মেগা প্রকল্পের বেশির ভাগই নির্মাণ ব্যয়ে বিশ্বে শীর্ষে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতের ইতিহাসে টাকার অংকে সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। ২০১০ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যত ‘নন-আরবান হেভি রেল’ প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, তার মধ্যে এ প্রকল্পের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় সবচেয়ে বেশি। একইভাবে প্রথম মেট্রোরেল নির্মাণে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ঢাকার ‘এমআরটি লাইন-৬’। ঢাকার দ্বিতীয় (এমআরটি লাইন-১) ও তৃতীয় (এমআরটি লাইন-৫, নর্দান রুট) মেট্রোরেলের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় আরো বেশি। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় ২০০ কোটি টাকার বেশি, যা পৃথিবীর মধ্যে সর্বোচ্চ। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুরের মধ্যে বাস্তবায়নাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) পৃথিবীর সবচেয়ে ব্যয়বহুল।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে দেশে চার-ছয় লেনের মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, ফ্লাইওভার, রেলপথ, রেল সেতু, বিমানবন্দরের টার্মিনালের মতো যেসব মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে, তার বেশির ভাগেরই নির্মাণ ব্যয় গোটা পৃথিবীতে সমজাতীয় প্রকল্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ বা অন্যতম সর্বোচ্চ। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন বৈশ্বিক সংস্থার পর্যালোচনার হিসাবেও বিষয়গুলো বারবার উঠে এসেছে।

দেশের সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি পদ্মা সেতু। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ৩২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। সেতুটি নির্মাণে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে তিন গুণ বেশি অর্থ খরচ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যোগাযোগ অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সামছুল হক।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সমজাতীয় সেতুর কিলোমিটারপ্রতি নির্মাণ ব্যয় যদি আমরা হিসাব করি, তাহলে দেখা যাবে পদ্মা সেতু নির্মাণে দুই থেকে তিন গুণ বেশি খরচ হয়েছে। কেন বেশি খরচ হয়েছে তা খুঁজলে দেখা যাবে, এ প্রকল্পের সঙ্গে সামরিক-বেসামরিক স্থাপনাও তৈরি করা হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোথাও এমন নজির পাওয়া যাবে না। এখানে থানা হয়েছে। প্রকল্পের কর্মকর্তা, সচিবদের থাকার জন্য বাংলো বানানো হয়েছে। এমন নানা অকার্যকর অনুষঙ্গের জন্য বিপুল পরিমাণ জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু পদ্মা সেতু নয়, প্রত্যেক প্রকল্পেই এমন ‘‌শ্যাডো কস্ট’ নির্মাণ ব্যয় বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‌বাংলাদেশে প্রকল্প মানেই দামি গাড়ি কেনা। যে কাজের জন্য দরকার পিকআপের মতো যানবাহন, সে কাজের জন্য কেনা হয় পাজেরো। ফ্রিতে পাওয়া জ্বালানি তেল পুড়িয়ে সে গাড়ি ব্যবহার করা হয় ব্যক্তিগত কাজে। ট্রান্সফার অব টেকনোলজির নামে করা হয় বিদেশ ভ্রমণ। যারা প্রকল্প বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাদেরও খুশি রাখতে হয়। এটা সরকার ও প্রশাসনের চেইন অব কমান্ডের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত করা হয়। কারো কারো সুযোগ-সুবিধা যখন প্রত্যেকটা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়, তখনই দেখা যায় ব্যয় বেড়ে গেছে। জবাবদিহিতা ও সুশাসনের অভাবে এসব ঘটনা দেশে ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে।’

ভারতে আট লেনের জাতীয় বা প্রাদেশিক মানের এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ১৫ লাখ ডলার। জেলা ও শহরাঞ্চলের জন্য দুই লেনের প্রতি কিলোমিটার সড়ক তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৬ লাখ ডলার। প্রান্তিক সড়কের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে নির্মাণ ব্যয় পড়ে প্রায় ৪ লাখ ডলার। সঠিক পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, দক্ষ জনশক্তি, নির্মাণ উপকরণ ও যন্ত্রপাতির সহজলভ্যতা, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহারসহ নানাবিধ কারণে এশিয়াসহ পৃথিবীর অনেক দেশের চেয়ে কম খরচে সড়ক তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছে ভারত।

ঠিক উল্টো অবস্থা বাংলাদেশের। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণ সবচেয়ে ব্যয়বহুল। এখানে প্রতি কিলোমিটার চার বা ততোধিক লেনের সড়ক নির্মাণ করতে ২৫ লাখ থেকে ১ কোটি ১৯ লাখ ডলার পর্যন্ত ব্যয় হচ্ছে। নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার জন্য উচ্চমাত্রায় দুর্নীতি, সময়মতো কাজ শেষ না হওয়া এবং দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা না থাকাকে দায়ী করেছে বিশ্বব্যাংক।

শুধু সড়ক, মেট্রোরেলের নির্মাণে অন্যান্য দেশের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। ঢাকার প্রথম মেট্রো নির্মাণে এখন পর্যন্ত যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার তিন ভাগের এক ভাগ দিয়ে প্রথম মেট্রো তৈরি হয় ভারতের দিল্লিতে। ঢাকা এমআরটি-৬-এর অর্ধেকেরও কম খরচে লাহোরে প্রথম মেট্রো তৈরি করেছে পাকিস্তান। অন্যদিকে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে সবচেয়ে কম খরচে প্রথম মেট্রো তৈরি করেছে চীন। দেশটির সাংহাই শহরের প্রথম মেট্রোটির নির্মাণ ব্যয় ঢাকার এমআরটি-৬-এর নির্মাণ ব্যয়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। ঢাকার চেয়ে কম খরচে দুটি মেট্রোরেল নির্মাণ করা হচ্ছে ভিয়েতনামের দুটি শহরে। ঢাকায় নির্মাণাধীন দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেট্রোরেলের নির্মাণ ব্যয় আরো বেশি।

যমুনা নদীতে বিদ্যমান সেতুর সমান্তরালে নির্মিত হচ্ছে একটি রেল সেতু। ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এ রেল সেতু নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় পড়ছে ৩ হাজার ৪৯৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, কিলোমিটারপ্রতি ব্যয়ের দিক থেকে এ অংক প্রতিবেশী ভারত ও চীনের দীর্ঘ ও বৃহদায়তনের রেল সেতুগুলোর চেয়েও অনেক বেশি। অন্যদিকে ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পকে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হিসেবে অভিহিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আশপাশের দেশগুলো কম খরচে অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারলে বাংলাদেশ কেন পারছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বুয়েটের আরেক অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, মহাসড়ক, রেলপথ নির্মাণের যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এখনো যেগুলোর কাজ চলমান, সেগুলোর কারিগরি মান আশপাশের দেশে বাস্তবায়িত সমজাতীয় প্রকল্পগুলোর মতোই। কিন্তু আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে সমজাতীয় প্রকল্পগুলোর নির্মাণ ব্যয় অনেক বেশি। আমরা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে যে অর্থ ব্যয় করেছি, তার তিন ভাগের এক ভাগ ব্যয় আশপাশের দেশগুলো একই প্রকল্প করেছে।

আশপাশের দেশগুলো যদি কম খরচে মেট্রোরেল, সড়ক, সেতু, এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করতে পারে, আমরা কেন পারব না, এটা বড় প্রশ্ন। আমি মনে করি, যেখানে বিনিয়োগটা ভারী হয়, সেখানে যারা ব্যক্তিগতভাবে প্রকল্প থেকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করে, তাদের জন্য একটা সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’

বিগত দেড় দশকে বাংলাদেশে প্রকল্প ব্যয় ফুলিয়ে-ফাপিয়ে বড় করে দেখানোর এক ধরনের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘‌প্রকল্পগুলোর ব্যয় এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যেন সেগুলো মেগা আকৃতি ধারণ করে। অথচ এ ব্যয়টা হওয়ার কথা ছিল গবেষণাভিত্তিক। কীভাবে কম খরচে ভালো অবকাঠামো তৈরি করা যায় সেই চেষ্টা আমাদের দেশে নেই। আমি মনে করি, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক অনিয়ম হয়েছে কিনা, কারিগরি অনিয়ম হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা উচিত।’

যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প পদ্মা সেতু রেল সংযোগ। প্রকল্পে ব্যয় হওয়া ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকার সিংহভাগই এক্সিম ব্যাংক অব চায়নার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে বাংলাদেশ। ঋণের পরিমাণ ২৬৭ কোটি ডলার। চুক্তিতে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার ধরা হয় ৭৮ টাকা ৮৫ পয়সা। প্রতি ডলারের বর্তমান বিনিময় হার ১১৮ টাকা। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ঋণের পরিমাণ ও ঋণ পরিশোধের চাপ—দুটোই বাড়িয়ে দিয়েছে।

উচ্চ ব্যয়ের এ প্রকল্প থেকে যে রিটার্ন সরকারি কোষাগারে জমা হচ্ছে, তা ঋণের কিস্তির তুলনায় নগণ্য বলে মন্তব্য করেছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌আমরা প্রকল্প বাস্তবায়নে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি করেছি। যে ব্যয় করা উচিত তার চেয়ে দ্বিগুণ, তিন গুণ বেশি ব্যয় করে আমাদের ঋণের বোঝা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের রিটার্নের সঙ্গে বিনিয়োগ অসামঞ্জস্য হয়ে গেছে। এর খেসারত কিন্তু দেশের জনগণকে দিতে হবে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের কথাই যদি আমরা ধরি, এ প্রকল্পে দিনে দুই-তিনটা ট্রেন পরিচালনা করা হচ্ছে এখন। ট্রেনগুলো পরিচালনা করে যে রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে, প্রকল্পের ঋণের কিস্তির পরিমাণ কিন্তু তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি হচ্ছে।’

বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি হওয়ার পেছনে সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যুক্তি দিয়ে আসছিলেন, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কথা। তারা বলেছেন, নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় বাংলাদেশে সড়ক নির্মাণে সেতু-কালভার্ট বেশি করতে হয়েছে। উঁচু সড়কবাঁধ তৈরি করতে হয়েছে। নরম মাটির কারণে পিলার গভীরে নিতে হয়েছে। আর ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর বেশির ভাগই আমদানি করতে হয়েছে। এসব বিষয় অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিভিন্ন সময় মন্তব্য করেছেন সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা। সরকারি কর্মকর্তারাও একই সুরে কথা বলেছেন।

যদিও এ যুক্তি পুরোপুরি খারিজ করে দিয়েছেন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‌অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এসব ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্যের কারণে প্রকল্প ব্যয় কিছুটা বেশি হতে পারে। এসব ব্যয় আমলে নিলেও দেখা যাবে এখানে নির্মাণ ব্যয় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন তুলনামূলক স্টাডি করা হয়েছে, সেখানেও কিন্তু এ বিষয়গুলো উঠে এসেছে। বাংলাদেশে অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার বিষয়গুলো অবশ্যই পর্যালোচনা করা দরকার, যেন সামনের দিনে আমরা যখন এ ধরনের স্থাপনা করব, সেগুলো যাতে আমরা ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে করতে পারি।




সব অপরাধের বিচার হবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিভিন্ন চেষ্টায় ব্যবহৃত হয়ে যারা অপরাধ সংগঠিত করেছে তাদের আইনানুগ বিচারের মাধ্যমে শিগগিরই উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। একই কথা সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। সর্বত্র অপরাধীদের বিচার হবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ গ্রহণ শেষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাত ৯টা ২১ মিনিটে বঙ্গভবনে শপথ নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে সরকার গঠন হয়েছে তা মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করবে। অরাজকতার বিষবাষ্প যে ছড়াবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ শক্তি দিয়ে তা ব্যর্থ করবে। স্বাধীনতার সব অর্জন ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠান দিয়ে স্বৈরাচার সরকার নিজেদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিল। এসব প্রতিষ্ঠানের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা হবে। যারা অপরাধ করেছে তাদের আইনের আওতায় এনে শিগগিরই উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে। এই কথা সব মন্ত্রণালয়, সংস্থা, দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। সর্বত্র অপরাধীর বিচার হবে।

তিনি বলেন, প্রত্যেকটি অফিসের দায়িত্বরতরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্বাধীনতা উপভোগ করবেন। দেশের মর্যাদাকে গৌরবের শীর্ষে নিয়ে যাবেন।

সবাইকে নির্ভয়ে ও আনন্দচিত্তে নিজ নিজ কর্মস্থলে নিজের জায়গা থেকে সামর্থ্য নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে নতুন সরকারপ্রধান বলেন, দেশের সব মানুষকে স্বাধীন, নির্ভয়, নির্ভার, নিরুদ্রেক থাকার নিশ্চয়তা দেওয়ার জন্য ছাত্ররা শহীদ হয়েছেন। তারা গণঅভ্যুত্থান করেছেন। এই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সৃষ্ট সরকার সবার সরকার। এখানে সবার আকাঙ্ক্ষা পূরণের সরকার থাকবে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অরাজকতার বিষবাষ্প যে-ই ছড়াবে বিজয়ী ছাত্রজনতাসহ মুক্ত মানসিকতার মানুষ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ শক্তি তাদের ব্যর্থ করে দেবে।

শেখ হাসিনা সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী সরকার দূর হয়ে গেছে। কাল সূর্য উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে গণতন্ত্রের, সুবিচারের, মানবাধিকারের, নির্ভয়ে মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতার জন্য, সকলের স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনের ধারণের সুযোগ প্রদানের জন্য সচেষ্ট সরকারের বলিষ্ঠ সান্নিধ্য ও সহমর্মিতা দলমত নির্বিশেষে সবাই উপভোগ করবে, এটিই আমাদের লক্ষ্য। আপনারা আমাদের লক্ষ্য পূরণে সহযোগিতা করুন।

নতুন সরকারপ্রধান বলেন, সারা বিশ্ব আজ বলছে শাবাশ বাংলাদেশ, শাবাশ বাংলাদেশের ছাত্রজনতা। এই অর্জনটাকে আরও অনেক দূর নিয়ে যেতে চাই।

ড. ইউনূস বলেন, আমাদের ছাত্রজনতার জন্য এটি খুব কঠিন কাজ নয়। তরুণরা অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে। তারা সেজন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। সকলে যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে আর ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম পরিহার করে, তাহলে বিজয় তাদেরই হবে।

 




ভোলায় সড়ক নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজার মনিটরিংয়ে শিক্ষার্থীরা

বরিশাল অফিস :: দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ঠেকাতে এবার বাজার মনিটরিং ও চাদাঁবাজদের বিরুদ্ধে বেরিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পর এবার ভোলার কাঁচাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও দ্রব্যমূল্যের তালিকা পর্যবেক্ষণ করেন তারা।

শিক্ষার্থীরা জানান, আমারা জেনেছি যে সিন্ডিকেটে বাজার নিয়ন্ত্রণহীন ও বিভিন্ন যায়গায় চাঁদাবাজি হচ্ছে। আমরা এখানে এসেছি যেন ভোলার কোথাও সিন্ডিকেট ও কোনো চাঁদাবাজি না হয়। আমরা এটা বন্ধ করবো। আর দ্রব্যমূলের দাম কতটুকু বেড়েছে বা কমেছে সেটা দেখে ভোক্তাদেরও সচেতন করবো।

শিক্ষার্থীদের এমন কাজকে স্বাগত জানিয়েছেন ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা। শিক্ষার্থীদের বাজার মনিটরিংয়ের প্রশংসা করে চকবাজার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সুমন বলেন, তাদের এই কাজকে স্বাগত জানাই। না খেয়ে তারা রোদের মধ্যে অনেক কষ্ট করছে। এই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় জীবন দিয়েছে তবুও তারা রাস্তা ছাড়েনি। রাস্তায় কোনো পুলিশ নেই, সরকার তাদের কোনো বেতন দিবে না তবুও তারা রাস্তা সামাল দিচ্ছে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার সারাদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও, যুব রেডক্রিসেন্ট, বিএনসিসি, স্কাউটের সদস্য ও ফুল কুড়ি আসরের সদস্যরা ভোলার সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।




ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারের পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া পদত্যাগ করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য, প্রকাশনা ও জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক ড. আমানুর আমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে ই-মেইলযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।

এর আগে ২০২০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম। ২০২১ সালের জুনে বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি) বিভাগের ড. মাহবুবুর রহমান। অন্যদিকে ২০২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালামের মেয়াদ। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারারের মেয়াদ শেষ হতো ২০২৫ সালে। সরকারের পতনের কারণে তারা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তায় থাকতে চাননি বিধায় পদত্যাগ করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।




ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছেন। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, কারণ এটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের ছক নির্ধারণ করে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এসব কথা বলেছেন। আজ বহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের এসব বক্তব্যের বিষয়ে অবগত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র বলেন, গত সপ্তাহে মৃত্যু, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আহতের রিপোর্ট সম্পর্কে আমরা গভীর উদ্বেগ ও দুঃখ প্রকাশ করছি। যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন এবং যারা কষ্ট পাচ্ছেন তাদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই। আমরা সব পক্ষকে আরো সহিংসতা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা সব সহিংসতাকারী অপরাধীদের পূর্ণ জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানাই।

বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে—এমন আশা প্রকাশ করে মুখপাত্র বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্তে গণতান্ত্রিক নীতি, আইনের শাসন এবং বাংলাদেশী জনগণের ইচ্ছাকে সম্মান করতে হবে। আমরা বুঝতে পারছি নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিতে সম্মত হয়েছেন। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত, কারণ এটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য একটি গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের ছক নির্ধারণ করে। আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখছি।




আহতদের দেখতে ঢামেকে ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধাধীন রোগীদের দেখতে এসেছিলেন অন্তর্বতিকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (০৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার পর তিনি তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশ করেন।

হাসাপাতালে প্রবেশ করে তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। পরে ১০টা ৪৩ মিনিটে বেরিয়ে যান। তবে ঢামেক হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেননি।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে শপথ নেন ড. ইউনূস। রাত ৮টায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্যরা শপথগ্রহণের কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৯টায় করা হয়।

তার আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথগ্রহণ করতে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন শান্তিতে নোবেলবিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 




ড. ইউনুসকে নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ায় শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি।

এরআগে রাত ৯টা ২০ মিনিটে বঙ্গভবনে শপথ পাঠ করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩ উপদেষ্টা।

মোদি একইসঙ্গে বাংলাদেশে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার আশা প্রকাশ করেছেন এবং হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

এর পরপরই মোদি লিখেছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আমার শুভকামনা। আমরা হিন্দু ও অন্যান্য সব সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার আশা করি। শান্তি, নিরাপত্তা এবং আমাদের উভয় দেশের জনগণের উন্নয়নের যৌথ আকাঙ্খা পূরণে ভারত বাংলাদেশের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

 




পটুয়াখালীতে সহিংস প্রতিরোধ কমিটি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপরই সারা দেশের মতো পটুয়াখালীতে সৃষ্ট সহিংসতা এড়াতে প্রতিরোধে কমিটি গঠন করা হয়েছে। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টির নেতৃত্বে এ প্রতিরোধ কমিটি গঠন হয়েছে।

জেলা-উপজেলা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলেও বিএনপির নেতৃত্বে প্রতিরোধ কমিটি কাজ করছে বলে জানান জেলা যুবদল নেতা গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লব।

গত কয়েক দিন নিরাপত্তা জটিলতার কারণে জেলা পুলিশ কর্মবিরতি দায়িত্ব পালন করছে। যে কারণে সাধারণ মানুষ জানমাল নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতা এবং আতঙ্কে ভুগছে। জেলা-উপজেলাগুলোতে ঘটছে সহিংসতা ও দুর্বৃত্তায়ন।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য বাহার উদ্দিন, যুবদল যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, জেলা যুবদল দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল-আল নোমান, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক এইচএম ইয়াকুব, জেলা ছাত্রদল সাবেক সাংগঠনিক গাজী সানী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরপর একটি সুবিদাবাদী মহল প্রতিহিংসায় লিপ্ত হয়েছে। আওয়ামী লীগের আমলে ব্যক্তিগত এবং নানা ইস্যুতে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে দেশের সংখ্যালঘু একটি গোষ্ঠী আতঙ্কে রয়েছে। এসব আতঙ্ক রোধ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে প্রতিরোধ করতে জেলা শহর-উপজেলা এবং গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি নিজ খরচে দিনরাত নিরাপত্তার নিশ্চিত করেছে। মন্দিরগুলোতে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া অব্যাহত রেখেছি। যার ধারাবাহিকতায় পটুয়াখালীতে এখন পর্যন্ত কোনো সংখ্যালঘুদের ধর্মশালায় কোনো সহিংসতা ঘটেনি।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংশু সরকার কুট্টি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার স্বৈরশাসনে সাধারণ মানুষ অবরুদ্ধ এবং ক্ষুব্ধ ছিল। ফলে চলমান পরিস্থিতিতে খানিকটা বিশৃঙ্খলা এবং সংকট দেখা দিয়েছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে মানুষের জানমাল নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছি। তাছাড়া পটুয়াখালীতে আমরা সম্প্রীতি বজায় রেখেছি। ভবিষ্যতেও এ সম্প্রীতি বজায় থাকবে।




দ্রুত নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়া হবে: আসিফ নজরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, দেশে স্বৈরাচার তো পতন হয়েছে এখন অনেকগুলো রিফর্ম করতে হবে। রিফর্ম করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা দেওয়া। এর আগে প্রধান কাজ হচ্ছে ল এন্ড অর্ডার সিচুয়েশন ইম্প্রুভ করা।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) রাতে বঙ্গভবনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, যে সমস্ত হত্যাকাণ্ড হয়েছে তার বিচার করা। যারা আহত হয়েছে তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।

 




ইতিহাসে নাম লেখালেন নাহিদ-আসিফ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে উপদেষ্টা হয়ে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুরু থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন নাহিদ ও আসিফ। শেখ হাসিনা সরকারের নানা জুলুম অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করেছেন। আন্দোলন চলাকালে দুজনকেই প্রথম গুম করে নেওয়া হয়েছিল। এরপর মুক্ত করে দেওয়া হলেও হাসপাতাল থেকে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলে ডিবি হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের থেকে জোরপূর্বক আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা নেওয়া হয়েছে। তবে ডিবি হেফাজত থেকে বের হয়ে আবারও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় নিয়ে ফিরেছেন। তবে এই দুই সমন্বয়ককে দেখা যাবে নতুন রূপে।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দেখা যাবে তাদের। বাংলাদেশের অতীত ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কখনোই কোনো প্রতিনিধি ছিলোনা। তবে এবার উপদেষ্টা হিসেবে নিজেদের নাম লিখিয়ে নতুন ইতিহাসই গড়েছেন।

এর আগে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৬ ও ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু বিগত ৫ সরকারের কোনোটিতেই শিক্ষার্থীদের থেকে কোনো প্রতিনিধি ছিলো না। ১৯৯১ সালে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ১৮ সদস্যের সরকার গঠন করা হয়েছে। ১৯৯৬ সালে মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের সরকার গঠন করা হয়েছিল। ২০০১ সালে বিচারপতি লতিফুর রহমানের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের সরকার গঠন করা হয়েছিল। ২০০৬ সালে অধ্যাপক ড. ইয়াজউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বেও ১১ সদস্যের সরকার গঠন করা হয়েছিল। ২০০৭ ও ২০০৮ সালে ড. ফখরুদ্দীন আহমেদের নেতৃত্বে প্রথমে ১১ সদস্যের ও পরে ১২ সদস্যের তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়েছিল। এসকল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মধ্যে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক উপদেষ্টার সমন্বয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ স্থান পেয়েছে।

উল্লেখ্য, নাহিদ ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ও আসিফ মাহমুদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। রাজনৈতিকভাবে নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ প্রথমে ভিপি নূর এর ছাত্র অধিকার পরিষদের ছিলেন। পরবর্তীতে ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে বের হয়ে তারা ছাত্রশক্তি নামে নতুন করে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।