বরিশালে নির্মাণাধীন দুটি সেতুর অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ

 

বরিশাল অফিস :: গত চার বছরে চারবার পরিবর্তন হয়েছে কাজ হস্তান্তরের মেয়াদ। এখনো শেষ হয়নি বরিশালের রাঙ্গামাটি ও আড়িয়াল খাঁ নদীর উপরে নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ। একটিতে দুটি স্পাম বসানোর কাজ শুধু বাকী। অন্যটিতে একটি স্পাম ও দুপাশের সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে সেতু নির্মাণ কাজ। দুটি সেতুরই দৈর্ঘ্য প্রস্থ একই ৮০০ মিটার। নির্মাণ ব্যায় ১০০ কোটি টাকা করে ২০০ কোটি প্রায়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এরই মধ্যে যেকোনো সময় শেষ হবে গোমা সেতু আর আগামী বছর এপ্রিল বা মে মাস লেগে যাবে নেহালগঞ্জ সেতুর নির্মাণে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল বাউফল, ভোলা, লহ্মিপাশা ও দুমকি মহাসড়কের সংযোগে দুটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১৮ সালে। সরকারি অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদের প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৭ সালে। তখন প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধিত প্রাক্কলনে এর ব্যয় বেড়ে নির্ধারণ হয়েছে ৯২ কোটি ৫৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তীতে কাজ শুরু হওয়ার পর উচ্চতা জনিত সমস্যায় মামলা ও তার সংশোধন নিয়ে নিষ্পত্তি জটিলতায় ৯ মাস বন্ধ ছিলো দুটি সেতু নির্মাণের কাজ। ২০২৩ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয় এবং গত জুনে এই কাজ হস্তান্তরের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দুটি ব্রীজের একটিও হস্তান্তর হয়নি।

এ নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগী প্রায় লাখ মানুষের ক্ষোভ দিনকে দিন বাড়ছে। দুটো সেতু বা ব্রীজের টিকাদার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহফুজ খান। তিনি স্পাম জটিলতার পর থেকেই এই কাজে আর আগের আগ্রহ ধরে রাখতে পারেননি। কেননা, কাজ গ্রহণকালীন দরপত্র সময়ের বাজার দরের সাথে এখনকার বাজারদরে আকাশপাতাল পার্থক্য বলে জানায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। যে কাজে ঐসময় ব্যায় হতো ৫০-৬০ কোটি টাকা। সেই একই কাজে এখনকার ব্যায় তিনগুণ বেড়েছে। তাছাড়া প্রকৌশলগত প্লানিং ভুলতো কর্তৃপক্ষের। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেন তার খেসারত দেবে বলে প্রশ্ন তোলেন মাহফুজ খান। তাই তিনি পুনটেন্ডারে আর অংশ নেননি বলে জানান।

এদিকে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে গোমা সেতুর জন্য পরপর তিনবার ঠিকাদার পাননি বলে জানালেন বরিশালের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহবুব সুমন। তিনি বলেন, চতুর্থ দফা দরপত্র আহ্বান করে গোমা সেতুর কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এটির কাজ সম্পন্ন হবে। তবে নেহালগঞ্জ সেতুর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি। স্পাম তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বছর এপ্রিল বা মে মাসে এটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানান তিনি।




আত্মগোপনে সেই পুলিশ সদস্যরা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দুর্নীতির স্বার্থে গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে। যারা আইনের রক্ষক হওয়ার কথা ছিল তারা ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।

শনিবার (৩১ আগস্ট) এফডিসিতে দুর্নীতি প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে জাতীয় সংসদ। কিন্তু বিগত সরকার সংসদকে পুতুল নাচের নাট্যশালায় পরিণত করায় সেই সংসদ দুর্নীতি প্রতিরোধে কোন ভূমিকা রাখতে পারেনি।

তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী শাসনের কারণে বিগত সময়ে ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতির প্রসার হয়েছে। দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হয়েছিল। এমন কোন অপরাধ ঘটেনি যেখানে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সম্পৃক্ততা ছিল না।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের প্রয়োজন। এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সিআইডি, অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস এবং বাংলাদেশ ফাইনান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের যথাযথ সংস্কার করতে হবে।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুক্তির সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যে অভিযোগ এসেছে তা নাকচ করা যায় না। রাষ্ট্র এই অভিযোগ বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশ থেকে যে পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে তা দেশের প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক কনভেনশন অনুযায়ী ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এক্ষেত্রে পাচারকৃত দেশের সরকারের সাথে বাংলাদেশ সরকারের আইনি সমঝোতা করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি বাংলাদেশের ইতিহাসের বড় কালো দাগ। সর্বস্তরে দুর্নীতি ক্যান্সারের রূপ ধারণ করেছে। দুর্নীতির এই ক্যান্সার অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আমরা দেখেছি দুর্নীতিবাজরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবার পর তাদের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতো দুদক। প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় না এনে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্য বিরোধী মতের লোকদের নামে মামলা, জেল-জরিমানা করতে দেখা গেছে দুদককে। যারা দুদকের মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হচ্ছে তাদের হয়রানি মুক্ত করা উচিত।




শ্রীগুরু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা আচার্যের ৫০ তম তিরোভাব ১১ দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে শ্রীগুরু সংঘের প্রতিষ্ঠাতা পরিব্রাজক আচার্য শ্রীশ্রীমদন দুর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেবের ৫০ তম তিরোভাব পালন করা হয়েছে। এছাড়াও শুক্লা দশমী ও ঝুলন পূর্নিমা উপলক্ষে পটুয়াখালীতে ১১ দিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

শনিবার (৩১ আগষ্ট) ভোর রাতে অধিবাসের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের শুভ সূচনা করা হয়।

শনিবার বেলা ১১ টায় পটুয়াখালী পৌর শহরের পুরান বাজার শ্রী শ্রী মদন মোহন জিউঁর আখড়া বাড়ি মন্দির প্রাঙ্গন থেকে একটি বর্নাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।

শ্রীগুরু সংঘ প্রতিষ্ঠাতার ৫০ তম তিরোভাব উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে হাজারো ভক্তবৃন্দ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রা শেষে শুরুহয় নাম কৃর্ত্তন। দেশের সর্বজনপ্রিয় সব দলসমূহ নামসুধা পরিবেশন করবেন। আগত ভক্তবৃন্দের জন্য প্রসাদ গ্রহনের ব্যাবস্থা করেছেন আয়োজকরা।




পটুয়াখালীতে জোরপূর্বক ভাবে জমি দখলের অভিযোগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নে জোরপূর্বক ভাবে ভোগ দখলীয় সম্পত্তি দখলের অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষ খলিলুর রহমান মৃধা ও তার সাঙ্গ পাঙ্গদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (৩০ আগষ্ট) সকালে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ছোট আউলিয়াপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঐ দিন রাতেই পটুয়াখালী সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মিজানুর রহমান।

অভিযোগ সূত্রে জানাগেছে, গতকাল শুক্রবার সকালে খলিলুর রহমান মৃধা, জলিল মৃধা, জাফর মৃধা, মনির প্যাদাসহ ৭/৮ জন লোক মিজানুর রহমান এর ভোগ দখলীয় সম্পত্তিতে ধানের বীজ রোপণ করতে যায়। এসময় মিজানুর রহমান বাঁধা দিলে খলিলুর রহমান মৃধাসহ তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। একপর্যায়ে নারী পুরুষসহ ২০/২৫ জন লোক লোহার রড, দা, লাঠি নিয়ে মিজানুর রহমানকে ধাওয়া দেয়। পরে বাধ্য হয়ে মিজানুর রহমান বাড়ির ভেতরে চলে যান এবং খলিলুর রহমান মৃধা তার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক ভাবে বিরোধপূর্ণ জমিতে ধানের বীজ রোপণ করেন।

মিজানুর রহমান বলেন, ছোট আউলিয়াপুর জেএল নং ৩, খতিয়ান নং ৩৫৮/১১৪ এবং দাগ নং ২৪৩০/২৪২৯/২৪৪৯/২৪৪৮ দাগের জমি নিয়ে খলিলুর রহমান মৃধাদের সাথে আদালতে মামলা চলমান। কিন্তুু গায়ের জোর খাটিয়ে খলিলুর রহমান মৃধা তা জোর পূর্বক ভাবে দখল করছে। এই খলিলুর রহমান মৃধা আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তখন থেকেই এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার করেন। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই হতে হতো হামলা মামলার স্বীকার। তিনি কোন শালিসি ব্যবস্থা মানে না। উল্টো প্রতিনিয়ত আমাদের বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়।

খলিলুর রহমান মৃধা বলেন, মিজানুর রহমান যে জমি তাদের দাবি করেন সে জমি আমাদের নামে এবং যার কাগজপত্র আমাদের কাছে রয়েছে। আর এই জমিতে গতবছরও আমরাই ধানের বীজ রোপণ করেছি। আসলে মিজানুর রহমান তার জমি দাবি করলেও তার কাছে কোন কাগজপত্র নাই। যেটা তিনি কোন শালিসিতেও দেখাতে পারেনি এখন পর্যন্ত। উল্টো মিজানুর রহমানই বিভিন্ন সময় আমাদের নামে মিথ্যা মামলা ও অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছে।

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ জসিম জানান, এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




পটুয়াখালীতে আ.লীগের সাবেক এমপি শাহাজাদার নামে মামলা

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম শাহাজাদাসহ আটজনের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) পটুয়াখালীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বাদী হয়ে মামলার আবেদন করেন দশমিনা উপজেলার মো. আশ্রাব মৃধা (৪৬)।

আসামিরা হলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনের দুইবারের সংসদ সদস্য এস এম শাহাজাদা। শাহাজাদার বাবা লুৎফর রহমান ও তার তিন চাচাতো ভাই সেলিম সরদার, মো. সুমন সরদার ও মো. সোহাগ সরদার।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন, বেতাগী সানকিপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি রিপন হাওলাদার, একই ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. শাহিন মৃধা ও ওয়ার্ড যুবলীগের সদস্য মো. রুবেল মৃধা।

মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, এস এম শাহাজাদা এবং তার চাচাতো ভাইদের নেতৃত্বে স্থানীয় ক্যাডার বাহিনী ২০২৩ সালের ১২ ডিসেম্বর বাদীকে গুরুতর আহত করে এবং তার দুইটি মোটরসাইকেল ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের ৯ এপ্রিল ধারালো অস্ত্রসহ আসামিরা তার ভাড়াটিয়ার বাড়িতে হামলা করে এবং ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ দেয়া না হলে বাদীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে এবং শেষ পর্যন্ত ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে তাকে মুক্তি দেয়।

বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট মো. আব্দুল্লাহ আল নোমান জানান, এস এম শাহাজাদা ও তার চাচাতো ভাইদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।

গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আলম খান জানান, মামলার আসামিরা ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে আছেন।




উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আসনা’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘আসনা’। আসনা’র প্রভাবে গুজরাটের জামনগর, সুরাট, পোরবন্দর, মোরবি, স্বর্কা এবং কুচ জেলায় গত বুধবার রাত থেকে শুরু হয়েছে ভারী বর্ষণ। অতি বর্ষণের জেরে এসব জেলার অনেক এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে।

আরব সাগরের উত্তরাংশ কয়েক দিন আগে যে গভীর নিম্নচাপ দেখা দিয়েছিল, সেটি ইতোমধ্যে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়টি ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের উপকূলে আছড়ে পড়বে বলে সর্বশেষ পূর্বাভাসে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)।

শনিবার (৩১ আগস্ট) আইএমডির সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে গুজরাটের নালিয়া শহরের পশ্চিম উপকূল থেকে ২৫০ কিলোমিটার, পাকিস্তানের করাচির উপকূল থেকে ১৬০ কিলোমিটার এবং বেলুচিস্তানের পাসনি উপকূল থেকে ৩৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। ঘণ্টায় প্রায় ১৪ কিলোমিটার গতিতে এগোচ্ছে ‘আসনা’। এই নামটি পাকিস্তান থেকে নামকরণ করা হয়েছে।

গুজরাটের পাশাপাশি পাকিস্তানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিন্ধেও ‘আসনা’ আঘাত হানবে বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর। তবে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কচ্ছ জেলায়। আইএমডির জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ রামাশ্রয় যাদব এনডিটিভিকে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় কচ্ছ জেলায় ৮৮২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বেশি। এছাড়া সুরাট এবং কুচ জেলাতেও গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণ হয়েছে।




ভারতের নতজানু নীতি পরিহার করার দাবিতে বরিশালে বাসদের বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: বন্যা প্লাবিত এলাকাকে ‘উপদ্রুত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা ,পানিবন্দী মানুষকে দ্রুত উদ্ধার, পর্যাপ্ত ত্রাণ, পূর্নবাসন এবং ভারতের পানি আগ্রাসন ও নতজানু নীতি পরিহার করার দাবিতে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ বরিশাল জেলার বিক্ষোভ মিছিল।

শনিবার ( ২৪ আগস্ট) দুপুরে ১ টার দিকে অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা: মনীষা চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি বিজন সিকদার প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদ বরিশাল জেলার সদস্য শহিদুল ইসলাম।

এ সময়ে বক্তারা বলেন, বন্যার্তদের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে অতিদ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে গণত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। সাথে সাথে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে ‘উপদ্রুত এলাকা’ ঘোষণা করে দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রমের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন,বাংলাদেশ-ভারতকে যুক্ত করে ৫৪টি নদী বয়ে চলছে। ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক নদী আইন নীতিমালা অনুযায়ী নদীতে বাঁধ দেয়া যায় না। অথচ ভারত আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রকৃতির গতিকে রোধ করেছে বাঁধের মাধ্যমে। এবারেও কোন পূর্বাভাস ছাড়া বাঁধের গেট খুলে দেয়ার কারণে এবারের বন্যা এত ক্ষয়ক্ষতির জন্ম দিয়েছে।

বক্তারা বলেন, ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে পদত্যাগকৃত স্বৈরাচারী হাসিনা সরকার গদি রক্ষা ও ব্যক্তিগত নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য দেশের স্বার্থ উপেক্ষা করে নতজানু নীতিমালা গ্রহণ করেছিল। জনগণ প্রত্যাশা করছে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভারতীয় পানি আগ্রাসন বিরুদ্ধে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।




ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালীতে ইলিশের দাম চড়া

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে পরে বিদেশে ইলিশ রপ্তানি হবে – এমন খবরে স্বস্তি মেলেছে কম আয়ের মানুষের। তাদের আশা ছিল সাধ্যের মধ্যে আসবে দাম, পাতে উঠবে সুস্বাদু এই মাছ। কিন্তু সেই আশা নিয়ে বাজারে গিয়ে দেখা যায় উল্টো চিত্র। একদিকে সরবরাহ কম, অন্যদিকে দামও নাগালের বাইরে। ফলে দাম শুনেই কপালে ভাঁজ পড়ছে ক্রেতাদের।

মৎস্যসমৃদ্ধ এলাকা হিসেবে পরিচিত পটুয়াখালীর নদী ও সাগর তীরবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

উপজেলার সদরের প্রাণকেন্দ্র বাহেরচর বাজারে ইলিশ নিয়ে এসেছেন তিনজন বিক্রেতা। হাতে গোনা তাদের কাছে এক কেজি বা তার চেয়ে কম ওজনের ৫-৬টি ইলিশ দেখা গেছে। বাকি সব জাটকা। চাহিদার তুলনায় তাও কম। তাই দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। জাটকা (২০০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা দরে। এক কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশের দাম ১৬০০ থেকে ১৭০০ টাকা পর্যন্ত হাকছেন বিক্রেতা।

ইলিশ কিনতে বাজারে এসে চড়া দাম দেখে অনেকেই অন্য মাছ নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তাদেরই একজন সিদ্দিক হোসেন। পেশায় কৃষক।

সিদ্দিক বলেন, ‘ইলিশ মাছ কিনতে আসছিলাম। যে দাম, কেনার অবস্থা নাই। তাই অন্য মাছ দেখছি।’

মিরাজ নামের আরেকজন ক্রেতার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘গত বছর এই সময় জাটকার কেজি ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বড় ইলিশ কেজি ছিল হাজারের মধ্যে। আর এখন যে দাম, এতে গরিবের পাতে ইলিশ উঠবে না।’

বুড়াগৌরাঙ্গ নদ ও বঙ্গোপসাগরঘেঁষা চরমোন্তাজ ইউনিয়নের স্লুইস বাজারে কোনো ইলিশ ওঠেনি। মাছ কিনতে গিয়ে খালি হাতে ফিরেছেন ফরিদ উদ্দিন নামের একজন ক্রেতা।
তিনি বলেন, ‘সাগরপাড়ের এলাকায় থেকেও ইলিশ খাইতে পারি না। বাজারে পাঙ্গাশ, চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ ওঠে। কিন্তু ইলিশ পাই না। ঘাটে গিয়ে দুই-একজনে জেলেদের কাছ থেকে মাছ কেনে; তাও দাম বেশি।’

অথচ ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। তবুও নদ-নদীতে জেলেদের জালে তেমন ইলিশ ধরা পড়ছে না। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে সমুদ্রে যাওয়া জেলেদের জালে গত কয়েকদিন ধরে মোটামুটি ভালোই ইলিশ ধরা পড়ছে। কিন্তু বড় ইলিশ তুলনামূলক কম হলেও ছোট ইলিশ এবং জাটকা পরিমাণে বেশি। জালে উঠছে অন্যান্য মাছও। তবুও স্থানীয় হাট-বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম।

এর কারণ খুঁজতে গেলে জানা যায়, সমুদ্রগামী বেশিরভাগ জেলে-ট্রলার মালিকরা পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর-আলিপুর মৎস্য বন্দরের মহাজনদের কাছ থেকে দাদন এনে ব্যবসা করেন। এ কারণে মহাজনদের মালিকানাধীন কিংবা তাদের
নির্ধারিত মৎস্য আড়তেই মাছ বিক্রি করতে হয় তাদের। তাই সাগর থেকে মাছ ধরে সরাসরি মৎস্য বন্দরে নিয়ে যান জেলেরা। এ কারণে স্থানীয় বাজারগুলোতে সাগরের ইলিশ সরবরাহ নেই বললেই চলে।

খুচরা বাজার ঘুরে জানা যায়, নদ-নদীতে ক্ষুদ্র জেলেদের ধরা ইলিশ পাইকারদের মাধ্যমে হাত বদলে বাজারে ওঠে। বাজারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় দাম নাগালের বাইরে- বলছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।

উপজেলার বাহেরচর বাজারের ইলিশ বিক্রেতা মিরন আকন বলেন, আমরা যে দামে কিনি, সীমিত লাভেই বিক্রি করি। কেজিপ্রতি ২০-৫০ টাকা লাভ হয়। জেলেরা মাছ বেশি পেলে দাম কমবে যাবে। তখন আমরাও কম দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে পারব।

তবে জেলে পর্যায় থেকে ইলিশের দাম কেন কমছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে জেলেদের বরাত দিয়ে উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহির হাওলাদার বলেন, ‘ইঞ্জিন চালিত ট্রলার দিয়ে জেলেরা মাছ ধরেন। সেক্ষেত্রে জ্বালানি তেলের দাম বেশি। নিত্যপণ্যের বাজার চড়া। মাহজনের দাদন, ঋণের কিস্তি এবং পরিবারের খরচ মেটাতে হয় জেলেদের। সবকিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে এলে জেলেরাও কম দামে মাছ বিক্রি করতে পারবে। আর অন্য কিছুর দাম নিয়ন্ত্রণে না এনে মাছের দাম কমালে জেলেরা তো না খেয়ে মরতে হবে।’

এ ব্যাপারে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, একোয়াকালচার ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, এখন ইলিশের মৌসুম। কিন্তু প্রচুর পরিমাণে ইলিশ যে ধরা পড়ছে, বিষয়টা এমন নয়। নদ-নদীতে ইলিশ খুবই কম ধরা পড়ছে। এর পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরেও ঠিকমতো মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা। তাই বাজারে ইলিশের সরবরাহ কম। এ কারণে দাম বেশি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি-বৈরী আবহাওয়া শেষে জেলেদের জালে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়বে। জেলেরা লাভবান হবেন। তখন দামও কমবে। কিন্তু নিত্যপণ্য এবং জ্বালানি তেলের দাম না কমিয়ে মাছের দাম কমালে জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।




পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে পারলেও নিজে ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বছর দুয়েক আগে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে পরিবার ছেড়ে ঢাকায় পাড়ি জমান জামাল ভুঁইয়া। ভাগ্য বদলের চেষ্টায় বড় দুই ভাইয়ের সঙ্গে নিজের সম্বলটুকুকে পুঁজি করে যোগ দেন পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসায়। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। পরিবারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে এনেছেন ঠিকই কিন্তু নিজে ফিরলেন কফিনবন্দি হয়ে।

গত ১৯ জুলাই (শুক্রবার) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বিজিবির গুলিতে নিহত হন ব্যবসায়ী জামাল। নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ফরজ আলী চেয়ারম্যান মার্কেট এলাকায় তাদের পোল্ট্রি মুরগির দোকানে ওই দিন বিকালে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। সেখান থেকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী এক হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয় তার।

এর পর থেকে স্বামী হারানোর বেদনায় দিশেহারা জামালের স্ত্রী। অন্যদিকে পুত্র হারানোর শোকে মায়ের আহাজারি। পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে আছে। কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না তাদের আহাজারি। ছোট ছেলে জামালের স্মৃতি মনে করে অনবরত চলছে মা মেহেরজানের আর্তনাদ।

সরেজমিন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের খাসমহলে নিহত জামাল ভুঁইয়ার বাড়িতে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা গেছে। জামাল ভুঁইয়া ওই গ্রামের মৃত হারুল ভুঁইয়ার ছেলে।

নিহত জামালের বড়ভাই আলমাছ ভুঁইয়া বলেন, ‘স্বৈরাচারী সরকার পতন হইছে, এ জাতি নতুন করে স্বাধীন দেশ পাইছে (পেয়েছে) কিন্তু আমি তো আমার ভাইরে আর পামুনা (পাবোনা)। আমি চিরদিনের জন্য আমার জোরের ভাই হারাইছি, কষ্টে আমার বুকটা হাইট্টা (ফেটে) যায়।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরো বলেন, ‘আমার ভাই যে চেয়ারটায় বইতো (বসতো) আমার পাশেই চেয়ারটা পড়ে আছে কিন্তু আমার ভাই কবরে শুয়ে আছে। মনে হইতেছে আমার পাশে এখনো ভাই বইয়া (বসে) আছে। ও তো কোনো দোষ করে নাই ওরে ক্যান (কেনো) মারলো।




বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতি’র আহবায়ক কমিটির দায়িত্বভার গ্রহণ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: সরকার পতনের পর নেতৃত্বহীন হয়ে পড়ে ’ বরিশাল-পটুয়াখালী বাস মিনিবাস মালিক সমিতি। কার্যক্রম পরিচালনাও স্থবিরতা দেখা দেয়। সমিতির কার্যকরী পরিষদের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অনুপস্থিত থাকায় যাত্রী সেবা ও সমিতির কর্মকান্ড পরিচালনায়ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এ-মুহুর্তে সমিতির সদস্যদের যৌথ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শৃঙ্খলা ফেরাতে গঠিত হয় ৭ সদস্যের আহবায়ক কমিটি।

আর নব-গঠিত এ কমিটির নেতৃবৃন্দ গত বৃহস্পতিবার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে দায়িত্বাভার গ্রহণ করেন। একই সাথে যাত্রী সেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি সুশৃঙ্খলভাবে সমিতি পরিচালনায়ও ঐক্যমত পোষণ করে ঐক্যবদ্ধ হন তারা।

নব-গঠিত আহবায়ক কমিটিতে আহবায়ক পদে মনোনীত হন বরিশাল মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব মোঃ জিয়াউদ্দিন সিকদার। ইতিপুর্বে তিনি এই সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া সমিতি’র একজন প্রবীণ সদস্যও তিনি।

৭ সদস্য বিশিষ্ট কমিটিতে অন্যান্য সদস্যরা হলেন-এইচ. এম.এ মান্নান, নাসির মৃধা, মোঃ মোশারেফ হোসেন সান্টু, মোঃ আল আমিন হোসেন, মোঃ নুরুজ্জামান দোলন, মোঃ তাজুল ইসলাম নান্না। গত বৃহস্পতিবার বাস মালিকদের উপস্থিতিতে সমিতি’র প্রধান কার্যালয় রুপাতলিস্থ পটুয়াখালী সড়কে আল-নসিব ম্যানশনের তয় তলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ বাক্য পাঠের মধ্য দিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন নব-গঠিত আহবায়ক কমিটির সদস্যরা। শুরুতেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতার প্রারম্ভ হয়।

এরপর পর্যায়ক্রমে বক্তব্য রাখেন নেতৃবৃন্দ। এসময় বাস-মালিকরা নব-গঠিত কমিটিকে সমর্থন জানিয়ে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। একইসাথে সমিতি’র কার্যক্রম যথার্থ পরিচালনায় মতামত পেশ করেন তারা। শপথ গ্রহণ করে মনোনীত আহবায়ক জিয়াউদ্দিন সিকদার তার ওপর আরোপিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন ও সমিতি’র উন্নয়নে তার ঐকান্তিক প্রচেস্টা অব্যাহত -পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনে দৃঢ় অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

এদিকে এর আগে গত ৮ আগস্ট সমিতি’র সাম্প্রতিক সংকট বিবেচনায় তা থেকে উত্তোরণে সদস্যদের উপস্থিতিতে জরুরী বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৯০ সদস্যের মধ্যে ৮০ জন সদস্য অংশ নেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি এইচ.এম.এ মান্নান। সভাটি সামগ্রিকভাবে পরিচালনা করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ জিয়া উদ্দিন সিকদার।

সভায় সভাপতি সমিতির মালিকবৃন্দের ব্যবসায়িক দুরাবস্থার কথা চিন্তা করে সমিতি পরিচালনায় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য মালিকবৃন্দের জোড়ালো দাবীর প্রেক্ষিতে জরুরী বর্ধিত সভার আয়োজনের বিষয়টি সকলকে অবহিত করেন। একই সাথে করণীয় শীর্ষক সদস্যদের পক্ষ থেকে মতামত তুলে ধরার আহবান জানান। সভায় সমিতি’র কার্যক্রম স্থবিরতায় কথা বিবেচনায় বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ১জন আয়বায়ক মনোনীত করে ৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠনের প্রস্তাব রাখেন নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।

এরই ধারবাহিকতায় ৭ সাত সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠনের মতামত প্রদান করেন তারা। এছাড়া আহবায়ক পদে জিয়াউদ্দিন সিকদারের পক্ষে সমর্থন জানানো হয়। দাবির প্রেক্ষিতে সকলের মতামত অনুযায়ী সভায় সমর্থন গ্রহণযোগ্যতা প্রাপ্ত হয়। সকলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাত সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়।