শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রটি ভুয়া দাবি আওয়ামী লীগের

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে ভারতে পাড়ি জমান দীর্ঘ দেড় দশক ধরে দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা। তিনি দেশ ছাড়ার ৬ সপ্তাহ পরে সামনে এলো শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র। কিন্তু ফেসবুকে ভাইরাল এই পদত্যাগপত্রটি আওয়ামী লীগের ফেসবুক ভেরিফাইড পেজ থেকে ভুয়া বলে দাবি করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়া ওই পদত্যাগপত্রে দেখা গেছে, এটি গত ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি বরাবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে আওয়ামী লীগ দাবি করেছে, ‘দেশের টিভি চ্যানেলের ফেসবুকে এরকম অপরিপক্ক এডিটেড কোন পদত্যাগপত্র প্রকাশ, একটি দৈন্যতা মাত্র’

তারা ফেসবুকে ভাইরাল ওই পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, কেন এই পদত্যাগপত্র ভুয়া?

১। তারা ভুলে এখনও মুজিববর্ষ লোগো লাগিয়ে রেখেছে, যেই মুজিববর্ষ ২০২১ সালে শেষ!
২। লক্ষ্য করুন ভুয়া এই পদত্যাগপত্রটি অত্যন্ত অস্পষ্ট।
৩। পদত্যাগপত্রের ভাষা দেখুন, যা মন চায় তারা একটা কিছু লিখে পাবলিশ করে দিলো।
৪। শেখ হাসিনার স্বাক্ষরটিও গুগল থেকে নিয়েছে, যাতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মূল পেজের সাথে স্বাক্ষরের অংশের পিক্সেলের পার্থক্য।
৫। গত ৫ আগস্ট ছিলো ২১ শ্রাবণ, পদত্যাগপত্রে দেওয়া ২০ শ্রাবণ!
পোস্টে আরও লিখেছে, ‘দেশের মিডিয়াকে এরকম নগ্নভাবে ব্যবহার করে নিজেদেরকে হাসির পাত্র বানাবেন না। শেখ হাসিনা পদত্যাগ করার যে আনুষ্ঠানিকতা সেই সময় নেননি। তিনি সোজা তেজগাঁও থেকে বিমানে করে ভারতে গেছেন। এইসব বাদ দিয়ে বরং দেশের সমস্যা সমাধান করুন।’

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে থেকেই সম্প্রতি একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি পদত্যাগ করেননি, তিনি এখনো বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী।




গাজায় নতুন করে প্রাণ হারালেন ২০ জন

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নতুন করে প্রাণ হারিয়েছেন ২০ জন। তাদের মধ্যে দশজন নিহত হয়েছেন নুসিরাত ক্যাম্পে। অন্য দশজন মারা গেছেন গাজা শহরের জেইতুন ও শেখ রাদওয়ান এলাকায়।

গত ৭ অক্টোবর থেকে গাজায় ভয়াবহ হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এতে এখন পর্যন্ত ৪১ হাজার ২২৬ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৯৫ হাজার ৪১৩ জন।

এদিকে ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে দীর্ঘ পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেল আবিবসহ মধ্য ইসরায়েলজুড়ে সতর্কতা সংকেত বাজানো হয়। এ সময় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যায়।

এ ঘটনার পর হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।




দেশ ছাড়ার গুঞ্জনে যা বললেন আসিফ নজরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে আসার পর বেশ কিছুদিন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সামনে আসেননি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। এ সুযোগে তিনি দেশ ছাড়ছেন বলে গুঞ্জন ছড়ায়। তবে বিষয়টি একেবারেই গুজব বলে দাবি করেছেন আসিফ নজরুল।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে লাইভে তিনি এ দাবি করেন।

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি কেন মিডিয়াতে অনুপস্থিত, এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের জল্পনাকল্পনা হচ্ছে। কেউ কেউ আজগুবি কথাও বলছেন, আমি নাকি বিদেশে চলে যাচ্ছি। সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা এমনকি চিন্তাও আমার মাথায় নেই।’

এ ধরনের গুজব এবং আজগুবি বিভিন্ন তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

লাইভে আসিফ নজরুল আরও বলেন, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণের যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছে, সেটাকে বিভ্রান্ত করা এবং জনমনে অহেতুক প্রশ্ন সৃষ্টি অসৎ উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে। তবে এটা ঠিক আমি মিডিয়াতে একটু কম আসছি। কারণ আমার অনেক কাজ। কাজের যদি অগ্রগতি হয় সেটা আমি জানাব, অহেতুক মিডিয়ার সামনে আসার তো দরকার নেই। এখন কাজ করতে হবে, এর জন্যইতো আমার এখানে আসা।

তিনি আরও বলেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও আইন মন্ত্রণালয়- দুক্ষেত্রেই কিছু অগ্রগতি হচ্ছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে আপনাদের তা জানাব। এভাবে যারা গুজব রটাচ্ছেন তাদের অনুরোধ করব মিনিমাম অনুসন্ধান করে এগুলা প্রচার করেন, নাহলে মানুষ আপনাদের মিথ্যাবাদী ভাববে।

এছাড়াও নতুন বাংলাদেশ গড়তে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য পজিটিভ পরামর্শ চেয়েছেন আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ভুল হলে বলবেন। কিন্তু অবিশ্বাস্য অকল্পনীয় তথ্য দেওয়ার কোনো মানে হয় না। এক ধরনের চরিত্র হরণও। এগুলো করা ঠিক না। সব বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করি।




কিশোরগঞ্জে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিলে সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৩০

বরিশাল অফিস :: কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিল ঘিরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত কমপক্ষে ২০ জন। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে উপজেলার ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ডে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মীর মিলন। তিনি একই এলাকার জাবু মীরের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ডে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষ্যে জুসনে জুলুশ মিছিল নিয়ে আসার সময় মিছিলকারীদের কিছু লোক ছয়সূতী বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন মসজিদে অবস্থানরত আলেম-ওলামা পরিষদের সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। পরে আলেম-ওলামা পরিষদের লোকজন মিছিলকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়লে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সারোয়ার জাহান বলেন, উভয় পক্ষকে শান্ত করতে গিয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে কীভাবে মারা গেছে সেটি তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।




ঝালকাঠিতে চোর সন্দেহে মারধর, যুবকের মৃত্যু

বরিশাল অফিস ::ঝালকাঠির নলছিটিতে গরু চোর সন্দেহে রাজ্জাক খান (৩০) নামে এক যুবক পিটিয়ে হত্যা করেছেন স্থানীয় লোকজন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ভোরের দিকে উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের কুমারখালীর পশ্চিম চর এলাকায় তাকে হত্যা করা হয়।

নিহত রাজ্জাক খান নলছিটি উপজেলার ঢাপর গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ভোর ৪টার দিকে ট্রলার নিয়ে একদল গরু চোর কুমারখালী পশ্চিম চর এলাকায় সুগন্ধা নদীর তীরে আসে। একটি বাড়ি থেকে গরু চুরি করা হচ্ছে  বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা চোরদের ধাওয়া করেন। এসময় রাজ্জাক খানকে স্থানীয় লোকজন আটক করে মারধর করেন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ঝালকাঠির পুলিশ সুপার উজ্জল কুমার রায়সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নিহতের স্ত্রী পাখি বেগম জানান, তার স্বামী চোর নয়। তিনি বরিশালের কালিজিরা এলাকায় শ্রমিকের কাজ করতেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।

নলছিটি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মনোরঞ্জন মিস্ত্রি জানান, ঘটনাস্থল থেকে এক জনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।




পিরোজপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫

বরিশাল অফিস :: পিরোজপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভায় দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় অন্তত ৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরে তাদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সোমবার দুপুর আড়াইটায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মত বিনিময় সভা শুরু হলে জেলার দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন– বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী রেদওয়ান আহম্মেদ (২২), শিক্ষার্থী স্বাধীন (২০), শিক্ষার্থী মাশরাফি। এছাড়া বাকি দুইজন আহত শিক্ষার্থীর নাম জানা যায়নি।

এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী আসমা আরা মিতু জানান, ‘গত ৫ আগস্ট আমাদের আন্দোলনের পরে যখন বিজয় আসছে তখন আমাদের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়ে। সেই থেকে আমাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হয়। তারাই আজকে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছ। আমাদের মধ্যে ছাত্রলীগ ঢুকে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।’




আসাদুজ্জামান নূর ও মাহবুব আলী কারাগারে

বরিশাল অফিস :: হোটেল কর্মচারী মো. সিয়াম সরদার হত্যা মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোশাররফ হোসেন এ আদেশ দেন।

মিরপুর মডেল থানায় এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।

এর আগে গতকাল রাত ১১টায় বেইলী রোডের নওরতন কলোনি থেকে সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর রাজধানীর সেগুনবাগিচা থেকে সাবেক বিমান প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।

নিহত সিয়াম সরদারের বাবা মো. সোহাগ সরদার বাদী হয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর ১১৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার এজাহারনামীয় ৮ নম্বর আসামি হলেন আসাদুজ্জামান নূর। তবে মাহবুব আলাীর নাম এজাহারে নেই। তাকে এ মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এ মামলার উল্লেখযোগ্য অপর আসামিরা হলেন সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, হারুন অর রশীদ, মনির হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও কামাল আহমেদ মজুমদার।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ১৮ জুলাই রাত ১১টার দিকে মিরপুর-১০ এ আবু তালেব স্কুলের সামনে আওয়ামী লীগসহ তাদের অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে নির্বিচারে গুলি করে। এ সময় সিয়াম সরদার হোটেলের কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে সিয়াম মারা যান।




ভোলায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকার গ্যাসের সন্ধান

বরিশাল অফিস :: ভোলায় ৫ দশমিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুদের সন্ধান মিলেছে। শাহবাজপুর ও ইলিশায় ২.৪২৩ টিসিএফ এবং চর ফ্যাশনে ২.৬৮৬ টিসিএফ মজুদ গ্যাসের সন্ধান মেলে। এর বাজার মূল্য সাড়ে ছয় লাখ কোটি টাকা। 

বাংলাদেশ বর্তমানে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে গ্যাসের চাহিদা পূরণ করছে। খোলাবাজার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দর ১০.৪৬ মার্কিন ডলার, সেই হিসাবে ৫.১০৯ টিসিএফ গ্যাসের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ছয় লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এক টিসিএফ গ্যাস দিয়ে দেশের এক বছরের গ্যাসের চাহিদা পূরণ করা যায়। সেই হিসেবে মজুদ এই গ্যাস দিয়ে বাংলাদেশ অন্তত পাঁচ বছর চলতে পারবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড ও রাশিয়ার জ্বালানি জায়ান্ট গ্যাজপ্রমের যৌথ গবেষণায় গ্যাস মজুদের এ তথ্য মিলেছে। গবেষণাটি ২০২০ সালে শুরু হয়ে চলতি বছরের জুনে শেষ হয়। সম্প্রতি জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সে গবেষণা প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, ভোলার শাহবাজপুর থেকে ইলিশা পর্যন্ত ৬০০ বর্গকিলোমিটার থ্রিডি সিসমিক সার্ভে করা হয়। এতে ২.৪২৩ টিসিএফ উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ আবিষ্কৃত হয়। ভোলার চরফ্যাশনে ১৫২.৬ লাইন কিলোমিটার টুডি সিসমিক সার্ভে করে ২.৬৮৬ টিসিএফ গ্যাসের মজুদ পাওয়া যায়।

গ্যাজপ্রমের মুখপাত্র এলেক্সি বেলবেজিয়াভ বলেন, ‘গবেষণাটি আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে সিসমিক ডাটা, অয়েল লক ডাটা, কোর ডাটা বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। এখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও সফটওয়্যার, সুপার কম্পিউটার সিস্টেম এবং উন্নত মানের ল্যাব ব্যবহার করার ফলে গবেষণার তথ্যগুলো খুবই নির্ভরযোগ্য।’

পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান জনেন্দ্রনাথ সরকার বলেন, ‘গবেষণার প্রতিবেদনটি নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে আনতে ভোলা-বরিশাল, বরিশাল-খুলনা গ্যাস পাইপলাইনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে এলএনজি ও সিএনজির মাধ্যমে ঢাকায় আনা হবে।

তিনি বলেন, শিগগিরই এর একটি টেন্ডার দেওয়া হবে। এখন থেকে সব কাজ উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে হবে। একাধিক কোম্পানিকে কাজের সুযোগ দেওয়া হবে। এই গ্যাস পেলে এলএনজি আমদানি সীমিত করা হবে।




বাংলাদেশ সংকট: শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক ডেকেছে ভারতীয় নৌবাহিনী




পিলখানা হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক বিচার ও ৯ দাবীতে চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যদের সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও শক্তিহীন করতে পিলখানা ট্র্যাজেডি। যার দোষ চাপিয় দেয়া হয়েছে ‘বাংলাদেশ রাইফেলস’ (বিডিআর) বিদ্রোহের কারণ উল্লেখ করে। মূলত এটি সঠিক নয়। ভারতের পক্ষ হয়ে আ.লীগ ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের সামরিক শক্তিকে দুর্বল করতে পরিকল্পিতভাবে পিলখানা ট্র্যাজেডি সংঘটিত করেছিল। সংবাদ সম্মেলন ও স্মারক লিপি প্রদান অনুষ্ঠানে ওই সব কথা বলেন চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যরা। রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, চাকুরিচ্যুত বিডিআর এনসিও- হাবিলদার মোঃ শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানা হতাকান্ডের ঘটনায় চাকুরিচ্যুত বিডিআর সদস্যগন আ.লীগ ফ্যাসিস্ট সরকার সেনাবাহিনীর শক্তি ক্ষুন্ন করতে বাংলাদেশ রাইফেলস কে ধ্বংস করার জন্য পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র পূর্বক পিলখানা হত্যাকান্ড সংগঠিত করেছে। উক্ত হত্যাকান্ডে ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তা সহ ৭৪ জন শাহাদাৎ বরণ করে। এ ঘটনায় পরবর্তীতে ফ্যাসিস্ট সরকার বিচারের নামে নিরীহ ৫৪ জন বিডিআর সদস্যকে নিরাপত্তা হেফাজতে হত্যা করে এবং ১৮ হাজার ৫২০ জন বিডিআর সদস্যকে চাকুরিচ্যুতসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। এ সময় তারা ৯ দাবী জানান- দাবীসমূহ হল-

১. ২০০৯ ইং সালে ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারী বিডিআর পিলখানা সংঘঠিত সুপরিকল্পিত হত্যাকান্ডকে তথা কথিত বিদ্রোহ সংজ্ঞায়িত না করে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হিসাবে আখ্যায়িত করতে হবে। ২. উক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে গঠিত সকল প্রহসনের বিশেষ আদালতকে নির্বাহী আদেশে বাতিল করতে হবে। ৩. চাকুরিচ্যুত সকল পদবীর বিডিআর সদস্যকে সুযোগ সুবিধা সহ চাকুরীতে পূর্নবহাল করতে হবে। ৪. হত্যাকান্ড মামলার মহামান্য হাইকোর্টের বিচারকগণের রায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী পিলখানার হত্যাকান্ডের ঘটনার মোটিভ উদ্ধার ও কুশিলবদের সনাক্তকল্পে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। ৫. পিলখানা হত্যাকান্ডে শাহাদাৎ বরণকারী ৫৭ মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে শহীদের মর্যাদা দিতে হবে।

৬. ২৫ ফেব্রুয়ারী দিনটিকে পিলখানার ট্রাজেডি দিবস হিসাবে ঘোষণা করতে হবে। ৭. পিলখানা হত্যাকান্ডের ঘটনা পরবর্তী তদন্ত/জিজ্ঞাসাবাদে নিরাপত্তা হেফাজতে যে সকল নিরীহ বিডিআর সদস্যদের নির্যাতন পূর্বক হত্যা করা হয়েছে তাদের তালিকা প্রকাশ ও মৃত সকল পদবীর পরিবারকে ক্ষতিপূরন সহ পূর্নাবাসন করতে হবে। ৮. তদন্ত/জিজ্ঞাসাবাদে নিযুক্ত হত্যাকান্ডে জড়িত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সনাক্ত পূর্বক বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ৯. বিশেষ আদালত কর্তৃক বিভিন্ন মেয়াদে সাজা ভোগ শেষকারী বিডিআর সদস্যগন যারা প্রহসনের বিষ্ফোরক মামলায় দীর্ঘ ১৬ বছর যাবৎ কারা অন্তরীণ আছে। তাদেরকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে জামিন অথবা মামলা হতে অব্যাহতি পূর্বক মুক্ত করতে হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চাকুরিচ্যুত একাধিক বিডিআর বলেন, পিলখানা ট্র্যাজেডি তৎকালীন বিডিআরদের একটি গ্রুপ দ্বারা সংগঠিত বিদ্রোহের কারণে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে জনমুখে এটি ছড়িয়ে হলেও আসলে তা সঠিক নয়। পিলখানা ট্র্যাজেডির পূর্বে ভারতের সাথে বাংলাদেশের ৪ বর্ডারে বিডিআর ও বিএসএফ যুদ্ধ হয়। এতে জয়ী বিডিআর। মারা যায় ১৮/২০ জন বিএসএফ। আহত হয় শতাধিক। তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দ্বারা পরিচালিত বিডিআর সদস্যরা তখন ছিল এশিয়া মহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বর্ডার গার্ড। এই ঘটনার জের ধরেই ভারত ও আ.লীগ ফ্যাসিস্ট সরকারের পরিকল্পনায় পিলখানা ট্র্যাজেডি সংঘটিত হয়। যার প্রমাণ পিলখানা ট্র্যাজেডিতে সমগ্র ইউনিটের মেধাবী ও সৎ সাহসী বিডিআরদের আইনের আওতায় সাজা দেয়া হয়েছে। যারা পিলখানা এলাকার ধারে কাছেও ছিল না।

এখন ছাত্ররা নতুন করে দেশ সংস্কার করতেছে। তাই সত্য বলার সময় এসেছে। তবে পিলখানা ট্র্যাজেডিতে কারা হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে এমন প্রশে তারা (বিডিআর) বলেন, সুষ্ঠু তদন্ত হলে ঘটনার মূল রহস্য বেড়িয়ে আসবে। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে বরিশালের বিভিন্ন জেলার প্রায় শতাধিক চাকুরিচ্যুত বিডিআর উপস্থিত ছিলেন।