বরিশালে ১ দিনের ব্যবধানে আবারও একটি গ্রেনেড উদ্ধার

বরিশাল অফিস :: বরিশালে এক দিনের ব্যবধানে আবারও একটি পরিত্যক্ত গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। এটি উদ্ধারে সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক অভিজ্ঞ ইউনিট কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, এটি সাউন্ড গ্রেনেড।

মঙ্গলবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় বরিশাল নগরীর ফরেস্টার বাড়ি এলাকা থেকে গ্রেনেডটির সন্ধান পাওয়া যায়। এর আগে গত সোমবার একটি তাজা গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার নাফিছুর রহমান।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সকালে ৯৯৯-এ ফোনকলের মাধ্যমে তারা বিষয়টি জানাতে পারে। এরপর পুলিশ ফরেস্টার বাড়ি এলাকা ঘিরে রাখে। পরে স্থানীয় পোস্টাল কলোনির দেয়াল ঘেঁষা এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় গ্রেনেডটি দেখতে পায় পুলিশ। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনীকে জানানো হলে কিছুক্ষণ পর তারা এসে এলাকাটি ঘিরে রাখে।

পুলিশ কর্মকর্তা নাফিছুর রহমান আরও বলেন, সেনাবাহিনীর একটি বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ টিম এসে এটি নিষ্ক্রিয় করে উদ্ধার করবে। এরই মধ্যে সেনাবাহিনীর টিম ইউনিট গ্রেনেড স্থলে এসেছে। ধারণা করা হচ্ছে যৌথ বাহিনীর অভিযান এড়াতে কেউ এটিকে ফেলে গেছে।

এদিকে গোয়েন্দা শাখার বিএমপির উপপুলিশ কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের সময় ওই এলাকাটিকে ব্যাপক সহিংসতা হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ প্রচুর পরিমাণে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশের কাছ থেকে পড়ে যাওয়া অব্যবহৃত সাউন্ড গ্রেনেড এগুলো। তবে পরীক্ষার পর বিস্তারিত বলা যাবে।




সীমান্ত হত্যা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সীমান্ত হত্যা বন্ধে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলা নিয়ে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ‘বর্ডার কিলিং (সীমান্তে হত্যা) নিয়ে এখানে একটু আলোচনা হয়েছে। এ জন্য শুধু আমি বলব, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট অথরিটিকে (কর্তৃপক্ষ) আদেশ করেছি। আমি আশা করব ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা ঘটবে না।’

উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘পূজার সময় আরেকটি সমস্যা দেখা দেয়, যেহেতু আমাদের লোক যাওয়া-আসা করে, এপারের লোক ওপারে পূজা দেখতে যায়, আবার ওপারের লোক, এপারে পূজা দেখতে আসে। এখানে সবাইকে আমি অনুরোধ করেছি, এবার আপনারা বর্ডার বেল্টে ভালো ভালো পূজামণ্ডপ করেন। যাতে আমাদের লোক ওপারে না যায় পূজা দেখার জন্য। ওপারের লোকও যেন এপারে না আসে, এটার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আপনাদের (সাংবাদিক) কাছে অনুরোধ করব, ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে আপনারাও আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন।’



বিদ্যুতের বকেয়া চেয়ে ড. ইউনূসকে আদানির চিঠি

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৮০ কোটি ডলার বকেয়া পরিশোধের অনুরোধ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চিঠি লিখেছেন আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি। ভারতীয় সংবাদামধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

আদানি বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমরা পূরণ করেছি। কিন্তু ঋণদাতারা এখন আমাদের ওপর কঠোর হয়েছে। আমি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে প্রাপ্য ৮০০ মিলিয়ন ডলারের প্রাথমিক ছাড়পত্রের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপের অনুরোধ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করছি। আমরা অনুরোধ করছি আমাদের বিল যেন নিয়মিত পরিশোধ করা হয়।’

এর আগে গতকাল সোমবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের ঝাড়খ-ের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের গড্ডা কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ আদানির কাছে বাংলাদেশের বকেয়া ৫০০ মিলিয়ন বা ৫০ কোটি ডলার হয়েছে। এ পরিস্থিতিকে আদানি গ্রুপ ‘টেকসই নয়’ বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে। গ্রুপের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি বাংলাদেশের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি এবং বকেয়া পরিশোধসংক্রান্ত আলোচনার পাশাপাশি সেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা নিয়েও আমাদের কথাবার্তা হচ্ছে।

এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার ড. ইউনূসকে লেখা আদানির চিঠি প্রকাশে এলো।




বরিশালে কন্যা নবজাতক সিঁড়ির নিচে রেখে পালালেন মা বাবা

বরিশাল অফিস :: বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃবিভাগের সিঁড়ির নিচে অজ্ঞাতপরিচয় সদ্য ভূমিষ্ঠ ফুটফুটে এক কন্যা নবজাতক পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিঁড়ির নিচে নবজাতকের কান্না শুনে নার্সরা তাকে উদ্ধার করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: ফকরুল ইসলাম মৃধা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নবজাতককে হাসপাতালের বহিঃবিভাগের সিঁড়ির নিচে পেয়ে তাৎক্ষণিক ইউএনওকে অবহিত করা হয়। নবজাতক সুস্থ রয়েছে এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মিডওয়াইফ আফরোজা তাকে মাতৃস্নেহে দুগ্ধ পান করিয়েছেন। এ ব্যাপারে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডা. অন্তরা হালদার বলেন, হাসপাতালে নবজাতক পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পার্থ সারথী দেবীকে পাঠানো হয়। নবজাতককে এদিন বিকালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতাধীন আগৈলঝাড়ায় ছোট মনি নিবাস (বেবি হোম) পাঠানো হয়েছে।

হাসপাতালে পরিচয়হীন ফুটফুটে কন্যা নবজাতক পাওয়ার খবরে সেখানে শত শত উৎসুক জনতা ভিড় করেন। তারা নবজাতককে ফেলে যাওয়া বাবা-মাকে ধিক্কার জানান। নার্সসহ অনেকেই নবজাতকটিকে দত্তক নেওয়ারও আগ্রহ প্রকাশ করেন।




পিরোজপুরে পানিতে ডুবে ২ ভাই-বোনের মৃত্যু

বরিশাল অফিস ::পিরোজপুরের নাজিরপুরে পানিতে ডুবে হাফসা খানম (৫) ও আমিনুল ইসলাম (৩) নামের দুই ভাই-বোনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলাতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা ওই গ্রামের মোস্তাকিন শেখের সন্তান। নিহত হাফসা খানম স্থানীয় আমতলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন দুপুরে ওই দুই ভাই-বোন বাড়ির পেছনের পুকুরে গোসল করতে যায়। এ সময় অসাবধানতা বশত: প্রথমে ছোট ভাই পুকুরের মাঝে চলে যায়। তাই দেখে বড় বোন তাকে আনতে যায়। এ ঘটনার ১০-১২ হাত দূরেই নিহতদের বাবা ও বড় ভাই গাছ কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় তারা ওই দৃশ্য দেখে এগিয়ে এসে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার জিনাত তাসনিম বলেন, তাদের মৃত্যু অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল।




অভিমানে ছাড়েন বাড়ি, ফিরে এসে দেখেন স্ত্রী অন্যজনের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছাড়েন মুর্শিদ মিয়া।এরপর কেটে যায় দীর্ঘ ৩২ বছর। সম্প্রতি ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে তাকে চিনতে পারেন স্বজনেরা। পরে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বাড়ি ফেরেন মুর্শিদ। তবে দুঃখের বিষয়, যার সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি ছেড়েছিলেন মুর্শিদ, সেই মানুষটি এখন আর তার বাড়িতে নেই।

জানা গেছে, মুর্শিদ মিয়ার নিখোঁজের বেশকিছু দিন পর তার স্ত্রী শেফালি খাতুন বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তাকে অন্য জায়গায় বিয়ে দেয় পরিবার।

মুর্শিদ মিয়া কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দক্ষিণ চরটেকী গ্রামের মৃত শাহিদ ব্যাপারীর ছেলে। আজ রবিবার দুপুরে পাকুন্দিয়া পুলিশের সহযোগিতায় বাড়ির স্বজনরা তাকে পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান টিটু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিলে বিষয়টি জানাজানি হয়।

জানা গেছে, পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেনের বাড়ি নরসিংদীর বেলাবো উপজেলার ধুকুন্দি গ্রামে। সেই গ্রামের সাহাজ উদ্দিন মাস্টারের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকের কাজ করতেন মুর্শিদ মিয়া। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। এরইমধ্যে নিজের বাড়িতে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। বাড়ির ঠিকানা বলেন কিশোরগঞ্জ জেলার পাকুন্দিয়া উপজেলা। ঠিকানা অনুযায়ী খোঁজখবর শুরু করেন ওই এলাকার লোকজন ও পাকুন্দিয়া থানার পরিদর্শক মোবারক হোসেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ধুকুন্দি গ্রামের একজন ফেসবুকে মুর্শিদ মিয়াকে নিয়ে একটি পোস্ট করেন। ফেসবুকে মুর্শিদ মিয়াকে দেখতে পেয়ে স্বজনরা চিনতে পারেন। গতকাল রবিবার মুর্শিদের ভাতিজাসহ বেশ কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

মুর্শিদের ভাতিজা আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন পর চাচাকে ফিরে পেয়ে খুবই আনন্দিত। চাচার স্ত্রী-সন্তান নেই। তবে অনেক জমিজমা রয়েছে তার। চাচা যাতে জীবনের শেষ সময় আমাদের সঙ্গে সাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারেন, আমরা সেই চেষ্টাই করব।’

পাকুন্দিয়া থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ফেসবুকের কল্যাণে নিখোঁজের ৩২ বছর পর নিজ বাড়িতে ফিরে এসেছেন মুর্শিদ মিয়া। তার ভাগের সহায়-সম্পত্তি যেন তাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, সে বিষয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের বলে দেওয়া হয়েছে। তারাও আমাদের জানিয়েছেন, বাকি জীবনটা চাচাকে তারা খুব সেবা যত্নে রাখবেন।’




বরিশালে মৎস্য আড়ত দখল করে নাম বদলাল বিএনপি নেতারা

বরিশালে মৎস্য আড়ত দখল করে নাম বদলাল বিএনপি নেতারা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরের পোর্ট রোডে জেলা মৎস্য পাইকারি অবতরণকেন্দ্রের সাইনবোর্ডের নিচে নতুন নামের ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল নগরের অন্যতম ব্যবসাকেন্দ্র পোর্ট রোডের মৎস্য আড়ত। ইলিশের মোকাম হিসেবে পরিচিত এ পাইকারি মাছের বাজারের দখল নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে চলে প্রতিযোগিতা। গত দেড় যুগ ধরে এর দখল ছিল আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নেতারা আড়ত দখলে নিয়ে নাম বদলে দিয়েছেন।

‘বরিশাল জেলা মৎস্য পাইকারি অবতরণকেন্দ্র’ নাম থাকা এই আড়তের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘শহীদ জিয়া মৎস্য পাইকারি অবতরণকেন্দ্র’। পুরোনো সাইনবোর্ডের সামনে দুদিন আগে নতুন নামের একটি ব্যানার টানানো হয়েছে। নামকরণের উদ্যোক্তাদের দাবি, চারদলীয় জোট সরকারের সময় মোকামটির নাম জিয়ার নামেই ছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নাম পরিবর্তন করেছিল।

এখন আগের নাম ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তবে এ নামকরণের বিষয়ে কিছু জানে না বাজারটির ইজারাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এমনকি নগর বিএনপির শীর্ষনেতারাও এ বিষয়ে অবগত নন বলে দাবি করেছেন।

পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১০ সালের দিকে এর নিয়ন্ত্রণ নেন মৎস্যজীবী লীগের নেতা খান হাবিব। তিনি ছিলেন তৎকালীন সিটি মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরণের অনুসারী। তিনি তাঁর বাহিনী দিয়ে মোকামের পাশাপাশি রাস্তার ওপর বাজার বসিয়ে চাঁদা তুলতেন। ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোকাম নিয়ন্ত্রণ করেছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুল। তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ‘প্রধান খলিফা’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৩ সালে সাদিক নগরে একক আধিপত্য হারালে মোকাম আবারও খান হাবিবের নিয়ন্ত্রণে যায়। তিনি চলতি অর্থবছরে তাঁর স্ত্রীর নামে এটি ইজারা নেন।

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর খান হাবিব আত্মগোপন করেন। নগরে দখল শুরু হলে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন বিএনপির নেতা মৎস্য আড়তটিতে হানা দেন। ওই ওয়ার্ডেই ব্যবসাকেন্দ্রটি অবস্থিত। ফলে ৭ ও ৮ আগস্ট সেখানে খাজনা আদায় বন্ধ ছিল। এ খবর জানাজানি হলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কেরা গিয়ে প্রকৃত ইজারাদারের প্রতিনিধির খাজনা আদায় নিশ্চিত করেন। তবে খান হাবিবসহ তাঁর অনুসারীরা আত্মগোপনে থাকায় মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর শীর্ষ পদ বাগিয়ে নেন বিএনপিপন্থীরা। এখন তাঁদের নিয়ন্ত্রণেই চলছে মোকাম।

নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে রয়েছেন মৎস্যজীবী দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক কামাল সিকদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্যসচিব আনিচুর রহমান মিলন ও ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক খান মো. কামাল। খান কামাল আবার খান হাবিবের আপন ভাই। এ ছাড়া সদর উপজেলা মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হয়েছেন ব্যবসায়ী জহির সিকদার।

খান কামাল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তিনি দখলের মধ্যে নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, নাম বদল করেছেন; কিন্তু তা অফিশিয়ালি হয়নি।

এ নিয়ে কথা হলে মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, পোর্ট রোড মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের নাম শহীদ জিয়ার নামে রাখার বিষয়টি তাঁরা জানেন না। তাঁদের কাছ থেকে অনুমতিও নেওয়া হয়নি। আর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক জানিয়েছেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যোগাযোগ করা হলে বিআইডব্লিউটিএ বরিশালের সহকারী পরিচালক রিয়াদ হোসেন বলেন, পোর্ট রোড মৎস্য মোকামের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি তাঁদের জানা নেই। সরকারিভাবে এ ধরনের কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি।




বরিশালে অবৈধ যানে কোটি টাকার বাণিজ্য

বরিশাল অফিস :: বরিশাল জেলার নগরীতে আস্মিক ভাবে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যানজট। বরিশালের বিভিন্ন সড়কে যানজটের তীব্রতায় চরম ভোগান্তীতে পরছে নগরবাসী। এ যানজটের মূলে রয়েছে ধারণ ক্ষমতার প্রায় পাঁচ গুন বেশী যানবাহন। তবে মোট যানবাহনের পাচঁ গুনই অবৈধ। বিগত দিনে ক্ষমতাশীন দলের ছত্রছায়ায় এ সকল অবৈধ যানবাহন ব্যাপক বিস্তার ঘটায় নগরজুড়ে।

এ সকল অবৈধ যানবাহনের অধিকংশ মালিক-ই আ’লীগ নেতারা। আর বাকি অবৈধ যানবাহন চলে পুলিশ বিটের মাধ্যমে। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম কিছুটা ঢিলেঢালা হওয়ার কারণে এসকল অবৈধ যানবাহন বীরদর্পে দাফিয়ে বেরাচ্ছে নগরী। সরকার পতনের পরে বরিশাল জেলার গাড়ি গুলোও ঢুকে পরেছে নগরীর মধ্যে। এদের কোন ভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। অপরদিকে রাজনৈতিক নেতা, প্রশাসনের বিভিন্ন দালাল দিয়ে প্রতি মাসে কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য হয় এ অবৈধ যানবাহন দিয়ে।

পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী বরিশাল মহানগরীতে বৈধ গণপরিবহনের চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি অবৈধ যানবাহন চলাচল করছে। বিআরটিএ’র অনুমোদিত ২ হাজার ৫০০ সিএনজি চালিত অটোরিকশার বিপরীতে প্রায় ১৫ হাজার ইজিবাইক চলাচল করায় নৈরাজ্য দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পায়ে চালিত রিকশা গুলোতেও মোটর যুক্ত করা হচ্ছে এবং সেগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো বরিশাল শহর অবৈধ যানে কোটি টাকার বাণিজ্য জুড়ে। এই মোটরচালিত রিকশার সংখ্যাও ইজিবাইকের কাছাকাছি।

ফলে কেবল বরিশাল মহানগরীতে বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে ৩৮ হাজারেরও বেশি গণপরিবহন চলাচল করায় যানজটে নাকাল হচ্ছে নগরবাসী।

পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ঘটছে দূর্ঘটনা। বরিশাল সিটি করপোরেশনের ৫৮ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৪০০ কিলোমিটার পাকা সড়কের জন্য ইজিবাইকের ২ হাজার ৬৯০টি লাইসেন্সের নবায়ন বন্ধ রয়েছে ২০১৯ সালের জুন মাস থেকে। বিগত ২২ সালে সিটি করর্পোরেশন নবায়ন বন্ধ রাখা ইজিবাইকের লাইসেন্সের জন্য ফরম বিতরণ কার্যক্রম চালু করে। তৎকালীন সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ সহ তার অনুসারীরা কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।

বরিশাল করপোরেশনের রাজস্ব শাখা সূত্র জানায়, এক সপ্তাহে প্রায় ১০ হাজার ইজিবাইক চালক এই ফরম সংগ্রহ করেছেন। ফরম বিতরণ শেষে তা যাচাই-বাছাই করে লাইসেন্স দেয় সিটি করর্পোরেশন। বিআরটিএ কিংবা সিটি করর্পোরেশন কোনো কর্তৃপক্ষই লাইসেন্স না দেওয়ায় প্রতিনিয়ত ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে এসব অবৈধ যানবাহন চালকদের সঙ্গে।

বরিশাল মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্সপ্রাপ্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা, অবৈধ ইজিবাইক, মোটরচালিত রিকশা ও থ্রি-হুইলার (মাহিন্দ্র) পুরো মহাসড়ক দাবড়ে বেড়াচ্ছে। দ্রুত গতির যানবাহন এত বেশি চলাচল করায় দুর্ঘটনা ঘটছে অহরহ। অলিগলি থেকে শুরু করে প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে যানজট তো নিত্যদিনের ঘটনা। মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা অবৈধ যানবাহন রোধে কঠোর পদক্ষেপ নিলেও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এসব যানবাহনের চালকরা।

প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এসব অবৈধ যানবাহনের সংখ্যা গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। মাঝেমধ্যে মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগ এসব যানবাহন নিয়ন্ত্রণের জন্য জরিমানা ধার্য কিংবা আটকের চেষ্টা করলেও তাতে কোনো সুফল আসছে না। ট্রাফিক বিভাগের জরিমানার হাত থেকে রেহাই পেতে এসব অবৈধ যানবাহন বিভিন্ন সংগঠন, সাংবাদিক, পুলিশসহ প্রভাশালীদের ছত্রছায়ায় চলাচল করছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, বৈধ ও অবৈধ এসব যান ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চালক সংগ্রাম পরিষদ, মালিক সমিতি, শ্রমিক কল্যাণ ইউনিয়নের ব্যানার, বিভিন্ন পত্রিকার স্টিকার ব্যবহার করে নগরীতে চলাচল করছে। অধিকাংশ মালিক ও চালক সড়কে ‘প্রশাসনিক হয়রানি’ থেকে রেহাই পেতে প্রতি মাসে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা মাসোহারা দিয়ে সড়কে গাড়ি চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব গণপরিবহনের অধিকাংশ বিআরটিএর অনুমোদিত না হওয়ায় চালকরাও লাইসেন্সপ্রাপ্ত নয়। আর অদক্ষ এসব চালকের কারণ প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

বিআরটিএর বরিশাল পরিচালক মো. জিয়াউর রহমান জানান, ইজিবাইক সরকার কর্তৃক অবৈধ যানবাহন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি বরিশাল মেট্রোপলিটনের বৈঠকে যানবাহন চলাচলের বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। ইতিপূর্বে এসব যানবাহন চলাচল বরিশাল সদর রোড এলাকা এবং পরবর্তী সময়ে আমতলা থেকে জিলা স্কুল মোড় পর্যন্ত আটকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়াও বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের কারখানাগুলোতে অভিযান চালিয়ে সেগুলো সিলগালা করে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাকের) সম্পাদক রনজিৎ দত্ত জানান,বরিশাল নগরীতে প্রয়োজনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করায় ঘনঘন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। বিগত কয়েক বছরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করায় দিনে দিনে এ সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান মিলে সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আগামীতে বরিশাল নগরীতে আর চলাচল করা সম্ভব হবে না। এদিকে ট্রাফিক বিভাগের অভিযানে মাঝেমধ্যে ইজিবাইক আটক হলে নানা সংগঠনের ব্যানারে মহাসড়ক অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হলে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।

বরিশাল মেট্রপলিটন ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রুনা লায়লা বলেন, বিগত দিনে “এসকল অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। তবে আমদের সার্জেন্টরা দলীয় চাপের কারনে অনেক সমস্যায় পরতেন। আমরা আজ থেকেই অবৈধ যানবাহনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, যে সকল
ওয়ার্কশপে অবৈধ যানবাহন তৈরী করা হয় তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা দরকার। এ বিষয়ে আমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করবো।




অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারাই রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য

বরিশাল অফিস :: সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাই রাষ্ট্র সংস্কারের মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়করা।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাস মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেন।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, আব্দুল হান্নান মাসুদ (ঢাবি), সানজানা আফিফা অদিতি (ঢাবি), রাইয়ান ফেরদৌস (ঢাবি), তৌহিদ আহমেদ আশিক (শেকৃবি) পাশে উপবিষ্ট ছিলেন, এম এ সাঈদ (ঢাবি), সিনথিয়া জাহিন আয়েশা (বদরুন্নেসা কলেজ), হাসিবুল হোসেন শান্ত (NSU), মোবাশ্বেরা করিম মিমি (AIUB), শহিদুল ইসলাম শাহেদ (ববি), জিহাদ হোসাইন (ঢাকা কলেজ)। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ববি শিক্ষার্থীরা মতবিনিময়ে অংশ নিয়ে তাদের সমস্যা তুলে ধরেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা আরো বলেন, ছাত্র আন্দোলনকে কেউ দলীয়করণ করার চেষ্টা করবেন না। আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতাকে পুঁজি করে আপনারা যদি ভেবে থাকেন আবার দুর্নীতি শুরু করবেন, তবে ছাত্র-নাগরিক আপনাদের বিষ দাঁত উপড়ে ফেলবে। আমরা বুলেট-বোমা ভয় পাই না। তাই দুর্নীতিবাজরা সতর্ক হয়ে যান।

ছাত্রদের আন্দোলন ছিল ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অসাম্যের বিরুদ্ধে, সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতিবাজরা কৌশলে আমাদের মধ্যে বিভজন তৈরি করতে চায়। এজন্য অনেক ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা।




বরিশালে রাতে ভ্যানে করে ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি, বাড়ছে দুর্ঘটনা

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর বাংলা বাজার মসজিদ মোড় থেকে তিনটি প্রধান সড়ক বেরিয়েছে। এ ছাড়া ব্যাপ্টিস্ট মিশন ও কালু শাহ শাখা সড়ক রয়েছে। ব্যস্ততম সড়কের নিচ দিয়ে চলে গেছে ড্রেন। মোড়ের মাঝ বরাবর সড়কে ড্রেনের ওপরে ম্যানহোলের ঢাকনা দেওয়া।

ভারী যানবাহন থেকে শুরু করে কোনও ধরনের সমস্যায় যেন পড়তে না হয় এজন্য মোটা রড দিয়ে ঢাকনার ব্যবস্থা করে বরিশাল সিটি করপোরেশন। এরপর থেকে শুরু হয় চুরি। ওই একই স্থানে ছয়বার ঢাকনা দেওয়া হলেও তা কোনোভাবে স্থায়ী হচ্ছে না। আর যখনই যানবাহনের চাপ বাড়ে তখনই ওই গর্তে পড়ছে থ্রিহুইলার জাতীয় যানবাহন।

এতে করে যানবাহনে থাকা যাত্রী এবং চালক উভয় দুর্ঘটনায় আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন। কিন্তু বিকল্প কোনও সমাধানও বের করতে পারছে না সিটি করপোরেশন। সর্বশেষ কিছুদিন আগে আবারও একই স্থানে ঢাকনা চুরি হওয়ায় সেখানে একটি রড দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত স্থান হিসেবে স্থানীয়রা চিহ্নিত করে রেখেছেন। এ সমস্যার জন্য এখন সিটি করপোরেশনকেও দায়ী করা যায় না। কথাগুলো বলছিলেন নগরীর বাংলা বাজার এলাকার বাসিন্দা টিপু সুলতান।

চোর চক্র থেকে ঢাকনা রক্ষা করতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বাংলা বাজার মোড় নয়, নগরী ঘুরে দেখেন বেশির ভাগ ম্যানহোলের ঢাকনা চুরি হয়েছে। আর ওই সকল স্থান দিয়ে চলাচলের সময় পথচারীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা ভুগছেন বেশি।

ফজলুল হক এভিনিউয়ের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে সিটি করপোরেশনের বহুতল মার্কেট। আর সেই মার্কেটের নিচে ড্রেন এবং ড্রেনের ওপর করা হয়েছে ফুটপাত। এ কারণে ১০ ফুট পরপর ম্যানহোল তৈরি করে বসানো হয়েছে ঢাকনা। কিন্তু প্রতিদিন রাতে সেই লোহার ঢাকনা চুরি হচ্ছে। চুরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে গাছের ডাল অথবা কাপড় দিয়ে সতর্কবার্তা টানিয়ে দিচ্ছেন বিবেকবান ব্যক্তিরা। কারণ ওই মার্কেটের নিচতলায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ক্রেতা টানতে তাদের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হচ্ছে। অনেকে আবার কাঠ দিয়ে কোনোভাবে সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সর্বশেষ গত শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে চুরি হয় ওই মার্কেটের ঈশ্বরবসুর রোডের বিপরীত পাশে থাকা বাঁশরী ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে ফুটপাতে থাকা লোহার ঢাকনা। এতে করে বিপাকে পড়েছেন সেখানকার ব্যবসায়ীরা। সেখানেও গাছের ডাল দিয়ে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।

বাঁশরীর মালিক আপন সাহা বলেন, এখান থেকে ৮টির মত ঢাকনা চুরি হয়েছে। সতর্কবার্তা থাকলে পথচারীদের রক্ষা মেলে। আর যেসব জায়গায় সতর্কবার্তা নেই সেখানে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫টি দুর্ঘটনা ঘটছে। আগে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সিটি করপোরেশনকে অবহিত করা হলে সেখান থেকে লোক এসে ঢাকনা দিয়ে যেতেন। কিন্তু এখন আর কেউ সিটি করপোরেশনে যান না অভিযোগ জানাতে।

তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী দোকানগুলোতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে রাত সাড়ে ৩ থেকে ৪টার মধ্যে চোর চক্র শাবলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ভ্যানে করে নিয়ে এসে এরপর ঢাকনা ভেঙে নিয়ে যায়। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য তিনি ম্যানহোলে সিমেন্টের স্লাব দেওয়ার দাবি জানান।

জর্ডন রোডের বাসিন্দা ডা. মনজুর-উল আলম জানান, তার বাসাসংলগ্ন ড্রেনের ম্যানহোলের ঢাকনা চারবার চুরি হয়েছে। যখনই ঢাকনা থাকে না তখনই তিনি সেখানে গাছের ডাল দিয়ে রাখেন। যাতে পথচারীরা বুঝতে পারেন ঢাকনা নেই। এরপরও দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান তিনি। এজন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে যা চুরি করা সম্ভব নয়। এগুলো সাধারণত মাদকাসক্তরা চুরি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

যে সকল এলাকায় এ ধরনের লোহার ঢাকনা রয়েছে প্রতিরাতে সে সকল এলাকায় সেগুলো চুরি হচ্ছে। সদর রোড থেকে শুরু করে নগরীর বগুরা রোড, বটতলা, জর্ডন রোড, করিম কুটির, ভাটারখাল, নিউ সার্কুলার রোড, পশু হাসপাতাল গলিতে এ ধরনের চুরি লেগেই আছে। ঢাকনা চুরির সঙ্গে বাড়ছে বাড়ছে দুর্ঘটনাও।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘লোহার ঢাকনা দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ড্রেনে জমে থাকা গ্যাস ম্যানহোল থেকে যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে বের হয়ে যায়। এ কারণে লোহার ঢাকনা ব্যবহার করা হয়েছে। আমার জানা মতে, একটি স্থানে একই ঢাকনা ৫ থেকে ৭ বারও লাগানো হয়েছে।’ এ ছাড়া ৩০টির অধিক লোহার ঢাকনা চুরির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রকৌশলী শাখাকে অবহিত করেছেন বলেও জানান তিনি।

চুরি রোধে এখন সিমেন্টের ঢাকনা ব্যবহারের পরিকল্পনা নিতে হবে। তা না হলে কোনোভাবেই লোহার ঢাকনা চুরি রোধ করা যাবে না। একই ঢাকনা একাধিকবার দিতে গেলে সিটি করপোরেশনের ব্যয়ও বেড়ে যায়। তা ছাড়া লোহায় মরিচা ধরে ভেঙে পড়ে। এমনটাই জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের বাসিন্দারা।

ইতোমধ্যে সদর গার্লস স্কুলসংলগ্ন ড্রেনে সিমেন্টের ঢাকনা ব্যবহার করা হয়েছে। এভাবে প্রতিটি জায়গায় সিমেন্টের ঢাকনা ব্যবহার হলে চুরি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন বলেন, একই ঢাকনা বারবার প্রতিস্থাপনে ব্যয়ও বাড়ছে। এজন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরের প্রকৌশলীরাও চিন্তা করছেন।