দুপুরের মধ্যে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের নয়টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিমি বেগে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সঙ্গে অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায়; রংপুর, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।



ফেনীতে নিজাম হাজারীর পোড়াবাড়ি দেখতে মানুষের ভিড়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পাশের জেলাসহ ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠানো হয় পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের করলা। উচ্চ মূল্যের ফসল উৎপাদন করে নজর কেড়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারার কৃষকরা।

স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট (এসএসিপি) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কলাপাড়ার আওতায় ২৫ কৃষক গ্রুপ করে পাঁচ একর জমিতে করলা চাষ করে এবার বাম্পার ফলন ফলিয়েছেন।

চাষাবাদের সময় থেকে ফসল উৎপাদন পর্যন্ত পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে প্রায় ২০ লাখ টাকা আয়ের আশা কৃষকদের। তবে বর্তমানে প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতির মুখে এসব কৃষক। কৃষকদের মাথায় হাত। লাভের সম্ভবনা মুহূর্তেই হারিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শুধু গ্রুপ নয়, আধুনিক চাষাবাদ দেখে ইউনিয়নের অনেক কৃষক এখন করলা চাষ করে লাভবান। যেদিকে চোখ যাবে মাঠভর্তি শুধু করলা আর করলা। প্রবল বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে এসব করলার ক্ষেত। আরও কয়েক দিন এমন ধারাবাহিকভাবে বৃষ্টি থাকলে পুরো ক্ষেতে পচন ধরার সম্ভাবনা। ফলে লাখ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে এখানকার কৃষক।

কৃষকরা বলেন, যদি পানি নামার ব্যবস্থা ভালো থাকত তাহলে হয়তো ক্ষতির পরিমাণ কমে আসত।

কৃষক আলতাফ হোসেন গাজী জানান, বাংলাদেশের মধ্যে আমরা নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা এসএসিপির প্রশিক্ষণ পেয়ে সবচেয়ে বেশি করলা উৎপাদন করতে পেরেছি। কিন্তু প্রবল বৃষ্টিতে আমাদের উৎপাদিত করলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

কৃষক সুলতান গাজী জানান, আগে আমরা সনাতন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করতাম। এখন আমরা কৃষি অফিস থেকে এসএসিপির প্রশিক্ষণ পেয়ে আধুনিক পদ্ধতিতে করলা চাষাবাদ করে ব্যাপক ফলন পেয়েছি। বর্তমানে দুশ্চিন্তার কারণ হচ্ছে প্রবল বৃষ্টি। বৃষ্টিতে গাছ পচন শুরু হয়েছে।

আড়তদার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাখিমারা থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জায়গায় চারশ থেকে পাঁচশ মণ করলা পাঠানো হয়। আজ থেকে কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টিতে উৎপাদন কমছে, পাশাপাশি গাছ মরে যাচ্ছে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আরাফাত হোসেন জানান, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষকরা প্রচুর পরিমাণ উচ্চ মূল্যের ফসল করলা উৎপাদন করেছে। তারা স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এ করলা পাঠাচ্ছে। এসএসিপিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকদের আমাদের অফিসে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আধুনিক পদ্ধতিতে রেইজড বেড করে কীভাবে করলা চাষ করতে হয় তা আমরা কৃষকদের হাতে-কলমে শিখিয়েছি। আর এ প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে কৃষকরা আজ লাভবান। এ সময়টায় বাধ সাধে প্রবল বৃষ্টি। আজ টানা বৃষ্টিতে কৃষকরা ক্ষতির মুখে।

 

বরিশাল অফিস :: ফেনী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর রহস্যময় ও আলোচিত বাড়ি ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে কৌতূহল এখনও মেটেনি। কী আছে সে বাড়িতে, তা দেখতেই মানুষের যত আগ্রহ। পার্কের ন্যায় শত শত মানুষকে সে বাড়িতে যেতে দেখা গেছে।

সোমবার (৫ আগস্ট) শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে ধ্বংসস্তূপে পরিণত বাড়িটি এখন সবার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফেনীর বিভিন্ন স্থান থেকে নারী, পুরুষ, শিশুসহ সমাজের নানা পর্যায়ের মানুষ ভিড় করছেন বাড়িটি ঘুরে দেখতে। সকাল থেকে বিকাল অবধি দলে দলে লোক প্রবেশ করছে লমী হাজারী বাড়ির কথিত ৫শ কোটি টাকা ব্যয়ে নর্মিত সেই প্রাসাদে।

নিজাম হাজারীর বাড়ি
সোমবার (৫ আগস্ট) বেলা ৩টার দিকে বাড়িটি ঘিরে ফেলে বিক্ষুব্ধ কয়েক হাজার ছাত্র-জনতা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দুপুর পর্যন্ত ওই বাসভবনটিতে অবস্থান করছিলেন নিজাম হাজারী। হামলার পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ নেই। একই সাথে খোঁজ মিলছে না অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদেরও।

সরেজমিনে বাড়িটি ঘুরে দেখা গেছে, পুড়ে যাওয়া বাগানবাড়িতে চলছে লুটপাট। প্রাসাদ এবং উন্মুক্ত স্থানের কোনো কিছু আর অবশিষ্ট নেই। বাড়ির ভেতরে মেঝের টাইলসও খুলে নিয়ে গেছে অনেকে। আগুনে পুড়ে প্রাসাদটির প্রতিটি ফ্লোর ভস্মীভূত। এখন এই প্রাসাদ ঘিরে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। হাজারো মানুষের ভিড়ে কেউ দেখছে পুড়ে যাওয়া বাড়ির নানা স্থান। কেউবা উপভোগ করছেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নারীরা যাওয়ার সময় নিয়ে যাচ্ছেন গাছ ও ফুলের চারা। একদল ব্যস্ত মাছ ধরতে আর কেউবা লুট করছে স্থাপনার নানা অংশের মূল্যবান জিনিসপত্র।

এর আগে শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবরে নিজাম হাজারীর বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে উত্তেজিত জনতা। তখন সকলকে বাড়ির সকল মূল্যবান জিনিসপত্র নিতে দেখা যায়। কেউ নিয়ে গেছেন গরু, কেউ দামি দামি আসবাবপত্র, কেউবা ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনের সকল জিনিস নিয়ে গেছেন।

একরামুল হক নামে এক দর্শনার্থী বলেন, কী নেই এ বাড়িতে। একজন সংসদ সদস্য জেলা পর্যায়ে গণভবন বানিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস। শতকোটি টাকা দিয়ে বানিয়ে নিজেই থাকতে পারলেন না। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে পড়ে আছে।

মনসুর আলী নামে একজন বলেন, এ বাড়িটি ঘিরে এখন সবার আগ্রহ। বাড়িটি শুনেছি শত কোটি টাকা দিয়ে বানিয়েছে। ভেতরে কী আছে দেখার জন্য এসেছি। এসে আশ্চর্য হয়েছি, ভেতরে প্রবেশ করলে মনে হয় অন্যদেশে চলে আসছি।




রাশিয়ায় প্রবেশ করে ইউক্রেন সেনাদের তীব্র লড়াই

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তীব্র লড়াই হয়েছে। এ ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ভ্লাদিমির পুতিনের দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলার একটি।

জানা গেছে, বুধবার (৭ আগস্ট) আকস্মিকভাবে বিপুল ইউক্রেনের সেনা রাশিয়ায় ঢুকে পড়ে। তাদের সঙ্গে রয়েছে কিয়েভপন্থি যোদ্ধাদের একটি দলও। তবে রুশ সেনারা তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে। চলে ভয়ংকর যুদ্ধ।

যে অঞ্চলটিতে এ লড়াই হয়েছে তা কুরস্ক নামে পরিচিত। এর আগেও অঞ্চলটিতে ইউক্রেনের সেনারা অনুপ্রবেশ করে রুশ ঘাঁটিতে আক্রমণ করেছিল।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্স জানায়, অঞ্চলটি প্রাকৃতিক গ্যাস ট্রান্সমিশন হাব। এটি রক্ষা করা রাশিয়ার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে ইউক্রেনীয়রা সফল হলে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির পড়বে। শত্রুপক্ষ বিষয়টি জেনেই পরিকল্পিত হামলা করছে। তবে রাশিয়ার বাহিনী এ হামলা ঠেকিয়ে দিয়েছে।

পুতিন-কিমের শক্তিবৃদ্ধির নেপথ্যে কে?
এদিকে ইউক্রেন পুরোপুরি সফল না হলেও ব্যাপক ধ্বংস চালিয়েছে। তারা রুশদের সেনাঘাঁটির একটি অংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তবে রুশ নিহত সেনার তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 




দুপুরে দেশে পৌঁছাবেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে দেশে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে।

গ্রামীণ টেলিকমের এমডি নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ফ্রান্স থেকে স্যার (ড. মুহাম্মদ ইউনূস) রওনা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন।

চিকিৎসাজনিত কারণে বর্তমানে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অবস্থান করছেন নোবেলজয়ী এ অর্থনীতিবিদ।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন শেখ হাসিনা। এরপরই নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি ও তিন বাহিনীর সাথে আলোচনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়। রাষ্ট্রপতি তাদের প্রস্তাবের সাথে একমত পোষণ করেন।




লুটপাট-ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে: সেনাপ্রধান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে যারা লুটপাটসহ ধ্বংসাত্মক কাজে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বুধবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা জানান।

সেনাপ্রধান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনী অন্য বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। যারা এই সমস্ত (লুটপাট, ধ্বংসাত্মক) কাজে জড়িয়েছে তাদের আমরা আইনের আওতায় আনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।

যথাসাধ্য চেষ্টার পরও কিছু কিছু ঘটনা ঘটার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন সেনাবাহিনী প্রধান।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু কিছু ঘটনা ঘটেছে, এটা ঘটার পেছনে কিছু কারণও আছে।

পরিস্থিতি এখন অনেক শান্ত হয়ে আসছে।
খুব শিগগিরই পুলিশ তাদের দায়িত্বপালন শুরু করবে আশা প্রকাশ করে সেনাপ্রধান বলেন, পুলিশ পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

একজন পুলিশপ্রধান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে পুলিশের মনোবল আবার ফেরত আসবে, পেশাদার বাহিনী হিসেবে পুলিশ ভালোভাবে আবার তাদের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হবে।

পুলিশের শূন্যতা প্রসঙ্গে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, পুলিশ কিন্তু ডিউটিতে নেই। পুলিশের মতো একটা ফোর্সের অনুপস্থিতিতে যে শূন্যতা (ভয়েড) সৃষ্টি হয়েছে এই শূন্যতা সেনাবাহিনীর সক্ষমতা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব না। তারপরও আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী সর্বদা জনগণের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। আমরা সবার সঙ্গে মিলে কাজ করে যাবো। সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে যেতে পারবো বলে আমি বিশ্বাস রাখি।

সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, আগামীকাল (অন্তবর্তীকালীন সরকার) শপথের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। একটা প্রস্তাব ছিল বিকেলে করার। বিকেলে খুব টাইট হয়ে যেতে পারে। উনি (অন্তবর্তী সরকারের প্রস্তাবিত প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূস) ২টা ১০ এর দিকে এখানে (ঢাকায়) আসবেন। আমরা হয়তো তাহলে রাতের বেলা, রাত ৮টার দিকে করতে পারি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে কতজন উপদেষ্টা থাকবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান জানান, তার ধারণা আপাতত ১৫ জন হতে পারে।

গুজব-রটনায় কান না দেওয়ার আহ্বান
গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, অনেক ধরনের গুজব চলছে। জনগণকে আহ্বান করবো কোনো গুজবে যেন কান না দেয়। আমরা একটা চমৎকার পরিবেশে, সুন্দরভাবে সবাই মিলে কাজ করে যাচ্ছি। আমার সেনাবাহিনী নিয়ে বিভিন্ন সেনানিবাসের মধ্যে বিভিন্ন গুজব রটনা করা হচ্ছে, এগুলোতে আপনারা কান দেবেন না।

তিনি আরও বলেন, নিশ্চিত না হয়ে এই ধরনের কোনো সংবাদ দেওয়া থেকে আপনারা বিরত থাকবেন। তাহলে এটা আমাদের সাহায্য করবে।




আ.লীগ পতনের পর সহিংসতায় এ পর্যন্ত ২৩২ জনের মৃত্যু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৫ আগস্ট দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা, সহিংসতা ও সংঘাতের ঘটনায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত আরও ২১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের বেশির ভাগই মারা গেছেন গত মঙ্গলবার। কেউ কেউ মারা গেছেন চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

গত সোমবার থেকে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ২৩২ জনের মৃত্যুর খবর জানা গেছে। এর আগে কোটা আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে ১৬ জুলাই থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত সংঘাতে ৩২৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। গত ২৩ দিনে সারা দেশে মোট ৫৬০ জন নিহত হয়েছেন।

ঢাকার সাভারে সোমবারের সংঘাতে চিকিৎসাধীন আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে গতকাল। আর আগের দিন মঙ্গলবার গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে বন্দীরা পালানোর সময় কারারক্ষীদের গুলিতে ছয়জন মারা যান। সোমবারের সংঘাতে আরও ১০ জনের লাশ এসেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে।

মেহেরপুরের গাংনীতে আনন্দমিছিল নিয়ে বাড়িতে হামলার সময় সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। ঘটনাটি গত মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার মটমুড়া ইউনিয়নের বাওট গ্রামে ঘটে। নিহত নাহারুল ইসলাম বাওট গ্রামের কামরুল বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে মেন্দিপুর গ্রামে উপজেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য শেফায়েত উল্লাহ ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জহিরুল্লাহ (৫০)। তিনি উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের সাহু মিয়ার ছেলে।

সোমবারের সংঘাতে আরও ১০ জনের লাশ এসেছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। এর মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য ও একজন আনসার সদস্য রয়েছেন। নিহত ছয় পুলিশ সদস্যের মধ্যে এসআই সুজন চন্দ্র দে (৪২), সহকারী এএসআই ফিরোজ হোসেন (৪২) ও কনস্টেবল রেজাউল করিমের (৪৮) লাশ আনা হয় যাত্রাবাড়ী থেকে। তাঁদের পিটিয়ে হত্যা করা হয়। উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে আনা হয় এসআই খগেন্দ্র চন্দ্র সরকার (৪৯) ও কনস্টেবল শহিদুল আলমের (৪৮) লাশ। আশুলিয়া থেকে আনা হয় এএসআই রাজু আহমেদের (৩০) লাশ। এ ছাড়া যাত্রাবাড়ী থেকে আনসার সদস্য আবু জাফরের (৪৩) গুলিবিদ্ধ লাশ আনা হয়। এর বাইরে যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল থেকে পারভেজ মিয়ার (৩০) গুলিবিদ্ধ লাশ, সাভার থেকে পোশাক কর্মী সুমন ইসলামের (৩০) লাশ এবং উত্তরা পূর্ব থানা এলাকা থেকে আবু হাসনাতের (২৪) লাশ আনা হয়।

ঢাকার সাভারে গত সোমবার আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আরও তিনজনের নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে গতকাল দুপুর পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা হলো ৩৪। সাভারের বিভিন্ন হাসপাতাল ও নিহত ব্যক্তিদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগার থেকে ২০৯ জন বন্দী পালিয়ে গেছেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে এই বন্দী পালানো ঠেকাতে গুলি ছোড়েন কারারক্ষীরা। এতে ছয়জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন জঙ্গি রয়েছেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে।




শেখ হাসিনাকে দেশে এনে শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে: নুর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক :: শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, নতুন রাষ্ট্র নির্মাণে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা প্রয়োজন। অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন থাকলে দেশে গণতন্ত্র থাকে না।

সরকার গঠন যত দেরি হবে, তত ষড়যন্ত্র ডালপালা মেলবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নেই বলেই এখন দেশে নৈরাজ্য চলছে। তাই আজকের মধ্যে সরকার গঠনে রাষ্ট্রপতিতে আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসুর সাবেক ভিপি বলেন, আরেকটি দৈত্য দানবকে সরকারে বসানোর জন্য শিক্ষার্থীরা জীবন দেয়নি।

দেশে যে নৈরাজ্য চলছে, এই বাংলাদেশের জন্য আন্দোলন করিনি। আওয়ামী লীগ ফ্যাসিবাদীদের মতো লুটপাটকারীদেরও উৎখাত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

উল্লেখ্য, রাজধানীর সেতু ভবনে নাশকতার ঘটনায় বনানী থানায় এবং মেট্রোরেলে নাশকতার কাফরুল থানার মামলায় মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) জামিন দেয়া হয় নুরুল হক নুরকে।

 




সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে যা বলছে বিসিবি

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া ডেস্ক :: ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন তিনি। এরপরই জাতীয় দলের ক্রিকেটার ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের পার্টি অফিসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এমনকি তার দেশে ফেরা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। এমন পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের সহকারী ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফিস।

বুধবার মিরপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে শাহরিয়ার নাফীস বলেন, ‘দেখুন সাকিব আল হাসানের ১২ই আগস্ট পর্যন্ত এনওসি আছে। উনার ১৩ই আগস্ট দেশে আসার কথা, আমাদের কাছে রিপোর্ট করার কথা। আজকে ৭ই আগস্ট তার আরও দুই তিনটা খেলা রয়েছে। তার সাথে যোগাযোগ করব এবং তার প্ল্যানটা জানার চেষ্টা করব।’

নাফিস যোগ করেন, ‘গতকালকে রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী সাকিব আল হাসান এখন সংসদ সদস্য নন। উনি একজন ক্রিকেটারই রয়েছেন। প্রত্যেকটা মানুষেরই নিরাপত্তার ব্যাপার রয়েছে তো আমরা যেহেতু তার ১২ ই আগস্ট পর্যন্ত এনওসি রয়েছে। তারপরে তার বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের জয়েন করার কথা। সিলেকশন প্যানেল কিন্তু এখনো বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিপক্ষে দল ঘোষণা করেনি। বাংলাদেশের জন্য যখন উনারা দল ঘোষণা করবেন সে যদি টিমে থাকে তখন একরকম যখন টিমে না থাকবে তখন তো তার এনওসি লাগছে না।’

নাফীস আরো বললেন, ‘একটা প্রশ্ন হচ্ছে সাকিব আল হাসান অ্যাভেলেবল আছেন কিনা আরেকটা প্রশ্ন হচ্ছে উনি সিলেক্টেড হচ্ছেন কিনা। আমার মনে হয় সামগ্রিক পার্থক্যটা আমরা সবাই বুঝি। ওটার উপর ডিপেন্ড করে আমরা আমাদের এক্টিভিটিস আছে সেভাবে পরিচালনা করব।’

এক সময় স্লোগান উঠত–বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসান।’ তাকেই দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় পোস্টারবয় হিসেবে জানে সারা বিশ্ব। কিন্তু দেশজুড়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ে নীরব থাকায় তাকে অনেক সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ক্রীড়াঙ্গনের অনেক তারকাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ছিলেন সাকিব। পুরোটা সময়ই নীরব ভূমিকায় দেখা গেছে তাকে। কদিন আগেই কানাডার গ্লোবাল টি-টোয়েন্টির এক ম্যাচে প্রবাসী ভক্তের তোপের মুখে পড়েন সাকিব।

সরকার পতনের একদিন পর কানাডায় খেলতে নেমে হয়েছেন লাঞ্ছিত। গতকাল ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ‘দালাল সাকিব’‘টোকাই সাকিব’ ‘ভুয়া ভুয়া’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। এ সময় কেউ কেউ আবার অশ্রাব্য গালাগালও দেন।

এর আগে খেলা চলাকালেও বেশ কয়েকবার টিজিংয়ের শিকার হন সাকিব। সাকিব ভাই পদ আছে না গেছে বলে অনেককে প্রশ্ন করতে দেখা যায়। উল্লেখ্য, সংসদ বিলুপ্তি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই সংসদ সদস্য হিসেবে সাকিবসহ অন্যদের মেয়াদ ফুরিয়েছে। মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন টাইগার অলরাউন্ডার।

 




বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ধ্বংসস্তূপ

চন্দ্রদীপ নিউজ :: ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন এখন কেবলই ধ্বংসস্তূপ। ওই ভবনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ ও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিচিহ্নগুলো ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত আগুনের ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর থেকে। আশপাশের তিনটি ভবন আর সান্তুর রেস্টুরেন্ট নামে একটি রেস্টুরেন্টও বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে আছে। এদিন সকালে জাদুঘরের আশপাশের ভবন থেকে চারটি দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জাদুঘরের গেটসংলগ্ন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি উধাও। লেকসংলগ্ন বঙ্গবন্ধুর বিশাল প্রতিকৃতি, যেখানে জাতীয় শোক দিবসসহ বিভিন্ন উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো সেটাও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীসহ বিদেশ থেকে আসা রাষ্ট্রীয় অতিথিরাও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন। এখন প্রতিকৃতি নেই, কোনোরকমে বেদিটি টিকে আছে। ৩২ নম্বর সড়কের বিভিন্ন স্থানসহ রাসেল স্কয়ার সড়কের সামনে দুপুর পর্যন্ত আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সেখানে তখনও পুড়ছিল বিভিন্ন ধরনের বইপত্র।

বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের মূল গেট পার হলেই দেখা যায় নিচতলা থেকে তিন তলা পর্যন্ত পুরোটাই এখন ধ্বংসস্তূপ। নিচতলার অভ্যর্থনা ও অফিসকক্ষ থেকে যার শুরু। ভেতরে প্রবেশ করতেই আগুনের ধোঁয়া ও পোড়া গন্ধ। সিঁড়িতে যেখানে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃতদেহ পড়ে ছিল, সেখানেও ভাঙচুর আর পুড়িয়ে দেওয়ার চিহ্ন। সিঁড়ির নিচ থেকে শুরু করে দোতলার বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষের দরজা এবং অন্যান্য দরজা ও দেয়ালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কাচ দিয়ে ঘেরা গুলির চিহ্নগুলো পর্যন্ত উপড়ে ফেলা হয়েছে। ভেঙে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সব কক্ষের দরজা, জানালা, আসবাব ও ১৫ আগস্টের হত্যাযজ্ঞের অন্যান্য স্মৃতিচিহ্ন। সর্বত্র ছিল আগুনের ক্ষত।

বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষের খাটসহ তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যবহৃত খাট, চেয়ার-টেবিলগুলোও লুট হয়ে গেছে। বিভিন্ন কক্ষ আর ভবনের দেয়ালে দেয়ালে টানানো ১৫ আগস্ট নিহতদের ছবিসহ মুক্তিযুদ্ধের অনেক দুর্লভ ছবি, মুক্তিযুদ্ধ এবং ১৫ আগস্টের ঘটনাবলির ওপর রচিত বই আর তথ্যচিত্রের কোনোটারই দেখা মেলেনি। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে ছিল বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের কাপড়-চোপড় আর জুতা-স্যান্ডেল।

প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর গত সোমবার বিকেল ৪টা থেকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে হামলা, ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া শুরু হয়। সে সময় স্মৃতি জাদুঘরের পাশের আরও তিনটি বাড়ি এবং সান্তুর রেস্টুরেন্টেও আগুন দেওয়া হয়। এর চারটি বাড়িই বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’-এর কার্যালয় এবং আওয়ামী লীগের কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল। একটি বাড়ি অবশ্য নির্মাণাধীন। এসব বাড়ি ঘুরেও ধ্বংসের স্মৃতিচিহ্ন দেখা গেল। এখানে সেখানে পড়েছিল ট্রাস্টের বিভিন্ন কাগজ। পুড়িয়ে দেওয়া হয় তিনটি গাড়িও।

গতকাল মধ্য দুপুর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ও সংলগ্ন এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় দেখা গেছে। শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু এই ভবনসহ আশপাশ ঘুরে ঘুরে দেখেন। অনেকে ছবি তুলেছেন, ভিডিও করেছেন। অনেকেই নানা কিছু নিয়ে যান।

এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন, এই ভবনকে ঘিরে মুক্তিযুদ্ধের অনেক স্মৃতিও জড়িত। আমরা এটিকে রক্ষা করতে এসেছি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের এই বাড়িতে থেকেই স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই বাড়িতেই সপরিবারে তাঁকে হত্যা করা হয়। ১৯৯৪ সালে ভবনটিকে একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে রূপান্তর করেন তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

চার মৃতদেহ ::
বঙ্গবন্ধু ভবনের পাশের দুটি ভবন থেকে পুড়ে যাওয়া চারজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। এর মধ্যে স্থানীয়রা সকাল পৌনে ৮টায় একটি ভবনের পুড়ে যাওয়া স্থাপনা থেকে তিনটি এবং আগুন নেভাতে আসা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বেলা সোয়া ১টায় সান্তুর রেস্টুরেন্টের ভেতর থেকে আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করেন।

বিকেল পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যকে ঘটনাস্থলে দেখা যায়নি। দুপুরের দিকে ধানমন্ডির বাসিন্দা সাথী খাতুনকে দেখা যায় পুড়ে বিকৃত হয়ে যাওয়া একজনের মরদেহ ধরে বিলাপ করছেন। তাঁর দাবি, তাঁর ছেলে ইউসুফের (১৭) মরদেহ এটি। সে স্থানীয় একটি স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। ধানমন্ডির বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বলে গিয়েছিল, মা দেশ স্বাধীন করতে যাচ্ছি।

ইউসুফের পাশে থাকা আরেকটি ১২-১৩ বছরের এক শিশুর মরদেহের কোনো দাবিদার দেখা যায়নি। আগেই অন্য দু’জনের মরদেহ তাদের স্বজন নিয়ে যান বলে দাবি করেন প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন।




‘অভ্যুত্থানে সাড়ে ১৫ বছরের জমা জুলুম জঞ্জাল ভেসে গেছে’

বরিশাল অফিস :: জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা দফায় দফায় নির্যাতিত হয়েছি। দেশের লাখ লাখ মানুষ, আলেম, ওলামা, প্রতিবাদী কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এটি প্রমাণিত হয়েছে সবকিছু স্তব্ধ করতে চাইলেই স্তব্ধ করা যায় না। আমি যুব সমাজকে অভিনন্দন জানাতে চাই, যুব সমাজ ও জনগণের অভ্যুত্থানের কারণে সাড়ে ১৫ বছরের জমা জুলুম-জঞ্জাল ভেসে গেছে। যারা জাতিকে অপমানিত করেছে, তারা কোনোদিন সম্মানিত হতে পারবে না ।

গতকাল দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের বাবনপুর গ্রামে কোটা আন্দোলনে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদের কবর জিয়ারতসহ তার পরিবারের খোঁজখবর নেয়া শেষে জাফরপাড়া কামিল মাদ্রাসায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আগামীতে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দুর্বৃত্তপনা, স্বৈরাচারীপনা ও জুলুমবাজ সরকার যেন না আসে, সেলক্ষ্যে যুব সমাজ ও দেশবাসীকে সোচ্চার থাকতে হবে। সেই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক শক্তি কিংবা অন্য শক্তি দেশের বিপ্লবের ফলকে ছিনিয়ে নিতে না পারে সেদিকে প্রত্যেক নাগরিককে পাহারাদারের ভূমিকা পালন করতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, সাড়ে ১৫ বছর গোটা জাতির ওপর নির্যাতনের কষ্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। এই সাড়ে ১৫ বছরে ইতিমধ্যে জীবন থেকে ৩২টি ঈদ বিদায় নিয়েছে। দেশের মানুষ ঈদ উদ্‌যাপন করতে পারে নাই।

খুন, গুম, হত্যা, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, মানুষের উপর সীমাহীন নির্যাতন-জুলুমের কারণে গোটা জাতির শ্বাস বন্ধ করে দিয়েছিল। আল্লাহ এ জাতিকে শ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতি এটিকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ বলে আখ্যায়িত করেছে। এই যুদ্ধের মহানায়ক আপনার সন্তান-আমাদের সন্তান আবু সাঈদ। আমার পক্ষ থেকে দলের পক্ষ থেকে আবু সাঈদের প্রতি ভলোবাসা, কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। যে সন্তান জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছে আমরা তার বাবা-মার মুখ দেখতে এসেছি। পুলিশ তার মুখের কথা শুনেছে, কিন্তু বুকের ভাষা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে। আমরা এর ধিক্কার জানাই। যারা এ কাজ করেছে তারা মানুষ নয়, তারা পশু।

এ পশুদের বিচার অবশ্যই হবে। সেই সঙ্গে যারা গুলি করার নির্দেশ দিয়েছে তাদেরও বিচার হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসন নিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য একদিন আগেও বেপরোয়াভাবে ১৩৬ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা যুব সমাজকে অভিনন্দন জানাই। এই জাতি চিরদিন তোমাদের কাছে ঋণী হয়ে থাকবে ইনশাআল্লাহ।

তোমাদের প্রতি অনুরোধ, এ জাতিকে তোমরা ছেড়ে দিও না। আগামীতে যেন দেশে কোনো স্বৈরাচার হয়ে উঠতে না পারে। সমাবেশে জামায়াত-শিবিরের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।