বরিশালে ট্রাংকলরি শ্রমিকদের কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :: বরিশালে ট্রাংকলরি থেকে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি ও ইউনিয়নের কোষাধ্যক্ষকে মারধরের প্রতিবাদে কর্মবিরতি পালন করেছে শ্রমিকরা। আজ বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় নগরীর বান্দ রোড সংলগ্ন মেঘনা পেট্রোলিয়াম বরিশাল ডিপোর সামনে কর্মবিরতির ডাক দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বরিশাল বিভাগীয় ট্রাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের শ্রমিকরা। পরে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে বেলা ১২ টার দিকে কর্মবিরতী প্রত্যাহার করে কাজে ফিরেন ট্যাংক লড়ি শ্রমিকরা।

বিক্ষোভ মিছিল চলাকালে বরিশাল বিভাগীয় ট্রাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামাল জানান, বরিশাল নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের কেডিসি কলোনী সংলগ্ন পদ্মা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপোতে ট্রাকে তেলে নিয়ে বের হতে হলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর জয়নাল আবেদীনসহ তার বাহিনীকে তাদের দাবিকৃত গাড়ী প্রতি ১ হাজার টাকা করে চাঁদা দিতে হবে। এসময় সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ মাসুদ রানা প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। তাই আজ সকাল থেকে আমার চাঁদাবাজি বন্ধ ও হামলার প্রতিবাদের কর্মবিরতির ডাক দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করি। পরে সেনাবাহিনী এসে আমাদের শ্রমিকদের কথা শুনে তারা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন ও চাঁদাবাজি বন্ধের আশ্বাস দিলে আমরা আমাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে ফিরে যাই। এসময় শ্রমিক নেতৃবৃন্দরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় চাঁদাবাজদের দৌরাত্মের কারনে তারা অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন।

এ অবস্থায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এদিকে, ট্রাংকলরি শ্রমিকদের ধর্মঘটের কারণে বরিশালে সকাল থেকে কোনো তৈল আনা-নেওয়ার সকল কার্যক্রম স্থগিত থাকায় বিপাকে পড়েছে ব্যবসায়ীরা।

পরবর্তী সময়ে সেনা কর্মকর্তারা বিসিসি কাউন্সিলর জয়নালকে ডেকে সাবধান করে বলে দেয় কোন ধরনের চাদাবাজি,ধকলবাজি ও মাদক ব্যবসা চলতে পারবে না বলে দেয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বরিশাল বিভাগীয় ট্যাংক লড়ি সাধারন সম্পাদক কামাল হোসেন।




পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বসতভিটা হারানো ১৩০ পরিবারের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকার কর্তৃৃৃক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করায় ও প্রজেক্টে দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন বসতভিটা হারানো ১৩০ পরিবারের সদস্যরা।

আজ বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় স্বপ্নের ঠিকানা বাংলাদেশ চায়না টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য আলম গাজী, নাঈম হাওলাদার, জামাল মৃধা, বাইজিদ মৃধা প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা, কোটায় নয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যোগ্যতা অনুযায়ী ১৩০ পরিবার থেকে ন্যূনতম একজনকে বিসিপিসিএল কোম্পানিতে সরাসরি স্থায়ী চাকরির দাবি জানান।

এছাড়া তারা দাবি করেন, উক্ত তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিট বিক্রির শতকরা ০.০৩ পয়সা ক্ষতিগ্রস্ত ১৩০ পরিবারকে দেওয়ার কথা ছিল সেটা বুঝিয়ে দিতে হবে। পায়রা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে অধিগ্রহণে মূল্যের চেয়ে তিনগুণ টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ দেড়গুণ টাকা দেয় বাকি দেড়গুণ টাকা সব ভূমি দাতাদের বুঝিয়ে দিতে হবে। স্বপ্নের ঠিকানা আবাসন প্রকল্পের সবাইকে স্থায়ী দলিল আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে দিতে হবে।

দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত প্রজেক্ট এমডি এএম খোরশেদুল আলম ওপিডি শাহ আব্দুল মাওলা হেলালকে পদত্যাগ করতে হবে ও প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিজস্ব আত্মীয় ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকৃত সব কর্মকর্তাকে বাতিল ও অপসারণ করতে হবে।

১৩০ পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানীয় সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। সব দাবি মেনে লিখিত স্টেটমেন্ট দেওয়ার ৭ দফা দাবি তোলেন আন্দোলনকারীরা। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো না মানলে কঠোর আন্দোলনে যাবে বলেও জানান তারা।




পবিপ্রবিতে নতুন করে সহকারী প্রক্টরদের নিয়োগ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন করে সহকারী প্রক্টরদের নিয়োগ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জরুরি প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক মোহাম্মদ জামাল হোসেনের অনুমোদনক্রমে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানান হয়।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রক্টররা হলো ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ফয়সাল, ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হক, ল অ্যান্ড ল্যান্ড এডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুর রহিম এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক আশিক-ই-এলাহী সাদী।

অফিস আদেশে বলা হয়, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বর্তমান সহকারী প্রক্টরদের পরিবর্তে বর্ণিত শিক্ষকদের সহকারী প্রক্টর হিসেবে পরবর্তী দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হলো। তারা পবিপ্রবির প্রচলিত আইন ও সংবিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং বিধি মোতাবেক আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধাদি প্রাপ্য হবেন। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে যে কোনো সময় এই আদেশ সংশোধন বা পরিবর্তন করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে।




বাউফলে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।

কয়েকশত শিক্ষার্থী ব্যানার ও বিভিন্ন ধরনের ফেস্টুন নিয়ে কালাইয়া বন্দর ঘুরে ৬ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গিয়ে উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।

এ সময় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বাউফল সরকারি কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।

ফলে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের স্লোগানে উত্তাল হয়ে উঠে বাউফল পৌরএলাকা। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজি বরাবর একটি স্মরকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, উপজেলার কালাইয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিন কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই বিদ্যালয়ের মূল ফটকের পাশের দেয়াল ভেঙে দোকান ঘর তৈরি করে সেগুলো ভাড়া দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের ছাদে ডিস লাইন স্থাপন করা হয়েছে। সেই লাইনে বিদ্যুতায়িত হয়ে গত বছর ১২ মে দশম শ্রেণির বিল্লাল হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার ঘটনায় কোনো বিচার পায়নি নিহতের পরিবার।

এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে রযেছে জোর করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়সহ বিদ্যালয়ের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। এ বিষয়ে জানতে প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসি শিরিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. বশির গাজি বলেন, শিক্ষার্থীর স্মারকলিপি পেয়েছি। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




বাংলাদেশকে আরো ২ বিলিয়ন ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার এজেন্ডাকে সহায়তা করার লক্ষ্যে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য ঋণ সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। আজ মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ প্রধান আবদৌলায়ে সেক ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এ ঘোষণা দেন।

সেক জানান, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রম, বন্যা পরবর্তী সহায়তা, বায়ু মান উন্নয়ন এবং স্বাস্থ্য খাতের জন্য বিশ্বব্যাংক চলতি অর্থবছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার নতুন অর্থায়নের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

আবদৌলায়ে সেক বলেন, আমরা আপনাদের যত তাড়াতাড়ি ও যত বেশি সম্ভব সহায়তা করতে চাই। তিনি আরো বলেন, নতুন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি বিদ্যমান কর্মসূচি থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত অর্থ দেয়া হবে।

উন্নয়ন সহযোগীদের আরো বেশি সহায়তা দেয়ার যে আহ্বান ড. ইউনূস জানিয়েছেন তার অংশ হিসেবে এই অতিরিক্ত অর্থ দেবে বিশ্বব্যাংক।

সেক বলেন, অতিরিক্ত এই ঋণের ফলে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জন্য বিশ্বব্যাংকের সফট লোন এবং অনুদানের মোট পরিমাণ প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। বিশ্বব্যাংক প্রধান বলেন, সংস্কার সম্পন্ন করা বাংলাদেশের তরুণ বিশেষ করে প্রতি বছর চাকরির বাজারে প্রবেশকারী দুই মিলিয়ন যুবকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বিশ্বব্যাংক প্রধানকে বলেন, ১৫ বছরের অপশাসন শেষ করে নতুন করে বাংলাদেশের এই পথচলায় সহায়তা করার জন্য বিশ্বব্যাংককে নমনীয় হতে হবে।  তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপ থেকে আমাদের নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

হাসিনা সরকারের আমলে যে অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে তা পুনরুদ্ধারেও বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চান অধ্যাপক ইউনূস।

জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেক জানান, তিনি ঢাকার দেয়ালে তরুণদের আঁকা গ্রাফিতি এবং ম্যুরাল দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি বলেন, আমার ৩০ বছরের ক্যারিয়ারে আমি কোথাও এমনটা দেখিনি।




পদত্যাগ করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরীওয়াল

বরিশাল অফিস ::আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দিল্লির আবগারি মামলায় ইডির হাতে গ্রেফতার হওয়ার পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার চার দিন পরে নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করলেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে দিল্লির উপরাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনার সঙ্গে দেখা করে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন কেজরীওয়াল। এ সময় তার সাথে তার উত্তরসূরি অতীশি এবং সাবেক ডেপুটি মনীশ সিসোদিয়া ছিলেন।

এর আগে আম আদমি পার্টি জানায়, পরিষদীয় বৈঠকের পর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে অতিশী মারলেনার নাম ঘোষণা করেছেন অরবিন্দ কেজরীওয়াল। তিনি পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কেজরিওয়াল আগাম নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত রোববার জামিনে মুক্তি পাওয়ার দু’দিন পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল পদত্যাগের ঘোষণা দেন। যিনি মদ নীতির মামলায় দুর্নীতি এবং অর্থ-পাচারের অভিযোগকে দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে তাকে ফাঁসানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন। তিনি ঘোষণা করেন “জনতার আদালত থেকে ন্যায়বিচার” না পাওয়া পর্যন্ত তিনি জাতীয় রাজধানী শাসন করবেন না।




সংস্কার শেষে দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে: সেলিমা রহমান

বরিশাল অফিস :: বরিশালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচনের রোডম্যাপ দিতে হবে। নির্বাচন গণতন্ত্রের একটা বড় ধাপ। এর মাধ্যমে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। এ জন্য দ্রুত সংস্কার করে নির্বাচনের দিকে যেতে হবে। 

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টম্বর) দুপুরে নগরীর বান্দ রোডে প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশুপার্কের সামনে বিএনপির বিভাগীয় শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। এরপর বিভাগীয় শোভাযাত্রা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে এ কর্মসূচি হয়েছে।

এসময় সেলিমা রহমান আরও বলেন, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য নির্বাচন যেমন দরকার; তেমনি রাষ্ট্র সংস্কার, প্রশাসন, বিচার বিভাগ, ভোটের অধিকার সংস্কার করে এই সরকার যাতে নির্বাচন দেয় এটি হচ্ছে আমাদের প্রথম ম্যাসেজ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে রাষ্ট্র সংস্কার করে জনগণের অধিকার, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবে। বিএনপি গণতন্ত্র রক্ষা, কথা বলার অধিকার, ভোটের অধিকার, বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য গত ১৭ বছর ধরে আন্দোলন করে আসছে। সেই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে আজকে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের কারণে স্বৈরশাসনের দুঃশাসন থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমরা জনগণের জন্য কাজ করছি, জনগণকে রক্ষার জন্য কাজ করছি। এক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ গড়তে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে হবে। সরকার পতনের পর পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতে নতুন কাউকে দলে জায়গা না দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন তিনি।




এদেশ স্বাধীন করেছিল মুসলমানরা: ফয়জুল করীম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, ‘১৮০৩ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সূচনা করেছিল মুসলমানরা।সিপাহী বিপ্লবের সূচনা করেছিল মুসলমানরা। ৪৭ সালের আন্দোলনে দেশ বিভক্তিতে ভূমিকা রেখেছিল মুসলমানরা। এদেশ স্বাধীন করেছিল মুসলমানরা। এজন্য বলতে হবে দেশ মুসলমানদের, অধিকার সবার।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় হোয়াইট হল মিলনায়তনে জাতীয় ওলামা মশায়েখ আইম্মা পরিষদ ঢাকা মহানগরীর উত্তরা পশ্চিম থানার আয়োজনে ‘আদর্শ সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে রাসুলের (সা.) এর ভূমিকা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফয়জুল করীম বলেন, ‘দেশ মুসলমানদের হওয়ার পরও মুসলমানদের নেতৃত্ব নেই কেন? বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সামনে না থাকলে ইসলামপন্থিরা আবারও সমস্যায় পড়তো। ওলামারা ক্ষমতায় যাওয়ার যোগ্য। চোর-ডাকাত-জালেম-চাঁদাবাজ-ধর্ষকরা দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইসলাম ভয়ঙ্কর বিষয় নয়, সহজ। ইসলাম এলে সবাই ভালো হয়ে যাবে। রাষ্ট্রে ইসলাম এলে পরিবেশ সৃষ্টি হবে। ইসলামী রাষ্ট্রের বিষয়ে দুশমনরা সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। ইসলাম এলে দরিদ্ররা স্বাবলম্বী হবে। এতিম-মিসকিন ও গরিবদের দায়িত্ব ইসলামী রাষ্ট্রের।’

ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, ‘যারা নীতির ওপর অবিচল থেকে যেই দল কথায় কাজে মিল রেখে চলে, তবেই তাদের সঙ্গে ঐক্য হতে পারে। আহলে হকরা এক ও নেক হলে আমাদের কথার মূল্যায়ন হবে।’

মুফতি মুফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি মিজানুর রহমান সাঈদ, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মুফতি রেজাউল করীম আবরার, ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মুফতি হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর সহ-সভাপতি আলহাজ আনোয়ার হোসেন।




যানজট নিরসনে সমাধান খোঁজার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের সমাধান খুঁজতে পুলিশ ও দেশের অভিজাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ট্রাফিক সিস্টেম বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের যানজট কমাতে হবে। অবিলম্বে এর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’

বৈঠকে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের অন্তত একটি ট্রাফিক করিডোরে তাদের শিক্ষার্থীদের সহায়তায় কিছু ঘরোয়া সমাধান খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে। তাদের স্থানীয় দক্ষতা ব্যবহার করে সিগন্যালিং সিস্টেম ঠিক করতে বলা হয়। ট্রাফিক সমস্যার কিছু দ্রুত ও কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে ডিএমপিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুয়েটের পরিবহন ও ট্রাফিক সিস্টেম বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বৈঠকে একটি প্রেজেন্টেশন দেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকা শহরে যানজটে প্রতিবছর দেশের অন্তত ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) খ. নাজমুল হাসান বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আরও ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করার পর ট্রাফিক পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত রয়েছে। আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণ মোতায়েন আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন- প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ফারুক আহমেদ।




‘স্বাধীন দেশে জনগণের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করতে চাই’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, ‘এই হাসপাতালে আমি যুদ্ধের পর একবার এসেছিলাম। তখন অবস্থাটা দেখেছি। তখন অন্তত তো বলা যেত পাকিস্তানের হানাদার বাহিনী আমাদের লোকদের আক্রমণ করেছে। এখন তো সেই সান্ত্বনার জায়গাটুকুও নাই। এখন যারা করেছে, তারা তো আমাদের দেশেরই মানুষ। শুধু পুলিশ বা বিভিন্ন বাহিনী যে আহত করেছে তা নয়, এখানে এক ছাত্রকে দেখলাম কুপিয়েছে। এটা বন্ধ হতে হবে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। আমরা স্বাধীন দেশে জনগণের ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার বন্ধ করতে চাই। এটার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

রবিবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে আহতদের দেখতে গিয়ে এসব কথা বলেন ফাওজুল কবির খান।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন দেখতাম আন্দোলনে গেলে পুলিশ লাঠিপেটা করত। এখন লাঠিপেটা করে না, গুলি করে। যেন মারা যায় বা পঙ্গু হয়ে যায়। একটা স্বাধীন দেশে এটা আশা করা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘আহত ও নিহতের পরিবারকে পুনর্বাসন করাই আমাদের কাজ, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। এখানে দেখলাম সব শ্রেণিপেশার মানুষ আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের, কলেজের, মাদ্রাসার ছাত্র আছে। শ্রমিক আছে। একটা স্কুলের ছাত্রও দেখলাম, ছয় বছর বয়সের।’

সবাই সুচিকিৎসা পাচ্ছেন জানিয়ে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘আমি প্রত্যেককে জিজ্ঞাসা করেছি তারা সুচিকিৎসা পাচ্ছে কিনা? সবাই বলেছেন বিনামূল্যে এবং প্রকৃত চিকিৎসা পাচ্ছেন। কিছু মানুষ আছেন দিনমজুর, তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। সংসার চালানোর খরচ পাচ্ছে না। আমি পরিচালক মহোদয়কে বলেছি যাদের অর্থ সহায়তা দরকার তাদের একটা তালিকা দেওয়ার জন্য। সেটা আমরা হয়তো ব্যক্তিপর্যায়ে অনুরোধ করে কিংবা সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা করে করব।’