বাপিডিপ্রকৌস’র বরিশাল জেলা নির্বাহী কমিটি গঠন

সভাপতি- সেলিম তালুকদার

সম্পাদক- মাহবুব হোসেন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি (বাপিডিপ্রকৌস) বরিশাল জেলা নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ সেপ্টম্বর) নগরীর বান্দ রোড পূর্ত ভবন চত্বর সংগঠন কার্যালয়ে জেলা কমিটির এক সভার সিদ্ধান্তের আলোকে নতুন এ কমিটি গঠন করা হয়।

নব গঠিত জেলা কমিটির সভাপতি হলেন- মোঃ সেলিম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুব হোসেন, সহ-সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন হাং, যুগ্ম-সম্পাদক সঞ্জীব কুমার দেবনাথ, অর্থ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ জাকারিয়া, দপ্তর সম্পাদক মোঃ আসলামুল কবির, প্রচার সম্পাদক মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম, সংস্কৃতি ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক উজ্জ্বল চন্দ্র ব্যাপারী সহ কাউন্সিলর-১ আব্দুল্লাহ আল-মামুন ও কাউন্সিলর- মোঃ মামুন রাড়ী।

বরিশাল জেনিক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সদয় অবগতির জন্য অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।




বন্ধ থাকা পোশাক কারখানা কবে খুলছে, জানা গেল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নিরাপত্তা শঙ্কায় বন্ধ রয়েছে সাভার ও আশুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার ১৬৭ পোশাক কারখানা। এসব কারখানা আগামীকাল বৃহস্পতিবার খুলে দেওয়া হবে জানিয়েছেন তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

আজ বুধবার খন্দকার রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে সাভার, আশুলিয়াসহ অন্যান্য এলাকায় পোশাক কারখানা খোলা হবে। বুধবার নিরাপত্তা শঙ্কা ১৬৭টি কারখানা বন্ধ ছিল।’

গত সোমবার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় নারী-পুরুষের সমানুপাতিক হারে নিয়োগসহ বিভিন্ন দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন চাকরিপ্রত্যাশী শ্রমিকরা। তাদের দাবির মধ্যে ছিল বকেয়া বেতন ও চাকরি স্থায়ীকরণ। বিক্ষোভের কারণে সাভার ও গাজীপুরে আজ বুধবার কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষে জড়িত বেশিরভাগই বহিরাগত বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ।

আজ সচিবালয়ে তৈরি পোশাক শিল্প খাত ও শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে হাসান আরিফ সাংবাদিকদের বলেন, ‘চারদিকে যে শ্রমিক অসন্তোষ হচ্ছে, তা নিয়ে আজ আমরা বৈঠক করেছি। আমরা খবর পাচ্ছি যে প্রকৃত শ্রমিক যারা, তারা কেউ নিজের বাড়ি পোড়াবেন না, কারণ এখানে তার জীবিকা। এটা বহিরাগতরা এসে করেছে।’

শ্রমিকদের উদ্দেশ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা (শ্রমিকরা) বাধা দেন, আপনারা বাধা দিলে আমরাও আপনাদের সঙ্গে থাকব। এমনভাবে তারা মিশে আছে যে, তাদের সেগরিগেট (আলাদা) করা ডিফিকাল্ট (কঠিন) হয়ে যাচ্ছে। দেশের অর্থনীতি ও শ্রমিকদের রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া।’




সচিবদের যেসব নির্দেশনা দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে সকল পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ‘মার্চিং অর্ডার’ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ বুধবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে নিজ কার্যালয়ে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠকে সচিবদের বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, ‘সরকারের সকল পর্যায়ে সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নে ‘মার্চিং অর্ডার’ প্রদান করতে হবে। সংস্কার কর্মসূচি প্রণয়নে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করতে হবে। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা বৈষম্যহীন মানবিক দেশ গড়ার যে প্রত্যয়, যে ভয়হীন চিত্ত আমাদের উপহার দিয়েছে, তার ওপর দাঁড়িয়ে বিবেক ও ন্যায়বোধে উজ্জীবিত হয়ে আমাদের স্ব স্ব ক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।’

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন,‘নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য গৎবাঁধা চিন্তাভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে, চিন্তার সংস্কার করে, সৃজনশীল উপায়ে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে, সেবা সহজিকরণের মাধ্যমে জনগণের সর্বোচ্চ সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি ক্রয়ে যথার্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাসমূহ দুর করতে হবে।’

মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,‘সৃষ্টিশীল, নাগরিকবান্ধব মানসিকতা নিয়ে প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগ স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচির সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা দাখিল করবে, যা নিয়মিত মূল্যায়ন করা হবে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সৃষ্ট নতুন বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বব্যাপী যে আগ্রহ ও ইতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে, দেশের স্বার্থে তা সর্বোত্তম উপায়ে কাজে লাগাতে হবে।’

গত ৮ অগাস্ট নোবেল জয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। এই যাত্রায় ইউনূসের সঙ্গী হয়েছেন ২০ জন উপদেষ্টা। প্রধান উপদেষ্টা মোট ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজের হাতে রেখেছেন।




পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বন্যা দুর্গতদের আর্থিক সহায়তা প্রদান

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গতদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার বেলা সাড়ে ১২ টায় বন্যাদুর্গতদের সাহায্যার্থে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক নুর কুতুবুল আলমেরর হাতে এই সহায়তার অর্থ প্রদান করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাডভোকেট মোঃ সোহরাব হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকারিয়া হৃদয়, সাবেক সভাপতি মোঃ গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সভাপতি স্বপন ব্যানার্জী।




লুট হওয়া দুই হাজারের বেশি অস্ত্র এখনও উদ্ধার হয়নি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সারা দেশের ৪০০ বেশি থানা ও ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে প্রায় ছয় হাজার অস্ত্র লুট করেছিল দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে প্রায় চার হাজার অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও দুই হাজারের বেশি অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। এছাড়া তিন লাখেরও বেশি বিভিন্ন বোরের গুলি এখনও দুর্বৃত্তদের কাছে রয়ে গেছে। এসব অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের জন্যই আগামীকাল বুধবার থেকে যৌথ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

আজ মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সাম্প্রতিক সময়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট ও উদ্ধারের পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট ও পরবর্তী সময়ে ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার বোরের ১ হাজার ১৪৭টি চাইনিজ রাইফেল লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ৮০৯টি উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়নি ৩৩৮টি। একই বোরের বিডি রাইফেল লুট হয়েছিল ১০টি। এর মধ্যে ৯টি উদ্ধার হয়েছে। একই বোরের ২৫১টি এসএমজি লুট হয়েছিল। উদ্ধার হয়েছে ১৮৫টি, উদ্ধার হয়নি ৬৬টি। একই বোরের ৩২টি চায়না এলএমজি লুট হয়েছিল। উদ্ধার করা হয়েছে ২১টি। ৭ দশমিক ৬২ বোর এবং নাইন এমএম পিস্তল লুট হয়েছিল ১ হাজার ৫৫৬টি। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৭০৭টি। নাইন এমএম এসএমজি লুট হয়েছিল ৩৩টি। উদ্ধার হয়েছে ৩২টি। ১২ বোরের শটগান লুট হয়েছিল ২ হাজার ১৯০টি। উদ্ধার হয়েছে ১ হাজার ৫৬৮টি। ৩৮ মিলিমিটার গ্যাস গান (সিঙ্গেল শট) লুট হয়েছিল ৫৯৩টি। উদ্ধার হয়েছে ৪২৫টি। ৩৮ মিলিমিটার গ্যাস লাঞ্চার (সিক্স শট) লুট হয়েছিল ৫৯৩টি। উদ্ধার হয়েছে ৪২৫টি। ২৬ মিলিমিটার সিগন্যাল পিস্তল লুট হয়েছে তিনটি, উদ্ধার হয়েছে একটি।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, বিভিন্ন বোরের মোট ৬ লাখ ৬ হাজার ৭৪২টি গুলি লুট হয়েছিল। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৮২টি গুলি উদ্ধার হয়েছে। উদ্ধার হয়নি ৩ লাখ ২০ হাজার ৬৬০টি গুলি। বিভিন্ন ধরণের টিয়ারগ্যাস সেল লুট হয়েছিল ৩১ হাজার ৪৪টি। উদ্ধার হয়েছে ২২ হাজার ১৩৯টি। বিভিন্ন ধরণের টিয়ার গ্যাস গ্রেনেড ১ হাজার ৪৫৫টি। উদ্ধার হয়েছে ৭০৪টি। সাউন্ড গ্রেনেড লুট হয়েছিল ৪ হাজার ৬৯২টি। উদ্ধার হয়েছে ২ হাজার ১১৬টি। কালার স্মোক গ্রেনেড লুট হয়েছিল ২৯১টি। উদ্ধার হয়েছে ২১৩টি। সেভেন/মাল্টিপল ব্যাং স্টান গ্রেনেড লুট হয়েছিল ৫৫টি। উদ্ধার হয়েছি ১৮টি। ফ্ল্যাশ ব্যাং/৬ ব্যাং গ্রেনেড লুট হয়েছিল ৮৯৩টি। উদ্ধার হয়েছে ৫৩৩টি। হ্যান্ড হেল্ড টিয়ার গ্যাস স্প্রে (ক্যানিস্টার) লুট হয়েছিল ১৭৭টি। উদ্ধার হয়েছে ৯৪টি।

 




সময় নয়, সংস্কার শেষে নির্বাচন চায় জামায়াত

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদকরা সরকারের মেয়াদ দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে রাখার প্রস্তাব করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক শেষে প্রেস সচিব শফিকুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, গত শনিবার রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে মতবিনিময়ে বলেছিল অন্তর্বর্তী সরকার যেন যৌক্তিক সময় পর্যন্ত থাকে। এই যৌক্তিক সময় আসলে কতটুকু? এ বিষয়ে ড. ইউনূস দেশের শীর্ষ সম্পাদকদের কাছে জানতে চেয়েছেন। এই অন্তর্বর্তী সরকারকে কী কী কাজ করতে হবে, নূন্যতম কতটুকু কাজ করতে হবে- এসব প্রশ্ন রেখেছেন।

প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টার এমন জবাবে সবাই মতামত দিয়েছে সর্বনিম্ন যে সময়টা এসেছে দুই বছর, যাতে এই অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ হয়। অনেকে আবার দুই থেকে তিন বছরের কথা বলেছেন। কিন্তু মাঠে রাজনীতিতে বিএনপি এই সরকারকে বেশি সময় দিতে চায় না। বিএনপি বলছে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। সেইসাথে রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনের রোডম্যাপও দিতে হবে সরকারকে।

মাঠের আরেক প্রধান দল জামায়াতে ইসলামী বলছে, যোক্তিক সময় বা কোন নির্দিষ্ট সময় নয়। রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও সরকারের সংস্থাগুলো দ্রুত সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

এই বিষয়ে দলটির প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ছাত্রজনতার আন্দোলনে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বের সময় মাত্র ২৫ দিন গেল। আমরা চাই এই সরকার নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংস্কার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে।

জামায়াত ভোটের মাঠে কারো সাথে জোটে যাবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না। ভোটের হাওয়া শুরু হলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ড. ইউনুসের নেত্বর্তে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। এর আগে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সাথে রাজনৈতিক দলের বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এখন যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হবে, এই সরকারকে তিন মাসের মধ্যে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

পরবর্তীতে এই বক্তব্য থেকে সরে এসে দলটির সব কেন্দ্রীয় নেতারা যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেন, সেই সাথে রাষ্ট্র সংস্কারের রোডম্যাপ চেয়েছে দলটি।




রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অসুস্থ, হাসপাতালে হাজী সেলিম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ঢাকা ৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম রিমান্ডে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২ টায় অসুস্থ অবস্থায় তাকে ঢামেক হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি করা হয়েছে।

গত সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) হাজী মোহাম্মদ সেলিমকে আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ হত্যা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা লালবাগ থানার সাব-ইন্সপেক্টর আক্কাস মিয়া আসামিকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে শুনানি করে। হাজী সেলিমের পক্ষে আইনজীবী শ্রী প্রাণনাথ রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার ৫ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় লালবাগ থানাধীন আজিমপুর সরকারি আবাসিক এলাকায় ২০ তলা ভবনের সাত নম্বর বিল্ডিংয়ের পাশে রাস্তার ওপরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ শত শত সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি বর্ষণ করা হয়। ঘটনাস্থলে ইফতি, জুবায়ের, তানভীর, ইসমাইলসহ অনেক নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা আহত হয়। তাদের মধ্যে বাদীর ছেলে আইডিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের মেধাবী ছাত্র খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ বুকে ও পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যান।

আরও বলা হয়, আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই মামলার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলেও কৌশলে বিভিন্ন তথ্য গোপন করাসহ এড়িয়ে যাচ্ছেন। আসামিকে ঘটনার বিষয়ে আরও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় মামলাটি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, অপরাপর পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহের জন্য ১০ দিনের পুলিশি রিমান্ডের একান্ত প্রয়োজন।

গত ১ সেপ্টেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর বংশাল থানাধীন এলাকা থেকে হাজী সেলিমকে আটক করা হয়েছে।

খালিদ হাসান সাইফুল্লাহ মারা যাওয়ার ঘটনায় তার বাবা কামরুল হাসান ১৯ আগস্ট লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫২ জনকে আসামি করা হয়।

এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় ২০০৮ সালে ১৩ বছরের সাজা হয় হাজী সেলিমের। পরে ২০২২ সালে এই সাজা কমিয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।

 




দুর্বৃত্তের আগুনে বরিশাল সিটি করপোরেশনের পৌণে ১৯ কোটি টাকার ক্ষতি

অন্ধকারে বিবির পুকুর, দর্শনার্থীদের ভোগান্তি

বরিশাল অফিস :: বৈষম্য বিরোধী দাবির মুখে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের দিন গত ৫ আগস্ট দুর্বৃত্তের দেয়া আগুন সন্ত্রাসে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের তিনটি ভবন ও বিবির পুকুরের সৌন্দর্য বর্ধনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এ সময় জ্বালিয়ে দেয়া হয় এ্যানেক্স ভবন। এতে ১৮ কোটি ৭৫ লাখ ৩১ হাজার ১শ ৩৫ টাকার ক্ষতির হিসেব প্রস্তুত করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন। ক্ষতির হিসেব ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো হয়েছে।

বরাদ্দ না আসলে এসব ভবনে কাজ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট পাঁচ তলা বিশিষ্ট এ্যানেক্স ভবনটি অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গিয়ে ১২ কোটি ৩১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৯ টাকা ক্ষতি হয়। পাঁচতলা বিশিষ্ট অডিটোরিয়ামের মালামাল বিনষ্ট করায় ৪ কোটি ৪১ লাখ ২৭ হাজার ১৫০ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়। তিন তলা বিশিষ্ট নগর ভবনে হামলা ভাঙচুর করায় ৭ লাখ ১৮৬ টাকা ক্ষতি হয়। বিবির পুকুরের চতুর্পার্শ্বের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ভাঙচুর ও বিনষ্ট করায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার ৭১০ টাকা ক্ষতি হয়। এ্যানেক্স ভবনে সংরক্ষিত জনস্বাস্থ্য বিভাগে সরকার প্রদত্ত ভ্যাকসিন ঔষধ, লজিস্টিক মালামাল, ভিটামিন এ ক্যাপসুল, আসবাবপত্র পুড়ে গিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই ভবনে সংরক্ষিত মশক নিধন কার্যক্রমে ব্যবহৃত ঔষধ, মালামাল পুড়ে গিয়ে ৬৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৪০ টাকার ক্ষতি হয়। এছাড়া এ্যানেক্স ভবনের নিচ তলায় পরিছন্ন বিভাগের সংরক্ষিত মালামাল, আসবাবপত্র পুড়ে ১৫ লাখ ৩২ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।

সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ জানান, বিবির পুকুরের ওয়াল ওয়াসার ৩০ টি লাইট ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং তার ছিড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। এছাড়া তিন বাহুর ৩টি, পাঁচ বাহুর একটি, দুইটি গার্ডেন লাইট, ছয়টি ফোয়ারা লাইট ভেঙে ফেলে দুর্বৃত্তরা। এর ফলে গত ৫ আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত এভাবেই রয়েছে বিবির পুকুর। সৌন্দর্য হারাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই পুকুরটির। সন্ধ্যা হলেই বিবির পুকুর অন্ধকারে তলিয়ে যায়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় দর্শনার্থীদের। দশরথীরা জানিয়েছেন, বিবির পুকুরের চারপাশের লাইটিং ব্যবস্থা দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে এখানে ঘটতে পারে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন হয়। এদিন বরিশালের একাধিক ভবনে অগ্নিকাণ্ড হামলা ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় নগরীর এ্যানেক্স ভবন, অডিটোরিয়াম, নগর ভবনে হামলা ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। এতে ব্যাহত হয় নাগরিক সেবা। থমকে যায় সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম।

আরো কতদিন এ পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে হবে এমনটা জানা নেই সিটি কর্তৃপক্ষেরও। তবে তারা বলছেন বরাদ্দ এলেই পুনরায় সংস্কার করা হবে এই ভবনগুলোর। পাশাপাশি নাগরিক সেবাও নিশ্চিত করা যাবে।




কলাপাড়ায় ১৪৫০ ফুট কাঁচা সড়ক, শতাধিক পরিবারের ভোগান্তি

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাত্র ১৪’শ ৫০ ফুট কাঁচা সড়কের জন্য শতাধিক পরিবারের কয়েক’শ মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।

উপজেলার পৌর শহরের নিকটবর্তী টিয়াখালী ইউনিয়নের নাচনাপাড়া গ্রামের ওলামা নগর সড়ক নামে পরিচিত কেশব মাস্টার বাড়ি থেকে রব হাওলাদারের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটি অত্র এলাকার অভিশাপ হিসেবে পরিণত হয়েছে।

বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের নিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে এ এলাকার সাধারণ মানুষগুলো। অথচ ইচ্ছে করলেই স্বল্প বাজেটে অন্তত কিছু ইট বিছিয়ে হলেও জনগণের এ ভোগান্তি লাগব করতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার পৌর শহরের নিকটবর্তী টিয়াখালী ইউনিয়নের ওলামা নগর সড়ক নামে পরিচিত এ সড়কটি দীর্ঘ বছর ধরে অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন কয়েকশ সাধারণ মানুষ চলাচল করে। এ সড়ক দিয়েই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে।

তবে, বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়ে যেতে তাদের চরম বেগ পোহাতে হয়। প্রায়শই তারা বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এদিকে, সড়কের বেহাল অবস্থায় বয়োবৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে বেগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। রাস্তাটি পাঁকাকরনের জন্য একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও মিলছে না কোন সঠিক সমাধান এমনটাই অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মতিউর রহমান, খলিলুর রহমান, রাধা রানী, সুমি রানী ও কৃষ্ণকান্তিসহ আরো অনেকে বলেন, সড়কটির পাঁকাকরনের জন্য স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি কিন্তু কোন সুরাহা মিলেনি। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি অবহেলায় পরে থাকলেও বিষয়টি কারোর নজরে আসছে না। এ ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে রাস্তাটি পাঁকাকরনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমন বলেন, বর্ষা মৌসুমে তাদের বিদ্যালয় যেতে খুবই কষ্ট হয়। প্রায় সময়ই কাঁদায় স্লিপ কেটে পড়ে ড্রেস নষ্ট হয়ে যায়। এতে বিদ্যালয় শিক্ষকদের কথা শুনতে হয়।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান বলেন, সড়কটির আইডি নাম্বার না থাকায় এই মুহূর্তে কিছু করতে পারছেন না। তবে, আইডিভূক্ত করে অতিদ্রুত সড়কটির পাঁকাকরনের কাজ করা হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।




শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগ বন্ধের আহ্বান শিক্ষা উপদেষ্টার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, ‘লক্ষ্য করা গেছে-দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে এখনো শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগ ও নানাভাবে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে।’

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় সংশ্লিষ্টদের প্রতি এ আহ্বান জানান তিনি।

শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘যেসব শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অপকর্মের অভিযোগ আছে, তা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ যথাযথ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গকারীদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আচরণবিধি অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘বেআইনি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংগঠিত হলে তার প্রতিকারের জন্য ইতোমধ্যেই স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিজেদের স্বার্থেই নিজ নিজ শিক্ষাঙ্গনে সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষা করতে হবে।’