শেখ হাসিনার বিচারকার্য সরাসরি সম্প্রচার হবে টেলিভিশনে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ রবিবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, কামাল চৌধুরী এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হবে। ট্রাইব্যুনালের এ বিচারকার্য সরাসরি সম্প্রচার হবে টেলিভিশনে, যা দেশের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা।

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “আগামী ১২ মে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হবে।” তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাতে তিনি জানান, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যার পেছনে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনার অডিও প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আজকের বিচারকার্যকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন পর আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হতে যাচ্ছে, যা নজিরবিহীন বলেও মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

আইনজীবীরা বলছেন, টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারের ফলে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে এবং জনসাধারণ পুরো বিষয়টি সরাসরি পর্যবেক্ষণের সুযোগ পাবেন।

এদিনের শুনানি উপলক্ষে ট্রাইব্যুনাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




বিএনপি কোনো হুমকি বা ষড়যন্ত্রকে পরোয়া করে না; এটা জনগণের দল

বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, ষড়যন্ত্র কিংবা হুমকি দিয়ে বিএনপিকে দমন করা যাবে না। মহান আল্লাহ ছাড়া বিএনপিকে থামিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই। বিএনপি একটি জনগণের দল—যারা এ দলকে রুখতে চায়, তারা ব্যর্থ হবে।

শনিবার (১ জুন) বগুড়া জেলা বিএনপির আয়োজনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “১৯৭৫ সালে সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে মেজর জিয়া এ দেশকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। তিনি জন্ম থেকেই প্রস্তুত ছিলেন দেশের নেতৃত্ব দিতে। তাঁর কালজয়ী দর্শনের সবচেয়ে বড় অবদান হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ও জাতীয়তাবাদী দল। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান স্বাধীনতার ঘোষণা।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ একটি অন্যায়-অনাচারের দল, যারা বাকশাল কায়েম করে দেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করেছিল। তিনি আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বিএনপি দেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামে অবিচল রয়েছে। বিএনপি একসময় স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, আজও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে লড়ছে।”

আওয়ামী লীগের শাসনামলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি। “মাত্র চারটি পত্রিকা রেখে বাকিগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল,” বলেন জাহিদ হোসেন।

বিএনপির নেতা আরও বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এবং শিশু ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরসহ বহু যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে দেশের পুনর্গঠনের রূপরেখা দিয়েছেন, যার মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।”

আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “শহীদ আবু সাইদ ও মুগ্ধরা কোনো দলের নয়, তারা দেশের মানুষের জন্য জীবন দিয়েছেন। আমরা মনে রাখতে চাই—৪৭ বাদ দিয়ে ৭১ হবে না, ৭১ বাদ দিয়ে ৭৫ হবে না, ৭৫ বাদ দিয়ে ৯০ হবে না, আর ৯০ বাদ দিয়ে ২০২৪-২৫ হবে না। অতএব, সকল গুম-খুনের বিচার করতে হবে।”

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি কাজী রফিকুল ইসলাম, আলী আজগর তালুকদার হেনা, জয়নাল আবেদীন চান, মাহবুবর রহমান হারেজ এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফজলুল বারী বেলাল প্রমুখ।




ছাত্রদল-বামজোটের কার্যক্রম ‘সন্ত্রাসী’ উল্লেখ করে ছাত্রশিবিরের নিন্দা

ছাত্রদল ও বামপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘সন্ত্রাসী কার্যকলাপ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। শনিবার (৩১ মে) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম এ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখলেও কিছু রাজনৈতিক সংগঠনের ‘ফ্যাসিবাদী চরিত্র’ অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ছাত্রদল ও বাম ছাত্রসংগঠনগুলো এখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক বাণিজ্য, নারী নির্যাতনসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত।

ছাত্রশিবিরের বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ঢাকার সরকারি গ্রাফিক আর্টস কলেজ, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), কক্সবাজার পলিটেকনিকসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রদল। চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজে শিবিরের ‘হেল্প ডেস্কে’ হামলার ঘটনায় তিনজন কর্মী আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়। এছাড়া চট্টগ্রাম ইসলামিয়া কলেজ ও রংপুর অঞ্চলেও তাদের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ফরিদপুরে এক ছাত্রীকে নির্যাতন, রাজধানীর আদাবরে এক নারীকে হুমকি এবং অন্যান্য এলাকায় নারী নির্যাতনের ঘটনায় ছাত্রদল নেতারা জড়িত। অথচ এ ঘটনায় নারী অধিকার সংগঠনগুলো নীরবতা পালন করছে, যা পক্ষপাতদুষ্ট মানবাধিকার চেতনার প্রকাশ বলে মন্তব্য করে ছাত্রশিবির।

ছাত্রশিবির অভিযোগ করে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মতোই ছাত্রদল এখন ক্যাম্পাসে জোর-জুলুম চালাচ্ছে। তারা দাবি করে, ৩০ মে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ায় দুই নারী শিক্ষার্থীকে হল ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, বামজোটকে ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ আনা হয়।

বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, রাজশাহী মহানগরের ছাত্রদল নেতা আহনাফ তাহমিদ এবং ছাত্র ইউনিয়নের শাহরিয়ার ইব্রাহিমের বক্তব্য সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করছে, যা সমাজের জন্য হুমকিস্বরূপ।

ছাত্রশিবির হুঁশিয়ারি দিয়ে জানায়, যদি ছাত্রদল ও বামজোট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে সরে না আসে, তবে তারা ‘৩৬ জুলাইয়ের চেতনায়’ দেশব্যাপী ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবে। একই সঙ্গে লাল সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।




নিবন্ধন ও প্রতীক নিয়ে আপিলের রায় আজ: সুপ্রিম কোর্টের দিকে তাকিয়ে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক ‘দাঁড়িপাল্লা’ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে আপিল বিভাগের বহুল প্রত্যাশিত রায় আজ ১ জুন (রোববার) ঘোষণা করা হবে। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে চার সদস্যের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। সুপ্রিম কোর্টের কার্যতালিকায় মামলাটি ১ নম্বরে রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। সেই প্রেক্ষাপটে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। দলটি হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে, যেখানে সংবিধান সংশ্লিষ্ট গুরুতর আইনি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। শুনানি শেষে এখন রায় ঘোষণার অপেক্ষায়।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সূচি এখনও ঘোষণা না করলেও, দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। জামায়াত ইসলামীও পিছিয়ে নেই। দলটি ইতোমধ্যেই ৩০০ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। তবে নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক পুনরুদ্ধার না হওয়ায় দলটি এক ধরনের আইনি অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

দলটির আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির জানিয়েছেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে এখন শেষ পর্যায়ে এসেছে বিষয়টি। তিনি আশাবাদী যে আজকের রায়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মসূচি চালিয়ে এসেছে জামায়াত। দলে হতাশা থাকলেও শীর্ষ নেতারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাবাদী ছিলেন। আজকের রায় সে প্রত্যাশার ফলাফল নিয়ে আসবে কি না, তা জানতে চোখ এখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে।

জামায়াতে ইসলামীসহ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন আপিল বিভাগের রায়ের দিকে। এই রায়ের মাধ্যমে পরিষ্কার হবে—নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে পাচ্ছে কি না জামায়াতে ইসলামী।




জামায়াত একটি আদর্শ নেতৃত্ব ও কল্যানমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে : ডা.তাহের


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, “জামায়াত একটি কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।” তিনি বলেন, দলের মূল উদ্দেশ্য হলো—সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে সৎ, যোগ্য ও আদর্শ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা।

শুক্রবার (৩০ মে) চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় দক্ষিণ জেলা জামায়াত আয়োজিত এক সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. তাহের বলেন, “অতীতে শহীদ আমিরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। এমনকি তাদের পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলো দুর্নীতিমুক্ত ছিল—এমন সত্য স্বীকার করতেও তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকার বাধ্য হয়েছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, “১৯৭১ সালে স্বাধীনতার লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাকশাল কায়েম করে দেশে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর একের পর এক সরকার দেশকে দুর্নীতির অতল গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে। সর্বশেষ ফ্যাসিস্ট সরকার ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। এমনকি উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরাও পালিয়ে বেড়াচ্ছেন—এ ধরনের নজির ইতিহাসে বিরল।”

তাহের আরও বলেন, “বর্তমানে জনগণ নতুন আস্থার জায়গা খুঁজছে এবং তারা জামায়াতের দিকেই তাকিয়ে আছে। আমাদের দায়িত্ব জনগণের সেই আস্থার প্রতিদান দেওয়া এবং দেশকে নৈতিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম মহানগরী নায়েবে আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, এবং জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাছান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির আনোয়ারুল আলম চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক।

শিক্ষাশিবিরে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, প্রার্থীরা ও সাংগঠনিক ব্যক্তিত্বরা।




পূর্ণ বিশ্রামে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সম্পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন। ফলে গত দুই দিন ধরে তিনি কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেননি।

শুক্রবার রাতে ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক এবং সহ-সভাপতি মর্যাদার নেতা জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আগামী রোববার থেকে সভাপতি রাকিব পুনরায় সংগঠনের কর্মসূচিতে সক্রিয় হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার দ্রুত আরোগ্যের জন্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। একইসঙ্গে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিভ্রান্তিকর কোনো তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। নেতাকর্মীদের গুজব থেকে সতর্ক থাকার জন্য কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে সংগঠনের অভ্যন্তরে ও বাইরে ছাত্রদল সভাপতিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে—এমন একটি গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ বিষয়ে ছাত্রদল বা বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

ছাত্রদল সভাপতি রাকিবের অসুস্থতা ও পদ নিয়ে ছড়িয়ে পড়া গুজবের প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় সংসদের এই বিবৃতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।




জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

“নতুন বাংলাদেশ” গঠনে জাপানি কোম্পানিগুলোর সহায়তা চেয়ে এবং আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (৩০ মে) জাপানে চলমান সফরের তৃতীয় দিনে টোকিওতে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিভিন্ন জাপানি কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন। বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়।

ড. ইউনূস বলেন, “আপনাদের এখানে দেখে আমরা আশ্বস্ত হয়েছি। গত ১০ মাসে আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তি তৈরি করছি, এবং এই প্রক্রিয়ায় জাপানের সহযোগিতা অত্যন্ত মূল্যবান।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরশাসনের অবসান আমাদের নতুন জীবনের সূচনা এনে দিয়েছে। এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি দরকার আন্তর্জাতিক বন্ধুদের সহযোগিতা। আমরা একটি নতুন, উদ্যমী বাংলাদেশ নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে পুরোনো ত্রুটিগুলো দূর করে একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাব।”

ড. ইউনূস আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাংলাদেশের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং তা অতীতের বিষয় হয়ে উঠবে। “এটি জাতির জন্য একটি বড় সুযোগ,” বলেন তিনি, “আমরা কঠিন সময় পার করেছি এবং চাই তা পেছনে ফেলতে।”

আলোচনার শুরুতে জেট্রোর চেয়ারম্যান ও সিইও নোরিহিকো ইশিগুরো বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা প্রদর্শন করেছে।”

জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটি (জেবিসিসিইসি) এর চেয়ারম্যান এবং মারুবেনি কর্পোরেশনের বোর্ড সদস্য ফুমিয়া কোকুবু বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত ৮৫% জাপানি কোম্পানি প্রত্যাশা করছে, এ বছরই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (EPA) সই হবে। একইসঙ্গে তিনি কর নীতিতে সংস্কারেরও আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত শিনিচি সাইদা বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। কোনও প্রকল্প বন্ধ হয়নি, কোনও ব্যবসা স্থগিত হয়নি – এটি ইতিবাচক বার্তা।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন:

  • সুমিতোমো কর্পোরেশনের সিইও শিঙ্গো উয়েনো
  • ইউগলেনা কোং লিমিটেডের সিইও মিতসুরু ইজুমো
  • জেরা-এর প্রধান বৈশ্বিক কৌশলবিদ স্টিভেন উইন
  • জেবিআইসির সিনিয়র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজুনোরি ওগাওয়া
  • ওনোডা ইনকর্পোরেটেডের প্রেসিডেন্ট শিগেয়োশি ওনোদা
  • জেট্রোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজুয়া নাকাজো
  • আইডিই-জেট্রোর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মায়ুমি মুরায়ামা

সমাপনী বক্তব্য রাখেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী।




ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচনের রোডম্যাপ দেয়া উচিত : সালাহউদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে হাইকোর্ট মাজার গেটে দুস্থদের মধ্যে খাবার বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

সালাহউদ্দিন বলেন, “দেশের মানুষ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আজ উন্মুখ। সেই জাতীয় আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমরাও স্পষ্ট নির্বাচনী রোডম্যাপের দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রপতি নন, তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতীক। বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের মাধ্যমে তিনি গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে।”

বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সাংবিধানিক কাঠামো রক্ষায় দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, “আমরা একটি বৈষম্যহীন ও সুবিচারভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ছাত্রসমাজ ও সাধারণ জনগণ রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে লড়ছে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীর।




জাতীয় ঐক্যে বাধা হয় এমন মন্তব্য করা উচিত নয় : আজহারুল ইসলাম

জাতীয় ঐক্য গঠনে বাধা সৃষ্টি করে এমন কোনো মন্তব্য বা বক্তব্য না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কার্যালয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। সামাজিক মাধ্যমে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না, যা বিভাজন সৃষ্টি করে।”

দীর্ঘ ১৪ বছর পর কারামুক্ত হয়ে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও মহানগর আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বুলবুল নিজেই।

আজহারুল ইসলাম বলেন, “জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে দ্বীনের দাওয়াত ও সামাজিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামী শালীনতা ও গঠনমূলক সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আব্দুস সবুর ফকির, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, দেলাওয়ার হোসেন, কামাল হোসাইন, ড. আব্দুল মান্নান, শামসুর রহমান, অধ্যাপক মোকাররম হোসেন খান, মাওলানা ফরিদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ডা. মোবারক হোসেন, কামরুল আহসান হাসান, ডা. আতিয়ার রহমান, নূর নবী মানিক, শেখ শরিফ উদ্দিন, সৈয়দ সিরাজুল হক, আমিনুর রহমান, শাহিন আহমেদ খান, শরিফুল ইসলাম এবং প্রচার ও মিডিয়া সহকারী সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন।




ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়া সম্ভব : তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত রাজনৈতিক সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করা হলে ডিসেম্বরের আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট তারিখে নির্বাচন ঘোষণার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) রাজধানীর রমনা ইনস্টিটিউশনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখনো পর্যন্ত নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না করায় দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের জবাবদিহিহীনতা এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগ না থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যেও স্থবিরতা নেমে এসেছে। বহু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, বিনিয়োগ থমকে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কারের ব্যাপারে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। তাহলে ডিসেম্বরের আগেই নির্বাচন সম্ভব। এটি সরকারের জন্য কোনো জয় বা পরাজয়ের বিষয় নয়, বরং গণতন্ত্র ও জনগণের বিজয়ের সুযোগ।

আলোচনায় তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার বৈধ হলেও জবাবদিহিমূলক নয়। জনগণের সমস্যা সম্পর্কে তারা অবগত নন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দল ছাড়া প্রশাসননির্ভর রাষ্ট্র পরিচালনা সম্ভব নয়।

বক্তব্য শেষে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ এবং রুহুল কবির রিজভী।