সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ আক্রান্তদের রক্ষার আহ্বান সুজনের

বরিশাল অফিস :: সহিংসতা, লুটপাট বা ধ্বংসযজ্ঞ না করা, নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়া এবং ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্তদের রক্ষা করা ও তাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

একইসঙ্গে প্রাণহানিসহ রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত সম্পদ ধ্বংসের যে কোনো উদ্যোগ রুখে দাঁড়ানো ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন সুজন নেতৃবৃন্দ।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সুজনের কেন্দ্রীয় সচিবালয় ‘বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুজন-এর আহ্বান’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার, সুজন নির্বাহী সদস্য ড. শাহদীন মালিক ও অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, সুজন ঢাকা মহানগর কমিটির সম্পাদক জুবাইরুল হক নাহিদ প্রমুখ। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, গতকাল আমাদের একটি অভূতপূর্ব, অভাবনীয় ও অকল্পনীয় বিজয় অর্জিত হয়েছে। অনেকের মতে এটা আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। এ প্রেক্ষিতে মানুষের উচ্ছাস প্রকাশ করা স্বাভাবিক। কারণ বিগত ১৫ বছর আমরা অনেকটা কারাগারের মধ্যে ছিলাম। এ সময় আমরা আমাদের বাক স্বাধীনতা ও অন্যান্য নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছিলাম। আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে আমরা এই বিজয় অর্জন করেছি। আমরা সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আমাদের তরুণরা হলো আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের যোগ্য উত্তরসুরী। যারা প্রাণ বিজর্সন দিয়েছে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ও তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি। তারা আমাদের জাতীয় বীর।

তিনি বলেন, এই বিজয়ের মাধ্যমে আমাদের সামনে একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, রাষ্ট্রকে নতুন করে মেরামতের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, উন্নত ও বাসযোগ্য রাষ্ট্র নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি দায়িত্মশীললতার পরিচয় দিতে না পারি, তাহলে এই সম্ভাবনা রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে। আমরা লক্ষ করেছি, বিজয় উদ্যাপনের নামে গতকাল এমন কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে, যা কাক্সিক্ষত ছিল না। আমরা হামলা ও ভাঙচুরের নিন্দা জানাই। আমরা এসব কর্মকাÐ থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদেরকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি করতে হবে, যাতে কর্তৃত্ববাদী শাসন ফিরে না আসে এবং একটি গণতান্ত্রিক ও সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, যে কোনো ধরনের সহিংসতা ও ধ্বংসধজ্ঞ কারও কাম্য নয়। গতকাল যে ধ্বংসধজ্ঞ হয়েছে তা আমি সমর্থন করি না। কিন্তু আমি মনে করি অন্য দেশের তুলনায় এখানে খুব বেশি কিছু হয়নি। আর এটা সম্ভব হয়েছে ছাত্রদের দায়িত্বশীল আচরণের কারণে। আজকে ছাত্ররা আজ রাস্তা পরিষ্কার করছে, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করছে। অনেকে লুট করা মাল ফেরত দিচ্ছে। তাই আমি আশাবাদী হতে চাই।

তিনি বলেন, আমাদের বিভিন্ন রকম দুর্বলতা ছিল। আমাদের রাজনৈতিক দলের মধ্যে দায়িত্বশীলতা নেই, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকে হালুয়া-রুটির লোভে বিবেক বিসর্জন দিয়েছে, নাগরিক সমাজেরও অনেক সীমাবদ্ধতা ছিল, সাংবাদিকদেরও অনেক লজ্জাজনক পক্ষপাতদুষ্টুতা ছিল। এসব কারণেই আমাদের ওপর কর্তৃত্ববাদী শাসন গেড়ে বসেছিল। তাই ভবিষ্যতে যাতে আমাদের দেশে আর স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ফিরে না আসে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

নতুন সরকারের ব্যাপারে ড. শাহদীন মালিক বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিশ্চয়ই সবার সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্র মেরামতের চেষ্টা করবেন। আমাদের মনে রাখতে হবে এটা রকেট সায়েন্স নয়। কিছু সংস্কার স্বল্পমেয়াদে করা যাবে, কিছু সংস্কার করতে সময় লাগবে। কিন্তু আমাদেরকে আশাবাদী হতে হবে।

অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ক্ষমতার একটি বৈশিষ্ট্য হলো কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা। সেজন্য নজরদারিত্বের কাঠামো ‘চেকস অ্যান্ড ব্যালেন্স’ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, ব্যক্তিগত শাসনের পরিবর্তে জবাবদিহিতা সৃষ্টি করতে হবে। ব্যক্তি হাসিনার শাসনের হয়তো অবসান হয়েছে, কিন্তু কর্তৃত্ববাদী শাসন যাতে আর ফিরে না আসে, সেজন্য সরকারকে প্রতিনিয়ত পাহারা দিতে হবে, নজরদারিত্বের আওতায় আনতে হবে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে দিলীপ কুমার সরকার বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয়েছে। এজন্য আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ জনগণকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। গতকালই সেনাবাহিনী প্রধান কয়েকটি রাজনৈতিক দল এবং কয়েকজন নাগরিকের সঙ্গে বসার পর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া বক্তব্যে একটি অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠনের কথা বলেছেন। আমরা তার অপেক্ষায় রয়েছি।

তিনি বলেন, সরকার পতনের পর সারাদেশে ব্যাপক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় সুজনের পক্ষ থেকে আমরা দেশবাসীর প্রতি কিছু আহ্বান জানাচ্ছি: ১. কারো বিজয় উদ্যাপনের ভাষা যেন সহিংসতা, লুটপাট বা ধ্বংসযজ্ঞ না হয়; কেউ যেন নিজের হাতে আইন তুলে না নেয়; ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ দুর্বৃত্তদের দ্বারা আক্রান্তদের রক্ষা করুন ও তাঁদের পাশে দাঁড়ান; প্রাণহানিসহ রাষ্ট্রীয় বা ব্যক্তিগত সম্পদ ধ্বংসের যে কোনো উদ্যোগ রুখে দাঁড়ান; মন্দিরসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করুন।

দিলীপ কুমার সরকার বলেন, আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও সেনা প্রধানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যে কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে করুন। আমরা মনে করি, একটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণসহ রাষ্ট্র মেরামতের একটি সুযোগ এসেছে। পরবর্তীতে যে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হবে, সেই সরকারকে এব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাঁদেরকে মনে রাখতে হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, শোষণ ও বৈষম্যহীন, একটি মানবিক ও স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। স্বাধীনতার এই চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।




বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন সমন্বয়করা

বরিশাল অফিস :: ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর নতুন সরকারের রূপরেখা রাষ্ট্রপতিকে জানানোর জন্য বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেল ৬টায় সেনাবাহিনীর মিনি বাসে করে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন তারা।

তবে গাড়িতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেছে। গাড়ির জানালা বন্ধ থাকায় আন্দোলনের কোন কোন সমন্বয়ক ছিলেন তা বোঝা যায়নি। এসময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক আরিফ সোহেলকে দেখা যায়।




নিরাপত্তা বজায় রেখে পুলিশকে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ আইজিপির

বরিশাল অফিস :: আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, সকল পুলিশ সদস্যকে দৃঢ় মনোবল নিয়ে ধৈর্য সহকারে নিজের নিরাপত্তা বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের অনুরোধ জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেলে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ অনুরোধ জানান।

আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, যেসব পুলিশ সদস্য আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের সকল প্রকার চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও পুলিশের সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির যৌক্তিক সমাধান কল্পে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদেরকে পুলিশের স্থাপনাগুলোতে যাতে কোনো ধরনের আক্রমণের ঘটনা সংগঠিত না হয়, সেজন্য সকলকে আহ্বান জানানোর জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

আইজিপি আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, পুলিশের স্থাপনা সমূহের নিরাপত্তা ও পুলিশের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে যাচ্ছে । আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে সকলের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।’

এ সময় জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের যেসব সদস্য জীবন দিয়েছেন তাদের আত্বার মাগফিরাত কামনা করেন পুলিশ প্রধান।

এদিকে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সোহেল রানা গণমাধ্যমের কাছে পাঠানো এক বিবৃতি বলেন, পুলিশের পুরো বাহিনী নয় বরং নেতৃত্বে সমস্যা। যারা দোষ করেছেন, তারা শাস্তি পাবেন। দয়া করে নিরীহদের আক্রমণ করবেন না।




বিমানবন্দরে আটকে গেলেন হাছান মাহমুদ

বরিশাল অফিস :: সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

এর আগে, ভারতের দিল্লিতে পালানোর সময় সাবেক ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলককেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গত এক সপ্তাহ ধরেই সরকারের অনেক প্রভাবশালী মন্ত্রী-এমপি গা-ঢাকা দিতে শুরু করেন। এর মধ্যে অনেকে সুযোগ বুঝে দেশ ছাড়তে পারলেও আটকা পড়েন অনেক মন্ত্রী-এমপিরা। তারা দেশে থাকলেও কোথায় আছেন খোঁজ পাচ্ছেন না কেউ। বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে মোবাইল ফোনও।

মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার হঠাৎ পদত্যাগ ও পালিয়ে ভারত যাওয়ার পর থেকেই বেকায়দায় পড়েন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এসব মন্ত্রী-এমপিরা। তবে এর আগে যারা পরিস্থতি আঁচ করতে পেরেছিলেন তারা শনিবার থেকেই বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাতে শুরু করেন। এসময় অনেক মন্ত্রী-এমপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও খোঁজ মেলেনি কারো।

তবে শনিবার বিকেল থেকেই গা ঢাকা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এদিন আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শেষবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে দেশ ত্যাগ করেন তিনি। আরেকটি সূত্র জানায় বর্তমানে নয়াদিল্লিতে আছেন দলটির প্রভাবশালী এই নেতা।

আলোচিত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে সোমবার সকালের পরে আর খোঁজ পাওয়া যায়নি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের। এদিন সাবেক এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ধানমন্ডির বাসভবন ভাঙচুর হলেও তিনি ঠিক কোথায় ছিলেন জানা যায়নি।

এর আগে, রোববার আওয়ামী লীগ সরকারের বেসরকারি শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, অর্থমন্ত্রী মাহমুদ আলী, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বিমানযোগে দেশ ছাড়েন। তবে তারা কে কোন দেশে গেছেন তা জানা যায়নি।




পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিল বরিশালের জিহাদ, গুলিতে গেল প্রাণ

বরিশাল অফিস :: তিন ভাই বোনের মধ্যে সবার ছোট জিহাদুল ইসলাম। গত ২০ জুলাই থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছিলেন। গতকাল সোমবারও সকালে সরকার পতনের এক দফা দাবিতেও মিছিল করেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার দিকে যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি।

জিহাদুল ইসলাম বরিশালের মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণ কাজিরচর গ্রামের মোশাররফ হোসেন পাইকের ছেলে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে দক্ষিণ কাজিরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। পরিবারের ছোট সন্তানকে হারানোয় জিহাদের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।

নিহতের বাবা মোশাররফ হোসেন পাইক আজকের পত্রিকাকে জানান, তাঁর ছেলে জিহাদ ঢাকার কাজলার কুতুবখালী উচ্চবিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে ২০ জুলাই থেকে মিছিল-সমাবেশে যোগ দেয়। গতকাল সোমবার সরকার পতনের পর আনন্দ মিছিলও করেছে। যাত্রাবাড়ী থানায় ‘ভারতীয় পুলিশ’ আছে এমন গুজবে সন্ধ্যার পর কিছু আন্দোলনকারী থানা ঘেরাও করতে যায়। ওই সময় পুলিশের গুলিতে আহত হয় জিহাদ। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের মামা মো. রফিকুল ইসলাম ঢালী বলেন, ছোট থেকে অনেকটা প্রতিবাদী ছিল জিহাদ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে বন্ধুদের সঙ্গে যোগ দেয় সে। বাবা-মায়ের নিষেধ সত্ত্বেও মিছিল ও সমাবেশে যোগ দিয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। সর্বশেষ পুলিশের গুলিতে মারা যায়।

নিহতের বড় ভাই রিয়াদ হোসেন জানান, দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল জিহাদ। পরিবারের ছোট সন্তান হওয়ায় সবার অনেক আদরের ছিল সে। পড়ালেখা করে পুলিশ অফিসার হতে চেয়েছিল জিহাদ। আর সেই পুলিশের গুলিতেই প্রাণ গেল। তাকে হারিয়ে মা পাগলের মতো বিলোপ করছেন। বাবাও বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ কাজিরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জিহাদের জানাজায় মানুষের ঢল নামে। এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুস ছত্তার খান, সদস্যসচিব কাজী কামাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মুনিরুজ্জামানসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 




ভারতে ঢুকতে পারেনি সাংবাদিক শ্যামল দত্ত

বরিশাল অফিস :: স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া ইমিগ্রেশন থেকে ফেরত দেওয়া হয়েছে দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্তকে।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) বিকেলে তাকে আখাউড়া ইমিগ্রেশনে আটকে দেওয়া হয়।

ইমিগ্রেশন সূত্র জানায়, বিকেল ৩টায় আখাউড়া ইমিগ্রেশন দিয়ে স্ত্রী-সন্তানসহ ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন সাংবাদিক শ্যামল দত্ত। তবে দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে ফেরত দেন। এসময় ভারত যেতে ইমিগ্রেশন স্টাফ ও কর্মকর্তাদের অনুনয় করেন তিনি।

আখাউড়া স্থলবন্দর ইমিগ্রেশনের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক খায়রুল আলম জানান, ইমিগ্রেশন থেকে তিনি ফিরে গেছেন।




ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈকত আটক

বরিশাল অফিস ::

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতকে আটক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।




আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে পিরোজপুর বিএনপির দোয়া মোনাজাত

বরিশাল অফিস ::বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের স্মরনে পিরোজপুরে দোয়া মোনাজাত ও সমাবেশ করেছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

এ উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার (০৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় শহরের পোস্টঅফিস রোডে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপি আহবায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন, সদস্য সচিব গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু, এডভোকেট আবুল কালাম আকন, যুগ্ম আহবায়ক রিয়াজ উদ্দিন শেখ রানা, সাইদুল ইসলাম কিসমত।

পরে এ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয় মোনাজাত করা হয়।




দেড় যুগ পর কাঠালিয়ায় জামায়াতের বিজয় মিছিল

বরিশাল অফিস :: দেড় যুগ পর ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় বিজয় মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।

মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলার বাসস্টান্ড থেকে শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাসস্টান্ডে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।

বিজয় মিছিলে সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমির মাস্টার মো: মজিবুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মো: সাঈদুর রহমান, সাবেক সেক্রেটারি ও ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন, আমুয়া ইউনিয়ন আমির মো: আবদুর রহিম, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো: মেহেদী হাসান প্রমুখ।

সভায় বক্তরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দীর্ঘ দেড় যুগ আওয়ামী সন্ত্রার্সীদের দুঃশাসনে ছিলাম। জালিম সরকার আমাদের দলের শীর্ষ নেতাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়েছে।




ভোলায় হেফাজত ইসলামের দোয়া মোনাজাত ও আনন্দ মিছিল

বরিশাল অফিস :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবিতে শিক্ষার্থী জনতার তোপের মুখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগের খবরে ভোলায় বিজয় মিছিল করেছে হেফাজত ইসলাম ভোলা জেলা শাখা। এর আগে নিহত ছাত্র জনতার রুহের মাগফেরাত কামনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য ভোলার খলিফাপট্টি জামে মসজিদ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে খলিফা পট্টি মসজিদ এর সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান শহর প্রদিক্ষণ করে।
বিজয় মিছিল থেকে শেখ হাসিনার পালানো নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে মুখর করে তোলে পরিবেশ।

আনন্দ উল্লাসে মিছিলে জেলা ও উপজেলার সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।