আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রকাশ

বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও ব্যাখ্যা তুলে ধরে মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলো চলমান থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশনা, প্রচার, মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং যেকোনো ধরনের জনসমাগম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। এই নির্দেশনা দলটির নেতা-কর্মী ও সদস্যদের ওপরও প্রযোজ্য হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র নির্দিষ্ট দল ও সংগঠনগুলোর ওপর প্রযোজ্য এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এতে বিঘ্নিত হবে না। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড কিংবা সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ বছরে বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে গুম, খুন, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বিচারপ্রার্থী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, হামলা চালাচ্ছে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার ১২ মে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সরকার বলছে এটি নিরাপত্তা ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ, তবে এটি রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।

 




সাবেক এমপি মমতাজ গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : মানিকগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ও সংগীত শিল্পী মমতাজ বেগমকে ধানমন্ডি থেকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। সোমবার (১২ মে) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।




জাতীয় নির্বাচনে বয়সসীমা ১৮ করার প্রস্তাব নেজামে ইসলাম পার্টির

জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ন্যূনতম বয়সসীমা ১৮ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে নেজামে ইসলাম পার্টি। এছাড়া, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত ১৬৬ দফার মধ্যে ১৬০টির সঙ্গে দলটি একমত পোষণ করেছে।

সোমবার (১২ মে) বিকেলে জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বৈঠক শেষে নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা জানান,

  • সংবিধানে বহুত্ববাদের পরিবর্তে একত্ববাদ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
  • ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা বিলুপ্ত করে সেগুলো উপজেলা পরিষদের সঙ্গে একীভূত করার কথা বলেছেন।
  • আইনজীবীদের দলীয় রাজনীতি বন্ধ করার সুপারিশও করেন।

ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বৈঠকে বলেন,

“ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেলেও কাঠামোগত পরিবর্তন না ঘটলে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য জরুরি—এতেই দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।”

 

আল-আমিন



আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জানিয়েছেন যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (১২ মে) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন। প্রায় চার ঘণ্টা বৈঠক শেষে সোয়া ৯টার দিকে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এসে সাংবাদিকদের জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের আলোকে নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠন ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। তার ধারাবাহিকতায় ইলেকশন কমিশন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

‘সে অনুযায়ী আমরা গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছি। আপনারা গেজেটের কপি বিজি প্রেস থেকে পেয়ে যাবেন।’




বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ

বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার (১২ মে) এই সংক্রান্ত একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, “রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অধ্যাদেশ অনুসারে বিষয়টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব আমাদের।”

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দলটির বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে গৃহীত হয়, যা অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত শনিবার।

সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যদিও এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এই সিদ্ধান্তের পর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে দলটির কোনো সভা, সমাবেশ বা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা যাবে না বলেও জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নিষিদ্ধের দাবি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গণহত্যায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত বাকি ১৩ দল ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ l

রোববার (১১ মে) নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানান দলটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।

তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের জোট সঙ্গী ১৪ দল ও জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ এবং জি এম কাদেরসহ জাপার শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের দাবি গণঅধিকার পরিষদের।




আ.লীগ নিষিদ্ধে বারবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছে বিএনপি: ফখরুল

আওয়ামী লীগকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত রাজনৈতিক দল’ হিসেবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিএনপি একাধিকবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে পত্র দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার (১১ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপি ‘ফ্যাসিবাদী দল’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী সংগঠনের বিচার ও নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলে।

ফখরুল বলেন, “আমরা শুরু থেকেই বলেছি, প্রশাসনিক আদেশে নয়—আইনি প্রক্রিয়ায়ই এই ফ্যাসিবাদী দলকে নিষিদ্ধ করা উচিত। আমরা অতীতে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলাম একই যুক্তিতে।”

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিএনপি তা ‘বিলম্বিত হলেও যৌক্তিক’ হিসেবে দেখছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “যদি আগেই আমাদের প্রস্তাব গুরুত্ব পেত, তবে সরকারকে চাপের মুখে এমন বিব্রতকর সিদ্ধান্ত নিতে হতো না।”

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ এখনো ঘোষণা না করায় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে গত দুদিন ধরে কর্মসূচি পালন করছে সদ্যগঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

গত বছরের জুলাই অগাস্টের আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনীতি সাময়িক নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আজ (শনিবার) রাতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত এসেছে।

এনসিপি গঠিত হওয়ার পর থেকেই ছাত্র জনতার আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচার ও তার দায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে আসছিল।

বুধবার মধ্যরাতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সময়ের সাবেক রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ থাইল্যান্ডে গেলে নতুন করে কর্মসূচি নেয় মাঠে নামে এনসিপি।

শনিবার রাতে এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসে উপদেষ্টা পরিষদ। বৈঠক শেষে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানান উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার নেতাদের বিচার কার্যসম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার জন্য সন্ত্রাস বিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেস-সহ আওয়ামি লীগ এর যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।




আন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত: নিষিদ্ধ হলো আওয়ামী লীগের রাজনীতি

গত বছরের জুলাই-অগাস্টের আন্দোলনে সংঘটিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। শনিবার (১০ মে) রাতে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের এক জরুরি বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত আসে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম, অনলাইন ও অফলাইনে—সাইবার জগৎসহ—সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আসিফ নজরুল।

তিনি জানান, “জুলাই আন্দোলনের নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি জানানো হয়, এ সংক্রান্ত একটি সরকারি পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে জারি করা হবে।

এদিকে সদ্য গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গত দুই দিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। এনসিপি-সহ একাধিক সংগঠন দাবি করে, আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করতে হবে এবং বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সংশোধনী অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীও ট্রাইব্যুনালের আওতায় আসবে এবং তাদের শাস্তির বিধান রাখা হবে।

বৈঠকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—জুলাই ঘোষণাপত্র আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে।

এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সে বিষয়ে গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ব্যানারে চলবে আন্দোলন

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলন এখন থেকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ব্যানারে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (১০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, “গত দুই দিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় আছে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এই অবস্থান কর্মসূচি চলছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের পরও এখনো অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি—এটি আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা।”

সারজিস আলম আরও জানান, “এই আন্দোলন কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়। এটি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির সম্মিলিত প্রতিবাদ। বিভিন্ন মহল থেকে আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। তবে আমরা স্পষ্ট করছি—এই আন্দোলন বিতর্ক নয়, ঐক্যের নাম।”

ফেসবুক বার্তায় তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঢাকাসহ সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে আহ্বান জানাচ্ছি—আসুন, আমরা সবাই জুলাইয়ের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হই। যতদিন না আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে, ততদিন গণঅভ্যুত্থানপন্থী সকল দল ও মত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। জুলাই এখনো শেষ হয়নি।”

এখন থেকে সকল কর্মসূচি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ব্যানারে চলবে বলেও সারজিস আলম নিশ্চিত করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /