তারেক রহমানের ঈদবার্তা: ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (৪ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদুল আজহা অর্থাৎ ত্যাগের উৎসব আমাদের কাছে শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং আত্মত্যাগ, আত্মশুদ্ধি এবং মানবতার কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার এক মহান শিক্ষা।”

তারেক রহমান বলেন, “এই উৎসবের অন্যতম শিক্ষা হলো—আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য আমাদের ইচ্ছা ও মনোভাব শুদ্ধ করা। কোরবানি আল্লাহর দরবারে শুধু পশু নয়, বরং আমাদের নিষ্কলুষ আত্মা ও ইমানের প্রতিফলন। ঈদুল আজহার এই ত্যাগের শিক্ষা সমাজে সংহতি, ঐক্য ও মানবিক মেলবন্ধন গড়ে তোলে।”

তিনি বলেন, দেশের জনগণ দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদের এক কঠিন সময় পেরিয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসায় এবার ঈদের আনন্দ তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল হতে পারে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জীবনধারণের খরচ বৃদ্ধি এবং মৌলিক সেবার অভাবে সাধারণ মানুষ ঈদের আনন্দ উপভোগে বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তারেক রহমান বলেন, “ঈদের দিন যেন কেউ অভুক্ত না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। উৎসবের আনন্দ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে হবে এক কাতারে দাঁড়িয়ে।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে লুটপাট, দুর্নীতি এবং মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যে চিত্র দেখা গেছে, তা যেন আর কখনও পুনরাবৃত্তি না ঘটে—সে জন্য নতুন বাস্তবতায় নৈতিকতা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠায় সবার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস প্রয়োজন।”

শেষে তিনি বলেন, “ঈদুল আজহা আমাদের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও পারস্পরিক সম্প্রীতির বার্তা বয়ে আনুক। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে আমি এই প্রার্থনাই জানাই।”




বিএনপির নতুন কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা!

বিএনপি আগামীতে ক্ষমতায় এলে প্রথম ১৮০ দিনে অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনার রূপরেখা ঘোষণা করেছে।

বুধবার (৪ জুন) গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, মানুষের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্ত ভিত্তি নির্মাণই আমাদের মূল লক্ষ্য। এজন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও উদ্ভাবনভিত্তিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা। এখন সময় গতানুগতিক ধারা থেকে বের হয়ে সাহসী ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়ার।”

আমির খসরু আরও বলেন, বিশ্বের বহু দেশে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের আগে জনগণকে জানিয়ে দেয়, ক্ষমতায় এলে শুরুতে কী কী করবে। বিএনপি জনগণের শক্তিতে বিশ্বাসী একটি দল হিসেবে বাংলাদেশে এমন একটি গণতান্ত্রিক ও বাস্তবধর্মী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

তিনি জানান, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রথম ছয় মাসের (১৮০ দিন) মধ্যে কি কি লক্ষ্য পূরণ করা হবে, তা নির্বাচনের আগেই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই সময়ের জন্য একটি অ্যাকশন-ভিত্তিক রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হবে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন খাতে বিএনপির পদক্ষেপগুলো সুনির্দিষ্টভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে মূলত প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দলের অবস্থান তুলে ধরা হলেও, অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট প্রস্তাবের ওপর বিএনপির মন্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত এবং সীমিত পরিসরে।




উনারা কষ্ট করে দেশ চালায় না? টাকা নিলে মানুষে খারাপ বলবো

কমলাপুর রেলস্টেশনের পাশে এক হৃদয়ছোঁয়া ঘটনার সাক্ষী হলেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম। গাড়ি থেকে নামতেই তার দিকে ছুটে আসে এক ছিন্নমূল শিশু। পায়ে হাত দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলে ওঠে, “স্যার, আমার জন্য দোয়া কইরেন।”

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম শিশুটির মাথায় স্নেহভরে হাত বুলিয়ে তার সহকারীর দিকে ফিরে টাকা দিতে বলেন। সহকারী মানিব্যাগ থেকে ৫০০ টাকার একটি নোট বের করতেই শিশুটি পিছু হটতে থাকে। বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও সে টাকা নিতে রাজি হয়নি।

“না, না স্যার, টাকা নিমু না। আপনি শুধু দোয়া কইরেন,” — শিশুটির এই জবাবে অভিভূত হন উপস্থিত সকলে। পাশে থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তাও শিশুটিকে টাকা নিতে অনুরোধ করেন, কিন্তু শিশুটি অপ্রস্তুত ও লজ্জিত হয়ে তার অবস্থানে অনড় থাকে।

পরে এক সাংবাদিক শিশুটিকে প্রশ্ন করেন, কেন সে টাকা নিল না। উত্তরে শিশুটি বলে, “উনারা কষ্ট করে দেশ চালায় না!? টাকা নিলে মানুষে খারাপ বলবো। দোয়া করলে চলতে পারবো, টাকা নিলে ২ দিনে শেষ হয়ে যাইতো।”

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। অনেকেই এই ছিন্নমূল শিশুর সরলতা ও আত্মমর্যাদাবোধে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে বিপুলসংখ্যক ছিন্নমূল কিশোর পথে নেমেছিল। পুলিশের মুখোমুখি হয়ে তারা ছাত্রদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলনের সামনের সারিতে অবস্থান নেয়। আন্দোলনে প্রায় ১৬০ জন ছিন্নমূল কিশোর নিহত হয়েছিল বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে।

অনেকেই মনে করেন, এই শিশুদের আত্মত্যাগ ও সাহসিকতা ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আর আজকের ঘটনাটি তাদের মানবিক ও নৈতিক চেতনাকে নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।

নাম না-জানা ছিন্নমূল শিশুটির প্রতি ভালোবাসা এবং উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উপস্থিত সকলেই।




প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জামায়াত আমিরের

দেশের বাইরে অবস্থানরত এক কোটি ১০ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ জুন) রাজধানীর বনানীতে ‘শেরাটন ঢাকা’ হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

জামায়াত আমির বলেন, “নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা দিয়েছে প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই, যা আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে থাকা বাংলাদেশিরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে লড়াই করেছেন, অথচ তারা এখনও এনআইডি এবং ভোটার তালিকা থেকে বঞ্চিত।”

তিনি বলেন, “আমাদের দাবি স্পষ্ট—প্রত্যেক প্রবাসী বাংলাদেশিকে ভোটাধিকার দিতে হবে। এখানে কোনো ছাড়ের প্রশ্ন নেই। এটা সদিচ্ছার বিষয়, দীর্ঘসাধনার নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন দলটির আমির। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সর্বসম্মত রায়ের মাধ্যমে তারা দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পেয়েছেন। এখন দ্রুত প্রতীক ফেরত পাওয়ার আশা করছেন তারা।

হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে আগের নিবন্ধন বাতিলকে ‘বেআইনি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভোজসভায় বক্তব্য দিয়ে আমাদের প্রতীক খেয়ে ফেলা হয়েছে। এটি ছিল এখতিয়ার বহির্ভূত ও অন্যায্য।”

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, “আমরা কোনো পক্ষপাত চাই না, চেয়ারের মর্যাদা রক্ষা করে তারা যেন দায়িত্ব পালন করেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চাই। যুবসমাজকে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই।”

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়োজনের বিষয়ে তাদের অবস্থান হলো, “আগে বেসিক সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। এর জন্য আমরা ৪১টি সুপারিশ দিয়েছি, যেখান থেকে পাঁচটি প্রধান সংস্কার বাস্তবায়ন দেখতে চাই।”

তিনি জানান, সংস্কারের কাজ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করা গেলে, নির্বাচনের পথ সুগম হবে। তবে এর আগে “সুষ্ঠু ভোটার তালিকা তৈরি এবং অবৈধ ভোটার ছাঁটাই ও বৈধ ভোটার অন্তর্ভুক্তি” নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




ঈদ সামনে রেখে আন্দোলন শিথিল, শপথ না হলে ফের মাঠে নামার হুঁশিয়ারি ইশরাকের

আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র হিসেবে শপথ গ্রহণের দাবিতে চলমান আন্দোলন সাময়িকভাবে শিথিলের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেলে নগর ভবনে আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এক ঘোষণায় ইশরাক বলেন, “ঈদ সামনে রেখে আজ থেকে আন্দোলন শিথিল থাকবে। তবে দাবি আদায় না হলে ঈদের পর ফের আন্দোলনে নামবে ঢাকাবাসী।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও জানান, “অনতিবিলম্বে শপথ আয়োজন করা না হলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিজেরাই শপথের আয়োজন করবেন।”

এর আগে সকাল থেকেই ডিএসসিসির নগর ভবনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন কর্পোরেশনের কিছু কর্মচারী ও ইশরাকের সমর্থকরা। ‘ঢাকাবাসী’র ব্যানারে তারা মূল ফটক ও বিভিন্ন বিভাগে তালা লাগিয়ে দেন, ফলে নাগরিক সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ থাকে। ১৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনের কারণে ডিএসসিসি’র সব ধরনের সেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। তবে নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন ফল বাতিল চেয়ে ৩ মার্চ ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। চলতি বছরের ২৭ মার্চ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাসীন সরকারের পতনের পর ঢাকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল নির্বাচনের ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেয়।

পরে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করে। কিন্তু শপথ গ্রহণের আগে গত ১৪ মে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়। রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা খারিজ করে দিলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ‘আইনি জটিলতা’র কথা বলে এখনো শপথ আয়োজন থেকে বিরত রয়েছে।

এই অবস্থায় ডিএসসিসির কার্যক্রম অচল করে আন্দোলন শুরু করেন ইশরাক সমর্থকরা। তবে ঈদের কথা বিবেচনায় নিয়ে আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানালেন ইশরাক, যদিও দাবি আদায় না হলে ঈদের পর ফের কঠোর কর্মসূচির ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।




গণতন্ত্রে অংশগ্রহণমূলক ধারায় ফিরছে রাজনীতি: বিএনপি নেতারা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন ফিরে পাওয়ায় দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পরিপূর্ণতা এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এ রায় অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে রবিবার (১ জুন) আপিল বিভাগ হাইকোর্টের সেই আদেশকে অবৈধ ঘোষণা করে, ফলে দলটির আবারও নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের পথ উন্মুক্ত হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, “বিএনপি শুরু থেকেই বহু মত ও পথের সমর্থক। গণতন্ত্রে ভিন্নমতের অবস্থান থাকা স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত বহুত্ববাদী রাজনীতির চর্চাকে শক্তিশালী করবে।”

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “এই সংগ্রামে জনগণের সমর্থন যার সঙ্গে থাকবে, সেই শক্তিই হবে প্রকৃত রাজনৈতিক শক্তি। অতীতের বিভাজন ভুলে আমরা সবাই মিলে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে চাই।”

বিএনপি নেতারা মনে করেন, গণতন্ত্রের বিকাশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি। জামায়াতের নিবন্ধন ফিরে পাওয়া সেই বহুদলীয় রাজনৈতিক কাঠামোর অংশ বলেই তাঁরা মনে করছেন।




গণতন্ত্র এখনও অধরা” — শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে ডা. রফিকুল

বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গণতন্ত্রে ফেরার পথে হাঁটছে না। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র অনুপস্থিত এবং ৫ আগস্টের অভ্যুত্থানের পর সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে যাওয়ার যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি।

রবিবার (১ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। আয়োজক ছিল জাতীয়তাবাদী চিকিৎসক, কর্মকর্তা, নার্স ও কর্মচারীবৃন্দ।

ডা. রফিকুল বলেন, “বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র যেভাবে বিলুপ্ত হয়েছিল, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ ফের গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছিল। তিনি চাইলে ক্ষমতা ভোগ করতে পারতেন, কিন্তু সেটি না করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন।”

তিনি আরও বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য আজীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তিনি ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অবিসংবাদিত নেত্রী এবং তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই চলমান রয়েছে।”

তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “১/১১ সময়ের রাজনীতিতে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। কিন্তু তিনি কখনো দেশকে ভুলে যাননি। চলমান জুলাই আন্দোলনে তাঁর নেতৃত্ব এখন ওপেন সিক্রেট। রাজপথ থেকে আহতদের চিকিৎসা পর্যন্ত তিনি সরাসরি দেখভাল করছেন।”

ডা. রফিকুল ইসলাম বক্তব্যের শেষে বলেন, “আমাদের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি। শহীদ জিয়ার আদর্শে গড়া বিএনপি সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত জিয়ার আদর্শের একজন সৈনিকও ঘরে ফিরবে না।”




‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর উদ্যোগে জিয়া উদ্যানের লেকে শাপলা ফুল রোপিত হলো

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের মাজার কমপ্লেক্স এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও শাপলা ফুলের চারা রোপণ কর্মসূচি পালন করেছে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’। রবিবার (১ জুন) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রবিবার সকালে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই জামান সেলিম, সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন ও ফরহাদ আলী সজীব।

অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন মালয়েশিয়া বিএনপির সভাপতি প্রকৌশলী বাদলুর রহমান খান বাদল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ—সহ-সভাপতি হাবিবুল বাশার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ও বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতারাও কর্মসূচিতে অংশ নেন। এদের মধ্যে ছিলেন ঢাবির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান অনিক, শেকৃবির সাংগঠনিক সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম-সম্পাদক মশিউর রহমান মহান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের আব্দুল্লাহ আল মিসবাহ, শেকৃবির মেজবাহ উদ্দিন, আব্দুল্লাহ আল মারুফ, শোয়েব হাসান, অনিক হাসান, শাহরিয়ার হোসেন ও মারুফ মেলিন।

এছাড়া বগুড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ সেতু, ঢাকা মহানগর যুবদল নেতা মইনুল ইসলাম রনি, ফয়সাল হায়দার ও লিটন ফকিরসহ আরও অনেকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

পরিচ্ছন্নতা ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা পৌঁছে দিতেই এ ধরনের কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।




সুপ্রিম কোর্টের রায়: আবারও রাজনীতিতে ফিরছে জামায়াত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনর্বহাল করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। এক যুগ পর দলটি আবারও বৈধ রাজনৈতিক দলের স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে।

রোববার (১ জুন) সকালে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের একটি বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

সর্বশেষ শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আইনজীবী আদালতকে জানান, জামায়াতকে নিবন্ধন প্রদানের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ওপর নির্ভর করছে তাদের সিদ্ধান্ত। তিনি আরও বলেন, আদালতের প্রশাসনিক নির্দেশনার ভিত্তিতে প্রতীক তালিকা থেকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক বাদ দেওয়া হয়েছে। যদি দলটি নিবন্ধন ফিরে পায়, তবে তাদেরকে নতুন প্রতীক গ্রহণ করতে হবে।

অন্যদিকে, জামায়াতের পক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেন, ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক ব্যবহারে কোনো আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই। তাই দলটি চাইলে পূর্বের প্রতীক পুনরায় ব্যবহার করতে পারে।

প্রসঙ্গত, একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্ট জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে। পরবর্তীতে, ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে গেজেট প্রকাশ করে।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে দীর্ঘ আইনি জটিলতার অবসান ঘটল, যা জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণের পথ সুগম করল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।




“ইসলামকে ক্ষমতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য” — জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা জামায়াতকে নয়, ইসলামকে ক্ষমতায় আনতে চাই।” ইসলামী আদর্শে সমাজ গঠনের লক্ষ্যেই সংগঠনের প্রতিটি কর্মীকে কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (৩১ মে) বিকেলে নীলফামারীতে জেলা ও মহানগর কর্মপরিষদের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী শিক্ষা শিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “ইসলামের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারলে নারী-পুরুষ সবাই সমান নিরাপত্তা পাবে। মদীনার রাষ্ট্রের আদর্শে পরিচালিত হলে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়া সম্ভব। শিক্ষিত মা হলে জাতি শিক্ষিত হবে, তবে সেই শিক্ষা হতে হবে রাব্বুল আলামিনের নামে।”

আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের চোখের পানি ফেলে সিজদায় পড়ে আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে।”

সংগঠনের দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জনশক্তিকে বুঝে-শুনে পরিচালনা করতে হবে। সংগঠনের কেউ অপরাধ করলে তার বিচার অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী হবে। ব্যক্তি নিজেকে পাহারা দেবে, আর সংগঠন সবাইকে পাহারা দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “শহীদ নেতৃবৃন্দের রক্ত, মজলুমদের চোখের পানি ও মুখলিছ (নিষ্ঠাবান) নেতা-কর্মীদের ত্যাগ-ত্যাগিতার কারণে আমাদের প্রতি জনগণের ভালোবাসা ও আস্থা বেড়েছে।”

জনশক্তিদের কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন বাড়ানোর পাশাপাশি পারিবারিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে এবং পরিবারের জন্য আরও সময় দেওয়ার নির্দেশ দেন জামায়াত আমির।