শেখ হাসিনার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা সেই বরগুনার আ.লীগ নেতা রিমান্ডে

বরিশাল অফিস :: বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর কবিরকে চাঁদাবাজি মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হারুন অর রশিদ এ আদেশ দেন।

এর আগে সকালে তাকে বরগুনা জেলখানা থেকে কড়া পুলিশি পাহারায় অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. হারুন অর রশিদ দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া অপর এক চাঁদাবাজির মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে জাহাঙ্গীর কবিরকে বরগুনার আমতলাপাড় এলাকার তার নিজ বাসভবন থেকে বরগুনা থানা পুলিশের সহযোগিতায় গ্রেফতার করে ঢাকার পুলিশের একটি বিশেষ টিম। ওই দিন বিকালে তাকে বরগুনার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গত সোমবার (১২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা তিন মিনিট কথা বলেন। এই ফোনালাপে জাহাঙ্গীর কবিরকে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনারা শৃঙ্খলা মেনে দলীয় কার্যক্রম চালাবেন। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসকে যথাযথভাবে পালন করবেন।’

এই নেতা শেখ হাসিনাকে বলেন, ‘আপা আপনি ঘাবড়াবেন না (মনোবল হারাবেন না)। আপনি ঘাবড়ালে আমরা দুর্বল হয়ে যাই। আমরা শক্ত আছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি ঘাবড়াবো কেন। আমি ভয় পাইনি। আপনারা দেখছেন, আমাদের পুলিশ বাহিনীকে মেরে কীভাবে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমাদের কর্মীদের মেরেছে। বোরকা পরে মেরেছে। এ দেশটা রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। আপনারা যেভাবে আছেন থাকেন।’

মামলার বাদী বিএনপি নেতা হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, ‘বরগুনা সদর রোডে হারুন মোটরস নামে আমার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। জাহাঙ্গীর কবির ২০১১ সালের ২৫ জানুয়ারি আমার কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে আমাকে ব্যবসা করতে দেবেন না হুমকি দেন। চাঁদা না দেওয়ার আমার দোকানটি দখল করে নেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকায় এতদিন আমি মামলা করতে পারিনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘ ৫০ বছর দলীয় প্রভাব আর ক্ষমতা দেখিয়ে জাহাঙ্গীর কবির বরগুনার ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চেম্বার অব কমার্স অবৈধভাবে দখল করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। শহরের ঐতিহ্যবাহী বন্দরক্লাব দখল করেছেন। এ ছাড়া অনেকের ঘর জমি দখলসহ তার বিরুদ্ধে জুলুম, দখলের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। আমার করা মামলায় আদালত তাকে দুই দিনের রিমান্ড দিয়েছেন।’

অপরদিকে ১৫ আগস্ট বিকালে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরসহ ছয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে বরগুনা থানায় মামলা করেছে বরগুনা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রবিউল ইসলাম মামুন। এই মামলায় প্রধান আসামি ও করা হয় জাহাঙ্গীর কবিরকে।

মামলার অন্য আসামি হলেন- মিজানুর রহমান ওরফে দালাল মিজু, সাবেক পৌর কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা কিসলু, বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ অলি, গোলাম কিবরিয়া পিন্টু ও পৌর কাউন্সিলর রইসুল আলম রিপন।

জাহাঙ্গীর কবিরের আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে যে দুটি চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হয়েছে তা সঠিক নয়। তিনি বরগুনা শহরে একজন স্বচ্ছ রাজনীতিবিদ। তিনি সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য ১৩ বছর পর হারুন অর রশিদ হাওলাদার ও ৯ বছর পর মামুন নামের অপর এক ব্যক্তি দুটি সাজানো মামলা করেছেন। এ ছাড়া জাহাঙ্গীর কবির ৭২ বছরের একজন বৃদ্ধ হার্ট ও কিডনি রোগে আক্রান্ত। আমরা আদালতে আবেদন করেছিলাম তাকে জেলখানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।’




মন ভোলাচ্ছে সেলিমের গুড়ের জিলাপি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নেই কোনো সাইন বোর্ড। নেই সাজ-সরঞ্জামও। চারদিকে টিন আর কাঠ দিয়ে তৈরি দোকান। নামবিহীন এই হোটেলে তৈরি হচ্ছে গুড়ের জিলাপি। কড়াই থেকে জিলাপি তোলার ফুরসত পান না কারিগর। আর এই জিলাপি কিনতে রীতিমতো লাইনে দাঁড়ায় লোকজন।

এমন এক দৃশ্য দেখা যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর শহরের সড়ক বাজারের মায়াবী সিনেমা হল (আদর আলী কমপ্লেক্স) সামনের মোড়ে একটি হোটেলে। রাস্তার পাশে গড়ে উঠা মো. সেলিম মিয়া নামে এক ব্যবসায়ী দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে জিলাপি তৈরি করে বিক্রি করছেন।

তার হাতের জিলাপি সুস্বাদু হওয়ায় এলাকায় বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। এই জিলাপির অন্য রকম স্বাদ থাকায় বছরজুড়ে এর চাহিদা রয়েছে বেশ। সরেজমিন হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই কারিগররা গরম তেলের কড়াইয়ে ভাঁজছেন জিলাপি। এরপর ভাজা জিলাপি সিরায় দিয়ে তুলছেন বিক্রির জন্য। এখানে জিলাপি তৈরিতে কোনো ধরনের কেমিকেল মেশানো হয় না এতে। এই হোটেলে সব সময় থাকে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। তবে এখানে ক্রেতাদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু মূলত জিলাপি হওয়ায় এমন ভিড় প্রতিদিনের ঘটনা। হোটেল মালিক মো. সেলিম মিয়া বলেন, সড়ক বাজার এলাকায় প্রায় ২৫ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। জিলাপি তেল, ময়দা, গুড় দিয়ে তৈরি করা হয়।

এই হোটেলে মূলত দুই ধরনের জিলাপি তৈরি করা হয়। একটি গুড় দিয়ে অন্যটি চিনি দিয়ে। তবে গুড়ের জিলাপির সব চাইতে বেশি চাহিদা রয়েছে। সকাল ১০ টার পর থেকে জিলাপি বানানো শুরু করি রাত ৮ টা পর্যন্ত চলে বিক্রি। প্রতিকেজি শাহী জিলাপি ২০০, চিনি গুড় ১৬০ টাকায় বিক্রি করছি। দৈনিক গড়ে ২ মণ জিলাপি বিক্রি হয়। শুক্রবার হলে বিক্রি বেড়ে যায়। তাছাড়া ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অনেকে আগ থেকেই চাহিদানুযায়ী অর্ডার করে যায়। জিলাপি বিক্রিতে ভালো টাকা আয় হওয়ায় আমি খুশি। পৌর শহরের দেবগ্রাম এলাকার ক্রেতা মুর্শেদ মিয়া বলেন, ঘরের সবার কাছে গুড়ের জিলাপি খুব প্রিয়।

সবখানে ভালো জিলাপি পাওয়া যায় না। সড়ক বাজার এলাকায় সেলিম মিয়ার হোটেলের গুড়ের জিলাপির অনেক সুনাম আছে। যখনই জিলাপি খেতে ইচ্ছে হয় তখন এখান থেকে কেনা হয়। কলেজ পাড়া এলাকার মো: বাছির মিয়া বলেন, আমার কাছে গুড়ের জিলাপি খুবই পছন্দ। সময় সুযোগ হলে এখানে এসে জিলাপি খেয়ে যায়। ছাত্রজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে তার দোকান গুড়ের জিলাপি খেতে যেতাম। ঘরের লোকজন জিলাপি খেতে চেয়েছে তাই ১ কেজি কেনা হয়েছে। ব্যবসায়ী শাহজাহান মিয়া বলেন, এই হোটেলে জিলাপি ছাড়া ও পুরি, সিঙ্গারা, পরটাসহ নানা প্রকারের খাবার তৈরি হয়। কিন্তু চিনি আর গুড়ের তৈরি জিলাপির বেশ সুনাম রয়েছে। এখানকার জিলাপি সুস্বাদু, খেতেও বেশ মজা। প্রায় সময় হোটেলে বসে আমরা জিলাপি খাই এবং বাড়িতে নিয়ে যায়।

তাছাড়া মিলাদ মাহফিলসহ নানা অনুষ্ঠানে এখান থেকে জিলাপি কেনা হয়ে থাকে। শিক্ষক লিয়াকত হোসেন বলেন, জিলাপি আমার ছোট বেলা থেকেই পছন্দ। গুড়ের জিলাপি এখন অনেক দোকানে তৈরি করা হলেও এখানের জিলাপির কোন তুলনা হয় না। বাড়িতে একটি মিলাদের আয়োজন থাকায় ১০ কেজি শাহী জিলাপি কেনা হয়েছে। কারিগর হরিপদ ঘোষ বলেন, তিন দশকের বেশি সময় ধরে এখানে জিলাপি তৈরির কাজ করছি। এ জিলাপির মান ভালো হওয়ায় দিন দিন চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই এর মান ধরে রাখার আমরা চেষ্টা করছি।

প্রতিবার জিলাপি ভাজতে নতুন তেল ব্যবহার করা হয়। একবার ব্যবহার করা তেল দ্বিতীয়বার ব্যবহার করা হয় না। এ কারণে জিলাপি খেয়ে সবাই প্রশংসা করেন। হোটেল মালিক সেলিম মিয়া বলেন, বর্তমানে জিলাপি তৈরির সব উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তবুও আমরা সবসময় গুণগত মান ভালো রাখার চেষ্টা করছি। এ প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ধরে রাখতে চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই।

 




পটুয়াখালীতে ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর বেশ উত্তাল হয়ে উঠেছে। বেড়েছে নদ-নদীর পানির উচ্চতা। উপকূলীয় এলাকা দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পটুয়াখালীর পায়রাসহ সব সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এ সময় সব মাছধরা ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর বিভিন্ন স্থানে গত তিনদিন ধরে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় জেলার কলাপাড়ায় ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। তলিয়ে গেছে খাল-বিল। আমন বীজ রোপণে বিপাকে পড়েছেন কৃষক।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, এখনো গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি অব্যাহত রয়েছে। এ কারণে বৃষ্টিপাত আগামী ৭২ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। সেইসঙ্গে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

কলাপাড়ার টিয়াখালী ইউনিয়নের বাদুরতলী গ্রামের কৃষক রেফায়েত সিকদার বলেন, এখন আমন বীজ রোপণের সময়। কিন্তু বৃষ্টিতে সব তলিয়ে আছে। এর কয়েকদিন আগেও ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছিল। যার কারণে আমরা বীজ রোপণ করতে পারছি না। বৃষ্টির কারণে আমরা দুশ্চিন্তায় রয়েছি।

কলাপাড়া পৌর শহরে রিকশাচালক ফরিদ হোসেন বলেন, গতকাল ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। বিকেলে বাজারে তেমন মানুষই ছিল না। তবে রোববার সকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে কিছু মানুষ বাজারে উঠেছে। মানুষের আনাগোনা কম থাকায় আমাদের ইনকাম খুবই কম।




রাঙ্গাবালীতে কৃষি কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী রাঙ্গাবালীতে কৃষি কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে ইদ্রিস গাজী (৩৮) নামের এক কৃষক মারা গেছেন।

শনিবার বিকেলে রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের কানকুনি পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ইদ্রিস গাজী পশুরীবুনিয়া গ্রামের মৃত বশির গাজীর ছোট ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে বৃষ্টির মধ্যে খেতে চাষাবাদ করতে যান ইদ্রিস গাজী। বড়বাইশদিয়া কানকুনিপাড়া গ্রামের আবু হাওলাদারের সাথে কাজ করেন তিনি। বিকেল থেকেই মুশাল ধারে বৃষ্টি আর বজ্রপাতের কারণে চাষাবাদের ট্রাক্টর বন্ধ করে দেন। কাজের মালিকের বাড়িতে আসার পথে হঠাৎ বজ্রপাতে মারা যান। রবিবার সকালে কৃষি খেতে ইদ্রিসের মরাদেহ দেখতে পান এলাকার লোকজন।

কাজের বাড়ির লোকজন বলেন, আমরা ভাবছি বৃষ্টির কারণে ইদ্রিস রাতে মসজিদে শুয়ে আছে।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, বজ্রপাতে নিহতের পরিবার থেকে আমাদের কাছে কেউ আসেনি। বিশেষভাবে আমি জানতে পারছি বজ্রপাতে ইদ্রিস গাজী নামে এক ব্যক্তি মারা গেছে।




কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের নব নির্বাচিত সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনুকে ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার (১৮ আগস্ট) কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

প্রেসক্লাব সূত্রে জানা গেছে, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুয়াকাটা প্রতিনিধিরা ১৫ আগস্ট প্রেসক্লাবে এসে তাদের দাবি জানান। তারা দাবি করেন কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল-মিটিং করেছেন। তাদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিন দিন সময় চাওয়া হয়। এরপর শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে প্রেসক্লাব ও সদস্যদের নিরাপত্তা এবং সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখতে আনোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় ক্লাব ব্যবস্থাপনা কমিটি পরিচালনার জন্য ক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. কুদ্দুস মাহমুদকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পোস্টে আনোয়ার হোসেন বলেন, কুয়াকাটায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সম্বন্নয়কদের ছড়াছড়ি। তাদের অনধিকার চর্চার মাত্রা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।
এরপর তিনি আরও একটি পোস্টে লেখেন, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে এক কালো অধ্যায় সৃষ্টি হলো।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুয়াকাটা প্রতিনিধি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইমরান হোসেন বলেন, তিনি (আনোয়ার হোসেন) একজন সংবাদকর্মী হওয়া সত্ত্বেও একটি রাজনৈতিক দলের ব্যানারের সামনে থেকে ছাত্র আন্দোলনের বিরুদ্ধে রাস্তায় মিছিল-মিটিং করেছেন। তাই কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতির আসনে তার থাকা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য হুমকি মনে করছি। এ জন্য তাকে সভাপতি পদ থেকে বাধ্যতামূলক প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়েছি।




‘তিনটা বছর ভালো মাছ পড়ে না, এখন সাগরেও তেমন ইলিশ নাই’

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না পেয়ে হতাশ জেলেরা। ইলিশের ভরা মৌসুমেও উপকূলীয় এলাকা কুয়াকাটার জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না রূপালি ইলিশ। একদমই ইলিশশূন্য জেলেরা।

একদিকে ডিজেল ও মুদি মালামালের দাম বেড়েছে, অন্যদিকে ট্রলার সাগরে গিয়ে মাছ ছাড়াই ফিরে আসছে। এদিকে আড়তদারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা দাদন নিয়েছেন। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় সে টাকা শোধ করবেন কীভাবে, তা নিয়ে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে কপালে। এমন চলতে থাকলে পেশা বদলে ফেলতে পারেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হতাশায় ভুগছেন উপজেলার ১৮ হাজার ৩০৫ জন নিবন্ধিত জেলে। একদিকে ঋণ সংকট, অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার পর ইলিশ না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় ৩৭ শতাংশ জেলে। শুধু জীবিকার তাগিদেই নয় প্রতি মুহুর্তে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ শিকার করে অর্থনীতির চাকা সচল করছেন পেশাদার জেলেরা। জীবনযুদ্ধে হার না মানা এসব মানুষ মাছ ধরার জন্য ছুটে যায় গভীর সমুদ্রসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে। এ সময় উত্তাল সাগরে ট্রলার ডুবে গেলে কারও কারও খোঁজ স্বজনরা পেলেও অনেকেরই সলিল সমাধি হয়েছে সাগরে।

উপজেলার আলীপুর, মহিপুর, লালুয়া, কুয়াকাটা ধুলাসার, ধানখানখালী, বাবলাতলার ঢোস, নিজামপুর, গঙ্গামতি, জেলে পল্লি ঘুরে জেলেদের সঙ্গে কথা বললে তারা তাদের দুর্দশার কথা জানায়।

গঙ্গামতির গ্রামে জেলে নবী হোসেন বলেন, ‘তিনটা বছর হইছে তেমন ভালো মাছ পড়ে না। মোগো মেরুদণ্ড ভাইঙা ফালাইছে। আবার ২২ দিনের ইলিশের অবরোধ নিষেধাজ্ঞা, আট মাসের জাটকা ধরা অবরোধ। এখন গাঙে, সাগরেও তেমন ইলিশ নাই।’

লালুয়ার চারিপাড়া গ্রামে জেলে আ. করিম বলেন, এই এলাকার ৯০ শতাংশ মানুষ মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন তিন বেলা খাবার যোগার করতে কষ্ট হচ্ছে।

এফবি মায়ের দোয়ার মাঝি মো. কালাম হোসেন জানান, দুই দিন আগে ১৫ জন জেলে নিয়ে সাগরে মাছ শিকারের জন্য যান। কিন্তু সাগরে উত্তাল ঢেউ থাকার কারণে শিববাড়ীয়া নদীর নোঙর করে আছেন।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে আশা করা হচ্ছিল জেলেরা প্রচুর ইলিশ নিয়ে ফিরবেন। কিন্তু বৈরি আবহাওয়ার কারণে তাদের ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। ফলে লোকসান গুনতে হচ্ছে ট্রলারের মালিক ও জেলেদের। আবহাওয়া ভালো হলে জেলেরা সমুদ্রে আশানুরূপ মাছ পেলে অর্থনৈতিক দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পারবেন।




হেরা গুহা পরিদর্শনে ক্যাবল কার বানাবে সৌদি

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালানকারীদের অন্যতম আকর্ষণ মক্কার জাবাল আল নূরের হেরা গুহা। যেখানে ধ্যানে মগ্ন থেকে নবুয়ত লাভ করেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)।

পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হওয়া এ গুহায় মহানবীর ধ্যানের স্থান হাজিদের জন্য প্রবল আকর্ষনীয় স্থান। এ গুহা পরিদর্শন করতে হাজিদের অনেক কষ্টসাধ্য করে পাথুরে পাহাড়ে চড়তে হয়। আবার পাহাড় থেকে নামতেও বেশ বেগ পেতে হয়। পবিত্র কাবা শরীফ থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ গুহার উচ্চতা ৬৩৪ মিটার।

হাজিদের এ অপরিসীম কষ্টের বিষয়টি বিশেষ বিবেচনায় রেখে এবার একটি অভুতপূর্ব প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি সরকার। হেরা গুহায় সকল দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুবিধার্থে একটি কেবল কার সিস্টেম তৈরি করবে তারা। সৌদি প্রশাসন আশা করছেন, আগামী হজ মৌসুমেই হাজিরা এ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন অর্থাৎ ২০২৫ সালে এই কেবল কার সেবা চালু হবে।

এ প্রসঙ্গে সৌদি সরকার জানিয়েছে, হেরা গুহা পরিদর্শনে শুধু ক্যাবল কার সিস্টেম তৈরির পরিকল্পনাই নেওয়া হয়নি, গুহাটি যেখানে অবস্থিত সেটিকে সাংস্কৃতিক বিভাগ হিসেবেও গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এছাড়াও একই বছরের মধ্যে জাবালে ওমর তথা ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.) এর বাড়িতে তিনটি নতুন জাদুঘরও নির্মিত হবে।

বিখ্যাত জাবাল আল নূর পাহাড়ে আলোর পাহাড় হিসেবেও পরিচিত। উটের কুঁজের মতো দেখতে পাহাড়টিতে অনেকগুলো খাড়া ঢাল রয়েছে। পাহাড়টি ৫৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অবস্থিত এবং ৩৮০ মিটার থেকে ৫০০ মিটার পর্যন্ত খাড়া বাঁক রয়েছে।

আর এই পাহাড়েই হেরা গুহা অবস্থিত। এ গুহাটিতে একসঙ্গে পাঁচজন মানুষ বসতে পারেন। এটি মুসলিমদের জন্য খুবই অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। কারণ, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হযরত মোহাম্মদ (সা.)’এর স্মৃতি এবং ইসলামের ইতিহাস।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম)পবিত্র হজপবিত্র ওমরাহমক্কাপবিত্র কোরআনহাজিক্যাবল কারক্যাবল কার সিস্টেমসৌদি সরকারসৌদি আরবইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা.)জাবাল আল নূর পাহাড়ইসলামের ইতিহাস।




ভোলায় চেয়ারম্যানকে জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘুরালো জনতা

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় টানা ১৫ বছর ধরে এলাকার মানুষকে নির্মম নির্যাতন করেছিল এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। যাঁর ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হওয়ার পর স্থানীয় নির্যাতিত বিক্ষুব্ধ জনতা ওই চেয়ারম্যানকে বাড়ি থেকে ধরে বাজারে নিয়ে জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘুরিয়ে নৌবাহিনীর হাতে সোপর্দ করেছেন। যাঁর বেশকিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আবু বক্করপুর ইউনিয়নে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ আগষ্ট) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।ওই চেয়ারম্যানের নাম মো. সিরাজ জমাদার। তিনি আবু বক্করপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। টানা ৩ বার তিনি ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও একই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি পদে ছিলেন তিনি।

এলাকাবাসীসূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময় তিনি স্থানীয় জনগনকে নির্মম নির্যাতন করেছিলেন। তাঁর নির্যাতনের হাত থেকে কেউই রেহাই পায়নি। সাধারণ মানুষকে মারধর করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জায়গা-জমি দখল করে নিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও তিনি একদল সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দিতেন। যাদের মাধ্যমে তিনি জনগণের উপর অতর্কিত হামলা চালাতেন। টানা ১৫ বছর আবু বক্করপুর ইউনিয়নের মানুষ তাঁর নির্যাতনে অতিষ্ঠ ছিল।

ভোলা-৪ আসনের এমপি (চরফ্যাশন-মনপুরা) ও সাবেক পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তনের উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের আস্থাভাজন লোক ছিলেন তিনি। যাঁর কারনে জ্যাকবের ক্ষমতা ও নিজের চেয়ারম্যান পাওয়ার দেখিয়ে এলাকায় এমন তাণ্ডব চালিয়েছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন।

গেল ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনার পতনের পর গা-ঢাকা দিয়ে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। উত্তপ্ত পরিবেশ কিছুটা শান্ত হওয়ার পর গতকাল সকালে নিজ বাড়ি আবু বক্করপুর ইউনিয়নে আসেন তিনি। এমন খবর পেয়ে স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাড়িতে গিয়ে তাকে ধরে নিয়ে জুতার মালা পরিয়ে স্থানীয় বাজার ও এলাকায় ঘুরায়। এসময় বিক্ষুব্ধ জনতা এ ঘটনার বেশকিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। খবর পেয়ে নৌবাহিনীর একটি টিম স্থানীয় রৌদের হাট বাজার থেকে তাকে উদ্ধার করে দুলার হাট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

স্থানীয় একটি জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মাইনুল ইসলাম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি এবং তাঁর মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্যরা ওয়াজ মাহফিলের জন্য চাঁদা তুলতে স্থানীয় রৌদের হাট বাজারে যান। এসময় চেয়ারম্যান সিরাজ জামাদার তাকে চাঁদা তুলতে বাধা দেন এবং কোনোপ্রকার ওয়াজ মহফিল করা যাবে না জানিয়ে তাকে চলে যেতে বলেন। পরে মাওলানা মাইনুল ইসলাম এতে অপারগতা প্রকাশ করলে চেয়ারম্যানসহ তাঁর দলবল তাকে ওই বাজারে প্রকাশ্যে হাত-পা বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় তিনি ওই দিন থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।

দুলারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাকসুদুর রহমান মুরাদ জানান, চেয়ারম্যান সিরাজ জমাদারকে বিক্ষুব্ধ জনতা জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘুরাচ্ছে। এমন খবর পেয়ে নৌবাহিনী বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে মাওলানা মাইনুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে একটি চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় মোট ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধান আসামি করা হয়েছে চেয়ারম্যান সিরাজ জমাদারকে। পরে বিকেলে সেই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।




ভোলায় ছাত্রদল নেতা হত্যা মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস :: ভোলার চরফ্যাশনে উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আবদুর রাজ্জাক হত্যা মামলার প্রধান আসামি শশীভূষণ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি লোকমান মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার রাতে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর মৎস্য বন্দর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর মৎস্য বন্দর এলাকায় আত্মগোপনে করতে ঘোরাঘুরি করছিলেন লোকমান। এ সময় ভোলার কিছু জনতা তাঁকে দেখে চিনতে পারলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার লোকমান মাতুব্বর চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ এলাকার নান্নু মাতুব্বরের ছেলে। তিনি একই এলাকার জিন্নাঘর এলাকার হোসেন মিয়ার ছেলে তৎকালীন চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবদুর রাজ্জাক হত্যার প্রধান আসামি।

চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া বলেন, ‘গ্রেপ্তার লোকমান মাতুব্বর চরফ্যাশন এলাকার আতঙ্ক। তিনি ২০১৫ সালে কোরবানির ঈদের দিন চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতিকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। হত্যার পুরস্কার হিসেবে তাঁকে শশীভূষণ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি করা হয়। লোকমান মাতুব্বর দীর্ঘদিন এলাকায় দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন মানুষকে হয়রানি করেছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাখাওয়াত হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক হত্যা মামলার প্রধান আসামি শশীভূষণ থানা ছাত্রলীগের সভাপতি লোকমান মাতুব্বরকে পটুয়াখালী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে তাঁকে ভোলা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।




পিরোজপুরের সাঈদীর জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা সভা

বরিশাল অফিস :: জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জীবন ও কর্ম নিয়ে পিরোজপুরে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে পিরোজপুরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী প্রতিষ্ঠিত আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনে এ দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে মাওরানা সাঈদীর জন্য দোয় মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট বক্তা ক্বারী আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ সময় হাজার হাজার মানুস কান্নায় ভেঙে পড়ে।

আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশনের সভাপতি শামীম সাঈদীর সভাপতিত্বে শনিবার বিকেলে সাঈদী ফাউন্ডেশনের এ সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়। বিকেল ৪টার আগেই পিরোজপুর সাঈদী ফাউন্ডেশনের মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

তিনি বলেন, ‘এক বছর আগে এই মাঠে মাওরানা সাঈদীকে যারা জানাজা পরতে দেয় নাই আজ তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন’।

মাওলানা সাঈদীর সেজ ছেলে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদী বলেন, আওয়ামীলীগ সরকার ইসলাম বিদ্বেষী। তাই তারা টার্গেট করে এদেশের শীর্ষ আলম সমাজকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য যুদ্ধাপরাধী মামলা সাজিয়েছে।

আরো বক্তব্য রাখেন ক্বারী মাওলানা সাদিকুর রহমান আজহারী, মাওলানা আব্দুল্লাহ আল আমিন, মাওলানা আবুল কালাম আজহারী, জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে সূরার সদস্য মাওলানা ফখরুদ্দীন খান গাজী, জামায়াতে ইসলামী পিরোজপুর জেলার নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রব, পিরোজপুর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মজিানুর রহমান শাহীন, সিদ্ধেশ্বরী কলেজের সভাপতি এ বি এম খাইরুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আকন ও সাঈদী ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মাওলানা শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।