দুর্যোগ ঘিরে এমন ‘একতাবদ্ধ বাংলাদেশ’ আগে দেখেনি কেউ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে ট্রাকে করে নৌকা-স্পিডবোট নিয়ে বন্যায় প্লাবিত এলাকার মানুষজনকে উদ্ধারে যাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবী মানুষজন। অনেকে কভার্ড ভ্যান, ট্রাক, পিক-আপ ভরে নিয়ে যাচ্ছেন শুকনো খাবার, জরুরি ওষুধ, নিরাপদ পানি, চাল-ডাল। কিছু জায়গায় বানভাসিদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে নগদ অর্থ। আবার বন্যার্তদের সহযোগিতায় অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার কর্মীরা একদিনের বেতন দান করেছেন। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে দাতা প্রতিষ্ঠানে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা পৌঁছে দিতেও দেখা গেছে। অর্থাৎ যে যার জায়গা থেকে যেভাবে পারছেন সেভাবেই দাঁড়াচ্ছেন বানভাসি মানুষদের পাশে। অনেকেই বলছেন, দুর্যোগ ঘিরে এমন ‘একতাবদ্ধ বাংলাদেশ’ আগে দেখেননি তারা।

মূলত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতি বৃষ্টিতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বন্যা সবচেয়ে ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে ফেনীতে। এছাড়া চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিলেট, মৌলভীবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, খাগড়াছড়ি এবং কক্সবাজার জেলাও বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব জেলাগুলোতে বন্যায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেক জায়গায় মানুষ মারা যাওয়ার পর কবর দেওয়ার জায়গাও মিলছে না। এমন পরিস্থিতিতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়াতে  সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন সাধারণ বেসামরিক মানুষজনও। এর সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক দল, সামাজিক-স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফান্ড সংগ্রহ করছেন।

অরাজনৈতিক, অলাভজনক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা ৫০০ টন ত্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) তাৎক্ষণিক ১০ টন খেজুর, ১০ টন চিড়া, ৫ টন চিনি, ৫ টন লবণ ও অন্যান্য ত্রাণসামগ্রী নিয়ে আমাদের তিনটি ট্র্যাক ফেনী পৌঁছেছে। সেসব মালামাল পাঁচ হাজার পরিবারের মধ্যে বিতরণ করার কার্যক্রম চলছে। ত্রাণের ব্যাগে প্রতিটি পরিবারকে এজন্য প্রথম ধাপে ২ কেজি খেজুর, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি লবণ ও ১ কেজি চিনি দেওয়া হয়েছে।

এরপর দ্বিতীয় ধাপে আবারও আরও ৩৫ হাজার পরিবারের জন্য শুকনো ও ভারী ত্রাণসামগ্রীর ব্যবস্থা করেছে সংগঠনটি। যার জন্যে ৫০০ টন মালামাল কেনা হয়েছে।

টিএসসিতে ‘গণত্রাণ সংগ্রহ’ কার্যক্রম

বন্যার্তদের সহযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে  চলছে গণমানুষের গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এই কার্যক্রমে প্রথমদিনেই অসংখ্য মানুষ সাড়া দিয়েছেন।

এখানেও অনেকেই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে নজির স্থাপন করছেন। গণত্রাণ সংগ্রহ কর্মসূচিতে ৬ বছর ছোট্ট ইহান নিয়ে এসেছেন ৩ বছর ধরে জমানো সব টাকা। পুরো প্লাস্টিকের ব্যাংকই তুলে দিয়েছেন বানভাসি মানুষের সহযোগিতার জন্য। এমন অনেকেই যার যার অবস্থান থেকে দাঁড়িয়েছেন।

দুর্গোৎসবের বাজেট থেকে বন্যার্তদের জন্য অর্থ সহায়তা

এবার বন্যা ঘিরে সম্প্রীতির এক নতুন নজির সৃষ্টি করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও। তাদের দুর্গোৎসব আয়োজনের বাজেট থেকে বন্যাদুর্গতদের অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছে বরিশালের বেশ কয়েকটি মন্দির কমিটি। আরো কয়েকটি কমিটি সহায়তা পাঠাতে তহবিল প্রস্তুত করেছে বলে জানা গেছে।

বরিশালের সবচেয়ে বড় শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তন্ময় দাস বলেছেন, ফেনী-কুমিল্লাসহ ১০টি জেলায় বন্যায় মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। আমাদের শংকর মঠের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসবের জন্য যে বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল তার বড় একটি অংশ বন্যাদুর্গতদের জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখানে আমাদের মন্দিরের পক্ষ থেকে সাত সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবী দলও পাঠানো হয়েছে। আরো কয়েকটি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে মিলিয়ে প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি পাঠানো হয়েছে। আমরা আরও কিছু কমিটির সাথে যোগাযোগ করেছি এবং সকলের প্রতি আহ্বান রেখেছি দুর্গত এলাকার মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য।

সর্বোচ্চ সক্ষমতা নিয়ে কাজ করছে পুলিশ, সেনা-নৌ-বিমানবাহিনী

বন্যা দুর্গত সাধারণ মানুষজনের সহযোগিতায় কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং ফায়ার সার্ভিসসহ অন্যান্য সংস্থা। উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি রান্না করা খাবারও বিতরণ করছেন তারা। এছাড়া এরকম এলাকাগুলোতেই হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা।

বন্যার্তদের সহযোগিতায় ১ দিনের বেতন দিচ্ছেন অনেকেই

আকস্মিক বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষজন।

বন্যার্তদের জন্য ফ্রি মিনিট ও ইন্টারনেট দিয়েছে অপারেটররা

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ফ্রি টকটাইম এবং ইন্টারনেট সুবিধার ঘোষণা দিয়েছে দেশের অপারেটররা। সবার আগে তারাই বন্যার্তদের জন্য সহযোগিতামূলক উদ্যোগ নিয়েছে। দেশের ৪টি বেসরকারি অপারেটর কোম্পানি গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, রবি এবং এয়ারটেল এবং সরকারি অপারেটর কোম্পানি টেলিটকের পক্ষ থেকে এমন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে জুমার নামাজে বয়ানে ইমামদের আহ্বান

ভয়াবহ ও আকস্মিক এই বন্যায় ১৫টিরও বেশি জেলায় তৈরি হয়েছে মানবিক বিপর্যয়। এমন অবস্থায় বানভাসি ও বন্যাকবলিত মানুষদের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন মসজিদের খতিবরা। এক্ষেত্রে অনেক মসজিদে কমিটির পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করার উদ্যোগ।

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী অনেক মানুষ

সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য-সহায়তা করার জন্য অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করছেন। আর বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মহতী আগ্রহকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকেও স্বাগত জানানো হয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তিরা প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের সহায়তার অর্থ পাঠাতে পারবেন।

dhakapost

◑ হিসাবের নাম : ‘প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল’

◑ ব্যাংক : সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখা, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়

◑ হিসাব নম্বর : ০১০৭৩৩৩০০৪০৯৩

এ তহবিলের অর্থ ত্রাণ ও কল্যাণ কাজে ব্যয় করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।




বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে কলাপাড়ায় গণবিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ভারতের সাথে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে এবং উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে ডম্বুর ও গজলডোবা বাঁধ খুলে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে গণবিক্ষোভ পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় গণবিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে কলাপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে গণবিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিল টি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রতিনিধি আল ইমরান, নজরুল ইসলাম, জাকারিয়া আহমেদ, মাশরাফি কামাল, নাজমুল সাকিব প্রমুখ।

বক্তারা বাংলাদেশে বন্যা সৃষ্টির প্রতিবাদে খুলে দেয়া বাঁধের সামনে বাঁধ নির্মাণসহ সকল ভারতীয় পণ্য বর্জনের দাবি জানান। একইসাথে ভারতের বাংলাদেশ বিরোধী সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিতে দেশবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান।




সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও টানা ৮ বারের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেসন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ওবায়দুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সাবেক চিফ হুইপ ও টানা আটবারের সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে বনানী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ আওয়ামী লীগ নেতা আটবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন থেকে জয়ী হন তিনি।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদের ২৩ তম অধিবেশনে এক নম্বর প্যানেল স্পিকার হিসেবে স্পিকারের আসনে বসে সংসদ পরিচালনাও করেছিলেন আ স ম ফিরোজ।




৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির পূর্বাভাস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। আজ শুক্রবার সকালে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

সরদার উদয় রায়হান বলেন, ‘আমাদের প্রধান নদী অববাহিকায় আমরা আপাতত বড় কোনো বন্যা ঝুঁকি আর লক্ষ্য করছি না। প্রধান নদী অববাহিকায় সব নদীর পানি বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেমন ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা অববাহিকা এবং মেঘনা অবাবহিকার সুরমা নদী বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর কিছু কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার সামান্য ওপর নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। এটিও আসলে দ্রুত নেমে যাবে।’

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘এখন উজানে যে প্রবাহ তাতে এই মুহূর্তে ব্রহ্মপুত্র, গঙ্গা অববাহিকায় বৃহৎ কোনো বৃষ্টিপাতও নেই। তাই এই মুহূর্তে বন্যার ঝুঁকি দেখছি না। ৪৮ ঘণ্টা পর আমাদের এখন যে বন্যা পরিস্থিতি আছে সেটা উন্নতির দিকে যাবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে।’

বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে ভয়াবহ হয়ে উঠছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি। ১১ জেলায় বন্যাকবলিত অন্তত ৪৫ লাখ মানুষ। আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট তলিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। অনেকেই ঘর থেকে কিছু বের করতে না পেরে খালি হাতে ছুটে এসেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। দুর্গত এলাকায় এখন দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সংকট।

স্থানীয়রা বলছে, স্মরণকালে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি তারা। দুর্গত এলাকাগুলো সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগিতায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে বাংলাদেশে এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তবে ভারত সরকার বলছে, বাংলাদেশের বন্যা গোমতির নদীর ওপর নির্মিত ডুম্বুর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ খুলে দেওয়ার কারণে হয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত গোমতী নদীর ক্যাচমেন্ট এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে এই বছরের সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশে বন্যা মূলত বাঁধের নিচের দিকের এই বৃহৎ ক্যাচমেন্টের পানির কারণে।




দূর্যোগময় পরিস্থিতিতে রাঙামাটির জনজীবনে স্থবিরতা! জলবন্দি ৩০ হাজার মানুষ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ায় কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি হু-হু করে বাড়ছে। টানাবর্ষণের ফলে পানির প্রবলল ভেসে গিয়ে নানিয়ারচরে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে করে জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু, বিলাইছড়ি, কাউখালী, নানিয়ারচর ও সদর উপজেলার নিন্মাঞ্চল পানির নীচে তলিয়ে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ জলবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

অভ্যন্তরীন বেশ কয়েকটি সড়কে পাহাড় ধস, রাস্তা ভেঙ্গে এবং ঢলের পানিতে তলিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও প্রবল বর্ষণের ফলে ঘাগড়া-বড়ইছড়ি-বান্দরবান এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ২১টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কেঙ্গেলছড়ি এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। টানাবৃষ্টিপাতের ফলে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা।

বাঘাইছড়ি উপজেলায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাঁচালং নদীর পানি বেড়ে বাঘাইছড়ি পৌরসভার ও আট ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল বন্যাকবলিত হয়েছে। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরিন আক্তার জানিয়েছেন, কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলা। ৫৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে তিন হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তবে বন্যার পানি বাড়তে থাকায় উপজেলার নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হতে থাকায় এলাকাবাসী আশ্রয় কেন্দ্রমুখী হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকালে নানিয়ারচর উপজেলায় বুড়িঘাট ইউনিয়নের কুকুর মারা এলাকায় চেঙ্গী নদীতে ঢলের স্রোতে ভেসে শ্রেষ্ঠ চাকমা (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নানিয়ারচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. আরাফাত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলার কাউখালী উপজেলার ইছামতি ও কাউখালী খালের পানি বেড়ে ডুবে গেছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২০টি ঘর। সড়কে পানি থাকায় রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি আন্তঃজেলা যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সদর উপজেলাধীন সাপছড়ি ইউনিয়ন, মানিকছড়িসহ কয়েকটি পাহাড়ী এলাকায় পানি বেড়ে মানুষের ঘরবাড়ীতে ঢুকে পড়েছে, ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বিভিন্ন ফসলী জমি।
জেলার লংগদু উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া কাচালং নদীর শাখা নদীসহ পাহাড়ী ঢলের কারনে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় পানিবন্ধী হয়ে পড়েছে উপজেলার কয়েকশত পরিবার। অনেকেই তাদের পরিবার নিয়ে পাহাড়ের উচু স্থানে অবস্থান নিয়েছে, বন্যার কারনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে।

লংগদু উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা কফিল উদ্দিন মাহমুদ জানান, পাহাড়ী ঢলে মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার বেশকিছু অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৬টি আশ্রয় কেন্দ্র।

গত কয়েকদিনে রাঙামাটির সাজেকে আটকে পড়েছে অন্তত আড়াইশো পর্যটক। কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ার ফলে জেলার একমাত্র সিম্বল ঝুলন্ত সেতুতে পানি উঠায় পর্যটক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পর্যটন কর্তৃপক্ষ। রাঙামাটি পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক অলোক বিকাশ চাকমা জানান, কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে ঝুলন্ত সেতু ডুবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় পর্যটকদের জন্য আজ শুক্রবার সকাল থেকে সেতু পারাপারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভারি বৃষ্টিপাতে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় পুরো রাঙামাটি জেলায় মোট ২৬২টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানিয়েছেন, অতি ভারি বর্ষণের পূর্বাভাসে রাঙামাটিতেও পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসাবসকারীদের ক্ষতি এড়াতে নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে সরে যেতে শহর জুড়ে মাইকিং করা হচ্ছে।

জেলার সার্বিক দুর্যোগ ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান জানান, জেলার বাঘাইছড়ি, কাউখালী, লংগদুসহ কয়েকটি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। রাঙামাটি সদরে পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকলকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলার শহর এলাকায় ৭৫টি আশ্রয় কেন্দ্রসহ পুরো জেলায় সর্বমোট ২৬৭টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে কাপ্তাই হ্রদের পানি হু-হু করে বাড়তে থাকায় নিন্মাঞ্চলে বসবাসরতদের মানুষজনের মাঝে চরম উৎকন্ঠা বিরাজ করছে। হ্রদে পানি বেড়ে সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদনও বেড়েছে। কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক এ টি এম আব্দুজ্জাহের বলেন, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত হ্রদে পানির উচ্চতা রয়েছে ১০৬.০৬ ফুট এমএসএল। যা বৃহস্পতিবার ছিল ১০৫.৮৪ ফুট এমএসএল।

তিনি জানান, কাপ্তাই হ্রদে সর্বোচ্চ পানি ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতি সেকেন্ডে ৩০ হাজার কিউসেক পানি ছেড়ে দেওয়া হয়। আর সাধারণত পানির উচ্চতা ১০৮ এর বেশি হলে তখন আমরা গেইটগুলো খুলে দিয়ে থাকি। আগাম সতর্কতা ছাড়াই হ্রদের গেইটগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে তথ্য ছড়িয়েছে এটাকে গুজব বলে উড়িয়েও দিয়ে তিনি বলেন, কাপ্তাই বাঁধের গেইটগুলো খুলে দেওয়ার আগে সবসময়ই আমরা কাপ্তাই ও রাঙ্গুনিয়ার উপজেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও নৌবাহিনীকে চিঠি দিয়ে অবহিত করি। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ধরনের গুজব ছড়ানো মোটেও উচিত হচ্ছেনা বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট্য দূর্যোগময় এলাকাগুলোতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোতে জনপ্রতিনিধিরা বহিস্কার, পলাতক থাকায় এবং প্রশাসনিক গতিশীলতার কচ্ছপগতির কারনে সরকারী সহায়তা সঠিক সময়ে পাচ্ছেনা বলে জানিয়েছে দূর্গতরা।




হত্যা মামলার আসামি সাকিব কি খেলতে পারবেন

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া :: ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বিরুদ্ধে এমপির আদাবর থানায় একটি হত্যা মামলায় দায়ের হয়েছে। গার্মেন্টসকর্মী রুবেলকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে সাকিব আল হাসানকে মামলার ২৮ নম্বর এজাহার নামীয় আসামি করা হয়েছে।

বর্তমানে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে টেস্ট খেলছেন সাকিব। গতকাল সাকিবের নামে মামলা হওয়ার পর জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় সাকিব খেলতে পারবেন কি না। যদিও এখনো পর্যন্ত সাকিবের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়নি।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে সাকিব দেশে ফিরলে তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। তবে ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, সাকিবের দেশে ফেরার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শেষে হয়তো পরিবারের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাবেন তিনি। যদিও এই ব্যাপারে এখনো কিছুই বলছে না বিসিবি।

এর আগে, ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন সাবেক পেসার রুবেল হোসেন। তবে চারদিন হাজত খেটে জামিনে মুক্ত হয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপে খেলেছিলেন তিনি। অন্যদিকে, আগাম জামিন নিয়েও খেলা চালিয়ে যেতে পারেন সাকিব। তাছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পুরো সময়ে দেশে ছিলেন না এই অলরাউন্ডার। তাই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকার প্রমাণ দিয়ে জামিন পেতে পারেন তিনি। আর অভিযোগ খারিজ হলে বিষয়টি এমনিতেই নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গার্মেন্টসকর্মী রুবেলের বাবা রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছন। মামলার ২৮ নম্বর আসামির ঠিকানা লেখা রয়েছে, মো. সাকিব আল হাসান, সাবেক সংসদ সদস্য, পিতা. মাশরুর রেজা, সাং-সাহাপাড়া, নতুন বাজার, ডাকঘর: মাগুরা। এছাড়া এই মামলার বাকি আসামিরা হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ আরও ১৫৬ জন। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করে বলেন, গত ৫ আগস্ট রুবেল আদাবরের রিংরোডে প্রতিবাদী মিছিলে অংশ নেন। এ সময় আসামিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশ, প্ররোচনা, সাহায্য, সহযোগিতা ও প্রত্যক্ষ মদদে কেউ মিছিলে গুলি ছুড়ে। বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রুবেলকে হাসপাতালে নিলে চিকিৎসারত অবস্থায় ৭ আগস্ট মারা যান।




রাশেদ খান মেননকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হয়েছে। রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ডে নিতে এ আবেদন করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দারের আদালতে তার উপস্থিতিতে এ রিমান্ড শুনানি হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে রাশেদ খান মেননকে গ্রেফতার করা হয়। নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি প্রথমে বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এবং পরে সমাজকল্যাণমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় সম্প্রতি কয়েকটি মামলায় মেননকে আসামি করা হয়েছে।

২০০৮ সাল থেকে টানা তিন দফায় ঢাকা-৮ আসন থেকে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন রাশেদ খান মেনন। সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে (উজিরপুর-বানারীপাড়া) নির্বাচিত হন।

রাশেদ খান মেননের জন্ম ১৮ মে ১৯৪৩ সালে। তার পৈতৃক নিবাস বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে অর্থনীতিতে স্নাতক (সম্মান) ও ১৯৬৪ সালে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন।

১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে নেতৃত্বে আসেন মেনন। রাজনৈতিক কারণে তাকে বারবার জেলে যেতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছিল তাকে। এমএ পাস করেছেন জেলখানায় বসে পরীক্ষা দিয়ে। সে সময়ের প্রধান ছাত্র সংগঠন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন রাশেদ খান মেনন। ছিলেন ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি)।




প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে সেনা সদস্যদের একদিনের বেতন প্রদান

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সকল পদবির সেনাসদস্যদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ বন্যার্তদের সহযোগিতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিলে প্রদান করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ফেনী, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জে চলমান ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্যার্থে মানবতার সেবায় এ অর্থ প্রদান করা হয়।

উল্লেখ্য, বন্যা কবলিত এলাকায় প্রথম থেকেই উদ্ধারকার্যে সেনাসদস্যরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।




বরিশাল নগরীতে জলাবদ্ধতা

বরিশাল অফিস :: ভারতের জলাধারের বাঁধ খুলে দেওয়ায় হু হু করে পানি বাড়ছে বরিশাল বিভাগের সবগুলো নদণ্ডনদীতে। একইসাথে টানা বৃষ্টিতে শহর-উপশহর জলাবদ্ধ হয়ে জনজীবনে বেড়েছে ভোগান্তি। এতে করে মানুষের মধ্যে বন্যার আতঙ্ক ছড়িয়ে পরলেও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা নেই।

নগরীর বসুন্ধরা হাউজিংয়ের বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম বলেন, শহরের প্রধান প্রধান সড়কে পানি উঠে তলিয়ে গেছে। আমাদের হাউজিংয়ের কিছু অংশে রাস্তার সমান পানি চলে এসেছে। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম বলেন, বৃষ্টি আর নদীর পানি ড্রেন হয়ে এসে আমাদের ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদীতে পানি বৃদ্ধি ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে নগরীর বটতলা, পলাশপুর, কবি জীবনানন্দ দাশ সড়ক, রসুলপুর, ভাটিখানা, কাউনিয়া, আলেকান্দা, ধান গবেষণা রোড, আমানতগঞ্জ, কলেজ এভিনিউসহ অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার সকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরিশালের উপণ্ডসহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জল অনুসন্ধান প্রতিবেদন বলছে গত দুইদিন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলোর ১২টি পয়েন্টে সবগুলো নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এরইমধ্যে গত ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে বিপৎসীমার ওপর দিয়েই প্রবাহিত হলেও পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে। আশা করা যাচ্ছে, অল্প কয়েকদিনের মধ্যে পানি স্বাভাবিক স্তরে চলে আসবে। পানি বৃদ্ধিতে বেড়িবাঁধ, মাছের ঘের, ফসলের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি নেমে গেলে ভাঙন দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।




বন্যাদুর্গতদের সহায়তা পাঠিয়েছে বরিশালের মন্দির কমিটি

বরিশাল অফিস :: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব আয়োজনের বাজেট কমিয়ে বন্যাদুর্গতদের জন্য অর্থ সহায়তা পাঠিয়েছেন বরিশালের বেশ কয়েকটি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দরা। আরো কয়েকটি কমিটির পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা পাঠাতে তহবিল প্রস্তুত করা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশালের সবচেয়ে বড় শ্রী শ্রী শংকর মঠ পূজা উদযাপন কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তন্ময় দাস বলেন, ফেনী-কুমিল্লাসহ ১০টি জেলা বন্যায় মানবিক সংকট তৈরী হয়েছে। তাই শংকর মঠের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসবের জন্য যে বাজেট নির্ধারন করা হয়েছিল তার বড় একটি অংশ বৃহস্পতিবার মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে সাহায্যকারী দল পাঠিয়ে বিভিন্ন এলাকার বন্যাদুর্গতদের জন্য অর্থ সহায়তা পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মন্দিরের পক্ষ থেকে সাত সদস্যর একটি স্বেচ্ছাসেবী দল পাঠানো হয়েছে। আরো কয়েকটি মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে প্রায় ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করে বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য আহবান করা হয়েছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণারঞ্জন চক্রবর্তীর স্মৃতি দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক অয়ন চক্রবর্তী বলেন, অর্থ প্রদানকে আমরা সহায়তা বলছি। কারণ এটি আমাদের প্রতি দুর্গত এলাকার মানুষের অধিকার। দুর্গা পূজায় আলোকসজ্জা, ভালো পোশাক ক্রয়, সাউন্ড সিস্টেমের পিছনে অর্থ ব্যয় বাধ্যতামূলক নয়। ধর্মীয় যে রীতি রয়েছে সেটি পালন করাই যথেষ্ট। এজন্য আমাদের মন্দিরের পক্ষ থেকে ঐচ্ছিক ব্যয় করার জন্য যে বাজেট ছিল, তার অর্ধেক বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে।