রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্ভব বলে মত দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি জানান, আশু বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারের বেশিরভাগ কাজ আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা হবে। ইতোমধ্যে সংস্কারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি উদ্যোগের সময়সীমা, আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে।
ড. নজরুল বলেন, এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সাধারণ মানুষ বিস্তর আইনি সংস্কার দেখতে পাবে। তবে যেসব সংস্কার সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো চ্যালেঞ্জিং হবে এবং সেখানে রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি। সংসদের কাঠামোগত পরিবর্তন, ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা—এসব বিষয়ের সংস্কারে দলীয় ঐক্যমত্য ছাড়া এগোনো সম্ভব নয় এবং বর্তমান সরকার এককভাবে তা করবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাম দলসহ সকল রাজনৈতিক দল যদি ‘জুলাই চার্টারে’ স্বাক্ষর করে, তবে তা বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমনকি সংবিধান সংশোধন ছাড়াও কার্যকর সংস্কার সম্ভব।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে সময়সূচি দিয়েছেন, তাতে কোনো ব্যত্যয় হবে না। নির্বাচন ডিসেম্বর ২০২৫ এর আগে এবং জুন ২০২৬ এর পরে হবে না।
শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কিনা—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ছাত্রদের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ভূমিকা আছে, কিন্তু তারা কখনও নিজেদের সরকার গঠনের দাবিতে আসেনি। তিনি আশ্বস্ত করেন, তারা নির্বাচন করলে সরকার থেকে সরে দাঁড়াবে।
মব জাস্টিস পরিস্থিতি নিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, শুরুতে কিছুটা শৈথিল্য থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের পরিবর্তন একদিনে হয় না, তবে সরকার ভবিষ্যতে কঠোর অবস্থানে থাকবে।
এনসিপি নেতাদের কিছু আচরণ নিয়ে আলোচনা থাকলেও তিনি বাস্তববাদিতার ওপর গুরুত্ব দেন। নতুন দলের প্রতি তিনি স্বচ্ছ আর্থিক নীতিমালা গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, এর খসড়া ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্বাচন অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কারও অজানা নয়। তিনি মনে করেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তারা নির্বাচনমুখী হতে পারেন।
আওয়ামী লীগকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি বিচারিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঠিক হবে।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না করলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কী প্রভাব পড়বে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুসারে দোষী প্রমাণিত হলে এবং তবু যদি ভারত তাকে ফেরত না পাঠায়, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম