পরিবারতন্ত্র আর আত্মীয়তাই বরগুনা বিএনপির পতনের কারণ?

বরগুনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এখন এক প্রজন্মের রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। সরকারের পতনের পরও দলটি সেখানে তেমন কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। বরং বরগুনার রাজনীতিতে এখনো আওয়ামী লীগের একতরফা দাপটই পরিলক্ষিত হচ্ছে।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির এই দুর্বলতার অন্যতম কারণ দলীয় নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তাপূর্ণ সম্পর্ক। বরগুনায় বিএনপির নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের হাতে থাকলেও দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সব পদেই নিয়োজিত রয়েছেন মোল্লা পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে তারা ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
বিএনপির জেলা অফিসের একাংশ বলছে, এই পরিবারতন্ত্রের ফলে দলের মধ্যে কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। বরং পদ বিক্রির অভিযোগে কেন্দ্র থেকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করা হয়েছে জেলা কমিটি। সেই সঙ্গে রয়েছে আত্মীয়তাজনিত দ্বৈত রাজনৈতিক সম্পর্ক। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে পরিবারের অনেক সদস্যই সরাসরি আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী। ফলে রাজনৈতিকভাবে পক্ষান্তর ঘটেছে নিঃশব্দে, কার্যত আওয়ামী লীগেরই ছায়ায় সক্রিয় রয়েছেন অনেকে।
২০২৫ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে বরগুনায় যে মিছিল-সমাবেশ হয়, তা আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা এবং বিএনপির নীরবতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির পরে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিন পান। ফেসবুক লাইভে ঈদ উপহার বিতরণ, শহীদবেদিতে ফুল দেওয়া, গান প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আওয়ামী লীগ অব্যাহত রাখলেও বিএনপি বরাবরই ছিল নিষ্ক্রিয়। এমনকি পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে—বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে।
এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো দুর্বল তদন্ত ও প্রমাণের অভাবে বারবার জামিনযোগ্য হয়ে উঠছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। বরগুনা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসন একপক্ষের হয়ে কাজ করছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট।”
অভিযোগ অস্বীকার করে মোল্লা পরিবারের প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনায় বিএনপি মানেই মোল্লা পরিবার। আমরা দলের শেল্টার দিই, আত্মীয়ের রাজনৈতিক মতামতের দায় আমরা নিই না।” তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি পারিবারিক আত্মীয়তার জাল থেকে বের হতে না পারলে বরগুনা বিএনপি কখনোই পুনরুত্থান ঘটাতে পারবে না।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /







