জামিন মেলেনি পিএসসির গাড়িচালক আবেদ আলীর

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় রাজধানীর পল্টন মডেল থানার মামলায় পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

গত ৮ জুলাই রাজধানীর পল্টন থানায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন আইনে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০/৬০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলায় সৈয়দ আবেদ আলীসহ ৭ জন রিমান্ড ছাড়াই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। স্বীকারোক্তি দেওয়া অপর ৬ আসামি হলেন, পিএসপির অফিস সহায়ক (ডেসপার রাইডার) খলিলুর রহমান, অফিস সহায়ক (ডিসপাস) সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী আবু সোলায়মান মো. সোহেল, ব্যবসায়ী দুই সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন ও লিটন সরকার। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

এছাড়া স্বীকারোক্তি ছাড়া কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম, পিএসসি’র উপ-পরিচালক মো. আবু জাফর ও মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির, সাবেক সেনা সদস্য নোমান সিদ্দিকী, অডিটর প্রিয়নাথ রায়, ব্যবসায়ী মো. জাহিদুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ পাসপোর্ট অফিসের নিরাপত্তা প্রহরী শাহাদাত হোসেন, ঢাকার ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অফিসে কর্মরত মো. মামুনুর রশীদ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মেডিকেল টেকনিশিয়ান মো. নিয়ামুন হাসান।

গত ৭ জুলাই রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রশ্নফাঁস নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযানে নামে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলার পলাতক আসামি রয়েছেন ১২ জন। এরা হলেন, পিএসসির প্রাক্তন সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, জনৈক মো শরীফুল ইসলাম ভুইয়া, দীপক বনিক, মো খোরশেদ আলম খোকন, কাজী মো সুমন, এএ কে এম গোলাম পারভেজ, মেহেদী হাসান খান, মো গোলাম হামিদুর রহমান, মুহা. মিজানুর রহমান, আতিকুল ইসলাম, এটিএম মোস্তফা, মাহফুজ কালু, আসলাম ও কৌশিক দেবনাথ। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০/৬০ জন আসামি রয়েছেন।




হোটেলের ছাদে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: অস্ট্রেলিয়ায় একটি হোটেলের ছাদে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও দুইজন। আজ সোমবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত ব্যক্তি হেলিকপ্টারটির পাইলট। আর আহতরা হোটেলটির গেস্ট। উত্তর কুইন্সল্যান্ড শহরের কেয়ার্নসের একটি হোটেলের ছাদে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।

সোমবার স্থানীয় সময় গভীর রাত ১টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারটি হিলটন হোটেলের ডাবলট্রিতে আঘাত হানে। এতে করে সেখানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং হোটেলের শত শত অতিথিকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, পাইলটই ছিলেন হেলিকপ্টারটির একমাত্র আরোহী এবং তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত ওই দুই অতিথি বয়স্ক নারী ও পুরুষ। তাদেরকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।



রাগের মাথায় বলেছি: দুঃখ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: গণমাধ্যম বন্ধের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম বন্ধ করা আমার কাজ না।’

আজ সোমবার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়ে সাম্প্রতিক সহিংসতায় আহত আনসার সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়া শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমি কালকে একটা কথা বলেছি। এজন্য আমি খুবই দুঃখিত। আমি রাগের মাথায় বলছি যে, আবার চাটুকারি করবেন বন্ধ করে দেব। আসলে এটা আমার কাজ না।’

এ সময় যমুনা টেলিভিশনের প্রশংসা করেন এই উপদেষ্টা। বলেন, ‘যমুনা টিভিই কিছু দেখাচ্ছিল ওই সময়ের। পরে দেখলাম সম্প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। এটা ভবিষ্যতে আমি আশা করি, আমরা থাকি না থাকি যারা রাজনীতি করবেন তারা যদি এটা করেন তাহলে আপনারা স্ট্রাইকে (কর্মবিরতি) চলে যাবেন। কী আর হবে। একমাস না হয় না খেয়ে থাকবেন। মরে তো যাবেন না।’

এর আগে, গতকাল রবিবার রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আহত পুলিশ সদস্যদের দেখতে গিয়ে এই উপদেষ্টা বলেছিলেন, ‘বিগত সরকারের সহিংসতা নিয়ে গণমাধ্যমগুলো অনেক মিথ্যাচার করত। তারা সরকারের চাটুকারিতা করেছে। মিডিয়া সঠিক তথ্য তুলে ধরলে আজ এত পুলিশ মারা যেত না। একটা দেশ ডুবে যখন, মিডিয়া তখন মিথ্যা প্রচার করে।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আগে যা হয়েছে, নতুন করে কাউকে চাটুকারিতা করতে দেওয়া হবে না। মিডিয়া স্বাধীনভাবে কাজ করবে। এরপরও যারা চাটুকারিতা করবে, সেসব মিডিয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে।’




কোটা আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত জাকিরকে হারিয়ে দিশেহারা স্ত্রী, বাকরুদ্ধ মা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার যুবক জাকির হোসেন (৩৫)। গত ১৯ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাজধানীর শনির আখড়ায় গুলিবিদ্ধ হন। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা যান তিনি। জাকিরকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ পরিবারের সদস্যরা। স্বামীর ছবি বুকে চেপে অনবরত কাঁদছেন স্ত্রী। বাবার জন্য আর্তনাদ ১৩ বছরের শিশু জিদনী জেবিনের। ছেলে হারানোর শোকে পাগলপ্রায় মা।

জাকির দশমিনা উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের আ. মন্নান ও আম্বিয়া বেগম দম্পতির ছেলে। প্রায় ১৫ বছর আগে বাবাকে হারান তিনি। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে জাকির ছিলেন তৃতীয়। উপজেলা সদরের উত্তর লক্ষ্মীপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার নতুন বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান ও মাকে রেখে রাজধানীর কেরানীগঞ্জের কালীগঞ্জ থানায় একটি বোরকা কারখানায় কাজ করতেন।

জাকিরের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, মা আম্বিয়া বেগম ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। স্বামীর ছবি বুকে জড়িয়ে কেঁদে কেঁদে অবিরত বিলাপ করছেন স্ত্রী সালমা বেগম। বাবাকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছে একমাত্র মেয়ে জিদনী জেবিন। তাঁর মৃত্যুতে মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়েছে পরিবারটির।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯ জুলাই (শুক্রবার) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে সংঘর্ষ চলাকালে শনির আখড়া রায়েরবাগ ওভার ব্রিজ এলাকায় রাস্তায় পেটে গুলিবিদ্ধ হন জাকির। খবর পেয়ে জাকিরের ভগ্নিপতি তৌহিদুল ইসলাম গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ জুলাই (বুধবার) রাত পৌনে ১২টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঢামেক মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে ২৫ জুলাই বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সে জাকিরের মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজন, প্রতিবেশী, বন্ধুরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ওই রাতেই উত্তর লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা হয়। পরে তাঁকে উপজেলার বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জাকিরের স্ত্রী সালমা বলেন, ‘আমার স্বামী ঢাকায় একটি বোরকা কারখানায় কাজ করত। একমাত্র তার উপার্জনেই চলত আমাদের সংসার। মায়ের ওষুধ ও সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে অভাব–অনটনের মধ্যে কোনো রকমে দিন চলত। এখন আমাদের কী হবে, একমাত্র সন্তানের লেখাপড়ার খরচ কীভাবে চালাব, বুঝতেছি না। আমার স্বামীর জন্য দোয়া করবেন।’

একমাত্র মেয়ে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিদনী জেবিন বলে, ‘আমার বাবা অনেক ভালো ছিল। আমি যা চাইতাম তা–ই দিত। এখন আমার লেখাপড়ার খরচ কে চালাবে? আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই।’
সে আরও বলে, ‘বাবা কয়েক দিনের ছুটিতে বাড়িতে এসে গত ১৫ জুলাই সোমবার সন্ধ্যায় কর্মস্থল ঢাকার কালীগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। যাওয়ার সময় আমাকে বলে পরের বার তোমার জন্য সুন্দর থ্রিপিস ও স্কুলব্যাগ নিয়ে আসব।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাকিরের মা আম্বিয়া বেগম বলেন, ‘আপনারা (সাংবাদিক) কী শুনতে আসছেন। আপনারা আমার ছেলের জন্য দোয়া করবেন। আমার ছেলেকে যারা গুলি করে মেরেছে, আমি তাদের বিচার চাই।’




পটুয়াখালীতে তারেক রহমানের নামে মানহানির মামলা খারিজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মানহানির একটি মামলা খারিজ করেছেন আদালত।

আজ সোমবার শুনানি শেষে খারিজ করেছেন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আশিষ রায়।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. কাইয়ুম আকন্দ মামলা খারিজ হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর ইস্ট লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেন তারেক রহমান। ভাষণে ইতিহাস বিকৃত করে সাবেক রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজাকার-পাকবন্ধু হিসেবে অভিহিত করেন এবং বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন বলে তারেক রহমান মন্তব্য করেন।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তারেক রহমান শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারবর্গকে রাজাকার-পাকবন্ধু বলে কটূক্তি করিয়া দেশ, জাতি তথা বাংলাদেশের সুনাম ও সুখ্যাতি বহির্বিশ্বে ক্ষুণ্ন করিয়া ২০ কোটি টাকার সম্মানহানির ঘটনা ঘটাইয়া অন্যায় করিয়াছে। এ মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুল্লা রানা তারেক রহমানের এমন মন্তব্যে মানসিকভাবে আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। যার কারণে হাবিবুল্লাহ রানা বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।’

তারেক রহমানের পক্ষে আইনজীবী ছিলেন খন্দকার নাসির উদ্দিন ও মেহেদী হাসান। তাঁরা বলেন, মামলার বাদী দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন, যার কারণে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারায় বাদীর অনুপস্থিতিতে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন।




পটুয়াখালী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত দুদকের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও তদন্তের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংস্থাটির দৈনিক ও সাম্প্রতিক সেল থেকে তদন্ত-২ শাখায় দেওয়া এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, গণপূর্ত বিভাগের পটুয়াখালীতে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে ২৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা ও ১০ হাজার ইউএস ডলার অর্জন এবং ৪৮ ভরি স্বর্ণালঙ্কার কিনে মানিলন্ডারিংয়ের বিষয়ে কমিশন থেকে মামলা দায়ের ও তদন্তের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের তদন্ত-২ শাখার মহাপরিচালককে বলা হয়েছে।




পটুয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রম শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সরকার পরিবর্তনের পরে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রমের স্থবির অবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে পটুয়াখালীতে জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের উদ্যোগে শহরেরর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করছেন পটুয়াখালী জেলার জেলা প্রশাসক মো: নুরু কুতুবুল আলম ও পুলিশ সুপার মো: আব্দুস সালাম সহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ¯স্নেহাংশু সরকার কুট্রি সহ গণমাধ্যম কর্মীরা।

এ সময় জেলা প্রশাসক সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ জেলার বিভিন্ন খেয়াঘাট,মন্দির,লঞ্চঘাট,বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণ সহ সনাতন ধর্মীয় লোকজনের সাথে কথা বলে জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবন যাত্রা চালু করতে সবধরনের সহযোগীতা প্রদানের আশ্বাস প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক মো: নুর কুতুবুল আলম বলেন,পটুয়াখালী শহরের অনেকগুলি মন্দির ইতোমধ্যে আমরা পরিদর্শন করেছি,আমার সাথে পুলিশ সুপার, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রয়েছেন। বিভিন্ন স্থানে গুজব রয়েছে, গুজবের কারনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে তাদের মনে একটা আশংকা সৃষ্টি হয়েছে। এইগুলি যে আসলে পটুয়াখালী জেলায় কোনকিছু হয়নি ,এখানে ভয়ের কিছু নাই তারা নির্ভয়ে তাদের ধর্মচর্চা করতে পারেন, জীবন যাপন করতে পারেন। এই বিষয়টি তাদের জানান দেয়ার জন্য আমরা সবাই একসাথে এসেছি, তাদের সুখ-দু:খের ব্যাপারগুলি আমরা জানলাম। তাদের কে আমরা আশ্বস্থ করলাম যে আমরা মাঠে আছি, সেনাবাহিনী মাঠে আছে, পুলিশ বাহিনী কাজ করছে, সাংবাদিক ভাইরা সচেতন রয়েছে। আমরা হিন্দু ধর্মবলাম্বী ভাইদের পাশে আছি, তারা এদেশের নাগরিক , আমাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই , তারা ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে থেকে যেন তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করে। এ বিষয়টি জানান দেয়ার জন্য আশ্বস্থ করার জন্য আমরা এসেছি। যে কয়টি জায়গায় গিয়েছি সবখানে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি, কারোও কাছ থেকে কোন অভিযোগ পাইনি যে তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, উপাসনলয়ে বা বাড়ীতে কোন রকম আক্রমণ বা হুমকি দেয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো: আব্দুস সালাম জানান, ৫ তারিখের পর থেকে পটুয়াখালীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে ভাল থাকে তা এখানকার আপামর জনসাধারণ কাধেঁকাধঁ মিলিয়ে রক্ষা করেছেন। আমাদের কিছুটা সীমাবদ্ধতার কারনে আউট মুভমেন্ট কম ছিল গতকাল থেকে স্বাভাবিক মুভমেন্ট শুরু হয়েছে। থানা পুলিশ তিন-চারদিন আগে থেকেই কাজ শুরু করেছে।প্রত্যেকদিনই আমরা বিচ্ছিন্ন ভাবে বের হই,আজকে আমরা জেলা প্রশাসক ,আমাদের সহকর্মী সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ,সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ,সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আমরা সম্মিলিত ভাবে বের হয়েছি।যাতে বিভিন্ন জায়গায় গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে যে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা হচ্ছে। আমরা আজ পটুয়াখালী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সকল মন্দির সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,গুরুত্বপূর্ণ সব খেয়াঘাট,লঞ্চঘাট পরিদর্শন করেছি,কোথাও থেকে কোন দুর্ঘটনার খবর আসেনি।সবাই বলেছে,তারা শান্তিতে আছে এবং তাদের উপর কোন আক্রমণ বা ভয়ভীতির ঘটনা ঘটেনি।সে ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সহ সকলে ভাল আছেন। তিন জানান পটুয়াখালীতে ৯টি থানা ,চারটি তদন্ত কেন্দ্র , ১টি ফাড়ী, রয়েছে , শুরু থেকে সকল জনবল আমাদের থানা ফাড়ি বা পুলিশ লাইনে রয়েছে। আমাদের কোন স্থাপনার কোন ক্ষতি হয়নি,গাড়ী,অস্ত্র,গুলি ,পুলিশের সকল স্থাপনা অক্ষত রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ¯স্নেহাংশু সরকার কুট্রি বলেন, শেখ হাসিনার পদত্যাগের ৬ দিন পর আজ রোববার পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসনের জেলা প্রশাসক ,পুলিশ সুপার , মিডিয়ার সদস্য গন সহ আমি সবাই মিলে একত্রে বের হয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক রয়েছে তা জনগনের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে বের হয়েছি। আজ আমরা জেলা প্রশাসনের সাথে সকল মন্দির ,খেয়াঘাট সহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেছি। বিগত দিনে ভোটার বিহীন শেখ হাসিনার আমলে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ডে ব্যাপক চাঁদাবাজির কারনে মালিকরা নি:স্ব হয়ে গেছে,রক্তপাত হয়েছে। ৫ তারিখের পরে এ গুলি বন্ধ হয়ে গেছে,আমাদের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাধারন মানুষের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষার্থে ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছি। আজকে যখন জেলা প্রশাসন ,পুলিশ প্রশাসন নেমেছে পাশাপাশি সেনাবাহিনীতো রয়েছেন ,আমার মনে হয় আমাদের আর রাত জেগে পাহারা দিতে হবে না।




১৫ আগস্ট নিয়ে যে আহ্বান জানালেন জয়

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: ১৫ আগস্ট উপলক্ষে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়।

রোববার (১১ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ভিডিও বার্তায় সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আপনারা জানেন, আপনারা নিজের চোখে দেখতে পেরেছেন যে জাতির জনক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাসা, সেই ঐতিহাসিক ৩২ নম্বরকে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এই প্রটেস্টার তো বলব না। এই মব, জাতির পিতার বাসাকে পুড়িয়ে ফেলে। সেই বাসা যেখানে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। আমার পুরো পরিবারকে হত্যা করা হয়। যে বাসায় ৭৫ খুনিরাও ধ্বংস করার সাহস পায়নি। যে বাসা এখন, এতো দিন উনার (বঙ্গবন্ধুর) মিউজিয়াম ছিল। সেই বাসাকে তারা পুড়িয়ে ফেলেছে।’

জয় বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু একটি দলীয় বিষয় না। বঙ্গবন্ধু হচ্ছেন জাতির পিতা৷ বঙ্গবন্ধু না হলে আজকে আমরা বাংলাদেশ হতাম না। আজকে আমরা পাকিস্তান হয়ে থাকতাম। আপনারা জানেন, সামনে ১৫ আগস্ট। সেই কালরাত, যে রাতে বঙ্গবন্ধু ও আমার পরিবারকে হত্যা করা হয়।’

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, ‘আমার আহ্বান আপনারা যদি স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাস করেন, আপনারা যদি বাংলাদেশকে ভালোবাসেন আর এই যে বাংলাদেশে বাস করছেন, এটাকে মেনে নেন যে বঙ্গবন্ধু আপনাকে স্বাধীনতা দিয়েছে, আমাদেরকে স্বাধীনতা দিয়েছে। এই ১৫ আগস্ট আমার আহ্বান আপনাদের প্রতি, শান্তিপূর্ণভাবে ৩২ নম্বরে গিয়ে ফুল দিয়ে আসবেন। দোয়া করবেন, বঙ্গবন্ধুর জন্য, স্বাধীনতার চেতনার জন্য এবং আমার পরিবারের জন্য। এই হলো আমার আহ্বান আপনাদের প্রতি।’

ছাত্র-জনতার নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। সেদিন ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ব্যাপক ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিকেলেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে দেশ পরিচালনায় অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

শান্তিতে নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টাসহ এই সরকারে আছেন ১৭ জন উপদেষ্টা। যদিও একজন এখনো শপথ নেননি।

 




আজ থেকে ট্রেনের টিকিট বিক্রি শুরু

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আগামী ১৫ আগস্ট থেকে সারাদেশে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু হবে। আজ সোমবার বিকেল ৫টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হবে। গতকাল রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. নাহিদ হাসান খান এক ক্ষুদে বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, সোমবার থেকে মালবাহী ট্রেন, ১৩ আগস্ট থেকে মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল, কমিউটার ট্রেন চলাচল করবে। তবে পারাবত ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী সহিংসতার মধ্যে গত ১৮ জুলাই থেকে বিভিন্ন জায়গায় ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়েছিল। তবে সরকারের কারফিউ জারির পরদিন ১৯ জুলাই থেকে পুরোপুরি বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। এর মধ্যে গত ১-৩ আগস্ট পর্যন্ত সীমিত পরিসরে কমিউটার ট্রেন চলাচল করেছিল। পরে ৪ আগস্ট রাতে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।




আজ থেকে বিচারকাজ চলবে হাইকোর্টে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ সীমিত আকারে পরিচালনার জন্য ৮টি বেঞ্চ গঠন করেছেন নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। আজ সোমবার থেকে এসব আদালতে বিচারকাজ চলবে।

গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনা অনুসারে একটি নোটিশ প্রকাশ করা হয়।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় বলা হয়, ‘আমি এতদ্বারা নির্দেশ করছি যে, সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকার্য সীমিত আকারে পরিচালনার জন্য নিম্নে উল্লিখিত বেঞ্চসমূহ গঠন করা হইলো। বেঞ্চগুলোর মধ্যে পাঁচটি দ্বৈত বেঞ্চ এবং তিনটি একক বেঞ্চ।’

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের গঠিত বেঞ্চগুলো হলো-

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. বজলুর রহমান (রিট), বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ (দেওয়ানি), বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী (কোম্পানি বেঞ্চ), বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান (রিট), বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা (দেওয়ানি ও ফৌজদারি), বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসান (ফৌজদারি), বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজা (ফৌজদারি) এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ (দেওয়ানি)।