বরিশালে নির্মাণাধীন দুটি সেতুর অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ

বরিশাল অফিস :: গত চার বছরে চারবার পরিবর্তন হয়েছে কাজ হস্তান্তরের মেয়াদ। এখনো শেষ হয়নি বরিশালের রাঙ্গামাটি ও আড়িয়াল খাঁ নদীর উপরে নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ। একটিতে দুটি স্পাম বসানোর কাজ শুধু বাকী। অন্যটিতে একটি স্পাম ও দুপাশের সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে সেতু নির্মাণ কাজ। দুটি সেতুরই দৈর্ঘ্য প্রস্থ একই ৮০০ মিটার। নির্মাণ ব্যায় ১০০ কোটি টাকা করে ২০০ কোটি প্রায়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে যেকোনো সময় শেষ হবে গোমা সেতু আর আগামী বছর এপ্রিল বা মে মাস লেগে যাবে নেহালগঞ্জ সেতুর নির্মাণে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল বাউফল, ভোলা, লহ্মিপাশা ও দুমকি মহাসড়কের সংযোগে দুটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১৮ সালে। সরকারি অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদের প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৭ সালে। তখন প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধিত প্রাক্কলনে এর ব্যয় বেড়ে নির্ধারণ হয়েছে ৯২ কোটি ৫৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তীতে কাজ শুরু হওয়ার পর উচ্চতা জনিত সমস্যায় মামলা ও তার সংশোধন নিয়ে নিষ্পত্তি জটিলতায় ৯ মাস বন্ধ ছিলো দুটি সেতু নির্মাণের কাজ। ২০২৩ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয় এবং গত জুনে এই কাজ হস্তান্তরের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দুটি ব্রীজের একটিও হস্তান্তর হয়নি।
এ নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগী প্রায় লাখ মানুষের ক্ষোভ দিনকে দিন বাড়ছে। দুটো সেতু বা ব্রীজের টিকাদার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহফুজ খান। তিনি স্পাম জটিলতার পর থেকেই এই কাজে আর আগের আগ্রহ ধরে রাখতে পারেননি। কেননা, কাজ গ্রহণকালীন দরপত্র সময়ের বাজার দরের সাথে এখনকার বাজারদরে আকাশপাতাল পার্থক্য বলে জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। যে কাজে ঐসময় ব্যায় হতো ৫০-৬০ কোটি টাকা। সেই একই কাজে এখনকার ব্যায় তিনগুণ বেড়েছে। তাছাড়া প্রকৌশলগত প্লানিং ভুলতো কর্তৃপক্ষের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন তার খেসারত দেবে বলে প্রশ্ন তোলেন মাহফুজ খান। তাই তিনি পুনটেন্ডারে আর অংশ নেননি বলে জানান।
এদিকে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে গোমা সেতুর জন্য পরপর তিনবার ঠিকাদার পাননি বলে জানালেন বরিশালের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহবুব সুমন। তিনি বলেন, চতুর্থ দফা দরপত্র আহ্বান করে গোমা সেতুর কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এটির কাজ সম্পন্ন হবে। তবে নেহালগঞ্জ সেতুর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি। স্পাম তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বছর এপ্রিল বা মে মাসে এটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।








