গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে পালন করে বিদায় নিতে হবে। তিনি বলেন, “এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”
রোববার (২৫ মে) রাতে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে তিনি এসব কথা জানান।
সাকি জানান, বৈঠকে সংস্কার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান সরকারকে একদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং অন্যদিকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী নতুন রাজনৈতিক কাঠামো গঠনে গণতান্ত্রিক সংস্কারে যেতে হবে। এই দায়িত্ব সরকারেরই।”
তিনি আরও বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছেন। “তাঁর ওপর যত চাপই থাকুক না কেন, ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপনের দায়িত্ব তিনিই পালন করবেন বলে আমরা আশা করি।”
রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রসঙ্গে সাকি বলেন, “দলগুলোর মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে। এই দূরত্ব দূর করতে পরস্পরের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনার দরকার আছে।”
বৈঠকে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের প্রত্যাশার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে সাকি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন এবং দ্রুত ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিচারপ্রক্রিয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।
সংস্কার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঐকমত্য কমিশন যেহেতু ১৫ জুলাই পর্যন্ত সময় নিয়েছে, তাই এই সময়ের মধ্যে সকল আলোচনা ও ঐক্যকে একটি জাতীয় সনদের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন, এর বাইরে অন্য কোনো প্রক্রিয়ার সুযোগ নেই।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে গণসংহতি আন্দোলনের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। সাকি বলেন, “নির্দিষ্ট সময় ঘোষণার মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং অর্থনৈতিক বিনিয়োগও সহজ হবে।”
প্রধান উপদেষ্টা জুনের ৩০ তারিখের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করলে নির্ধারিত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন।
জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। সাকি বলেন, “এটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। কোনো একক পক্ষ যদি এর কৃতিত্ব দাবি করে, তবে সরকারকে তা বিবেচনায় রাখতে হবে।”
তিনি বলেন, “ন্যূনতম ঐকমত্য ছাড়া গণতান্ত্রিক উত্তরণ সম্ভব নয়। প্রশাসনসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও স্বচ্ছতা প্রয়োজন।”
বিএনপির তিন উপদেষ্টার পদত্যাগ ইস্যুতে সাকি বলেন, “তিনজন উপদেষ্টা জুলাই আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন। বাকি দু’জনের রাজনৈতিক পরিকল্পনা থাকলে তাদেরও সরে যাওয়া উচিত।”
গণসংহতি আন্দোলনের মতে, বাংলাদেশ বর্তমানে একটি জাতীয় পুনর্গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নির্বাচনই মুখ্য এবং একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন। স্থানীয় নির্বাচন পরে হলেও কোনো সমস্যা নেই বলেও মন্তব্য করেন সাকি।