বিচার বিভাগের জন্য এসব ভালো কিছু না: আসিফ নজরুল

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘বিচার বিভাগে যদি এমন কোনও বিচারক থাকেন, যিনি মানুষের কাছ থেকে তরবারি উপহার নেন, ছাত্র সংগঠনের কাছ থকে ফুল উপহার নেন, মৌলিক অধিকার ছিনিয়ে নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেন। বিচার বিভাগের জন্য এসব ভালো কিছু না।’

শনিবার সকালে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির অভিভাষণ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

এদিকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নিয়োগ অন্তর্বর্তী সরকারের সিগনেচার স্টেটমেন্ট বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আপনারা কোনও দলীয় মনোভাব রাখবেন না। আপনার বিবেকের সঙ্গে কথা বলেন, কারও সঙ্গে অবিচার করবেন না। নিন্ম আদালতে যারা আছেন, আপনারা মানুষকে যতটুকু সম্ভব হয়রানিমুক্ত রাখবেন।’

বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা গ্রহণযোগ্য নয়, এমন মন্তব্য করার পাশপাশি বিচারবিভাগকে সবচেয়ে বেশি দ্বায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

বিচারবিভাগের সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘এরইমধ্যে কমিশন গঠন করা হয়েছে। আমরা প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই। ঢালাও মামলা করে মানুষ হয়রানি থেকে বের হতে চাই।’




সেঞ্চুরিয়ান পন্থকে ফেরালেন মিরাজ, শতক পেলেন গিলও

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। যেখানে ঝড়ো ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করা ঋষভ পন্থকে অবশেষে আউট করেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৫৬তম ওভারের তৃতীয় বলে নিজের বলেই ক্যাচ নেন বাংলাদেশ স্পিনার। বাঁহাতি পন্থ ১২৮ বলে ১৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ১০৯ রান করেছেন। এটি তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। চতুর্থ উইকেট জুটিতে শুভমান গিলের সঙ্গে ২১৭ বলে ১৬৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েছেন তিনি। গিল পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি করে অপরাজিত আছেন।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬১ ওভার শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৬৩ রান করেছে ভারত। গিল ১০৬ ও লোকেশ রাহুল ১১ রানে ব্যাট করছেন। দলটির লিড দাঁড়িয়েছে ৪৯০ রান।

গতকাল ৩ উইকেট হারিয়ে ৮১ রান তুলে দিন শেষ করেছে ভারত। গতকালই তাদের লিড দাঁড়িছিল ৩০৮ রান।

এর আগে চেন্নাই টেস্টে ভারতের বিপক্ষে বোলিংয়ে দুর্দান্ত শুরু এনেও সেটি ধরে রাখা যায়নি। প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রানের বড় স্কোর গড়েছে রোহিত শর্মার দল। যেখানে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতীয় পেসারদের তোপে মাত্র ১৪৯ রানে অলআউট হয় নাজমুল হাসান শান্তর দল। ২২৭ রানে এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশকে ফলোঅনে না পাঠিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত।



‘নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ করলে মূল্য দিতে হতে পারে’

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: নির্বাচন নিয়ে কালক্ষেপণ করলে সরকারকে তার মূল্য দিতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন।

ডা. শফিক বলেন, বিচার, প্রশাসন ও নির্বাচন ব্যবস্থার দ্রুত সংস্কার করে দ্রুত নির্বাচন দিতে হবে।

সম্প্রতি দলটির নেতাদের কিছু বক্তব্য নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের আমিরের কাছে প্রশ্ন ছিল, কেন এত সমালোচনা? ছাত্র-জনতার খুনিদের সাধারণ ক্ষমা করে দেওয়া প্রসঙ্গটির ব্যাখ্যা কী? ক্ষমতার পালাবদলে দায়িত্ব নেওয়া অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ কতেদিন হতে পারে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকারের করণীয় কী? এসব প্রশ্নেরও উত্তর দেন ডা. শফিকুর রহমান।

আমীরে জামায়াত বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি, তবে মাথায় রাখতে হবে, নির্বাচন বিলম্বিত হলে তার খেসারত গুনতে হতে পারে সরকারসহ পুরো জাতিকে।

 জাতীয় স্বার্থে সব মত ও পথের মানুষকে দেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ্য হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্য ও ন্যায়ের সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায় জামায়াতে ইসলামী।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান স্বৈরচার শেখ হাসিনা। পতন হয় আওয়ামী দুঃশাসনের দেড় দশকের কালো অধ্যায়ের। তার ঠিক পাঁচ দিন আগে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ করে সরকার।




আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগে পৃথক সচিবালয় দরকার: প্রধান বিচারপতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিচার বিভাগ পৃথক হলেও বিচার বিভাগে চলছে দ্বৈত শাসন। এ কারণে বিচারকরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। বিচার বিভাগ পৃথক সচিবালয়ে না হলে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

শনিবার সকাল ১০টায় সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে প্রায় দুই হাজার বিচারকের উপস্থিতিতে নিজের অভিভাষণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘বিচারকদের বদলি এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদায়নের নীতিমালা করা হবে। এখনই সময় পৃথক সচিবালয়ে গঠনের। না হয়, মানুষ বিচার বিভাগের সুফল পাবে না।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘পৃথকভাবে সচিবালয়ে তৈরি করে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক বাজেট তৈরি করতে হবে। অন্য সার্ভিসের সঙ্গে বিচার বিভাগের বেতন, সুযোগসুবিধায় যে বৈষম্য রয়েছে, তা নিরসন করতে হবে। বিচার বিভাগে কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতার জন্য কমিশন নিয়োগ করতে হবে।’

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ‘বিচার বিভাগে দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করছি। জেলা জজ ও বিচারকদের দুর্নীতি দমনে ব্যর্থ হলে এটি তার সার্ভিসে ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ বিচার বিভাগে কারও ব্যক্তির দুর্নীতি পুরো বিচার বিভাগের দুর্নাম হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্টে বিভিন্ন শাখায় দুর্নীতি-অনিয়ম ছেয়ে গেছে৷ এটি এখন আর বরদাশত করা হবে না।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদেরকে কঠিন সময়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমাদের বিদ্যমান বিচার বিভাগের স্বচ্ছতার জন্য মাসদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। মাঠ পর্যায়ে বিচারকদের গাড়ি, বাসস্থান ও এজলাস নির্মাণ জরুরি হয়ে পড়েছে।’

সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘৪২ লাখ মামলার জট রয়েছে। মুদ্রার ওই পিঠে রয়েছে বিচারক সংকট। মাত্র দুই হাজার বিচারক দিয়ে এটি সম্ভব নয়। দক্ষ জনবল নিয়োগ জরুরি।’

 অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিটির প্রধান বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত রয়েছেন।




পটুয়াখালীতে ৭ দফা দাবিতে যুব অধিকার পরিষদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: ‘দয়া নয় কর্ম চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেশে বেকারত্ব মহামারি নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের ৭ দফা প্রস্তাবনা বাস্তবায়নের দাবিতে পটুয়াখালীতে মানববন্ধন করেছে।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গেটের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম রুম্মানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- গণ অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম লিটু, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম সিকদার এবং সদস্য মো. সোহাগ মিয়া।

এ ছাড়াও এ সময় ছাত্র অধিকার পরিষদ, পটুয়াখালী জেলা শাখার সাবেক প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক রুবেল মাহামুূদের সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যুব অধিকার পরিষদ, পটুয়াখালী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান।

মানববন্ধনে গণ অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার অন্যতম নেতা মো. ইউনুস বিশ্বাস ও গণ অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী সদর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আবদুল কাইয়ুমসহ যুব অধিকার পরিষদের পটুয়াখালী জেলা শাখার বিভিন্ন স্তরের শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।




খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ১৭

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: খাগড়াছড়ির দীঘিনালা ও সদর উপজেলায় পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১৭ জন। এর মধ্যে চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবিব পলাশ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন ধনঞ্জয় চাকমা (৫০), রুবেল ত্রিপুরা (২৫) ও জুনান চাকমা (২০)।

ডিআইজি পলাশ জানান, ধনঞ্জয় গত রাত সাড়ে ১০টায় এবং রুবেল ও জুনান রাত দেড়টায় মারা গেছেন। এদের মধ্যে ধনঞ্জয় দীঘিনালায় এবং রুবেল ও জুনান সদরে আহত হয়েছিলেন। খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

এদিকে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রুবেল ও জুনান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

উপমহাপরিদর্শক পলাশ বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্ব স্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথভাবে টহল দিচ্ছে।’

খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) রিপাল বাপ্পী চাকমা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দীঘিনালা ও সদর উপজেলা থেকে আসা নয়জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চারজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

এছাড়াও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চারজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের পায়ে, কোমরে ও পেটে গুলি লেগেছে।

স্থানীয় সূত্র অনুসারে, গত রাতেও খাগড়াছড়ি সদর এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গেছে। থমথমে পরিস্থিতিতে দীঘিনালায় অনেকে গত রাতেই নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়েছেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা যোগ করেন, ‘খাগড়াছড়ি শহরে রাতে গুলির শব্দ শোনা গেছে। সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল দিচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সহিদুজ্জামান জানান, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের টিম কাজ করে যাচ্ছে। আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের সঙ্গে কথা বলে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করছি।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলায় পাহাড়িদের অন্তত ৩০টি বাড়ি-ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দেওয়া হয়।




জাবিতে ছাত্রলীগ নেতা শামীমকে পিটিয়ে হত্যায় মামলা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গণপিটুনিতে জাবি ছাত্র নিহতের ঘটনায় মামলা হয়েছে। এতে ৮ জনের নাম উল্লেখসহ আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার ডেপুটি রেজিস্ট্রার সুদীপ্ত শাহীন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন- সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ রাজন মিয়া, একই বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের রাজু আহাম্মদ, ইংরেজি বিভাগের ৫০তম ব্যাচের মাহমুদুল হাসান রায়হান, ইতিহাস বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের জুবায়ের আহমেদ, ইংরেজি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের হামিদুল্লাহ সালমান, ম্যানেজমেন্ট স্ট্যাডিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের আতিকুজ্জামান আতিক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের ৪৭তম ব্যাচের সোহাগ মিয়া এবং বায়োটেকনলজি অ্যান্ড জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের ৪৯ তম ব্যাচের আহসান লাবিবসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০/২৫ জন।

এর আগে, মামলায় আসামি করা ওই ৮ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত বুধবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী শামীম মোল্লা প্রান্তিক গেটে এলে কয়েকজন তাকে মারধর করতে থাকে। খবর জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যায়।

প্রক্টর অফিসের একটি কক্ষে শামীমকে রেখে প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও আশুলিয়া থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায় এবং পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য দ্রুত পুলিশ টিমকে প্রক্টর অফিসে পাঠানোর অনুরোধ করেন।

ওই সময়ে আরও কয়েকজন প্রক্টরিয়াল টিমকে না জানিয়ে জোর করে শামীম মোল্লাকে প্রক্টর অফিসের পাশে নিরাপত্তা অফিসে নিয়ে যায়। প্রক্টর জানতে পেরে নিরাপত্তা অফিসে গিয়ে তাদের সরিয়ে দেন এবং নিরাপত্তা অফিসের কলাপসিবল গেট তালাবদ্ধ করে দেন।

এর মধ্যে আবার উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের কয়েকজন নিরাপত্তা অফিসের কলাপসিবল গেট ভেঙে ভেতরে ঢুকে শামীম মোল্লাকে মারধর করে।

রাত ৮টার দিকে প্রক্টরিয়াল টিম ও নিরাপত্তা শাখা শামীম মোল্লাকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দেয়। তাকে আশুলিয়া থানায় নেওয়ার পথে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা শামীম মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন।




পাল্টে গেল বরিশালের ব্যস্ততম সড়কের চিত্র

বরিশাল অফিস :: বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়ার পর থেকে পুরোপুরি পাল্টে গেছে বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাসস্ট্যান্ডের চিত্র। বরিশাল নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও রূপাতলী মিনিবাস স্ট্যান্ড এলাকার সড়কগুলোতে এর প্রভাব খুব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সেখানে সড়কের ওপরে যত্রতত্র যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠা-নামা বন্ধ রয়েছে। ফলে চিরাচরিত দীর্ঘ যানজটও বিদায় নিয়েছে এই সড়কে।

গত বুধবার থেকে বিভিন্ন সড়কের নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে বিভিন্ন যানবাহন তল্লাশি করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এর পর থেকে চালকরাও গাড়ি চলাচল ও পার্কিং ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করছে। ফলে এক দিনের মধ্যে নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কের পুরো চিত্রই পাল্টে গেছে বলে জানিয়েছেন যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। এতে কমেছে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ।

স্থানীয় যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা জানান, নগরীর নথুল্লাবাদ সুরভি পেট্রল পাম্প থেকে শুরু করে নথুল্লাবাদ ব্রিজ পর্যন্ত আধা কিলোমিটার পথে সারিবদ্ধ গাড়ি চলাচল ও সড়ক বিভাজন দেওয়ায় নথুল্লাবাদ এলাকায় যানবাহন চলাচলে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এর আগে সড়কের ওপরে যত্রতত্র গাড়ি দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠা-নামা করানো হতো। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বাস শ্রমিক ও টেম্পু-মাহেন্দ্রা শ্রমিকদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু এই আধা কিলোমিটার সড়কের যানজট কখনো কমতে দেখা যায়নি। ফলে সাধারণ মানুষ অনেকটা ভোগান্তির শিকার হতো।

জানতে চাইলে আসাদুল ইসলাম বাদল নামে এক যাত্রী বলেন, মূলত শৃঙ্খলা ফিরে আসার অন্যতম কারণ হচ্ছে সেনাবাহিনী। তাদের গাড়ি টহল দেওয়ায় চালকরা নিয়ম মেনে যানবাহন চালাচ্ছেন। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশও তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করছে। ফলে যানজটও কমেছে। এতে দুর্ভোগ পুরোপুরি না কমলেও মানুষের মাঝে কিছুটা স্বস্তি বিরাজ করছে।

নথুল্লাবাদ-লঞ্চঘাট সড়কের চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক শফিউল আলম বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে নিয়মিত সেনাবাহিনীর সদস্যদের বহন করা গাড়ি চলাচল করে এই পথে। তারা বিভিন্ন সময় টহল দেন। মূলত তাদের জন্যই নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী এলাকার সড়কের শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এর আগে বিভিন্ন পরিবহনের দূরপাল্লা ও অভ্যন্তরীণ রুটের বাসগুলো রাস্তার ওপরে রেখে যাত্রী তুলত। এখন তারা স্ট্যান্ডের ভেতর এবং নিজস্ব কাউন্টারের সামনে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী তুলছে। এ ছাড়া টেম্পু, মাহেন্দ্র ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোও নিদিষ্ট স্থানের গিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করছে।

বরিশাল বাসমালিক সমিতির সভাপতি ইউনুস আলী খান বলেন, ঢাকা বরিশাল মহাসড়কের কাশিপুর থেকে নথুল্লাবাদ ব্রিজ পর্যন্ত অত্যন্ত সরু। শিক্ষা বোর্ড এলাকা থেকে শুরু করে ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক বিভাজন ছিল না। ফলে বিভিন্ন গাড়ির চালকরা যত্রতত্র রাস্তার ওপরে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করত। তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতি নেই। সড়কে অনেকটাই শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। তাই যানজটও কমেছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর) মোহাম্মদ নজরুল হোসেন বলেন, ৫ আগস্টের পরে পুলিশের কর্মকাণ্ড কিছুটা কম ছিল। এখন তারা পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর সদস্যরাও আমাদের সব ধরনের সহযোগিতা করছে। সেই সঙ্গে সড়ক বিভাজন নির্মাণসহ চালকরাও নিয়ম মেনে গাড়ি চালানোর কারণেই মূলত নথুল্লাবাদ ও রূপাতলী এলাকা মহাসড়কসহ নগরীর সব সড়কেই যানজট ও বিশৃঙ্খলা কমেছে।




বায়তুল মোকাররমে দুই পক্ষের সংঘর্ষ-মারামারি

বরিশাল অফিস ::রাজধানীর পল্টনে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জুমার নামাজের সময় মরামারির ঘটনা ঘটেছে। খতিব মুফতি রুহুল আমিন নামাজের আগে বয়ান করার সময় একদল মুসল্লি তার পেছনে নামাজ পড়তে অনীহা প্রকাশ করলে উপস্থিত মুসল্লিরা এর প্রতিবাদ করেন। পরে দুই পক্ষের লোকজন হাতাহাতি ও মারামারিতে জড়ান।

উদ্ভুত পরিস্থিতিতে খতিব মুফতি রুহুল আমিন নামাজ না পড়িয়ে মসজিদ ত্যাগ করেন।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব সরকার পরিবর্তনের পর প্রথমবারের মতো নামাজ পড়াতে আসেন। গত ১৯ জুলাই থেকে তিনি অসুস্থতার কারণে নামাজ পড়াতে আসেননি। এরই মাঝে তাকে মিডিয়ায় পলাতক উল্লেখ করে নিউজ হয়। তার অবতর্মানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কয়েকজন কর্মকর্তা ও ইমামগণ দায়িত্ব পালন করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী এক মুসল্লি বলেন, মসজিদের মতো পবিত্র স্থানে এমন ঘটনা ন্যাক্কার জনক। খতিব সাহেব যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বসে সমস্যা সমাধান করতে পারতেন।

ঘটনার বিষয় জানতে চাইলে মোল্লা মো. খালিদ হোসেন বলেন, ছোট একটা ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। আমরা কাজ করছি।




৫ উইকেট নিয়ে ভারতের মাটিতে যে ইতিহাস গড়ল হাসান মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ ক্রীড়া :: চেন্নাইয়ে ভারতে বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই বুমরাহর উইকেট তুলে নেওয়াম মধ্য দিয়েই বাংলাদেশি প্রথম বোলার হিসেবে ভারতের মাটিতে ৫ উইকেট নিয়েছেন ডান হাতি পেসার হাসান মাহমুদ।

শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) ভারতে বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে এই অনন্য কীর্তি গড়েন পেসার হাসান মাহমুদ।

গতকাল টসে জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম দিনে বল হাতে রীতিমত আগুন ঝরিয়েছেন বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদ। একের পর এক ভারতীয় ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে ফেরত পাঠান তিনি। প্রথম দিনে হাসান তুলে নেন- রোহিত শর্মা, শুভমান গিল, বিরাট কোহলি ও রিষভ পান্তের মতো উইকেট। খেলার দ্বিতীয় দিনে প্রথম ইনিংসেই প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে গড়ে ফেলেন নতুন ইতিহাস।

চেন্নাই টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩৭৬ রানে অলআউট হয়েছে ভারত। বাংলাদেশের হয়ে পেসার হাসান মাহমুদ নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৫ উইকেট। এর আগে সর্বশেষ টেস্টে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট সংগ্রহ করেছিলেন টাইগার পেসার হাসান মাহমুদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ভারতের প্রথম ইনিংসে ৯১.২ ওভারে ৩৭৬/১০ (জেয়েসওয়াল ৫৬, রোহিত ৬, শুভমান ০, কোহলি ৬, রিষভ ৩৯, রাহুল ১৬, জাদেজা ৮৬, অশ্বিন ১১৩, আকাশ ১৭, বুমরাহ ৭, সিরাজ ০*)

বাংলাদেশ লাঞ্চ বিরতির আগে প্রথম ইনিংসে ৯ ওভারে ২৬/৩ (সাদমান ২, জাকির ৩, শান্ত ১৫*, মুমিনুল ০, মুশফিকুর ৪*)