস্কার আটকে থাকবে না, কারণ দেশের উন্নতি ও সংস্কৃতি সবার চেষ্টার ফল। আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে যদি দেশের সংস্কারকে এগিয়ে নিয়ে যাই, তবে আমাদের ভবিষ্যৎ হবে আরও আলোকিত এবং শক্তিশালী। দেশ আমাদের সবার, আর এর সাফল্য নির্ভর করছে আমাদের ঐক্য এবং প্রচেষ্টার ওপর।”

তাসনিম জারার এই মন্তব্য দেশের সংস্কার এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরছে, যেখানে এক পরিবারের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে রেখে দেশের কল্যাণ এবং সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জামায়াত আমিরের ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বার্তা

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, “এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর আমাদের জন্য আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে। এ বছর ঈদ উদযাপিত হচ্ছে এমন একটি সময়ে, যখন ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে দেশের মানুষ নতুন এক স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “১৫ বছরের শাসনামলের অবসানে জনগণ এখন শান্তিতে শ্বাস নিতে পারছে, স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছে।

জামায়াত আমির শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “যাদের আত্মত্যাগে দেশ শান্তি পেয়েছে, মহান আল্লাহ তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন। আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্যও তিনি দোয়া করেন।”

দেশে নির্বাচন বানচাল করার ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের রুখতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকারকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ঈদ আমাদের মাঝে তাক্বওয়ার শিক্ষা দেয়, যা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে আল্লাহর বিধান অনুসরণে সাহায্য করে। এটি ধনী-গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করে, যা শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সহায়ক।

তিনি আরও বলেন, “ঈদ আমাদের দয়া, সাম্য ও ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। আসুন, আমরা সবাই মিলে সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়াই।

জামায়াত ইসলামী এবং নিজ পক্ষ থেকে দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি সবার সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চব্বিশ আমাদের হাতে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে: রাশেদ খান

গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে অন্যতম রাশেদ খান বলেছেন, “চব্বিশ আমাদের হাতে আরেকটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এইবার যদি আমরা গড়তে না পারি, তাহলে এই গণঅভ্যুত্থান অতীতের বিপ্লবের মতো ব্যর্থ হবে।” তিনি আরও জানান, একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশকে কোনোভাবেই তুলনা করা যাবে না।

রাশেদ খান বুধবার (২৬ মার্চ) কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে আবরার ফাহাদের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি যোগ করেন, “একাত্তর আমাদের স্বাধীন ভূখণ্ড উপহার দিয়েছে, এবং এই স্বাধীনতাকে অন্য কোনো বিপ্লব বা আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। একাত্তরের শহীদরা আমাদের পথ দেখিয়েছিলেন বলেই পরবর্তীতে আমরা অন্যান্য আন্দোলন করার সাহস পেয়েছি।”

রাশেদ খান চব্বিশের আন্দোলন নিয়ে আরও বলেন, “চব্বিশে আমরা সর্বশেষ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। এই লড়াই সবে মাত্র শুরু হয়েছে। হাসিনার পতন হয়েছে, কিন্তু তার ফ্যাসিবাদী শাসন এখনো শেষ হয়নি। এখনো সচিবালয়, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি সহ সকল বাহিনীতে আওয়ামী লীগের প্রেত্মাতারা রয়েছেন।”

তিনি শেষ করেন, “আমাদের লড়াই তখনই শেষ হবে, যখন আমরা আওয়ামী লীগের সাম্রাজ্যকে ভেঙে চুরমার করে ফেলতে পারব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতীয় নাগরিক পার্টির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণাা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে বিক্ষোভ করেছে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা ও পৌর ছাত্রদল। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আগমন উপলক্ষে আজ বুধবার বিকেলে শাহরাস্তি গেটে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে তারা।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এদিকে শাহরাস্তি উপজেলার সন্তান জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী তার নিজ মাতৃভূমি শাহরাস্তিতে আগমন উপলক্ষে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




যারা ১০০ গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পেইনে যায়, তারা কী করবে আমরা বুঝি: ফখরুল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যারা ১০০ গাড়ি নিয়ে ইলেকশন ক্যাম্পেইন করতে যায়, তারা কী করবে, সেটা আমরা ভালো বুঝি।

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার রাজধানী রমনা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে সোমবার ঢাকা থেকে উড়োজাহাজে সৈয়দপুর যান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। সৈয়দপুর থেকে তিনি সড়কপথে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ যান।

দেবীগঞ্জ থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে তিনি জেলার বোদা, পঞ্চগড় সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারী উপজেলা সফর করেন। তার এই বহর নিয়েই বিএনপি মাহসচিবের এই মন্তব্য।

তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের সঙ্গে আছে। অতীতে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

বিএনপি অবশ্যই জয়যুক্ত হবে। জনগণ যাতে বিএনপিকে ভালো বলে—এমন কাজ করতে দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন তিনি।

দেশে এমন সংকট তৈরি হয়েছে যে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে পর্যন্ত আজকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘যারা আমাদের দেশকে রক্ষা করে, যারা সংকটে পাশে এসে দাঁড়ায়, তাদের কখনোই আমরা বিতর্কিত হতে দিতে পারি না।’

আলোচনাসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।