সুবিদখালী সরকারী কলেজের অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রী কলেজে রাজনৈতিক প্রভাব, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও ইউএনও‍‍`র কাছে অভিযোগ জানিয়েছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২১ আগস্ট) বেলা ১টায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে উপজেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামের সাথে দেখা করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রবিবার থেকে কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন অভিযুক্ত অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মো. আসাদুজ্জামান। বিক্ষোভ মিছিলে ২শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করেন।

২০১৮ সালে কলেজটি জাতীয় করণের পরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান গত ৬ বছরে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ তুলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা ফেইসবুকে পোস্ট করেন এবং কলেজের দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ পেয়ে ১৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সমন্বয়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিয়ামসহ সাধারন শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে জানতে চান এবং ১৮ তারিখ রবিবার কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, ছাত্র-সুধীজনকে উপস্থিত থাকার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ভিডিও বার্তা পোস্ট করেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সাইফুল ইসলাম সিয়াম। পূর্ব ঘোষনানুযায়ী রবিবার (১৮ জুলাই) বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কলেজে উপস্থিত হলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ঐদিন কলেজে উপস্থিত না হয়ে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে একটি ছুটির আবেদন পাঠিয়ে দেন। পরে কলেজের শিক্ষকমণ্ডলী ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় কলেজ মিলনায়তনে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা অধ্যক্ষের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন উপস্থিত শিক্ষকমন্ডলীর কাছে। এতে এক বছরে সম্ভাব্য হিসেব অনুযায়ী ১ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭১ হাজার ৭৫০ টাকার হিসাব তুলে ধরেন এবং ৬ বছরে ১১ কোটি ৮৬ লক্ষ ৩০ হাজার ৫০০ টাকার দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্ররা। পরে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অধ্যক্ষ অনুপস্থিত থাকায় কলেজের সিনিয়র শিক্ষক বাবু রসিকলাল কে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেন।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উপজেলা সমন্বয়ক মো. সাইফুল ইসলাম সিয়াম বলেন, আমরা আজ বুধবার (২১ আগস্ট) কলেজে গিয়েছিলাম অধ্যক্ষ স্যার আসছেন কিনা জানতে। কিন্তু তিনি আসেননি। আমরা শিক্ষার্থীরা তার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল সহকারে ইউএনও ’র কার্যালয় গিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি, তিনি বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন এবং আশু সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক শিক্ষক জানান, দলীয় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের চেয়ারে বসে আধিপত্য বিস্তার করে দায়িত্ব পালন করে আসছেন তিনি। ২০১৮ সালে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারপ্রাপ্তের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেয়ার পরে কলেজের কোন হিসাবনিকাশ কারো কাছে নেই। সাবেক অধ্যক্ষ স্যার অবসরে যাওয়ার পরে কলেজ ফান্ডে টাকা রেখে যান তা ভুয়া ভাউচার করে উত্তোলন করেন অধ্যক্ষ।

এ বিষয়ে সুবিদখালী সরকারি ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, আমি কোনও অন্যায় করিনি। আমার বিরুদ্ধে যে-সব অভিযোগ তোলা হয়েছে এসব ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ছাত্ররা প্রত্যেকে কলেজ একাউন্টে টাকা জমা দেয়। এখানে অনিয়ম করার কোনও সুযোগ নেই। অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়ার কারণে তারা এটা করছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীরা এসেছিল, তাদের দাবি শুনেছি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি,আশা করি দ্রুত সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান হবে।




গলাচিপায় গৃহবধূর গলা কাটা লাশ উদ্ধার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর গলাচিপায় রান্নাঘর থেকে খাদিজা বেগম (৩৫) নামের এক গৃহবধূর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ আগস্ট) সকালে উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ওই গৃহবধূ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক প্যাদার স্ত্রী।

এলাকাবাসী সূত্র জানায়, উপজেলার উত্তর চরবিশ্বাস গ্রামের মানিক প্যাদার মা, স্ত্রী ও এক পুত্রসন্তান নিয়ে চারজনের সংসার।

বুধবার সকালে মানিক সকালের খাবার খেয়ে জমিতে চাষাবাদ করতে যান। পুত্রসন্তান আবু রায়হান দাখিল মাদরাসায় পড়তে যায়। প্রতিবেশীর ঘরে পান খাওয়ার জন্য যান শাশুড়ি। কিছুক্ষণ পরে বাড়িতে এসে খাদিজাকে না দেখতে পেয়ে খোঁজাখুঁজি করলে রান্নাঘরের মেঝেতে গলা কাটা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা।
রহস্যজনক এই ঘটনা নিয়ে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জেল হোসেন বাবুল জানান, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল এখনো কিছু জানা যায়নি।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস আলম খান জানান, ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।




গুম খুন ও গনহত্যার প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ১৫ বছরে গুম খুন হামলা ও গনহত্যার প্রতিবাদ এবং শেখ হাসিনা সহ জড়িত সকলের বিচারের দাবিতে পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা যুবদল।

বুধবার (২১ আগস্ট) বেলা সাড়ে এগারোটায় পৌর শহরের বনানী মোড়স্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের সভাপতি মনিরুল ইসলাম লিটন, সাধারন সম্পাদক শিপলু খান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী আশফাকুর রহমান বিপ্লব প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১৫ বছরে স্বৈরাচারী খুনি হাসিনা লক্ষ লক্ষ বিএনপি নেতাকর্মীকে গুম খুন করে ও নির্যাতন চালায়। মিথ্যা মামলায় গনতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী রাখে।

এছাড়া আলেম ওলামাদের পৌচাশিক কায়দায় হত্যা, পিলখানা হত্যাকান্ডসহ ছাত্র জনতার গনঅভ্যুথ্যানে হাজার হাজার ছাত্র জনতা ও শিশু হত্যা যখমের সরাসরি নির্দেশদাতা, শেখ হাসিনা সহ তার দোসরদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান তারা।

এদিকে পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনাবাহিনীর অফিসার হত্যা, (২৮ অক্টোবর) লগি বৈঠার তান্ডব, শাপলা চত্ত্বরে রাতের অন্ধকারে অসংখ্য নিরহ আলেম ও মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যা, অসংখ্য গুম-খুন, রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলোকে দানবে পরিণত করার মাধ্যমে বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলোর গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে নিষ্ঠুরভাবে দমন, হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যা, নিরাপদ সড়ক ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে নৃশংস গণহত্যায় শহীদদের স্মরণে শোক রেলী করেছে জেলা ছাত্রদল।

দুপুর ১২ টার দিকে পটুয়াখালী সরকারী কলেজ প্রাঙ্গন থেকে রেলীটি শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনে গিযে শেষ হয়। এসময় জেলা বিএনপির আহবায়ক আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া, জেলা ছাত্রদল আহবায়ক মেহেদী হাসান শামীম সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া আহাম্মেদ সহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।




শেরেবাংলা হাসপাতালের ১৪টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ৭টি নষ্ট

বরিশাল অফিস :: দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের ১৪টি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সাতটি নষ্ট পরে আছে। বাকি সাতটি সচল থাকলেও চালক না থাকায় তাও বেশিরভাগ সময় গ্যারেজে পরে থাকে। ফলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। আর এ সুযোগে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সগুলো।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্স সংকট ছিলো। বর্তমানে অ্যাম্বুলেন্স সংকট নিরসন হলেও দেখা দিয়েছে চালক সংকট। আর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে হাসপাতাল কেন্দ্রীক অ্যাম্বুলেন্স ব্যবসা এতোটাই জমজমাট হয়েছে যে, কয়েক বছরের মধ্যে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের সংখ্যা শতকে গিয়ে ঠেকেছে। আর নানান কারণে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চলাচলে লোকসানের কথা শোনা গেলেও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনায় এতোটাই লাভ, যা দিন দিন এই ব্যবসায় ঝুকছেন নতুন নতুন ব্যবসায়ী। অথচ বেসরকারি কোম্পানির চেয়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে যেমন ভাড়াও কম, তেমনি সুযোগ-সুবিধাও বেশি রয়েছে।

রোগীর স্বজনরা জানিয়েছেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে কম টাকায় রোগী পরিবহনের জন্য তাদের প্রথম পছন্দ থাকলেও নানা অজুহাতে তারা সরকারি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ্ছেন না। যেকারণে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় নিতে হয় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স। তবে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার বিষয়টি মানতে নারাজ প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা। যদিও সচেতন মহল বলছে, একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কারণে রাস্তায় নেমে রোগীদের সেবা দিতে পারছে না সরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলো।

তবে এ হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক বিপ্লব জানান, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স আছে মোট ১৪টি। এরমধ্যে সাতটি অ্যাম্বুলেন্স বিকল হয়ে পরে রয়েছে। বাকি সাতটি অ্যাম্বুলেন্স চালাতে আটজন চালক থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র তিনজন। বাকি পাঁচটি পদশূন্য। ফলে বাকি যে সাতটি সচল অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে সেগুলো যাতে বিকল হয়ে না যায় তাই কল রোটেশন করে তিনজন চালক অ্যাম্বুলেন্সগুলো সচল রাখছে। যেকারণে চাইলেও রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, রোগীদের সেবা নিশ্চিতে দ্রুত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক নিয়োগ দেওয়া হবে।

 




কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুুয়াখালীর কলাপাড়ায় পানিতে ডুবে মো. আবু বক্কর (২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আবুবক্কর ওই গ্রামের মো.রেজাউল করিম হাওলাদারের ছেলে। বাড়ীর সবার অগোচরে সে নিজেদের পুকুর পাড়ে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে ডুবে যায়। অনেক খোঁজাখুজির পর পুকুর থেকে উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।




পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপে হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতি‌নি‌ধি :: ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ পিএলসি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো:সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া হৃদয়ের সঞ্চালনায় কর্মসূচী‌তে অন‌্যান‌্যদের ম‌ধ্যে বক্তব‌্য রা‌খেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজল বরন দাস, সা‌বেক সাধারণ সম্পাদক জালাল আহ‌মেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি সঞ্জয় কুমার দাস লিটু, নিউজ টোয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি সিকদার জোবায়ের, ডেই‌লি সা‌নের প্রতি‌নি‌ধি আবদুল কাইয়ুম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের দুমকি উপজেলা প্রতিনিধি দেলোয়ার হোসেন।

মানববন্ধনে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, গণমাধ্যম জনমানুষের আয়না স্বরূপ। স্বাধীন গণমাধ্যম অবশ্যই দেশের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছাত্রদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সুফল একদল কুচক্রী মহল নষ্ট করতে চায়। ছাত্রদের নাম ভাঙিয়ে তারা চাঁদাবাজি, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে এই সকল কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।




বাউফলে জোড়া খুন মামলার বাদীর পরিবারকে হুমকি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফলের কেশবপুর ইউনিয়নে দুই যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার বাদীর পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করার হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে। পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনও ও সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। গতকাল দুপুরে লিখিত অভিযোগ দেন নিহত রুমান তালুদকারের মা ফাতিমা বেগম।

অভিযোগে বলা হয়, ২০২০ সালের ২রা আগস্ট কেশবপুর ইউনিয়নে বিরোধের জেরে যুবলীগ নেতা রুমান ও ইশাদকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে খুন করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত রুমানের বড় ভাই মিন্টু বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মামলার আসামিরা নিহতদের পরিবারকে বাড়ি ছাড়া করার হুমকি, মারধরের চেষ্টা ও চাষাবাদ করতে বাধা দিয়ে আসছেন।

অভিযোগকারী ফাতেমা বেগম বলেন, আমার দুই ছেলেকে নির্মমভাবে খুন করা হয়। যারা খুন করেছেন তারা এখন এলাকায় তাণ্ডব চলাচ্ছেন। আমরা অবরুদ্ধ হয়ে আছি। পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজী বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালীতে ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দেশের মধ্যাঞ্চল ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৮৩.৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষজন। টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে আমনের খেত। ক্ষতির মুখে পড়েছেন মৌসুমি সবজি চাষিরাও।

লঘুচাপের প্রভাবে কুয়াকাটা সংলগ্ন সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে। ছোট-বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরে। উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হওয়া বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাই দেশের সব সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে দিতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। সেই সঙ্গে মাছ ধরার ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি গ্রামের কৃষক মোসলেম শিকদার বলেন, অতিবৃষ্টিতে ক্ষেত-খামার সব তলিয়ে গেছে। এ বছর দুইবার আমনের বীজ রোপণ করেও রক্ষা করতে পারিনি। পানিতে তলিয়ে পচে গেছে। এখন কোথাও চারা পাচ্ছি না। হয়তো জমি খালি রাখতে হবে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী বলেন, বৃষ্টিপাত আরও ২৪ ঘণ্টা অব্যাহত থাকতে পারে। এছাড়া ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টিও হতে পারে।




সাগর উত্তাল – খালি হাতে ঘাটে ফিরছেন রাঙ্গাবালীর জেলেরা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় ইলিশের ভরা মৌসুমে ট্রলারশূন্য হয়ে গেছে বঙ্গোপসাগর। ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়েছিলেন হাজার হাজার জেলে। কিন্তু তাদের মাছ না ধরেই ফিরে আসতে হয়েছে। ফলে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা।

প্রবল ঢেউয়ে টিকতে না পেরে উপকূলের চরমোন্তাজ, সোনার এলাকায় সব মাছ ধরা ট্রলার ঘাটে ফিরে এসেছে বলে মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে সাগর থেকে ফেরার সময় সোনার চর সংলগ্ন সাগরে ঢেউয়ের কবলে পড়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর ১৫ মাঝিমাল্লা নিয়ে জেলে ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

গত শুক্রবার বিকেল ৩ টার দিকে তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারের সব জেলেকে উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু ট্রলারটি উদ্ধার করা যায়নি।

চরমোন্তাজ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো.কামাল ব্যাপারি জানান, ক্রমশই ফুঁসছে সাগর। সাগর উত্তল থাকায় ট্রলার নিকটবর্তী নিরাপদ স্থানে ফিরে আসছে। বর্তমানে সাগরে কোনো ট্রলার নেই। সাগর একেবারে ফাঁকা হয়ে গেছে।




ভোলায় মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, ছেলে নিখোঁজ

বরিশাল অফিস :: মেঘনা নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে বজ্রপাতে মো. সালাউ‌দ্দিন মা‌ঝি (৩৬) নামে এক জেলের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ সময় তার ছেলে মো. শা‌হিন (১১) নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়।

সোমবার (১৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে ভোলা সদর উপজেলার ধ‌নিয়া ইউ‌নিয়নের কোড়ারহাট সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সালাউ‌দ্দিন ভোলা সদর উপজেলার ধ‌নিয়া ইউ‌নিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কোড়ারহাট বে‌ড়িবাঁধ এলাকার মো. আব্দুর র‌শিদ মা‌ঝির ছেলে।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সোমবার বিকেলে সালাউ‌দ্দিন মা‌ঝির নেতৃত্বে তার ছেলে শা‌হিন ও স্থানীয় লিটন মা‌ঝি মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। নদীতে জাল ফেলতেই হঠাৎ বজ্রপাত হলে সালাউ‌দ্দিন মা‌ঝির মৃত্যু হয়। এছাড়া তার ছেলে শাহিন নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় এবং লিটন মা‌ঝি আহত হন।

পরে স্থানীয় জেলেরা সালাউ‌দ্দি‌ন মা‌ঝির মরদেহ ও আহত লিটন মা‌ঝিকে তীরে নিয়ে আসেন। তবে শা‌হিন এখনও নিখোঁজ আছে।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ও‌সি) মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী জানান, মেঘনা নদীতে বজ্রপাতে সালাউদ্দিন মাঝি নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত একজনকে উদ্ধার করা হলেও শাহিন নামে এক কিশোর নিখোঁজ আছে।