স্বৈরাচার সরকারের প্রধান টার্গেট ছিল আলেম সমাজ : ওলামা মাশায়েখ সম্মেলনে মুফতী ফয়জুল করীম

 

বরিশাল অফিস :: মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম শায়খে চরমোনাই বলেন- ইসলাম সত্য, সুন্দর দেশ গড়ার পক্ষে। জনগণ অতীতের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ফিরে যেতে চায় না। বিগত ১৬ বছরে যারা দেশকে লুটেপুটে খেয়েছে, দেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির প্রচলন করে দেশকে ভয়াবহতার দিকে নিয়ে গেছে সেই আওয়ামী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না জনগণ।

বৃহস্পতিরার( ১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলে জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার আয়োজনে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলের সর্বত্র ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠায় ওলামায়ে কেরামের করনীয় শীর্ষক ‘দ্বি-বার্ষিক ওলামা সম্মেলন শাখায় প্রধান অতিথি হিসেবে এ বক্তৃতা করেন ।

তিনি বলেন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ ও দখলদারিত্বের অবসান চায়। যদি কেউ প্রতিহিংসার রাজনীতি চর্চায় ফিরে যেতে চায় ছাত্র-জনতা পূনরায় তাদের বিরুদ্ধে জেগে উঠবে। তিনি নবা চাঁদাবাজ, দখলবাজ, অবৈধ অস্ত্রধারী ও সন্ত্রাসীদের দমন করতে সেনাবাহিনীর সমন্বয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু করার আহ্বান জানান।

ফয়জুল করীম বলেন,১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচার এরশাদ এর পতন ও সর্বশেষ ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান- সর্বক্ষেত্রেই গণমানুষের ক্ষোভ, অপ্রাপ্তি ও জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে মূল আকুতি ছিলো সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের। সাধারণ ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পাশাপাশি প্রত্যেকটা আন্দোলনেই আলেম-ওলামাদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য বিগত দিনে আলেম সমাজকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। বিগত দিনে ফ্যাসিবাদী সরকার আলেমদের কন্ঠরোধ করতে ব্যাপকহারে শোষন- নিপীড়ন চালিয়েছেল। তারপরেও আলেম সমাজ সর্বদা ন্যায় ও দেশের পক্ষে কথা বলেছে। তাই দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশে আলেম সমাজের উপর আর যেন দমন পীড়ন না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আগামীতে ইসলামের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন তথা ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সিনিয়র নায়েবে আমীর ও জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম আয়ের্থে চরমোনাই। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় উপদোয়া প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ওবায়দুর রহমান মাহবুব, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মুফতী সৈয়দ এছহাক মুহাম্ম্যদ আবুল খায়ের, জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদ এর কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মুফতী বেজাউল করীম আবরার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুফতী শামসুদ্দোহা আশরাফী এক্স কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) মুফতী মিজানুর রহমান কাসেমী।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বরিশাল মহানগর সভাপতি প্রফেসর লোকমান হাকিম ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা সহ-সভাপতি শেখ সামছুল আলম মিলন, মহানগর সেক্রেটারী মাওলানা আবুল খায়ের আশরাফী, জেলা অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক এস এম রফিকুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল মহানগর ছাত্র ও যুব বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা আরিফুর রহমান, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বরিশাল জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা মুহাম্মাদ সানাউল্লাহ সহ জেলা ও উপজেলা শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।

সম্মেলন শেষে প্রধান অতিষ্ঠি বিগত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে ২০২৪-২৫ সেশনের জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।




দেড় হাজারের বেশি পর্নসাইট বন্ধ করেছে সরকার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ১ হাজার ৬৬৭টি পর্ন ওয়েবসাইট ও ৫৬০টি জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রথমে এসে বৈষম্যবিরোধী কোটা সংষ্কার আন্দোলনের সময় ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার তদন্ত কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পেয়েছিলাম। বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে। বর্তমানে কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। একইভাবে ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত এ বিভাগের সব উন্নয়ন প্রকল্পের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা চলছে।’

তিনি বলেন, টেলিযোগাযোগ অধিদপ্তরের মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ১ হাজার ৬৬৭টি পর্ন ওয়েবসাইট এবং ৫৬০টি জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ করা হয়েছে। ম্যালওয়ার ছড়ায় এরূপ সাইটে প্রবেশগম্যতায় কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, টেলিটকের নেটওয়ার্ক কাভারেজ এবং পরিষেবা সম্প্রসারণ উন্নয়য়েণর মাধ্যমে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে সব প্রক্রিয়া শেষ করে অতি শিগগিরই আইএফটি জারি করা হবে।

আইসিটি বিভাগে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘হাইটেক পার্কের নাম পরিবর্তন হয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগগুলো তদন্ত কমিটির মাধ্যমে বিবেচনা করছি।’




সাতদিনে এলো ৭ হাজার ১৪ কোটি টাকার রেমিট্যান্স

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: মাসের (সেপ্টেম্বর) প্রথম সাতদিনেই বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছে ৫৮ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২০ টাকা হিসাবে) ৭ হাজার ১৪ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সবশেষ প্রতিবেদন বলছে, প্রতিদিন আসছে ৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার করে প্রবাসী আয়। এভাবে রেমিট্যান্স আসার ধারাবাহিকতা থাকলে চলতি মাসে আড়াই বিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে।

আলোচিত সাতদিনে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এমন ব্যাংকের সংখ্যা ১২টি। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্র মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা বিডিবিএল, বিশেষায়িত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বা রাকাব। বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি ব্যাংক, সিটিজেনস ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, পদ্মা ব্যাংক ও সীমান্ত ব্যাংক। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া এবং উরি ব্যাংক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, চলতি মাস সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স আসার গতি ভালো রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আড়াই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। রেমিট্যান্স বেশি আসার পেছনে সচেতনতা কাজ করছে। প্রবাসীদের কাছে পৌঁছানো আর ডলারের দরবৃদ্ধিতে হুন্ডি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তারা। এতে বাড়ছে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ ২৬০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২০ সালের জুলাই মাসে। বছরওয়ারি হিসাবে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২০-২০২১ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স আসে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন বা ২ হাজার ৪৭৮ কোটি ডলার। আর চলতি বছরের জুন মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে মোট ২৫৪ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ২৯ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এটি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, সদ্য বিদায়ী আগস্ট মাসের পুরো সময়ে দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স এসেছে ২২২ কোটি (২.২২ বিলিয়ন) ডলার। যা তার আগের বছরের (আগস্ট-২০২৩) একই সময়ের চেয়ে ৬২ কোটি ডলার বেশি এসেছে। গত বছরের আগস্ট মাসে এসেছিল প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ১৯০ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এছাড়া জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৫৪ কোটি ১৬ লাখ মার্কিন ডলার। তার আগের মাস মে মাসে আসে ২২৫ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। এছাড়া এপ্রিলে ২০৪ কোটি ৪২ লাখ, মার্চে ১৯৯ কোটি ৭০ লাখ, ফেব্রুয়ারিতে ২১৬ কোটি ৪৫ লাখ এবং জানুয়ারিতে ২১১ কোটি ৩১ লাখ মার্কিন ডলার পাঠান প্রবাসীরা।




দ্রুত সময়ের মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে আসবে: শ্রম উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: চলমান শ্রমিক অসন্তোষ দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ তথ্য জানান।

শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, ‘এখানে ভেতরে ষড়যন্ত্র যেমন আছে আবার শ্রমিকদের জেনুইন কিছু দাবিও আছে। দীর্ঘ ১৬ বছর শ্রমিকরা যে বঞ্চনার শিকার হয়েছেন তারা তাদের কথাগুলো বলতে পারতেন না। যে দাবিগুলো আছে সেগুলো একটা প্রসেসের মাধ্যমে আমাদের কাছে এলে আমরা সেগুলো সমাধান করব।’

আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বলেন, ‘যারা সেখানে বহিরাগত এবং ঝুটব্যবসা দখল করাকে কেন্দ্র করে সেখানে অস্থিতিশীলতা করছে বা সেখানে উসকানি দিচ্ছে তাদের ব্যাপারে সরকার ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’

শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে কিছু রিপোর্ট পেয়েছি যেটা ওই দিকেই (ষড়যন্ত্র) ইঙ্গিত করে। রেজাল্টটা যদি আপনারা দেখেন এই সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবরে, আসলে এটা তো সিজনাল বিজনেস, ৩ মাস আগে আমাদের মালিকপক্ষকে প্রস্তুত করতে হয়, ৩ মাস পরে যে অর্ডারটা মার্কেটে যাবে, সেটাকে প্রস্তুত করতে হয়। সে অর্ডারগুলো কিন্তু অনেক জায়গায় ক্যান্সেল হয়ে যাচ্ছে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ অর্ডার ক্যান্সেল হচ্ছে। আমরা দেখতে পাচ্ছি কিছু নির্দিষ্ট দেশের বায়াররা এসে এই অর্ডারগুলো নেওয়ার জন্য লবিং করছেন, উঠেপড়ে লেগেছেন।’

শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সরকারের পদক্ষেপের বিষয়ে শ্রম উপদেষ্টা বলেন, ‘শ্রমিকদের অসন্তোষ নিয়ে প্রতিদিন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর উপদেষ্টারা বসছি। গতকালও আমরা বসেছিলাম, সেখানে ছয়জন উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বসে থাকা অবস্থায় একটি বড় কোম্পানি বেতন দিতে না পারার কারণে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনাও ঘটেছে। সেসময় বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে কথা বলে ৭৯ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। এতে সেই বেল্টের ৪০ হাজার শ্রমিকের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। আজ সেজন্য শ্রমিক অসন্তোষ কম আছে।’

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘এরপরও আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি। যেসব সমস্যা আছে সেগুলো সমাধানের জন্য একটি পর্যালোচনা কমিটি শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে করে দেওয়া হয়েছে। এই কমিটি শ্রম ভবনে বসবে। আমরা শ্রমিক ভাইদের আহ্বান জানাব, যে কোনো অভিযোগ যেগুলো নিষ্পত্তিযোগ্য তারা শ্রম আইনের মধ্যে সমাধান করতে পারবেন- সেগুলো সেখানে দেওয়ার জন্য বলেছি।’

কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কমিটিতে শ্রমিক নেতারা আছেন, মালিকপক্ষ আছেন এবং সুপ্রিম কোর্টের দুইজন আইনজীবী আছেন- যারা শ্রম আইন নিয়ে কাজ করেন। তাদের কাছে অভিযোগগুলো দিলে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে যাতে এগুলো সমাধান করতে পারি সেজন্য মূলত আমাদের বর্তমান যে কমিটি তার বাইরে গিয়ে একটি রিভিউ কমিটি করে দেব। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে যে শ্রমিক অসন্তোষ আছে সেটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। শ্রমিকদের যেসব সমস্যা আছে সেগুলোর সমাধান দিতে পারব।’




বরিশালে সাবেক এমপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা

বরিশাল অফিস :: চাঁদার দাবিতে হামলা চালিয়ে মারধর ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগ এনে বরিশাল-২ (বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শাহে আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলার চাখার গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ জিল্লুর রহমানের ছেলে সৈয়দ আতিকুর রহমান বাপ্পী বাদি হয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে এ মামলা দায়ের করেছেন। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শারমিন সুলতানা সুমি অভিযোগ তদন্ত করে সিআইডিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় শাহে আলমের সাথে তার তিন ভাই ও এক ভাগ্নেসহ ১৪ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে মামলার বাদি জানিয়েছেন, বুধবার শেষকার্যদিবসে দায়ের করা মামলায় সাবেক এমপিসহ উল্লেখযোগ্য অন্যান্য আসামিরা হলেন-বানারীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদস্য মামুন- উর রশিদ স্বপন, সদ্য সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হুদা ও আওয়ামী লীগ নেতা পরিতোষ গাইন, সাবেক এমপি শাহে আলমের আপন ভাই রিয়াজ তালুকদার, চাচাতো ভাই স্বপন ও নুরুল হুদা, ভাগ্নে রুথেনসহ নামধারী ১৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জন।

এজাহারে বাদি উল্লেখ করেন, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পূর্বে মামলার বাদি শাহে আলম তালুকদারকে গেজেটভুক্ত রাজাকারের সন্তান উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। ওইবছরই শাহে আলম তালুকদার নৌকা প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হন।

এরপর ২০১৯ সালের রমজান মাসে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদিকে বানারীপাড়া বন্দর বাজারে বসে বেধরকভাবে হাতুড়ি পেটা করা হয়। এতে বাদির ডান পা অচল হয়। এরপর বাদির কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে শাহে আলমসহ মামলার আসামিরা। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ২০২২ সালের ১০ আগস্ট শাহে আলমের নির্দেশে আসামিরা বাদির বাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করে।




‘বরিশালে বিএনপি নেত্রী শিরীন বাড়ি দখল করেনি সংবাদ সম্মেলনে মারিয়া মুন্নি”

বরিশাল অফিস :: দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে বিএনপি নেত্রী সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড. বিলকিস জাহান শিরীন এর বিরুদ্ধে বাড়ি দখলের বিষয়টি সত্য নয়। এ বি এম সালাউদ্দিন খাঁন সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে এ সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মারিয়া মুন্নি।

বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় বরিশাল সদর রোড কাকলীর মোড় সংলগ্ন সোবাহান কম্পলেক্স এর ২য় তলায় গার্ডেন ইন রেস্তোরাঁয় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে মারিয়া মুন্নি বলেন, আমি নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকার বাসিন্দা। আমার প্রতিবেশী আ ব ম মহিউদ্দিন খাঁন চৌধুরী ও সাদিয়া আক্তার ডালিয়া। তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি সহ নীচ তলা সম্পূর্ণ ফ্লাট বিক্রিব জন্য প্রস্তাব দিলে, আমি আমার বাবাকে উক্ত ফ্লাট ক্রয়ের জন্য জানাই। আমার বাবা, মা, ভাই ও বোন প্রায় ১৮ বছর ধরে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছে। ভিসা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উক্ত সময়ে তারা দেশে আসতে পারেনি। তাদের পাঠানো অর্থে এবং পরিবারের সম্মতিতে ২০১৯ সালের ২০ নভেম্বর উক্ত জমি সহ ফ্লাটটি আমি আমার নিজের নামে ক্রয় করি। তারপর গত ৫ বছর ধরে জমি সহ ক্রয়কৃত ফ্লাটটিতে আমি ও আমার পরিবার বসবাস করে আসছি।

বরিশাল নগরীতে আমার ক্রয়কৃত সম্পত্তি হল- মৌজাঃ বগুড়া আলেকান্দা, জে.এল নং-৫০, এস এ খতিয়ান নং-১২২২৮, মোট জমির পরিমান ৩ শতাংশ ও উপরিস্থিত ২য় তলা সম্পূর্ণ ও ৩ তলার অর্ধেক নির্মিত যাহার মধ্যে আমার খরিদ ও ভোগকৃত সম্পত্তি জমির পরিমান ১ শতাংশ এবং নিচ তলা সম্পূর্ণ ও ৩য় তলার অর্ধেক।

মুন্নি আরো বলেন, উক্ত বিল্ডিং এর ২য় তলায় বিক্রেতাদের এক ভাই মৃত. মনিরুল ইসলাম কামাল এর পরিবার বসবাস করছেন। সুতারং বাড়ী দখলের তথ্যটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে আমি বরিশাল পুলিশ কমিশনার, সদর কোতয়ালী মডেল থানা, বিভাগীয় কমিশনার, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বরিশাল প্রেস ক্লাব বরাবর সহযোগীতার আবেদন করেছি। একটি মহল এ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এর রাজনৈতিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য উক্ত এ বি এম সালাউদ্দিন খাঁন কে দিয়ে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে।

এ বি এম সালাউদ্দিন খাঁন এর পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে তারই এক ভাই বরিশাল যুগ্ম জজ আদালতে একটি মোকদ্দমা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১১৩/২০১৯। বিজ্ঞ আদালতে মামলাটি এখনও চলমান রয়েছে। এ বি এম সালাউদ্দিন খাঁন দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ঢাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। তার বাড়ী দখলের তথ্যটি ভিত্তিহীন। তিনি সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুন্নি বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের অনুকূলে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষ বরাবর ‘শিরীনের বাড়ী দখলের তথ্যটি ভিত্তিহীন’ সেই মর্মে কোন প্রতিবাদ বা লিখিত আবেদন করেননি। বিষয়টি তিনি (মুন্নি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছেন বলে ব্যক্ত করেন। ওয়ারিশগণের মধ্যে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব বা মামলা থাকলে সেই জমি ক্রয় করেছিলেন কিভাবে? এমন প্রশ্নে মুন্নি বলেন, পারিবারিক বন্টন নামা বা বাটোয়ারা রয়েছে। সেই বন্টন নামার অনুকূলে জমি ক্রয়-বিক্রয় হয়েছিল। বন্টন নামটি বাসায় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়-স্থানীয় প্রিন্ট পত্রিকাও অনলাইন নিউজ পোর্টালের বরিশালের সাংবাদিকবৃন্দ।




ছাত্র আন্দোলনে নিহতের লাশ দাফনের ৫১ দিন পরে উত্তোলন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: বৈষম্য বিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে নিহত মিলন হাওলাদারের লাশ দাফনের ৫১ দিন পরে উত্তোলন করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছেন দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহীন মাহমুদ।

১২ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুমকি উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটারা গ্রামের পারিবারিক কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।

জানা যায়, গত ২১ জুলাই বেলা ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল মোড়ে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হন মিলন হাওলাদার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। ওইদিন রাত ১০ টার দিকে মরদেহ নারায়ণগঞ্জ থেকে দুমকী গ্রামের বাড়িতে আনা হয় এবং পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত মিলন উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ঝাটারা গ্রামের মদন হাওলাদার বাড়ির হোসেন হাওলাদারের ছেলে। মিলন পেশায় একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।

এবিষয়ে নিহত মিলনের স্ত্রী মোসা. শাহানাজ বেগম ১৮ আগস্ট নারায়নগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও নারায়নগঞ্জ ৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরই প্রেক্ষিতে ন্যায় বিচারের স্বার্থে পটুয়াখালী জেলা বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্তের আদেশ দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহিন মাহমুদ লাশ উত্তোলন করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠান।

লাশ উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( তদন্ত) মো. শফিউর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মীর শহিদুল হাসান শাহীন, উপজেলা আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ জি এম এনামুল হক,আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জিল্লুর রহমান সোহরাব, উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি আমেনা বেগম প্রমুখ।

দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ জানান, নিহত মিলনের স্ত্রী শাহানাজ বেগম নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ ময়না তদন্তের আদেশ দিলে ন্যায় বিচারের স্বার্থে ময়না তদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করে পটুয়াখালী মর্গে পাঠিয়েছি।




প্রশাসনে দলীয়করণ, নিরপেক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা খুঁজে বের করা কঠিন হচ্ছে




আ.লীগের সময়ে লাইসেন্স পাওয়া অস্ত্রের বরিশালে এখনো জমা পড়েনি ৫ অস্ত্র

বরিশাল অফিস :: বরিশালে গত ১৬ বছরে লাইসেন্স পাওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৫টি এখনো জমা পড়েনি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম বলেন, বেসামরিক জনগণকে ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত বরিশাল মহানগরসহ জেলায় ১৯৭ টি আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে লাইসেন্স গুলো স্থগিত করা হয়। গত ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অস্ত্র জমা দেয়ার দিন ছিলো। এর মধ্যে এখনও মহানগর এলাকার ৮টি অস্ত্র জমা পড়েনি। এ বিষয়ে জানানো হয়েছে পুলিশকে। অস্ত্র উদ্ধারে চলছে যৌথ বাহিনীর অভিযান। যারা অস্ত্র জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য মহানগর পুলিশ কমিশনারকে বলা হয়েছে।

সহকারী পুলিশ কমিশনার নাফিছুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে আটটি অস্ত্র জমা না পড়ার তথ্য ছিলো। পরে যাচাই-বাছাই করে আরো তিনটি জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এখনো ৫ টি অস্ত্র জমা পড়েনি। এই পাচ অস্ত্রের মালিকদের যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। তারা নিজ উদ্যোগে জমা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি আরো জানান, ওই অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানও চলছে। পুলিশের নির্ভরযোগ্য সুত্র অনুযায়ী যে পাঁচটি অস্ত্র জমা পড়েনি তার মধ্যে বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর কনিষ্ট ছেলে সেরনিয়াবাত আশিক আব্দুল্লাহ এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জসিমউদ্দিন উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও অপর তিনজন হলেন নগরীর বাসিন্দা সাব্বির আহম্মেদ, এজাজুল হক ও মনিরুল ইসলাম।

বরিশাল জেলা প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুয়ায়ী জমা না দেয়ার তালিকায় সেনাবাহিনীর পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নাম ছিলো। কিন্তু তার অস্ত্র সেনাবাহিনীতে জমা দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।




বরিশালে গালিব হোটেলে অভিযান, আটক ৭

বরিশাল অফিস :: বরিশালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়ক মিম ও ইরানের তথ্য সূত্রে পুলিশের সহযোগিতায় গালিব হোটেল থেকে ৭ নারী-পুরুষ গ্রেফতার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১১সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে নগরীর জেলা পরিষদ মার্কেটের বিপরীতে হোটেল গালিব থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

সমন্বয়ক মিম আক্তার বলেন, আমরা গত (৫ আগষ্ট) কোটা সংস্কার আন্দোলনে স্বৈরাচার সরকার হটিয়ে সাকসেস হয়েছি। এরপর থেকে বরিশালের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা রাস্তা যানজট নিরসন, চাঁদাবাজ ও অবৈধ দখলদারীদের উচ্ছেদ, বিপুল পরিমাণ টাকা, অস্ত্র, মাদকদ্রব্য গাঁজা, ইয়াবাসহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন,বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ কাজীরহাট থানাধীন রওনপুর এলাকার মৃত আঃ রশিদ হাওলাদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন(৩৬), বাকেরগঞ্জ থানার চাটরা এলাকার আজাহার মৃধার ছেলে আলাউদ্দিন ওরফে আনোয়ার মৃধা(২০), ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া এলাকার জামাল বেপারীর ছেলে শাহিন (২৭), নারায়নগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার প্রেমের মোর এলাকার হোসেন আলীর মেয়ে আক্তার (২৫), ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার বরকুল এলাকার কুদ্দুসের মেয়ে তানি (২৩), গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার শফিপুর এলাকার আমজাদের মেয়ে ছনি(২২), নারায়নগঞ্জ জেলার রূপগন্জ থানার কালনি এলাকার আঃ হামিদের মেয়ে রাশি(২৫)।

এ বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নগরীর চকবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গালিব হোটেলে মেয়েদের আটকিয়ে জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত করার অভিযোগ শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এসময় স্থানীয় ও দুই সমন্বয়কের তথ্যসূত্রে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।