বদলে যাচ্ছে পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগো

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::পুলিশের ইউনিফর্ম ও লোগো পরিবর্তন করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন।

আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গত রোববার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠকে এ তথ্য জানান তিনি।

এম সাখাওয়াত হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘পুলিশের ইউনিফর্ম, লোগো সব পরিবর্তন করা হবে। অনেকের মন ভেঙে গেছে, এই ইউনিফর্ম পরে পুলিশ আর কাজ করতে চাইছে না। খুব দ্রুতই তা পরিবর্তন করা হবে। এসব বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।‘

 রাজনৈতিক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘পুলিশের যতটা না দোষ, তার চেয়ে বেশি দোষ, তাদের যারা কমান্ড করেছে। তাদের দিয়ে অনেক রাজনৈতিক কাজ করানো হয়েছে। এসব বিষয়ে আমরা বিস্তারিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করব। পুলিশ সদস্যরা আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, এখন থেকে তারা ঠিকমতো কাজ করবেন।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘পুলিশ কমিশন হওয়া উচিত। সেই কমিশনের অধীনে পুলিশ পরিচালিত হবে। তারা কোনো রাজনৈতিক দলের অধীনে থাকবে না। পুলিশকে যেন রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার না করা হয়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

এদিকে বৈঠক শেষে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল শোয়েবুর রহমান। তারা বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছিলাম তার বেশিরভাগই মেনে নেয়ার আশ্বাসে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি, সবাই সুন্দরভাবে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরবেন।’

তারা আরও বলেন, ‘খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। পুলিশের দাবিগুলোর বেশিরভাগই মেনে নেয়া হয়েছে। দ্রুত পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ নিয়ে স্বাধীন একটি কমিশন হওয়ার ব্যাপারেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।‘

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সিনিয়র সচিব মশিউর রহমান, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. ময়নুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনারে প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য বিচারপতিরা।

আজ সোমবার প্রথমে সকাল সোয়া ৭টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকা ত্যাগ করে বিচারপতিদের গাড়িবহর।

পরে সেখান থেকে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যান।

এদিকে, সাতদিন বন্ধ থাকার পর আজ খুলছে হাইকোর্ট বিভাগ। ৮ বেঞ্চে সীমিত পরিসরে চলবে বিচারকাজ।

শনিবার দুপুরে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেন সাবেক প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। একই দিন রাতে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সৈয়দ রেফাত আহমেদকে। রবিবার রেফাত আহমেদকে বঙ্গভবনে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।




দিল্লির পররাষ্ট্রনীতি হাসিনার স্বৈরাচারী প্রবণতা উসকে দেয়

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নাটকীয়তায় অনেকেই হতবাক হয়েছেন। তবে নেপালিদের কাছে ওই গল্পটা খুব পরিচিত। সাবেক রাজাসহ নেপালি রাজনৈতিক নেতারা পদচ্যুত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে আলাদা কেউ নন। তারা সবাই গণতন্ত্র ও স্বৈরাচার এবং সুশাসন ও দুঃশাসনের মধ্যকার রেখাকে হালকা করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ভূমিকা এবং দেশটির পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে, তা আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণের দাবি রাখে।

নেপালের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে- যে পররাষ্ট্রনীতির ওপর দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দিল্লি এ যাবৎকাল তাদের সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল, তা হাসিনার স্বৈরাচারী প্রবণতাকে উসকে দিয়েছে। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের যে গণতান্ত্রিক দাবি ছিল এবং তারা যে আকাক্সক্ষার প্রতি প্রবল ইচ্ছা পোষণ করছিল, তা বুঝতে ব্যর্থ হয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রনীতিসংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশের অবস্থান এবং কৌশলগত গুরুত্বের কারণে ভারতের একাধিক উদ্বেগ ও নিরাপত্তার বাধ্যবাধকতা ছিল। যার সুযোগে হাসিনা হয়ে ওঠেন ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র। দিল্লির সঙ্গে তার ঐতিহাসিক এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে দেশটির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করা তাদের পক্ষে সহজ ছিল। হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগের প্রতি ভারতের সমর্থনের কারণ হচ্ছে -দিল্লির কৌশলগত ও অর্থনৈতিক স্বার্থরক্ষায় কাজ করেছে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত হওয়া হাসিনার সরকার।

এ বছর জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনে হাসিনা এবং তার দলের প্রতি ভারতের প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের জনগণের কাছে ধরা পড়ে। ভারতের আধিপত্যের বিরোধী দলগুলোকে নানাভাবে বুঝিয়েও আওয়ামী সরকার তাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেনি। বাংলাদেশের বৃহত্তর নাগরিক সমাজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে নির্বাচন বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেছে ভারত। যার ফল খুব একটা ভালো হয়নি। নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। এ ছাড়া নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও কারচুপির খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মতো পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ভারত ওই নির্বাচনের ফলের বৈধতা দিয়ে হাসিনার পক্ষে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল। এভাবে হাসিনার অন্যায় ও জোরপূর্বক ক্ষমতায় পিষ্ট হওয়াকে সমর্থন করার কারণে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে ভারত বিরোধিতা প্রবল আকার ধারণ করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি গত এক দশক ধরে বাস্তববাদ এবং নমনীয়তার পরিপ্রেক্ষিতে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। তবে এ ক্ষেত্রে তারা ভারতের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে আসছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তার বই, দি ইন্ডিয়া ওয়েতে ‘কৃষ্ণের পছন্দ’ ধারণাটিকে সমান্তরাল বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। এর অর্থ হলো-সামষ্টিক ধার্মিকতার পরিবর্তে ধর্মকে স্বার্থসিদ্ধ হিসেবে ব্যবহার করা। এ ধরনের পররাষ্ট্রনীতি দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত বিরোধিতাকে ক্রমান্বয়ে উসকে দিচ্ছে। জয়শঙ্করের দর্শন অনুসারে ভারতের জনপ্রিয় হওয়ার প্রয়োজন নেই, তারা কেবল তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত করতে চায়। তবে এসব চিন্তাধারার বিপক্ষে দক্ষিণ এশিয়াতে ভারত বিরোধিতা প্রকট হচ্ছে।

এ ক্ষেত্রে যদি ভারত দক্ষিণ এশিয়া এবং তার বাইরে একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে নেতৃত্বের দাবি করতে চায়, বৈশ্বিকভাবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চায় বা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চায়; তাহলে দিল্লিকে অবশ্যই তাদের পররাষ্ট্রনীতির স্তম্ভ হিসেবে গণতন্ত্রকে গ্রহণ করতে হবে। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রতিবেশী দেশগুলোর বৃহত্তর স্বার্থ বিশেষ করে গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

 




পলকের নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করে বিটিআরসি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সারাদেশে একযোগে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কাণ্ড অনুসন্ধানে একে একে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সে সময় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) ও ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে (আইআইজি) অপারেটরদের এড়িয়ে সরাসরি সাবমেরিন কেবল ও ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল ক্যাবল (আইটিসি) অপারেটরদের মাধ্যমে সারাদেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়। সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের নির্দেশেই বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট সার্ভিস। এ ছাড়া ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনায় জড়িত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদসহ কতিপয় কর্মকর্তা। আইটিসি অপারেটররা বলছেন, বিটিআরসির সিদ্ধান্তে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ করেন তারা।

এদিকে ইন্টারনেট বন্ধের নেপথ্যে মূল কারণ কী ছিল এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত ছিল- তা অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (টেলিকম) একেএম আমিরুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়েছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের নির্দেশে। গতকাল মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার সঙ্গে কারা জড়িত, তা জানতে চেয়ে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেন। এরপরই এ কমিটি গঠন করা হয়। জানা গেছে, কমিটি আজ সোমবারের মধ্যেই এ সংক্রান্ত একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।

বৈঠকে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন। কার নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়, তা বের করতে হবে। মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির কোন কোন কর্মকর্তা অতি উৎসাহী হয়ে ইন্টারনেট বন্ধে সহযোগিতা করেছেন, তা-ও খতিয়ে দেখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকালে কারফিউ শুরুর আগে ১৭ জুলাই (বুধবার) মধ্যরাত থেকে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা এবং ১৮ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টা থেকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের পর ঢাকার মহাখালীর খাঁজা টাওয়ারে ডেটা সেন্টার আগুনে পুড়ে যাওয়ার অজুহাত সামনে আনা হয় শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ থেকে। সে সময় বলা হয়, আগুনে তার পুড়ে যাওয়া এবং অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট সার্ভিস বন্ধ হয়ে গেছে। ২২ জুলাই প্রতিমন্ত্রী পলকের নামে মোবাইল ফোন গ্রাহকদের প্রতি দেওয়া এক খুদেবার্তায় বলা হয়, সন্ত্রাসীদের অগ্নিসংযোগের কারণে ডেটা সেন্টার ও আইএসপির তার পুড়ে যাওয়ার কারণে সারাদেশে ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে। মেরামত করতে সময় লাগবে।

তবে তার বক্তব্য পুরোটাই মিথ্যাচার ছিল বলে জানিয়েছে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। সংস্থাটির সভাপতি ইমদাদুল হক  বলেন, ত্রাণ ভবনে আগুন লাগলে সেখানকার ডেটা সেন্টার কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ জন্য পুরো দেশের ইন্টারনেট শাটডাউন হয় না। ওইদিন রাতেই ইন্টারনেট পুরোপরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডেটা সেন্টার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ইন্টারনেট বন্ধের যে দাবি করেছিলেন, তা সঠিক ছিল না। তখন আমাদের ওপরও চাপ ছিল।

এদিকে আইআইজি অপারেটররা বলছেন, তাদের এড়িয়ে সরাসরি আইটিসি অপারেটরদের ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে তারাও আইএসপিদের ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে পারেনি।

আইআইজি অপারেটরদের একটি সূত্র জানায়, ২৮ জুলাই দুপুরে সীমিত আকারে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু করা হলেও তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় ফেসবুক, টিকটকসহ সকল মেটা সার্ভিস ব্লক করে রাখতে। সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বরাত দিয়ে বিটিআরসি থেকে মৌখিকভাবে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে আইআইজি অপারেটরদের সংগঠন আইআইজিএবির সাধারণ সম্পাদক জোনায়েদ আহমেদ  বলেন, সাধারণত যখন এ ধরনের শাটডাউন করা হয়, তখন গেটওয়ে অপারেটরদের জানানো হয়। তবে এবারই প্রথম দেখলাম, আমাদের বাইপাস করে তারা সাবমেরিন কেবল অফ করে দেয় এবং আইটিসিদের টোটাল শাটডাউন করতে বলা হয়। ফলে ওইদিন আমাদের হাতে আর কিছু ছিল না। সাবমেরিন কেবল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমরাও আইএসপিদের ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করতে পারিনি।

বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলস কোম্পানির (বিএসসি) তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে মোট ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৫ হাজার জিবিপিএসেরও বেশি। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৭শ জিবিপিএস আসে আইটিসি লাইসেন্সের মাধ্যমে। অবশিষ্ট ২ হাজার ৪০০ জিবিপিএসের মতো ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে বিএসসি। দুটি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে এ ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হয়। ফলে আইটিসি ও সাবমেরিন কেবল বন্ধ করে দেওয়ায় কার্যত সারাদেশে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

একাধিক আইটিসি সূত্র জানায়, আন্দোলনকালে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ইন্টারনেট শাটডাউন করতে তারা বাধ্য হন।

সাবমেরিন কেবল বন্ধের বিষয়ে জানতে বিএসসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধের বিষয়টি স্বীকার করেন। বলেন, আমরা তো লাইসেন্সি কোম্পানি। নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আমরা সেভাবে কাজ করেছি।

সার্বিক বিষয়ে জানতে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এরপর বিটিআরসির কার্যালয়ে গিয়েও তার দেখা মেলেনি। এদিকে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্তে নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে বিটিআরসির এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। বেশির ভাগ কমিশনারকেই অন্ধকারে রেখে ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান বিটিআরসির কমিশনাররা।

বিটিআরসির অর্থ হিসাব ও রাজস্ব কমিশনার ড. মুশফিক মান্নান চৌধুরী বলেন, ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত পলিসিগত সিদ্ধান্ত। বিটিআরসির নিয়ম পলিসিগত সিদ্ধান্ত নিতে হলে পুরো কমিশনের বৈঠক ডাকতে হবে। অথচ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিটিআরসির কমিশনারদের সঙ্গে আলোচনাই করা হয়নি।

 




আজ থেকে সড়কে ফিরছে ট্রাফিক পুলিশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পুলিশে সংস্কারের দাবিতে কর্মবিরতিসহ সব কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যরা। সোমবার (১২ আগস্ট) থেকে তারা সবাই কাজে যোগ দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকের পর আন্দোলনকারী পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল শোয়াইব হাসান এ ঘোষণা দেন।

তারা গণমাধ্যমে জানান, ‘আমরা সরকারের কাছে যেসব দাবি জানিয়েছিলাম তার বেশিরভাগই মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আমরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছি। আশা করি সবাই সুন্দরভাবে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরবেন।’

প্রসঙ্গত, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনার পর বেশকিছু দাবিতে গত ৬ আগস্ট থেকে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ পুলিশ অধস্তন কর্মচারী সংগঠন।

এর আগে রোববার রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্দোলনরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেন। বৈঠকে পুলিশের আইজিপি, র‌্যাবের ডিজিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় এম সাখাওয়াত হোসেন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দেশে পুলিশ ফিরে না এলে কী অবস্থা হতে পারে তা আপনারা জানেন। একটু আগে ব্যাংকের মধ্যে মারামারি দেখলাম। মনে হচ্ছে, যার মতো যা পারে দখল করতে করছে। আমি প্রথমেই বলতে চাই, যারা এখনো কর্মস্থলে ফেরেননি তাদের ফেরার সর্বশেষ তারিখ হচ্ছে বৃহস্পতিবার।

এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে যোগদান না করলে আমরা ধরে নেব, আপনারা চাকরি করতে ইচ্ছুক নন। এ বিষয়ে পুলিশের আইজিপি, র‍্যাবের ডিজি এবং ডিএমপির কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করেছি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে যে যার স্থানে চলে যাবেন।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে আপনারা ডিউটিতে থাকবেন। কারও গায়ে অহেতুক কেউ হাত দিবেন না। বিচারের প্রক্রিয়াটা করব আমরা। কিন্তু বিচার বিভাগ তাদের বিচার করবে। বড় বা ছোট যারা দোষী হবেন তাদের পানিশমেন্ট দেওয়া হবে। কাউকে ঢালাওভাবে দোষারোপ করা যাবে না।

জনগণের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বলেন, আপনারা পুলিশের গায়ে হাত উঠাবেন না। আপনারা নিজেরাই সাফার করছেন। রাতে আমার কাছে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতি হচ্ছে বলে ফোন আসে। আমি বলি, আল্লাহ আল্লাহ করো। ডাকাতি হলে পুলিশ না থাকলে কী করবে?

তিনি আরও বলেন, পুলিশের আহতদের আমি এইমাত্র দেখে এসেছি। আমাদের যতদূর করা দরকার তা আমরা করব। আপনারা বৃহস্পতিবারের মধ্যে জয়েন করেন। এটা প্রথম প্রায়োরিটি। একটু আগে দেখলাম আনসারের একটা অংশ রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে। তাদের কিন্তু দাবি দাওয়া আছে। সবার দাবি দাওয়া আছে। আমারও দাবি দাওয়া আছে। আমার দাবি দাওয়া হচ্ছে আপনারা ফিরে যান আমি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হিসেবে যতটুকু করা দরকার ইমিডিয়েটলি করব। আমি কোনো রাজনৈতিক লোক না। আমি যা বলব তাই করব।




ভান্ডারিয়ায় এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়িতে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম ও তার বড় ভাই পিরোজপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের বাড়ি, গোডাউন ও অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

গত সোমবার (৫ আগস্ট) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেদিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় সেদিন বিকালে অন্যান্য এলাকার মতো ভান্ডারিয়াতেও অগ্নিকাণ্ড, ভাঙচুর ও হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবর পিরোজপুরে পৌঁছিলে গত সোমবার দুপুরের পর শহরে ছাত্র-জনতা মিছিলসহ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। এরপর তারা জেলা আওয়ামী লীগ অফিসসহ বিভিন্ন বাড়ি-ঘরে হামলা করে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি এ কে এম এ আউয়ালের বাসভবন তার মেজো ভাই পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান মালেক ও সেজো ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মুজিবুর রহমান খালেকের বাসভবন সমূহে কয়েক দফা হামলা করে। এ সময় জনতা তাদের বাসা ও গাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও আগুন দেয়। এ সময় এ কে এম এ আউয়ালের পাড়েরহাট রোডের বাসা থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র জনতা উদ্ধার করে থানায় জমা দেয়। পৌর মেয়র মালেকের মালিকাধীন পেট্রোল পাম্প ও নবনির্মিত বেসরকারি হাসপাতাল ভবনে হামলা চালানো হয়। শহরের থানা রোডে জনতা খালেকের ছেলে অভির ব্যবসায়ী অফিসে লুটপাট, ভাঙচুর ও আগুন দেয়।

সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট কানাই লাল বিশ্বাসের আমলাপাড়ার বাসভবনে জনতা হামলা করে ভাঙচুর করে। এ ছাড়া শহরের গোপাল কৃষ্ণ টাউন ক্লাবে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি নতুন প্রেসক্লাব কমপ্লেক্স ভবনে ইট পাটকেল মেরে জানালার ব্যাপক ক্ষতি করা হয়। পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর কাউন্সিলর সাদুল্লাহ লিটনের বাসায়ও জনতা হামলা করে। পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও শংকরপাশা ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন স্বপন মল্লিকের মাছিমপুর রোডের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। পুড়িয়ে দেওয়া হয় আওয়ামী লীগের নেতা ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্নার পিরোজপুরের বাড়িও। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল আলম সজলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুটতরাজ করা হয়। জেলা ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা নকীবের সিআইপাড়া সড়কের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুট করা হয়। অন্যদিকে শহরতলীর রায়েরকাঠিতে আওয়ামী লীগ নেতা গৌর কুমার রায় চৌধুরী ও গোপাল চন্দ্র বসুর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। জনতা কয়েক বার সদর থানার মূল গেটে হামলা করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে।

ভাণ্ডারিয়ায় উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলামের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ জনতা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও বাড়ির বিভিন্ন কক্ষ ও আসবাবপত্র জ্বালিয়ে দেয়। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও ছাত্র-জনতা ভাঙচুর করে। নাজিরপুর উপজেলা সদরে সাবেক মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এমপি’র বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর হয়। তার ছোট ভাই উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকী শাহীনের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। এ সময় একটি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলিসহ থানার ওসির কাছে জমা দেওয়া হয়। তার আরেক ভাই নজরুল ইসলাম বাবুলের বাড়িতেও হামলা করে ভাঙচুর এবং মালামাল বের করে আগুন দেওয়া হয়।

কাউখালীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমনের গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। আওয়ামী লীগের একাধিক অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছে।

চিড়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টুর অফিসে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ইন্দুরকানীতে আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন দেওয়া হয়।

মঠবাড়িয়ায় আওয়ামী লীগ অফিস ও এক নেতার ব্যবসায়িক অফিসের মালামালে আগুন দেওয়া হয়। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা শহরে ছাত্র-জনতার পাশাপাশি বিএনপি, জামায়াত, ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সর্বস্তরের মানুষ বিজয় মিছিলে অংশ নেয়। বিশেষ করে নারী ও শিশুদেরকেও দলে দলে রাস্তায় দেওয়া যায়।




ভোলায় ধর্মীয় উপাসনালয় নিরাপত্তায় কোস্টগার্ডের টহল

বরিশাল অফিস :: ভোলায় ধর্মীয় বিভিন্ন উপাসনালয় নিরাপত্তায় নেমেছে কোস্টগার্ড। রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে থেকে টহলে নেমেছেন তারা। জেলার ইলিশা লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, ভেদুরিয়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও নিরাপত্তা জোরদার করে তারা।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের স্টাফ অফিসার লে. কমান্ডার খোন্দকার মাহাবুবুল আলম জানান, দেশের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভোলাসহ উপকূলীয় অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তায় কাজ করছে কোস্টগার্ড। চলমান পরিস্থিতিতে যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় আমাদের টহল অব্যাহত রয়েছে। জনসাধারণসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে সার্বক্ষণিক তাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি টহল কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও কোথায় কোনো ধরনের আশঙ্কা দেখা দিলে কোস্টগার্ডকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করেন তিনি।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৮৫তম (বিশেষ) সভা শেষে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

রোববার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

এতে উল্লেখ করা হয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের লিখিত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতকরণে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন থেকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠন বা কোনো প্রকার অঙ্গ বা ছায়া সংগঠন, লেজুড়বৃত্তিক প্যানেল বা পরিষদ বা সমিতির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবেন না। অর্থাৎ সব প্রকার রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হলো।

উল্লেখ্য, এদিন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হলে সকল প্রকার রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীরা আলোচনা করে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।




পদত্যাগ করলেন সাদেকা হালিম, রেজিস্ট্রার, প্রক্টরিয়াল বডি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: পদত্যাগ করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম। একই সঙ্গে পদত্যাগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনসহ পুরো প্রক্টরিয়াল বডি, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আইনুল ইসলাম, জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের পরিচালক তানভীর আহসান এবং বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. দীপিকা রানী সরকার।

রোববার (১১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আইনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, উপাচার্যসহ আমি, প্রক্টর ও প্রক্টরিয়াল বডি, জনসংযোগ ও প্রকাশনায় দপ্তরের পরিচালক, হল প্রভোস্ট সবাই পদত্যাগ করেছি।

এর আগে গত ৩০ নভেম্বর ২০২৩ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম।

একই সঙ্গে তথ্য কমিশনের প্রথম নারী তথ্য কমিশনার ছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, শিক্ষক সমিতির কার্যকরী সদস্য ও সিনেট সদস্য ছিলেন সাদেকা হালিম। তিনি জাতীয় শিক্ষানীতি কমিটি-২০০৯ এর কমিটিতে সদস্য ছিলেন। তিনি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের প্রথম নারী ডিন।

 




প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করে পালানোর সময় আটক ২

বরিশাল অফিস :: বরগুনার তালতলীতে দুবাই প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি শেষে পালানোর সময় দুইজনকে আটক করেছেন স্থানীয়রা। পরে তাদেরকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে তুলে দেওয়া হয়।

গতকাল শনিবার রাত ২টার দিকে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের মঠখোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- বরগুনা পৌরসভার ক্রোক স্লুইস এলাকার সজল ওরফে সোহাগ এবং তালতলী উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের জাকির তবক গ্রামের মনির খান (৩৩)।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের মঠখোলা এলাকার দুবাই প্রবাসী রুবেল জোমাদ্দারের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকতরা নগদ তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা, তিন ভরি স্বর্ণ ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। এ সময় ডাকাতিতে বাধা দিলে হামলায় আহত হন রুবেলের স্ত্রী ফাতিমা বেগম ও তার ভাগ্নি আখি আক্তার। পরে ভুক্তভোগী পরিবারের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ডাকাত দলকে ধাওয়া দিয়ে দুজনকে আটক করেন।

প্রবাসী রুবেল জোমাদ্দারের স্ত্রী ফাতিমা বেগম বলেন, ‘একসঙ্গে ৫-৭ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর নগদ তিন লাখ ৭০ হাজার টাকা, তিন ভরি স্বর্ণ ও একটি মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। এ সময় ডাকাতিতে বাধা দিলে আমাদের বেধড়ক মারধর করেন। আমি এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিফাত আনোয়ার তুমপা বলেন, আনসার সদস্যদের মাধ্যমে আটক দুই ডাকাত সদস্যকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।