যেভাবে এত শক্তিশালী হয়ে উঠল হিজবুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ আন্তর্জাতিক :: ইসরায়েল এবং লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এখন এক ভয়ানক সংঘাতে লিপ্ত, যেকোনো সময় যা পূর্ণ যুদ্ধে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইসরায়েলের জন্য গাজার হামাসের চেয়ে হিজবুল্লাহ অনেক বেশি শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। অনেকে ইরান-সমর্থিত এই গ্রুপকে অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী আধা-সামরিক বাহিনী হিসেবে গণ্য করে।

লেবাননে হিজবুল্লাহর বেশ ক্ষমতাধর রাজনৈতিক এবং সামাজিক শাখাও আছে। হিজবুল্লাহর নেতা হাসান নাসরাল্লাহ ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলছেন তার গোষ্ঠীর নতুন অস্ত্র এবং সক্ষমতা আছে। তারা উত্তর ইসরায়েলের গভীরে ড্রোন থেকে ফিল্ম করে ফুটেজ প্রকাশ করেছে, যেখানে হাইফা বন্দর লেবানন-ইসরায়েল সীমান্ত থেকে অনেক দুরের অন্যান্য স্থাপনা দেখা যাচ্ছে।

গত কয়েক দিনে, তারা গত এক বছরের যেকোনো সময়ের চেয়ে ইসরায়েলের আরও গভীরে আঘাত হেনেছে। ইসরায়েলও ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে লেবাননে। এখন পর্যন্ত দুই পক্ষের সংঘাতে পাঁচ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

লেবাননের গৃহযুদ্ধ চলাকালে ১৯৮২ সালে হিজবুল্লাহ প্রতিষ্ঠা করে হয়েছিল এবং তার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের দখলদারিত্বর অবসান ঘটানো। নিজ নিজ অবস্থানে থেকে দীর্ঘ যুদ্ধের পর হিজবুল্লাহ ২০০০ সালে তাদের লক্ষ্য অর্জন করে, যখন তারা ইসরায়েলকে সরে যেতে বাধ্য করে।

এরপর ইসরায়েলকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই চালিয়ে গেছে হিজবুল্লাহ।

শিয়া মুসলমানদের সংগঠন হিজবুল্লাহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী এবং সরকারের অংশ, যারা ‘অ্যাক্সিস অফ রেসিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ চক্র বলে পরিচিত। হিজবুল্লাহ ছিল প্রথম গ্রুপ যাদের ইরান সমর্থন করে এবং তাদের রাজনৈতিক ইসলাম প্রচারের জন্য ব্যবহার করে।

হিজবুল্লাহ শুধু সশস্ত্র গোষ্ঠী নয়,তারা একটি রাজনৈতিক দল। লেবাননের সংসদে তাদের আইনপ্রনেতা আছে এবং কয়েক দশক ধরে দেশের বিভিন্ন সরকারে তাদের প্রতিনিধি ছিল।তাদের বিস্তীর্ণ সমাজসেবা মূলক কর্মকাণ্ডও রয়েছে। দক্ষিণ লেবানন এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলে তারা স্কুল এবং স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র পরিচালনা করে। সেসব এলাকায় তাদের শক্তিশালী উপস্থিতি আছে।

শুরুর দিকে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা পরিচালনা করতো, যে কারণে ওয়াশিংটন তাদের একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে। এই হামলাগুলোর মধ্যে ছিল বৈরুতে মার্কিন নাগরিক অপহরণ এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর ব্যারাকে ট্রাক বোমা হামলা, যেটায় ২৪১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়।

লন্ডনে স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (সোয়াস) এর মিডল ইস্ট ইন্সটিটিউট-এর পরিচালক লীনা খাতিব বলেন, ‘ইরানের সমর্থন হিজবুল্লাহকে লেবাননের সবচেয়ে ক্ষমতাবান রাজনৈতিক গ্রুপ হিসেবে তাদের অবস্থান জোরদার করতে সহায়তা করেছে। একই সাথে, তারা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত সামরিক গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সমরাস্ত্রে সবচেয়ে সুসজ্জিত।’

হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ২০০৬ সালে সীমান্তের ওপারে হানা দিয়ে দু’জন ইসরায়েলি সৈন্য জিম্মি করে। এর ফলে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে এক মাস ব্যাপী যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধে কোন হার-জিত হয়নি, কিন্তু লড়াই দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আসে।

যুদ্ধে ইসরায়েলের লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা। কিন্তু এই লেবানিজ গোষ্ঠী যুদ্ধ থেকে আরও শক্তিশালী হয়ে বেরিয়ে আসে, এবং ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে একটি প্রধান সামরিক এবং রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়।

অভ্যন্তরীণ প্রতিপক্ষ হিজবুল্লাহকে তার অস্ত্র ভাণ্ডার রাখার জন্য এবং সরকারে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য সমালোচনা করেছে।

হিজবুল্লাহ ২০০৮ সালের মে মাসে কিছু সময়ের জন্য বৈরুতের একটি অংশ দখল করে। লেবাননের সরকার হিজবুল্লাহর নিজস্ব টেলিকম নেটওয়ার্ক-এর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার পর হিজবুল্লাহ শহরের একাংশের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা কতটুকু?

হিজবুল্লাহ হচ্ছে আরব বিশ্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য আধা-সামরিক বাহিনী, যাদের একটি শক্ত সাংগঠনিক অবকাঠামো এবং বড় মাপের অস্ত্রাগার রয়েছে। তারা দাবি করে তাদের এক লাখ যোদ্ধা আছে। হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতায় রাখতে ভূমিকা পালন করেছে। তারা সিরিয়া এবং ইরাকে ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

ইসরায়েলের হিসেব অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর কাছে ১ লাখ ৫০ হাজার রকেট এবং ক্ষেপণাস্ত্র আছে, যার মধ্যে রয়েছে গাইডেড মিসাইল এবং দূর-পাল্লার অস্ত্র যা ইসরায়েলের যেকোনো অংশে আঘাত হানতে সক্ষম।




ভারতে ১১ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের দুই রাজ্য থেকে ১১ জন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছেন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু ও ইন্ডিয়া টুডের খবর থেকে এই তথ্য জানা যায়।

দ্য হিন্দুর খবরে বলা হয়, গতকাল মঙ্গলবারতামিলনাড়ু রাজ্যের তিরুপপুর জেলা থেকে ছয়জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তরা করা হয়েছে। শহরের একটি বাসস্ট্যান্ড থেকে স্থানীয় পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স তাদের আটক করে। এনআইডি কার্ড ও অন্যান্য নথিপত্র যাচাই করে। আটককৃতদের মধ্যে ছয় জনকে বাংলাদেশি বলে শনাক্ত করেছে তারা।

আটককৃতদের একটি নিটওয়্যার কারখানায় চাকরি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যে মুধালিপালায়ামে নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে দ্য হিন্দু। আটক ছয় জনই বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা। তারা হলেন ধনবীর (৩৯), রাশিব গাভুন (৪৩), মোহাম্মদ আসলাম (৪১), মোহাম্মদ আল ইসলাম (৩৭), মোহাম্মদ রাগুল আমিন (৩০) ও শাভুমুন শেখ (৩৮)।

অন্যদিকে ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, মহারাষ্ট্রের পালঘার জেলা থেকে পাঁচজন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আগে তথ্য পেয়েছে মানবপাচার বিরোধী সেল গতকাল ২২ সেপ্টেম্বর অভিযান চালায়।

আটককৃতরা হলেন, আরশাদ রহমতুল্লাহ গাজী (৫২), আলী মোহাম্মদ দিনমোহাম্মদ মণ্ডল (৫৬), মিরাজ সাহেব মণ্ডল (১৯), সাজাদ কাদির মণ্ডল (৪৫) ও সাহেব পঞ্চানন সরদার (৪৫)। তাদের কারও কাছে ভারতে থাকার বৈধ কাগজ ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।




সাবেক এমপি আউয়াল গ্রেপ্তার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: প্রতারণা মামলায় লক্ষ্মীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) এম এ আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কলাবাগান থানা।

বুধবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান।

তিনি জানান, প্রতারণা মামলায় লক্ষ্মীপুরের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালকে গ্রেপ্তার করেছে কলাবাগান থানা পুলিশ। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

এম এ আউয়াল ১৯৬৮ সালের ১৬ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এবং তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব। তিনি তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব থাকাকালে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালে তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হলে তিনি ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন।




পিরোজপুরে অস্ত্রসহ সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

বরিশাল অফিস ::পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ শিকদারকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৮ এর সদস্যরা।  বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পিরোজপুর পৌরসভা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  সোহাগ একাধিক মামলার আসামি ছিলেন।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস জানান, একাধিক মামলার আসামি পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সোহাগ শিকদারকে বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে।  তার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।



বরিশালে ড্রেনে পড়ে ছিল যুবলীগ নেতার ভাইয়ের মরদেহ

বরিশাল অফিস :: বরিশাল নগরীর ড্রেন থেকে মোহাম্মদ মোমিন মিয়া নামে (৩২) এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নগরীর বটতলা বাজার এলাকার একটি ড্রেন থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত মোহাম্মদ মোমিন মিয়া (৩২) নগরীর রুইয়ার পোল এলাকার বাসিন্দা আবুল খায়ের ধলু মিয়ার ছেলে। তিনি নগরীর ১৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহবায়ক শহিদুল ইসলাম মুন্নার ছোট ভাই।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই এইচএম সজল মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত রাতে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফেরেননি মোমিন। সকালে নগরীর বটতলা বাজারসংলগ্ন এলাকায় আব্দুর হামিদ মিয়া সড়কের ড্রেনের তার মরদেহ পাওয়া যায়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মৃত মোমিনের ভাই যুবলীগ নেতা শহিদুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও ভাইয়ের মৃত্যু হতে পারে। ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যদি হত্যার বিষয় আসে, তাহলে মামলা করা হবে।




রোহিঙ্গাদের জন্য নতুন অনুদানের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের




ভারতে রপ্তানীর প্রভাবে ইলিশ নেই বরিশালের বাজারে !

বরিশাল অফিস :: ভারতে রপ্তানি করার সিদ্ধান্তের কয়েকদিন আগে থেকেই বাজারে ইলিশের সংকট স্পষ্ট ছিলো। সরকারি ঘোষণার পর পরই বাজার থেকে উধাও হয়েছে ইলিশ। যা একটু পাওয়া যাচ্ছে তা বেশিরভাগই এলসি থেকে বাদ পড়া ঝাটকা।

ক্রেতারা বলছেন, ভারতে যে রপ্তানি হবে এটা জানতো ব্যবসায়ীরা। তাই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তারা পর্যাপ্ত ইলিশ সংরক্ষণ করতে শুরু করে। যে কারণে বাজারে ইলিশের দাম প্রথম থেকেই বাড়িয়ে রাখা হয়েছিল। এটা দেশ ও মানুষের সাথে এক ধরনের প্রতারণা। ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমোদন দিয়ে সরকারিভাবে ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইলিশ কিনতে ব্যর্থ একাধিক ক্রেতা। অপরদিকে সাগর ও নদীতে দাদন নিয়ে মাছ ধরেন জেলেরা। তাই মহাজনের কাছে বন্দী তাদের ইচ্ছা-অনিচ্ছা। তারা বলেন, সুদখোর ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই। থাকলে তারাই আগে প্রতিবাদ জানাতো এই সিদ্ধান্তের। উল্টো এই ব্যবসায়ীরাই সরকারকে ইলিশ রপ্তানি করতে বাধ্য করেছে বলে জানান একাধিক জেলে নেতা।


মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গেল এক দশকে ইলিশ উৎপাদনের হার ছিল আকর্ষণীয়।

বিশেষ করে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে প্রতি বছর ইলিশের উৎপাদন হয়েছে পাঁচ লাখ টনের বেশি। হিসাব অনুযায়ী ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ১৭ হাজার টন। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৫ লাখ ৫০ হাজার টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ লাখ ৬৫ হাজার টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৬৭ হাজার টন ও সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ শেষ পাঁচ বছরে গড়ে ইলিশের উৎপাদন হয়েছে আড়াই শতাংশের বেশি।

যদিও জেলেদের দাবি, এ হিসাব সম্পূর্ণ বানোয়াট। বরং গত পাঁচ বছর ধরে মাছের উৎপাদন কমে আসছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের নিষেধাজ্ঞা চলমান সময়ে ভারতের জেলেরা মাছ ধরায় ব্যস্ত থাকে। যা বৈষম্য সৃষ্টি করছে এবং বাংলাদেশের জেলেরা মাছ কম পাচ্ছে।

এ নিয়ে সহমত বাংলাদেশের মৎস গবেষকরাও। তবে তা কখনো গুরুত্ব পায়নি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতার কাছে। জানা গেছে, বাংলাদেশে ইলিশ সুরক্ষায় তিন মেয়াদে নিষেধাজ্ঞা থাকে। এর মধ্যে অক্টোবরে ২২ দিন। এ সময় মা মাছের ডিম ছাড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর বাচ্চা হলে তার সুরক্ষায় ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল দুই মাস নিষেধাজ্ঞা থাকে। মাছের বৃদ্ধির জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই আবার একদফায় সাগরে নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকে।

বাংলাদেশ মাৎস্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সাবেক মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক আনিছুর রহমান গতবছর এ প্রসঙ্গে চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কমকে বলেছেন, এখন আমরা যে সাফল্য পাচ্ছি, তা এই নিষেধাজ্ঞার ফল। নিষেধাজ্ঞার সময় পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই দাবী করে তিনি বলেন, তবে এখানে একটা সমস্যা আছে। আমাদের এখানে ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা থাকে কিন্তু ভারতে নিষেধাজ্ঞা থাকে ১৫ এপ্রিল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত। ১৫ জুন শুরু হয় তাদের মাছ ধরা।’ এই জায়গায় দুইটি দেশের সমন্বয় প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশে ইলিশের প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞায় সাফল্য আসতে দেখে ভারতেও মাছ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি চালু করা হয় ২০১৮ সাল থেকে। তবে এর আগে ভারতে কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিলোনা। ফলে বাংলাদেশের জেলেদের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের নতজানু নীতির কারণে জেলেদের স্বার্থে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে জানান বরগুনা ও পাথরঘাটার জেলেদের কয়েকজন। এ অঞ্চলের এমবি ফরাজী ট্রলারের মালিক দুলাল ফরাজি বলেন, বরগুনার তালতলী উপজেলার নিবন্ধিত ৫ হাজার ২০০ জন জেলে রয়েছে। ট্রলারের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। প্রতিটি ট্রলারে গড়ে ২০ জন জেলে ও শ্রমিক কাজ করে। প্রতিজন শ্রমিকের জন্য মাথাপিছু দাদন নেয়া হয়েছে। যে কারণে জেলেরা চাইলেও মহাজনের বাইরে যেতে পারেন না। কিন্তু এই মহাজনরা চাইলেই দেশের প্রতিটি বাজারে ইলিশ বিক্রি করতে পারেন বলে জানান তিনি।

যদিও চলতি বছর এ অঞ্চলের বেশিরভাগ ইলিশ বগুড়া, রাজশাহী ও রংপুরের ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়েছেন বলে জানান বরগুনার আড়ৎদার বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স এর স্বত্বাধিকারী।

এদিকে বরিশালের সবচেয়ে বড় মাছের আড়ৎ পোর্ট রোড বাজারে মঙ্গলবার( ২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কয়েক ডালা ২৫০ থেকে ৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হতে দেখা যায়। যার দাম ছিলো (২০০-২৫০ গ্রাম) ৫৫০ টাকা কেজি। ৪শ থেকে ৬শ গ্রাম এর কেজি ১১শ টাকা এবং এলসি থেকে বাদ পড়া ৯শ থেকে ১১শ গ্রাম ইলিশ ১৫শ ও ১৭শ টাকা কেজি। দু’সপ্তাহ আগেও বাজারে একই দর ছিলো। তবে তখন বরিশালের বাজারে কিছুটা হলেও সাগরের ইলিশ পাওয়া গেছে। এখন বাজারের এই ইলিশ সবটাই নদীর বলে দাবী বিক্রেতাদের।

ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর, অঞ্জন দাস সহ কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল, বরিশালের মোকামে আগে হাজার টন ইলিশ আসতো। পদ্মা ও পায়রা সেতু হওয়ার পর থেকেই তা কমে গেছে। বর্তমানে পোর্ট রোড ইলিশ পাড়ায় সর্বোচ্চ ১০০ টন ইলিশ আসে। আর আজ মঙ্গলবার সকালে এলসি হয়েছে ৬০ টন মাত্র। যা বেশিরভাগ নদীর ইলিশ। তাদের ইলিশের বড় ক্রেতাও বগুড়া ও রাজশাহী অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা বলে জানান তারা।

বরিশালের মোকামে আড্ডারত জেলেদের কয়েকজন বলেন, আমাদের তুলনায় ভারতের জেলেরা সবসময় সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে। তারা মাছও বেশি ধরছে এবং তাদের ধরা ইলিশ বেশিরভাগই বড় বড় সাইজের। তারপরও লোক সংখ্যাগত কারণে ভারতের জন্য পর্যাপ্ত নয়। কিন্তু আমাদেরও নিজ দেশের চাহিদা আগে মেটানো উচিত বলে জানান বরিশালের জেলে নেতা খোরশেদ আলম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাগরে যখন ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলে তখন আরও এক মাস ইলিশ ধরা বহাল থাকে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলের জেলেদের। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনছে বলে মনে করেন তিনি। জেলেরা কেন সরাসরি বাজারে ইলিশ বিক্রি করছেন না প্রশ্নের উত্তরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন তারা। বলেন, আমরা তো দাদন নিয়ে তবে চলছি। মহাজনের কাছে আমাদের আপাদমস্তক ভাড়া দেওয়া। নিজস্ব ট্রলার যার আছে সে চাইলে বাজারে সরাসরি মাছ নিতে পারেন। আর আড়ৎদার ইচ্ছে করলে কোনো মাছই দেশের বাইরে যেতে পারেনা।

জানা যায়, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মহাজন বা আড়ৎদার জেলেদের চড়া সুদে ঋণ দিচ্ছেন। যে কারণে পর্যাপ্ত মাছ পাওয়ার পরও ঋণ পরিশোধ হয় না তাদের। এ নিয়েও রয়েছে একাধিক অভিযোগ। পটুয়াখালী ফিশিং বোট মালিক সমিতি, বরগুনা ফিশিং বোট মালিক সমিতির নেতাদের ভাষ্য, সরকারী উদ্যোগে ঋণমুক্ত করে সরাসরি বাজারে মাছ বিক্রির সুযোগ করে দিতে হবে। তাহলে দেশের মানুষের চাহিদা মিটিয়ে পর্যাপ্ত ইলিশ রপ্তানি সম্ভব হবে বলে।




ভোলায় ঘরচাপায় বৃদ্ধা আমিন্নেছা মৃত্যু কান্না থামছে না মেয়ের

বরিশাল অফিস :: প্রায় ৪৮ বছর বয়সী রহিমা বিবি। স্বামীর মৃত্যুর পর বৃদ্ধা মায়ের কাছে থাকতে শুরু করেন তিনি। তার মা আমিন্নেছা বয়স প্রায় ১০০ বছর। তবে সেই মা-ই রহিমার চোখের সামনে করুণভাবে মারা যান। মায়ের মৃত্যুর শোক কোনোভাবেই কাটছে না রহিমার। মায়ের করুণ মৃত্যুর দৃশ্য এখনো ভেসে ওঠে রহিমার চোখে। তখনই ঢুকরে ঢুকরে কান্না করতে থাকেন তিনি।

ভোলার লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টিপকল বাড়ি সংলগ্ন একটি ঝুপড়ি ঘরে গত ৮ বছর ধরে বৃদ্ধা মা আমিন্নেছার সঙ্গে থাকতেন রহিমা বিবি। তবে সম্প্রতি লালমোহনে বয়ে যাওয়া আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ওই ঝুপড়ি ঘরটি ভেঙে চাপা পড়ে মারা যান রহিমার বৃদ্ধা মা।

রহিমা বিবি জানান, গত ১০ বছর আগে বাবা মারা যান। এরপর মা একাই ঝুপড়ি ঘরে থাকা শুরু করেন। সম্পত্তি বলতে বাবার রেখে যাওয়া বসতভিটা টুকুই। বাবার মৃত্যুর পর মূলত স্মৃতি আকড়ে থাকতে ওই ঘরটিতে মা থাকতেন। মায়ের অনেক বয়স হওয়ায় কিছুই করতে পারতেন না। তাই প্রতিবেশীরা যা সহযোগিতা করতেন তা দিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-পরে বেঁচে ছিলেন। গত ৮ বছর আগে আমার স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর স্বামীর বাড়ি থেকে এসে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করি। কারণ মা বৃদ্ধা এবং কোনো কাজও করতে পারতেন না। তাই মায়ের সঙ্গে থেকে আমি মানুষের বাড়িতে কাজ করতাম। এছাড়া প্রতিবেশীরাও কিছু সহযোগিতা করতেন। আমাদের সঙ্গে থাকতো আমার ছোট্ট এক নাতনিও। ওর মা ঢাকায় চাকরি করায় তাকে আমাদের কাছে রেখেছি। মানুষের সহযোগিতা ও নিজের কাজের বিনিময়ে পাওয়া সামান্য পরিমাণের অর্থে চাল-ডালে কিনে কোনোভাবে খেয়ে-পরে দিনপার করছি।

তিনি জানান, গত শুক্রবার রাতে হঠাৎ করেই ঘূর্ণিঝড় শুরু হয়। তখন আমরা সকলে ঘরের মধ্যেই ছিলাম। ওই ঝড়ের তা-বে ঝুপড়ি ঘরটি ভেঙে যাওয়ার শব্দ শুনে ছোট্ট নাতনিকে নিয়ে চৌকির নিচে আশ্রয় নিই। মাকেও চৌকির নিচে নামাবো, এরইমধ্যে ঘরটি দুমড়ে-মুচড়ে পড়ে যায়। ওই সময় ঘরের নিচে চাপা পড়েন আমার বৃদ্ধা মা। তখন চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এসে মা এবং আমার ছোট্ট নাতনিসহ আমাকে উদ্ধার করেন। ঘর চাপা পড়ে মা পেট এবং বুকে প্রচন্ড আঘাত পান। ওই আঘাতের তীব্র ব্যথায় মা আমাকে বার বার ডাক্তার আনতে বলেছিলেন। তখন মাকে সকালে ডাক্তারের কাছে নেবো বলে আশ্বাস দিই। তবে এরপর রাত কেটে সকাল হয়েছে। শুক্রবার থেকে দিন বদলে হয়েছে শনিবার। সবই নিয়ম মতো পাল্টেছে। তবে মায়ের আর শরীর ভালো হয়নি। শনিবার সকাল ৭ টার দিকে মায়ের মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আমার চোখের সামনেই করুণভাবে মারা যান তিনি। মৃত্যুর পর প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় একইদিন দুপুর ২টার দিকে পাশের বাড়িওয়ালাদের পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের লাশ দাফন করা হয়।

রহিমা বিবি আরো জানান, চোখের সামনে মায়ের করুণ মৃত্যু কোনোভাবেই এখনো মানতে পারছি না। বয়স হয়েছে, আল্লাহ হয়তো এই উছিলায় মাকে নিয়ে গেছেন। তাই মাকে তো আর পাবো না। তবে এখন আমরা যেই ঝুপড়ি ঘরটিতে থাকতাম তা ভেঙে যাওয়ায় রাতের বেলায় অন্যের ঘরে গিয়ে ঘুমাই। কয়েকটি লাঠি দিয়ে আপাতত ঘরের টিনের চালাটা দাঁড় করিয়ে দিনের বেলায় সেই ভাঙা ঘরটিতে এসে চাল-ডাল রান্না করে খেয়ে ছোট্ট নাতনিকে নিয়ে থাকি। নতুন করে এই ঘরটি তোলার আমার কোনো সাধ্য নেই। কারণ আমি ঠিকমতো খেতেই পারি না। শাক-সবজি আর কচুরলতি খোঁজ করে ও মানুষের দেওয়া সহযোগিতা এবং নিজের কাজের বিনিময়ে পাওয়া সামান্য অর্থে চাল-ডাল কিনে খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। যেখানে নিজের খেয়ে-পরে বেঁচে থাকাটাই কষ্টের, সেখানে এখন নতুন করে ঘর তুলবো কিভাবে? আমার নিজের এক ছেলে এবং এক মেয়ে রয়েছে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, সেও ভালো নেই। যার জন্য ছোট্ট নাতনি আমার কাছেই থাকে। এছাড়া ছেলে বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে চট্টগ্রাম থাকে। সে আমার কোনো খোঁজ নেয় না। যার জন্য বেঁচে থাকতে নিজেকেই রোজ সংগ্রাম করতে হয়। এখন সরকারি বা বেসরকারিভাবে আমার ঘরটি নির্মাণ করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে কোনোভাবেই আমি এই ঘরটি তুলতে পারবো না। এছাড়া আমার যেহেতু স্বামী মারা গেছেন, সেজন্য আমাকে সরকারিভাবে একটি বিধবা ভাতা করে দেওয়ারও দাবি জানাচ্ছি। তাহলে কোনোভাবে বাবার রেখে যাওয়া ভিটায় একটু শান্তিতে থাকতে পারবো।

রহিমা বিবির প্রতিবেশী শামসুদ্দীন সরদার বলেন, বৃদ্ধা আমিন্নেছা এবং তার মেয়ে খুবই অসহায় অবস্থার মধ্যদিয়ে দিনপার করতেন। এখন ঝড়ে ঘরচাপায় বৃদ্ধা আমিন্নেছা মারা গেছেন। তবে ঝড়ে ভেঙে যাওয়া ঘরটি তার মেয়ে রহিমার পক্ষে নতুনভাবে তোলার কোনো পথ নেই। তাই আমরা প্রতিবেশী হিসেবে সমাজের বিত্তবানদের এবং সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাগুলোকে অসহায় রহিমার ঘরটি তুলে দেওয়ার অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুল ইসলাম চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কমকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে এই উপজেলায় কেউ মারা গেছেন এমন কোনো তথ্য আমার জানা নেই। তবে ঝড়ে ঘরচাপায় কারো মৃত্যু হলে ওই পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে আবেদন করলে তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদানের চেষ্টা করবো।




সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ গ্রেফতার

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ  ::সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর)ভোরে ঢাকার গুলশান থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‍্যাবের একটি দল।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‍্যাবের লিগ্যাল ও মিডিয়া উইং পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনিম ফেরদৌস।

তিনি বলেন, গত ৪ আগস্ট নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, আক্রমণ ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।




আত্মগোপনে আওয়ামী আইনজীবীরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনরোষে গণভবন লুটপাট হয়। সংসদ ভবন আক্রান্ত হয়। গুটিকয়েক বাদে আক্রান্ত হয় দেশের সব থানা। আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় অনেকগুলো থানা। আক্রমণে ৪০ এর অধিক পুলিশ সদস্য নিহত হন। নিহত হন হাজারেরও অধিক আন্দোলনকারী।

দেশের ইতিহাসে নজীরবিহীন এ আন্দোলনের পর জনরোষ থেকে বাঁচতে আত্মাগোপনে যান আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগীরা। হেভিওয়েট নেতা থেকে মাঝারি নেতা পাতি নেতা এমনকি আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। আত্মগোপনে চলে যান আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট, মাঝারি ও পাতি আইনজীবী নেতিারা।

গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ১৪ আগস্ট প্রথমবারের মতো ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আনা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে।