“নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবি এনসিপির”

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতির জন্য দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন জরুরি হলেও বিদ্যমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখা সম্ভব নয়।

মঙ্গলবার (২০ মে) রাতে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “নির্বাচন কমিশন সংস্কার প্রস্তাব আমলে নেয়নি। তাদের গঠন প্রক্রিয়াতেই ত্রুটি রয়েছে। ফলে প্রথমে কমিশনকে পুনর্গঠন করে তবেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পথে অগ্রসর হওয়া উচিত।”

তিনি বলেন, নতুন স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে নাগরিক সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। এ লক্ষ্যে দ্রুত কমিশন পুনর্গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাতীয় নির্বাচন পেছানোর পক্ষে নয় উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বলিনি জাতীয় নির্বাচন পিছিয়ে দিতে হবে। তবে তারিখ ঘোষণা করে সবাইকে আশ্বস্ত করার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতে পারে। আমাদের সে বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই।”

এনসিপি আহ্বায়ক জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে জাতীয় নির্বাচনকে পরিকল্পিতভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা ডিসেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত যে সময় দিয়েছেন, সেটি আমরা সমর্থন করেছি। এরমধ্যে নির্বাচন হতে পারে, তবে বিচার ও সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করতে হবে।”

নাহিদ ইসলাম আরও জানান, গণপরিষদ ও জাতীয় নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজনের দাবিও তারা আগেই জানিয়েছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নতুন কোনো দাবি নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




সারাদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার কঠোর নির্দেশনা

রাজধানীসহ সারাদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কিছু ঘটনা নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া বৈঠকে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার মার্শাল হাসান মাহমুদ খানসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা অংশ নেন।

বৈঠকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।




“মিথ্যা মামলা ও দমন-পীড়ন সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে: ইমাম হায়াত”

নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত অভিযোগ করেছেন, মিথ্যা মামলা, বেআইনি গ্রেপ্তার এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় রূপান্তর করার মাধ্যমে বর্তমান সরকার গণতন্ত্রবিরোধী অবস্থান গ্রহণ করেছে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

মঙ্গলবার (২০মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “সরকারের ভেতরে একটি চরমপন্থী গোষ্ঠী এবং পুলিশের কিছু অতিউৎসাহী ও উগ্র মানসিকতার কর্মকর্তা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। এর ফলে সরকার জনরোষের মুখে পড়েছে এবং প্রধান উপদেষ্টার ইমেজও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “মিথ্যা মামলা, অবৈধ গ্রেপ্তার, অন্যায় রিমান্ড, বাকস্বাধীনতা হরণ এবং নারীসহ সাধারণ জনগণের ওপর দমনপীড়ন — সব মিলিয়ে রাষ্ট্রে একটি অমানবিক ও ভয়ভীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে।” এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ও ঘৃণা তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইমাম হায়াত আরও বলেন, “যারা শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের সমালোচনা করে, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা একটি অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী প্রবণতার বহিঃপ্রকাশ।” তিনি দাবি করেন, “মিথ্যাকেই এখন রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।”

বিবৃতিতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এখনও সময় আছে—গণতান্ত্রিক চরিত্রে ফিরে যান, একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করুন এবং ইতিহাসে নিজেদের একটি সম্মানজনক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করুন।”

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ধারা রক্ষায় সবার প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।




“ইশরাকের শপথে বাধা, অন্তর্বর্তী সরকারকে দায়ী করলেন রিজভী”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেছেন, আদালতের রায় সত্ত্বেও ইশরাক হোসেনকে মেয়র পদে শপথ নিতে বাধা দিচ্ছে সরকার। তিনি বলেন, “সরকার গায়ের জোরে ইশরাককে মেয়র হতে দিচ্ছে না। চট্টগ্রামে ডা. শাহাদাত মেয়র হতে পারলে, ইশরাক কী অপরাধ করেছে?”

মঙ্গলবার (২০ মে) রাজধানীর খিলক্ষেতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত রাকিবুল হাসানকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আহত রাকিবুল হাসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর একটি প্রতিনিধি দল খিলক্ষেত যান। এ সময় তারা রাকিবুলের মায়ের সঙ্গেও কথা বলেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন। দলের পক্ষ থেকে রাকিবুলের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

রিজভী আরও বলেন, “স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বয়স কম। হঠাৎ গুরুতর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পেয়ে যাওয়ায় তার কথাবার্তায় ভারসাম্যহীনতা দেখা যাচ্ছে।”

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত দায়ীদের এখনও বিচারের আওতায় আনা হয়নি। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার কাজের চেয়ে অকাজই বেশি করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সম্প্রতি আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আবাসনের দাবিতে যমুনার সামনে গিয়ে প্রতিবাদ জানালে পুলিশ দিয়ে তাদের অসম্মান করা হয়েছে। শেখ হাসিনাও অতীতে পুলিশ ব্যবহার করে নির্যাতন চালিয়েছেন।”

সভাপতিত্ব করেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন। এ সময় সংগঠনের উপদেষ্টা আশরাফ উদ্দিন বকুল, মো. আবুল কাশেম, মোস্তফা-ই-জামান সেলিম এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




উপদেষ্টা আসিফের বক্তব্যের জবাব দিলেন ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন তাঁর শপথ ও মেয়াদ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের দেওয়া ১০টি যুক্তির জবাব দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ইশরাক এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, “সরকারি উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ মিথ্যা তথ্য ও আইনের অপব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। আমি তার তথাকথিত ১০টি পয়েন্টের যুক্তিসমূহের জবাব দিচ্ছি।”

➤ আসিফের যুক্তিগুলোর জবাবে ইশরাক যা বললেন:

  1. আর্জি সংশোধন ও আদালতের রায়:
    আসিফের দাবি ছিল, হাইকোর্টের রায় লঙ্ঘন করে নির্বাচন কমিশন ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্ত দিয়েছে। জবাবে ইশরাক বলেন, “আর্জি সংশোধন ‘অর্ডার ৬, রুল ১৭’ অনুযায়ী আইনসিদ্ধ। হাইকোর্টের অবজারভেশন কোনো বাধ্যতামূলক আদেশ নয়।”
  2. একতরফা রায় অভিযোগ:
    ইশরাক জানান, “এই রায় একতরফা নয়। সাবেক মেয়র তাপস এই মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং জবাবও দিয়েছেন।”
  3. গেজেট প্রকাশ ও লিগ্যাল নোটিশ:
    তিনি ব্যাখ্যা করেন, “রায়ে বলা হয়েছিল ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে হবে। তাই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে রাত ১০টায় তা প্রকাশ করা হয়। আর যারা লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন তারা ঢাকা দক্ষিণ সিটির ভোটার নন।”
  4. স্থানীয় সরকার বিভাগের ভূমিকা:
    “স্থানীয় সরকার বিভাগ এই মামলার পক্ষ নয়। তাদের কাজ হলো নির্বাচন কমিশনের আদেশ বাস্তবায়ন করা।”
  5. রিট ও শপথ:
    “কোনো রিট মামলার কারণে শপথ স্থগিত থাকে না,” বলেন ইশরাক।
  6. বরিশাল মামলার প্রসঙ্গ:
    ইশরাক দাবি করেন, “বরিশাল সিটি নির্বাচন নিয়ে সময়মতো কোনো মামলা হয়নি, তাই ট্রাইব্যুনাল আবেদন খারিজ করে দেয়।”
  7. মেয়াদ সংক্রান্ত জটিলতা:
    “মেয়াদ নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশন। কমিশন অপারগ হলে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে।”
  8. আইনি জটিলতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের চিঠি:
    “নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ প্রয়োগ করে দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে— যা খুবই উদ্বেগজনক।”
  9. আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত:
    “তারা কৃত্রিম জটিলতা সৃষ্টি করে মেয়র হতে বাধা দিতে চাইছে,” অভিযোগ করেন ইশরাক।
  10. আওয়ামী আমলের নির্বাচন:
    “আমি তাপসের মেয়র প্রজ্ঞাপনকে চ্যালেঞ্জ করেছি এবং আদালত সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে আমাকে মেয়র ঘোষণা করেছে। এটা আওয়ামী আমলের নির্বাচন বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন নয়।”

শেষে ইশরাক হোসেন বলেন, “আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। যারা নির্বাচন ও আদালতের সিদ্ধান্তকে অস্বীকার করছেন, তারা জনগণের রায় মানতে নারাজ।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিক্ষোভের ষষ্ঠতম দিন, অচল গুলিস্তান

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে নগর ভবনের সামনে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার অনুসারীরা।

মঙ্গলবার সকালেও ইশরাক সমর্থকরা ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নগর ভবনের সামনে জড়ো হন। সেখানে তারা ইশরাক হোসেনকে অবিলম্বে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।

এ অবস্থান কর্মসূচির কারণে নগর ভবনের সামনের গুলিস্তান-বঙ্গবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে টানা পাঁচ দিন নগর ভবন ঘিরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান ইশরাকের অনুসারীরা, যার প্রভাবে নগর ভবন কেন্দ্রিক সব ধরনের নাগরিক সেবা কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে প্রায় পৌনে ২ লাখ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল ওই নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করে। এরপর থেকেই তার সমর্থকরা মেয়রের দায়িত্ব হস্তান্তরের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।




আইএমএফ ঋণ ছাড়া বাজেট সম্ভব নয় কেন? জানালেন অর্থ উপদেষ্টা

আসন্ন বাজেট বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সহায়তা নিতে কেন বাধ্য হচ্ছে বাংলাদেশ, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। একইসঙ্গে তিনি এবারের বাজেটের অগ্রাধিকার, চ্যালেঞ্জ ও সংস্কার পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন।

এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আইএমএফের অর্থ না পেলে বাজেট ছোট করতে হতো অথবা অতিরিক্ত ট্রেজারি বিল ও বন্ড ইস্যু করতে হতো। এতে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে যেত। এসব চিন্তা করেই ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাজেটের অগ্রাধিকার কী?

ড. সালেহউদ্দিন জানান, এবারের বাজেটে লক্ষ্য থাকবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি হলেও ডিসেম্বরের মধ্যে তা ৭.৫ থেকে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।তিনি বলেন, “এবারের বাজেট বাস্তবমুখী হবে, গতানুগতিক হবে না। সমতাভিত্তিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের পদক্ষেপ থাকবে।

ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি

বড় কর্পোরেটের একচেটিয়া সুবিধা বন্ধ করে এবার ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (SME) উন্নয়নেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। তৈরি হবে এসএমই ডেটাবেইজ, বাড়বে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা তহবিল।

অলিগার্ক তৈরির নীতি থেকে সরে এসে সকল উদ্যোক্তার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে মূল লক্ষ্য”—বলেন উপদেষ্টা।

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নয়

ড. সালেহউদ্দিন দৃঢ়ভাবে বলেন, “এবার বাজেটে কোনোভাবেই কালো টাকা সাদা করার সুযোগ রাখা হবে না।” জমির কেনাবেচায় প্রকৃত মূল্যে দলিল বাধ্যতামূলক করা হবে এবং করহার কমানো হবে, যাতে অবৈধ লেনদেন বন্ধ হয়।

বিনিয়োগ ও জ্বালানিতে প্রতিশ্রুতি

বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানি ও সার খাতে কোনো আপস করা হবে না। গ্যাস ও বিদ্যুতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে, তবে সিস্টেম লস কমিয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ব্যাংক খাতে সংস্কার

অবসায়ন বা একীভূতকরণের মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংক সংস্কারে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ’ কার্যকর করা হয়েছে। ৬টি ব্যাংকের প্রকৃত খেলাপি ঋণ নির্ধারণ করা হয়েছে, বাকিগুলোও পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

বড় অঙ্কের আমানতের ক্ষেত্রে শেয়ারহোল্ডার হওয়ার সুযোগ, বন্ড বা শেয়ারে পরিশোধের ব্যবস্থা থাকবে। এজন্য আলাদা একটি তহবিল গঠনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এনবিআর ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন

নতুন বাজেটে এনবিআরকে কেন্দ্র করে আলাদা রাজস্ব বিভাগ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একশ্রেণির কর্মকর্তাদের আপত্তি থাকলেও উপদেষ্টা জানিয়ে দিয়েছেন—এখানে কোনো সমঝোতা হবে না।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের পরিচালন বাজেট বাড়ানো হবে, যাতে প্রকল্পনির্ভরতা কমে এবং বাস্তবায়ন দক্ষতা বাড়ে। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ যথেষ্ট হলেও ব্যবস্থাপনা দুর্বল, তাই কাঠামোগত পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাজেট হবে ব্যবসাবান্ধব, তবে সবাইকে সমান সুযোগ দিতে হবে। মুষ্টিমেয় বড় প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নয়—সমতার ভিত্তিতে বাজেট সাজানো হবে”—জোর দিয়ে বলেন অর্থ উপদেষ্টা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাকের মেয়র শপথ ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট, শুনানি দুপুরে

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ নিতে না দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা একটি রিট আবেদনের শুনানি হবে আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ১টায়। শুনানি অনুষ্ঠিত হবে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে।

এর আগে গত সপ্তাহে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দা মো. মামুনুর রশিদ এই রিট আবেদন করেন। রিটে উল্লেখ করা হয়েছে, আদালতের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের গেজেট অনুসারে ইশরাক হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হলেও, তা বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অসঙ্গতি রয়েছে। একই সঙ্গে রিটে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারকের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

কী ঘটেছিল?

২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস প্রায় পৌনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন। বিএনপির প্রার্থী ছিলেন ইশরাক হোসেন।

তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে চলতি বছরের ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন।

এরপর নির্বাচন কমিশন ২৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে।

সমর্থকদের আন্দোলন

গেজেট প্রকাশের পরও এখনো শপথ গ্রহণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ইশরাক সমর্থকরা। তারা কয়েকদিন ধরে নগর ভবনের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছেন। সোমবার তারা নগর ভবন ব্লক করে রাখেন এবং আজ মঙ্গলবারও তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

সবচোখ এখন দুপুর ১টার হাইকোর্টের শুনানির দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে—ইশরাক হোসেন আদৌ শপথ নিতে পারবেন কি না।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাক হোসেনের আহ্বান: “সমালোচনা হোক শালীন ভাষায়, কাউকে অসম্মান নয়”

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার দাবিতে বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের সমর্থকরা টানা কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে আন্দোলন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করছেন। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যেও শালীনতা বজায় রেখে, কাউকে অসম্মান না করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ মে) নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এই কথা ইশরাক হোসেন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন।

তিনি বলেন, ” আমি আন্দোলনরত ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনগণ ও ভোটারদের বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের বাদে অন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতার বিরুদ্ধে যত ক্ষোভ থাকুক না কেন, আমরা তাদের অসম্মান হয় এরকম কিছু করা থেকে শতভাগ বিরত থাকি। আমরা সমালোচনা করি, রাজনৈতিক বক্তব্যর মধ্য দিয়ে তাদেরকে সতর্ক করি, তাদের ভুল ধরিয়ে দেই কিন্তু অবশ্যই ভাষাগত শিষ্টাচার মেনে।”

তিনি আরও লেখেন, “ অনেক তো দেখে আসছি আর পেছনের দিকে দেশটাকে নিতে চাই না। অবশ্যই আমরা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করব, দেশের বিরুদ্ধে সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিবো, নির্বাচনী স্পষ্ট রোডম্যাপ আদায়ের মাধ্যমে আমাদের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য পদক্ষেপ নিব। এমনকি বর্তমানে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের পদত্যাগে কঠোর গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও করবো।কিন্তু ভাষা ও ব্যবহার জাতে শত্রুও সমালোচনা করতে না পারে।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ইশরাক হোসেন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে তিনি নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছেন। তার সমর্থকরাও দায়িত্ব বুঝে দেওয়ার দাবিতে রাজপথে সক্রিয় রয়েছেন।




ড. ইউনূসের চারপাশে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠরা সক্রিয়: ফারুকের অভিযোগ”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আশপাশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা সক্রিয়ভাবে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক।

সোমবার (১৯ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

ফারুক বলেন, “করিডোর ও নির্বাচন ইস্যুতে বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, ড. ইউনূসের চারপাশে হাসিনার দোসররা ভিড় জমাচ্ছেন। করিডোর দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নয়; এটি একটি নির্বাচিত সরকারের এখতিয়ার।”

তিনি বলেন, করিডোরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংসদ থেকেই হওয়া উচিত।

বিএনপির এই নেতা আরও দাবি করেন, বাংলাদেশকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে একটি গভীর চক্রান্ত চলছে। “কেউ কেউ একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে সংগঠিত করে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে বলছি—ড. ইউনূসকে কাউকে সংগঠিত করার জন্য ক্ষমতায় বসানো হয়নি,” বলেন তিনি।

ফারুক জোর দিয়ে বলেন, “জনগণের স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারকে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে।”