চিন্তা ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের অগ্রপথিক বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন

দেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ, প্রবীণ রাজনীতিক মুখ, বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বদরুদ্দীন উমর একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি শুধু একজন লেখক নন, ছিলেন একজন তাত্ত্বিক চিন্তাবিদ, যিনি ষাটের দশকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে গভীর চিন্তা ও বিশ্লেষণমূলক লেখা উপহার দিয়েছেন।
২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে সেটির সভাপতির দায়িত্ব নেন।কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।তিনি বলেন, ‘আজ অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে স্পেশালাইজড হাসপাতালে আনার পর সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করা বদরুদ্দীন উমর পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারীও ছিলেন তিনি।
১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার পিতা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ, যিনি মুসলিম লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পারিবারিক পরিমণ্ডলেই তিনি রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষণের বীজ বপন করেন, যা পরবর্তী সময়ে তার লেখনীতে প্রতিফলিত হয়।
ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় চেতনার উন্মেষ এবং বাঙালি সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলনে বদরুদ্দীন উমরের লেখা বইগুলো—বিশেষ করে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭) এবং ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)—গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার লেখায় ধর্ম ও রাজনীতির দ্বন্দ্ব, উপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন নিয়ে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে।








