আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল বিভাগের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোটকেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এ তথ্য প্রকাশের পর নির্বাচন ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন। তবে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বরিশাল বিভাগ একটি বিশেষ বাস্তবতার মুখোমুখি। নদ-নদী ও খালবেষ্টিত এই অঞ্চলে রয়েছে অসংখ্য দুর্গম এলাকা। উপকূলীয় অঞ্চলে বড় ও ছোট মিলিয়ে বহু নদী থাকায় নির্বাচনের সময় জরুরি প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের মোট ২ হাজার ৮৩৮টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৮টি কেন্দ্রকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় নিরাপত্তা ঝুঁকি, প্রার্থীদের চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বরিশাল সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা উদ্বেগজনক। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সুষ্ঠু ভোট আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
বরিশাল জেলার হিজলা, মুলাদী ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মূল ভূখণ্ড থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। একইভাবে পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একাধিক উপজেলাও নদী ও জলপথের কারণে দুর্গম। এসব এলাকায় নির্বাচনি সরঞ্জাম পৌঁছানো, জনবল পাঠানো এবং ভোটগ্রহণ শেষে সেগুলো নিরাপদে ফিরিয়ে আনা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ বলে জানিয়েছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তারা।
বরিশাল আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোকে বিবেচনায় নিয়ে ভোটকেন্দ্র সাজানো হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলেন, ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হবে না।
ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কোর কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বরিশালের রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমন জানান, প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতেও এমনভাবে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকবে যাতে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিটের মধ্যে যেকোনো ঘটনায় দ্রুত সাড়া দেওয়া সম্ভব হয়।
বর্তমানে বরিশাল জেলায় মোট ভোটার প্রায় ২২ লাখ এবং পুরো বিভাগে ভোটারের সংখ্যা ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৪১৫ জন। নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন সামনে রেখে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই তালিকার ভিত্তিতে কী ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫