ঝালকাঠিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ১২

বরিশাল অফিস :: ঝালকাঠির রাজাপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাস পুকুরে পড়ে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে বরিশাল-পিরোজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সাতুরিয়া ইউনিয়নের নৈকাঠী গ্রামের দুর্ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকালে পিরোজপুর থেকে বৈশাখী পরিবহন নামের একটি বাস বরিশালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল। বাসটি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজাপুর উপজেলার নৈকাঠী গ্রামের জোমাদ্দার বাড়ি এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে পুকুরে পড়ে যায়। এতে বাসে থাকা অন্তত ১২ জন যাত্রীসহ সবাই কমবেশি আহত হন। তাঁদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজে অংশ নেন রাজাপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শাহেদ বলেন, বাস দুর্ঘটনায় আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চারজন রোগী আসেন। তাঁদের মধ্যে একজন এখানে ভর্তি আছেন, একজনকে বরিশালের পাঠানো হয়েছে ও দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি চলে গিয়েছেন।

রাজাপুর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা মো. আব্দুল খালেক বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। কিন্তু এর আগেই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। বাসটির নিচে আর কোনো যাত্রী আটকা পড়েছেন কিনা তা দেখার জন্য উদ্ধার কর্মীরা অভিযান চালিয়েছিল, কিন্তু কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. আতাউর রহমান বলেন, বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বাসটি পুকুর থেকে ওঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।




দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহায়তা সমন্বয় সেল গঠন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতিতে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহায়তা সমন্বয় সেল’ গঠন করেছে জননিরাপত্তা বিভাগ।

আজ শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার উপসচিব মিন্টু চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, বাংলাদেশে উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তার লক্ষ্যে জননিরাপত্তা বিভাগে ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সহায়তা সমন্বয় সেল’ স্থাপন করা হয়েছে। এ বিভাগের যুগ্মসচিব মো. হারুন-অর-রশিদ এই সেলের দৈনন্দিন কার্যক্রম তত্ত্বাবধায়ন করবেন।

দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা সহায়তা সমন্বয় সেল’-এ জরুরি যোগাযোগের জন্য টেলিফোন নম্বর: ০২-৪৭১১৮৭০০, ০২- ৪৭১১৮৭০১, ০২-৪৭১১৮৭০২, ০২-৪৭১১৮৭০৩, ০২-৪৭১১৮৭০৪ ও ০২-৪৭১১৮৭০৫ এবং মোবাইল নম্বর: ০১৩১৭৭৪৯৯৮০ ও ০১৮২০১১৭৭৪৪।

সমন্বয় সেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষাসহ প্রাপ্ত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন এবং সার্বক্ষণিক ফলোআপ করবেন।




বন্যায় ১২ জেলার ২ হাজার মোবাইল টাওয়ার অচল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দেশের বন্যাকবলিত ১২টি জেলায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার অচল হয়ে গেছে। ফেনী ও খাগড়াছড়ি জেলার প্রায় অর্ধেক মোবাইল টাওয়ার কাজ করছে না। এসব এলাকায় নেটওয়ার্কব্যবস্থা সচল রাখতে ভি-স্যাট পাঠানো হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এতে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টা পর্যন্ত বন্যাকবলিত ১২টি জেলায় মোট ১২ হাজার ১৭৯টি টাওয়ারের মধ্যে ১০ হাজার ১৫৪টি টাওয়ার সচল থাকার কথা জানানো হয়। টাওয়ার অচল হয়েছে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি টাওয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফেনীতে, এই জেলার টাওয়ারের ৭১ শতাংশ অচল হয়ে গেছে। আর খাগড়াছড়ির ৪৫ দশমিক ২ শতাংশ টাওয়ার এখন অচল আছে। এসব টাওয়ার সচল করতে কাজ করা হচ্ছে।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকার নেটওয়ার্কব্যবস্থা সচল রাখতে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানির সহায়তায় ১০টি ভি-স্যাট (ভেরি স্মল অ্যাপারেচার টার্মিনাল) প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি ভি-স্যাট ফেনীর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।

টেলিকম অপারেটরদের টাওয়ারগুলো সচল রাখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-সংযোগ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিটিআরসি সমন্বয় করছে। এ ছাড়া অপারেটরদের নেটওয়ার্কব্যবস্থা সচল রাখতে পর্যাপ্ত পাওয়ার ব্যাকআপের (ব্যাটারি ব্যাকআপ, ডিজেল জেনারেটর, পোর্টেবল

জেনারেটর ইত্যাদি) ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের চার মোবাইল অপারেটর বন্যাকবলিত এলাকার মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য ৫০০ মেগাবাইট ডেটা ফ্রি করেছে।

বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে ফেনী, কুমিল্লাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার ডাক, টেলিযোগাযোগ বিভাগের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। এ ছাড়া বিটিআরসি, বিটিসিএল ?ও টেলিটক ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম গঠন করেছে।




২৮ মাস পর ফিরেই সাদমানের ফিফটি, শক্ত অবস্থানে বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া :: রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের আগে বাংলাদেশ দলের ওপেনার সাদমান ইসলাম সবশেষ খেলেছিলেন ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল। রাওয়ালপিন্ডিতে খেলার কথাই ছিল না তার। সুযোগ মেলে আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় কুঁচকির চোটে পড়ায়। হঠাৎ পাওয়া এই সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগালেন ২৮ মাস পর একাদশে ঢোকা সাদমান। দুর্দান্ত এক ফিফটি হাঁকিয়েছেন এই ওপেনার।

আজ রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের তৃতীয় দিনে ২ উইকেটে ১৩৪ রান তুলে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ। একপাশে সাদমান ৫৩ রানে অপরাজিত। আরেক প্রান্তে চারে নামা মুমিনুল হক অপরাজিত আছেন ৪৫ রানে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এখনো পিছিয়ে ৩১৪ রানে।

আগের দিনে বিনা উইকেটে ২৭ রান নিয়ে আজ খেলতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম সেশনে মোট ৩৬ ওভার খেলা হয়। এই সময়ে স্কোরবোর্ডে ১০৭ রান তোলে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। দিনের শুরুতেই ফেরেন জাকির হাসান। পেসার নাসিম শাহর বলে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। ৫৮ বল খেলে ১২ রান করেন এই ওপেনার। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্তকে নিয়ে সেই বিপদ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করেন সাদমান। তবে সেট হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি শান্ত। খুররম শেহজাদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন বাংলাদেশ অধিনায়ক (১৬)।

৫৩ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তৃতীয় উইকেটে। সাদমানের সঙ্গে এই সময়ে জুটি বাঁধেন মুমিনুল। ব্যাট হাতে সাদমানের চেয়েও দৃঢ়তা দেখিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। একটা সময় সাদমানের রান যখন ৪৮, তখন মুমিনুলের সংগ্রহ মাত্র ২১ রান। মধ্যাহ্ন বিরতির আগে সেখানে ব্যক্তিগত সংগ্রহ ৪৫-এ নিয়ে যান মুমিনুল। এই সময়ে মাত্র ৫ রান আসে সাদমানের ব্যাটে। ফিফটির আগে বেশ কিছুক্ষণ আটকে থাকেন এই ওপেনার।

এদিকে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দিনে বেশিরভাগ খেলাই ভেস্তে যায় বৃষ্টির কারণে। ওই দিন ৪ উইকেটে ১৫৮ রান তুলে দিন শেষ করে পাকিস্তান। দ্বিতীয় দিনে আরও ভালো ব্যাটিং করে স্বাগতিকরা। শেষ বিকেলে বাংলাদেশকে ব্যাটিং করানোর জন্য ৬ উইকেটে ৪৪৮ রান তুলেই ইনিংস ঘোষণা করে তারা। তবে কোনো উইকেট না হারিয়েই দ্বিতীয় দিন শেষ করে টাইগাররা।




জাপা নেতা হাওলাদারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বরিশালের বাকেরগঞ্জে জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার ও ভাইস চেয়ারম্যান নাসরিন জাহান রত্না আমিন দম্পতির বাড়িতে বৃহস্পতিবার হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। সরকার পতনের ১৭ দিন পর পরিবেশ যখন শান্ত হয়ে আসছে, তখন এ ধরনের হামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুর্নীতির অভিযোগে রুহুল আমিন দম্পতি এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সদ্য সাবেক পৌর মেয়র লোকমান ডাকুয়ার বিচার দাবিতে বরিশাল-কুয়াকাটা সড়কের বাকেরগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যৌথ সমাবেশ করে বিএনপি-জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন। এতে নেতৃত্ব দেন চারদলীয় জোট আমলে বরিশাল-৬ (বাকেরগঞ্জ) আসনের এমপি আবুল হোসেন খান। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হারুন অর রশিদ জমাদ্দার, সদস্য সচিব নাসির হাওলাদার, জামায়াত আমির অধ্যাপক ফিরোজ আলম, ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি নাসির উদ্দিন রোকন ডাকুয়া প্রমুখ সমাবেশে বক্তৃতা করেন। এতে তিন সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলেও যাননি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি মতিউর রহমান মোল্লার অনুসারীরা।

সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরে ফেরার পথে একদল বিক্ষুব্ধ রুহুল আমিন হাওলাদারের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়।

বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক মো. লিটন জানান, বাসার ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলাকারীরা দুটি মোটরসাইকেল, একটি পাজেরো গাড়ি, আসবাব ভাঙচুর ও মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে সেনাবাহিনী এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীর দাবি, ১৫ আগস্ট পৌর মেয়র লোকমান ডাকুয়ার বাড়িতে নির্বিঘ্নে জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি হয়। মূলত দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খানকে ‘টাকার মাধ্যমে ম্যানেজ’ করে আওয়ামী লীগ এ কর্মসূচি করে। বিষয়টি জানাজানি হলে আবুল হোসেনের ভূমিকা নিয়ে জেলায় বিএনপি নেতাকর্মীর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গুঞ্জন রয়েছে, বিষয়টি ভিন্ন খাতে নিতেই বৃহস্পতিবার আবুল হোসেন যৌথ বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করেন। আর জাপা নেতা হাওলাদারের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটানো হয়। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪ নিশ্চিত হতে পারেনি।

হামলার পর আবুল হোসেন খান ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাছির জমাদ্দার বাড়িটি পরিদর্শন করেন। এ সময় সাংবাদিকদের আবুল হোসেন বলেন, ‘বাড়িতে হামলার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে।’ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগের নির্বিঘ্নে কর্মসূচি পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সভার পর স্থানীয় প্রশাসন আওয়ামী লীগের সঙ্গেও বৈঠক করে। এর পর তাদের ঘরোয়াভাবে কর্মসূচি পালনের মৌখিক অনুমতি দেওয়া হয়। এখানে ভিন্ন কিছু খোঁজার চেষ্টা অযৌক্তিক।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে মেয়র পদে থাকা লোকমান ডাকুয়া ছিলেন দোর্দণ্ড প্রতাপশালী। অর্থবিত্তে তিনি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। ১৬ বছর হাওলাদার পরিবার এমপি থাকলেও উপজেলায় সব দখল বাণিজ্যের মূল নিয়ন্ত্রক ছিলেন লোকমান। মহাজোটের সমর্থনে হাওলাদার ২০০৮ সালে এবং ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তাঁর স্ত্রী রত্না আমিন বরিশাল-৬ আসনে এমপি নির্বাচিত হন। গত ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামী লীগের বিরোধিতার মুখে পড়ে হাওলাদার পরিবার। পরে রুহুল আমিন হাওলাদার পটুয়াখালী-১ (সদর-দুমকী-মীর্জাগঞ্জ) আসনে মহাজোটের সমর্থনে এমপি হন।




পটুয়াখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলাধীন লাউকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ ইলিয়াছ এর দুর্নীতির বিরুদ্ধে ও তার অপসরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় জনসাধারণ।

বৃহস্পতিবার(২২আগস্ট) বেলা ১১ টায় লাউকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সামনের প্রধান সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। লাউকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান বিভিন্ন সময় তার নিজ বাড়িতে বসে সরকারি চাল নিয়ে টালবাহানা, টিউবওয়েল স্থাপনের নামে অর্থ গ্রহন, ইউনিয়ন পরিষদের অর্থ আত্মসাৎ, ইউপি কর্মচারী ও সাধারণ মানুষদের মারধোর ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্ন দূর্নীতি ও অপরাধের একাধিক তথ্য মানববন্ধনে তুলে ধরে স্থানীয়রা।

এ সময় লাউকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ইলিয়াছ যে কত দুর্নীতি করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। তার নামে গত বছরের মে মাসে এই ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যরা মিলে অনাস্থা প্রদান করে। তার পরে ডিসি সাহেবের মধ্যস্থতায় সবকিছু ঠিক করা হয়। সে সময় আমরা সবাই মনে করেছিলাম যে ইলিয়াস পরিবর্তন হবে। কিন্তু আমাদের ধারণা ভুল ছিল।

তার মধ্যে কোন পরিবর্তন ঘটেনি। তার বিরুদ্ধে এই বছরের গত জুলাই মাসে আবারো অনাস্থা দেওয়া হয়েছে। তার মতো দুর্নীতিবাজ ও স্বৈরাচারী চেয়ারম্যান এই ইউনিয়ন পরিষদে থাকতে পারে না।

মানববন্ধন শেষে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকেই একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ইউনিয়নের প্রধান সড়কে প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।




বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে নিজ জেলা সফর বাতিল ভিপি নুরের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে পটুয়াখালীতে নিজ জেলা সফরের কর্মসূচি বাতিল করেছেন গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

আগামী শনিবার (২৪ আগস্ট) তার নিজ জেলা সফরে যাওয়ার কথা ছিল। তিনি বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং উদ্ধারকাজে অংশ নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে গণঅধিকার পরিষদের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের পটুয়াখালী জেলায় আগমন উপলক্ষে শনিবার (২৪ আগস্ট) জেলা গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে সম্প্রীতি সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু উজানের ঢলে দেশের পূর্বাঞ্চলে বন্যা বিপর্যয়সহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের নির্দেশনায় প্রোগ্রামটি স্থগিত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকাজসহ ভুক্তভোগী মানুষের পাশে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।




পটুয়াখালীতে মাদকের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলা ইটবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শারিকখালী গ্রামে মাদকদ্রব্য ব্যবসা নির্মূল করতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। এসময় অসংখ্য মামলার আসামি সুমনা ও তার সহযোগী মামুন ফকির, সুমন ফকির ও রাসেল ফকিরকে গ্রেপ্তার করে বিচারের করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বেলা ১১ টায় ১নম্বর ব্রিজ এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে দুই শতাধিক এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় বক্তব্য রাখেন ইটবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কাজী শাহআলম, সাবেক মেম্বার ইউনিয়ন সিনিয়র সহসভাপতি শফিনুর ইসলাম লিটন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জসিম উদ্দিন, সিহাব উদ্দিন মামুন, ইটবাড়ীয়া ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইয়ুব আলী মাদবর, সালেহা নুরানী আজাহারী মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আতাউল্লা জামানী সহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, এলাকার পরিবেশ ও যুব সমাজকে মাদক থেকে রক্ষা করতে এ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। এছাড়া এ মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকার নিরীহ মানুষের নামে যে মিথ্যা মামলা করে হয়রানি করছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীর সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।

এর আগে বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গণমাধ্যমকে জানান, বন্যার বর্তমান ও পূর্বের পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক হবে।

 




৪২১ রানে পিছিয়ে থেকে দিন শেষ করল টাইগাররা

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া :: মিডল অর্ডার ব্যাটারদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুবাদে ৪৪৮ রানের বিশাল রান স্কোরবোর্ডে জমা করেছে পাকিস্তান। দ্বিতীয় দিন শেষ হওয়ার আগেই ইনিংস ঘোষণা দেয় স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট হাতে সাবলীল থেকেই দ্বিতীয় দিন শেষ করল বাংলাদেশ। ১২ ওভার খেলে দলীয় ২৭ রান করেছেন দুই টাইগার ওপেনার।

রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই সাবলীল ভঙ্গিতে ব্যাটিং করতে থাকেন সৌদ শাকিল ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। তাদের ব্যাটে ভর করেই বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যেতে থাকে পাকিস্তান। চা বিরতিতে তাদের এই দাপুটে জুটি ভাঙ্গে ২৪০ রানে। ব্যক্তিগত ১৪১ রানে শাকিল সাজঘরে ফিরলেও নিজের ডাবল সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন রিজওয়ান।

তবে ১১৩তম ওভার শেষে ড্রেসিংরুম থেকে ইনিংস ঘোষণার ইঙ্গিত দেন স্বাগতিক অধিনায়ক শান মাসুদ। ততক্ষণে অবশ্য রান পাহাড় দাঁড় করিয়ে ফেলা হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের।

দ্বিতীয় দিনের তৃতীয় সেশনে ইনিংস ঘোষণা আগে ১১৩ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানের দলীয় সংগ্রহ ছিল ৪৪৮ রান। যেখানে ক্যারিয়ার সেরা ১৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন রিজওয়ান।

বাংলাদেশকে দ্বিতীয় দিন শেষ হওয়ার আগেই বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়াটাই উদ্দেশ্য ছিল স্বাগতিকদের, এজন্যই হয়ত শেষ দিকে ব্যাট ঘুরাচ্ছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটাররা। রানও উঠছিল বেশ। গতকাল ম্যাচের প্রথম দিন টাইগার বোলাররা দাপট দেখালেও আজ কেউই তেমন সুবিধা করতে পারেননি। আজকের দিন পুরোটাই যেন ছিল স্বাগতিক ব্যাটারদের দখলে।

পাকিস্তানের ডিক্লেয়ার দেওয়া পর ব্যাট হাতে মাঠে নামেন দুই টাইগার ওপেনার শাদমান ইসলাম ও জাকির হাসান। স্বাগতিক পেসারদের দারুণ বোলিং বেশ সামলেই খেলতে থাকেন দুইজন। স্কোরবোর্ডে ২৭ রান যোগ করেছেন তারা। ১২ ওভার শেষে দ্বিতীয় দিনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ফিল্ড আম্পায়ার।