বাল্কহেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন চার গ্রাম

বরিশাল সদর উপজেলার চরবাড়িয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ লামছড়ি এলাকায় বালুভর্তি একটি বাল্কহেডের ধাক্কায় ব্রিজ ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এতে চারটি গ্রামের সঙ্গে বরিশাল শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে দক্ষিণ লামছড়ি এলাকার খালের উপর নির্মিত ব্রিজে একটি বাল্কহেড ধাক্কা দেয়। এতে ব্রিজটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে যায়। এ ঘটনায় দক্ষিণ লামছড়ি, চরবাড়িয়া, কাজীরচর ও হরিনাথপুর গ্রামের প্রায় কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।

লামছড়ি এলাকার বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেন, “ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার কারণে আমাদের সন্তানরা বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এই ব্রিজ ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আল-মামুন জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে বালু কাটা এবং রাতের আঁধারে বাল্কহেডে করে বালু পরিবহন হচ্ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে একটি বাল্কহেড ব্রিজে ধাক্কা দিলে সেটি খালের মধ্যে পড়ে যায়। ফলে চারটি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে গেছে।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি সদর উপজেলার প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। প্রকৌশলী আশ্বাস দিয়েছেন—খুব দ্রুত অস্থায়ীভাবে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দ মিললে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সেন্টমার্টিন উপকূলে ৫ ট্রলারসহ ৩০ জেলেকে ধরে নিয়ে গেল আরাকান আর্মি

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর থেকে পাঁচটি মাছ ধরার ট্রলারসহ অন্তত ৩০ জন বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

টেকনাফ পৌর বোট মালিক সমিতির সভাপতি সাজেদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক হওয়া ট্রলারগুলোর মধ্যে তিনটির মালিক টেকনাফ পৌর এলাকার বাসিন্দা এবং বাকি দুটি শাহপরীরদ্বীপের জেলেদের মালিকানাধীন।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা অন্য জেলেদের বরাত দিয়ে সাজেদ আহমেদ বলেন, ওই সময় প্রায় ২০-৩০টি ট্রলার সাগরে মাছ ধরছিল। হঠাৎ করে ২টি স্পিডবোটে আরাকান আর্মির সদস্যরা এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে। পরে পাঁচটি ট্রলার ও অন্তত ৩০ জন জেলেকে ধরে নিয়ে যায় তারা।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে আটক হওয়া জেলেদের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশনের ইনচার্জ লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সালাহউদ্দিন রশীদ তানভীর বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে তারা খবরটি জেনেছেন। বিষয়টি যাচাই করতে এবং বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গাজীপুরে অপারেশন থিয়েটারে রোগীকে থাপ্পড়ের অভিযোগ, চিকিৎসক অস্বীকার

গাজীপুরে এক বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন চলাকালে রোগীকে থাপ্পড় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাতে গাজীপুর শহরের কে কে হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

ভুক্তভোগী আনোয়ারা বেগম জানান, স্থানীয় দালালের প্ররোচনায় তিনি ওই হাসপাতালে ভর্তি হন। অপারেশন করেন শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক সাখাওয়াত হোসেন। এনেস্থিসিয়া দেওয়ার পরও ব্যথা অনুভব হওয়ায় অপারেশনের সময় তিনি চিৎকার করলে চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে থাপ্পড় দেন বলে অভিযোগ করেন আনোয়ারা বেগম।

তিনি আরও জানান, “দীর্ঘদিন আগে একটি ইনজেকশন নেওয়ার পর ইনফেকশন হয়েছিল। পরে হাতের ব্যথা বেড়ে গেলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় গুরুতর অবস্থা ধরা পড়ে। চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন করতে হয়।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চিকিৎসক সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, “অপারেশনের সময় রোগী নাড়াচাড়া করার এক পর্যায়ে বিছানা থেকে পড়ে যাচ্ছিলেন। তখন ধরে তুলতে গিয়ে হয়তো ব্যথা পেয়েছেন। ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে আঘাত করার প্রশ্নই আসে না।” তবে কেন এনেস্থিসিয়া কাজ করেনি, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারেননি।

এই ঘটনায় রোগীর পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ছিনতাইকারী সন্দেহে পিটুনি, যুবকের মৃত্যু আরেক যুবকের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ..রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে মো. ইয়ামিন (২৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার চন্দ্রিমা মডেল টাউন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তখন তার সঙ্গে থাকা ফাহিম নামে এক যুবক গুরুতর আহত হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি কাজী মো. রফিকুল আহমেদ সমকালকে বলেন, বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ১২ নম্বর হাক্কার পাড় এলাকায় ধারালো অস্ত্রের মুখে স্থানীয় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় দুই যুবক। তিনি চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা সন্দেহভাজন দুই যুবককে ধরে বেধড়ক পিটুনি দেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ইয়ামিনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ফাহিমকে স্থানান্তর করা হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তাঁর অবস্থাও সঙ্কটাপন্ন। এ ঘটনায় দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একটি মামলা হচ্ছে ছিনতাইয়ের এবং অন্যটি গণপিটুনিতে নিহত হওয়ার ঘটনায়।

পুলিশ জানায়, আটকের পর দুই যুবকের কাছ থেকে ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অপরাধ সংশ্লিষ্টতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তে বিষয়টি জানা যাবে। নিহত ইয়ামিনের বাড়ি ভোলার লালমোহন উপজেলায়।

ঘটনাস্থলের একটি ছবিতে দেখা যায়, ব্রিজের রেলিঙের সঙ্গে দুই যুবকের পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিথর অবস্থায় পড়ে আছে তাদের রক্তাক্ত দেহ। আশেপাশে লোকজন ভিড় করে সেই দৃশ্য দেখছেন।

এর আগে গত ১৫ মে মোহাম্মদপুরের সিটি হাউজিং এলাকায় ছিনতাইকারী সন্দেহ রাকিব হোসেন নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তখন গণপিটুনিতে রাকিবের সঙ্গে থাকা মিলন হোসেন গুরুতর আহত হয়।




বরগুনায় স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা, এতিম দুই শিশুর দায়িত্ব নিলেন জেলা জামায়াত আমির

বরগুনায় স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যার ঘটনায় এতিম হয়ে পড়া দুই শিশুকন্যার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা আমির অধ্যাপক মাওলানা মো. মহিব্বুল্লাহ হারুন।

সোমবার বিকেলে তিনি সদর উপজেলার দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামে গিয়ে শিশুদের দায়িত্ব গ্রহণের ঘোষণা দেন। এসময় শিশু শিক্ষাসামগ্রী, ব্যাগ ও নগদ অর্থ তাদের স্বজনদের হাতে তুলে দেন তিনি।

এর আগে শনিবার ভোরে দক্ষিণ ইটবাড়িয়া গ্রামের স্বপন মোল্লা (৩২) পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী আকলিমা বেগমকে (২৭) গলা কেটে হত্যা করেন। এরপর নিজেও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাদের সংসারে রয়েছে ৬ বছরের কন্যা সাদিয়া ও এক বছরের আফসানা। সকালে সাদিয়া পাশের বাড়ির এক গৃহবধূকে জানায়, “মা কিছু বলছে না।” পরে প্রতিবেশীরা ঘটনাটি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা এলাকায় আগে ঘটেনি। দুই শিশু এতিম হয়ে পড়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়। এ অবস্থায় জামায়াত জেলা আমির দায়িত্ব নেওয়ায় এলাকাবাসী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

অধ্যাপক মাওলানা মহিব্বুল্লাহ হারুন বলেন, “মানবতার খাতিরে এই দুই শিশুর পূর্ণ দায়িত্ব আমি নিয়েছি। তাদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করা হবে। আমরা চাই, সমাজের সবাই এতিম ও অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়াক।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালের লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি আদিরূপে ফিরছে

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি সংস্কারের মাধ্যমে আদিরূপে ফিরছে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে ধসপ্রায় প্রাসাদোপম এই ভবনের ভিত্তি, ইটের গাঁথুনি ও ছাদ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের কাজের জন্য ৬০ লাখ ৬৫ হাজার ৯৩৫ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের সহকারী কাস্টোডিয়ান আরিফুর রহমান জানান, প্রাচীন দরজা-জানালা, মেঝে ও বাতাস চলাচলের কাঠামো পরবর্তী ধাপে সংস্কারের আওতায় আসবে। লাকুটিয়া জমিদারবাড়ি ৮.২০ মিটার উচ্চতা, ২৫.৪০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ৯.২০ মিটার প্রস্থের দোতলা ভবন। ভবনের চারপাশে পুনঃনির্মাণ করা হচ্ছে গোলাকার ইটের পিলার।

স্থানীয় বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “ছোটবেলা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দেখেছি। সংস্কারের পর প্রচুর দর্শনার্থী আসবে এবং জমিদারি ইতিহাস সংরক্ষিত হবে।”

সংস্কৃতিজন সুশান্ত ঘোষ জানিয়েছেন, লাকুটিয়া জমিদার পরিবার বরিশালের সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল। তারা কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তা রেখেছিল। বিশ্বখ্যাত লেখক অরুন্ধতী রায়ও এই পরিবারের সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময়ও জমিদারবাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের কেন্দ্র ছিল।

২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে জমিদারবাড়ির ভবিষ্যত নিয়ে চিঠি দেন জমিদার পরিবারের উত্তরাধিকারী। তার ভিত্তিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর বরিশাল জাদুঘরকে প্রস্তাব তৈরি করতে নির্দেশ দেয়।

জমিদার রূপচন্দ্র রায় প্রতিষ্ঠা করেন লাকুটিয়া জমিদার পরিবার। তার নাতি রাজচন্দ্র রায়ের সময়ে জমিদারির পরিধি ও প্রভাব বৃদ্ধি পায়। জমিদারবাড়িটি ১৬-১৭ শতকের মধ্যে নির্মিত হয়। এর ওপর ২১.৩৪ একর জমি বিস্তৃত এবং ভবনের সামনে-পেছনে মঠ ছিল।

স্থানীয়রা আশা করছেন, সরকারি উদ্যোগ ও জমিদারবাড়ির চারপাশে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা হলে ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে প্রাণবন্ত হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




৪৭ লাখ টাকার স্বর্ণসহ দুই পাচারকারী আটক

চন্দ্রদীপ নিউজ.চোরাচালান একটি দেশের অর্থনীতির বিষফোড়া  আরা তাই দেশের সীমান্ত রক্ষীরা প্রতিনিয়ত এই চোরাচালান রোধে কাজ করে যাচ্ছে তারই অংশ হিসাবে টেকনাফে ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের ৩০৪.৮৬ গ্রাম স্বর্ণসহ দুই পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। গতকাল রবিবার রাতে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার বিকালে কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক টেকনাফ থানাধীন নাফ নদ সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি ডিঙি বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪৫ লাক ৮৩ হাজার ৪৩৭ টাকা মূল্যের৩০৪.৮৬ গ্রাম স্বর্ণসহ দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়।

জব্দ স্বর্ণ, পাচারকাজে ব্যবহৃত ডিঙি বোট ও আটক পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। চোরাচালান রোধকল্পে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।




আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস আজ

দারিদ্র্য নিরক্ষরমুক্ত হতে বড় বাধা

চন্দ্রদীপ নিউজ  সাত বছর বা তার বেশি বয়সী ২২ শতাংশ মানুষ এখনো নিরক্ষর

বছরের ব্যবধানে ৪ হাজার বেসরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় ও ২ লাখ শিক্ষার্থী বাড়লেও ঝরে পড়ার হার বেড়েছে ৩ শতাংশ ।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশে সাক্ষরতার হার বেড়েছে। তবে শতভাগ সাক্ষরতা নিশ্চিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দারিদ্র্য। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশের দারিদ্র্যের হার যত কমেছে, সাক্ষরতার হার তত বেড়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের দারিদ্র্যের হার ছিল ৮০ শতাংশের বেশি আর সাক্ষরতার হার ছিল মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যের সেই হার নেমে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন ‘বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২৪’ অনুযায়ী দেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ। সেই হিসাবে ২২ দশমিক ১ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনো নিরক্ষর। ২০১০ সালে দেশে সাক্ষরতার হার ছিল ৫৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। দেড় দশকে সাক্ষরতার হার বেড়েছে ১৮ দশমিক ০৮ শতাংশ। এদিকে এক বছরের ব্যবধানে ৪ হাজার বেসরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয় ও ২ লাখ শিক্ষার্থী বাড়লেও ঝরে পড়ার হার বেড়েছে ৩ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাক্ষরতার হার নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি তথ্যে বড় ধরনের ফারাক রয়েছে। সাক্ষরতার আন্তর্জাতিক সংজ্ঞার সঙ্গেও আমাদের কার্যক্রমের মিল নেই। এ কারণে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করার পরিকল্পনা দিনদিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায়ই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো দেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় আজ পালিত হবে ‘আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৫’। ইউনেসকো নির্ধারিত এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রযুক্তির যুগে সাক্ষরতার প্রসার’।

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তিনি বলেন, সাক্ষরতা একটি জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য অতি প্রয়োজনীয় উপাদান। প্রযুক্তিনির্ভর এই আধুনিক পৃথিবীতে সাক্ষরতার ধারণা আজ শুধু পড়ালেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল জ্ঞান, তথ্য ব্যবহারের দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় অংশগ্রহণের সক্ষমতা। এখন তথ্য খুঁজে বের করা, বিশ্লেষণ করা, অনলাইনে শেখা ও দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান খোঁজা—এ সবই কার্যকর সাক্ষরতার অংশ। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে যারা পিছিয়ে পড়ছে, তারা কেবল শিক্ষাবঞ্চিতই নয়, বরং সমাজ ও অর্থনীতির মূল স্রোত থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘প্রযুক্তির যুগে সাক্ষরতার প্রসার’ সময়োপযোগী ও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকার জন্য কর্মমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম।

উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য তাদের সাক্ষরজ্ঞান ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করা অত্যন্ত জরুরি।

১৮টি জেলায় এখনো ২৫ শতাংশের বেশি মানুষ লিখতে বা পড়তে পারে না: এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ১৮টি জেলায় এখনো ২৫ শতাংশের বেশি মানুষ লিখতে বা পড়তে পারে না। এ ২৫ শতাংশের সিংহভাগের নিরক্ষতার পেছনে দায়ী দারিদ্র্য। পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামো ও জনবল ঘাটতি, মাঠপর্যায়ের দুর্বলতা ও সমন্বয়হীনতা। শে নিরক্ষরতার হারের দিক থেকে শীর্ষে পার্বত্য জেলা বান্দরবান। আবার দারিদ্র্যের হারের দিক থেকেও শীর্ষে থাকা জেলাগুলোর অন্যতম বান্দরবান। বান্দরবানের পর নিরক্ষরতার হারে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে—ময়মনসিংহ বিভাগের দারিদ্র্যপ্রবণ জেলা জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোনা এবং উত্তরাঞ্চলের দারিদ্র্যপ্রবণ জেলা কুড়িগ্রাম। দারিদ্র্যের কারণে দেখা যায়, অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে না পাঠিয়ে কর্মে নিয়োজন করেন। এতে একদিকে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে শিক্ষায় ব্যয় করতে হয় না, অন্যদিকে উপার্জন আসে। দারিদ্র্যপ্রবণ এলাকাগুলোয় সাক্ষরতার হার বাড়াতে সরকারি উপবৃত্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যে পরিমাণ উপবৃত্তি দেওয়া হয়, দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান মূল্যস্ফীতি ও শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় তা যৎসামান্য। উপবৃত্তির অর্থের পরিমাণ বাড়ানো উচিত

দেশে প্রতি চার জনের একজন এখন গরিব: দেশে বিগত তিন বছরে দারিদ্র্য বেড়েছে। প্রতি চার জনের এক জন এখন গরিব। আরও অনেক মানুষ এমন আর্থিক অবস্থায় রয়েছেন যে, অসুস্থতা বা অন্য কোনো সংকটে তারা গরিব হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ২০২০ সালে করোনা মহামারির আগে তিন দশক ধরে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কমছিল। এখন দেখা যাচ্ছে, সেটা বাড়ছে। এটা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রযাত্রা পিছিয়ে যাওয়ার লক্ষণ।

 




চিন্তা ও সাংস্কৃতিক সংগ্রামের অগ্রপথিক বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন

দেশের প্রখ্যাত চিন্তাবিদ, প্রবীণ রাজনীতিক মুখ,  বদরুদ্দীন উমর মারা গেছেন। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যু কালে তার বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বদরুদ্দীন উমর একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। তিনি শুধু একজন লেখক নন, ছিলেন একজন তাত্ত্বিক চিন্তাবিদ, যিনি ষাটের দশকে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ও সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য নিয়ে গভীর চিন্তা ও বিশ্লেষণমূলক লেখা উপহার দিয়েছেন।

২০০৩ সালে তিনি জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল নামে একটি সংগঠন গড়ে সেটির সভাপতির দায়িত্ব নেন।কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর  তথ্য নিশ্চিত   করেছেন।তিনি বলেন, ‘আজ অসুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে স্পেশালাইজড হাসপাতালে আনার পর সকাল ১০টা ৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে পেশাজীবন শুরু করা বদরুদ্দীন উমর পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি এবং গণতান্ত্রিক বিপ্লবী জোটের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারীও ছিলেন তিনি।

১৯৩১ সালের ২০ ডিসেম্বর ভারতের বর্ধমান জেলায় জন্মগ্রহণ করেন বদরুদ্দীন উমর। তার পিতা আবুল হাশিম ভারতীয় উপমহাদেশের প্রখ্যাত মুসলিম জাতীয়তাবাদী রাজনীতিবিদ, যিনি মুসলিম লীগের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পারিবারিক পরিমণ্ডলেই তিনি রাজনীতি ও সমাজ বিশ্লেষণের বীজ বপন করেন, যা পরবর্তী সময়ে তার লেখনীতে প্রতিফলিত হয়।

ষাটের দশকে পূর্ব পাকিস্তানে জাতীয় চেতনার উন্মেষ এবং বাঙালি সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষার আন্দোলনে বদরুদ্দীন উমরের লেখা বইগুলো—বিশেষ করে ‘সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৬), ‘সংস্কৃতির সংকট’ (১৯৬৭) এবং ‘সাংস্কৃতিক সাম্প্রদায়িকতা’ (১৯৬৯)—গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার লেখায় ধর্ম ও রাজনীতির দ্বন্দ্ব, উপনিবেশিক উত্তরাধিকার এবং সাংস্কৃতিক বিভাজন নিয়ে তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ফুটে উঠেছে।




ডাকসু নির্বাচন : কেন্দ্রের সংখ্যা ৮. বুথ সংখ্যা ৮১০. ভোটের সময় ১০ মিনিট

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ

সময়ের কাংখিত নির্বাচন হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন । যার উত্তাপ ছড়িয়েছে সারা দেশে  এ নির্বাচনে  ৮টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটদান নিশ্চিত করতে বুথের সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কেন্দ্রের সংখ্যা ৮টিই থাকবে। তবে বুথের সংখ্যা প্রথমে ৫০০ থেকে ৭১০ নির্ধারণের পর তা বাড়িয়ে ৮১০ করা হয়েছে। চিফ রিটার্নিং অফিসার জানান, এই বুথ ব্যবস্থাপনায় সকল ভোটার একসঙ্গে উপস্থিত হলেও এবং একজন ভোটার গড়ে ১০ মিনিট সময় নিলেও বিকাল ৪টার মধ্যে ভোটদান কার্যক্রম নির্বিঘ্নে শেষ করা সম্ভব হবে।

ভোটের দিন শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে অতিরিক্ত বাস চলাচলের ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিয়মিত শিডিউলের বাইরে বিশেষ বাস চলবে এবং শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ বাসের সময় দেখে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট এক বিজ্ঞপ্তিতে ভোটগ্রহণের সময় সকাল ৮টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। এছাড়া বিকাল ৪টার মধ্যে যারা ভোটকেন্দ্রে লাইনে উপস্থিত থাকবেন, তারাও ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

ডাকসু নির্বাচনে নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি আগে থেকেই জানিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের প্রার্থীরা। গত ২৭ আগস্ট জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেলের পক্ষ থেকে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে চিফ রিটার্নিং অফিসারের কাছে কেন্দ্র বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। পরে অন্যান্য প্যানেলের প্রার্থীরাও একই দাবি জানান। তবে শেষ পর্যন্ত বুথ বাড়ানো হলেও কেন্দ্রের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

৮টি ভোটকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট হলসমূহ

. কার্জন হল কেন্দ্র (পরীক্ষার হল)

* ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল

* অমর একুশে হল

* ফজলুল হক মুসলিম হল

. শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র

* জগন্নাথ হল

* শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল

* সলিমুল্লাহ মুসলিম হল

. ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)

* রোকেয়া হল

. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব কেন্দ্র

* বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হল

* শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল

. সিনেট ভবন কেন্দ্র (অ্যালামনাই ফ্লোর, সেমিনার কক্ষ, ডাইনিং কক্ষ)

* স্যার এ এফ রহমান হল

* হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল

* বিজয় একাত্তর হল

. উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র

* সূর্যসেন হল

* মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল

* কবি জসীম উদ্দীন হল

* শেখ মুজিবুর রহমান হল

. ভূতত্ত্ব বিভাগ কেন্দ্র (নতুন)

* কবি সুফিয়া কামাল হল

. ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল কলেজ কেন্দ্র (নতুন)

* শামসুন নাহার হল