“বিদেশে চিকিৎসা নয়, জনপ্রতিনিধিদের দেশের হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে হবে: রুমিন ফারহানা”

দেশের স্বাস্থ্য খাতের শোচনীয় অবস্থার জন্য ‘গলদ রাজনীতি’কে দায়ী করে জনপ্রতিনিধিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বাধ্য করার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘যুবদের সংস্কার ভাবনা: কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের ধারণা, এই দেশে তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন নেই। নির্বাচিত হওয়ার পরই তারা বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান। এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা বাধ্যতামূলক করতে হবে। আইন করেই এটা নিশ্চিত করতে হবে।”

নিজ নির্বাচনী এলাকার হাসপাতাল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে গিয়ে দেখেছি—ডাক্তার নেই, নার্স নেই, সরঞ্জাম ও ওষুধের অভাব চরম। এটি গলদ রাজনীতির ফল। আইন করে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য করা হলে ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে।”

শুধু জনপ্রতিনিধিদেরই নয়, তাদের সন্তানদেরও দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার বাধ্যবাধকতা করার প্রস্তাব দেন তিনি। রুমিন বলেন, “আমি বা আমার মা-বাবা কখনো বিদেশে চিকিৎসা নিইনি। গত ২৫ বছর ধরে এই সেক্টরের সঙ্গে জড়িত। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা একেবারেই অকার্যকর নয়। কিন্তু ডাক্তারদের ওপর চাপ বেশি, বেতন কম, সুযোগ-সুবিধা নেই।”

তিনি অভিযোগ করেন, “একজন ডাক্তারকে ২০ হাজার টাকা বেতনে ২৪ ঘণ্টা খাটানো হলে ভালো সেবা আশা করা যায় না। চিকিৎসা একটি দলগত কাজ—এখানে চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও যন্ত্রপাতির মান গুরুত্বপূর্ণ। সবকিছু ঠিক না থাকলে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সম্ভব নয়।”

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাজেট কমানোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “২০২৫ সালের বাজেটে শিক্ষা খাতে তিন হাজার কোটি টাকা ও স্বাস্থ্য খাতে ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এতে যথাক্রমে ৯১টি শিক্ষা প্রকল্প ও ৩৫টি স্বাস্থ্য প্রকল্প বাদ দেওয়া হয়েছে। এই টাকা যদি দুর্নীতির পরিবর্তে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ানদের উন্নয়নে ব্যয় করা হতো, তাহলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতো।”

তিনি আরও বলেন, “জিডিপির এক শতাংশও আমরা স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করি না। চিকিৎসক, নার্স এবং যন্ত্রপাতির ঘাটতি নিয়ে আমরা বিশ্বমানের সেবা চাই—তা বাস্তবসম্মত নয়।”

রুমিন ফারহানা হাসপাতালগুলোতে রোগীর মৃত্যুর পর চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাকেও দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, “অন্যসব ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর নির্ভর করলেও হাসপাতালে মৃত্যুর পর ভাঙচুর ও ডাক্তারদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।”

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আরও অংশ নেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও অধ্যাপক লিয়াকত আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী।




“বাংলাদেশ ছাড়া আমার আর কোনো নাগরিকত্ব নেই”: খলিলুর রহমান

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেছেন, তার একমাত্র নাগরিকত্ব বাংলাদেশের এবং তার কোনো বিদেশি পাসপোর্ট নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করাকে ভিত্তি করে তাকে ‘বিদেশি নাগরিক’ বলা অনুচিত।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর বেইলি রোডে অবস্থিত ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

খলিলুর রহমান বলেন, “আমার একটাই জাতীয় নাগরিকত্ব, তা হলো বাংলাদেশের। আমি কিছুদিন আগে পর্যন্ত পরিবারসহ আমেরিকায় ছিলাম, কিন্তু আমার কোনো আমেরিকান পাসপোর্ট নেই। আমি বাংলাদেশের নাগরিক, অন্য কোনো দেশের না।”

তিনি আরও বলেন, “যদি আমেরিকায় থাকা নিয়ে আমাকে বিদেশি বলা হয়, তাহলে একইভাবে তারেক রহমান সাহেবকেও বলা উচিত। আমি আবেদন জানাব, বুঝেশুনে কথা বলা হোক। আমাকে যেটা নই, সেটা বানানোর চেষ্টা করা হলে তার প্রভাব অন্যদের ওপরও পড়তে পারে।”

নিরাপত্তা উপদেষ্টা সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি কিছু বলতেই হয়, তবে তা তথ্য-প্রমাণসহ বলা হোক। আমি যা নই, দয়া করে আমাকে তা প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না।”

এই বক্তব্যের মাধ্যমে খলিলুর রহমান তার নাগরিকত্ব নিয়ে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো নানা গুঞ্জনের জবাব দেন।




পররাষ্ট্র সচিবের দায়িত্ব ছাড়ায় ‘কোনো ইস্যু নেই’: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

পররাষ্ট্র সচিব জসীম উদ্দিনের দায়িত্ব ছাড়ার পেছনে কোনো ধরনের ইস্যু নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। তিনি জানান, সচিব পদে দায়িত্ব পরিবর্তন হবে এবং এটি একটি প্রক্রিয়ার অংশমাত্র।

বুধবার (২১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “তিনি (পররাষ্ট্র সচিব) বর্তমানে চাকরিতে আছেন। দায়িত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হচ্ছে। তিনি কয়েক দিনের মধ্যে তার বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। অপসারণের কোনো ইস্যু নেই। বিভিন্ন কারণে তিনি নিজেই দায়িত্ব ছাড়তে চান।”

এদিকে, কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম নতুন পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে নতুন সচিব নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত একজন ভারপ্রাপ্ত সচিব দায়িত্ব পালন করবেন।

উল্লেখ্য, জসীম উদ্দিন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) ১৩তম ব্যাচের পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা। তিনি কাতারে রাষ্ট্রদূতসহ টোকিও, দিল্লি, ওয়াশিংটন ডিসি এবং ইসলামাবাদের বাংলাদেশ দূতাবাসে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।




বিএনপিপন্থী উপদেষ্টাদের পদত্যাগ দাবি এনসিপির, নির্বাচন কমিশনের সামনে বিক্ষোভ

বিএনপিপন্থি বলে অভিযোগ তুলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বুধবার (২১ মে) দুপুরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই দাবি জানানো হয়।

এনসিপির মহানগর উত্তর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভে দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন না হলে এনসিপি কোনো নির্বাচনে অংশ নেবে না।

তিনি বলেন, “আইন, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টারা সরকারের ভেতরে বিএনপির মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন। ওয়াহিদউদ্দিন শিক্ষা খাত, সালেহউদ্দিন অর্থনৈতিক খাত এবং আসিফ নজরুল আইন মন্ত্রণালয়কে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছেন। এসব উপদেষ্টাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে।”

পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জুলাই ঘোষণাপত্র ইস্যু করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেননি। তিনি বলেন, “আসিফ নজরুল আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। তিনি যদি আবার মিথ্যাচার করেন, ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে।”

বিক্ষোভে আরও বলা হয়, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে হবে। এনসিপি নেতারা জানান, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন না হলে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে পাটওয়ারী বলেন, “এই কমিশন গঠন করা হয়েছে তড়িঘড়ি করে, কোনো ধরনের সার্বজনীন মতামত ছাড়া। তারা জনগণের আস্থা হারিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হলেও দলটির নিয়ন্ত্রিত নির্বাচন কমিশন ও সংবিধান এখনো বহাল রয়েছে। তিনি আসিফ নজরুলকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়ে বলেন, “সরকারি দপ্তরে বেইমানদের জায়গা নেই।”

সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতারা কমিশনারদের পদত্যাগ এবং ইসি পুনর্গঠনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।




জাতীয়করণ দাবিতে শিক্ষকদের লংমার্চ, রাস্তায় উত্তেজনা

শিক্ষাব্যবস্থার জাতীয়করণ ও সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য দূর করার দাবিতে সচিবালয় অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন শিক্ষকরা।

বুধবার (২১ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষকরা একটি মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের দিকে রওনা হলে প্রেস ক্লাব ও সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেট সংলগ্ন সড়কে পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

শিক্ষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে— ঈদুল আজহার আগেই শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদান, পূর্ণাঙ্গ বাড়িভাড়া বাস্তবায়ন এবং শিক্ষাখাতকে জাতীয়করণের উদ্যোগ গ্রহণ।

ব্যারিকেড অতিক্রম করে সচিবালয়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষক-পুলিশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শিক্ষকদের ঘিরে ফেলে।

এসময় শিক্ষক নেতাদের একজন হ্যান্ডমাইকে পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, “দয়া করে আমাদের মারবেন না। আমরা ন্যায্য দাবি নিয়ে যাচ্ছি। আপনারা আমাদের কথা শুনুন। যদি আমাদের দাবি অযৌক্তিক মনে হয়, আমরা ফিরে যাবো। তবে অনুগ্রহ করে গায়ে হাত তুলবেন না।”

প্রায় ২০ মিনিট ধরে শিক্ষকরা ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। পরে পুলিশ তাদের প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে সরিয়ে নেয়, যেখানে তারা স্লোগান অব্যাহত রাখেন।

পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে শিক্ষক প্রতিনিধিদের একটি দলকে সচিবালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।




নিরাপত্তা উপদেষ্টা: করিডর ইস্যু ভিত্তিহীন, আলোচনার প্রশ্নই ওঠে না

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে করিডর স্থাপনের বিষয়টি ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, করিডর নিয়ে সরকারের কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “করিডর বিষয়টি বুঝতে হবে—এটি একটি জরুরি ব্যবস্থাপনা, যা দুর্যোগকালে লোকজন সরিয়ে নিতে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আমরা কাউকে সরাচ্ছি না। আরাকানে ত্রাণ পাঠানোর জন্য জাতিসংঘ আমাদের শুধু অনুরোধ করেছে যেন সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চল দিয়ে সহায়তা পাঠানো সম্ভব হয়।”

ড. খলিলুর রহমান জানান, জাতিসংঘ তাদের নিজস্ব সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে রাখাইনে ত্রাণ পৌঁছাবে এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে কোনো ‘করিডর’ গঠন করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘকে জিজ্ঞেস করলেই প্রমাণ মিলবে। করিডর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি এবং হবে না। আরাকানে করিডরের প্রয়োজনও নেই।”

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গে নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, রাখাইনের পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনার সুযোগ তৈরি হবে। “যতদিন আরাকানে অস্থিরতা থাকবে, ততদিন প্রত্যাবাসনের প্রসঙ্গও আসবে না,” বলেন তিনি।

সম্প্রতি করিডর বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “তিনি করিডর শব্দটি বললেও পরে সংশোধন করে ‘পাথওয়ে’ বলেছেন। এটা স্লিপ অব টাং ছিল এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শুধরে নিয়েছেন।”

ত্রাণ সরবরাহের রুট প্রসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেন, “যদি সব পক্ষ সম্মত হয়, তাহলে সবাই মিলে বসেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোন রুট ব্যবহার করা হবে। তবে আমরা এখনও সে পর্যায়ে পৌঁছাইনি।”

সেনাবাহিনীর সঙ্গে কোনো মতপার্থক্য রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীর সঙ্গে আমাদের পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। সেনাপ্রধানের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো বিভ্রান্তি নেই।”

বিদেশি কোনো চাপ রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনো চাপ নেই। যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগে আছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা, যাতে তারা ফেরত গিয়ে আবার না ফিরে আসে।”




নির্বাচন ভবনে সতর্কতা, নিরাপত্তা বলয়ে আগারগাঁও

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচন ভবন এলাকায় পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনের সামনে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ভবনের সামনের রাস্তায় কাঁটাতারের ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। নিরাপত্তায় মোতায়েন রয়েছে পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

ইসি কর্তৃক বিএনপি সমর্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করায় এর প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে এনসিপি। দলটির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন বিএনপিকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে এবং তারা একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে গঠিত কমিশনের পুনর্গঠনের দাবিও জানিয়েছে।

নির্বাচন ভবন এলাকায় যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।নিরাপত্তা রক্ষার্থে  ইসির সামনে পুলিশ, র‍্যাব থেকে শুরু করে উপস্থিত রয়েছে বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও।




এনসিপি নেতার জিম্মায় আটক সমন্বয়করা মুক্ত: কেন্দ্রীয় কমিটির ক্ষোভ প্রকাশ

রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক প্রকাশকের বাসার সামনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় তিনজন সমন্বয়ককে ছেড়ে দেওয়ার পর জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ মে) ধানমন্ডি থানা পুলিশ তিনজন সমন্বয়ককে আটক করে। পরে হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার (২১ মে) এনসিপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রকাশ করা হয়, যেখানে তাকে আগামী তিন দিনের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নোটিশে স্বাক্ষর করেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত।

আটক হওয়া তিনজন হলেন—বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বী, যাকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে; ঢাকা মহানগর শাখার সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আফারহান সরকার দিনার এবং মো. উল্লাহ জিসান, যিনি কোনো পদে না থাকলেও আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন দুপুরের পর হান্নান মাসউদ ধানমন্ডি থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। এরপরই তার জিম্মায় ওই তিনজনকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, “আমি খোঁজ-খবর নিতে থানায় গিয়েছিলাম। একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, সেটার মীমাংসা হয়েছে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বাইরের অনেকেই জড়িত, আমরা তা তদন্ত করে দেখছি।”

ঘটনার প্রেক্ষাপটে এনসিপি নেতৃত্বের অভ্যন্তরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




“উপদেষ্টাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা তুলে ধরে পদত্যাগের আহ্বান ইশরাকের”

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ইশরাক হোসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের পদত্যাগ দাবি করেছেন। বুধবার (২১ মে) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আহ্বান জানান।

ইশরাক লিখেছেন, গণতান্ত্রিক চেতনা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখে তিনি উপদেষ্টা দু’জনকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সব ধরনের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগের অনুরোধ করছেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এই দুই উপদেষ্টার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট এবং ভবিষ্যতে তারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে তাদের দায়িত্বে থাকা উপযুক্ত নয় বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আপনাদের পদত্যাগ অযৌক্তিক নয় বরং এটি বর্তমান সরকারের নিরপেক্ষতা প্রমাণে সহায়ক হবে।” ইশরাক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের উদাহরণ টেনে বলেন, নাহিদ ইসলাম মন্ত্রিত্ব ছাড়ার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একইভাবে অতীতে সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহরাও রাজনৈতিক পথ বেছে নিয়েছিলেন মন্ত্রিত্বের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও।

ইশরাক হোসেনের মতে, উপদেষ্টা পদে থেকে দলীয় সুবিধা দেওয়া না দেওয়ার প্রশ্নই উঠে আসে এবং এ ধরনের অবস্থানে থেকে শতভাগ নিরপেক্ষ থাকা বাস্তবসম্মত নয়। “কাঁঠাল ভাঙবে আপনাদের মাথায়, খাবে কিন্তু অন্য সবাই”—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা তুলে ধরেন।

নিজেকে নিয়েও ইশরাক বলেন, “আমার বিরুদ্ধেও সমালোচনা হয়েছে, কিন্তু আমার কোনো বিকল্প ছিল না। আমি জনগণকে বোঝাতে চেয়েছি কোন পথে ভুল হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ‘ভুল পলিসির’ শিকার হয়েছেন এবং আইনের পথ মেনে না চললে দেশ সংস্কার অসম্ভব।

ফেসবুক পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, “বন্দোবস্ত তো আগেরটাই অনুসরণ হচ্ছে, আরও পাকাপোক্ত করা হচ্ছে বললেও ভুল হবে না। আপনাদের পদত্যাগের দাবি থেকে সরার কোনো সুযোগ নাই। আপনারাই বা কেন থাকতে চাচ্ছেন?”

এই পোস্টে ইশরাক হোসেন স্পষ্টভাবে সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনরত রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পদত্যাগের মাধ্যমে রাজনৈতিক নৈতিকতা রক্ষার ওপর জোর দেন।




জনপ্রতিনিধি না থাকায় দুর্ভোগ, ইসির সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা এনসিপির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সামনে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঙ্গলবার(২০ মে) রাতে দলটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দেশে জনপ্রতিনিধি না থাকায় নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আখতার হোসেন বলেন, “আমরা অনতিবিলম্বে সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এই দাবিতে আগামীকাল (২১ মে) বেলা ১১টায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে ঢাকা মহানগর এনসিপির উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, “‘ইশরাক হোসেন বনাম শেখ ফজলে নূর তাপস গং’ মামলাটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে, যেখান থেকে দেখা যাচ্ছে সারাদেশে অবৈধভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আদালতের শরণাপন্ন হয়ে এক জটিল পরিস্থিতি তৈরি করছেন।” এই সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনই একমাত্র কার্যকর সমাধান বলে দাবি করেন আখতার হোসেন।

তবে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন একটি ‘ফ্যাসিবাদী আইনে গঠিত পক্ষপাতদুষ্ট’ সংস্থা, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে অক্ষম বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।