চলমান অস্থিরতায় পদত্যাগের ইঙ্গিত ড. ইউনূসের, আলোচনায় মিললো সংকটের বার্তা

দেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চলমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে পদত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নাহিদ। পরে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্দোলনের চাপে ড. ইউনূস নিজের দায়িত্ব পালনে সংকটে পড়েছেন বলে মনে করছেন।

নাহিদ বলেন, “দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে স্যারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তিনি বলেছেন, যদি কাজ করতে না পারি, তাহলে এই অবস্থায় থাকা অর্থহীন।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, আন্দোলনের চাপ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের অভাব তাকে কার্যত ‘জিম্মি’ করে ফেলেছে বলে মনে করছেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম জানান, তিনি ড. ইউনূসকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। “আমি বলেছি, দেশের ভবিষ্যৎ, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে আপনি শক্ত থাকুন। সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলুন।”

তিনি আরও বলেন, “স্যার বলেছেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো আস্থা না দেয়, তাহলে তিনি কেন থাকবেন? তিনি স্পষ্ট বলেছেন, পদত্যাগের বিষয়ে ভাবছেন।”

এদিকে, বিএনপি বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের দুই উপদেষ্টা—মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদের—পদত্যাগ দাবি করে। একইসঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানেরও অব্যাহতি চায় দলটি।

বিএনপির এ দাবির পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এনসিপির এক শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদকে ‘বিএনপির মুখপাত্র’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে তাদেরও পদত্যাগে বাধ্য করা হতে পারে।

এদিকে, তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বৃহস্পতিবার নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে অতীতে বিভাজনমূলক বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

বর্তমান অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার এমন মনোভাব দেশের অন্তর্বর্তী সরকার কাঠামোতে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।




দুদকের চিঠি: শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনে অনুরোধ 

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নির্বাচনী হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপন ও অসত্য তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও)-এর আওতায় ব্যবস্থা নিতে চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) ইসিতে দাখিল করা হলফনামায় শেখ হাসিনা তার নিজের নামে ৬ দশমিক ৫০ একর কৃষিজমি এবং তার মূল্য এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা উল্লেখ করেন। কিন্তু দুদকে জমা দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে তার নামে থাকা জমির পরিমাণ ২৮ দশমিক ৪১১ একর এবং সেগুলোর মূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১০ টাকা বলে পাওয়া গেছে। এতে দেখা যায়, তিনি ২১ দশমিক ৯১ একর জমির তথ্য গোপন করেছেন এবং ৩১ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা কম দেখিয়েছেন।

এছাড়াও চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা তৎকালীন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোহাম্মদ সিরাজুল আকবরের শুল্কমুক্ত কোটা ব্যবহার করে বেনামে ২ লাখ ৩০ হাজার ইউরো মূল্যের একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আমদানি করেন। গাড়িটি তার ধানমন্ডির ঠিকানা ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয় (ঢাকা মেট্রো-ঘ-১১-৬৩৬৪) এবং তিনি নিজে এটি ব্যবহার করেন। তবে ডা. সিরাজুল আকবরের আয়কর নথি বা নির্বাচন কমিশনে দাখিলকৃত হলফনামায় এই গাড়ির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

দুদক চিঠিতে জানিয়েছে, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হলফনামায় অসত্য তথ্য দেওয়ার বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।




ড. ইউনূসকে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার পরামর্শ জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে তিনি এই প্রস্তাব দেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীতে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডা. শফিকুর রহমান নিজে। এতে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আলোচনার পর জামায়াত আমির মত দেন, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় প্রধান উপদেষ্টার উচিত সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সর্বদলীয় বৈঠকের আয়োজন করা।




গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকটে সেনানিবাসে আশ্রয়: কারা কারা ছিলেন তালিকায়

জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রেক্ষাপটে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণঅভ্যুত্থানের পর কিছু কুচক্রী মহলের তৎপরতায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। হামলা, অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি ও ডাকাতির মতো ঘটনার পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি হয়।

এই অবস্থায় জীবন রক্ষার্থে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রার্থনা করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আইএসপিআরের ভাষ্যমতে, সেনাবাহিনী তখন আশ্রয়প্রার্থীদের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং পরিচয় যাচাইয়ের চেয়ে মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় প্রদান করে।

প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের মধ্যে ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য, ১২ জন বিভিন্ন শ্রেণির ব্যক্তি এবং ৫১ জন পরিবারের সদস্য (স্ত্রী-সন্তান) রয়েছেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, অধিকাংশ আশ্রয়প্রার্থী ১-২ দিনের মধ্যেই সেনানিবাস ত্যাগ করেন। তবে, তাদের মধ্যে ৫ জনকে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেনানিবাসে আশ্রয়গ্রহণকারীদের বিষয়ে তথ্য জানায় এবং ওই সময় ১৯৩ জন ব্যক্তির একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

সংস্থাটি বলেছে, মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়া হলেও কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

আইএসপিআর আরও একবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।




৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করলেন ইশরাক হোসেন

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়ে আপাতত আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে তিনি এই ঘোষণা দেন।

ইশরাক হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি গণতান্ত্রিক, নিয়মতান্ত্রিক দল, যারা আইনের শাসনে বিশ্বাস করে। হাইকোর্টের আদেশ শোনার পর দল সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আপাতত আন্দোলন স্থগিত থাকবে। সরকারকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তাদের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টে একটি “ভুয়া রিট” করে তাকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ নিতে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের আদেশে আইনের শাসনের বিজয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আন্দোলন স্থগিতের পেছনে জনদুর্ভোগের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেন ইশরাক। তিনি বলেন, “এই কর্মসূচির ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা সাধারণ জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আন্দোলন শুরু করার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, কিন্তু সরকার আমাদের বাধ্য করেছে এমন কর্মসূচি নিতে।”

তবে ইশরাক স্পষ্ট করে দেন, সরকারে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধির পদত্যাগ দাবি থেকে বিএনপি সরে আসছে না। তিনি বলেন, “তাদের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের মূল লক্ষ্য থাকবে অটুট। আদালতের রায় ও শপথ আলাদা বিষয়। দাবি এখনও বহাল রয়েছে।”

ইশরাক আরও বলেন, সরকার যদি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আদালতের রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করে, তাহলে শুক্রবার সকালে আবারও কাকরাইলে অবস্থান কর্মসূচি দেওয়া হবে।

তিনি দাবি করেন, আন্দোলন সফল করতে তৃণমূলের বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ঢাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সমর্থিত একটি রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুল আইনি ব্যাখ্যা ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান জানিয়ে বলেন, “আপনার আশপাশে থাকা কুলাঙ্গারদের চিহ্নিত করে অপসারণ করুন, এবং একটি নিরপেক্ষ সরকার গঠন করুন।”

প্রসঙ্গত, বুধবার সকাল থেকে কাকরাইলে অবস্থান নিয়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে শপথ পড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ করে তার সমর্থকরা। বৃহস্পতিবার দুপুরেও স্লোগান দিতে দেখা যায় বিএনপি নেতাকর্মীদের, যারা নির্বাচিত সরকারের দাবি ও উপদেষ্টাদের পদত্যাগ চেয়ে আন্দোলনে সরব ছিলেন।




৪৮ ঘণ্টার জন্য বিরতি, মাঠে নামার হুঁশিয়ারি ইশরাকের

অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা পর্যবেক্ষণের জন্য ৪৮ ঘণ্টার বিরতির ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র ইশরাক হোসেন। তবে সময়সীমা পেরিয়ে কোনও অগ্রগতি না হলে আবারও আন্দোলনে ফেরার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২২ মে) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে চলমান আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হয়ে ইশরাক বলেন, “ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগের বিষয়ে আমরা ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করব। এই সময়ের মধ্যে সরকার যদি ইতিবাচক কোনো পদক্ষেপ না নেয়, তবে শুক্রবার সকাল থেকেই আন্দোলন নতুনভাবে শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “মানুষ তাদের অধিকার আদায়ে রাজপথে নেমেছে, কিন্তু সরকারের অনড় অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। আমরা দায়িত্বশীল আচরণ করছি, তাই অস্থায়ী বিরতি দিচ্ছি।”

শপথ নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ঢাকা দক্ষিণ সিটির নবনির্বাচিত মেয়র ইশরাক হোসেন অভিযোগ করেন, “একটি ভুয়া রিটের মাধ্যমে আমার শপথগ্রহণ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আদালতে সেই রিট খারিজ হয়ে গেছে, এখন আর কোনো আইনি বাধা নেই।”

প্রসঙ্গত, ইশরাক হোসেনকে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে একজন আইনজীবী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন, যা বৃহস্পতিবার খারিজ করে দেন আদালত।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্দোলন স্থগিতের এই ঘোষণা কৌশলগত হলেও সরকারের জন্য এটি একটি চাপের বার্তা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




“পুশ-ইন ইস্যুতে দিল্লিকে কড়া বার্তা দিয়েছে ঢাকা”

নভারত থেকে বাংলাদেশে পুশ-ইন বন্ধে দেশটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানিয়েছেন, এভাবে পুশ-ইন করাটা সঠিক নয়—এমন বার্তা দিল্লিকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।

বুধবার (২১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “দিল্লির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যেন নিয়ম বহির্ভূত কিছু না ঘটে।”

তৌহিদ হোসেন আরও জানান, ভারত সরকার বাংলাদেশে অবস্থানকারীদের একটি তালিকা দিয়েছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেই তালিকা যাচাই-বাছাই করছে।

ভারতীয় ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের পুশব্যাক বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আমার কাছে এ বিষয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। আমরা সাধারণত পুশব্যাক করি না। তবে যাদের ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের অবশ্যই ফেরত নিতে হবে।”

এছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অতীতে হওয়া বিভিন্ন চুক্তি বাতিল বা পর্যালোচনা নিয়ে তিনি বলেন, “ছোট ছোট অনেক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) হয়েছে। সেগুলোর কিছু দুই পক্ষের সম্মতিতে, আবার কিছু নির্দিষ্ট শর্তে বাতিল করা যায়। তবে এই মুহূর্তে আমরা কোনো চুক্তি বাতিল করিনি। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সবকিছু নিয়ম মেনেই এগিয়ে নেওয়া।”

ভারত সরকার কি নিয়ম লঙ্ঘন করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নিয়মকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা যায়। কেউ সরাসরি স্বীকার করে না যে সে নিয়ম ভাঙছে। আমাদেরকেই সবদিক বিবেচনায় রেখে এগোতে হয়।”

এদিকে ভারত স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্যে আমদানি নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন জানান, “বাণিজ্য উপদেষ্টা বিষয়টি দেখছেন এবং আমরা বিষয়টি দিল্লির সঙ্গে টেকআপ করছি। ইতোমধ্যে চিঠিও পাঠানো হয়েছে।”

অস্ট্রেলিয়ার ৪১ জন এমপি ও সিনেটরের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বাংলাদেশে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, “চিঠিটি এখনো আমার নজরে আসেনি। সামাজিক মাধ্যমে অনেক কিছু আসে—আমরা বিষয়টি পরে দেখব।”

বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের শতাধিক চুক্তি রয়েছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, “আমরা এখনো কোনো চুক্তি বাতিলের উদ্যোগ নেইনি। তবে প্রতিটি চুক্তি পর্যালোচনার চেষ্টা করছি এবং সময়মতো সেগুলো ভারতের সঙ্গে আলোচনায় তোলা হবে।”




“জনগণের নয়, নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার লড়াইয়ে ব্যস্ত বিএনপি: নাসীরুদ্দীন”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বিএনপি এখন আর জনগণের দলে নেই, বরং তারা কেবল নিজেদের ক্ষমতার স্বার্থেই রাজপথে নামে। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি ধারাবাহিকভাবে জনগণের পক্ষের যেকোনো উদ্যোগে বাধা দিয়ে এসেছে কিংবা নীরব থেকেছে।

বুধবার (২১ মে) দিনগত রাতের দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে নাসীরুদ্দীন এসব কথা বলেন।

তিনি লিখেন, রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর অপসারণ, জুলাই ঘোষণাপত্রসহ জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পদক্ষেপে বিএনপি কখনোই সক্রিয় ছিল না। বরং তারা বারবার পুরোনো রাজনৈতিক সমঝোতা ও শাসকগোষ্ঠীর সুবিধা রক্ষায় ব্যস্ত থেকেছে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই দাবির ক্ষেত্রেও বিএনপির অবস্থান ছিল নিশ্চুপ। তারা কখনোই জনগণের পক্ষের কোনো আন্দোলনে সামনে আসেনি।”

ইশরাক হোসেনের মেয়র হওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপির আচরণ প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন বলেন, “এটি আবারও প্রমাণ করে যে বিএনপি শুধু নিজেদের এজেন্ডা নিয়েই ভাবে। আজকের বিএনপি হয়ে উঠেছে কিছু বুড়ো রাজনীতিকের ক্ষমতাচর্চার এক গোঁড়া প্ল্যাটফর্ম, যেখানে তরুণ নেতাদেরও একটি মেয়র পদ পেতে রাস্তায় বসে থাকতে হয়।”

তিনি আরও লিখেন, গত ১৬ বছর ধরে বিএনপির ভুল নেতৃত্ব ও কৌশলগত ব্যর্থতায় দলটির ভেতরের বাংলাদেশপন্থি কর্মীরা ফ্যাসিবাদী দমননীতির শিকার হয়েছেন। বিএনপি এখনো ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-কে জাতীয় রূপান্তরের চেয়ে ক্ষমতার পালাবদল হিসেবেই দেখে।

ঢাকা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন অভিযোগ করেন, “ঢাকার মানুষকে অবৈধ নির্বাচনের বৈধতা দিতে জিম্মি করে বিএনপি একটি মেয়র পদ নিয়েও নাটক করছে। তাদের উদ্দেশ্য শুধু এক-এগারোর মতো পথ ধরে পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতা ভোগ করা।”

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি এই অভিযোগের কী জবাব দেয়।




নির্বাচনের পরই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরবে: সেনাপ্রধান

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

বুধবার (২১ মে) ঢাকা সেনানিবাসের সেনা প্রাঙ্গণে আয়োজিত অফিসার্স অ্যাড্রেসে তিনি এসব কথা বলেছেন। যেখানে  ঢাকায় অবস্থানরত সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

অনুষ্ঠান সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, সেনাবাহিনী প্রধান জাতীয় স্থিতিশীলতা ও শান্তি রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর নিরলস সেবা এবং প্রতিশ্রুতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ পাঠাতে মানবিক করিডোর তৈরির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত একটি নির্বাচিত সরকার থেকেই আসতে হবে এবং তা হতে হবে বৈধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা-ই করা হোক না কেন, তা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে হতে হবে।”

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানির হাতে দেওয়া সংক্রান্ত সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, “এখানে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সরকারের মাধ্যমেই নেওয়া উচিত।”

সামনে ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি দেশবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাসদস্যদের নির্দেশ দেন এবং বলেন, জনগণ যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতে হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে জেনারেল ওয়াকার পুনরায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনোই এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে না, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। তিনি সব পর্যায়ের সেনাসদস্যদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।




ইশরাক হোসেন অবশেষে আন্দোলনকারীদের পাশে রাজপথে

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অবশেষে রাজপথে যোগ দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। বুধবার (২১ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মসজিদের সামনে আন্দোলনরত সমর্থকদের মাঝে দেখা যায় তাকে। তার উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।

গত সাত দিন ধরে নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন ইশরাকের সমর্থকরা। তারা তার শপথ গ্রহণে বিলম্বের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন স্লোগানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাসে ইশরাক জানান, “আন্দোলনকারী জনতার প্রতি সর্বাত্মক সংহতি জানাতে এবং তাদের সঙ্গে যতদিন প্রয়োজন রাজপথে অবস্থান করার জন্য অল্প সময়ের মধ্যেই হাজির হব ইনশাআল্লাহ।”

তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আরও লেখেন, “নির্দেশ একটাই, যতক্ষণ দরকার রাজপথ ছেড়ে উঠে আসা যাবে না।”

এদিকে, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র পদে তার শপথ সংক্রান্ত রিটের শুনানি পিছিয়ে বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রিটের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহফুজুর রহমান মিলন এবং ইশরাকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস বিপুল ভোটে জয়ী হন। তবে চলতি বছরের ২৭ মার্চ নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ওই ফলাফল বাতিল করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে বৈধ ঘোষণা করে। পরে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকেই তার সমর্থকরা প্রতিদিন নগর ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন।