“জুলাই সনদ ও পুরনো নির্বাচনের বৈধতা প্রশ্নে সরকারের প্রতি নাহিদের আহ্বান”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত সকল জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা করতে হবে। তিনি বলেন, ওই সময়ে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থায় ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। ভোট হয়েছে রাতে, ডামি প্রার্থীদের মাধ্যমে। এসব নির্বাচন নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গেছে।

শনিবার (২৪ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম জানান, প্রধান উপদেষ্টা গণঅভ্যুত্থানে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা আহ্বান জানিয়েছি, তিনি যেন সব দায়িত্ব শেষ করে যে কোনো সিদ্ধান্ত নেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করেন। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে। এখনও অনেক পরিবার সঞ্চয়পত্র পায়নি এবং মাসিক ভাতা কার্যক্রম শুরু হয়নি। দ্রুত এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, আগের নির্বাচনগুলো নিয়ে আদালতে একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে সেগুলোকে আইনগতভাবে অবৈধ ঘোষণা করার প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান কমিশনের ওপর আস্থা রাখা যাচ্ছে না। তাই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করে দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক আরও জানান, সরকারকে বলা হয়েছে—জুলাই গণহত্যার বিচার, সংস্কার প্রক্রিয়া, গণপরিষদ ও আইনসভা নির্বাচনের একটি সমন্বিত রোডম্যাপ ঘোষণা করতে হবে। জুলাই মাসের মধ্যে ‘জুলাই সনদ’ আসতে পারে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে জুলাইয়ের মধ্যে যেসব নির্বাচন হবে, সেগুলোর জন্যও নির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে হবে।




সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টা

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচনে বাধা সৃষ্টির বিরুদ্ধে ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

শনিবার (২৪ মে) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে এক অনির্ধারিত বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ এই সিদ্ধান্তের কথা জানায়। শের-ই-বাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

বৈঠকে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য কাজ করছে। তবে সরকারের স্বকীয়তা, সংস্কার কার্যক্রম, বিচার প্রক্রিয়া এবং সুষ্ঠু নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে যেসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে, তা দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার জনগণের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি মূল দায়িত্ব—নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার—নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। এতে আরও বলা হয়, কোনো ধরনের অযৌক্তিক দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য বা এখতিয়ার বহির্ভূত কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিবেশ বিঘ্নিত হলে তা জাতির ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর।

উপদেষ্টা পরিষদের মতে, দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া অগ্রসর করা এবং স্বৈরাচারকে রুখে দেওয়ার জন্য একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। এ বিষয়ে সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত শুনবে এবং নিজের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরবে।

পরিশেষে, উপদেষ্টা পরিষদ জানায়, শত বাধা সত্ত্বেও গোষ্ঠীস্বার্থ উপেক্ষা করে সরকার তার অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যদি বিদেশি চক্রান্ত ও পরাজিত শক্তির ইন্ধনে সরকারকে অকার্যকর করার চেষ্টা চলতে থাকে, তবে সরকার জনসমক্ষে সব কারণ তুলে ধরে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।




নির্বাচনের সময় ও সংস্কারে স্পষ্টতা চায় জামায়াত

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নির্বাচন ও সংস্কার সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রোডম্যাপ চেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’র সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার কাছে দুটি বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েছি। প্রথমত, নির্বাচন কবে হবে, তা পরিষ্কারভাবে জানানো প্রয়োজন। আপনার দেওয়া সময়সীমার মধ্যে যেন বড় কোনো জনদুর্ভোগ না হয়, সেই বিবেচনায় একটি স্বস্তিদায়ক সময় নির্ধারণ করা দরকার।”

দ্বিতীয় বিষয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগে কিছু দৃশ্যমান সংস্কার ও বিচার প্রক্রিয়া জনগণের সামনে আসা প্রয়োজন। সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন হলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে না। যদিও সব সংস্কার এখনই সম্ভব নয়, তবে অন্তত পাঁচটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা সন্তোষজনকভাবে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন।”

এসময় উপদেষ্টাদের পদত্যাগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা কারও পদত্যাগ চাইনি।”

জামায়াতের এই অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




নির্বাচনী রোডম্যাপ ও উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনের দাবি বিএনপির

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বিএনপির বৈঠকে সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির  নেতারা। শনিবার (২২ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’-এর সামনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার আমন্ত্রণে দলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। আলোচনার বিষয়বস্তু পূর্বে নির্ধারিত না থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় দলটি একটি লিখিত প্রস্তাব নিয়ে আসে এবং সেটি উপদেষ্টার কাছে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি জানান, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করে আসছে। এই বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠনেরও দাবি জানানো হয়েছে—বিশেষ করে বিতর্কিত উপদেষ্টাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে এই দাবি তোলা হয়।

বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বিচার দাবি করেছে বিএনপি। তিনি জানান, বিচার অসম্পূর্ণ থাকলে, ভবিষ্যতে বিএনপি সরকারে গেলে স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমেই বিচার সম্পন্ন করা হবে।

তিনি আরও জানান, ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে দ্রুত একটি নির্বাচনী রোডম্যাপ দেওয়ার জন্য দাবি জানানো হয়েছে। মোশাররফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্বাচন বিলম্ব হলে স্বৈরতন্ত্রের পুনরাগমন ঘটতে পারে, যার দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে।

বিএনপি প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ চায় না বলেও সাফ জানিয়ে দেন তিনি। বরং শুরু থেকেই দলটি সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তারা জানান, আলোচনা হয়েছে মূলত তিনটি বিষয়ে—সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। সালাহউদ্দিন বলেন, নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিশ্রুতি না মিললেও তারা অপেক্ষা করবেন সরকারের প্রতিক্রিয়ার জন্য।

আলোচনার বিষয়ে আমীর খসরু বলেন, সরকার সংস্কারে ঐক্যমত তৈরি এবং দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছে। বিচারপ্রক্রিয়া হবে বিচার বিভাগের মাধ্যমেই এবং ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া সালাহউদ্দিন জানান, নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও ছাত্র উপদেষ্টাসহ কয়েকজনের অপসারণের দাবি লিখিতভাবে ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনা করবে।

বৈঠকের ফলাফলে বিএনপি সন্তুষ্ট কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন জানান, দলের প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে তারা সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবেন।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে চরমোনাই পীর

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনায় বসছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, যিনি পীর সাহেব চরমোনাই হিসেবে পরিচিত।

আগামীকাল ২৫ মে, রবিবার বিকাল ৫:৪৫ মিনিটে সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী দলগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন:

  • বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস
  • আমার বাংলাদেশ পার্টি (আ.ব.প.)
  • জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম
  • খেলাফত মজলিস
  • গণঅধিকার পরিষদ
  • নেজামে ইসলামী পার্টি
  • হেফাজতে ইসলামের নেতারা

এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ও করণীয়, নিরপেক্ষ নির্বাচনের পথনকশা এবং স্বৈরতন্ত্রের সাথে যুক্তদের বিচারের বিষয়ে আলোচনা হবে। শীর্ষ নেতারা সরকারকে রাজনৈতিক সংস্কার ও জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পরামর্শ দেবেন বলে জানা গেছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




 গৌরনদীতে আওয়ামী লীগের ৩ নেতা-নেত্রী গ্রেপ্তার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় আওয়ামী লীগের তিন নেতা-নেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। চাঁদশী এলাকায় বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৩ মে) দিবাগত রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে এই গ্রেফতার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ::

  • গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাবেক পৌর কাউন্সিলর রেজাউল করিম টিটু
  • উপজেলা মহিলা লীগের সদস্য ছবি বেগম
  • গৌরনদী পৌরসভা ৬ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক লীগের সভাপতি সোহরাব হোসেন

গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, চাঁদশী এলাকায় বিএনপি নেতা বাচ্চু সরদার ও ফিরোজ হাওলাদারের ওপর হামলার মামলায় এজাহারভুক্ত এবং সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেফতারের পর শনিবার (২৪ মে) দুপুরে তাদের বরিশাল আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন ওসি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ড. ইউনূসের পদত্যাগ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত: সালাউদ্দিন আহমেদ

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পদত্যাগের বিষয়টি তার একান্ত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ। বিএনপি তার পদত্যাগ দাবি করেনি বলেও স্পষ্ট জানান তিনি।

শুক্রবার (২৩ মে) এক বেসরকারি টেলিভিশনের আলোচনায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সালাউদ্দিন বলেন,“ড. ইউনূস যদি পদত্যাগ করতে চান, সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত হতে পারে। বিএনপি কখনও তার পদত্যাগ দাবি করেনি। আমরা কেবলমাত্র চাই, তিনি নিরপেক্ষভাবে তার দায়িত্ব পালন করুন এবং নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন।”

তিনি আরও বলেন,“নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার সময় এখনই। যদি তিনি দায়িত্ব পালনে অপারগ হন, তাহলে রাষ্ট্র অবশ্যই বিকল্প খুঁজে নেবে। কারণ এই পৃথিবীতে কেউই অপরিহার্য নয়।”

সালাউদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করে বলেন,“তিনি একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তি। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি বিষয়টি অনুধাবন করবেন এবং জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের জন্য একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ জাতিকে উপহার দেবেন।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন উঠেছে যে অধ্যাপক ইউনূস দায়িত্ব ছাড়তে পারেন। এ প্রেক্ষিতে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট করলেন দলটির অন্যতম শীর্ষ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দেশে আবার ‘এক-এগারো’র ছক আঁকা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর ব্যাহত করে দেশে আবার একটি ‘এক-এগারো’ পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চলছে। তিনি এই পরিস্থিতিকে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে বর্ণনা করেন।

শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

নাহিদ লেখেন,“বাংলাদেশের রাজনীতিকে স্বাধীন ও সার্বভৌম পথে পরিচালনা করাই আমাদের লক্ষ্য। কিন্তু বাংলাদেশকে বারবার বিভাজনের চেষ্টা করা হয়েছে, জাতীয় ঐক্য ধ্বংস করা হয়েছে। এবার আবার এক-এগারোর বন্দোবস্তের পাঁয়তারা চলছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন,“আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পর থেকেই বিদেশী প্রভাব, বিশেষ করে দিল্লি থেকে ছক আঁকা হচ্ছে—যাতে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা যায় এবং গণতান্ত্রিক রূপান্তর থেমে যায়।”

নাহিদ ইসলাম দেশপ্রেমিক, সংস্কারপন্থী ও ধর্মপ্রাণ জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন,“ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সেনাবাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে হবে।”

অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রসঙ্গে তিনি লেখেন,“অধ্যাপক ইউনূসকে সংস্কার ও ভোটাধিকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় রাজনৈতিক দায়িত্ব নিতে হবে। আগামী নির্বাচনের আগে মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে জুলাই সনদ রচিত হতে হবে এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের আগে নতুন সংবিধানের জন্য গণপরিষদ ও আইনসভার নির্বাচন একসাথে অনুষ্ঠিত হওয়া জরুরি। নির্ধারিত টাইমফ্রেমের মধ্যেই এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




“শুধু নির্বাচন নয়, ন্যায়বিচার ও সংস্কারের রোডম্যাপ চাই”  বিএনপিকে এনসিপি নেতার আহ্বান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, “শুধু নির্বাচন নিয়ে কথা বললে আমরা আশাহত হই।” তিনি এই মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায়।

শুক্রবার (২৩ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়ে দায় এড়াতে পারে না। তাদের আরও স্পষ্ট ও দায়িত্বশীল অবস্থান নেওয়া উচিত।”

তিনি উল্লেখ করেন, “জুলাই অভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, এবং যারা প্রাণপণ লড়াই করে রাজপথে নেমেছেন—তাদের স্বপ্ন কেবল একটি নির্বাচন ছিল না। তারা মৌলিক পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।”

 বিএনপির প্রতি তিন দফা দাবি:

সারজিস আলম তার পোস্টে বিএনপির প্রতি তিনটি স্পষ্ট দাবি তুলে ধরেন:

  1. গণহত্যার বিচারের রোডম্যাপ প্রকাশ।
  2. দেশের মৌলিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের রোডম্যাপ দাবি।
  3. জুলাই গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে আখ্যায়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচারের রোডম্যাপ উত্থাপন।

সারজিস লিখেছেন, “যদি বিএনপি কেবল নির্বাচনের রোডম্যাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ভেঙে পড়বে। ৫ আগস্টের গণজাগরণ শুধু একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না।”

তিনি আরও বলেন, “এত বড় অভ্যুত্থানের পরে জনগণ প্রত্যাশা করে—বড় রাজনৈতিক দলগুলো ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও কাঠামোগত সংস্কারের পক্ষেও শক্ত অবস্থান নেবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল-১: জামায়াতের প্রার্থী চূড়ান্ত, বিএনপিতে মনোনয়ন যুদ্ধ

বরিশাল-১ আসনে (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) ২০২৫-২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএনপি এখনো প্রার্থী চূড়ান্ত না করলেও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে মাওলানা কামরুল ইসলাম খানের প্রার্থিতা ঘোষণা করা হয়েছে।

এ আসনটিতে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও এবার রাজনৈতিক সমীকরণে ভিন্নতা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সরকারের পতনের পর সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপির প্রার্থী হওয়ার দৌঁড়ে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, যাদের মধ্যে আছেন:

  • জহির উদ্দিন স্বপন – সাবেক এমপি, দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা
  • অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল – জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সংগঠক
  • আকন কুদ্দুসুর রহমান – জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক
  • ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবহান – সাবেক নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী, দলের কেন্দ্রীয় নেতা

এদের অধিকাংশই মামলা ও রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হলেও দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছেন।

অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান বলেছেন, অতীতের অনিয়ম ও রাজনৈতিক নিপীড়নের সময় পেরিয়ে এখন মানুষের মধ্যে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “জনগণ এখন পরিবর্তন চায়। আমি নির্বাচিত হলে সব রাজনৈতিক দল ও স্থানীয় সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করবো।”

এই আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০১৮ সালে প্রার্থী হওয়া মেহেদী হাসান রাসেল আবার মনোনয়ন পাবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

বরিশাল-১ আসনের প্রায় তিন লাখ ভোটারের মধ্যে তরুণদের অংশগ্রহণ এবার মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারে। এক তরুণ ভোটার মো. হাসান বলেন, “আমরা এমন নির্বাচন চাই যেখানে ভয়হীনভাবে ভোট দিয়ে যোগ্য প্রার্থীকে বিজয়ী করা যাবে।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম মনে করেন, “আগামী নির্বাচন নিয়ে এখনও কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। তবে নিয়মতান্ত্রিকতা ফিরলে গণতন্ত্রের পথ মসৃণ হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /