চরমোনাই পীর-মামুনুলের দল জামায়াত জোট থেকে আলাদা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বেশি আসনের চাহিদার কারণে তারা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না করে আলাদা প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র জানায়, চরমোনাই পীরের দল শতাধিক আসন ও খেলাফত মজলিসের দল ২৫-৩০ আসনের দাবি করেছে। এই চাহিদা পূরণ করলে জামায়াতের আসন সংখ্যা অনেক কমে যাবে, যা জোটের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে জামায়াত অন্তত দুইশ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। “জামায়াতের কাছে কোনো আসন নেই, আসন সবার। আট দলের সবাই ছাড় দিবে এবং মিলেই নির্বাচনে যাবে। এনসিপির সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। আরও কিছু দল আসন চাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছে,” তিনি বলেন।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, “যেহেতু কোনো জোট চূড়ান্ত হয়নি, এখানে পাওয়া-না-পাওয়ার বিষয় নেই। আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে কার কোথায় আসন দেওয়া হবে। সব কিছু সমঝোতার ভিত্তিতেই হচ্ছে।”

খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতা জানান, তারা সম্মানজনক আসন না পেলে বিকল্প প্ল্যাটফর্মে ভোটে অংশ নেবে। তবে সব দলই চায় আসন সমঝোতা ও ঐক্য অটুট রাখার। বর্তমানে দলের কাঙ্খিত আসনের প্রায় ৬০ শতাংশ সমাধান হয়েছে এবং অন্তত ৮০ শতাংশ পূর্ণ হলে তা সম্মানজনক হবে।

জানা গেছে, আগামী ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও কিছু জটিলতা আছে, তবুও দলগুলো ঐক্য বজায় রাখতে আগ্রহী এবং বৃহত্তর সহযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সদরঘাটে ফিরতি নেতাকর্মীদের ঢল

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বৃহস্পতিবার বেড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরমুখী স্রোত। ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি বরণ করার আনন্দে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা নেতাকর্মীরা এখন নিজ নিজ এলাকায় ফেরার পথে উত্তেজনা ও আবেগের মিলন ঘটাচ্ছেন।

বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে আগত লঞ্চগুলোতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উপচে পড়ার মতো। দিনের কর্মসূচি শেষে ক্লান্ত শরীরে তারা সদরঘাটে পৌঁছে শান্ত মনে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের প্রবেশপথ ও পন্টুন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্লান্ত নেতাকর্মীদের পানি, শুকনো খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবকরা লঞ্চ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন জানান, দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর নেতার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। আজ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার দিন শেষ হয়েছে। ভোরের তুলনায় সন্ধ্যায় লঞ্চঘাটে ভিড় কিছুটা কমলেও নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে ঘরে ফেরার পথে রয়েছেন।

একজন নেতাকর্মী আব্দুল মালেক জানান, “কষ্ট যা হওয়ার হইছে, কিন্তু নেতাকে দেখতে পারলাম। এই ১৭ বছরের অপেক্ষার জন্যই আজকের দিনটা স্মরণীয়।” অন্য একজন বরিশালের ব্যবসায়ী রিয়াজ জানান, “আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। নেতাকে দেখার আনন্দে মনে শান্তি পেয়েছি।”

দেশের প্রধান নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত ৮টার পর থেকে লঞ্চগুলো ধাপে ধাপে ছাড়তে শুরু করবে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




ভোলায় পূর্ববিরোধে ছাত্রদল নেতা খুন, এলাকায় উত্তেজনা

ভোলায় পূর্ববিরোধের জেরে ছাত্রদলের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহত ছাত্রদল নেতার নাম রেজওয়ান আমিন শিফাত (২৮)। তিনি ভোলা সদর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। রেজওয়ান ভোলা সরকারি কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ভোলা থেকে নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রেজওয়ান আমিনও ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বুধবার মাগরিবের নামাজের পর ব্যাগ হাতে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় বাড়ির সামনেই পূর্ববিরোধের জেরে তাকে ঘিরে ধরে প্রতিপক্ষরা।

নিহতের বাবা আলাউদ্দিন হাওলাদার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য হেলাল উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে হাসিবসহ কয়েকজন তার ছেলের পথরোধ করে। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রেজওয়ানকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিহত রেজওয়ানের পরিবার ও অভিযুক্তদের পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধ চলছিল। অভিযুক্ত হেলাল উদ্দিন হাওলাদার রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ছিলেন এবং একসময় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। হত্যাকাণ্ডের পর তার ছেলে হাসিবসহ জড়িত ব্যক্তিরাও গা ঢাকা দিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আগৈলঝাড়ায় বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওই নেতাকে বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পশ্চিম সুজনকাঠী গ্রামের মৃত মনোহর করের ছেলে এবং গৈলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা মানস কর (৪৫) কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলা সদরের কালীখোলা এলাকায় অবস্থিত একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে আটক হন।

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাতুল ইসলাম শাহেদের দায়ের করা একটি মামলায় মানস করকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। মামলায় মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে।

গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে বরিশাল আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান তিনি। পুলিশ বলছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয়ভাবে এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




তারেক রহমান এভারকেয়ারে পৌঁছে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছে তাঁর মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও খোঁজখবর নেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি হাসপাতালে প্রবেশ করেন।

এর আগে বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর পূর্বাচলের গণসংবর্ধনা মঞ্চ থেকে ১৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে তিনি হাসপাতালের দিকে যাত্রা করেন। সরেজমিনে থাকা প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে তিনি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে রাস্তায় ছিলেন।

সংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা চলাকালীন তারেক রহমান বলেন, “সবার সঙ্গে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ব, যা একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যেখানে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে এবং ঘরে ফিরে আসতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সকলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো নারী, পুরুষ বা শিশু যেন নিরাপদে বাইরে বের হতে পারে এবং ঘরে ফিরে আসতে পারে।”

বক্তৃতার শেষে তারেক রহমান জানান, “সবাই মিলে কাজ করব, গড়ব আমাদের বাংলাদেশ। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পটুয়াখালীতে এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদারের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-১ (দুমকি–মির্জাগঞ্জ–পটুয়াখালী সদর) আসনে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদারের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এই আসনটি ঘিরে নির্বাচনী মাঠে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে জেলা অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার মো. মিজানুর রহমান খানের কাছ থেকে এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদারের পক্ষে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা জাতীয় পার্টির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মিরাজুল ইসলাম মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকির মাহমুদ সেলিম, মাসুদ আল মামুন, দুমকি উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ।

এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অভিজ্ঞ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘ সময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং দলটির কো-চেয়ারম্যানসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাকে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রভাবে তিনি দলটির মূল রাজনীতি থেকে সরে এসে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নামে একটি রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার এই অবস্থান পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহ প্রসঙ্গে এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার বলেন, তিনি পটুয়াখালী-১ আসন থেকেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং সে লক্ষ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করা হয়েছে। তিনি এলাকাবাসী ও সমর্থকদের কাছে দোয়া কামনা করেন।

উল্লেখ্য, এ বি এম রুহুল আমীন হাওলাদার সর্বশেষ ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে পটুয়াখালী-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে আসন্ন নির্বাচনে এই আসনে একাধিক পরিচিত মুখের প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যেতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



‘মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথে দেশ পরিচালনা করব’: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, “আল্লাহর দয়া ও মানুষের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। আগামী দিনে মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথে দেশ পরিচালনা করব।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। পাহাড়-সমতল, হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ নারী-পুরুষ ও কৃষকের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে ঐক্য অপরিহার্য।”

তারেক রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা ও ১৯৯০ সালের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মন হাসপাতালে মায়ের কাছে পড়ে আছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, “এখন মঞ্চে আমি দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু মন পড়ে আছে হাসপাতালে মায়ের কাছে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “সন্তান হিসেবে আমি চাই, আল্লাহ মা খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা দান করুন। আমাদের সকলকে নিশ্চিত করতে হবে—ধর্ম, শ্রেণি বা রাজনৈতিক মত নির্বিশেষে—দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। প্রতিটি মানুষ, শিশু, নারী কিংবা পুরুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে।”

বক্তব্যের শেষে তিনি যোগ করেন, “সবাই মিলে কাজ করব, গড়ব আমাদের বাংলাদেশ।”

 

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি’—তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো মাতৃভূমিতে সরাসরি জনসভায় অংশ নিয়ে বললেন, “আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, মাতৃভূমিতে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরেছি।”

ঢাকার পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত গণসংবর্ধনা মঞ্চ থেকে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। সকলে মিলে দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে এবং যেকোনো উসকানির মুখে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিলেন মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার ফিরুক। ৭১ সালের ও ২৪-এর শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সময় এসেছে সবাই মিলে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার।”

মঞ্চে তার সঙ্গে বিএনপির অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙের বিশেষ গাড়িবহরে করে গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান এবং জনসাধারণের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’: তারেক রহমান

প্রত্যাশিত, শান্তিপূর্ণ ও জনগণের কল্যাণভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে নতুন ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনার মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন,
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই— আই হ্যাভ অ্যা প্লান, ফর দ্য পিপল অব দিস কান্ট্রি।”

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। তার ভাষায়, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হবে যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন,
“আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর দরবারে দোয়া করি—দেশের যে সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ আছেন, তারা যেন একসঙ্গে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারেন।”

বক্তব্যে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হতে হবে।
“যেকোনো উসকানির মুখেও আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, দেশের শান্তি চাই, দেশের শান্তি চাই,”—তিনবার উচ্চারণ করে তিনি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমানের এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা ও রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, যা সামনে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও দিকনির্দেশনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গণসংবর্ধনার পুরো পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও উৎসবমুখর। লাখো নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে তারেক রহমানের বক্তব্য নতুন প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫