তারেক রহমান শহিদ হাদির কবর জিয়ারতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহিদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছেছেন। তিনি সকাল ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ গুলশানের বাসভবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টায় তারেক রহমান কবি নজরুল ইসলামের কবরে পাশে শায়িত শহিদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতারা।

তারেক রহমানের এই কবর জিয়ারতের জন্য শাহবাগ ছেড়ে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। হাদির কবর জিয়ারতের পর তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমানের পঙ্গু হাসপাতালের কর্মসূচি বাতিল

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে কোনো আহত না থাকায় তার কর্মসূচি বাতিল করেছেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে বিএনপি মিডিয়া সেল ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মিডিয়া সেলের বরাতে জানানো হয়েছে, “পঙ্গু হাসপাতালে জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের কোনো আহত না থাকার কারণে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উক্ত কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।”

কর্মসূচি বাতিলের পর আজ তারেক রহমান ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি ভোটার হওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনে যাবেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে ১টি আসনও ছাড়বেন না ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বরিশালের ছয়টি আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা ও প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। সমমনা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আট-দলীয় জোট গঠনের আলোচনা থাকলেও বরিশালের সব আসন নিজেদের পক্ষে রাখতে অঙ্গীকার করেছে ইসলামী আন্দোলন।

বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর ও বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, “বরিশাল আমাদের জন্মভূমি এবং ইসলামী আন্দোলনের ঘাঁটি। দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ভালো। আমরা এখানে কোনো আসন ছাড়তে চাই না। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুটি আসনে নির্বাচন করব। তবে জোট হলে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার সম্ভাবনা আছে। যেখানে জামায়াত বা অন্য দল শক্তিশালী, সেখানে আমরা ছাড় দিতে পারি।”

সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃতীয় হন এবং প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২৭ হাজারের বেশি ভোট পান। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট পান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসেন হেলাল জানিয়েছেন, আট-দলীয় ইসলামী জোটে এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে পরবর্তী নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের ছয়টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের ভোটভিত্তি জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি। ২০০১ সালে বরিশালে ইসলামী আন্দোলন ১১.৩০ শতাংশ ভোট পায়। ২০০৮ সালে ১১.৬০ শতাংশ ভোট পান। ২০১৮ সালে বরিশাল সদর আসনে ২৭ হাজার ৬২ ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে প্রার্থীর ভোটভিত্তি প্রায় ৯.২০ শতাংশ। মোটমাটিভাবে বরিশাল বিভাগে ইসলামী আন্দোলনের গড় ভোটের হার ৮–১২ শতাংশের মধ্যে, যা জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




তারুণ্যের শক্তিতেই আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব : অ্যাডভোকেট হেলাল

আগামীর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ ও যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি ও বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সংসদ পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট মুয়াযয্ম হোসাইন হেলাল।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বরিশাল মহানগরীর কাউনিয়া থানার উদ্যোগে আয়োজিত “তারুণ্যের ভাবনা ও সামষ্টিক ভোজ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে বরিশাল নগরীর টাউন স্কুল অডিটোরিয়ামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কাউনিয়া থানা জামায়াতের আমির মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট হেলাল বলেন, তরুণ ও যুবকরাই একটি জাতির মূল শক্তি। তাদের মেধা, শ্রম ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়েই একটি উন্নত, ন্যায়ভিত্তিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ যদি জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, তাহলে দেশের লক্ষ লক্ষ বেকার তরুণ-যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের নৈতিকতা, সততা ও আদর্শিক চেতনায় গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একটি দুর্নীতিমুক্ত ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে কাউনিয়া থানা জামায়াতের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




হাদির কবর জিয়ারতে তারেক রহমান, আজিজ মার্কেটের সামনে অবস্থান ইনকিলাব মঞ্চের

শহিদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে তিনি কবর জিয়ারতের উদ্দেশে রওনা হন।

তারেক রহমানের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে ইনকিলাব মঞ্চ। সংগঠনটি জানিয়েছে, হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষে তারা শাহবাগ মোড় ছেড়ে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে।

শনিবার সকালে ইনকিলাব মঞ্চের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়, ‘বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শহিদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত উপলক্ষে ইনকিলাব মঞ্চ শাহবাগ মোড় থেকে ডানদিকে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। দুপুর ১২টায় পুনরায় শাহবাগ মোড়ে শহিদ হাদি চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি চলবে।’

পোস্টে আরও বলা হয়, হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে শাহবাগের শহিদ হাদি চত্বরে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকেই ওসমান হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শাহবাগ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চ। কনকনে শীত উপেক্ষা করেও রাতভর তারা সেখানে অবস্থান চালিয়ে যায়।

এদিকে তারেক রহমানের কবর জিয়ারত ও শাহবাগ এলাকায় চলমান অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




চরমোনাই পীরের আসনে ভাগ বসাতে চায় জামায়াত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামপন্থি ভোট এক করার লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ আট দলের সমন্বয়ে গঠিত নির্বাচনী জোটে বরিশাল বিভাগে আসন বণ্টন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জোটের নেতারা বলছেন, প্রার্থী বাছাই ও আসন ভাগাভাগি অনেকটাই চূড়ান্ত হলেও বরিশাল বিভাগের একুশটি আসনে সমঝোতা এখনও হয়নি। বিশেষ করে বরিশাল সদর আসন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে।

বরিশাল সদর আসনটি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীমের রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত। তবে এই আসনে ছাড় দিতে নারাজ জামায়াতে ইসলামী। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যেখানে যে দলের জনপ্রিয়তা বেশি, সেই দলকে ওই আসন দেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে বরিশাল সদর নিয়ে দুই দলের টানাপোড়েন কাটেনি।

ইসলামী আন্দোলনের নেতারা দাবি করছেন, বরিশাল বিভাগ তাদের শক্ত ভোটব্যাংক। পিরোজপুর জেলার দুটি আসন ছাড়া বাকি আসনগুলোতে তারা শক্ত অবস্থানে রয়েছে। এ কারণে বিভাগের অধিকাংশ আসন নিজেদের দখলে রাখতে চায় দলটি। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও বরিশালের কয়েকটি আসনে শক্ত অবস্থান দেখিয়ে আসন ছাড়তে অনাগ্রহী।

আটদলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের পাশাপাশি খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি রয়েছে। বরিশাল অঞ্চলে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা মূলত জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের এক নেতা বলেন, বরিশাল সদর ইসলামী আন্দোলনের আমিরের আসন। এই আসন অন্য কেউ দাবি করলে জোটের নৈতিকতা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী বলছে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কাজ ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতেই তারা আসন দাবি করছে, চাওয়ার ওপর নয়, সিদ্ধান্ত হবে মাঠের বাস্তবতায়।

বরিশাল সদরসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসন নিয়ে এই টানাপোড়েনের কারণে আটদলীয় জোটের ভেতরে সমঝোতা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির হিসাবেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেশি, তবুও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতির আশ্বাস

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এ তথ্য প্রকাশের পর নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বরিশাল বিভাগ একটি বিশেষ বাস্তবতার মুখোমুখি। নদ-নদী ও খালবেষ্টিত এই অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য দুর্গম এলাকা। উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ও ছোট মিলিয়ে বহু নদী থাকায় নির্বাচনের সময় জরুরি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের মোট ২ হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৮টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রার্থীদের চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা উদ্বেগজনক। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। একইভাবে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একাধিক উপজেলাও নদী ও জলপথের কারণে দুর্গম। এসব এলাকায় নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানো, জনবল পাঠানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে সেগুলো নিরাপদে ফিরিয়ে আনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা।

বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্র সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হবে না।

ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বরিশালের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এমনভাবে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে যাতে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।

বর্তমানে বরিশাল জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২২ লাখ এবং পুরো বিভাগে ভোটারের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই তালিকার ভিত্তিতে কী ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




আজ শহীদ হাদির কবর জিয়ারতে যাবেন তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবের অগ্রনি সৈনিক , ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করতে যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

আজ শনিবার সকালে বিএনপির ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এ সময় তার সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা থাকবেন।

কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

এরপর তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনে যাবেন বলে জানানো হয়েছে।



বরিশাল-৪ আসন: দ্বন্দ্বে জর্জরিত বিএনপি, মাঠে তৎপর জামায়াত

বিএনপির ভাঙা সমীকরণ

বরিশাল-৪ আসনের অতীত ইতিহাস বিএনপির পক্ষে থাকলেও এখন দলটির পরিস্থিতি অনেকটা অগোছালো। ২০০৮ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু এবার তার স্থলাভিষিক্ত রাজিব আহসান—ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি—কে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

নেতৃত্বের এই পরিবর্তনের কারণে দুই উপজেলার বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী মাঠে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, আসনে মূল লড়াই হবে নবীন রাজিব আহসান বনাম জামায়াতের প্রবীণ প্রার্থী


জামায়াতের শক্ত অবস্থান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী সৈয়দ এছাহাক মোঃ আবুল খায়েরকে। তবে নির্বাচনী কার্যক্রমে তার উপস্থিতি তেমন লক্ষ্যযোগ্য নয়।

অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলা প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা প্রার্থী হিসেবে থাকলেও ভোটারদের সাথে তার সরাসরি সংযোগ নেই। ফলে উভয় প্রার্থীকে নির্বাচনী আলোচনায় তেমন প্রভাবিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

তবে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বার বরিশাল জেলার আমির হওয়ায় এ আসনে তিনি শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, ছাত্রজীবন থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং জনমানসের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে বিজয়ী করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।


নির্বাচনী উত্তাপ ও জনমতের ছবি

জামায়াত প্রার্থী বিভিন্ন প্রান্তিক জনপদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকদের সমস্যা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। ভোটাররা মনে করছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করে আসায় তার সঙ্গে সম্পর্ক অনেক গভীর।

একাধিক স্থানীয় কর্মীর ভাষ্য,
“বরিশাল-৪ আসনে আমাদের চেয়ে দাড়িপাল্লার প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। জাতীয় স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”


বিশ্লেষণ

রাজিব আহসান মাঠে তৎপর থাকলেও দলীয় বিভাজন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে এগিয়ে থাকায় আসনটি তাদের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বরিশাল-৪ আসনে মূল লড়াই হবে বনাম, অভিজ্ঞতা বনাম নতুন শক্তি, এবং এটি নির্বাচনী মঞ্চে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা যেতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




গৌরনদীতে উপজেলা প্রশাসন ও ইমাম-খতিবদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

বরিশাল অফিস :: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে একটি নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে গৌরনদী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিশ্বাস সুজন কুমার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তারিক হাসান রাসেল এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন আনন্দ টেলিভিশনের গৌরনদী ব্যুরো প্রধান কাজী আল-আমিন, গৌরনদী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বায়েজিদ রনি এবং উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবরা।

সভায় বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাই গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ইমাম-খতিবদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যেন কোনোভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫