বরিশালে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে নড়বড়ে বিএনপির ঘাঁটি

বরিশাল সদর আসনটি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কোন্দল ও নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে সেই ভিত এখন দুর্বল হয়ে পড়ছে। অভ্যন্তরীণ বিভাজনের সুযোগে রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হয়ে উঠেছে ইসলামি ঘরানার কয়েকটি দল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় ঐক্যের অভাব ও নেতৃত্বের দ্বিধাদ্বন্দ্ব না কাটাতে পারলে আগামী জাতীয় নির্বাচনে সদর আসন হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে বিএনপি। অতীতে এই আসন থেকে বিএনপি একাধিকবার জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে জয়ী হয়েছে। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীরা সদর আসনে বিজয়ী হন। এমনকি এরশাদ আমলের অস্থির সময় এবং ১/১১ পরবর্তী পরিস্থিতিতেও এই আসন ধরে রেখেছিল দলটি।

কিন্তু বর্তমানে দলে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা, গ্রুপিং, এবং ব্যক্তিস্বার্থকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বলয় রাজনীতিকে জটিল করে তুলেছে। দলের ভেতরে দ্বন্দ্ব এতটাই প্রকট যে, সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ আদালতপাড়ায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং গাড়ি পোড়ানোর ঘটনাও শহরে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক জাহিদুর রহমান রিপন বলেন, “৫ আগস্টের ঘটনার পর আমাদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। যদি এখনই ঐক্য ফিরিয়ে আনা না যায়, সদর আসনটি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
বিএনপি কর্মী মো. ঝুনু বলেন, “সদর আসন বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হলেও, এখন কোন্দলের সুযোগ নিচ্ছে ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলো।”
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং মহানগরের সাবেক সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, “যোগ্য নেতৃত্বের অভাবেই বিভিন্ন গ্রুপের সৃষ্টি হচ্ছে। বর্তমান নেতৃত্ব ঐক্য ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে দলের সব স্তরের নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রার্থীকে বিজয়ী করবেন।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন বরিশালে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। জামায়াতের মহানগর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন বাবর বলেন, “আমরা জনগণের ওপর নির্ভর করে রাজনীতি করি, অন্য দলের কোন্দল আমাদের লক্ষ্য নয়।”
ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মহানগর সভাপতি প্রফেসর মো. লোকমান হাকিম বলেন, “বরিশালের মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে, এবং আমরা জনগণের ভালোবাসা নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”
বিএম কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আক্তার উদ্দিন বলেন, “রাজনৈতিক বিভাজন সাধারণ মানুষের আস্থাকে কমিয়ে দেয়। জনগণ নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু এবং শক্তির প্রভাবমুক্ত নির্বাচন চায়।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








