ফ্লাইট বন্ধ, আমি কিভাবে গেলাম: হারুন

বরিশাল অফিস :: ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে দিয়ে দেশ ছাড়ার সময়ে সেনাবাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন দেশের আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা ডিআইজি হারুন অর রশীদ এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে তিনি দেশেই আছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি)’র সাবেক এই অতিরিক্ত কমিশনার।

তিনি বলেন, অনেকে নাকি লিখেছে আমি দেশ ছেড়ে চলে গেছি। কিন্তু গতকাল তো ফ্লাইট (বিমানবন্দর) বন্ধ ছিলো। আজকে সকাল থেকে ফ্লাইট চালু হয়েছে। তাহলে আমি কিভাবে গেলাম।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) মোবাইল ফোনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তিনি। এর আগে গতকাল রাতে তিনি আটক হওয়ার তথ্য ছড়িয়ে পড়েছে।

দেশ ছাড়ার প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকাল বিমানবন্দর বন্ধ ছিল। খুলেছে আজ। আমি আপনার সঙ্গে কথা বলছি। তাহলে আমি কীভাবে পালিয়েছি?

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ছয় সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে ১০ দিন ডিবি হেফাজতে রাখায় সমালোচিত হন হারুন। নানা সমালোচনার মুখে তাকে ডিবি থেকে সরিয়ে ডিএমপি সদর দফতরে বদলি করা হয়। ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মহা.আশরাফুজ্জামানকে। তিনি ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে লজিস্টিক, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন।

সমন্বয়কদের মধ্যে প্রথমে তিনজনকে ধরে নেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। এরপর বাকি তিনজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিবি হেফাজতে থাকা ছয় সমন্বয়ক গত রোববার (২৮ জুলাই) এক ভিডিও বার্তায় কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ওই দিনই ডিবি কার্যালয়ে ওই সমন্বয়কদের সঙ্গে এক টেবিলে বসে খাওয়ার বেশ কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন হারুন।

এ সব নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পাশাপাশি হাইকোর্টও উষ্মা প্রকাশ করেন। গত সোমবার একটি রিট আবেদনের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ ছয় সমন্বয়কের কাঁটাচামচ দিয়ে খাওয়ার প্রসঙ্গ তুললে হাইকোর্ট বলেন, ‘এগুলো করতে আপনাকে কে বলেছে? কেন করলেন এগুলো? জাতিকে নিয়ে মশকরা কইরেন না। যাকেই ধরে নেন, একটি খাবার টেবিলে বসিয়ে দেন।’

এ ছাড়া সম্প্রতি হারুন অর রশীদকে নিয়ে একটি ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে তার সহকর্মীদের মধ্যে বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়।

প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা পদত্যাগের পর সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন এখন কোথায় আছেন তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানা যায়, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর জানার পর শাহবাগে লোকজনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এর আগে সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন দিনভর পুলিশপ্রধানের সঙ্গেই ছিলেন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর পাওয়ার পর থেকে ওয়্যারলেসে তিনি কোনো নির্দেশনা দেননি। আজ মঙ্গলবার তিনি জানালেন- দেশেই আছেন।




উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ আটক

বরিশাল অফিস :: ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।




হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাট মারধরের প্রতিবাদে বরিশালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের পর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা, বাসা-বাড়িতে ভাঙচুর, হামলা ও লুটপাট এবং সাংবাদিক মারধরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশালের সমন্বয়করা। এ সময় তারা সুবিধাবাদী এসব দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে বিক্ষোভ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন সমন্বয়করা।

সমন্বয়ক মহিউদ্দিন বলেন, আমরা তো বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে বিজয় অর্জন করেছি। সুতরাং আর কোনো বৈষম্য হলে তা প্রতিহত করা হবে। আমাদের বিজয় অর্জনের পর যেসব খবর পাচ্ছি-এই সহিংসতার সঙ্গে ছাত্র সমাজ জড়িত নয়। সুবিধাভোগী-ফ্যাসিস্টদের দোসররা ইচ্ছা করে নৈরাজ্য তৈরি করছে। তাদের কারণে আমরা আমাদের বিজয়কে ম্লান হতে দেবো না।

তিনি বলেন, আমরা পুলিশকে সহায়তা করতে চাই। তাদের কাছে আমরা স্বেচ্ছাসেবক পাঠাবো যেন নির্ভয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে শুনেছি, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমি বলবো, গণমাধ্যম পাশে না থাকলে আমাদের আন্দোলনের এত দ্রুত বিজয় অর্জন সম্ভব হতো না। সুতরাং সকলের প্রতি আহ্বান রাখবো গণমাধ্যমের ভাইয়েদের পূর্ণ সহায়তা করে কাজ করতে দেওয়ার জন্য। সাংবাদিক ভাইয়েরা এখন স্বাধীন। তারাও সঠিক ঘটনা তুলে ধরতে পারবেন।

সমন্বয়ক লাবন্য রহমান বলেন, আমরা ছাত্র সমাজ লড়াই করে দেশটাকে অর্জন করেছি। ছাত্ররা যে হাতে কলম ধরেছি সে হাতে কখনোই অস্ত্র ধরবো না। সুবিধাভোগীরা সহিংসতা চালিয়ে ছাত্র সমাজকে যে দায়ভার দিতে চাচ্ছে তা আমরা মেনে নেবো না। শুরু থেকে আমাদের আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। ছাত্ররা কখনোই সহিংসতার পক্ষে ছিল না, কেননা রাষ্ট্রীয় সম্পদ আমাদেরও সম্পদ। এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের। যদি কেউ এগুলোর ওপর আঘাত আনে, তাহলে আমরা ছাত্ররা শক্ত হাতে তা দমন করবো।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষক ড. জাহাঙ্গীর কবির ও অন্যান্য কলেজের সমন্বয়ক উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, হাসিনা সরকারের পতনের খবর এলে বরিশালে রাস্তায় নেমে সোমবার বিজয় উল্লাস করে লাখ লাখ মানুষ। এ সময়ে কিছু দুর্বৃত্ত সার্কিট হাউজ, নগর ভবন, এ্যানেক্স ভবন, বরিশাল ক্লাব লিমিটেড ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন। এ ছাড়া সাদিক আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আমির হোসেন আমু, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম ও সাবেক মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহর বাসভবনে আগ্নিসংযোগ ও পুড়িয়ে দেয়। এ সময়ে এসব ভবনের আসবাবপত্র, এসি, ফ্যান, কম্পিউটার, টেবিল ঘড়ি, সোফা ও খাট লুট করে নিয়ে যেতে দেখা গেছে।




লালমোহনে বিএনপি-জামায়াতের উদ্যোগে শান্তি সমাবেশ

বরিশাল অফিস :: ভোলার লালমোহন উপজেলায় আওয়ামী লীগ সরকারের স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তি পেয়ে বিজয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে শান্তি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা বিএনপি এবং জামায়াতের উদ্যোগে পৌর শহরের চৌরাস্তার মোড়ে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তারা নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যেসব জুলুম, নির্যাতন, চাঁদাবাজী এবং জবরদখল হয়েছে তার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এজন্য সকল নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। আমাদের সংগ্রাম ছিল মুক্তির ও স্বৈরাচার নিপাতের। আমরা এখন তা পেয়েছি। নতুন এই স্বাধীনতা অর্জন করতে গিয়ে যারা নিহত হয়েছেন আমরা তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি।

সমাবেশে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সফিকুল ইসলাম বাবুল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল আজিজ শাহীন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শাহিনুল ইসলাম কবীর, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো: শহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুল হক, সেক্রেটারী মাওলানা মোহাম্মদ রুহুল আমিন এবং প্রচার সম্পাদক মাওলানা আজিম উদ্দিন, জেলা শিবিরের সভাপতি মো: জসিম উদ্দিনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।




মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া

বরিশাল অফিস :: সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের বৈঠকের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ও বিভিন্ন মামলায় আটকদের মুক্তি দেওয়া শুরু হয়েছে এবং এরইমধ্যে অনেকে মুক্তি পেয়েছে।




বরগুনায় নিহতদের স্মরণে ছাত্র-শিবিরের গায়েবানা জানাজা

বরিশাল অফিস :: চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতের স্মরণে গায়েবানা জানাজার নামাজ আদায় করেছেন বরগুনা জেলা ছাত্রশিবিরের নেতা কর্মীরা।

সোমবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরগুনা কেন্দ্রীয় সদরঘাট মসজিদের সামনে অবস্থান নেন।

এসময় আলোচনা ও সমাবেশ শেষে গায়েবানা জানাজা নামাজ পড়েন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ও সাধারণ মানুষ। জানাজায় অংশ নিয়ে নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন তারা। জামাতে ইমামতি করেন, পাথরঘাটা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ রাকিব, জানাজায় শতাধিক সাধারণ মুসল্লিরাও অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বরগুনা জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সুমন আবদুল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুর রহমান, ছাত্রশিবিরের শতাধিক সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

ছাত্র শিবিরের সভাপতি সুমন আবদুল্লাহ বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলন ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ওপর গুলি ছুড়েছে ও সাধারণ মানুষের উপর হামলা করেছে। এ সময় আমাদের হাজারো ভাই বোন শহীদ হয়েছে তাদের স্মরণে গায়েবানা জানাজা নামাজ পড়েছি। আল্লাহ সবাইকে জান্নাতবাসী করুক।




আমরা কোন দলের নয় – যেখানে অন্যয় সেখানেই প্রতিবাদ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: কুয়াকাটায় বৈষম্যবিরোধী ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ‘ছাত্র ও শিক্ষক শান্তি সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) ১১টায় পর্যটন হলিডে হোমস ও ইউথ ইনের হল রুমে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ও কুয়াকাটার সকল শ্রেণীপেশার মানুষ এতে আংশ নেয়।

এ সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইমরান বলেন, আমরা কোন দলের নয়, আমরা দেশের ছাত্র, যেখানে অন্যয় সেখানেই প্রতিবাদ, আমরা কোন রাজনৈতিক দলের ফায়দা নিতে আন্দোলন করিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক জিএম সবুজ বলেন, আমরা এই অরাজকতা ও সংহিতা করার জন্য রক্ত দেইনি। একটি মহল তারা ফায়দা নিচ্ছে। এটি মোটেই কাম্য নয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক খায়রুল ইসলাম সোহাগ বলেন, আমাদের অনেক ভাইয়ের জীবেনর বিনিময়ে আমরা স্বৈরাচারী সরকারের পতন করতে সক্ষম হয়েছি। তাই আমরা সেই ভাইদের স্মরণ করছি।

অন্য সমন্বয়ক জিনিয়া গাজী বলেন, দেশ কারো বাপের না, কারো স্বামীর না। আপনারা বিজয়ের নামে যা করতেছেন এটি আমরা চাই না। আমরা চাই শান্তি।

কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ, সিএম সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জসিম উদ্দিন বাবুল, প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক, মো. খলিলুর রহমান, (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক, বঙ্গবন্ধু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের, সাইদুর রহমান সোহেল, প্রধান শিক্ষক, আবু হানিফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলহাজ্ব মাঈনুল ইসলাম মন্নান, সহকারী শিক্ষক, জাহিরুল ইসলাম মিরন, প্রভাষক।

অনুষ্ঠানের নিহতদের স্বরনে এক মিনিট নিরবতা শেষে, দোয়া ও মিষ্টি বিতরন করা হয়।




ভোলায় লাল পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে চলে জীবিকা

বরিশাল অফিস :: বর্ষা ঋতুতে শৌখিন মাছ শিকারিরা বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করেন। মাছ শিকারের জন্য তখন তারা বিভিন্ন মসলা ও বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে তৈরি করে থাকেন টোস্ট। যা বড়শির মাথায় দিয়ে মাছ শিকারের জন্য পুকুর, নদী, বড় খালে ফেলেন। এদের মধ্যে অন্যতম টোক হলো লাল পিঁপড়ার ডিম। এখানকার শৌখিন মাছ শিকারি মনিরুল ইসলাম জানান, লাল পিঁপড়ার ডিম দিয়ে তৈরি টোক পানির নিচের মাছের খুব পছন্দ। এজন্য আমরা অন্যান্য উপকরনের সঙ্গে লাল পিঁপড়ার ডিম দিয়ে টোক তৈরি করে থাকি।

ভোলার লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আনিছুল হক মিয়া বাড়ি সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করেন ৬০ বছরের বৃদ্ধ মো. আলী আজগর। তিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। বিগত প্রায় ৩০ বছর ধরে বর্ষার মৌসুমে গাছের ডালে থাকা লাল পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করছেন বৃদ্ধ আলী আজগর।

তিনি জানান, দেশে বেশ কিছু প্রজাতির পিঁপড়া রয়েছে। যার মধ্যে একটি বড় লাল পিঁপড়া। এ পিঁপড়া বন-জঙ্গলের উঁচু গাছের ডালে পাতা দিয়ে গোলাকার বাসা বানায়। ওইসব বাসা গ্রাম-গঞ্জের মানুষের ভাষায় লাল পিঁপড়ার ‘ঢোল’ নামে পরিচিত। লাল পিঁপড়া তাদের সংখ্যা অনুপাতে ছোট-বড় বাসা বা ‘ঢোল’ তৈরি করে। এ ধরনের বাসা খুবই মজবুত এবং পানি প্রতিরোধক। পিঁপড়ার ওই ঢোল থেকে ডিম সংগ্রহ করেন অনেকেই। যার দামও বেশ ভালো।

বৃদ্ধ আলী আজগর আরও জানান, প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হয়ে দুপুরের পর আবার বাসায় ফিরি। এ সময়টুকু হেঁটে হেঁটেই ঘুরে বেড়াই উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে। লম্বা বাঁশের মাথায় রশি দিয়ে টুকরি ঝুলিয়ে সংগ্রহ করি গাছের ডালে থাকা বড় লাল পিঁপড়ার বাসা থেকে ডিম। বর্ষার তিন থেকে চার মাসই কেবল এই ডিম সংগ্রহ করা যায়। কারণ তখন লাল পিঁপড়ার অনেক বাসা পাওয়া যায়। এই সময় ভাগ্য ভালো থাকলে কখনো একদিনেই এক কেজি ডিম সংগ্রহ করতে পারি।

আবার কখনো দুই থেকে তিনদিন সময় লেগে যায় এক কেজি ডিম সংগ্রহ করতে। এসব ডিম মাছ শিকারিদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করি। প্রতি কেজি ডিম ১২শ’ টাকায় বিক্রি করা যায়। বড় এই লাল পিঁপড়ার ডিম বিক্রি করে গড়ে প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকার মতো আয় করতে পারি। মাছ শিকারিরা মোবাইলে যোগাযোগ করে আমার বাসায় গিয়ে ডিম কিনে নেন।

বৃদ্ধ আলী আজগর জানান, আমার দুই মেয়ে এবং এক ছেলে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছি। তারা শ্বশুরবাড়িতেই থাকে। আর ছেলে বিয়ে করে ভিন্ন থাকে। এখন বাসায় আমি আর আমার স্ত্রীই আছি। আমাদের সম্পত্তি বলতে তেমন কিছুই নেই। যার জন্য দেড় হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলে একটি টিনশেড বাসায় থাকি। সংসার চালাতে স্ত্রীও মানুষের বাসায় কাজ করেন। বর্ষার মৌসুমে আমি পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করলেও অন্য সময়টাতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করি। বয়স হয়েছে। কাজও এখন আর আগের মতো করতে পারি না। তাই আয়ও দিন দিন কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, মানুষের বাসায় আর কতদিন থাকব। প্রধানমন্ত্রী আমাদের মতো অসহায়দের ঘর দিচ্ছেন। ওই ঘর পেতে কয়েকবার আবেদন করেছি, কাগজপত্রও দিয়েছি। তবে এখনো ঘর পাইনি। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটি ঘর পেলে আমাদের জন্য অনেক ভালো হতো। এ ছাড়া অসহায়দের জন্য যে চালের বরাদ্দ রয়েছে সেই চাল পেলে আর তেমন চিন্তা থাকত না। স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলে তাহলে একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।

তাই আমাকে প্রধানমন্ত্রীর একটি উপহারের ঘর এবং চালের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ওই ব্যক্তি আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করলে তাকে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর প্রদানের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। এ ছাড়া তাকে চাল বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখব।




আমির হোসেন আমুর বাসভবন থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঝালকাঠির বাসভবন থেকে বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় ৫ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সোমবার (৫ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডের আমির হোসেন আমুর বাসভবনে আগুন নেভাতে এসে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাগেজ ভর্তি এই টাকা দেখতে পান। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানালে তারা এসে লাগেজ ভর্তি এই টাকা উদ্ধার করেন। শেখ হাসিনা সোমবার দুপুরে পদত্যাগ করার পর বিকালে বিক্ষুব্ধ জনতা আমির হোসেন আমু ঝালকাঠির বাসভবনে ভাঙচুর চালায় এবং অগ্নিসংযোগ করে। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা কয়েক দফা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে নিয়ন্ত্রণে আনে।

কিন্তু রাত ১২টার দিকে স্থানীয়রা ওই ভবনের তিন তলায় আবার আগুন দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা সেখানে এসে আগুন নেভানোর সময় পানি নিক্ষেপ করলে কয়েকটি পোড়া লাগেজ থেকে টাকার বান্ডিল বের হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকে অবহিত করেন। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা এসে ওই টাকার লাগেজগুলো উদ্ধার করেন। এরমধ্যে থেকে তারা গণনা করে একটি লাগেজে অক্ষত এক কোটি এবং অপর লাগেজগুলো থেকে গণনা করে আংশিক পোড়া দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এছাড়া, ডলার, ইউরোসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় এক কোটি টাকা মূল্যমানের মুদ্রা হবে বলেও জানায় পুলিশ।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের ষ্টেশন মাস্টার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ভবনটির তৃতীয় তলার কক্ষে অনেকগুলো কম্বলের লাগা আগুন নেভানোর সময় কিছু টাকার বান্ডিল বেড়িয়ে আসে। এর সঙ্গে কয়েকটি লাগেজও পাওয়া যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানাই। সেনাবাহিনী ও পুলিশ এসে টাকাগুলো উদ্ধার করে।




পটুয়াখালীতে আনন্দ মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরে কারফিউ ভেঙ্গে আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন।

সোমবার (৫ আগস্ট) বিকেলে পটুয়াখালী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

বিক্ষুব্ধরা সদর রোডস্থ আওয়ামী লীগ অফিস ভাংচুর করে অফিসের সামনে আগুন দেয়।