দুমকিতে ভাইকে বাঁচাতে যেয়ে বোনেরও মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী দুমকিতে পুকুরে পড়ে হালিমা (৯) ও আবুবকর (৭) নামের দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মুরাদিয়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে।

নিহত হালিমা ও আবুবকর দক্ষিণ মুরাদিয়া এলাকার আব্দুর রহমান মৃধার ছেলে-মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশু আবুবকর ও হালিমা বাসা থেকে খেলতে বের হয়, আবুবকর পানিতে পড়লে বোন হালিমা তুলতে যায়। এ সময় সেও পানিতে ডুবে যায়। পরে তার মা বাসায় এসে খোঁজাখুঁজির একপর্যায় ছেলে-মেয়েকে পানিতে ভাসতে দেখেন। তাদের উদ্ধার করে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মাহবুবর রহমান দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল হান্নান বলেন, লোকমুখে খবর শুনেছি পরিবার থেকে কোনো অভিযোগ পাইনি।




পটুয়াখালীতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে গত ৫ আগস্টে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতার সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত শহরের বিভিন্ন এলাকা ও স্থাপনা পরিদর্শন করছেন ৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি বরিশাল এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল আবদুল কাইয়ুম মোল্লা।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন যান তিনি।

এ সময়ে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ তার সঙ্গে ছিলেন। পরিদর্শনকালে জিওসি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের নিরাপত্তায় সার্বিক সহায়তা ও ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগে করে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকেই দেশ জুড়ে চলছে নানা সন্ত্রাসী কার্যক্রম। পুলিশ স্টেশন জ্বালিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে হামলা ভাঙচুরেসহ চরম নাশকতা বিরাজ করে। এদিকে ছাত্ররা বলছে তারা এসব কিছুর সঙ্গে জড়িত নয় । তাদের কে সমনে রেখে দুষ্কৃতকারীরা এ ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে।




নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলেই মাঠে নামবে বরিশালের পুলিশ

বরিশাল অফিস :: পুলিশ সদস্য হত্যা, নির্বিচারে হামলার বিচারসহ বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া সদস্যরা কাজে ফিরবেন। নিরাপদ কর্মপরিবেশ, পুলিশ বিধানের বাইরে ব্যক্তি প্রয়োজনে ব্যবহার না করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসের অপেক্ষায় রয়েছেন তারা। বরিশাল রেঞ্জ ও মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। তাছাড়া আন্দোলন পরবর্তী সকল সদস্য স্ব-স্ব থানা ও কর্মস্থলে থাকায় না ফেরার শঙ্কা করছেন না দায়িত্বশীলরা।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) পুলিশের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে এই তথ্য জানা গেছে।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে দমন করতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগে বাধ্য করে পুলিশকে। আন্দোলন দমাতে বিভিন্ন স্থানে গুলি করে কয়েকশ মানুষ হত্যা, কয়েক হাজার গ্রেপ্তার, মারধর চালায় পুলিশ। প্রবল আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পালালে সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়। শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর সামনে আসে পুলিশের পেশাদারিত্ব ও আচরণ নিয়ে। আন্দোলনকারীদের রোষের কেন্দ্রে পরিণত হয় পুলিশ। বিভিন্ন স্থানে হত্যা ও মারধর শুরু হয়। এই অবস্থায় কর্মবিরতির ডাক দেয় পুলিশ সদস্যরা। এমনকি কর্মস্থল ছেড়ে আত্মগোপনে যায় অনেকে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক উপ-পুলিশ পরিদর্শক বলেন, বরিশালে থাকলেও আমরা অনেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছি। ছাত্রদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ না থাকলেও সরকারের আদেশ বাস্তবায়ন করতে হয়েছে। এখন আমাদের অপরাধীর চোখে দেখে মানুষ। এই অবস্থান থেকে পুনর্গঠন না করা হলে মানুষের চক্ষুশূল থেকেই যাব আমরা।

আরেকজন পরিদর্শক বলেন, সরকার তারমতো সরে গেছে, জনগণ জয়ী হয়েছে। মাঝখান দিয়ে আমরা ছাত্র-জনতার কাছে ভিলেন হয়ে গেলাম। আতঙ্কে থাকি কখন কোথায় হামলা হয়। ক্ষুব্ধ মানুষ আমাদের মেরে ফেলে কিনা।

এদিকে বুধবার (৭ আগস্ট) বরিশাল জেলা পুলিশ লাইনসে এবং ১০ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করে কর্মবিরতি ও তাদের দাবি তুলে ধরেন। এর আগের দিন মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ করে জেলা পুলিশ সদস্যরা। বাহিনীর অভ্যন্তরে অসন্তোষ নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আন্দোলনরতদের সঙ্গে কথা বলেন। এদিকে পুলিশ হেডকোয়াটার্স থেকে আজ (৮ আগস্ট) সন্ধ্যার মধ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ঝালকাঠি পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আফরুজুল হক টুটুল বলেন, আমাদের পুলিশ সদস্যরা সকলেই ঝালকাঠিতে আছেন। আজকে সন্ধ্যায় সকলের সঙ্গে কথা বলব। আশা করছি আগামীকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমরা মাঠে নামব।

বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার রাফিউল আলম বলেন, একটি শঙ্কার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছি। কাজে যোগ দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছি।

১০ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন) বরিশালের অধিনায়ক মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, এপিবিএনের সকল পুলিশ সদস্য কেউ বাড়িতে বা অন্য কোথাও যায়নি। তারা নির্দেশনা মোতাবেক কাজে যোগ দেবেন। তাছাড়া নতুন সরকার গঠন হচ্ছে। আশা করছি পরিস্থিতি সকলের সহায়তায় দ্রুত উন্নত হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবিরকে মুঠোফোনে না পাওয়া গেলেও ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শঙ্কা থাকলেও মেট্রোপুলিশ নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বরিশালে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণাত্মক ছিল না। যে কারণে বিশেষ সমস্যা হবে না। সকল সদস্যই তাদের থানাসহ কর্মস্থলে আছে। নির্দেশনা পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেমে পড়বে।

বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. ইলিয়াছ শরীফ বলেন, পুলিশ নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছে। এ বিষয়ে গতকাল আইজিপি মহোদয় নির্দেশনা দিয়েছেন এবং পুলিশের হারানো মনোবল ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে। নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ দ্রুতই কাজ ফিরবে।

এদিকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলা-উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা সভা করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে বৈঠক করে স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরিতে কাজ শুরু করেছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলাম বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমরা ইতোমধ্যে সকলকে নিয়ে বসেছি। সুশীল সমাজ, রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিকসহ সকল শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। সকলেই আশ্বস্ত করেছেন, আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখতে সবাই একযোগে কাজ করবেন।




কুয়াকাটায় চাকরি হারানোর শঙ্কায় ১৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সৈকত এখন সুনসান-নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। মাসখানেক ধরে চলা সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে সব কর্মকাণ্ড। অলস সময় পার করছেন পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সব ব্যবসায়ীরা। পুরো সৈকতে চলছে নীরবতা। এ নিয়ে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। চাকরি হারানোর শঙ্কায় ১৫শ কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্টে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান আন্দোলনে পর্যটক না থাকায় অলস সময় পার করছে তারা। অধিকাংশ হোটেল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের ছুটি দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এমন খারাপ পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না হোটেল ব্যবসায়ী।

সি গোল্ড রিসোর্টের কর্মচারী মো. জিসান বলেন, অবসর সময় কাটাচ্ছি। মাসখানেক ধরেই কোনো পর্যটকদের আনাগোনা নেই। ফলে অলস সময় পার করছি।

আবাসিক হোটেল কানসাই ইন’র ব্যবস্থাপক ফরাজি মো. জুয়েল বলেন, কোনো পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় অনেক আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট বন্ধ হয়েছে। সামনে এমন হলে বাকিরাও বন্ধ করে দেবে। ফলে এরইমধ্যে অনেকে ছুটিতে আছে বাকিরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন।

ক্যামেরা পারসন মো. মাসুদ বলেন, প্রতিদিন ১ হাজার টাকা থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো। গত কয়েকদিনে ডেইলি ১০০ টাকাও রোজগার হয় না। বৌ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো, মাস গেলে বাড়ি ভাড়া দিয়া টিকে থাকা এখন কষ্ট হচ্ছে। এটা থেকে মুক্তি চাই, না হয় না খেয়ে মারা যেতে হবে।

সৈকতে চা বিক্রেতা আলতাফ বলেন, মানুষ এমন দূরাবস্থা দেখে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এমন সংকট আমরা চাই না।

হোটেল গোল্ডেন ইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম জহির জানান, আমরা সবার আগে ধাক্কা খাই। এটাতে কাটতে সময় লাগে অনেকদিন। এখন রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান না হলে এ সংকট কবে কাটবে তা বলা মুসকিল। আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লোয়ি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, আমাদের দিনগুলো কষ্টে কাটছে। অনেকেই চাকরি হারিয়েছে। এমন চলতে থাকলে বাকি কর্মচারীরাও চাকরি হারানোর শঙ্কায় থাকবে।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরিফ বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকরা মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে। এ সংকট দূর না হলে আমরা পথে বসে যাব।




উত্তরায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত গলাচিপার সাগর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ঢাকার উত্তরায় এলোপাতাড়ি গুলিতে মারা গেছেন পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো, সাগর গাজী (২০)। গত সোমবার শেষ বেলায় উত্তরার জসিম উদ্দিন ফ্লাইওভার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের পূর্বপাড় ডাকুয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাগর। বাবা পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ও মা সাহিদা বেগম গৃহিণী। উপজেলার উলানিয়া স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০২১ সালে এসএসসি পাস করেন। ২০২৩ সালে একই কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে পারে নাই। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সেই বিষয়ে অংশও নেন সাগর। মাত্র ২ মাস আগে উত্তরা এলাকায় সিটি অনলাইন কোম্পানিতে চাকরিতে যোগদান করে। সাগর উলানিয়া স্কুল এন্ড কলেজ ছাত্রদল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, সোমবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঢাকার আনাচে-কানাচে উৎসুক জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় সাগরসহ তার সহকর্মীরা উত্তরার জসীম উদ্দিন ফ্লাইওভার এলাকায় বের হয়। উৎসুক জনতা র‌্যাব-১ দপ্তরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এরে র‌্যাবও এলোপাতাড়ি গুলি করে। ছত্রভঙ্গ জনতা নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকে। এ সময় এলোপাতাড়ি গুলি সাগরের মাথায় এসে পড়ে। স্থানীয়রা তাকে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি। সাগরের সহকর্মীরা তার মুঠোফোনে কল করলে স্থানীয়রা তার মৃত্যুর খবর জানান। পরে তার আত্মীয় ও সহকর্মীরা হাসপাতাল থেকে লাশ শনাক্ত করে। লাশ এম্বুলেন্সযোগে তার গ্রামের বাড়ি পূর্বপাড় ডাকুয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে মঙ্গলবার ভোর রাতে এসে পৌঁছায়। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উলানিয়া বন্দর মাসজিদুল আয়শা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় সাগরকে।

সরজমিন দেখা যায়, স্বজনের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা।

বাবা সিরাজুল ইসলাম জানান, রাজমিস্ত্রির কাজ করে সংসার চালাই। খুব কষ্ট করে ছেলেদের লেখাপড়া চালাই। আন্দোলনের শুরু থেকে সাগর সক্রিয় ছিল। পরীক্ষা শেষেই চলে যায় ঢাকায়। ফিরে আসে লাশ হয়ে।

ছেলেকে হারিয়ে বিলাপ করছে মা সাহিদা বেগম। তিনি জানান, ‘কষ্ট কইরা লেহাপড়া করাইছি, মানুষ করছি। আমার পুতকে মারছে ক্যান। আমার পুতের দোষটা কী।’




অন্তর্বর্তী সরকার মানুষের আস্থা অর্জন করবে: ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম কাজ হবে মানুষের আস্থা অর্জন করা বলে মন্তব্য করেছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নতুন বিজয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ নতুন বিজয় দিবস শুরু করল। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। যারা এটি করেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, তারা (সমন্বয়কেরা) দেশকে রক্ষা করেছে। দেশকে পুনর্জন্ম করেছে।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আজকে আমার আবু সাঈদের কথা মনে পড়ছে। যে আবু সাঈদের কথা দেশের প্রতিটি মানুষের মনে গেঁথে আছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশে দ্বিতীয় স্বাধীনতা এসেছে।

ড. ইউনূস বলেন, আমার ওপর আস্থা রাখলে বলতে চাই কারও ওপর হামলা করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের হাত ধরে দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ, এই স্বাধীনতা আমাদের রক্ষা করতে হবে।

সহিংসতা-বিশৃঙ্খলা দেশের অগ্রগতির বড় শত্রু জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ভাই-বোনকে আমাদের রক্ষা করতে হবে। সরকারকে দেখে মানুষ ভয় পাবে না, তাদের বুক ফুলে উঠবে যে সরকার আমাদের সাহায্য করবে।

 




ভারতে পালানোর সময় বরিশালের নীরব হোসেন টুটুলকে আটক

বরিশাল অফিস :: ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহর ক্যাশিয়ার ও মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুলকে আটক করেছে বিজিবি।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সকালে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পালানোর সময় তাকে আটক করা হয়।

সাতক্ষীরা বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশরাফুল হক বলেন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সেরেনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহর ক্যাশিয়ার হিসাবে খ্যাত খোঁড়া টুটুলকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

 




ঠাকুরগাঁওয়ে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ঠাকুরগাঁওয়ে দুটি বাস ও একটি জ্বালানি তেলবাহী গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত আট (৮) জন।

বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকার হিমাদ্রি কোল্ডস্টোরেজ এর সামনে ঠাকুরগাঁও-ঢাকা মহাসড়কের এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, জ্বালানি তেলবাহী ট্রাকের চালক মো. শাহাদাত হোসেন (৪৫)। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার লাহিড়ী এলাকার বাসিন্দা। এছাড়াও শ্যামলী নৈশ কোচের যাত্রী মোহাম্মদ সানাউল্লাহ (৩০)। তিনি সদর উপজেলার রুহিয়া চামেশ্বরী এলাকার গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নৈশকোচ শ্যামলী এন্টারপ্রাইজ একটি জ্বালানি তেলবাহী ট্রাক ও একটি মাদ্রাসার বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ট্রাকের চালক মো. শাহাদাত হোসেন ও শ্যামলী বাসের যাত্রী মোহাম্মদ সানাউল্লাহ আহত হন। তাদের স্থানীয়রা আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সানাউল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চালক মো. শাহাদাত হোসেন মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. রকিবুল আলম (চয়ন)। তিনি বলেন, দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় আরও আহত হয়েছেন অনেকে। তাদেরকে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে ও দুই জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ফেরার করা হয়েছে।




বেনাপোল বন্দরে আটকা দুই শতাধিক পাসপোর্টধারী

বরিশাল অফিস :: বেনাপোল ইমিগ্রেশন দিয়ে সকাল থেকে সব ধরনের পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় দুই শতাধিক পাসপোর্টধারী আটকা পড়েছে। তবে ভারতীয় ইমিগ্রেশন সচল থাকায় ভারত থেকে ফিরছেন সব শ্রেণির পাসপোর্টধারীরা।

বৃহস্পতিবার(০৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সকাল পৌনে ৯টা পর্যন্ত কোনো পাসপোর্টধারী ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেনি।

ভারতগামী মেডিকেল ভিসার পাসপোর্টধারী জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যেতে বেনাপোল বন্দরে আসেন। তবে ইমিগ্রেশন যেতে না দেওয়ায় তারা আটকে পড়েছেন। আটকে থাকা অনেকের বিমান ও রেলের টিকিট করা আছে। এতে তাদের ভোগান্তি বেড়েছে।

ভারতীয় এক পাসপোর্টধারী জানান, তিনি বাংলাদেশে বেড়াতে এসেছিলেন। বর্তমানে এদেশের পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় তিনি দেশে ফিরতে বেনাপোল ইমিগ্রেশনে এসে আটকা পড়েছে। কখন যেতে পারবেন কেউ কিছু বলছে না।

ভ্রমণকর প্রদানকারী বেনাপোল বন্দরে অবস্থিত সোনালী ব্যাংকের বুথ ইনচার্জ রুহুল কুদ্দুস জানান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আপাতত যাত্রীদের ভ্রমণ কর দিতে বন্ধ রাখতে বলায় সকাল থেকে কোনো যাত্রীকে ভ্রমণ কর দেওয়া হয়নি।

পাসপোর্টধারী কবির হোসেন জানান, গতকালও কম বেশি, সব ভিসার দেশ বিদেশি পাসপোর্টধারী বেনাপোল বন্দর দিয়ে যাতায়াত করেছে। তবে হঠাৎ করে আজ সকাল থেকে কোনো যাত্রী ছাড়ছে না ইমিগ্রেশন।

বেনাপোল আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের ইনচার্জ নাহিদুজ্জামান জানান, ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ পাসপোর্টধারীদের পাসপোর্টে সিল না দেওয়ায় মেডিকেল, টুরিস্ট ও বিজনেস ভিসার যাত্রী বন্দরে অপেক্ষা করছেন।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন ওসি ওমর ফারুক জানান, সম্প্রতি সহিংস ঘটনায় তাদের অনেক সহকর্মীরা জীবন হারিয়েছেন। এতে তারা শোকাহত। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেকে অফিস করতে পারছেন না। জনবল কম থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রীদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে । যাচাই, বাছাই করে ছাড়া হবে।




নোবেলজয়ী থেকে সরকার প্রধান ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছিলেন শিক্ষকতা পেশায়। সেখান থেকে ব্যাংক প্রতিষ্ঠা। পরে ওই ব্যাংককে সঙ্গে নিয়ে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেছিলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সেই থেকে বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বেও সুনাম কুড়িয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। কিন্তু নিজ দেশেই গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ছিলেন কোণঠাসা। কর্তৃত্ব হারিয়েছিলেন নিজের প্রতিষ্ঠিত সেই গ্রামীণ ব্যাংকের। নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় রাজনৈতিক দল গঠনের কার্যক্রম করে সবাইকে অবাক করে দিয়েছিলেন অধ্যাপক ইউনূস।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে সরাতে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ বেশ আলোচনায় ছিল। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন। ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার পেছনে অধ্যাপক ইউনূসকে একজন মাস্টারমাইন্ড মনে করতেন শেখ হাসিনা। এরপর ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর গত দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ব্যাংকের কর্তৃত্ব হারানোসহ বিভিন্ন মামলায় আদালতে বারবার হাজিরা দিতে হয়েছে অধ্যাপক ইউনূসকে। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায়ও ছিলেন তিনি। গত মার্চে এক সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস বলেছিলেন, সে সময় রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ ভুল ছিল। যে ভুলের খেসারত তাকে দিতে হচ্ছে এখনো।

২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি সেনাবাহিনীর সমর্থনে এবং ফখরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়। তখন সেনাপ্রধান ছিলেন জেনারেল মইন ইউ আহমেদ। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান ফখরুদ্দীন আহমেদ এবং সেনাপ্রধান উভয়ে মিলে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’ নামে একটি তত্ত্ব বাস্তবায়ন করতে চেয়েছিলেন। যেখানে ‘বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেত্রীদ্বয়কে নির্বাসিত বা বন্দী রেখে নতুন একটি সরকার গঠন করে রাষ্ট্র পরিচালনা করা। সেই সময় অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে একটি দল গঠনের আলোচনাও ছিল জোরালো। এই সময় রাজনৈতিক দল গঠন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা নিয়েও কথা হয়েছিল অধ্যাপক ইউনূসের।

তিনি জানান, সে সময়কার সেনাবাহিনী তাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হবার দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন। তবে তিনি তা নাকচ করে দিয়েছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে নাগরিক শক্তি নামে একটি দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সেই প্রক্রিয়া থেকেও সরে এসেছিলেন অধ্যাপক ইউনূস। গত মার্চে বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বিরকে দেয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল গঠনের এই উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত ভুল ছিল।

২০০৬ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যখন নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হলেন তখন একইসঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকও পেয়েছিল নোবেল পুরস্কার। অধ্যাপক ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরস্কার অর্জন করায় সে সময় বিরোধী দলে থাকা আওয়ামী লীগ সবার আগেই শুভেচ্ছা জানিয়েছিল।

তবে ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক ইউনূসের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ করতে থাকে দলটি এবং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যার প্রথমটা শুরু হয় গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অব্যাহতি দেয়ার মধ্য দিয়ে।

২০১১ সালের দোসরা মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অধ্যাপক ইউনূসকে অব্যাহতি দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ জারি করে।

এর বিরুদ্ধে ড: ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের নয়জন পরিচালক দু’টি রিট মামলা করেছিলেন। দু’টি রিট আবেদনই খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট ডঃ ইউনূসকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আদেশ বহাল রাখে। পরে ওই বছরের ১২ই মে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইস্তফা দেন অধ্যাপক ইউনূস। ক্ষমতায় আসার পরই পদ্মাসেতু তৈরিতে প্রকল্প প্রস্তুত করে বাংলাদেশ। সে সময় অর্থায়নে রাজিও হয় বিশ্ব ব্যাংক। কিন্তু মাঝপথে সেই অর্থায়ন আটকে যায় দুর্নীতির অভিযোগে।

এরপর বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ তোলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রভাবিত করার কারণেই আটকে গিয়েছিলো পদ্মাসেতুর অর্থায়ন। মার্চে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনুস বলেন, আমার বাধা দেয়ার তো কোনও কারণ নাই। বিশ্ব ব্যাংক তো আমার প্রভাবিত করার জন্য অপেক্ষা করে নাই। তারা তো বলছে দুর্নীতি হয়েছে। এই সময় অধ্যাপক ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু মামলা হয়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কয়েকটি মামলায় খালাস দেয়া হয়েছে তাকে।

দেশের বাইরে পড়াশোনা শেষে অধ্যাপক ইউনূস প্রথমে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে। অধ্যাপক ইউনূস জানান, নতুন বিভাগ হওয়াতে তখন বিভাগে তেমন বেশি কোন কাজ ছিল না। বিভাগে ঘোচানোর পাশাপাশি তিনি আশপাশের গ্রামে ঘুরতেন। সেখানকার মানুষের জন্য কিছু করতেন চাইতেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ‘রুরাল ইকনোমিকস প্রোগ্রামের’ প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস তখন জোবরা এবং সংলগ্ন গ্রামগুলোতে শুরু করেছিলেন একটি মাঠ গবেষণা, যেখানে তিনি যাচাই করতে চেয়েছিলেন সমাজের একেবারে নিচুতলার মানুষের মধ্যে ব্যাংকঋণ সরবরাহের সম্ভাব্যতা। সেখানে শুরুতে তেভাগা পদ্ধতি কৃষকদের খামার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমের কার্যক্রম শুরু করেন অধ্যাপক ইউনূস। যার নাম ছিল নবযুগ তেভাগা খামার।

অধ্যাপক ইউনূস বলছিলেন, জমি যার সে ফসলের তিন ভাগের এক ভাগ পাবে। আর যে বীজ দেবে সার দেবে সে পাবে এক ভাগ। আর চাষ করবে, পানি দেবে সে পাবে এক ভাগ। এরকম করে আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম। পরে গ্রামের অবহেলিত নারী ও পুরুষদের নিয়ে একটা সমিতি শুরু করেন। সেই সমিতিতে সঞ্চয় করতো সবাই। এই কৃষকদের খামার থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের ভিত্তি রচিত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে। পরবর্তীতে ‘ক্ষুদ্রঋণ’ নামে সম্পূর্ণ নতুন একটি ধারনা নিয়ে বাংলাদেশে ১৯৮৩ সালের ২ অক্টোবর একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে আনুষ্ঠানিক জন্ম হয় গ্রামীণ ব্যাংকের।

গ্রামীণ ব্যাংক মূলত ভূমিহীন এবং দরিদ্র নারীদের পাঁচ জনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল গঠনের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রদান করে এবং এ ঋণের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে। ব্যাংকের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাথে দরিদ্রদের রক্ষা করতে ব্যাংক অন্যান্য পদ্ধতিও প্রয়োগ করে। ক্ষুদ্রঋণের সাথে যোগ হয় গৃহঋণ, মৎস্য খামার এবং সেচ ঋণ প্রকল্প সহ অন্যান্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা। গরিবের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গ্রামীণ ব্যাংকের সাফল্য উন্নত বিশ্ব এমন কি যুক্তরাষ্ট্র সহ অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশসমূহকে গ্রামীণের এই মডেল ব্যবহার করতে উদ্বুদ্ধ হয়। অধ্যাপক ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের এই কার্যক্রম বিস্তৃতি লাভ করলে ২০০৬ সালে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন অধ্যাপক ইউনূস ও তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অধ্যাপক ইউনূসের সাথে বৈরিতা তৈরি হয় আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সাথে।

গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অধ্যাপক ইউনূসকে ‘রক্তচোষা’ ও ‘সুদখোর’ বলতে দেখা গেছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতাদের। এ নিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন যখন আমরা ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে কাজ শুরু করেছি তখন লোকে বলতো আমরা রক্তচোষা। এখন তো এই ব্যবসা সবাই করছে। সরকারও করছে। সরকার নিয়ম নীতি করে দিচ্ছে। এখন কে কার রক্ত চুষছে? চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামের সেই নবযুগ খামার থেকে ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠার থেকে শুরু হয় গ্রামীণ ব্যাংকের। যেখান থেকে ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এর কার্যক্রম। অধ্যাপক ইউনূস সেই জোবরা গ্রামের ইতিহাস তুলে ধরতে গিয়ে জানাচ্ছিলেন সে সময়কার কথা।

তিনি জানাচ্ছিলেন, তখন এই জোবরা গ্রামে বাস করতো হত দরিদ্র অনেক মানুষ। কিন্তু তিনি অর্থনীতির শিক্ষক হয়েও সে সব মানুষের জন্য কিছু করতে না পারার আক্ষেপ ছিল তার। তখন আমি ভাবলাম আমি অযথা সময় নষ্ট করছি। এই অর্থনীতি দিয়ে আমি কি করবো যা মানুষকে কোন ধরনের উপকারে আসে না। আলোচিত সেই জোবরা গ্রামটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ঠিক পাশে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শেষে প্রতিদিনই জোবরা গ্রামে যাওয়া শুরু করলেন অধ্যাপক ইউনূস। কৃষকদের সঙ্গে সঙ্গে বলতেন, তাদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতেন। তখন কৃষিকাজের জন্য কোন পানির ব্যবস্থা ছিল না এই গ্রামে। অধ্যাপক ইউনূস বলছিলেন, তখন বাংলাদেশে প্রথম আসে ইরি ধানের চাষ। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জমিতে ইরি ধানের চাষ করার জন্য উদ্যোগ নেই। কিন্তু তখন সেখানকার বাসিন্দারা বললেন সেখানে পানির সমস্যা।

পরে টিউবয়েল বসিয়ে ইরি ধানের চাষ শুরু করলাম। তেভাগা পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা শুরু করেন কৃষকদের নিয়ে। এখন বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় সেই সামাজিক ব্যবসা ধারণা ছড়িয়ে পড়েছে। যে সামাজিক ব্যবসা শুরু হয়েছিল সেই জোবরা গ্রাম থেকে। অধ্যাপক ইউনূস বিবিসি বাংলাকে বলেন, এটি জোর করে কাউকে করতে হচ্ছে না। সরকারের হুকুম দিয়ে করতে হচ্ছে না। মানুষ সেটা পছন্দ করে আনন্দিত হয়ে করছে। বিশ্বের বিভিন্ন মানুষ এখন এই ধরনের সামাজিক ব্যবসায় নেমেছে”।

১৯৪০ সালের ২৮ জুন চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারী উপজেলার বাথুয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুহাম্মদ ইউনূস। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় মুহাম্মদ ইউনূস মেধা তালিকায় ১৬তম স্থান অধিকার করেন এবং চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৭ সালে মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের সম্মান শ্রেণীতে ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই বিএ এবং এমএ পাশ করেন। পড়াশোনা শেষে তিনি ব্যুরো অব ইকোনমিক্স-এ যোগ দেন গবেষণা সহকারী হিসাবে। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালে চট্টগ্রাম কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ১৯৬৫ সালে তিনি স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান। পরে ভেন্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৯ সালে অর্থনীতিতে পিএইচডি লাভ করেন।

পরবর্তীতে ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন। ১৯৭২ সালে দেশে ফিরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন এবং ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এ পদে কর্মরত ছিলেন। এই সময়ের মধ্যেই ১৯৭৬ সালে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। ক্ষুদ্রঋণের ধারণার মাধ্যমে সারাবিশ্বে একটি সাড়া ফেলে গ্রামীণ ব্যাংক।