অর্থ উপদেষ্টার কক্ষে বিক্ষোভ ; ১০ দিনের আলটিমেটাম সচিবালয় কর্মকর্তাদের

সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সচিবালয় ভাতা ও রেশনিং ব্যবস্থা চালুর দাবিতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের দপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (১৯ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নবনির্মিত ১১ নম্বর ভবনের সামনে মিছিল করে তারা অর্থ উপদেষ্টার কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

অভিযানকারীদের নেতৃত্ব দেন সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর। তার সঙ্গে অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। মিছিল ও অবস্থান চলাকালে তারা দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং জানিয়ে দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করবেন। প্রয়োজনে রাতও কাটাবেন বলে জানান।

পরবর্তীতে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সংযুক্ত পরিষদের নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তারা অর্থ মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন এবং ৭ নম্বর ভবনের সামনে কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন সভাপতি বাদিউল কবীর।

তিনি বলেন, “সচিবালয়ে রেশন ও ভাতার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে আমরা দাবি তুলে ধরেছি। কিন্তু বিষয়টি এতদিন উপদেষ্টার কাছে পৌঁছায়নি। আজ কর্মচারীদের উপস্থিতিতে অর্থ উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার সুযোগ হয়েছে।”

বাদিউল কবীর জানান, উপদেষ্টা বলেছেন, “সচিব আমাকে এ বিষয়ে কিছু জানাননি। এখন আমি আপনাদের কথা শুনেছি। আমাকে ১০ থেকে ১২ দিন সময় দিন। আমি বিষয়টি কেবিনেটে তুলবো এবং আজই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করবো।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা তাকে সময় দিয়েছি। তবে আগামী ১০ দিনের মধ্যে কোনো অগ্রগতি না হলে, পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা করেই সে কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।”

এই অবস্থান কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের দাবির বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




ইশরাক হোসেনের শপথ নিয়ে আইনি জটিলতা রয়েছে: আসিফ মাহমুদ

আসিফ মাহমুদ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ নিয়ে আইনি সমস্যা এবং মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

সোমবার (১৯ মে) দুপুরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ)-এর সঙ্গে এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “মেয়র হিসেবে শপথ সংক্রান্ত বিষয়ে এখনো কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। মেয়াদ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও স্পষ্ট করতে হবে। এসব জটিলতা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে যাওয়া সম্ভব নয়।”

এ সময় আন্দোলনরত ইশরাক হোসেনের সমর্থকদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে। নগরবাসীর ভোগান্তি যেন না হয়, সে দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।”

প্রসঙ্গত, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ে বৈধ ঘোষণার পরেও এখন পর্যন্ত ইশরাক হোসেনের শপথ অনুষ্ঠান হয়নি। এতে করে তার সমর্থকরা নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন, যা সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে।




ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবিতে নগর ভবন ঘেরাও

ইশরাক হোসেন

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বৈধ মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার শত শত সমর্থক। সোমবার (১৯ মে) সকাল থেকে তারা এ কর্মসূচি শুরু করেছেন, যা চলবে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।

সমর্থকরা নগর ভবন ও আশপাশের এলাকায় জড়ো হয়ে ‘ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এতে করে নগর ভবনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এর আগেও গত ১৪ মে থেকে চলমান অবস্থান কর্মসূচির কারণে অফিস কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন বিএনপি প্রার্থী ও দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে। তবে গেজেট প্রকাশের পরও এখনো ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়নি। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

ইশরাকের সমর্থকদের দাবি, বৈধ মেয়র হিসেবে তিনি যে দায়িত্ব গ্রহণে অধিকারী, তা নির্বাচন ট্রাইব্যুনালের রায় এবং ইসির গেজেটেই স্পষ্ট। অথচ বারবার দাবি জানানোর পরও তার শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছে—যা অযৌক্তিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পরিপন্থী।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নগর ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া না গেলেও তার ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।




নির্বাচন ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলম্বের যৌক্তিকতা নেই: আমীর খসরু 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে অকারণে সময়ক্ষেপণ করে দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তার মতে, নির্বাচন আয়োজনের জন্য ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষার প্রয়োজন নেই, বরং আগামী আগস্ট-অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব।

গত রোববার (১৮ মে) রাজধানীর বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “নির্বাচনের জন্য সর্বোচ্চ তিন মাসের প্রস্তুতির সময় দরকার হয়। তাহলে কেন ডিসেম্বর পর্যন্ত যাওয়া হবে?”

তিনি আরও বলেন, জাতি এখন গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। “দেশ কোন দিকে যাচ্ছে, কেউ জানে না। সবাই মিলে স্বৈরাচার বিদায় করেছে, কিন্তু তার পর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হয়নি।”

সরকারকে অন্তর্বর্তীকালীন হিসেবে উল্লেখ করে আমীর খসরু বলেন, “এই সরকারের কাজ হওয়া উচিত ছিল একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করে ক্ষমতা নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা। কিন্তু তারা যেন একটি নির্বাচিত সরকার হিসেবে কাজ করছে।”

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বন্দর, করিডোর বা বিনিয়োগ সম্মেলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের বৈধতা কোথায়?” পাশাপাশি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র-সংক্রান্ত আদালতের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

“আদালতের আদেশ যদি মানা না হয়, তাহলে আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কাদের স্বার্থে কাজ করছে, সেটাও এখন প্রশ্নের মুখে,” বলেন আমীর খসরু।

সরকারের কথিত সংস্কার ও ঐকমত্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কোথায় এবং কাদের সঙ্গে হচ্ছে—তা স্পষ্ট নয়।”

স্থিতিশীল সহাবস্থানের রাজনীতির আহ্বান জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, “বাংলাদেশে আমরা সংঘর্ষমূলক রাজনীতি চাই না। যারা এটি ভিন্ন পথে নিতে চায়, তাদের আমরা রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করব।”

তিনি আরও জানান, “ভবিষ্যতের সব নির্বাচন যেন সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা। নির্বাচন যেন একটি নিয়মিত রুটিনে পরিণত হয়।”

এ সময় তিনি দাবি করেন, “দুই মাস আগে বিএনপির পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের বিষয়ে লিখিতভাবে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সরকার এ নিয়ে নাটক করছে—এটি জনগণের মনে প্রশ্ন তুলেছে।”




নগর ভবন ব্লকেডে অচল দক্ষিণ সিটি, সেবা কার্যক্রম বন্ধ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়রের দায়িত্ব বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে বুঝিয়ে দেওয়ার দাবিতে পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ চলছে।আজও (১৯মে) সোমবার সকাল থেকে নগর ভবনের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা ব্লকেড কর্মসূচি শুরু করেন। এতে নগর ভবনের সকল সেবা কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর গেজেট প্রকাশিত হলেও এখনো ইশরাক হোসেনকে শপথ পাঠ করানো হয়নি। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত নগর ভবনের সামনে আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে ঢাকাবাসীর ব্যানারে আন্দোলনকারীরা নগর ভবনের সামনে জড়ো হন। ব্লকেডের কারণে নগর ভবনের ভেতরে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সেবাগ্রহীতা প্রবেশ করতে পারেননি। ফলে দক্ষিণ সিটির সব ধরনের সেবা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, “নির্বাচনের ৩০ দিনের মধ্যে মামলাটি দায়ের করা হয়। কিন্তু তৎকালীন মেয়র তাপস প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি থামানোর চেষ্টা করেন।” তিনি বলেন, “আমরা আদালতের সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি এবং আদালতের রায়ে জয়ী হয়েছি। এখন শপথ গ্রহণে বাধা দেওয়া মানে আদালত অবমাননা।”

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হন। তবে গত ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে ইশরাককে বৈধ বিজয়ী ঘোষণা করে। এরপর ২২ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আইন মন্ত্রণালয়ের কাছে গেজেট প্রকাশের জন্য পরামর্শ চায়। কিন্তু এখনো শপথ গ্রহণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

চলমান আন্দোলনের কারণে নগর ভবনের কার্যক্রমে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে এবং নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা।




সরকারের পরিচালনায় চরম অস্থিরতা, এমনভাবে একটা দোকানও চলে না: অলি আহমদ

দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর সভাপতি ও বিএনপির সাবেক নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। তিনি বলেছেন, “সরকার যেভাবে চলছে, এভাবে একটা সরকার চলে না—এমনকি একটা দোকানও না।”

গত রোববার (১৮ মে) সন্ধ্যায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

অলি আহমদ বলেন, “দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সবাই চিন্তিত। সবাই শান্তি ও মঙ্গল চায়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ঢাকা প্রায় অচল। যার যে দাবি, তা নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ছে। কেউ মেয়র হতে চায়, কেউ বরখাস্ত হওয়া চাকরি ফিরে পেতে চায়—আর এভাবে রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে। এসব দাবির যৌক্তিকতা না থাকলেও পুরো জাতিকে ভোগান্তিতে ফেলা হচ্ছে।”

সরকারের নমনীয়তার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “সরকার নমনীয় আচরণ করছে, অথচ বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর দীর্ঘদিনেও নিষ্পত্তি হচ্ছে না। অনেক মামলা নয় মাস ধরে ঝুলে আছে।”

চাঁদাবাজি ও দলীয় নাম ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে অলি আহমদ বলেন, “বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে, কেউ কেউ আমার বা আমার দলের নাম ব্যবহার করছে। সরকারের দায়িত্ব হলো তাদের গ্রেপ্তার করা। এখানে কারও প্রতি দয়া দেখিয়ে দেশ চালানো চলবে না।”

তিনি বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই। জাতীয় ইস্যুতে বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। সশস্ত্র বাহিনীকেও বিবেচনায় আনতে হবে, কারণ তারা দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, আগামী বুধবার একটি প্রেস কনফারেন্স করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরা হবে।




যুবসমাজকেই নেতৃত্বে আসতে হবে; শাহাদাতই মোমিনের প্রকৃত সাফল্য

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দলটি দেশে কোরআনভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার (১৭ মে) সন্ধ্যায় রাজধানীর কাফরুলের তালতলা হালিম ফাউন্ডেশন স্কুলমাঠে কাফরুল দক্ষিণ থানা জামায়াত আয়োজিত সহযোগী সদস্য সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা হজরত ওমর (রা.)-এর মতো ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্য অর্জনে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র ও মত-পথ নির্বিশেষে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সমাজ পরিবর্তনে যুবসমাজের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বড় অর্জনগুলো যুবদের হাত ধরেই এসেছে। তাই বর্তমান সংকটকালে নতুন প্রজন্মকেই এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি বলেন, জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনায় আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে। জনগণ যদি তাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়, তাহলে কোনো বৈশ্বিক শক্তির সামনে মাথানত না করে ইসলামী মূল্যবোধ অনুসরণ করেই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে।

নেতৃত্বের আহ্বানে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, “দেশ ও জাতির কল্যাণে নতুন প্রজন্মকে যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। একজন মোমিনের জীবনের প্রকৃত সাফল্য হলো শাহাদাত। নবুয়াতের দরজা বন্ধ হলেও শাহাদাতের দরজা এখনো উন্মুক্ত। আর এই শাহাদাতই সর্বোচ্চ সম্মান।”

ব্যক্তিগতভাবে শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “দ্বীনের পথে একজনেরও যদি শাহাদাতের প্রয়োজন হয়, তবে সেই মর্যাদা যেন আমার ভাগ্যে জোটে।” তিনি সবার প্রতি শাহাদাতের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।




নুরের হুঁশিয়ারি: মানবিক করিডরের নামে ‘খাল কেটে কুমির’ আনবেন না

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের জন্য প্রস্তাবিত মানবিক করিডরের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন গণ-অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, মানবিক করিডরের আড়ালে যেন দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো ষড়যন্ত্র না ঘটে এবং “খাল কেটে কুমির” যেন না আনা হয়।

শনিবার (১৭ মে) বিকেলে রাজধানীর রাজারবাগ বাসস্ট্যান্ডে গণ-অধিকার পরিষদ আয়োজিত গণসমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নুর বলেন, “জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে যাদের উৎখাত করা হয়েছে, সেই চাঁদাবাজ ও দখলদারদের প্রভাব এখনো সর্বত্র বিদ্যমান। এসব চাঁদাবাজদের সিন্ডিকেট ও সমিতি ভেঙে দিতে হবে।”
চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশিদের কাছে হস্তান্তরের বিরোধিতা করে তিনি বলেন, “এটি দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। মানবিক করিডরের নামে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।”

সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান বলেন, “জনগণের বিরুদ্ধে গিয়ে কেউ নেতা হতে পারেন না। কেবল সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে হবে না, আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।”

অন্য বক্তারা বলেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধ উপেক্ষা করে রাজনীতি করা চলবে না। সংস্কারের নামে বহুত্ববাদ কিংবা পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রাজনীতি করা গ্রহণযোগ্য নয়।”
তারা আরও বলেন, “শেখ হাসিনাকে সরানো হয়েছে দিল্লির দাসত্ব থেকে মুক্তির জন্য, কিন্তু সেই সুযোগে আমেরিকার তাঁবেদারি মেনে নেওয়া যাবে না।”

গণ-অধিকার পরিষদের নেতারা দেশের সার্বভৌমত্ব, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জনগণের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান জানান।




জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠার রোডম্যাপ চান তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ দ্রুত ঘোষণা করার আহ্বান জানিয়েছেন। গত শনিবার (১৭মে) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে এনডিএমের অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে এ বক্তব্য রাখেন।

তারেক রহমান বলেন, “পরিস্থিতি অযথা ঘোলাটে না করে জাতীয় নির্বাচনের একটি সুস্পষ্ট তারিখ ঘোষণা করুন। জনগণের ভোটে দায়বদ্ধ সরকার প্রতিষ্ঠা না হলে পতিত স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করা সহজ হবে না।”

তিনি জানান, বিএনপিসহ অন্যান্য গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলো বহুদিন ধরেই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার এখনো সে আহ্বানে সাড়া দেয়নি।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরকার নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা না করে বরং এটিকে “অল্প সংস্কার বনাম বেশি সংস্কার” শর্তের মধ্যে আটকে দিয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং জনগণ সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে অন্ধকারে রয়েছে।

তিনি বলেন, “মাত্র ১০ মাসের মাথায় সরকারের ভেতরে ও বাইরে অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুধাবন না করলে এই অস্থিরতা আরও বাড়বে, যা সরকারের জন্য সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।”

তারেক রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে কতজন শহীদ হয়েছেন বা আহত হয়েছেন—সেই তালিকা সরকার এখনো দিতে পারেনি। এতে প্রশ্ন জাগে সরকার কি তাদের প্রতি উদাসীন, না কি ক্ষমতার মোহে আচ্ছন্ন?”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “করিডোর কিংবা বন্দর দেওয়া না দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকারের নয়। এই সিদ্ধান্ত আসবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ থেকে।”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সংস্কার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আলোচনা না করেই তড়িঘড়ি সংস্কার শুরু করায় রাজস্ব আদায় কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে চলতি অর্থবছরে বিশাল রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।”

অনুষ্ঠানে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, মহাসচিব মমিনুল আমিন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, গণঅধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




ভারতে পালানো আ. লীগ নেতাদের ভারত ছাড়ার হিড়িক

গণহত্যা, দমন-পীড়ন ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে ভারতে পালিয়ে থাকা একাধিক নেতার মধ্যে দেশটি ত্যাগের প্রবণতা বাড়ছে। পুশব্যাক ও গ্রেফতারের আশঙ্কায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থানরত অবৈধ বিদেশিদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশনা জারি হয়েছে, যা আগস্ট থেকে আরও কঠোরভাবে কার্যকর হবে। এই পরিস্থিতিতে অনেক আওয়ামী লীগ নেতা দেশে ফেরার বিষয়ে দ্বিধায় পড়েছেন, কারণ দেশে ফিরলে গ্রেফতারের ঝুঁকি বাড়ছে।

অন্যদিকে, ইতোমধ্যে ৫০ জনেরও বেশি নেতা ইউরোপ ও আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন, আর বাকি নেতারাও সেখানে পালানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানরত নেতাদের দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে যারা ফিরবেন না, তাদেরকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আটক করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার ইতিমধ্যেই বহুমুখী চাপ প্রয়োগের কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে এইসব ব্যক্তিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কার্যক্রম নিশ্চিত করা যায়।