পরিবারতন্ত্র আর আত্মীয়তাই বরগুনা বিএনপির পতনের কারণ?

বরগুনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এখন এক প্রজন্মের রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। সরকারের পতনের পরও দলটি সেখানে তেমন কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। বরং বরগুনার রাজনীতিতে এখনো আওয়ামী লীগের একতরফা দাপটই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির এই দুর্বলতার অন্যতম কারণ দলীয় নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তাপূর্ণ সম্পর্ক। বরগুনায় বিএনপির নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের হাতে থাকলেও দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সব পদেই নিয়োজিত রয়েছেন মোল্লা পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে তারা ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

বিএনপির জেলা অফিসের একাংশ বলছে, এই পরিবারতন্ত্রের ফলে দলের মধ্যে কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। বরং পদ বিক্রির অভিযোগে কেন্দ্র থেকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করা হয়েছে জেলা কমিটি। সেই সঙ্গে রয়েছে আত্মীয়তাজনিত দ্বৈত রাজনৈতিক সম্পর্ক। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে পরিবারের অনেক সদস্যই সরাসরি আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী। ফলে রাজনৈতিকভাবে পক্ষান্তর ঘটেছে নিঃশব্দে, কার্যত আওয়ামী লীগেরই ছায়ায় সক্রিয় রয়েছেন অনেকে।

২০২৫ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে বরগুনায় যে মিছিল-সমাবেশ হয়, তা আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা এবং বিএনপির নীরবতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির পরে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিন পান। ফেসবুক লাইভে ঈদ উপহার বিতরণ, শহীদবেদিতে ফুল দেওয়া, গান প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আওয়ামী লীগ অব্যাহত রাখলেও বিএনপি বরাবরই ছিল নিষ্ক্রিয়। এমনকি পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে—বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো দুর্বল তদন্ত ও প্রমাণের অভাবে বারবার জামিনযোগ্য হয়ে উঠছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। বরগুনা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসন একপক্ষের হয়ে কাজ করছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট।”

অভিযোগ অস্বীকার করে মোল্লা পরিবারের প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনায় বিএনপি মানেই মোল্লা পরিবার। আমরা দলের শেল্টার দিই, আত্মীয়ের রাজনৈতিক মতামতের দায় আমরা নিই না।” তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি পারিবারিক আত্মীয়তার জাল থেকে বের হতে না পারলে বরগুনা বিএনপি কখনোই পুনরুত্থান ঘটাতে পারবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




যুবসমাজের ঐক্য ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় পটুয়াখালীতে প্রতিনিধি সভা অনুষ্ঠিত

পটুয়াখালী শহরের মল্লিকা পার্টি সেন্টারে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো জেলা প্রতিনিধি সভা। শনিবার, (২৬ এপ্রিল)  দিন ব্যাপি আয়োজিত এই সভায় সংগঠনের জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সরব উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা শাখার সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুম্মন এবং সঞ্চালনায় ছিলেন জেলা সাধারণ সম্পাদক মো: আবদুল রহমান।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বরিশাল বিভাগীয় উপকমিটির সদস্য সৈয়দ রাসেল মুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন গণ অধিকার পরিষদ পটুয়াখালী জেলা শাখার সদস্য সচিব শাহ আলম শিকদার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এম সোহেল রানা, যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান সাদ্দাম মৃর্ধা, যুগ্ম সদস্য সচিব শিল্পিক রানি, যুগ্ম আহ্বায়ক উর্মি ইসলাম এবং পটুয়াখালী পৌর অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক কালাম সিকদার।

এছাড়াও জেলা, উপজেলা ও পৌর পর্যায়ের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ সভায় অংশগ্রহণ করেন, যারা সংগঠনের আগামী কর্মসূচি ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ রাসেল মুন বলেন,
“বাংলাদেশের যুব সমাজ দেশের পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ হলো এমন একটি আদর্শিক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে যুবকদের ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস সংগ্রাম করা হয়। সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ন্যায়বিচার ও সমতা ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে যুবসমাজের অগ্রণী ভূমিকা অপরিহার্য।

আমরা বিশ্বাস করি, যুবসমাজের শক্তি দিয়েই আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবো। যুব অধিকার পরিষদের প্রতিটি সদস্যকে আরও নিষ্ঠাবান হয়ে সংগঠনের আদর্শকে বুকে ধারণ করে দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে শুধু রাজনৈতিক শক্তি অর্জন নয়, বরং সত্যিকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা করা। আগামী দিনে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদ দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

সভায় উপস্থিত নেতারা সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার বিভিন্ন প্রস্তাবনা উত্থাপন করেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শক্তিশালী কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। তরুণদের নেতৃত্বে সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রাণবন্ত পরিবেশের মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে মেয়র মামলার রায় পেছালো,থমথমে নগরী

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২০২৩ সালের নির্বাচন নিয়ে দায়ের করা মামলার রায় আজ (২৪ এপ্রিল) ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৫ মে পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। ফলে সকালে থেকেই বরিশাল নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

মামলাটি করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম। তিনি নির্বাচন বাতিল করে নিজেকে মেয়র ঘোষণার দাবি জানান।

আজকের শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সদর রোড ও ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় অবস্থান নেন শতাধিক ইসলামি আন্দোলনের কর্মী-সমর্থক। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা আদালতের মূল ফটকে বিক্ষোভ করেন। এ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

মামলার আইনজীবী শেখ আবদুল্লাহ নাসির জানান, “আদালত আজ কোনো আদেশ না দিয়ে ৫ মে পুনরায় শুনানির দিন ঠিক করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আদালত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষেই রায় দেবেন।”

এদিকে, জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপসও পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে নিজেকে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

তাঁর মামলায়ও নৌকা, হাতপাখা এবং অন্যান্য প্রার্থীদের বিবাদী করা হয়েছে। আদালত মামলাটিও পরবর্তী আদেশের জন্য রাখেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল সিটির মেয়র ঘোষণার দাবিতে জাপা প্রার্থীর মামলা

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নিজেকে বৈধ মেয়র ঘোষণার দাবি জানিয়ে আদালতে মামলা করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) বরিশালের সিনিয়র সহকারী জজ ও বিসিসি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিচারক হাসিবুল হাসান মামলাটি আদেশের জন্য গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের বিসিসি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রার্থী তাপস, যে তাঁর জয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হবে। তাপসের দাবি, ভোট গ্রহণের দিন বহিরাগতদের এনে হোটেলে রাখা হয়, তাঁর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়, এবং তিনি নিজেও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন।

তাপস অভিযোগ করেন, ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর কিছু সদস্য ক্ষমতাসীন প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে কাজ করেন। ইভিএমে কারচুপি করে তার ভোট কমিয়ে দেখানো হয় এবং উপস্থিত ভোটারের তুলনায় ফলাফলে অতিরিক্ত ভোটগ্রহণ দেখানো হয়।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে তাঁকে (ইকবাল হোসেন তাপস) বরিশাল সিটির মেয়র ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে মামলায়।

উল্লেখ্য, এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমও একই দাবিতে আদালতে মামলা করেছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলাপাড়ায় ছাত্রশিবির সভাপতির পদত্যাগ, নতুন নেতৃত্ব আসছে শিগগিরই

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি মো. আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে সংগঠনের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। রোববার (২০ এপ্রিল) তিনি পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবির কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রতি আমার শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সমর্থন সবসময়ই থাকবে ইনশাআল্লাহ। তবে দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা সংগঠনের ক্ষতির কারণ হতে পারে—এই উপলব্ধি থেকেই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “সংগঠন ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে এবং আমি অন্য যেকোনোভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করব।”

তবে এ বিষয়ে মো. আবদুল্লাহর বক্তব্য নিতে একাধিকবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি, কারণ তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

জামায়াতে ইসলামী কলাপাড়া উপজেলা শাখার আমির মো. আব্দুল কাইউম বলেন, “আবদুল্লাহর কিছু পারিবারিক জটিলতা রয়েছে। অনেক সময় ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়া, বিয়ে, চাকরি বা ব্যবসার কারণে সংগঠনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে হয়। সে দায়িত্বশীলভাবে পদত্যাগ করে ভালো উদাহরণ তৈরি করেছে।”

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না এলেও, দলীয় সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই কলাপাড়া উপজেলা শাখায় নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সংবিধান সংশোধন ছাড়াও সংস্কার সম্ভব: ড. আসিফ নজরুল

রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্ভব বলে মত দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, আশু বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারের বেশিরভাগ কাজ আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা হবে। ইতোমধ্যে সংস্কারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি উদ্যোগের সময়সীমা, আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে।

ড. নজরুল বলেন, এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সাধারণ মানুষ বিস্তর আইনি সংস্কার দেখতে পাবে। তবে যেসব সংস্কার সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো চ্যালেঞ্জিং হবে এবং সেখানে রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি। সংসদের কাঠামোগত পরিবর্তন, ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা—এসব বিষয়ের সংস্কারে দলীয় ঐক্যমত্য ছাড়া এগোনো সম্ভব নয় এবং বর্তমান সরকার এককভাবে তা করবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাম দলসহ সকল রাজনৈতিক দল যদি ‘জুলাই চার্টারে’ স্বাক্ষর করে, তবে তা বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমনকি সংবিধান সংশোধন ছাড়াও কার্যকর সংস্কার সম্ভব।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে সময়সূচি দিয়েছেন, তাতে কোনো ব্যত্যয় হবে না। নির্বাচন ডিসেম্বর ২০২৫ এর আগে এবং জুন ২০২৬ এর পরে হবে না।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কিনা—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ছাত্রদের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ভূমিকা আছে, কিন্তু তারা কখনও নিজেদের সরকার গঠনের দাবিতে আসেনি। তিনি আশ্বস্ত করেন, তারা নির্বাচন করলে সরকার থেকে সরে দাঁড়াবে।

মব জাস্টিস পরিস্থিতি নিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, শুরুতে কিছুটা শৈথিল্য থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের পরিবর্তন একদিনে হয় না, তবে সরকার ভবিষ্যতে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এনসিপি নেতাদের কিছু আচরণ নিয়ে আলোচনা থাকলেও তিনি বাস্তববাদিতার ওপর গুরুত্ব দেন। নতুন দলের প্রতি তিনি স্বচ্ছ আর্থিক নীতিমালা গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, এর খসড়া ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্বাচন অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কারও অজানা নয়। তিনি মনে করেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তারা নির্বাচনমুখী হতে পারেন।

আওয়ামী লীগকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি বিচারিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঠিক হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না করলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কী প্রভাব পড়বে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুসারে দোষী প্রমাণিত হলে এবং তবু যদি ভারত তাকে ফেরত না পাঠায়, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১০ সদস্যের এনআইডি লক

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১০ সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) লক করেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি চিঠির মাধ্যমে এই ১০ জনের এনআইডি লক করা হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীরের মৌখিক নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সরাসরি নির্দেশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যাদের এনআইডি লক করা হয়েছে, তারা হলেন- শেখ হাসিনা, সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক, শাহিন সিদ্দিক, বুশরা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জাহিদুল হত্যায়  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ নেতা জড়িত: ছাত্রদল সভাপতি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে, পারভেজের ওপর হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। তুচ্ছ একটি ঘটনার জেরে একজন মেধাবী ছাত্রকে প্রকাশ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন রাকিবুল ইসলাম।

তবে রাকিবুলের এ অভিযোগকে ‘ঘৃণ্য মিথ্যাচার’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তাদের ফেসবুক পেজে রাকিবুলের এ অভিযোগের বিষয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘এক মৃত ব্যক্তির লাশকে ব্যবহার করে ছাত্রদল যে নোংরামি করছে, তা নতুন বাংলাদেশ ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কাম্য নয়।’




মহিপুরে যুবদলের সম্মেলন, নতুন নেতৃত্বে সিদ্দিক ও মিজান

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর থানা শাখার জাতীয়তাবাদী যুবদলের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ শনিবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টায় মহিপুর সদরের মুক্তিযোদ্ধা ডিগ্রি কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. মনিরুল ইসলাম।

সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন। তিনি যুবদলকে সংগঠিত করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার এবং প্রধান বক্তা ছিলেন জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. শিপলু খান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নাননু মুন্সী, মহিপুর থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল জলিল হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান পারভেজ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব নাসিরউদ্দিন আহমেদ রতনসহ অন্যান্য নেতারা।

দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলরদের সরাসরি সমর্থনে মো. সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা সভাপতি এবং মো. মিজানুর রহমান প্যাদা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন। নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নেতাকর্মীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাউফলে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফলে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম লিটন খন্দকার। তিনি আদাবাড়িয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক বলে জানা গেছে। তার বাড়ি থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাউফল থানা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জানায়, ভোর ৪টার দিকে অভিযান চালিয়ে লিটনের কাছ থেকে ইয়াবাসমূহ উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, “লিটন একজন পেশাদার মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে আদালতে পাঠানো হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিটন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল, তবে প্রভাব খাটিয়ে বারবার পার পেয়ে গেছেন। তবে এবার ইয়াবাসহ হাতেনাতে ধরা পড়ায় তার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই পুলিশের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি তুলেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম