বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক, নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই টালবাহানা শুরু হয়েছে এবং কথিত অল্প সংস্কার ও অতিরিক্ত সংস্কারের ভেতরে আটকে যাচ্ছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।
বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের রায় অবজ্ঞা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা আদালতের নির্দেশ মানে না, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তাদের কাছ থেকে সংস্কারের কতটুকু আশা করা যায়? পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে মানুষের মানসিকতার সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, “নর্থ কোরিয়ার সংবিধানেও ‘ডেমোক্রেটিক’ লেখা আছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাই শুধু কি লেখা আছে, তা নয়— বাস্তবে কী হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। সরকার যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যাতে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা হারিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “যদি কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে চান, তবে সরকার থেকে পদত্যাগ করে সাধারণ জনগণের কাতারে এসে নির্বাচনে অংশ নিন। জনগণ যদি ভোট দেয়, তাহলে পুনরায় সরকারে যান।”
তিনি আরও জানান, গত দেড় দশকে ভোটার তালিকায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যারা এখনও একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “এই নতুন ভোটারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেওয়া।”
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে এমন সরকার তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১০ মাস পার করেও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি।
তারেক রহমান দাবি করেন, “আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।” তিনি তরুণ সমাজ ও দেশবাসীকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।
সমাবেশে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের কাছে যান, তাদের প্রত্যাশা জানুন এবং তাদের মন জয় করুন। কারণ, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস।”
বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে স্লোগান দেন:
‘দিল্লি নয়, দিল্লি না; নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।