ঠিকাদারের অভিযোগে ববি ছাত্রদলের তিন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ

রাহাত রাব্বি,বরিশাল  :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) চলমান একটি উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকসহ তিন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, কাজে বাধা সৃষ্টি এবং ঠিকাদারকে হয়রানির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

অভিযোগকারী ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু, যিনি বরিশাল মহানগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি ও একজন প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। গত ১১ জুন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর তিনি এ আবেদন জমা দেন।

লিখিত অভিযোগে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমাইন সাকিব, নেতা আরাফাতসহ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, ই-জিপি (e-GP) পদ্ধতিতে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি উন্নয়ন কাজের কার্যাদেশ পান ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনু। কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে প্রকল্পের অংশ বা ভাগ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১ মার্চ কাজ চলাকালে একটি সংঘবদ্ধ দল কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অনুরোধ এবং দলের ভাবমূর্তির বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ মে প্রশাসনিক ভবন-১ এর সামনে রাস্তার ঢালাইয়ের কাজ চলাকালে পুনরায় কাজের অংশ দাবি করা হয়। এতে অসম্মতি জানালে নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদার।

আওলাদ হোসেন মনু দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে ল্যাব পরীক্ষায় ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান সন্তোষজনক এবং ‘এ’ গ্রেড হিসেবে মূল্যায়িত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আবেদনে তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রতি আস্থা রেখে তিনি বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযোগের পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। এছাড়া অভিযুক্ত আরাফাতের বিরুদ্ধে মাছের পোনা ক্রয় সংক্রান্ত চাঁদাবাজি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনামূলক মন্তব্য করায় এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। যেখানে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করলেই প্রকৃত বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন,অভিযোগটি কেন্দ্রীয় ছাত্রদল যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করছি।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগকারী ঠিকাদার আওলাদ হোসেন মনুর বিরুদ্ধেও অতীতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম, প্রকৌশল বিভাগের সঙ্গে বিশেষ যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকল্প গ্রহণ এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।




১২ মার্চ বসছে নতুন সংসদ, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ আহ্বান করা হচ্ছে। ওই অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সচিবালয়ে আয়োজিত ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ গঠন’ বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী । সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বানের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেন, তা অধিবেশন শুরুর কমপক্ষে ১৫ দিন আগে জারি করতে হয়। এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে অধিবেশন আহ্বান করবেন। আলোচনার ভিত্তিতে ১২ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কিছু কার্যসূচি থাকবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সংসদের নিয়মিত কার্যক্রমও শুরু হবে।

রাজধানীর আদাবর এলাকায় একটি অফিসে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি সরকার অবগত আছে। ঘটনার তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

রাজনৈতিক মহলে মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকারের অধীনে প্রথম সংসদ অধিবেশন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের সূচনা হতে পারে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক ও বইমেলার উদ্বোধন, প্রধানমন্ত্রীর দ্বৈত কর্মসূচি

আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে একুশে পদক প্রদান ও অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সকালে পদক বিতরণ এবং বিকেলে বইমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ।

সংস্কৃতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, রাজধানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দেওয়া হবে। এরপর বিকেলে প্রাঙ্গণে অমর একুশে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুই অনুষ্ঠান ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা, অতিথি তালিকা, নিরাপত্তা ও প্রটোকলসহ সব দিকেই চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এবারের বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে, যা প্রকাশকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে ছোট ও মাঝারি প্রকাশকদের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।

গত বছর প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী ২০২৬ সালের একুশে পদকের জন্য ৯ জন ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পাচ্ছেন—চলচ্চিত্রে , চারুকলায় অধ্যাপক , স্থাপত্যে , সংগীতে (মরণোত্তর), নাট্যকলায় , সাংবাদিকতায় , শিক্ষায় অধ্যাপক , ভাস্কর্যে এবং নৃত্যকলায় । সংগীত দল হিসেবে মনোনীত হয়েছে ।

একুশে পদক রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা। ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে ১৯৭৬ সাল থেকে প্রতিবছর গুণী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পদক প্রদান করা হচ্ছে। নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এককালীন ৪ লাখ টাকা, ৩৫ গ্রাম ওজনের স্বর্ণপদক, একটি রেপ্লিকা এবং সম্মাননাপত্র দেওয়া হয়।

এ বছর সাহিত্য বিভাগে কোনো মনোনয়ন ঘোষণা করা হয়নি। মনোনয়ন আহ্বান করা হয়েছিল গত বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে এবং জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ অক্টোবর। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীতদের নাম প্রকাশ করা হয়।

সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একুশে পদক ও বইমেলার উদ্বোধনকে বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন হিসেবে দেখা হয়। ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও সৃজনশীল চর্চাকে সামনে রেখে এই দুই অনুষ্ঠান ঘিরে ইতোমধ্যেই বইপ্রেমী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হিরো আলম, আদালতে প্রেরণ

বগুড়ায় দায়ের করা ধর্ষণ ও নির্যাতনের মামলায় আশরাফুল হোসেন আলম, যিনি হিরো আলম নামে পরিচিত, তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কের থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ দায়ের করা মামলায় গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। সম্প্রতি সেই পরোয়ানা পুলিশের হাতে পৌঁছালে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিজ এলাকায় অবস্থানের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করতে গেলে তিনি ঢাকার দিকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে গাড়িসহ তাকে ধাওয়া দিয়ে শাজাহানপুর থানা এলাকার কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলা দায়ের করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্তভার দেওয়া হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে। তদন্ত শেষে গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলার অপর পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি ও চলচ্চিত্রে কাজের সুযোগ দেওয়ার আশ্বাসে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে একসঙ্গে বসবাসের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ প্রয়োগ এবং মারধরের অভিযোগও রয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিক ও পরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সিনেমা নির্মাণের কথা বলে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, ভেঙে গেল অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার ভেঙে দিয়ে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৬ অনুচ্ছেদের (৩) দফা অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের আস্থাভাজন সংসদ সদস্য তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে তার নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের জন্য সম্মতি প্রদান করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গেছে বলে গণ্য হবে। ফলে প্রশাসনিকভাবে অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটেছে।

অন্য একটি প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। সংবিধানসম্মত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই নিয়োগ কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই মন্ত্রিসভা গঠন করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব বণ্টন সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারেকের মন্ত্রিসভায় কারা? চমক থাকছে নতুন-পুরোনো মুখে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক আসনে জয় পাওয়ার পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে । দলটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন—এটি কার্যত নিশ্চিত। এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়, কেমন হচ্ছে তারেক রহমানের প্রথম মন্ত্রিসভা এবং কারা থাকছেন সেই তালিকায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞ ও তরুণ নেতৃত্বের সমন্বয়ে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারের কয়েকজন অভিজ্ঞ নেতা যেমন ফিরতে পারেন, তেমনি এবার প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া একাধিক নতুন মুখও জায়গা পেতে পারেন। বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

মন্ত্রিসভার আকার ও দপ্তর বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সেখানে সম্ভাব্য নাম ও দায়িত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।

দলীয় মহাসচিব নতুন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে পারেন বলে জোর আলোচনা রয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে , , , , , ও –এর নাম আলোচনায় রয়েছে। টেকনোক্র্যাট কোটায় ও –এর অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও শোনা যাচ্ছে।

ভাইস চেয়ারম্যানদের মধ্যে এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ কয়েকজন নবীন সংসদ সদস্যের নামও ঘুরছে আলোচনায়।

দলীয় সূত্র বলছে, টেকনোক্র্যাট কোটায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেলের নামও বিবেচনায় রয়েছে।

যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আলোচনা চলছে। –এর প্রধান সমন্বয়কারী এবং –এর সভাপতি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া –এর চেয়ারম্যান , বিএনপিতে যোগ দেওয়া ববি হাজ্জাজ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং ড. রেজা কিবরিয়ার নামও আলোচনায় আছে।

মন্ত্রিসভার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিশেষ সহকারী ও বিভিন্ন খাতে দায়িত্বপ্রাপ্ত একাধিক পদেও নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। ফলে কেবল মন্ত্রী নয়, পুরো প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদলের আভাস মিলছে।

এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, চূড়ান্ত তালিকা জানতে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনে তাই এখন একটাই প্রশ্ন—কাদের নিয়ে শুরু হবে তারেক রহমানের নতুন অধ্যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোর থেকেই কেন্দ্রে ভোটারদের ঢল, উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু ভোটগ্রহণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত সময় সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ফজরের নামাজের পরপরই অনেকে কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান।

ভোট শুরুর আগে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় বাইরে দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কেন্দ্র ঘিরে ছিল উৎসবের আবহ। পরিবার বা প্রতিবেশীদের সঙ্গে আগেভাগেই কেন্দ্রে এসে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেককে।

পোলিং এজেন্টদের প্রবেশে ছিল কড়া যাচাই-বাছাই। দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা করে নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দেন। কেন্দ্রের নিরাপত্তায় পুলিশ, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নেন।

ভোটকেন্দ্রের বাইরে প্রার্থীদের পক্ষে অস্থায়ী বুথ বসানো হয়েছে। সেখান থেকে ভোটারদের সিরিয়াল নম্বর ও কক্ষসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে। এতে ভোটাররা সহজে নিজেদের বুথ খুঁজে পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

মগবাজার বিটিসিএল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থানে সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রবীণ ভোটারদের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। তাদের ভাষ্য, শান্ত পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে তারা সকালেই কেন্দ্রে এসেছেন।

ভোটার মোহাম্মদ ফারুক বলেন, অনেকদিন পর স্বস্তিতে ভোট দেওয়ার সুযোগ মিলছে। তাই সকালেই চলে এসেছি। আরেক ভোটার তোফাজ্জল হোসেন জানান, ঝামেলা এড়াতে শুরুতেই ভোট দেওয়াই ভালো মনে করেছেন। তার সঙ্গে একই এলাকার আরও কয়েকজন ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সারাদেশে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এরপর কেন্দ্রেই গণনা শুরু হবে এবং ধাপে ধাপে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নির্বাচনী কার্যক্রমে গতি এসেছে। এখন সবার নজর ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজই সিদ্ধান্তের দিন, ভোটে দেশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার–সংক্রান্ত গণভোট আজ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রশ্নেও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা এবারের নির্বাচনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণ ও গণনা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালট বাক্স, ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগেই কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব নিয়েছেন। গণভোট যুক্ত হওয়ায় ভোটের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবার ইতিহাসের সর্বোচ্চসংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ, আনসার, বিজিবি, র‌্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য রয়েছেন এক লাখের বেশি। প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৯০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা সদস্যদের হাতে দেওয়া হয়েছে ২৫ হাজার ৭০০টি বডি ক্যামেরা। যেকোনো বিশৃঙ্খলা দ্রুত জানাতে চালু রয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ’ ও হটলাইন নম্বর ৩৩৩।

এবার মোট ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে। ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হচ্ছে। প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।

প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন। মোট ৪ লাখ ২২ হাজার ৯৬০টি প্রবাসী ব্যালট দেশে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২ লাখ ৭০ হাজার ৩৮টি ব্যালট গ্রহণ করা হয়েছে। এসব ভোট মূল গণনার সঙ্গে যুক্ত হবে।

নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে নির্বাচনে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ মোট ৫১টি দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। মোট প্রার্থী সংখ্যা ২ হাজার ২৯ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৪ জন। নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮০ জন। ১১৯টি নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিতে ঢাকায় পৌঁছেছেন ৩৯৪ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক। দেশি পর্যবেক্ষক রয়েছেন ৫৫ হাজারের বেশি। কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সবাই দায়িত্ব পালন করবেন।

ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রেই শুরু হবে গণনা। ফলাফল কেন্দ্রের নোটিশ বোর্ডে টানানো হবে এবং ধাপে ধাপে ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের আশা, ১৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ সম্ভব হবে।

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এটিই দেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার পর অনুষ্ঠিত এই ভোট ও গণভোট ঘিরে দেশজুড়ে কৌতূহল ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন চোখ ভোটারদের দিকে—নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে তারা কেমন রায় দেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশে রেকর্ড লড়াই, দল-প্রতীকের বন্যা

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের দুয়ার খুলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নিবন্ধন পদ্ধতি চালুর পর এবারই সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক দল, প্রতীক ও প্রার্থী নিয়ে ভোটযুদ্ধ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত তথ্য অনুযায়ী, ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে অংশ নিচ্ছে ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। স্বতন্ত্রসহ মোট প্রার্থী সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০২৮ জনে।

ইসি জানিয়েছে, ভোটাররা এবার ধানের শীষ, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলি, লাঙল, হাতপাখা, ট্রাকসহ মোট ১১৯টি প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে ‘হ্যাঁ’ কিংবা ‘না’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকছে, যা এবারের নির্বাচনে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

বর্তমানে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬০টি। তবে নিবন্ধন স্থগিত থাকায় আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া আরও আটটি নিবন্ধিত দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে ৫০টি দল। অংশগ্রহণের এই পরিসংখ্যান আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয় ২৮টি দল এবং ভোট হয়েছিল ৬৯টি প্রতীকে। সেই তুলনায় এবার অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ।

প্রার্থী বিন্যাসেও দেখা গেছে বড় দলগুলোর শক্ত অবস্থান। বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে ২৮৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ২২৪ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখায় ২৫৩ জন এবং জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকে ১৯২ জন প্রার্থী রয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকে ৯০ জন, সিপিবির কাস্তে প্রতীকে ৬৫ জন, বাসদের মই প্রতীকে ৩৯ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকে ৩৪ জন, জাতীয় নাগরিক পার্টির শাপলা কলিতে ৩২ জন, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ঈগলে ৩০ জন, গণফোরামের উদীয়মান সূর্যে ১৯ জন, গণসংহতি আন্দোলনের মাথালে ১৭ জন, এলডিপির ছাতায় ১২ জন এবং নাগরিক ঐক্যের কেটলিতে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত তালিকায় জোটের শরিক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের কয়েকজন প্রার্থীর নাম থাকায় বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। জাসদের পক্ষ থেকে নির্বাচন বর্জনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশের প্রথম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কোনো নির্বাচন ছিল ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক, আবার কোনোটি বর্জন ও বিতর্কে ঘেরা। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন মাত্র ১২ দিন স্থায়ী হয়েছিল। ২০০৮ সালের নবম নির্বাচন ছিল নিবন্ধন পদ্ধতির অধীনে প্রথম ভোট। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন বর্জন ও অংশগ্রহণ সংকটের কারণে ব্যাপক আলোচনায় আসে। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ছয় মাসের কিছু বেশি সময় স্থায়ী হয় এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সংসদ বিলুপ্ত হয়।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারপ্রধান পদত্যাগ করলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় পরিবর্তন আসে। রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। সেই পরিবর্তিত বাস্তবতায় আয়োজিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

বিশ্লেষকদের মতে, অংশগ্রহণকারী দল ও প্রতীকের সংখ্যায় রেকর্ড সৃষ্টি হলেও নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়, সেটিই হবে মূল প্রশ্ন। ভোটার উপস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা—সবকিছু মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক ধারার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ছাত্রদলে যোগ দিলেন ইকরামুল

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ক্যান্টনমেন্ট থানা পর্যায়ের পরিচিত মুখ ইকরামুল হাছান সাদ আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার ঢাকায় এক অনাড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে তিনি ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্যপদ গ্রহণ করেন। এ সময় যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পারভেজ মল্লিক তার হাতে ফুলের মালা তুলে দিয়ে সদস্যপদ প্রদান করেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ইকরামুল হাছান সাদ বলেন, ছাত্রদলের নেতৃত্ব, আদর্শ ও সাংগঠনিক কাঠামোর প্রতি আস্থা রেখেই তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তিনি ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন বলে জানান।

অনুষ্ঠানে ক্যান্টনমেন্ট থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তারা ইকরামুলকে শুভেচ্ছা জানান এবং আশা প্রকাশ করেন, তার যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদলের সংগঠনকে শক্তিশালী করতেই এমন নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ক্যান্টনমেন্ট থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় ও পরিচিত নেতার ছাত্রদলে যোগদান স্থানীয় ছাত্ররাজনীতিতে নতুন আলোচনা ও হিসাব-নিকাশ তৈরি করেছে।

স্থানীয় নেতাদের ভাষ্য, ইকরামুল হাছান সাদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের কাজ ছাত্রদলের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। নতুন এই রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আরও দৃঢ় অবস্থান নেবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন নেতাকর্মীরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম