আবারও রিমান্ডে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় মো. রিয়াজ (২৩) নামের এক যুবককে হত্যার মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং আওয়ামী লীগ নেতা নুরু মিয়ার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআইর পরিদর্শক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার, এ চারজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য তাদের হাজিরের নির্দেশ দেন এবং প্রথমে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। সোহানুর রহমান আজাদের পক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করেন। অন্য তিন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করলেও তারা শুনানিতে অংশ নেননি।

শুনানি শেষে আদালত সোহানুর রহমান আজাদ ছাড়া বাকি তিনজন—সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও নুরু মিয়ার দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজাদের রিমান্ড বিষয়ে আদালত পরবর্তীতে আদেশ দিবেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট সাইন্সল্যাব থেকে জিগাতলা যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন মো. রিয়াজ। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৭ আগস্ট বিকেলে তার মৃত্যু হয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর নিহতের মা মোসা. শাফিয়া বেগম ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।




বিএনপি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে: আমিনুল হক

বিএনপি একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক।

মঙ্গলবার (২৭ মে) রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধে সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ সরকার অসাম্প্রদায়িকতার মুখোশ পরে আসলে সাম্প্রদায়িকতাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। তারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নানা নির্যাতন চালিয়ে তা বিএনপির ওপর দোষ চাপিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিএনপি চায় একটি সুন্দর, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে—যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারবে। আমরা সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাম মন্দির নির্মাণ কমিটির সভাপতি রাইচরন রবিদাস, সাধারণ সম্পাদক রনীল চন্দ্র দাস, কোষাধ্যক্ষ সুজন রবিদাস, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুব আলম মন্টু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন মোল্লাসহ অনেকে।




রাবিতে শাহবাগবিরোধী ও ছাত্রজোটের সংঘর্ষে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শাহবাগবিরোধী ছাত্র ঐক্য মঞ্চ ও গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২৭ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর ও শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বর এলাকায় এই সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শাহবাগীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগবিরোধী ছাত্র ঐক্য মঞ্চ একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে। একই সময়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট মশাল মিছিল শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

বিক্ষোভ মিছিল থেকে ‘শাহবাগের বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘বামদের ঠিকানা এই ক্যাম্পাসে হবে না’, ‘ছাত্রফ্রন্টের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, এবং ‘বিচার চাই, শাহবাগীদের বিচার চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান শোনা যায়।

শাহবাগবিরোধী ঐক্যের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম বলেন, “রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত না মানা এবং ২০১৩ সালে শাহবাগে মবতন্ত্র কায়েমের জন্য আমরা শাহবাগীদের বিচারের দাবি জানাই। আমাদের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পেছন থেকে মশাল হাতে হামলা চালানো হয়েছে, যার দায় আমরা তাদের ওপর দিচ্ছি।”

অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা ‘একাত্তর হারেনি, হেরে গেছে হাসিনা’, ‘চিহ্নিত রাজাকার, বাংলা ছাড়’ এবং ‘জ্বালো জ্বালো, আগুন জ্বালো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, “জামায়াত নেতা এটিএম আজহারের মুক্তির বিরোধিতায় আমরা শান্তিপূর্ণ মিছিল করছিলাম। তখন শাহবাগবিরোধী ছাত্র ঐক্যের নেতাকর্মীরা, যাদের মধ্যে শিবিরের নেতাও ছিলেন, আমাদের ওপর হামলা চালান।”

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।




এটিএম আজহারুল ইসলামকে নিয়ে আসিফ নজরুলের পোস্ট

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ায় খালাস পেয়েছেন। এ মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (২৭ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি বলেন ,  “নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়েছেন জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তাঁর করা রিভিউ সর্বসম্মতিতে মঞ্জুজুর করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় এবং মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে এর আগে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে আজকের রায়ে।”

সেই সাথে তিনি বলেন, “এই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে জুলাইয়ের গণআন্দোলনের অকুতোভয় নেতৃত্ব।” তিনি আরও যোগ করেন, “এ সুযোগ রক্ষা করা এখন আমাদের সবার দায়িত্ব।”




ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিল, আজহারুল ইসলামের মুক্তির আদেশ আপিল বিভাগে

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে তাকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৭ মে) সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের বাকি বিচারপতিরা হলেন: মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, ইমদাদুল হক, মো. আসাদুজ্জামান ও ফারাহ মাহবুব। সর্বসম্মতিক্রমে দেওয়া এই রায়ে আজহারকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।

রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এবং জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ৯টা ৫৫ মিনিটে রায় ঘোষণা করা হয়।

আজহারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক ও নাজিব মোমেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম।

জামায়াত নেতাদের মধ্যে আদালতে উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ অনেকে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, নির্যাতনসহ ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত ছিলেন এটিএম আজহার। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে ২, ৩ ও ৪ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড, ৫ নম্বর অভিযোগে ২৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৬ নম্বর অভিযোগে ৫ বছরের সাজা দেয়।

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর চার বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং ৫ নম্বর অভিযোগে খালাস দেয়। পরে, আজহার ২০২০ সালের ১৯ জুলাই রায়ের পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। ১৪টি যুক্তি তুলে ধরে ২৩ পৃষ্ঠার আবেদনটি আপিল বিভাগে উপস্থাপন করা হয়।

২০২৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে আদালত আজহারকে আপিলের অনুমতি দেয়। এরপর শুনানি শেষে আজকের রায়ে তাকে খালাস দেওয়া হলো।




“দেশের নিরাপত্তায় আপস নয়: করিডর ইস্যুতে স্পষ্ট বার্তা সেনাবাহিনীর”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এমন কোনো কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হবে না, যা দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। ‘করিডর’ ইস্যুকে সেনাবাহিনী অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচনা করছে।

সোমবার (২৬ মে) দুপুরে সেনানিবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মিলিটারি অপারেশন্স ডিরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ, কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী করিডর ইস্যু নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “করিডর একটি স্পর্শকাতর বিষয়। সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজে সম্পৃক্ত হবে না।”

আরাকান আর্মির বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে কর্নেল শফিকুল বলেন, “আমাদের আরাকান আর্মির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব খবরের যথার্থতা যাচাই করা প্রয়োজন।”

সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনী প্রধানের ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ প্রসঙ্গ উঠে এলে তিনি জানান, সেখানে করিডর, বন্দর, স্টারলিংক এবং নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে সেনাবাহিনী প্রধান নিয়মিত সেনা সদস্যদের সঙ্গে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়ে থাকেন, এবং এটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ মাত্র। তিনি আরও বলেন, “এ নিয়ে কোনো সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, এবং কোনো সরকারিভাবে বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তাই যেসব তথ্য গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসেছে, তার সঠিকতা যাচাই প্রয়োজন।”

করিডর, বন্দর ও স্টারলিংক ইস্যু দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে— এমন আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে কর্নেল শফিকুল বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো বিষয়ে সেনাবাহিনী কখনোই সম্পৃক্ত হবে না।”

পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এই দলটি আত্মস্বীকৃত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, যারা সংঘাতপূর্ণ কর্মকাণ্ড চালিয়ে থাকে। তাই তাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা যুক্তিযুক্ত নয়।”

সেনাবাহিনী ও সরকারের মধ্যে কোনো মতবিরোধ রয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো মুখোমুখি অবস্থান নেই। সরকার ও সেনাবাহিনী সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে একসঙ্গে দেশের স্বার্থে কাজ করছে।”

দেশের সার্বভৌমত্বে হুমকি এলে সেনাবাহিনী কী পদক্ষেপ নেবে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় একতাবদ্ধভাবে কাজ করেছি এবং ভবিষ্যতেও করে যাব।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান অবস্থা আগের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে এটি কেবল সেনাবাহিনীর একক দায়িত্ব নয়, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে আরও উন্নতির আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।




হাসনাত-সার্জিস রাজনীতিতেই থাকবে, সরকারি চাকরিতে নয়

৪৬তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও লিখিত পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সাবেক শিক্ষার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। দীর্ঘদিন ধরে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসা এই দুই তরুণ বর্তমানে রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

২০২৪ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ৪৬তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হন হাসনাত (ইংরেজি বিভাগ) ও সারজিস (প্রাণিবিদ্যা বিভাগ)। তবে পরীক্ষার পরই সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের খবরে তারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন। গত বছরের জুনের শেষ দিকে শুরু হওয়া আন্দোলনে তারা ছিলেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে।

এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন এবং সহিংসতার ঘটনাপ্রবাহ রূপ নেয় গণআন্দোলনে। ছাত্রদের সঙ্গে একাত্ম হয়ে দেশের সাধারণ মানুষও মাঠে নামে, যার ফলে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন ঘটে এবং দেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসে।

আন্দোলনের নেতৃস্থানীয় ছাত্রদের উদ্যোগে গঠিত হয় নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’। এ দলে দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন হাসনাত, আর উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস।

তাদের বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে জনমনে কৌতূহল থাকলেও, জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক আবু বাকের মজুমদার নিশ্চিত করেছেন, হাসনাত ও সারজিস বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।

আবু বাকের বলেন, “তারা এখন রাজনীতির মাধ্যমে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। তাই এই সুযোগকে কাজে লাগাতে চান। আপাতত তারা চাকরির চেয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।”

পিএসসির পুনর্নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ২৪ জুলাই থেকে এবং চলবে ৩ আগস্ট পর্যন্ত। পদ-সংশ্লিষ্ট লিখিত পরীক্ষা শুরু হবে ১০ আগস্ট এবং শেষ হবে ২১ আগস্ট।

এই দুই তরুণের বিসিএস না দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তারা রাজনৈতিক আদর্শ এবং জাতীয় দায়িত্বকে ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের চেয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।




সারাদেশে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মবিরতির ঘোষণা

বিদ্যুৎ সেবা অব্যাহত রেখেই আগামী মঙ্গলবার (২৭ মে) থেকে সারাদেশে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সোমবার (২৬ মে) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাত দফা দাবিতে চলমান অবস্থান কর্মসূচির ৬ষ্ঠ দিনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম।

তিনি জানান, অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন, হয়রানি বন্ধ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ সাত দফা দাবিতে সারাদেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ২১ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চলমান আন্দোলন একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক ও টেকসই বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার জন্য। অথচ বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) সরকারের কাছে ভুল বার্তা দিয়ে এই যৌক্তিক আন্দোলনকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অপচেষ্টা করছে। বক্তারা দাবি করেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল কর্মী স্বেচ্ছায় এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে যুক্ত হয়েছেন। তারা আরইবির শোষণ, বৈষম্য ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চান। তারা স্পষ্ট করেছেন, এই আন্দোলনের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা বিদেশি শক্তির সংশ্লিষ্টতা নেই—এটি একান্তই আরইবির সঙ্গে বিরোধ এবং তারই সমাধানের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

তারা আরও জানান, আন্দোলনের প্রথম চার দিন শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করা হলেও সরকারের কোনো সদর্থক সাড়া না পাওয়ায় ৫ম দিন থেকে আরইবির বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়। ৬ষ্ঠ দিনেও বিদ্যুৎ সেবা সচল রেখে কর্মসূচি চললেও এখনো পর্যন্ত সমস্যার সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাত দফা দাবি:

১. আরইবি চেয়ারম্যানের অপসারণ, যিনি কর্মপরিবেশ অস্থিতিশীল করেছেন এবং দমন-পীড়ন চালাচ্ছেন।
২. আরইবি-পবিস একীভূত করে এক ও অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার মতো পুনর্গঠন।
৩. মিটার রিডার, লাইন শ্রমিক ও পৌষ্য কর্মীদের চাকরি স্থায়ীকরণ।
৪. মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল।
৫. সব হয়রানি ও শাস্তিমূলক বদলি আদেশ বাতিল এবং বরখাস্ত কর্মীদের পুনঃপদায়ন।
৬. জরুরি সেবায় কর্মরতদের জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী শিফট ডিউটি চালু এবং জনবল ঘাটতি পূরণ।
৭. পূর্ণ সংস্কারের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ড গঠন করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা।




ক্ষমতা ছাড়ার অঙ্গীকার ড. ইউনূসের, ৩০ জুনের পর এক ঘণ্টাও নয়

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আশ্বাস দিয়েছেন যে, সকলের সহযোগিতায় তিনি দেশ ও জাতিকে একটি সঠিক গন্তব্যে পৌঁছে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করবেন এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করবেন যা দেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্য হবে।

রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। মামুনুল হক বলেন, ড. ইউনূস দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের পর তিনি এক ঘণ্টাও ক্ষমতায় থাকবেন না এবং তার আগেই নির্বাচন সম্পন্ন করবেন।

তিনি জানান, বৈঠকে তিনটি বিষয় গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়। প্রথমত, সরকারের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কারের লক্ষণ এখনো দেখা যায়নি, যা অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এজন্য তারা সুস্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছেন, কী কী সংস্কার হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, শাপলা চত্বর থেকে শুরু করে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মামুনুল হক। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্টদের বিচার কার্যক্রম দৃশ্যমান অগ্রগতি নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা আশ্বস্ত করেছেন এবং শিগগিরই সুসংবাদ আসবে।

তৃতীয়ত, করিডরের বিষয়ে ড. ইউনূস স্পষ্ট করে বলেছেন, তার মাধ্যমে কোনো দেশবিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হবে না এবং এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিলে তা সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেই নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে অনৈক্য তৈরি হয়েছে তা দূর করতে প্রধান উপদেষ্টা যেন দলগুলোর সঙ্গে ঘনঘন আলোচনা করেন—এ দাবি তিনি গ্রহণ করেছেন। শাপলা চত্বরের গণহত্যা নিয়ে তারা দুই মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে নিজ দায়িত্বে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

নারী সংস্কার কমিশন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে মামুনুল হক বলেন, বিতর্কিত কোনো ইসলামী আইন কার্যকর করা হবে না—এই বিষয়ে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন।

সবশেষে তিনি জানান, নির্বাচন যেন একটি নির্দিষ্ট সময়ে হয় এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি না ছড়ায়, সে লক্ষ্যে জুনের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।




সারজিস আলমকে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশ

হাইকোর্ট সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করায় এনসিপি নেতা সারজিস আলমকে লিখিতভাবে ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

শনিবার (২৪ মে) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. জসিম উদ্দিন এই নোটিশ পাঠান। এবং এটি অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জনান।

গত ২২ মে, হাইকোর্ট বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকার মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দেয়। এর পর সারজিস আলম তার ফেসবুকে লেখেন, “মব তৈরি করে যদি হাইকোর্টের রায় নেওয়া যায় তাহলে এই হাইকোর্টের দরকার কি?”

এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, সারজিস আলমকে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে এবং নোটিশ পাওয়ার দুই ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান আইনজীবী।