ডিজিটাল ক্র্যাকডাউনে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত হবে: নাহিদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ডিজিটাল ক্র্যাকডাউনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনতে আজ থেকেই তদন্ত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম।

আজ রবিবার সকালে সচিবালয়ে কর্মদিবসের প্রথম দিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নাহিদ বলেন, ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া কিংবা স্পিড সীমিত করে দেওয়া এটা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।তথ্য জানার অধিকার সবার আছে। তাই মানুষকে সত্য জানা থেকে বাধা দেওয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। আজকে সচিবালয়ে আমার প্রথম দিনেই আমি চেষ্টা করব বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ ও ডিজিটাল ক্র্যাকডাউনের পেছনে কারা জড়িত ছিল তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের ব্যবস্থা করার। ’

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার নবীন-প্রবীণের সমন্বয় গঠিত হলো দেশের বহুল আলোচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে ১৪ সদস্যকে গতকাল বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাত ৯টা ২০ মিনিটে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এবার সবাইকে অবাক করে নতুন সরকারে বৈষম্যবিরোধী দুই সমন্বয়ককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারের মেয়াদ কতদিন হবে তা পরিষ্কার করে কিছু বলা হয়নি।




বিটিআরসিতে বিক্ষোভ, কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি)শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছের।

আজ রবিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসি ভবনের সামনে এই বিক্ষোভ ও সমাবেশ শুরু করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় চেয়ারম্যান ও অন্য তিন কমিশনার অনুপস্থিত ছিলেন।

বিটিআরসির অর্থ, হিসাব ও রাজস্ব বিভাগের কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী আমাদের সময়কে বলেন, বিটিআরসিতে নানাভাবে বৈষম্য হয়েছে। এর বিরুদ্ধে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিক্ষোভ শুরু করেছেন। তাদের বিভিন্ন দাবি রয়েছে। অনেক সিদ্ধান্ত কমিশনারদের অন্ধকারে রেখে নেওয়া হয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা বলছেন ‘বৈষম্য ও দুর্নীতি করা বর্তমান চেয়ারম্যানের পদত্যাগ চান তারা। এছাড়া চেয়ারম্যানের সঙ্গে এই অনিয়ম-দুর্নীতির সহযোগী প্রশাসন বিভাগের উপ-পরিচালক ও একান্ত সচিব মো. আমজাদ হোসেন নিপু, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মাহদী আহমদেরও বিচার চান তারা।

এ সময় বিক্ষোভরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের উপ-পরিচালক মাহদী আহমদকে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এ বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।




মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাই: উপদেষ্টা ফরিদা আকতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: মানুষের খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপরে গুরুত্ব দিতে চান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আকতার।আজ রবিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কাজে যোগ দিয়ে তিনি এ কথা জানান।

ফরিদা আকতার বলেন, ‘প্রথম কাজ হচ্ছে মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা। আমিষ নিশ্চিত করা। খাদ্য ও সরবরারের জোগান এমনভাবে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কখনো সঙ্কট তৈরি না হয়।’

উপদেষ্টা বলেন, ‘মাত্র কাজে যোগ দিয়েছি। আমি খোঁজ খবর নেব, তারপর কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার দিতে হবে সেগুলো ঠিক করে কাজ এগিয়ে নেব।’

এর আগে, তিনি সকালে সচিবালয়ে আসেন। নিজ দপ্তরে পৌঁছালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।




চাটুকারিতা করলেই মিডিয়া বন্ধ: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, ‘চাটুকারিতা করলে মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমি আপনাদের প্রমিজ করছি যদি মিডিয়ায় চাটুকারিতা করে তাহলে মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে। মিডিয়ায় চাটুকারদের ডাকবেন না।’

আজ রবিবার সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘মিডিয়াগুলো ওই সময় যদি সত্যি ঘটনা তুলে ধরতো তাহলে পুলিশের এই অবস্থা হয় না। মিডিয়াগুলো বারবার বলেছে কিছুই হয়নি। কিন্তু বিবিসিতে আমি সব দেখেছি।’

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘টকশোতে জ্ঞান-গর্ভ কোনো আলোচনা হয় না। মিডিয়ায় সঠিক তথ্য তুলে ধরেন। একটা দেশ তখনই ডোবে, যখন মিডিয়া সত্য কথা না বলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাবেক তথ্যপ্রতিমন্ত্রী লেখাপড়া জানা লোক কিন্তু তিনি ছাত্রদের বললেন দুষ্কৃতকারী৷ এসবের বিচার হওয়া উচিত। মিডিয়ার মালিকদেরও বিচার হওয়া উচিত।’

প্রধানমন্ত্রীকে আপনারা প্রশ্ন করেন কী! আপনি অমুক। আপনি অমুক জয় করে আসছেন। এগুলো কেমন প্রশ্ন, যোগ করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।




ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে হামলা, ৫ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এস আলম গ্রুপের শতাধিক বহিরাগত জোর করে ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এসময় কর্মকর্তাদের ওপরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় দুর্বৃত্তরা।

আজ রবিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেন কর্মকর্তারা।

ইসলামী ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, তারা জামানতবিহীন, অনিয়ম করে লোন কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় আকস্মিকভাবে এস আলম গ্রুপের হয়ে কাজ করা কয়েকজন কর্মকর্তা প্রায় শতাধিক লোক অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেন।

তাদের প্রবেশে বাধা দিলে বহিরাগতরা অস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি করেন। এসময় তিন কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন। ৫ কর্মকর্তা আহত হয়েছেন যাদের মধ্যে ৩ জন গুরুতর। পরে উপস্থিত কর্মকর্তারা পাল্টা ধাওয়া দিলে তারা পালিয়ে যায়।

এসময় ইসলামী ব্যাংকের গোডাউন গার্ড (ডিজি) শফিউল্লাহ সরদার, অফিসার মামুন, আব্দুর রহমান ও বাকী বিল্লাহসহ ৫ কর্মকর্তা গুলিবিদ্ধ হন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ইসলামী ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেন কায়সার আলী। তিনি ব্যাংকটির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বুধবার ব্যাংকের কর্মকর্তার সামনে সাদা কাগজে পদত্যাগ করে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে জমা দেন কায়সার আলী।




সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব: পরিবেশ উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ‘আমাদের সরকারের দায়িত্বের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।’

আজ রবিবার সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন সরকারের এই উপদেষ্টা। সকাল ৯টায় সচিবালয়ে আসেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। এদিন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বৈঠকে করেন তিনি।

বৈঠকে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরিবেশ নিয়ে কাজ করে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা কাজে লাগাব। এটা পুরনো কাজের জায়গা, তাই এই কাজ আমার জন্য চ্যালেঞ্জ নয়।’

উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আনদোলনের সমন্বয়করা কীভাবে সরকারের সঙ্গে থেকে কাজ করবেন তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে তারা কাজ করবেন সেটা সিদ্ধান্ত হয়েছে।’



বরিশালে নদীর বেড়িবাঁধ ধসে বিপর্যস্ত ১৬ গ্রামের মানুষ

বরিশাল অফিস :: নিয়মিত মেরামত না থাকায় মাসকাটা নদীর ভারি জোয়ার, প্লাবন ও জলোচ্ছ্বাসে অনেকটা বিলীন হয়ে গেছে বরিশালের গ্রামরক্ষা বাঁধ। এ কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন ১৬ গ্রামের মানুষ। অনেক স্থানে গ্রাম থেকে গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থাও মুখ থুবড়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নদীতে ধসে যাওয়ায় বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জর অন্তত ১৬টি গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। জোয়ারের পানি ঢুকছে লোকালয়ে। গ্রামের চারিদিকে নদী। বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সামান্য জোয়ারে তাঁদের বাড়িঘর তলিয়ে যায়। বাঁধ ভাঙায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সব স্থানের মানুষ।

মাটির তৈরি এই বাঁধগুলো রাস্তা হিসেবেও ব্যবহার হতো। জাংগালিয়া ইউনিয়নের সাড়ে ৩ কিলোমিটার বাঁধ ধসে যাওয়ায় লেংগুটিয়া থেকে আমিরগঞ্জের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। নদীর উত্তরেও একই অবস্থা।

এই এলাকার বাসিন্দারা জানান, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় রাস্তাহীন হয়ে পড়েছেন জাংগালিয়া ইউনিয়নের ৮ গ্রামের মানুষ। বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা একে অন্যের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে বাঁধগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত মেরামত করা দরকার। অর্থের অভাবে তা করা যাচ্ছে না।

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে এখানকার বেড়িবাঁধগুলো টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত সংস্কারকাজ চালিয়ে যেতে যে অর্থের প্রয়োজন তা আমাদের নেই। অর্থ পেলে কাজ শুরু হবে।’

জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল হান্নান, সাম্প্রতিক দুর্যোগে ৮০ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরই মধ্যে ১৭ কিলোমিটার মেরামত করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৭ কিলোমিটার বাঁধের মেরামত কাজ চলছে।

বর্তমানে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় ২৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভাঙা ও অরক্ষিত অবস্থায় আছে।

 




পুলিশে দেড় দশকে নতুন পদ সৃষ্টি ৮৩ হাজার, নিয়োগ প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ডেস্ক :: মাঠপর্যায়ে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় মুখ্য ভূমিকা পালন করে পুলিশ বাহিনী। গত দেড় দশকে এ বাহিনীতে বিপুলসংখ্যক নতুন পদ সৃজন ও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত ১৫ বছরে বাংলাদেশ পুলিশে মোট ৮৩ হাজার ৭০টি নতুন পদ সৃজন করা হয়। কিন্তু এ দেড় দশকে শুধু কনস্টেবল, এসআই ও পুলিশ সার্জেন্ট পদে নিয়োগ দেয়া হয় ১ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯ জনকে, যা মোট পুলিশ সদস্যের প্রায় অর্ধেক।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের এ নিয়োগের বড় অংশই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে। সদ্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেড় দশকের শাসনামলে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে মূলত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার হাতিয়ার হিসেবে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে বলেন,আমাদের ক্ষমতাসীনদের একটি বড় সমস্যা হলো তারা ক্ষমতা ছাড়তে চান না; ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চান। গত দেড় দশকে এ ক্ষমতা চিরস্থায়ী এবং অর্থ লোপাট করতে গিয়ে পুলিশসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি ইনস্টিটিউশনকে দলীয়করণ করা হয়েছে। পুলিশের এ বড় নিয়োগের পেছনেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য মুখ্য ছিল এবং ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবে তাদের ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে তারা জনগণের আস্থা হারিয়েছে।’

জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে গত দেড় দশকে পুলিশ বাহিনীর পরিবর্তন নিয়ে গত নভেম্বরে প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে পুলিশের সদস্য সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ১৩ হাজার। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫ হাজার ৯২৫ জন কনস্টেবল, ১১ হাজার ৫১০ জন এসআই ও ২ হাজার ৪৮৪ জন পুলিশ সার্জেন্টকেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর। তাদের মধ্যে এসআই ও সার্জেন্ট পদে সবচেয়ে বেশি নিয়োগ দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদে। এ মেয়াদে এসআই পদে ৪ হাজার ৯০৮ জন এবং সার্জেন্ট পদে ৭২৭ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। এছাড়া ২০০৯-২০১৩ সময়কালে এসআই পদে ৩ হাজার ৭৫১ ও সার্জেন্ট পদে ৪২৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। ২০১৪-২০১৮ সময়কালে এসআই পদে ২ হাজার ৮৪৫ ও সার্জেন্ট পদে ৪২৬ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়।

এ দেড় দশকে দেশে ৬৪টি নতুন থানা, ৯৭টি তথ্যকেন্দ্র ও একটি ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। এছাড়া দেড় দশকে পুলিশের জন্য মোট ২ হাজার ৭৬০টি পিকআপ, ৫২৪টি জিপ, ৩৫৪টি ট্রাক, ১৩টি এপিসি, ১৭৮টি জলযান এবং ৭ হাজার ৬৩৪টি মোটরসাইকেল কেনা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্রও আধুনিকায়ন হয়েছে।

বাংলাদেশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও একাধিকবার উদ্বেগ জানানো হয়েছে। তবে সর্বশেষ কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচারে গুলির ঘটনা জনরোষ তৈরি করে। এর ধারাবাহিকতায় গণ-অভ্যুত্থানে পতন ঘটে আওয়ামী লীগ সরকারের। দেশের বিভিন্ন থানায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি অনেক পুলিশ সদস্যের মৃত্যুও ঘটেছে।

বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট একদিনে সারা দেশে ৪৫০টিরও বেশি থানা আক্রান্ত হয়েছে। এর আগে ৪ আগস্টেই মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জন পুলিশ সদস্যের। আহত হয়েছিল তিন শতাধিক। এসব ঘটনার জেরে পুলিশকে ‘রাজনীতিমুক্ত’ রেখে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়াসহ ১১ দফা দাবিতে কর্মবিরতিতে যান নন-ক্যাডার পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তারা। ফলে দেশের সব থানাসহ ট্রাফিক পয়েন্টগুলো কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়।

ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন,পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরো আগেই চলে গিয়েছিল। দেখা যেত মানুষ তখনই পুলিশের কাছে যেত, যখন তার আর উপায় থাকত না। কিন্তু তখনো দেখা যেত যে ভুক্তভোগী পুলিশের সহায়তা পাচ্ছে না, বরং অপরাধীকেই পুলিশ রক্ষা করছে। ফলে মানুষ পুলিশের ওপর আরো আগেই আস্থা হারিয়ে ফেলেছিল। গত কয়েক দিনে আমরা পুলিশের প্রতি জনগণের যে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখালাম, তা একসময় ঘটতই। ছাত্র-জনতার আন্দোলন থামাতে পুলিশ যেভাবে দলীয় নির্দেশে কাজ করেছে, গুলি চালিয়েছে, তার জেরে এটা আমরা এখন দেখতে পেয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, তবে পুলিশ হত্যা বা থানায় ছাত্ররা আগুন দিয়েছে বলে মনে করি না। কারণ তারা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে বিচার চেয়েছিল। এ সহিংসতা হয়তো কোনো সুযোগসন্ধানী মহল করেছে। তবে আমাদের দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে কাজে ফেরাতে হবে। যে ছাত্ররা কোটা সংস্কার থেকে রাষ্ট্র সংস্কারে আন্দোলন করছে, তারা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে, বাকিদেরও এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে, সব পুলিশই অপরাধী নয়, যারা হুকুম পালন করেছে এবং যারা হুকুম দিয়েছে তাদের উভয়েরই বিচার করতে হবে। আর পুলিশসহ সব ইনস্টিটিউটে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে, যেন ইনস্টিটিউটগুলো রাজনৈতিক ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার পরিবর্তে জনকল্যাণে কাজ করে। এ পরিবর্তন একদিনে আসবে না। এজন্য ধৈর্য ধরতে হবে।’

দেশজুড়ে পুলিশের ওপর হামলার জেরে ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতি ঘোষণা দেন পুলিশ সদস্যরা। দেশের সব থানাসহ ট্রাফিক পয়েন্টগুলো কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তা ক্ষেত্রে একটি বড় সংকট তৈরি হয়েছে। ৭ আগস্ট পুলিশ সদস্যদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেয়া হয়। তবে এ সময় পুলিশের অনেকেই নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তায় গতকাল দেশের বিভিন্ন থানার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, এ সংকট নিরসনে পুলিশকেই সামনে এগিয়ে আসতে হবে এবং সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে জনগণের আস্থা অর্জনে। পুলিশের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার বিষয়ে সাবেক আইজিপি মুহম্মদ নূরুল হুদা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুলিশকে পুনর্গঠন করতে হবে, তবে পুনর্গঠন সহজ বিষয় নয়। এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া এবং ব্যাপক আলোচনার বিষয়। আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশকে সামনে আসতে হবে। জনসম্মুখে আসতে হবে। তাদের কাজে ফিরতে হবে।’

পুলিশের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নতুন অন্তর্বর্তী সরকারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘পুলিশ যা করেছে, তা নিঃসন্দেহে অমার্জনীয়। সেটার জন্য যারা সবচেয়ে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই পদক্ষেপ নেয়া হবে। তবে অনুসন্ধানের আগেই জনগণ যদি পুলিশকে মেরে ফেলে, সেটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দেড় দশকে এত পুলিশ অবশ্যই রাজনৈতিক কারণেই নিয়োগ দেয়া হয়েছে। রোববার মন্ত্রণালয়ে যাব, সেখানে পুলিশ নিয়ে কথা হবে। পুলিশকে কীভাবে রাজনীতিমুক্তভাবে পরিচালিত করা যায়, নিয়োগপ্রক্রিয়াকে কীভাবে আরো স্বচ্ছ করা যায়, যেসব পুলিশ মারা গেছে, তাদেরকে ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেয়া যায়, এসব বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কতদিন থাকতে পারব। তবে যতদিন থাকব, পুলিশে সংস্কারে কাজ করে যাব। পুলিশে কীভাবে রাজনৈতিক দলের হস্তক্ষেপ বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে কাজ করব। আমি চাই, পুলিশকে এমনভাবে সংস্কার করতে, যেন পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কেউ ব্যবহার করতে না পারে। এ ধরনের কিছু মেকানিজম আমরা তৈরির চেষ্টা করব। পুলিশকে কতখানি জনবান্ধব করা যায়, পুলিশের ভেতর দুর্নীতি কতখানি কমানো যায়, সে বিষয়ে কিছু ধারণা দেয়ার চেষ্টা করব। প্রয়োজনে দেশ-বিদেশের পুলিশিং ব্যবস্থা দেখব। তবে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, পুলিশ কিন্তু মানব প্রজাতিরই অংশ। তারা প্রযুক্তি নয় যে, কোথায় সমস্যা আছে, তা নির্ধারণ করে একদিনেই সমাধান করে ফেলা যাবে। এটা জটিল ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।




সালাদ খেলে কমবে ওজন

চন্দ্রদ্বীপ লাইফস্টাইল  :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেসব প্রস্তাবনা দিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন, অস্ত্র ছিনিয়ে মিছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের

প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
প্রাইভেটকারে পাওয়া গেল ৮৮ লাখ টাকা
বিএনপি ও যুবদলের তিন নেতা বহিষ্কার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেসব প্রস্তাবনা দিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক
সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন, অস্ত্র ছিনিয়ে মিছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
প্রাইভেটকারে পাওয়া গেল ৮৮ লাখ টাকা
বিএনপি ও যুবদলের তিন নেতা বহিষ্কার
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে যেসব প্রস্তাবনা দিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক
সেনাবাহিনীর গাড়িতে আগুন, অস্ত্র ছিনিয়ে মিছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের
প্রধান বিচারপতি হলেন সৈয়দ রেফাত আহমেদ
প্রাইভেটকারে পাওয়া গেল ৮৮ লাখ টাকা
বিএনপি ও যুবদলের তিন নেতা বহিষ্কার।

অতিরিক্ত ওজন দেহের জন্য কখনই মঙ্গল বয়ে আনে না। অসংক্রামক অনেক রোগের জন্য বাড়তি ওজন দায়ী। অস্বাস্থ্যকর বিভিন্ন খাবার সহ প্রসেস ফুড খাওয়ার অভ্যাস দিন দিন দেহের ওজন বাড়িয়ে তোলে। যার ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, হৃদরোগ সহ নানা অসংক্রামক ব্যাধি বেড়েই চলছে।

তবে অনেকেই ওজন কমাতে চায় ঠিকই, কিন্তু খাওয়ার সময় সেটা মনে থাকে না। ফলে ওজনও কমে না। তবে নিয়মিত পেট ভরে খেয়েও ওজন কমানো সম্ভব। এজন্য দিনে অন্তত একবার সালাদ খেতে হবে।

কম ফ্যাট, কম ক্যালোরি এবং পানিযুক্ত সবজি ও ফল যেমন ক্যাপসিকাম, লেটুস পাতা, শসা, টমেটো, মুলা, গাজর, পেঁয়াজ, তরমুজ, আঙ্গুর, আম, স্ট্রবেরি দিয়ে সালাদ খেতে পারেন। কারণ সালাদ ফাইবারের ভালো উৎস, এতে হজমশক্তি বাড়ে। নিয়মিত সালাদ খেয়ে আপনি ওজন কমাতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক কিছু মজাদার সালাদের রেসিপি যা ওজন কমাতে সাহায্য করবে:

ডিমের সালাদ

যা লাগছে

ডিমের সাদা অংশ ( ২টি ডিম),সবুজ আপেল: ১টা,টমেটো: ২টো,অলিভ অয়েল: ১ চামচ, লবণ পরিমাণমতো, গোলমরিচ গুঁড়া

 

যেভাবে বানাবেন

 

ডিম, আপেল, টমেটো চৌকো করে কেটে নিন। এবার সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। লেটুস পাতা দিতে পারেন। সেই সঙ্গে সিজনিং করুন অলিভ অয়েল, লবণ আর গোলমরিচের গুঁড়াতে। প্রতিদিন সকালে একবাটি করে খেলে ওজন কমবেই।

চিকেন-বুট সালাদ

অনেকের দুপুরবেলা বেশি খাওয়া হয়ে যায়। যার ফলে ওজন কমার বদলে বাড়তে থাকে। তাদের জন্য রইল দুপুর বেলার এক সুস্বাদু সালাদ। এই সালাদ ভোজনরসিকদের মনকে শান্ত রাখবে এবং পাশাপাশি ওজনও কমাবে।

 

যা লাগছে

মুরগির সেদ্ধ হাড় ছাড়া মাংস ২৫ গ্রাম, ফ্যাট ছাড়া দই ২ টেবিল চামচ (টক মিষ্টি দই ব্যবহার করতে পারেন), ১ টি শসা, ১ কাপ ছোলা বুট সেদ্ধ, লেটুস, ১০/১৫ টি আঙুর লবণ, সামান্য লবণ এবং ১ চা চামচ অলিভ অয়েল।

যেভাবে বানাবেন

ছোলাবুট সারারাত ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করে নিন। মুরগির সেদ্ধ মাংস ছোট ছোট টুকরা করে নিন। শসা কেটে নিন কিউব করে। এরপর সব উপকরণ একসাথে দই এবং অলিভ অয়েল দিয়ে মিশিয়ে নিন। দুপুরে ভারী খাবার বাদ দিয়ে এই সালাদটি খান ওজন কমবে।

সবজি সালাদ

 

যা লাগছে

গাজর: ২টি, মুলা: ১টি, ক্ষীরা/ শসা: ২টি , টমেটো: ৪টি, ক্যাপসিকাম (ঐচ্ছিক): ১টি, পেঁয়াজ পাতা বা পেঁয়াজকলি: ১ আঁটি, লেটুস পাতা: ৬টি

যেভাবে বানাবেন ::

সব সবজি ধুয়ে রাখুন। গাজর খোসা ছাড়িয়ে ৬ সে.মি. লম্বা ফালি করুন। মুলা খোসাসহ গোল চাক করে কাটুন। ক্ষীরা খোসা ছাড়িয়ে লম্বা ফালি করুন। টমেটো ও ক্যাপসিকাম লম্বা টুকরো করুন। পেঁয়াজ পাতার পেঁয়াজের পাতলা খোসা ছাড়ান। পেঁয়াজসহ পেঁয়াজ পাতা লম্বা রেখে আগা কেটে ফেলুন। কচি এবং ছোট আকারের লেটুস পাতা নিন। আয়তাকার স্বচ্ছ কাচের পাত্রে সবজিগুলো রং মিলিয়ে নিজের পছন্দমতো সাজিয়ে নিয়ে পরিবেশন করুন।

 




পাপন-সালাউদ্দিন পদে থাকবেন কি না, যা বললেন আসিফ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে গত সোমবার দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন শেখ হাসিনা। অবসান হয়েছে তার ১৬ বছরের শাসনামলের। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ পদেও হচ্ছে রদবদল। পরিবর্তনের দাবি উঠেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনেও (বাফুফে)।

আ হ ম মোস্তফা কামালের পর ২০১৪ সাল থেকে বিসিবির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন পাপন। আর সালাউদ্দিনও বাফুফেতে আছেন এক যুগ ধরে। ২০১২, ২০১৬ ও সর্বশেষ ২০২০ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাফুফে প্রধানের চেয়ারে বসে আছেন সালাউদ্দিন। তার আমলে বাংলাদেশ ফুটবলে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নতি করেনি। তাই তাদের দুইজনের ওপরই ক্ষোভ আছে ভক্তদের।

বিসিবি ও বাফুফেতে পরিবর্তন আসতে পারে কি না, জানতে চাইলে অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্ব পাওয়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘নেতৃত্বের ব্যক্তি নিয়ে কথা বলা উচিত নয়। আমরা প্রসেসের জন্য, সিস্টেমের জন্য আন্দোলন করেছি। সিস্টেমে বিশ্বাস করি, আমরা সিস্টেমের সংস্কার করব। একটা সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করব, সেখানে যিনিই নেতৃত্বে আসবেন, প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।’

আগামী ৩ অক্টোবর শুরু হতে যাচ্ছে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বাংলাদেশের এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে সেই আয়োজন হুমকির মুখে পড়েছে কি না সেটি নিয়েও চলছে আলোচনা। এমনকি আইসিসিও বিকল্প ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত ও শ্রীলঙ্কার কথা ভাবতে শুরু করেছে।

তবে আসিফ মাহমুদ আশার কথাই বললেন, ‘আমি এখন থেকেই তৎপরতা শুরু করেছি। আশা করি, এটা (নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ) বাংলাদেশের বাইরে যাবে না। দেশ গঠনের সময়ে যদি এ রকম কিছু ঘটে, তাহলে সেটা আমাদের ভাবমূর্তির জন্য খুবই ক্ষতিকর হবে।