বরিশালে ১টি আসনও ছাড়বেন না ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বরিশালের ছয়টি আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা ও প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। সমমনা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আট-দলীয় জোট গঠনের আলোচনা থাকলেও বরিশালের সব আসন নিজেদের পক্ষে রাখতে অঙ্গীকার করেছে ইসলামী আন্দোলন।
বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর ও বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, “বরিশাল আমাদের জন্মভূমি এবং ইসলামী আন্দোলনের ঘাঁটি। দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ভালো। আমরা এখানে কোনো আসন ছাড়তে চাই না। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুটি আসনে নির্বাচন করব। তবে জোট হলে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার সম্ভাবনা আছে। যেখানে জামায়াত বা অন্য দল শক্তিশালী, সেখানে আমরা ছাড় দিতে পারি।”
সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃতীয় হন এবং প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২৭ হাজারের বেশি ভোট পান। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট পান।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসেন হেলাল জানিয়েছেন, আট-দলীয় ইসলামী জোটে এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে পরবর্তী নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করা হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের ছয়টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের ভোটভিত্তি জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি। ২০০১ সালে বরিশালে ইসলামী আন্দোলন ১১.৩০ শতাংশ ভোট পায়। ২০০৮ সালে ১১.৬০ শতাংশ ভোট পান। ২০১৮ সালে বরিশাল সদর আসনে ২৭ হাজার ৬২ ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে প্রার্থীর ভোটভিত্তি প্রায় ৯.২০ শতাংশ। মোটমাটিভাবে বরিশাল বিভাগে ইসলামী আন্দোলনের গড় ভোটের হার ৮–১২ শতাংশের মধ্যে, যা জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫








