বেগম রোকেয়া নারীদের মুক্ত করেছে, রংপুর মুক্ত করবে বাংলাদেশকে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রংপুরবাসীকে পুরো বাংলাদেশকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া নারীদের মুক্ত করেছেন, এখন রংপুর পুরো বাংলাদেশ মুক্ত করবে।

শনিবার (১০ আগস্ট) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে রংপুর সফরে গিয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে এই আহ্বান জানান তিনি।

আহ্বান জানানোকালে ড. ইউনূস বলেন, নতুন বাংলাদেশ তরুণদের বাংলাদেশ। তরুণদের এখন কেউ টেনে রাখতে পারবে না, পথ পরিষ্কার করতে হবে।

তিনি আরো জানান, তোমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানদের নিরাপদে রাখবা। বলবা, সবাই আমরা ভাই। বাংলাদেশ এক পরিবার। পৃথিবীতে বহু দেশ আছে, এত সুন্দর পরিবার নাই। এত সুন্দর একটা দেশ, কোথায় চলে যেতে পারতাম আমরা! শুধু মনটা শক্ত রাখতে পারলে হতো। আর তরুণদের রাস্তা খুলে দিলে আমরা মুক্ত হয়ে যেতাম।

প্রধান উপদেষ্টা তার গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, নারীদের হাতে টাকা দিয়ে দেয়া চ্যালেঞ্জের ছিল। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করেছি। ধীরে ধীরে নারীদের উন্নয়ন হয়েছে। বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে সামাজিক ব্যবসার মডেল। নারীদের স্বাবলম্বী করে মুক্ত করার প্রেক্ষিতে তিনি রংপুরের বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে স্মরণ করেছেন। এছাড়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নানা দাবিগুলো লিখিত আকারে প্রস্তাব করার আহ্বান জানিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

 




প্রধান বিচারপতিসহ ৬ বিচারপতির পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি।

শনিবার ( ১০ আগস্ট) দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হচ্ছেন আশফাকুল ইসলাম।

এর আগে, পদত্যাগ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। তিনি বলেন, আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমি উনাকে (আইন উপদেষ্টা) জানিয়েছি নীতিগতভাবে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আজকের মধ্যে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে আশা করি।

প্রধান বিচারপতি অভিযোগ করে বলেন, বিচার বিভাগকে বাঁচানোর জন্য, কারণ সুপ্রিম কোর্ট আক্রমণ করার ঘোষণা দিয়েছে। সহকর্মী বিচারপতিরা আছেন তাদের আক্রমণ করার কথা এসেছে। ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতির বাসভবন আক্রমণ করে সব লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাদের (বিচারপতিদের) বাসা-ঘর আক্রান্ত হতে পারে, কিছু জজ কোর্ট বাইরে আক্রমণ হয়েছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এদিকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে আজ দুপুর পৌনে ১২টা থেকে রাজধানীতে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে কয়েক শ আন্দোলনকারী অবস্থান করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে জানান, প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচি চলছে।




আবু সাঈদ হলো মহাকাব্যের বীর: ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ মহাকাব্যের বীর বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, এটা একটা ঘটনা আমি গ্রামের মধ্যে এসেছি। কিন্তু বিষয়টা এটা না। বিষয়টা হলো এই জায়গাটা হলো মহাকাব্যের জায়গা। মহাকাব্যের যে বীর থাকে, আবু সাঈদ সেই বীর। এটা নিয়ে যুগে যুগে লেখালেখি হবে, স্মরণ করবে সাঈদকে। আজকে সে মাটির নিচে শুয়ে আছে।

শনিবার (১০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রংপুরের পীরগঞ্জে নিহত আবু সাঈদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি একথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আবু সাঈদ সারা জাতির জন্য, ন্যায়ের জন্য, মুক্তির জন্য বুক খুলে দাঁড়িয়ে ছিল। ছবি দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। একটা ছেলে বন্দুকের সামনে হাত উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, মারেন। গুলি করছে একটু টলটল করছে আবার দাঁড়িয়ে আছে, তারপর আরেক গুলি। এই সেই লোক (আবু সাঈদ)। কাজেই এ ঘটনা ভুলার কোনো সুযোগ নেই। শুধু এটা পীরগঞ্জের বিষয় না, বাংলাদেশের বিষয় না, এটা সারা দুনিয়ার বিষয়।

তিনি বলেন, আবু সাঈদ যে কাজটি করেছে। এটা নিয়ে যুগযুগান্তরে কবিতা হবে, উপন্যাস হবে, নাটক হবে। মানুষ স্মরণ করবে তাকে। আমাদের কাজ হলো যে স্বপ্নের পেছনে দাঁড়িয়ে সে বুক পেতে দিয়েছিল সে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হবে। এটা আমাদের সারা জাতির একটা কর্তব্য। আমরা শুধু এখানে এস কবর জিয়ারত করে চলে গেলাম। তা না । সারা জাতিকে আমরা বলতে চাই যে লক্ষ্য নিয়ে আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়েছিল। যার কারণে কোটি কোটি ছেলে-মেয়ে বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে গেছে। ভয় পায় নাই। আবু সাঈদ পথ দেখিয়ে গেছে। আজকে আমরা সেই কারণে নতুন বাংলাদেশ পেলাম। এই নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন আমাদের সবার।

আবু সাঈদের কথা স্মরণ হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলার মাধ্যমে বলে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, কাজেই আমরা যেন সেই কাজটি করি। এই আবু সাঈদ এখন এক পরিবারের সন্তান না। বাংলাদেশে যত পরিবার আছে তাদেরই সন্তান। ছোট ছেলেমেয়েরা স্কুলে পড়বে আবু সাঈদের কথা। নিজে নিজে প্রস্তুত হবে আমিও ন্যায়ের জন্য লড়বো। আমি বুক পেতে দিব। আবু সাঈদ এখন ঘরে ঘরে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আবু সাঈদের মা সবার মা এবং সবার মা আবু সাঈদের মা। কাজেই তাকে রক্ষা করতে হবে, তাদের বোনদের রক্ষা করতে হবে, তাদের ভাইদের রক্ষা করতে হবে। সবাই মিলে এটা করতে হবে।

সবাইকে রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এটা এক বাংলাদেশ, দুই বাংলাদেশ নেই এখানে। এটা আবু সাঈদের বাংলাদেশ, যেখানে কোনো ভেদাভেদ নেই।আপনাদের কাছে অনুরোধ, যে যেখানেই আছেন, সবাইকে রক্ষা করুন। কোনো রকম গোলোযোগ হতে দেবেন না।

এর আগে, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। এ সময় আবু সাঈদের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

 




গা ঢাকা দিয়েছে সাঈদীর মামলার বাদী ও সাক্ষী

বরিশাল অফিস ::পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া মরহুম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী ও সাক্ষীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

গতকাল সোমবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

মামলার বাদী উপজেলার পাড়েরহাট এলাকার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহবুব আলম, সাক্ষী গৌরাঙ্গ, আলতাফ, নবীন, মাহতাব উদ্দিনসহ অন্যদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, ‘তারা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে যেকোনো সময় দুষ্কৃতরা আমাদের ওপর হামলা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দেওয়া হয়েছিল। একজন ৭ বছরের শিশু মুক্তিযোদ্ধা বাদী হয়ে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে জেল খাটিয়েছেন এবং সরকারের মদদে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। মামলার বাদী ও সাক্ষীরা এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন।

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী মাহবুব আলমকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। এখন তিনি কোথায় আছেন জানি না। মামলার অন্য সাক্ষীদের বিষয়ে আমার জানা নেই।’




রাত জেগে মন্দির পাহারা দিচ্ছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠিতে পাড়া-মহল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি ও মন্দির পাহারা দিচ্ছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সারারাত মন্দির পাহারায় ছিলেন তারা।

জানা যায়, জেলার সব মন্দিরে মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পাহারার ব্যবস্থা করেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার রাতেও পাহারায় ছিলেন। এছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারের খোঁজ-খবর নেওয়াসহ নিরাপত্তা নিশ্চিতের কাজ করছেন।

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, আমরা নেতাকর্মীদের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশে দাঁড়াতে নির্দেশ দিয়েছি। তাদের মনে সাহস দিতে বলেছি। জামায়াত মনে করে সংখ্যালঘু বলে দেশে কিছু নেই। সবাই দেশের নাগরিক। বেশ কয়েকটি মন্দির পরিদর্শন করেছি। তাদের আশ্বাস দিচ্ছি যে, হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশে আমরা রয়েছি। হিন্দু-মুসলিম আমরা সবাই ভাই ভাই, এ দেশেরই নাগরিক।

তিনি জানান, জেলার সব মন্দিরে পাহারা নিশ্চিতে ওয়ার্ডভিত্তিক নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দু পরিবারকেও সহযোগিতা করা হচ্ছে। যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে থাকতে পারেন।

জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক এনামুল হাসান বলেন, আমরা বৃষ্টির মধ্যে জেলা শহরের মন্দিরে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছি। আমাদের ভাইদের নিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় পাহারা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি। রাতে বৃষ্টির মধ্যে কেউ সুযোগ ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করেছি।

ঝালকাঠির আড়দ্দারপট্টিস্থ পাবলিক হরিসভা মন্দির পরিচালনা কমিটির জয়ন্ত সাহা বলেন, ৫ আগস্ট রাত থেকেই আমরা নিজস্বভাবে পাহারার ব্যবস্থা করেছিলাম। সেই পাহারাদারদের সঙ্গে কয়েকজন এসে জামায়াত-শিবির পরিচয় দেন। কয়েকদিন ধরে তারা সারারাত আমাদের পাহারাদারদের সঙ্গে পাহারা দিচ্ছেন।




ব্রাজিলে যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৬২

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে একটি যাত্রীবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় বিমানটিতে থাকা ৫৮ যাত্রী ও চারজন ক্রুসহ ৬২ জন নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) সংবাদ মাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাজিলে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় কেউ বেঁচে নেই। এতে চারজন ক্রু ও ৫৮ জন যাত্রী ছিল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিমানটি ব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলীয় পারানা রাজ্যের ক্যাসকাভেল থেকে সাও পাওলো শহরের দিকে যাওয়ার পথে ভিনহেদো শহরে এসে বিধ্বস্ত হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হওয়া ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, হঠাৎ করে একটি বিমান উলম্বভাবে অবতরণ করছে। পরে এটিতে আগুনের কুন্ডলী দেখা যায়।

কর্তৃপক্ষ বলছে, বিমানটি একটি আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত হয়েছিল। এ ঘটনায় ওই এলাকার কেউ হতাহত হয়নি। তবে তারা এখনো দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে জানাতে পারেনি।

সাও পাওলো রাজ্যের দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে সাতটি উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে।

বিমান দুর্ঘটনায় ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।




পটুয়াখালীতে হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা জড়িত নন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও খেয়াঘাট দখলের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা জড়িত নয়, দাবি করে পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক শিক্ষার্থীরা।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা বলেন, পটুয়াখালীর যেসব স্থানে হামলা, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে তার সঙ্গে শিক্ষার্থীরা কোনোভাবেই জড়িত নয়। বরং এ-ই কয় দিনভর আমরা সবাই শহরের যেসব স্থানে ভাঙচুরের জঞ্জাল ও টুকরো ছিল সেগুলো পরিষ্কার করেছি।

তারা সন্ত্রাসী হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও দখলবাজি ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।




পটুয়াখালীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: নতুনভাবে দেশ গঠনে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে পটুয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার (৯ জুলাই) সকালে পৌর শহরের নিউমার্কেট এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে দলটির নেতাকর্মীরা।

তারা বলেন, ‘দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শহরকে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে স্বেচ্ছাসেবক দল কাজ করবে। আমরা প্রতিদিনই কাজ করব। আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

এ অভিযানে দলটির সভাপতি মশিউর রহমান মিলন ও সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন মোহন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সদর উপজেলাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সুজনের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন।

এদিকে সড়কগুলোতে যাতে কোনো ধরনের যানজট সৃষ্টি না হয় সেজন্য রেড ক্রিসেন্ট, রোভার স্কাউট ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।




৪ দফা দাবিতে সংখ্যালঘুদের শাহবাগ অবরোধ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেওয়ার পরদিনই নিরাপত্তা নিশ্চয়তা অর্জনের লক্ষ্যে ৪ দফা দাবি নিয়ে শাহবাগ অবরোধ করেছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

শুক্রবার (৯ আগস্ট) বিকাল ৩ টায় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করার কর্মসূচি থাকলেও একপর্যায়ে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগে অবস্থান করে। এরপর থেকেই শাহবাগে সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অবরোধে দেওয়া এক প্রেস বার্তায় তারা জানান, গণআন্দোলন ও জনরোষের মুখে ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতের যাওয়ার দিন থেকেই সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অন্যান্যদের পাশাপাশি আক্রান্ত হয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মন্দির।

বিভিন্ন জেলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়, দলটির নেতাদের ঘরবাড়ি, অফিস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া হয়, কোথাও কোথাও আগুন দেওয়া হয়। এসবের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিন্দু নেতাদের সহায়-সম্পত্তিও রয়েছে।

যশোর, সাতক্ষীরা, নোয়াখালী, ফেনী, শেরপুর, ঢাকা, পটুয়াখালী, নাটোর, মেহেরপুর, দিনাজপুর, চাঁদপুর, শরিয়তপুর, খুলনা, ফরিদপুর, রংপুরসহ আরও কিছু জেলায় হিন্দুদের স্থাবর সম্পত্তি ও উপসানালয়ে হামলা হয়েছে বলেও দাবি জানান তারা।

এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে ৪ দফা দাবি নিয়ে রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ৪ দফা দাবি হলো:

১. সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে।

২. সংখ্যালঘু সুরক্ষা কমিশন গঠন করতে হবে।

৩. সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সকল প্রকার হামলা প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪. সংখ্যালঘুদের জন্য ১০ শতাংশ সংসদীয় আসন বরাদ্দ করতে হবে।

 




দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে বরিশালে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাজার মনিটরিং

বরিশাল অফিস :: বরিশালে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ঠেকাতে বাজার মনিটরিংয়ে বেরিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পর এবার বাজার মনিটরিং এর দায়িত্ব নিলো বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) বিকাল ৫ টা থেকে বরিশাল নগরীর নতুন বাজার,নথুল্লাবাদ কাঁচাবাজারসহ অন্য বাজারগুলো মনিটরিং করেন তারা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নগরীর নথুল্লাবাদ
কাচাঁবাজার, মাংসের বাজারে মূল্যতালিকা দেখছেন। তালিকা অনুযায়ী ঠিক দামে বিক্রি হচ্ছে কিনা তাও দেখেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা বাজারের সব বিক্রেতাকে বলে আসেন তারা যেন কোনো ধরনের চাঁদাবাজি না করেন, নিজেরাও যেন কাউকে চাঁদা না দেন। এ ছাড়া অযথা দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে না ফেলারও আহ্বান জানান তারা। এ সময় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য পাইকারি বাজারের সিন্ডিকেটকে দায়ী করেন খুচরা বিক্রেতারা। এ ছাড়া চিনি স্টক করে রাখা, মাছ ও মুরগির ওজনে কারচুপি, বাজারে চাঁদাবাজি এবং রাস্তার উপর দোকানপাট, সিএনজিচালিত অটোস্ট্যান্ড পর্যবেক্ষণ করা হয়।

এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল নাইমা বলেন, সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তির জায়গা হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম। এইজন্যই আমরা বরিশালের পাইকারী বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে মনিটরিংয়ে এসেছি। আমরা আড়তে, পাইকারি-খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে দ্রব্যের দাম নিয়ে কথা বলি। তারা আমাদের জানিয়েছেন এখন থেকে ব্যবসায়ীরা সীমিত মুনাফায় দ্রব্য বিক্রি করবেন।

তিনি বলেন,আজ থেকে নগরের প্রত্যকটি বাজারে আমাদের টিম ও অন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের মনিটরিং চলবে যাতে জনগণের কষ্ট লাঘব করা যায়।