এমপি শিমুল ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নাটোর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতী এবং তাদের পরিবারের সব সদস্যদের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত (জব্দ) রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দেশের কেন্দ্রীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়, শফিকুল ইসলাম শিমুল ও তার স্ত্রী শামীমা সুলতানা জান্নাতী এবং তাদের সদস্যদের নামে থাকা সব ব্যাংক হিসাবের লেনদেন আগামী ৩০ দিনের স্থগিতাদেশের নির্দেশনা দেওয়া হলো। সেই সঙ্গে এ সকল ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের মালিকানাধিন প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ব্যাংক হিসাবের সব ধরনের তথ্য আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে। যেসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে, তার মধ্যে আছে হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি প্রোফাইল ফরম এবং শুরু হতে হালনাগাদ লেনদেন বিবরণী।

 




টুকু-পলক-সৈকত ১০ দিনের রিমান্ডে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসানকে ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রশিদুল আলম। রাজধানীর পল্টন এলাকায় রিকশাচালক কামাল মিয়া হত্যা মামলায় তাদের এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।

এর আগে বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কার্যালয় থেকে তাদের আদালতের উদ্দেশে নেওয়া হয়। আদালতে পৌঁছার পর তাদের রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। তাদের ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশ। শুনানি শেষে প্রত্যেকের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

রাজধানীর খিলক্ষেত থানার নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় গতকাল বুধবার রাতে শামসুল হক টুকু, জুনায়েদ আহমেদ পলক এবং তানভীর হাসান সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজধানীর নিউমার্কেট থানায় করা হত্যা মামলার তদন্তের জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে গতকাল ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।




ছাত্রলীগের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩ সমন্বয়ক আহত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শহীদ ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে আপন মিয়া নামের এক ছাত্রলীগকর্মীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আহত সমন্বয়কেরা হলেন মোজাহিদুল ইসলাম (১৮), ইমন সিদ্দিকী (২৩) ও জাকির হোসেন (২৪)। আহতদের উদ্ধার করে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মোজাহিদুল ইসলামকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তার ঘাড়ে দায়ের কোপে গভীর ক্ষত হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন কলেজের ভেতরে মাঠে অবস্থান করছিলেন। দুপুর পৌনে ১২টার দিকে হঠাৎ উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য সিমান্ত ও কর্মী আপনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী দেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা করেন। এতে মোজাহিদুল, ইমন ও জাকির আহত হন। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যান।

ছাত্রলীগের সবাই পালিয়ে যেতে পারলেও আপনকে ধরে গণধোলাই দেন শিক্ষার্থীরা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। আপন উপজেলা সদরের পোস্টকামুরী গ্রামের বাসিন্দা, শ্রমিক লীগের কর্মী মাহফুজ হোসেনের ছেলে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মির্জাপুর উপজেলার অন্যতম সমন্বয়ক সাজেদুল ইসলাম নিঝুম বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের নামে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহ উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগনেতা সিমান্তের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী এবং জামায়াতের উপজেলা আমির ইয়াহ ইয়াহ খান মারুফ।

তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগরে হামলায় যারা জরিত অনতিবিলম্বে তাদের আইনে আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।




বাংলাদেশের মতো আমার সরকারও ফেলতে চাইছে: মমতা

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: পশ্চিমবঙ্গে আরজি কর আন্দোলনকে বাংলাদেশের শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। গতকাল বুধবার তিনি বলেন, ‘অনেকে ভাবছেন, বাংলাদেশের মতো এখানেও সরকার ফেলে দেবে। আমি ক্ষমতার মায়া করি না।’

কলকাতার মাল্টি সুপার স্পেশালিটি সরকারি হাসপাতাল আরজি করে এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণের পর খুনের ঘটনায় নজিরবিহীন প্রতিবাদ দেখছে ভারত। দোষীদের শাস্তির দাবিতে দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। কলকাতার তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় দিল্লিতেও পালিত হয় ‘মেয়েরা রাত দখল করো’কর্মসূচি। দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কে রাত দখল বা ‘রিক্লেম দ্য নাইট’-র ডাক দেওয়া হয়। মুম্বাইয়ের আন্ধেরিতে পশ্চিম ইনফিনিটি মলের সামনেও জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়।

মমতার দাবি, ‘আরজি করের ঘটনা নিয়ে সিপিএম এবং বিজেপি রাজনীতি করছে। বাংলাদেশে একটা ঘটনা ঘটে গিয়েছে। অনেকে ভাবছেন, বাংলাদেশের ঘটনা টেনে এনে এখানেও ক্ষমতা দখল করবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, আমি ক্ষমতার মায়া করি না।’

আরজি করের ঘটনার প্রতিবাদে যে আন্দোলন চলছে, তা বিশেষ রাজনৈতিক দল পরিকল্পিত ভাবে করাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলন করছেন, তারা অধিকাংশই ছাত্রছাত্রী নন। রাজনৈতিক দল এটা পরিকল্পিতভাবে করছে। ভাবছে মমতাকে ক্ষমতা থেকে সরাবে। ওরা জানে না, মমতার সরতে আসলে এক সেকেন্ড লাগে। ঠিক যেভাবে আমি রেল থেকে সরে এসেছিলাম। অন্যায়ের কাছে আমি মাথা নত করি না, করব না। দরকার হলে মানুষের কাছে মাথা নত করব, কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের কাছে নয়।’

মমতা বলেন, ‘যত দিন বাঁচব, মানুষকে ন্যায়বিচার এনে দেব। এই ঘটনা জানার পরেও আমি পুলিশকে দিয়ে অনেক কাজ করিয়েছিলাম। কিন্তু ওরা হাইকোর্টে গেলেন।’

বাংলাদেশে প্রবল জনবিক্ষোভের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। ভারতে সেই আন্দোলনের সঙ্গে আরজি কর আন্দোলনের তুলনা করছেন।




নতুন চার উপদেষ্টার নাম জানা গেল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যুক্ত হচ্ছেন নতুন আরও চার উপদেষ্টা। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন তারা।

ওই চার উপদেষ্টা হলেন ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, আলী ইমাম মজুমদার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম ও মুহাম্মদ ফাওজুল করিম খান।




অপসোনিন ফার্মার শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনে হুমকি-হয়রানি

বরিশাল অফিস :: সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক ও দপ্তর সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ও এস এল (অপসোনিন) ফার্মার শ্রমিকদের অযৌক্তিক ছাঁটাই বন্ধ করাসহ ৯ দফা দাবির ন্যায্য আন্দোলনে মালিক ও সেনাবাহিনীর যৌথ হুমকি-হয়রানির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ( ১৫ আগস্ট) বিকাল ৪টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। কিন্তু এই অবস্থান কর্মসূচি করার সময় মালিকপক্ষ তাদেরকে নানান রকম হুমকি হয়রানি করে এবং পরবর্তীতে সেনাবাহিনী এসে জোরপূর্বক শ্রমিকদের অবস্থান থেকে উঠিয়ে দেয় এবং তাদেরকে ভবিষ্যতে আন্দোলন না করার জন্য হুমকি প্রদান করে।

এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, অপসোনিন ফার্মা দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের উপর অত্যাচার অনাচার করে আসছে। এতদিন ক্ষমতাসীনদের সাথে নানান যোগসাজস করে তারা শ্রমিক বিক্ষোভ দমন করে আসছিল।

গতকাল থেকে অপসোনিন কারখানায় অযৌক্তিক শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হলে শ্রমিকরা তার প্রতিবাদ করে এবং শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করা সহ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা অস্থায়ী শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ এবং ন্যায্য মজুরি প্রদান, ৮ ঘন্টা ডিউটিসহ ৯ দফা দাবিতে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করা প্রত্যেক মানুষের সাংবিধানিক অধিকার।

আন্দোলনের মধ্য দিয়েই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেছে। বৈষম্য বিলোপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় আসা সরকারের আমলে যদি শ্রমিকের ন্যায্য আন্দোলনের উপরে হয়রানি করা হয় সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে অপসোনিন ফার্মার শ্রমিকদের উপর সকল হয়রানি বন্ধ করার দাবি জানান এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া আহবান জানান।




বিছানায় কাতরাচ্ছেন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গু*লিবিদ্ধ বেল্লাল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দুই পায়েই গুলি লেগেছে। পা দুটোর ক্ষতস্থানে ব্যান্ডেজ করা। ডান পায়ের হাটুর নীচের ক্ষত অনেক বড়। বাম পায়ের গোড়ালীর ক্ষতও কম নয়। ব্যাথায় কাতরাচ্ছে বিছানায়। ঢাকার এক হাসপাতালে পায়েবিদ্ধ গুলি বের করার পর বাড়ি এসে নিরাপত্তার ভয়ে অনেকটা আড়াল করে রাখলেও নিজেকে আর ঢেকে রাখকে পারছিলেন না কিছুতেই। ওষুধপত্র আর উন্নত চিকিৎসার সাধ্যও নেই তার পরিবারের। কথা বলতে চাইলে তাই ভেজাচোখে বেল্লাল (২০) নিজেই জানাচ্ছিল বৈষম্য বিরোধি ছাত্র আন্দোলনে যোগদান থেকে তার বর্তমান শারিরিক অবস্থার কথাগুলো।

পুরো নাম তার মো. বেল্লাল ইসলাম। বাবা মো. আলাউদ্দিন গাজী পেশায় সিইনজি চালক। মা সোসা. নাজমা বেগম গৃহিনী। পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া গ্রামে বাড়ি। নিজ গ্রাম লাগোয়া কালাইয়া বন্দরের ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রী কলেজ থেকে ২০২২ সালে এইচএসসি পাসের পর আর্থিক অনটনে বিএ ভর্তি হওয়া সম্ভব হয়নি। ইচ্ছে ছিল ছোটখাট উপার্জনে জড়িয়ে পরিবারের আয়ের সহোযোগি হওয়া আর সুযোগমতো বিএ ডিগ্রী অর্জনের। তাই মাস ছয়েক আগে রামপুরা টেলিভিশন ভবন এলাকার টিবিলিংক রোর্ডের এসএ নার্সিং হোম কেয়ার বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে পার্টটাইম চাকুরি নেয় সে। গত ৫আগস্ট (সোম বার) বৈষম্য বিরোধি ছাত্র আন্দোলনে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উল্টোদিকে প্রগতি সরনির মেরুলবাড্ডা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয় সে।

অন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিজয়ের কথায় সামান্য হাসির রেখা ফুটে উঠলেও ব্যাথায় আবার মলিন হচ্ছিল মুখাবয়ব। এমনি আনন্দ-বিষাদের শারিরিক পরিস্থিতি নিয়ে বেল্লাল জানায়, পরিবারের সহায়-সম্বল বলতে বসতঘরের জায়গাটুকু ছাড়া আর তেমন কিছুই নেই। সিএনজি চালক বাবার কামাই রোজগারেও খুব একটা ভাল যাচ্ছিল না। তাই সংসারে আয়ের জোগান দিয়ে ভবিষ্যতে সুযোগমতো বিএ ডিগ্রী অর্জনের ইচ্ছায় ছুটে যায় রাজধানী ঢাকায়। রামপুরা টেলিভিশন ভবন এলাকার টিবিলিংক রোর্ডের এসএ নার্সিং হোম কেয়ার বিডি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নেয় পার্টটাইম চাকুরি। ঘটনার দিন বন্ধুদের সঙ্গে আন্দোলনে বেড়িয়ে দুই পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে সড়কে। একই সময় গুলিবিদ্ধ হয় ইফাত নামে নরসিংদী এলাকার অপর একজন। চোখের সামনে মারা যেতেও দেখে সে ইফাতকে। এ সময় উপস্থিত বয়স্ক কয়েকজন মিলে তাকে আফতাব নগরের জহিরুল ইসলাম সিটির সি ব্লোকের নাগরিক স্পেসালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। তবে সেখানে রোগির ভিরে জায়গা মেলেনি। রাখা হয় হেলথ কেয়ার নামে একই এলাকারই ছোট পরিসরে সদ্য গড়ে ওঠা একটি চিকিৎসা কেন্দ্রে। দুই দিন পরে খবর পেয়ে ছুটে আসেন নারায়নগঞ্জ এলাকায় পল্লী বিদ্যুতে কর্মরত বড় বোন আখি আক্তার। এরপর তার পায়ের গুলি বের করা হয় বাসাবো এলাকার মাল্টিকেয়ার হাসপাতালে। গত শুক্রবার (৯ আগস্ট) গ্রামর বাড়ি চলে আসেন বেল্লাল।

বেল্লাল জানায়, পায়ের ক্ষতে ব্যান্ডেস করে দেয় ডাক্তার। ১৫ দিনের আগে কোন কিছু করা যাবে বলে জানায়। ওষুধ নিতে হয় চার ঘন্টা পর পর। মাসে ১টি করে টিকা নেয়া আর এক মাসের আগে সুস্থ্য হওয়ার নয় বলেও ডাক্তার জানায় তখন। এখন পর্যন্ত দুপায়ে ভর করে কোন মতেই দাঁড়াতে পারছেন না সে। ব্যান্ডেসের ভেতরে তীব্র জ্বালাযন্ত্রনা। বিছানায় কাতরাচ্ছে সে। স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে ড্রেসিং করতে গেলে সেখানে গ্রাম্য ডাক্তার বেল্লালের অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও সামর্থ নেই তার পরিবারের। কয়েকদিন আগে ঘরগৃহস্থলীর কাজে গিয়ে পায়ে কারাতের আগাতে গুরুতর আহত হয়ে বিছানায় পড়ে আছেন বাবা আলাউদ্দিন গাজী। শারিরিক অসুস্থ্য মা নাজমা বেগমও।

বেল্লাল ইসলাম বলেন, ‘আমি হৃদয়ের টানেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বাসায় থেকে বেড় হয়ে যাই। বসে থাকার উপায় ছিল না ওই দিন। পায়ে গুলি লাগলে সড়কে পড়ে যাই। ব্যাথায় জ্বলতেছিল। বয়স্ক কয়েকজন হাসপাতালে নিয়ে যায়। ডান পায়ে যে গুলি লেগেছে, তা রাবার বুলেট বা ছররা গুলি নয়। শরীরে ব্যাথা কিছু নয়। পঙ্গু হয়ে গেলে কেমনে চলমু।’

বেল্লালের বাবা সিএনজি চালক আলাউদ্দিন গাজী বলেন, ‘দুইটা ছেলেমেয়ে। কামাই ভাল না। সারাটা জীবন কস্ট করে চলছি। একমাত্র ছেলে বেল্লালের সংসারে সাহায্য করার সঙ্গে পড়াশুনার ইচ্ছে ছিল। ঝামেলায় পড়তে চাই নাই। তাই গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি কাউকে জানানোর ইচ্ছাও ছিল না। আমিও অসুস্থ। এখন ওর চিকিৎসা চালামু কিভাবে।’

শাড়ির আচলে চোখ মুছে মা মোসা. নাজমা বেগম বলেন, ‘অর গুলি লাগুনের কথা হুইনগ্যা যেন আসমান ভাইঙ্গা মাথায় পড়ছে। সংসারের দুরাবস্থা। ঋন কইর‌্যা ঘরের কাজ ধরছিলাম। সারাটা জীবন কস্ট কইরগ্যা চলছি। ওর বাপ আর আমিও অসুস্থ। বিছনায় ব্যাথায় কাতরাচ্ছে ছেলেডা। এ্যাহন অরে ভাল চিকিৎসা করানোর কোন টাহা-পয়সা আমাগো হাতে নাই।’




বাউফলে ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে অর্ধশত দোকান তালাবদ্ধ করে চাঁদা দাবী করায় ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকগন সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় উপজেলার বগা বন্দরে ওই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের পক্ষে খলিল মৃধা বলেন, সরকার পতনের সাথে সাথে ৫০ থেকে ৬০টি দোকান তালাবদ্ধ করে আনিচ নামে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা। কিছু প্রতিষ্ঠান থেকে তার চাহিদা অনুযায়ী টাকা দিলে খুলে দেওয়া হয় দোকানগুলো। চাহিদা মতো টাকা না দেয়ায় এখনও কয়েকটি দোকান বন্ধ করে রাখা হয়েছে। তাদের সাথে মিট না করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুললে লুটপাট করার ভয় দেখানো হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়ে কোন সমাধান পাননি বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।

মুসলিম সুইটস মিট এর মালিক আবুল হোসেন শিকদার জানান, স্থানীয় নেতা আনিচুর রহমান এ বিষয়ে নাসরনী জাহান রেখা বলেন, তার দুটি ভাড়া দেয়া য়ো মহিমা স্যানেটিরি এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স ও আঃ সালামের চায়ের দোকান বন্ধ করে দেয়। পরে আনিচের মাথে রফাদফার মাধ্যমে ওই দোকান খুলে দিয়ে প্রতি মাসের ভাড়া তাকে দিতে হবে বলে জানান।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনিচুর রহমান বলেন, তারা এতদিন আমার সম্পত্তি সম্পত্তি দখল করে রেখেছে। আমার পৈত্রিক সম্পত্তিতে ব্যবসা করতে আমার সাথে নতুন করে চুক্তিনামা সম্পাদনের কথা বলেছি। বিশেষ কিছু ব্যক্তির পরামর্শে আমার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছে।




বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: সারাদেশে ছাত্র-জনতা হত্যার প্রতিবাদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচারের দাবিতে বরিশালে ঘণ্টাব্যাপী ঢাকা-বরিশাল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নগরীর কেন্দ্রীয় নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করে তারা বিক্ষোভ করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থীরা ছাত্র আন্দোলনে যারা গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।

এর আগে বিএম কলেজ থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় এসে সড়ক অবরোধ করে। পরে একঘণ্টা পর অবরোধ প্রত্যাহার করে। এরপর নতুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে নগরীর চৌমাথা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে কর্মসূচী শেষ করে শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিক্ষোভ চলাকালে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে সব ধরনের যানচলাচল বন্ধ থাকে।




গুলিবিদ্ধ হয়েও মাকে মিথ্যে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন বাকি বিল্লাহ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘আমার সামনেই পুলিশ-বিজিবির গুলিতে কয়েকটি তাজা প্রাণ ঝরে যায় চোখের পলকে। তখন আমিও গুলিবিদ্ধ। বাম হাত নাড়াতে পারছি না, এর মধ্যে আরেকজন গুলি খেয়ে আমার সামনেই লুটিয়ে পড়ে। ডান হাত দিয়ে কোনো রকম তাকে আগলে সামনে অগ্রসর হতেই আমার বাম পায়ের রানে পেছন দিক থেকে আরেকটি গুলি এসে লাগতেই মাটিতে পড়ে যাই। তখন আশপাশ থেকে কয়েকজন এগিয়ে এসে আমাকে নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে যায়। আমি ততক্ষণে অচেতন হয়ে পড়ি।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসে এমনই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন রাজধানীর প্রাইম ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের ছাত্র মো. বাকি বিল্লাহ (২৪)।

তিনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইমাম হোসেনের বড় ছেলে।

গত ১৮ জুলাই দেশব্যাপী যখন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন পুরো চাঙা হয়ে ওঠে তখন বাকি বিল্লাহ ঢাকার রামপুরায় অবস্থান করছিলেন। সহপাঠীদের সঙ্গে তিনিও নেমে পড়েন সেই আন্দোলনে।

শেখ হাসিনার নামফলক ঢাকা হলো শহীদ আবু সাঈদের ছবি দিয়ে
ছাত্র-প্রশাসন মুখোমুখি, থমথমে অবস্থা। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল রাজধানীর অলিগলি। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ-বিজিবি এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়তে থাকে। তবুও ছাত্ররা পিছু না হটে সামনের দিকে এগিয়ে চলে।

তখন সন্ধ্যা নেমে এসেছে, ঘড়ির কাঁটায় ৭টা ছুঁই ছুঁই। স্লোগানে স্লোগানে এগিয়ে যেতেই বাকি বিল্লাহর বাম হাতে একটি গুলি এসে লাগে। হাত ছিদ্র হয়ে ওপাশ দিয়ে বের হয়ে যায়। তবুও মরণপণ এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এমন সময় তার সামনে আরেকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ে। তাকে ডান হাত দিয়ে কাঁধে তুলে সামনে অগ্রসর হওয়ার সময় আরেকটি গুলি লাগে তার পায়ে।

বাকি বিল্লাহ বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এরমধ্যে একটি মৃত্যু আমাকে খুবই মর্মাহত করেছে, খুব কাঁদিয়েছে। আমার সামনেই একটি পথশিশুকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ছেলেটা আমাদের মিছিলের সঙ্গেই ছিলো। ওর বাহুতে একটি গুলি লেগে ওর বাম হাতটা প্রায় ৪-৫ ফুট দূরে গিয়ে ছিটকে পড়ে, ছেলেটা ওখানেই মারা যায়। চোখ বুজলেই আমি স্পষ্ট দেখতে পাই। এখনও গা শিউরে ওঠে, কান্না আসে।

তিনি আরও বলেন, আমাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে রাজধানীর নাগরিক হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে পরিচিত এক আইনজীবী অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে তার বাসায় রেখে সেবাযত্ন করেন। পরে মা গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বাড়ি নিয়ে আসেন।

এরই মধ্যে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথোপকথনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, বাকি বিল্লাহ তার মাকে আসল ঘটনা আড়াল করে অ্যাজমা সমস্যার কথা বলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মা হার্টের রোগী। আমি চাইনি মা-বাবা টেনশন করুক, কিংবা আমার এমন অবস্থার কথা শুনে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ুক। তাই বিষয়টা গোপন রেখেছিলাম।

বাকি বিল্লাহ বলেন, স্বাধীন-সার্বভৌম দেশে যেন এভাবে আর কারও ওপর গুলি ছোঁড়া না হয়। অধিকার আদায়ের জন্য যেন আর কোনো মায়ের বুক খালি না হয়। আমি মনে করি, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি, তা হবে বৈষম্যহীন।