‘হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও এর আগের হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলাগুলো কি করে বন্ধ করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়া সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের কেবিনেট বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ এখনো নির্ধারণ হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, আগে দেশ সংস্কারই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আন্দোলনে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সাথে যমুনায় দেখা করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহামম্মদ ইউনূস। এবং আহতদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হবে।

উচ্চ আদালতে বর্তমানে বিচারকার্য বন্ধ আছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সিনিয়র আইনজীবীদের সাথে নিয়ে কত দ্রুত বিচারকার্য শুরু করা যায় সে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা সহ উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করার সুযোগ থাকবে। তারা কীভাবে সম্পৃক্ত থাকবেন সেটার কাঠামো সম্পর্কে পরবর্তীতে জানানো হবে।

এই উপদেষ্টা বলেন, কিছু আইন রয়েছে, যেগুলোর জন্য আপনারও ভুক্তভোগী। যেমন- আইসিটি অ্যাক্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট। এখন আবার সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট। আইসিটি ও ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল হলেও, অনেকে জেলে রয়েছে, শাস্তি পাচ্ছে, মামলা চলছে। হয়রানিমূলক মামলার ভেতরে সেগুলোকে আনা হবে। এবং কীভাবে পরিবর্তন আনলে এ আইনগুলো আর স্বাধীন মত প্রকাশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হবে না সেটা নিয়েও পরবর্তীতে আলোচনা করা হবে।’

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যত দ্রুত সম্ভব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এ উপদেষ্টা বলেন, গণহত্যার এমন বিচার করতে হবে, যাতে আর কখনো এমন ঘটনা না হয়। প্রতিটি গুলির বিচার আমরা চাই।

তিনি বলেন, কিছু জায়গায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। স্থানীয় অধিবাসীদের প্রতিনিধিত্ব করে এমন সংস্থাগুলোর সঙ্গে মিলে প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করা হবে।




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ: গোয়েন লুইস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের চার দিনের মাথায় বাংলাদেশে নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জাতিসংঘ সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক শেষে তিনি এই কথা জানান।

এ সময় গোয়েন লুইস জানান, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা করবে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক বিষয়ে কীভাবে সহযোগিতা করা যায় সে বিষয়েও সব দল মতের মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন তারা।

এ সময় বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও শামা ওবায়েদ।




অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনার আহ্বান চরমোনাই পীরের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাইয়ের পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকাল ৩ টায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারে পীর সাহেব চরমোনাই ঘোষিত ৯ দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উদ্যোগে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান।

বক্তব্যে মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, বর্তমানে যারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রয়েছেন আপনাদেরকে আমরা শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদেরকে আমরা বলতে চাই আপনারা ন্যায়ের পক্ষে দেশ পরিচালনা করবেন। আপনারা ইতিহাস ভুলে যাবেননা। দেশ স্বাধীন করার জন্য শিক্ষার্থীরা তাদের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ন্যায্য দাবি। ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে আন্দোলন করেছে। বাংলাদেশের মাটিতে কোনো অন্যায়কারীদের কোনো স্থান হবে না। খুনিদেরকে এদেশের মাটিতে শাস্তি দিতে হবে। যারা এদেশের টাকা লুট করেছে, বিদেশে বেগম পাড়া করেছে তাদেরকে এদেশে এনে বিচার করতে হবে। আমরা তাদের বিচারের অপেক্ষায় রয়েছি। সংখ্যালঘুদের যান মালের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের বিদায়ের পরে দেশে আবারও খুন, দখলদারি শুরু হয়ে গেছে। একারনে আবু সাঈদরা জীবন দেয়নি! আমরা নৈরাজ্য চাই না। একটা চিহ্নিত সমাজ আবারও দখলদারিত্ব শুরু করেছে। আমরা এগুলো আর চাই না। আমি দেশে শান্তি চাই। আমরা দেশে আর বৈষম্য চাইনা।

এ সময়, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে দলের মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলমসহ আরও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 




বিদ্যুৎ জ্বালানিতেও শেখ হাসিনার স্থলাভিষিক্ত হলেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকছেন অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস। তিনি ছাত্র আন্দোলনে পদচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের স্থলাভিষিক্ত হলেন।

প্রধান উপদেষ্টা বিদ্যুৎ জ্বালানির পাশাপাশি ২৭টি মন্ত্রণালয় হাতে রেখেছেন। ধারণা করা হচ্ছে আরও ২ জন উপদেষ্টা শপথ নেওয়ার পর ২৭ থেকেই কিছু মন্ত্রণালয় ছেড়ে দিতে পারেন।

স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৫১ মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অবস্থান হচ্ছে ৫২ তম।

২০০৮ সালে সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হাতে রেখে দেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ক্ষমতার শেষ দিন পর্যন্ত (২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর) মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তার অধীনে প্রথম ৬ মাস প্রতিমন্ত্রী ছিলেন অ্যাড. শামসুল আলম টুকু। প্রায় সাড়ে ৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ এনামুল হক।

আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দীর্ঘ সময়ে দায়িত্ব পালনের রেকর্ড গড়েছেন নসরুল হামিদ। ২০১৪ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার আগে কেউ এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এতো লম্বা সময় ধরে দায়িত্ব পালন করেন নি। তার সময়েই দেশের শতভাগ বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

আর সবচেয়ে কম সময় দায়িত্ব পালনের রেকর্ড রয়েছে ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হকের দখলে। ১৯৮০ সালে মাত্র ৭ দিন দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আর ১৯৯৬ সালে ১১ দিন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন অলি আহমদ বীরবিক্রম।

প্রথম মন্ত্রিসভায় এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক এম ইউসুফ আলী (২৯ ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ১২ জানুয়ারি ১৯৭২), এরপর খন্দকার মুশতাক আহমেদ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ১৩ জানুয়ারি ১৯৭২ থেকে ১৩ এপ্রিল ১৯৭২ পর্যন্ত । মন্ত্রী ড. মফিজ চৌধুরী দায়িত্বকাল ছিল ১৯৭২ সালের ১৩ এপ্রিল থেকে ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ পর্যন্ত । এরপর মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ফেরেন খন্দকার মুশতাক আহমেদ। এ দফায় ১৯৭৩ সালের ১৬ মার্চ থেকে ১৯৭৪ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

আব্দুর রব ছেরনিয়াবাত মন্ত্রীর হিসেবে দায়িত্ব পান ১৯৭৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারিতে। পরের বছর ১৯৭৫ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। একই সময়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কেএম ওবায়দুর রহমান। তার মেয়াদকাল ছিল ১৯৭৩ সালের ৪ ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের ৮ জুলাই পর্যন্ত । ড. কামাল হোসেনকে মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয় ১৯৭৫ সালের ২৬ জানুয়ারি, তিনি দায়িত্ব পালন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত ।

খন্দকার মুশতাকের মন্ত্রীসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দেওয়ান ফরিদ গাজী। তিনি মাত্র ২ মাস ১৬ দিনের মতো দায়িত্ব পালন করেন (১৯৭৫ সালের ২০ আগস্ট থেকে একই বছরের ৬ নভেম্বর পর্যন্ত)। একই সময়ে মোমিন উদ্দিন আহমেদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রথম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পান এয়ার ভাইস মার্শাল এমজি তোয়াব। তার মেয়াদকাল ছিল ১৯৭৫ সালের ১০ নভেম্বর থেকে ১৯৭৬ সালের ৩ মে পর্যন্ত । তারপর উপদেষ্টা হিসেবে আসেন কমোডোর মোশারফ হোসেন খান, আশফাক হোসেন খান, বিএম আব্বাস এটি। টানা উপদেষ্টার পর ১৯৭৮ সালের ৪ জুলাই মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বিএম আব্বাস এটি। দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৯ সালের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত । এরপর যথাক্রমে ৩ মাস মন্ত্রী ছিলেন এজেড এম এনায়েত উল্লাহ খান। ৬ মাসের মতো দায়িত্ব পালন করেন কর্নেল (অব.) আকবর হোসেন। মাত্র ৭ দিন দায়িত্ব পালন করেন ক্যাপ্টেন (অব.) নুরুল হক।

১৯৭৯ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২ জানুয়ারি ১৯৮০ পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী মওদুদ আহমেদ। তার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সুনীল কুমার গুপ্ত। ১৯৮০ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ১৯৮১ সালের ২৭ নভেম্বর পর‌্যন্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন যথাক্রমে কাজী আনোয়ারুল হক ও এলকে সিদ্দিকী। ১ মাস ১০ দিনের মন্ত্রী ছিলেন একেএম মাইদুল ইসলাম। ১৯৮১ সালের ২৭ নভেম্বর থেকে ৪ মাসের মতো প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন সুনীল কুমার গুপ্ত। এরপর উপদেষ্টা হিসেবে ১ বছর ৯ মাস দায়িত্ব পালন করেন এয়ার ভাইস মার্শাল সুলতান মাহমুদ। তিনি পরে ৬ মাসের ( ১১ ডিসেম্বর ১৯৮৩ থেকে ১ জুন ১৯৮৪) মতো মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরের ৬ মাস মন্ত্রী ছিলেন এসএম শফিউল আজম, প্রতিমন্ত্রী ছিলেন সুনীল কুমার গুপ্ত। ২ মাস মন্ত্রী ছিলেন মেজর জেনারেল মুহাম্মদ মুনএম।

প্রথমবারের মতো বেশি সময় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেন আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। তিনি ১৯৮৫ সালের ২৫ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণ করে ১৯৮৮ সালের ২৭ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনে ২ মাসের জন্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন জাফর ইমাম। জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ১৯৮৯ সালের ১৯ জুলাই থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর‌্যন্ত মন্ত্রী হিসেবে ছিলেন। ১৯৯০ সালে তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন প্রফেসর ওয়াহীদ উদ্দিন আহমেদ। বিএনপি সরকার গঠন করলে খালেদা জিয়া মন্ত্রণালয়টি হাতে রেখে দেন। প্রতিমন্ত্রী ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। কিছুদিন পর ড. খন্দকার মোশারফকে পুরোপুরি মন্ত্রী হয়ে পুরো মেয়াদকাল দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এক তরফা নির্বাচনের পরে ১১ দিন মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন অলি আহমদ বীরবিক্রম। এরপর তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনে জয়লাভের পর আওয়ামী লীগ সাবেক সেনা প্রধান মোহাম্মদ নুরউদ্দীন খানকে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৮ সালের ২৯ মার্চ পর্যন্ত । তার পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে একেএম আমানুল ইসলাস চৌধুরী উপদেষ্টা হিসেবে। বিএনপি সরকারে এলে একেএম মোশাররফ হোসেনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন। দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৫ সালের ১৮ জুন তাকে সরিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়। তিনি দায়িত্ব পালন করেন ৭ মাস, এরপর ৪ মাস প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আনোয়ারুল কবির তালুকদার। এক-এগারোর সময়ে প্রথমে হাসান মশহুদ চৌধুরী, এরপর মেজর জেনারেল রহুল আলম চৌধুরী সবশেষে তপন চৌধুরী উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।




কর্মচাঞ্চল্য ফিরছে পটুয়াখালীতে – স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি ঘিরে ও শেখ হাসিনার পদ এবং দেশত্যাগ পরবর্তী সহিংস ঘটনার পর স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসতে শুরু করেছে পটুয়াখালী । স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন। প্রয়োজনে মানুষ ঘরের বাইরে যাচ্ছেন। রাস্তায় মানুষ ও যানবাহনের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ফুটপাতের দোকানগুলোও খুলে গেছে। সকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলা থাকতে দেখা গেছে। গ্রাম-গঞ্জের মানুষ প্রয়োজনে শহরে আসছেন। স্বাভাবিকভাবে নিজেদের কাজ করতে পারছেন সবাই।

তবে সড়কের মোড়ে নেই চিরচেনা ট্রাফিক পুলিশ, নেই পুলিশের টহল গাড়ি। শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরাই ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব পালন করছে। সকাল থেকে সড়কের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়ে সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে দেখা যায় তাদের।

এদিকে, সচল রয়েছে পায়রা বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম। বর্হিনঙ্গর ও অভ্যন্তরীণ জেটিতে চলেছে পণ্য খালাস কার্যক্রম। বন্দরের নিরাপত্তায় ৪৮ জন নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মী, ৫০ জন আনসার সদস্য, ৪২ জন নৌ-বাহিনীর সদস্য কাজ করছে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী বলেন, আজ (গতকাল) বন্দরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে এমভি এন্টি গনি ফোর্স নামে একটি জাহাজ ভিড়বে। জুলাই মাসে পায়রা বন্দরে এসেছে ১২টি জাহাজ।




রাঙ্গাবালীতে কারামুক্ত ২ শিবির নেতাদের সংবর্ধনা দিলো জামায়াত-শিবির

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে বৈষমবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আটক হওয়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির রাঙ্গাবালী উপজেলার সাবেক অফিস সম্পাদক মো: নাঈম ইসলাম ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মো: আবরার হোসাইন নবীন কারামুক্ত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ কবির হুসাইনের নেতৃত্বে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা কারামুক্ত শিবিরের দুই নেতাকে স্বাগত জানাতে কোড়ালিয়া স্পিডবোট ঘাট জমায়েত হন। পরে তারা কারামুক্তদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল শোডাউন করেন।

কারামুক্ত শিবিরের ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক মো: আবরার হোসাইন নবীন ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ফুলখালী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মোস্তফার ছেলে এবং সাবেক অফিস সম্পাদক মো: নাঈম ইসলাম একই ইউনিয়নের তিল্লা গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মুহাম্মদ কবির হুসাইন বলেন, ‘পতন হওয়া স্বৈরাচারিদের বন্দিশালা থেকে মুক্তি পেয়েছে আমাদের দুই শিবির সৈনিক। তাদের এই মুক্তিতে আমরা আনন্দিত। তাই তাদের স্বাগত জানানো হয়েছে।’

উল্লেখ্য, বুধবার (৭ আগষ্ট) নারাণগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রাত পৌনে ১১টায় মুক্ত হয় বলে জানান তারা।




তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূ‌সের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকারে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদের মো: মাহবুব হোসেন এ তথ্য জানিয়েছে।

আন্দোলনকারী ছাড়াও নাহিদ ইসলামের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে বেরিয়ে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছিল গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি।

নাহিদ ইসলামের ডাকনাম ‘ফাহিম’। সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। জন্ম ১৯৯৮ সালে ঢাকায়। বাবা শিক্ষক। মা ঘর সামলে সন্তানদের মানুষ করেছেন। ছোট এক ভাই রয়েছে তার। নাহিদ বিবাহিত।

কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে তাকে দুবার আটক করা হয়। প্রথমবার, ১৯ জুলাই সাদা পোশাকধারী বেশ কয়েকজন লোক তার এক বন্ধুর বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। চোখে কাপড় বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। দুদিন পর পূর্বাচলে একটি ব্রিজের তলায় নিজেকে আবিষ্কার করেন নাহিদ। দ্বিতীয়বার, ২৬ জুলাই ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।

 




নৈরাজ্যে জড়িত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বরিশাল বিএনপি

বরিশাল অফিস :: গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে দখলদারিত্ব চালানো বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বরিশাল মহানগর বিএনপি। নৈরাজ্য দখলদারিত্ব না করে দেশ গঠনের কাজে শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি জানান নেতৃবৃন্দ।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক জানান, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী হাসিনার পতন হয়েছে। কিন্তু বরিশালের বিভিন্ন স্থাপনা, ঘাট, বাজার, সাংবাদিক সংগঠন দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি দুষ্কৃতকারী মহল। বরিশাল মহানগর বিএনপি এই দায়ভার নেবে না। একইসঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী যদি দখল কার্যক্রমে জড়িত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

একই সিদ্ধান্ত জানিয়ে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংও করছে দলটি।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পরপরই বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও দখলের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।




আ’লীগের চার প্রভাবশালী নেতার বাড়ি ধ্বংসস্তূপ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরে প্রথম ডুপ্লেক্স বাড়ি নির্মিত হয় ২০০৫ সালে ব্রাউন কম্পাউন্ড সড়কে। তখনকার সময়ে নগরে সবচেয়ে সুরম্য অট্টালিকাটির নাম দেওয়া হয় ‘বীরউত্তম ভবন’। বাড়িটিকে ঘোষণা করা হয় মুক্তিযোদ্ধা মিলনকেন্দ্র হিসেবে।

তবে এ ভবনে মাঝেমধ্যে শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা এসে বাস করতেন। তিনি হলেন এ অট্টালিকার মালিক ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান পদ ছেড়ে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত হন তিনি।

বছর তিনেক আগে নগরের বগুড়া সড়কে আরেকটি ডুপ্লেক্স নির্মাণ করেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আমির হোসেন আমু। দুটি অট্টালিকাই এখন পোড়া বাড়ি। ক্ষুব্ধ জনতা তাতে আগুন দিয়ে ভস্মীভূত করেছে।

এই দুই নেতার নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠি। এলাকায় গেলে তারা রাতযাপন করতেন এই বাড়িতে।

নগরীতে আওয়ামী লীগের আরও দুই নেতার বাসভবন পোড়াবাড়িতে পরিণত হয়েছে। তবে তাদের বাড়ি আমু ও ওমরের মতো দৃষ্টিনন্দন ছিল না। কালীবাড়ি সড়কে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ বাড়িটি বরিশালে আওয়ামী লীগের রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাসের সাক্ষী। অপরদিকে স্থানীয় আওয়ামী লীগে হাসানাত বিরোধীদের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিল নগরের নবগ্রাম সড়কে সদ্য সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীমের ‘বেগম ভিলা’।

এর মধ্যে ৩টি বাড়ি শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং জাহিদ ফারুকের বাড়িটি আন্দোলন চলাকালেই বিক্ষুব্ধ জনতা ভাঙচুর ও আগুন দিয়েছে। উৎসুক জনতা ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে আসছেন।

বীরউত্তম ভবন ::

বুধবার দুপুরে বাড়িটির সামনে গেলে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ দেখা যায়। বাড়িটির ঠিক বিপরীত দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তর। ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে ভেতরের ধ্বংসযজ্ঞ অনুমান করা যায়। ৩ তলা ডুপ্লেক্সে একটি গ্লাসও অবশিষ্ট নেই। সর্বত্র ভাঙচুর ও আগুনে পোড়ার চিহ্ন। পোড়া আসবাবপত্র এখনও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ভবনের বাইরে।

বাড়িটির তত্ত্বাবধায়ক জালাল আহমেদ দাবি করেন, দশ বছর আগে এ বাড়িটিতে চাকরি করেছেন। এখন করেন না। তবে চলাফেরা ও বাড়ির দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে বোঝা গেছে তিনিই দেখভালের দায়িত্বে আছেন। জালাল ও অন্য প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার বিকেলে তালা ভেঙে ভবনে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

আমুর বাড়ি ::

দেশের অন্যতম বৃহৎ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন গ্রুপের মালিকের বাড়ি বরিশাল নগরের বগুড়া সড়কে। গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান ও তাঁর সহোদররা এবং আমু আপন খালাতো ভাই। জানা গেছে, এ বাড়ির দুইশ গজ দূরে অপসো স্যালাইন নামক প্রতিষ্ঠানটি ছিল আমুর পৈতৃক নিবাস। ছাত্র রাজনীতির জীবনে তিনি এ বাড়িতেই থেকেছেন। পৈতৃক ভিটিতে কয়েক দশক আগে অপসো স্যালাইন নির্মিত হলে আমু বরিশালে এলে সবুর খানদের বাড়িতে উঠতেন।

বছর তিনেক আগে বাড়ির সামনে সুরম্য ডুপ্লেক্স করেন আমু। নান্দনিক সৌন্দর্যে সাজানো হয় ভবনের ভেতর-বাইর। কিছুটা আড়ালে থাকা বাড়িটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে পথচারীরা উঁকিঝুঁকি দিতেন। সোমবার বিকেলে এ আগুন দেয় ক্ষুব্ধ জনতা।

বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় বাড়িতে প্রবেশের প্রধান ফটক শেকল দিয়ে তালা লাগানো। নিরাপত্তাকর্মী ফজলু জানান, মঙ্গলবার রাতে সেনাবাহিনী এসে বাড়িটিতে তালা মেরেছে। ফটকের সামনে দাঁড়ানো স্থানীয় এক নারী জানান, সোমবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত অচেনা মুখের কিশোর-যুবকরা এসে বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে গেছে।

সেরনিয়াবাত ভবন ::

বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর বাড়ি থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী থেকে আওয়ামী লীগের পুরো জেলা এবং দক্ষিণাঞ্চলের একাংশ নিয়ন্ত্রিত হতো। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ বাড়িটিকে অনেকে বরিশালের ৩২ নম্বর বাড়িও বলতেন।

সোমবার বিকেলে বিক্ষুব্ধদের দেওয়া আগুনে তিনতলা বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপ। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগুন দেওয়া হলে রাত ৯টা পর্যন্ত জ্বলতে দেখা গেছে। বাড়ির সামনের ৪টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। দমকল কর্মীরা রাতে বাড়ির তিনতলা থেকে ৩ জনের পোড়া মৃতদেহ উদ্ধার করে। তার মধ্যে ২ জন সাদিক অনুসারী আওয়ামী লীগ কর্মী এবং একজন গৃহকর্মী বলে জানা গেছে। বুধবার ওই বাড়িতে প্রবেশের প্রধান ফটকে তালা মারা দেখা গেছে। সংলগ্ন সড়কের ব্যবসায়ীদের কেউ এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজী হননি।

বেগম ভিলা ::
নবগ্রাম সড়কের বেগম ভিলা নামের বাড়িটি জাহিদ ফারুক শামীম নির্মাণ করেন এক বছর আগে। পাঁচতলা ভবনটি থেকে তার রাজনৈতিক কার্যক্রম চলত। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন দফা হামলা চালায় জাহিদ ফারুকের বাড়িতে। নিচতলায় দেওয়া আগুন তিনতলা পর্যন্ত ছড়িয়েছে। বাসায় থাকা কমপক্ষে ৩০টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়।




বাফুফে থেকে সালাম মুর্শেদীর পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ ছাড়লেন আব্দুস সালাম মুর্শেদী। বৃহস্পতিবার (৮ আগষ্ট) রাতে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সালাম মুর্শেদীর পদত্যাগের কথা জানিয়েছে দেশের ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি।

পদত্যাগের কারণ হিসেবে বিবৃতিতে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ উল্লেখ করা হয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদে ছিলেন মুর্শেদী।

এছাড়া দেশের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির ফিন্যান্স কমিটি ও রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি; ওই দুটি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাবেক এই ফুটবলার।

কিছু দিন আগে আর্থিক কেলেংকারির দায়ে ফিফা বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয় বাফুফের একাধিক কর্মকর্তাকে। সবশেষ গত মে মাসে বৈশ্বিক ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির এথিকস কমিটি ১০ হাজার সুইস ফ্র্যাঁ জরিমানা করে মুর্শেদীকেও।

দেশের ক্ষমতার পালাবদলের পর ক্রীড়াঙ্গনেও উঠতে শুরু করেছে পরিবর্তনের দাবি। কদিন আগে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনের পদত্যাগের দাবি করে সংস্থাটির ভবনের সামনে অবস্থান নেয় ‘বাংলাদেশ ফুটবল আল্ট্রাস’ ফ্যান গ্রুপ।

এই ডামাডোলের মধ্যে বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ ছাড়লেন মুর্শেদী।