চিকিৎসাধীন জুলাই যোদ্ধাদের পাশে তারেক রহমান, দিলেন আর্থিক সহায়তা

গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার ‘জুলাই যোদ্ধা’ যারা বর্তমানে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ মে) তার পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয় এসব আহত যুবকদের কাছে।

তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সহায়তা পৌঁছে দেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। তারা ‘বিষপান’ করা আহত চারজনের সঙ্গে দেখা করে তাদের চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন এবং সহমর্মিতা জানান।

প্রতিনিধিদল চিকিৎসকদের সাথেও কথা বলেন এবং জানান, তারেক রহমান সব সময় তাদের পাশে আছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন—
আমরা বিএনপি পরিবারের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম, কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ ও ফরহাদ আলী সজীব।

এছাড়াও ছিলেন—
বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-সম্পাদক ডা. পারভেজ রেজা কাকন, ড্যাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু, সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রনি এবং ছাত্রদল ও শেকৃবি ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

জানা গেছে, গত রোববার (২৫ মে) দুপুরে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়ে গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো চার যুবক— শিমুল, মারুফ, সাগর ও আখতার হোসেন তাহের—বিষপান করেন। পরে তাদের তাৎক্ষণিকভাবে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।




ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের আহ্বান সোবহানের

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল-১ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান বলেছেন, “দলকে সংগঠিত করতে হলে দুর্দিনের ত্যাগী, নির্যাতিত ও কারাবরণকারী নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। তারেক রহমানেরও এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।”

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়ায় বিএনপি মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক সদ্য প্রয়াত হারুন-অর রশিদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া-মিলাদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

সোবহান আরও বলেন, “যেসব নেতাকর্মী বিএনপির দুঃসময়ে রাজপথে ছিলেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের সম্মান দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। একইসঙ্গে যারা জিয়াউর রহমানের পরিবারকে কটাক্ষ করে এখনও দলে সক্রিয়—তাদের চিহ্নিত করে দল থেকে বাদ দিতে হবে।”

তিনি জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দলের মধ্যে ঐক্যের ওপরও গুরুত্ব দেন।
তার ভাষায়, “বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করতে একটি মহল অতীতের মতোই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমন পরিস্থিতিতে ইস্পাতকঠিন ঐক্য বজায় রাখা ছাড়া কোনো পথ নেই।”

রাজিহার ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে অনুষ্ঠিত এ স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন শিকদার।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন:

  • জেলা উত্তর মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক ফারুক
  • আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মাহবুবুল ইসলাম
  • গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকন
  • জেলা উত্তর যুবদলের সদস্য সচিব গোলাম মোর্শেদ মাসুদ
  • আগৈলঝাড়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শোভন রহমান মনির
  • গৌরনদী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মনির হাওলাদার
  • জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি এসএম হীরা
  • উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল সিকদার
  • মরহুম হারুন-অর রশিদের ছেলে আব্দুর রহমান

আলোচনা শেষে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম  / 




খুব শিগগিরই দেশে গণতন্ত্র ফিরবে: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, “খুব শিগগিরই আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা দেখতে পাবো।” তিনি অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্রের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা এখনো প্রতিনিয়ত বাধার মুখে পড়ছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

খালেদা জিয়া বলেন, “এই দিনটি আমাদের জীবনে ফিরে আসে এক গভীর বেদনার স্মৃতি নিয়ে। শুধু আমাদের পরিবার নয়, সমগ্র জাতি সেই দিনটি হারিয়েছিল এক দূরদর্শী দেশপ্রেমিক নেতাকে।”

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য একটি নাম উল্লেখ করে বলেন, “যে চট্টগ্রামে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখান থেকেই তিনি নিজেকে এই দেশের অঙ্গ করে গড়ে তুলেছিলেন। তার নেতৃত্বে দেশ পেয়েছে গণতন্ত্র, সংবাদপত্র ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরতা এবং একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদ। তিনি ছিলেন এক সফল, সৎ এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক।”

খালেদা জিয়া আরও বলেন, “যে গণতন্ত্র ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার সংগ্রামে শহীদ জিয়া জীবন দিয়েছেন, সেই গণতন্ত্র আজও ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত—তার দেখানো পথ অনুসরণ করে শিগগিরই গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।”

তিনি দলের সব স্তরের নেতাকর্মী এবং সাধারণ জনগণের উদ্দেশে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শহীদ জিয়ার রেখে যাওয়া গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রাজনীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। সেটাই হবে তার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।”

আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমদ এবং অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষক অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ।




উপদেষ্টা পরিষদে পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয় এবং সেখানে পক্ষপাতমূলক ও বিতর্কিত ব্যক্তিরা আছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভায় এসব মন্তব্য করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন বলেন, “আপনার উপদেষ্টা পরিষদ নিরপেক্ষ নয়। দুইজন ছাত্র উপদেষ্টা একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত। আরেকজন উপদেষ্টা ২০ বছর বিদেশে ছিলেন, এখন বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে দেশে এসেছেন। এছাড়াও কয়েকজন উপদেষ্টা আছেন যারা ফ্যাসিবাদী আচরণে লিপ্ত।”

তিনি বলেন, “যদি সত্যিকার সংস্কার চান, তাহলে উপদেষ্টা পরিষদ থেকে শুরু করুন। সরিষার ভেতরে ভূত রেখে সংস্কার সম্ভব নয়। জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে এক সপ্তাহ বা এক মাসের মধ্যে সকল সংস্কার সম্ভব। আপনি যদি না পারেন, আমাদের বলুন—আমরাই করে দেব।”

তার বক্তব্যে উঠে আসে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মেধার মূল্যায়নের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান মেধাবীদের এগিয়ে যেতে উৎসাহ দিতেন। এখন তারেক রহমান ‘তারুণ্যের রাজনৈতিক অধিকার’ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই চর্চা আবার শুরু করেছেন।”

শ্বেতপত্র বিষয়ে সালাহউদ্দিন দাবি করেন, “৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে, ৪ লাখ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে—এসব তথ্য শ্বেতপত্রে রয়েছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন আমাদের রাজনৈতিক পাঠ্যপুস্তক হওয়া উচিত। ৬৬ শতাংশ সামরিক বুলেট ব্যবহার হয়েছে—এসব তথ্য জানা জরুরি।”

তিনি ভবিষ্যতের রাজনীতি বিষয়ে আরও আলোচনা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন, “শুধু আবেগনির্ভর স্লোগানে রাজনীতি চলবে না। ভবিষ্যতের রাজনীতি নিয়ে ব্যাপকভাবে সেমিনার আয়োজন করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ইশরাকের শপথ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি, গেজেট বহাল: আপিল বিভাগ

বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাংবিধানিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে, ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত চেয়ে করা ‘লিভ টু আপিল’ নিষ্পত্তি করে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে), প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন। শুনানিতে ইসির পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ড. মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং ইশরাকের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও এ কে এম এহসানুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক। আপিলকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন লিপু।

ইসির আইনজীবী জানান, গেজেট প্রকাশে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের দরকার থাকলেও, ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর ১০ দিন সময় বাকি ছিল। তাই ইসি আপিল না করে গেজেট প্রকাশ করেছিল। এখন নতুন করে গেজেট প্রকাশের প্রয়োজন নেই। শপথ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিতে ইসি স্বাধীন এবং তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, গেজেট বহাল রয়েছে এবং ইসির হাতে এখন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আছে। চাইলে তারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে পারে।

উল্লেখ্য, শপথের জন্য গেজেটের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৬ মে। এখনো ইশরাক শপথ নেননি। তার আইনজীবীরা বলছেন, তার মেয়র পদ পাওয়ার দাবি এখনো আইনগতভাবে বহাল।

এর আগে, হাইকোর্ট গত ২২ মে রায় দিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের রায় এবং গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট খারিজ করেন। এরপর ২৫ মে আপিল করা হয়। এই আবেদন শুনানির জন্য চেম্বার আদালত ২৯ মে দিন নির্ধারণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ চূড়ান্ত আদেশ দেয়।

পেছনের প্রেক্ষাপটে, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন এবং পরদিন গেজেট প্রকাশিত হয়। ২০২০ সালের ৩ মার্চ ইশরাক ফলাফল বাতিল চেয়ে মামলা করেন। এরপর ২০২৪ সালের ২৭ মার্চ আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করে এবং ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।

এখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার একমাত্র এখতিয়ার ইসির। এর ফলে, এখন ইশরাকের শপথ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর।




জনগণের জন্য একটা নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা দরকার : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায় বাস্তবায়নের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক, নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ইতোমধ্যেই টালবাহানা শুরু হয়েছে এবং কথিত অল্প সংস্কার ও অতিরিক্ত সংস্কারের ভেতরে আটকে যাচ্ছে নির্বাচনের ভবিষ্যৎ।

বুধবার (২৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল আয়োজিত ‘তারুণ্যের সমাবেশে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তারেক রহমান বলেন, সংস্কারের নামে সময়ক্ষেপণের পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে ও বাইরে বিশেষ কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে বলে জনগণ বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, আদালতের রায় অবজ্ঞা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলর ইশরাক হোসেনকে দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা অতীতের স্বৈরশাসনের পুনরাবৃত্তি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা আদালতের নির্দেশ মানে না, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, তাদের কাছ থেকে সংস্কারের কতটুকু আশা করা যায়? পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে মানুষের মানসিকতার সংস্কার জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “নর্থ কোরিয়ার সংবিধানেও ‘ডেমোক্রেটিক’ লেখা আছে, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তাই শুধু কি লেখা আছে, তা নয়— বাস্তবে কী হচ্ছে সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।”

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাই অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। সরকার যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয়, যাতে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসা হারিয়ে যায়।

তিনি বলেন, “যদি কেউ রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকতে চান, তবে সরকার থেকে পদত্যাগ করে সাধারণ জনগণের কাতারে এসে নির্বাচনে অংশ নিন। জনগণ যদি ভোট দেয়, তাহলে পুনরায় সরকারে যান।”

তিনি আরও জানান, গত দেড় দশকে ভোটার তালিকায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যারা এখনও একটি সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। তিনি বলেন, “এই নতুন ভোটারদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত দৃশ্যমান প্রস্তুতি নেওয়া।”

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অতীতে এমন সরকার তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ১০ মাস পার করেও নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করেনি।

তারেক রহমান দাবি করেন, “আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।” তিনি তরুণ সমাজ ও দেশবাসীকে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।

সমাবেশে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “জনগণের কাছে যান, তাদের প্রত্যাশা জানুন এবং তাদের মন জয় করুন। কারণ, জনগণই বিএনপির সকল রাজনৈতিক শক্তির উৎস।”

বক্তব্যের শেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে স্লোগান দেন:
‘দিল্লি নয়, দিল্লি না; নয় অন্য কোনো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী যুবদলের সভাপতি মোনায়েম মুন্না। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান এবং ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমেদ।




নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় ৯ সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাকে

জুলাই মাসে ধানমন্ডিতে মো. রিয়াজ (২৩) নামের এক যুবক হত্যার ঘটনায় শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও আওয়ামী লীগ নেতা নুরু মিয়ার রিমান্ড মঞ্জুরের পর এবার নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে আরও ৯ জন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাকে।

বুধবার (২৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব পৃথক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

যাত্রাবাড়ী থানার বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননসহ নয়জনকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

বাকি গ্রেফতার দেখানো নেতারা হলেন:

  • সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম
  • তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক
  • সাবেক ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম
  • সাবেক সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম মনু
  • সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম
  • আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার টুসী

তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত এই নেতাদের বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন।

এছাড়া, একই থানা দায়ের করা আরও দুটি মামলায় সালমান এফ রহমানকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং আনিসুল হককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, আমির হোসেন আমুকে একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, ইনু ও মেননকে একটি হত্যাচেষ্টা এবং দুটি করে হত্যা মামলায়, পলককে একটি হত্যা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায়, মনিরুল ইসলাম মনুকে দুটি হত্যা মামলায়, কামরুল ইসলাম ও আতিকুল ইসলামকে একটি করে হত্যাচেষ্টা মামলায় এবং জাহাঙ্গীর আলম ও রজনী আক্তার টুসীকে একটি করে হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।এবং সব মামলাগুলো যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।




রাজনৈতিক দল গুলোর অধিকাংশ মামলাই প্রত্যাহারের সুপারিশ

রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে গঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৪৪৮টি মামলার প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।

বুধবার (২৮ মে) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে বিলম্ব নিয়ে বিভিন্ন দল অভিযোগ করলেও তা বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ২০২৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে মামলাগুলো পর্যালোচনা করছে।

কমিটি এখন পর্যন্ত ১৬টি সভায় বিভিন্ন জেলা কমিটি ও সলিসিটর কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকা ও দলিলপত্র বিশ্লেষণ করে ১১ হাজার ৪৪৮টি মামলার প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। এ কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও হয়রানিমূলক মামলার তালিকা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চলতি বছরের ১০ থেকে ১৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার মামলা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২৭ এপ্রিল ১,২০০টি মামলার তালিকা জমা দিয়েছে।

তবে এসব তালিকার প্রায় অর্ধেক মামলার সঙ্গে প্রয়োজনীয় দলিল যেমন এজাহার ও চার্জশিট না থাকায় বাকিগুলোর নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

এছাড়া হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ গত ২০ মে ৪৪টি মামলার একটি তালিকা জমা দিয়েছে, যেগুলোর কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দ্রুতনিষ্পত্তির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো মামলাগুলোর পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র, বিশেষ করে এজাহার ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিট, অবিলম্বে কমিটির কাছে জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।




ডাকসু রোডম্যাপসহ ৭ দফা দাবি উপস্থাপন ছাত্রশিবিরের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন আয়োজনের রোডম্যাপ ঘোষণাসহ সাত দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মঙ্গলবার (২৭ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিনে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শাখা সভাপতি এসএম ফরহাদ লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সাতটি দাবি তুলে ধরেন। তিনটি প্রধান দাবি হলো:

  1. অবিলম্বে ডাকসুর রোডম্যাপ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচনের অধিকার নিশ্চিত করা,
  2. ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ,
  3. পূর্বের ন্যায় যান চলাচল ও বহিরাগতদের প্রবেশ সীমিত করা।

অন্য চারটি দাবি হলো:

  • ক্যাম্পাস এলাকা থেকে ভবঘুরে ও অপ্রকৃতস্থদের উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা,
  • পুরো ক্যাম্পাস ও প্রবেশপথগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন,
  • পাঁচটি প্রবেশপথে থাকা নিরাপত্তা বক্সগুলো দ্রুত সংস্কার ও প্রহরীর নিয়োগ,
  • প্রয়োজন অনুযায়ী প্রক্টরিয়াল মোবাইল টিমের সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আশিক, দাওয়াহ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল হোসেন মারুফ।

সভাপতি এসএম ফরহাদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৯৬ শতাংশ শিক্ষার্থী ডাকসু নির্বাচনের পক্ষে। অথচ প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এ দাবি বাস্তবায়নে হতাশাজনকভাবে ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বলেছিলেন ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন মে মাসের শেষ পর্যায়ে, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। দ্রুত রোডম্যাপ ঘোষণা না হলে আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”




আবারও রিমান্ডে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক

রাজধানীর ধানমন্ডিতে গত বছরের জুলাই আন্দোলনের সময় মো. রিয়াজ (২৩) নামের এক যুবককে হত্যার মামলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং আওয়ামী লীগ নেতা নুরু মিয়ার দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (২৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুব রিমান্ড শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআইর পরিদর্শক মুহাম্মদ কামরুজ্জামান সিকদার, এ চারজনের পাঁচদিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত শুনানির জন্য তাদের হাজিরের নির্দেশ দেন এবং প্রথমে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। সোহানুর রহমান আজাদের পক্ষে আইনজীবী জহিরুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করেন। অন্য তিন আসামির পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন করলেও তারা শুনানিতে অংশ নেননি।

শুনানি শেষে আদালত সোহানুর রহমান আজাদ ছাড়া বাকি তিনজন—সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক ও নুরু মিয়ার দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আজাদের রিমান্ড বিষয়ে আদালত পরবর্তীতে আদেশ দিবেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ আগস্ট সাইন্সল্যাব থেকে জিগাতলা যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন মো. রিয়াজ। দীর্ঘ দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৭ আগস্ট বিকেলে তার মৃত্যু হয়। পরে ৯ সেপ্টেম্বর নিহতের মা মোসা. শাফিয়া বেগম ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী।