ধর্ম দিয়ে বিভাজন নয়, ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: ফখরুল

ধর্ম দিয়ে সমাজে বিভাজন না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৯ মে) বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়িতে ইস্টার পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “প্রতিটি ধর্মই মানুষের ভালো হওয়ার শিক্ষা দেয়। ধর্মকে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। সব ধর্মই ঐক্যের কথা বলে।” তিনি আরও বলেন, “স্বাধীনতা যুদ্ধে যেভাবে আমরা ঐক্যবদ্ধ ছিলাম, সেই ঐক্যই আজকের দিনে আমাদের প্রয়োজন। কোনো শক্তি যেন আমাদের বিভক্ত করতে না পারে, সে জন্য আমাদের সবাইকে একত্রিত হতে হবে।”

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা দীর্ঘ সংগ্রাম করেছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। আমাদের মধ্যে বিভাজন নয়, বরং ঐক্যের মাধ্যমে আমরা একসঙ্গে থাকতে হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সারাদেশে গণজমায়েতের ডাক

শুক্রবার (৯ মে) রাতে শাহবাগে কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সারা দেশে গণজমায়েতের ডাক দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, সারা বাংলাদেশে যেসব স্থানগুলোতে গণজমায়েত হয়েছিল, সেখানে গণ জামায়াতের কর্মসূচি পালন করবে।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি, ২৫ ঘণ্টা হয়েছে। গতকাল রাত দশটা থেকে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা জানি না এ কর্মসূচির শেষ কোথায়। যতক্ষণ না পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ করা হয়, কতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।




আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে আইনগত কোনো বাধা নেই: ড. আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ দাবি করে অথবা বিচারিক আদালত এ বিষয়ে কোনো রায় বা পর্যবেক্ষণ দেয়, তাহলে আইন অনুযায়ী দ্রুতই দলটিকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব। তিনি এ মন্তব্য করেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে ড. আসিফ নজরুল অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা বা বাধা দেওয়া পুলিশের এবং গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব। এটি কোনোভাবেই আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার মন্ত্রণালয়ের আওতায় শুধু নিম্ন আদালতের বিচারকরা থাকেন, যারা কোনোভাবেই বিমানবন্দরে কাউকে আটকানোর বা পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকেন না।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের সুযোগ রেখে আইসিটি আইনের সংশোধিত খসড়া তৈরি হয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং সেই খসড়া তিনিই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করেছিলেন। সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা তার পক্ষ থেকে হওয়া সম্ভব নয়। বরং উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি দোষারোপের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে আইনগত কাঠামোতে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজনে আইসিটি আইন কয়েক দিনের মধ্যেই সংশোধন করা সম্ভব। এছাড়া সন্ত্রাস দমন আইনসহ বিদ্যমান অন্যান্য আইনেও দলের নিষিদ্ধকরণের পথ খোলা আছে।

সবশেষে ড. আসিফ নজরুল বলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো এই নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলে কিংবা বিচারিক আদালত প্রাসঙ্গিক কোনো পর্যবেক্ষণ দেয়, তাহলে আইন মেনেই দ্রুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা সেই প্রত্যাশায় আছি। ইনশাল্লাহ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি বিবেচনায়, সরকার সিদ্ধান্ত নেবে আলোচনার পর

দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব দাবিকে সরকার গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে।

সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। এই আলোচনা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতই চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোকেও সরকার পর্যালোচনার আওতায় এনেছে।

সরকার দেশের জনগণের আবেগ ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইতোমধ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনের অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের জনগণ যেন অযথা উদ্বিগ্ন না হন এবং সংবেদনশীল এই সময়ে সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সংগঠন ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সংক্রান্ত আইনে সংশোধনী আনার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের মতে, এই সংশোধনী কার্যকর হলে অতীতে ও বর্তমানে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এছাড়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জনগণের এ ক্ষোভের ব্যাপারে সরকার অবগত এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, উপযুক্ত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ব্যান, আওয়ামী লীগ’ দাবী ছাত্র-জনতার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ছাত্র-জনতা। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ‘ব্যান আওয়ামী লীগ’ স্লোগানে উত্তাল দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টার পর থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ নেতৃত্বে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন নেতাকর্মীরা। সেখানে হাসনাতের সঙ্গে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা যোগ দিয়েছেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারমধ্যে ‘ব্যান করো ব্যান করো, আওয়ামী লীগ ব্যান করো’, ‘দিল্লি না, ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘গোলামি না আজাদী, আজাদী আজাদী’ ‘নাহিদ, আক্তার আসছে, রাজপথ কাঁপছে’, ‘একটা একটা ছাত্রলীগ ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর’, ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা, ভেঙে দাও ঘুরিয়ে দাও’, ‘২৪ বাংলায়, আওয়ামী লীগের ঠাঁই নাই’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, প্রভৃতি বলে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচির কারণে যমুনার সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে রাত ১টার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যমুনার সামনে অবস্থান নেন। কয়েক হাজার নেতাকর্মী বর্তমানে যমুনার সামনে অবস্থান করছেন।




নতুন রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া উত্তরণের সুযোগ নেই: মাহফুজ আলম

বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যুত্থানের বাস্তবতা নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন অর্ন্তবর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ৮ মে, বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে “কৈফিয়ত কিংবা বাস্তবতা” শিরোনামে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি মন্তব্য করেন, জোড়াতালি দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছাড়া রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংকট নিরসন অসম্ভব। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র এখন আর সরকারের হাতে নেই, বরং প্রশাসন, বিচারবিভাগ ও পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করছে অন্যরা। রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর সহযোগী নয়, কিন্তু প্রশাসনে তারা সক্রিয়ভাবে জড়িত।

ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রপতি অপসারণ আন্দোলনের পর থেকেই ছাত্র প্রতিনিধিদের কোনঠাসা করা হচ্ছে। অর্ন্তবর্তী সরকারে তিন ডজন নিয়োগপ্রাপ্তের মধ্যে মাত্র দু’জন ছাত্র প্রতিনিধি থাকায় প্রভাব বিস্তার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দু’জন সর্বোচ্চ ব্যালেন্সিং এক্ট করতে পারছি, কিন্তু সুষম প্রতিনিধিত্ব ছাড়া তা যথেষ্ট নয়।”

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের বিভক্তি এবং অভিজ্ঞতার অভাব তাদের আন্দোলনকে দুর্বল করে ফেলেছে। একাধিক ছাত্র সংগঠন থাকায় ঐক্যের অভাব প্রকট। নাগরিক কমিটিই হতে পারত দীর্ঘমেয়াদি অভ্যুত্থানের শক্তি, কিন্তু সেটি টেকসই হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্ম দেশজুড়ে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আন্দোলনের ছাত্র-জনতা এখন বিভক্ত ও দ্বিধান্বিত। সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র, মিডিয়া ও ব্যবসায় লীগ-নিয়ন্ত্রিত বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। রাজনৈতিক অর্থনীতিতেও পরিবর্তন আসেনি। বিচার বিভাগ এখনো দ্বিদলীয় প্রভাবমুক্ত নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বাম ও ডান রাজনৈতিক শক্তি বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। ডানপন্থীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে ভুল করেছে এবং বামপন্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ছাত্র রাজনীতিতে দুর্নীতি, দলবাজি ও কোরামবাজির কারণে সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল ছাত্ররাও হতাশ হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, আন্দোলনের পক্ষে কাজ করা ছাত্র-জনতা এখনো শক্তিশালী সিভিল সোসাইটি গঠন করতে পারেনি। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন এবং রাজনৈতিক এলায়েন্সে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই। শহিদ ও আহতদের বিচার প্রশ্নেও সরকারসহ সব পক্ষ ব্যর্থ।

তার মতে, অভ্যুত্থান শহর ছাড়িয়ে গ্রামে পৌঁছাতে না পারার পেছনে ছাত্রদের অনভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থবাদিতা এবং প্রশাসনিক অনমনীয়তা দায়ী।

পোস্টের একেবারে শেষে মাহফুজ আলম বলেন, “ছাত্রদের ন্যায্য অংশীদারিত্ব ছাড়া রাষ্ট্রে কোনো টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আর এর জন্য প্রয়োজন ছাত্রদের মধ্যে সততা, আদর্শ, নিষ্ঠা ও ঐক্য ফিরিয়ে আনা।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বিএনপিতে কারা যোগ দিতে পারবেন জানালেন : রিজভী

আওয়ামী লীগ থেকে আসা এবং দলটির দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরাও বিএনপির সদস্য হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিজভী বলেন, “আগামী ১৫ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিএনপির সদস্য নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে। যারা আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তাদের আমরা স্বাগত জানাব। তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার আমলে বহু মানুষ বিএনপিতে যোগ দিতে সাহস পাননি। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। দেশজুড়ে বিএনপির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।”

রিজভী দাবি করেন, এই সদস্য সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্য হলো এক কোটি নতুন কর্মী দলভুক্ত করা। দেশের সব বিভাগীয় শহরে একযোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সরকার এখন পর্যন্ত কী কী বিচার ও সংস্কার করেছে, প্রশ্ন হাসনাত আবদুল্লাহ




ব্যাংককে পাড়ি দিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ




মহিপুরে ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে ‘ছাত্রলীগ নেতা’র অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়

পটুয়াখালীর মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজে ছাত্রদলের সদ্যঘোষিত কমিটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা। বিএনপির সহযোগী এই ছাত্র সংগঠনের নবগঠিত কমিটিতে বিতর্কিতভাবে আগে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি হওয়ায় সংগঠনের অভ্যন্তরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৬ মে) রাতে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম চৌধুরী ও সদস্য সচিব জাকারিয়া আহম্মেদের স্বাক্ষরিত প্যাডে মো. রবিউল ইসলামকে সভাপতি এবং আসিবুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার (৭ মে) বিকেলে কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন নবগঠিত কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি রাইসুল ইসলাম রূপু ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সিয়ামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন নবনিযুক্ত সভাপতি মো. রবিউল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক পদে থাকা সাকিব আল হাসান রাফি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলাম এক সময় কলেজ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ছবিও ভাইরাল হয়েছে। একইভাবে রাফি ছিলেন কলেজ ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক, বর্তমানে একই পদে রয়েছেন ছাত্রদলের কমিটিতে। এমন বিতর্কিত সমন্বয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।

এ বিষয়ে কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাফসান আহমেদ রাকিব তাঁর ফেসবুক পোস্টে ব্যঙ্গ করে লিখেছেন, “মজার ব্যাপার হলো, একজন ছোট ভাই ছাত্রলীগে যে পোস্টে ছিল, ছাত্রদলেও সেই পোস্টেই আছে—শুধু ছাত্রলীগের জায়গায় ছাত্রদল এ্যাড হইছে। যাইহোক অভিনন্দন।”

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজ ও মহিপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান অনেক নেতা-কমী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, আদর্শবিচ্যুত ও পূর্বের রাজনৈতিক পরিচয়ে বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে কমিটি গঠন করে ছাত্রদলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। তাঁরা অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে ত্যাগী ও আদর্শবান নেতাকর্মীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান।

অন্যদিকে, থানা ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের একটি অংশ কমিটিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছে, এখানে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইচ্ছাকৃতভাবে কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শামীম চৌধুরী বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ কমিটির বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নবগঠিত এই কমিটি ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শের বদলে পরিচয়ের রাজনীতি ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম