বাউফলে পূর্ব শত্র‍ুতার জের ধরে নারী সহ ৪ জনকে কুপিয়ে জখম

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে নারী সহ চার জনকে কুপিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করেছে প্রতিপক্ষরা।

রোববার (১৮ আগষ্ট) বিকালে উপজেলার কনকদিয়া ইউপির আমীরাবাদ গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। আহতদের মধ্যে এক বৃদ্ধ নারীও রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানা গেছে, উপজেলার আমীরাবাদ গ্রামের আবদুর রহমান গংদের সাথে একই বাড়ীর খালেদুজ্জামান ফোরকান এর সাথে জমি জমা নিয়ে পূর্ব থেকে বিরোধ চলছে। ঘটনার দিন বিকাল অনুমান ৫টার দিকে আবদুর রহমানের বসত ঘরের সামনে লাগানো গাছ কেটে ফেলে খালেকুজ্জামান। ওই সময় বাধা দিলে প্রথমে দু’জনের মধ্যে তর্ক হয়।

এর কিছুক্ষণ পরে ফোরকান বহিরাগত ৮/১০জনের একটি দল নিয়ে আবদুর রহমানের উপর হামলা করে। ওই সময় হামলাকারীরা আবদুর রহমান (৩৮) ও তাকে বাঁচাতে এলে শাকিল খান (৩৩) , খায়রুল হাসান (২৪) ও চন্দন বিবি (৭৫) কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

আহতদের প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তী করা হলেও অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকৎস্যার জন্য প্রত্যেকেই বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বাউফল থানার জরুরী বিভাগের ডাক্তার ফাতেমা জানায়, আহতের অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারনে অবস্থার অবনতি ঘটলে বরিশালে রেফার করা হয়। চন্দন বিবি নামক বৃদ্ধার মেরুদন্ডের হাড় ভেঙ্গে গেছে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন বলেন , আহতদের পক্ষে সাহাদত নামে একজন বাদী হয়ে অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




শ্রীলেখার তোপের মুখে ঋতুপর্ণা-রচনা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আরজি কর ধর্ষণ কাণ্ডে চলমান আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ব্যাপারে টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের তোপের মুখে পড়লেন অন্য দুই অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও রচনা ব্যানার্জি। এ দুজনের নাম নিয়ে মূলত আন্দোলনে তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শ্রীলেখা।

গতকাল শনিবার ফেসবুক লাইভে এসে শ্রীলেখা মিত্র বলেন, ‘আমি লজ্জিত ইন্ডাস্ট্রির লোকজনের নাটক দেখে। যারা এই ঘটনাকে অরাজনৈতিক বলছেন নিজেদের পিঠ বাঁচিয়ে চলার তাগিদে, ওপরতলার মানুষকে না চটিয়ে। আর যারা শঙ্খ বাজিয়ে বা কেঁদে ভিডিও করছেন, তারা খুব অন্যায় করছেন। এগুলো নির্যাতিত ও তার বাবা-মায়ের প্রতি অশ্রদ্ধা এবং পুরো আন্দোলনের প্রতি অশ্রদ্ধা। এর কড়া নিন্দা হওয়া উচিত।’

১৪ অগস্ট মধ্যরাতের ‘মেয়েরা, রাত দখল করো’ কর্মসূচিতে সংহতি জানাতে সিঙ্গাপুর থেকে শাঁখ বাজিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তারপর থেকেই তিনি ট্রোলের শিকার হন। পরে সেই ভিডিও সরিয়ে দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে, ভিডিওবার্তা দেন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জি। ভিডিওতে তাকে কাঁদতে দেখা যায়।

শ্রীলেখা বলেন, ‘এটা (আন্দোলন) নিয়ে দয়া করে নাটক করবেন না। ঘরের এক কোণে বসে ভাবুন। ক্ষমতা ও অর্থই সব কিছু নয়। নিজের কাছে সৎ থাকুন। নিজের আত্মাকে বিকিয়ে দেবেন না।’




আছাদুজ্জামান-হারুনের অবৈধ সম্পদের তদন্তে দুদক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয় বর্হির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের সত্যতা পাওয়ায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আজ রবিবার দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পাওয়া এসব অভিযোগের তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে দুদকের গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।




আফ্রিকায় খরার কবলে ৭ কোটি মানুষ

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে প্রায় ৭ কোটি মানুষ খরার কবলে পড়েছে। এল নিনোর প্রভাবে সেখানে কোনো ফসল জন্মাচ্ছে না। গতকাল শনিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সাউদার্ন আফ্রিকান ডেভেলপমেন্ট কমিউনিটি (এসএডিসি)।

১৬টি আফ্রিকান দেশের প্রধান শনিবার জিম্বাবুয়ের রাজধানী হারারেতে বৈঠকে বসেছিল। সেখানে তারা খরা পরিস্থিতি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন।

চলতি বছর শুরুর দিকে খরা দেখা দেয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসল ও গবাদিপশু উৎপাদন। দেশজুড়ে দেখা দেয় খাদ্যসংকট। প্রভাব পড়ে বৃহত্তর অর্থনীতিতেও।

এসএডিসির নির্বাহী সচিব ইলিয়াস মাগোসি বলেন, এই অঞ্চলের ১৭ শতাংশ মানুষ খরার কবলে, সংখ্যায় যা ৬ কোটি ৮০ লাখ। তিনি বলেন, ‘এ বছরে বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি হয়নি। যার প্রভাব পড়েছে আবহাওয়ায়।

জাতিসংঘ বলেছে, আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চল বিগত ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে শুষ্ক ফেব্রুয়ারি দেখেছে এবার। ওই অঞ্চল এবার স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ২০ শতাংশ পেয়েছে। তাপমাত্রাও গড়ের চেয়ে কয়েক ডিগ্রি বেশি ছিল।

খরার কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার দেশগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জিম্বাবুয়ে, মালাউই ও জাম্বিয়া।




জ্বর কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ

চন্দ্রদ্বীপ লাইফস্টাইল :: জীবনে কখনো জ্বর হয়নি- এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। ছোটরা তো বটেই, বড়রাও বছরে অন্তত একবার জ্বরে আক্রান্ত হন। জ্বরের মাত্রা রোগ ভেদে অল্প বা বেশি হতে পারে। কেউ কেউ অল্প কিছুদিন জ্বরে ভোগেন, কারও আবার দিনের পর দিন, এমনকি মাসের পর মাস জ্বর আসে। আসলে জ্বর কোনো অসুখ নয়, অসুখের লক্ষণ, একটি সাধারণ উপসর্গ। শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে জ্বর বলে।

বিভিন্ন কারণে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে পারে। জ্বরের প্রধান কারণ হলো জীবাণুর আক্রমণ বা ইনফেকশন। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ইনফেকশন হতে পারে আর এর মূলে থাকে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস ইত্যাদি জীবাণু। এছাড়া অনেক সময় ইনফেকশন ছাড়াও জ্বর হতে পারে, বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের কানেকটিভ টিস্যু ডিজিজ, লিম্ফোমা, এমনকি ক্যানসারেও। আশ্চর্য মনে হলেও সত্য, ওষুধ খাওয়ার কারণেও জ্বর হয়, যাকে বলে ‘ড্রাগ ফিভার’। তাই রোগী অন্য কোনো রোগে কি কি ওষুধ খায়, তা দেখে নিয়ে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

ডাক্তারদের খেয়াল রাখতে হবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগী কৃত্রিমভাবে থার্মোমিটারের তাপমাত্রা বাড়িয়ে জ্বর দেখাতে পারে। একে ‘কৃত্রিম জ্বর’ বা ‘ফাক্টিসিয়াস ফিভার’ বলে। এসব রোগীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা জরুরী। আবার অনেক রোগী আছেন, যাদের জ্বর না থাকলেও জ্বর-জ্বর লাগে বলে অভিযোগ করেন ও ঘনঘন ডাক্তারের কাছে যান। পরীক্ষায় এদের কিছুই ধরা পড়ে না, থার্মোমিটারেও জ্বর পাওয়া যায় না। আরও একটা বিষয় রোগী চিকিৎসকের মনে রাখতে হবে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে জ্বরের কারণ সহজে খুঁজে পাওয়া যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় তাকে বলে পিইউও বা পাইরেক্সিয়া অফ আননোন অরিজিন অর্থাৎ যে জ্বরের কারণ জানা যায় নেই। অনেক সময় ডাক্তারের জন্যও এ ধরনের জ্বরের রোগী অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। দেখা যায়, অনেকদিন ধরে বিভিন্ন রকমের অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও কোনোভাবেই জ্বরের কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

জ্বর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা অনেকেই চিন্তিত হয়ে পড়ি। দেখা যায়, একদিনের সামান্য জ্বরেই কেউ কেউ চিকিৎসকের কাছে ছুটে যাই, নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর অ্যান্টিবায়োটিকের জন্য অনুরোধ করি। অনেকে আছেন, যারা অনেক দিনের জ্বর নিয়েও ঘোরা ফেরা করছেন, চিকিৎসার প্রয়োজন বোধ করছেন না। দুটোই খারাপ। দীর্ঘদিনের অল্প-অল্প জ্বর থাকলে বা সাধারণ চিকিৎসায় সেগুলোর কোনো উন্নতি না হলে তখন তাকে অবহেলা না করে অন্তর্নিহিত কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

ডাক্তারদের উচিত হবে, রোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত ইতিহাস নেওয়া, জ্বর কখন আসে কখন যায়, অন্য কোনো উপসর্গ আছে কিনা, যেমন কাশি, প্রস্রাবের জ্বালাপোড়া, বিকেলে জ্বর রাতে ঘাম, গিরায় গিরায় ব্যথা ইত্যাদি। এই ধরনের জ্বরের কারণ হিসেবে মনে রাখা দরকার, কোনো কোনো বিশেষ রোগ, যেমন যক্ষ্মা, কোলাজেন ডিজিজ, নানা রকম ক্যানসার, এইডস ইত্যাদি জ্বরের কারণ হতে পারে। চিকিৎসক রোগীর উপসর্গ ও লক্ষণ অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রোগের কারণ বের করবেন। মনে রাখতে হবে, অযথা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা যেন না করা হয়, আবার যা প্রয়োজন তা যেন বাদ না যায়।




উন্নত চিকিৎসা নিতে শিগগিরই বিদেশে যাবেন খালেদা জিয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে যাবেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

রবিবার রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা জানান।

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থা এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদেশে যাবেন। তবে কোথায় যাবেন, কোন হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

বিএনপির পক্ষ থেকে আহতদের চিকিৎসায় সব ধরনের সহায়তা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাড়ে ৭০০’র বেশি মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এরমধ্যে অনেকেই বাড়ি ফিরে গেছে। আবার অনেকের দীর্ঘমেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। বর্তমানে ১১ জন রোগী দু-চোখে দেখছেন না। তাদের আরও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশেই আন্দোলনে আহতদের দেখতে হাসপাতালে এসেছি।’



ববি ছাত্রলীগের দুই কর্মীর ছাত্রত্ব বাতিল

বরিশাল অফিস :: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় দুই ছাত্রলীগকর্মীর ছাত্রত্ব বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটি।

রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদকে রাতভর নির্যাতনের ঘটনায় একই বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানজিদুল হক মঞ্জু ও শিহাব উদ্দিন পাটোয়ারী রিফাত নামের দুই ছাত্রলীগকর্মীর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়াও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আহাদ খান রাফি নামে এক শিক্ষার্থীকে এক বছরের বহিষ্কারাদেশের সুপারিশও করা হয়।

রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলাম বলেন, শনিবার রাতের একটি শৃঙ্খলা কমিটিতে তিন শিক্ষার্থীর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এটা সিন্ডিকেটে অনুমোদন হলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

গত বছরের ১৪ অক্টোবর ছাত্রলীগের পরিচয়ধারী দুই কর্মীর অমানবিক নির্যাতনের স্বীকার হন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুকুল আহমেদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের ৪০১৮ নম্বর কক্ষে রাতভর নির্যাতন করা হয় তাকে।

তবে এ ঘটনার প্রায় এক বছর পর বিচার পেতে যাচ্ছেন মুকুল আহমেদ।




হচ্ছে না চিকিৎসা, পিরোজপুরে বাড়িতে কাতরাচ্ছেন গুলিবিদ্ধ নাঈম

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় নাঈম হোসেন নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে বিনা চিকিৎসায় বাড়িতে কাতরাচ্ছেন। তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুলিবিদ্ধ হন।

আহত নাঈমের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট পুলিশের ছররা গুলিতে তার ডান পা ঝাঁজরা হয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জায়গা না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে রাজধানীর সুগন্ধা হাসপাতালে ভর্তি করেন এবং নিজেরাই দুই ব্যাগ রক্ত দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে তোলেন।

ছররা গুলির ১৫০টির মতো কণা তার শরীর থেকে বের করা হয়। আহতের দু-দিন পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অর্থাভাবে রাজধানীতে চিকিৎসা করাতে না পেরে তার স্বজনরা তাকে গত ৮ আগস্ট জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। বর্তমানে এ যুবক ভান্ডারিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুরা মহল্লার বটতলা সংলগ্ন তার নিজ বাড়িতে অসুস্থ অবস্থায় প্রচণ্ড যন্ত্রণায় এবং শ্বাস কষ্ট নিয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছেন।

আহতের বড় ভাই ফিরোজ সিকদার জানান, অর্থাভাবে তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করাতে পারছেন না। চিকিৎসক বলেছেন, তার শরীরে এখনও অনেক ছররা গুলির গুড়া রয়েছে। সব বের করতে গেলে তা ডান পা দিয়ে আর কাজ হবে না। বর্তমানে তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।

আহত নাঈমের স্বজনদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের কাছে দাবি, একটি তাজা প্রাণ ঝড়ে যাওয়ার আগে সরকারি সহায়তায় তার চিকিৎসার ভার নেওয়া হোক।

পিরোজপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আহত ওই যুবকের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগ সরকার কোটাবিরোধী আন্দোলনসহ ভিন্ন মতাদর্শের মানুষকে গত সাড়ে ১৫ বছরে হত্যা-গুমসহ যে নির্যাতন করেছে, তারা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এ হত্যার বিচার করতে সরকারের কাছে জোর দাবি করছি।

 




আওয়ামী লীগ নেতা আমুর ব্যাংক হিসাব জব্দ

বরিশাল অফিস :: আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে তার সন্তান এবং তাদের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।

রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠিয়ে ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে বলেছে।

হিসাব জব্দ করাদের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সব লেনদেন বন্ধ থাক‌বে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পরবে না।

লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর ২৬ (২) ধারা প্রযোজ্য হবে বলে বিএফআইইউর চিঠিতে উল্লেখ হয়েছে। চিঠিতে আমির হোসেন আমু ও তার সন্তানের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

বিএফআইইউর নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো হিসাব স্থগিত করা হলে হিসাবসংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি চিঠি দেওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের কাছে পাঠানোর জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন রাতে ঝালকাঠি-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর ঝালকাঠির বাসভবন থেকে বিদেশি মুদ্রাসহ প্রায় পাঁচ কোটি টাকা উদ্ধার করে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ৫ আগস্ট দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডের আমির হোসেন আমুর বাসভবনে আগুন নেভাতে এসে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা লাগেজ ভর্তি টাকা দেখতে পান। পরে বিষয়টি সেনাবাহিনী ও পুলিশকে জানালে তারা এসে লাগেজ ভর্তি ওই টাকা উদ্ধার করে।

 




বাউফলে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানকে তুলে নিয়ে নির্যাতন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বাউফলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোসারেফ হোসেন খানকে তার পরিষদের সরকারি বাসভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এরপর বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (১৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিএনপি ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ ছাড়াও উপজেলা পরিষদের ভাইসচেয়ারম্যান আনিছুর রহমানকে উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে বিএনপির এক সাবেক নেতার বাসভবনে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। ওই স্বীকারোক্তিটি ভিডিও করা হয়।

একটি সূত্র জানায়, ভাইস চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান স্বীকারোক্তিতে বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মু.মুনির হোসেন ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব আপেল ফিরোজ উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাকে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে অফিস করার সুযোগ দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তারা দুইজন বাউফলে আসেন। তাকে ধরে নেয়ার ৬ ঘণ্টা পর ছেড়ে দেওয়া হয়। ভাইস চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানেন মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, ‘বিএনপির সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদারের নির্দেশে ভাইসচেয়ারম্যান আনিছুর রহমানকে তার অনুসারিরা পরিষদের সরকারী বাসভবন থেকে তুলে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে আটকে রেখে শরীরিক নির্যাতন চালিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক মু. মনির হোসেন ও আমার সম্পর্কে একটি মিথ্যা বক্তব্য রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। পরে তাকে ছেড়ে দেয়।’

এ ব্যাপারে বিএনপির সাবেক এমপি সহিদুল আলম তালুকদার বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানকে আমার বাসায় তুলে এনে নির্যাতন করে কোন বক্তব্য রেকর্ড করা হয়নি। এটা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে আমি কিংবা আমার কোন অনুসারিরা জড়িত নয়। বরং উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ তাদেরকে আশ্বস্থ করে বাউফলে এসে বিপদে ফেলেছেন। এ দায় তার, আমার নয়।’

উপজেলা চেয়ারম্যান মোসারেফ হোসেন খান মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি বর্তমানে আমার সরকারী বাসভবনে অবরুদ্ধ অবস্থা আছি। পরিষদে অফিস করা জন্য এসেছিলাম। আমাকে অবরুদ্ধ করার পর আমাকে উদ্ধার করে নিরাপদে পৌঁছে দেয়ার জন্য, উপজেলা প্রশাসন, থানা, সোবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতাসহ সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু তারা কেউই এগিয়ে আসেনি। আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। যেকোন সময় আমার জীবনহানী হতে পারে।