পটুয়াখালীতে সার্ভে ইঞ্জিনিয়ার্সদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী শুরু

পটুয়াখালী প্রতিনিধি :: পটুয়াখালীতে সরকারের সকল মন্ত্রনালয়, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও সংস্থায় ডিপ্লামা-ইন- ইঞ্জিনিয়ারিং ( সার্ভেয়িং) ডিগ্রীধারী সার্ভেয়ার/ সমমানের পদে কর্মরতদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ছাত্র- পেশাজীবী অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচী শুরু।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর ) সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক কার্যালয় ভবনের নীচতলায় বৈষম্যবিরোধী সার্ভে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ছাত্র- পেশাজীবি অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ পটুয়াখালীর ব্যানারে
চাকুরীক্ষেত্রে সার্ভেয়ার, সমমান পদে কর্মরত, নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবীতে কেন্দ্রীয় ঘোষিত ১- ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সকাল ৯ টা হতে দুপুর ১ টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচীর প্রথমদিনের এ কর্মসূচীতে ১০ ম গ্রেড বাস্তবায়নের দাবিতে বক্তব্য রাখেন ভূমি অধিগ্রহন (এলএ) শাখার সার্ভেয়া মো. আরিফুল হক খোকন, ভূমি অধিগ্রহন শাখার সার্ভেয়ার মো. সাদ্দাম হোসাইন, সার্ভেয়ার মোসারেফ হোসেন, সার্ভেয়ার মো. নজরুল ইসলাম, সার্ভেয়ার বিশ্বজিৎ, সার্ভেয়ার আসাদুর রহমান, সার্ভেয়ার মরিয়ম, সার্ভেয়ার খাইরুল হাসান, সার্ভেয়ার( বেপজা) মো. রফিকুল ইসলাম, সার্ভেয়ার ( সড়ক) মো. নাজমুল হুদা প্রমুখ।

বক্তারা জানান, দীর্ঘ আন্দোলন শেষে ২০১৮ সালে রিট পিটিশনে উচ্চ আদালত সার্ভে ডিপ্লোমাধারীদের জন্য নির্ধারিত সার্ভেয়ার সমমানের পদ সমূহকে ২য় শ্রেনীর মর্যাদা এবং বেতন স্কেল ১০ম গ্রেডে উন্নীত করনের আদেশ দিলেও উক্ত রায় বাস্তবায়নে কালক্ষেপন করে সার্ভে ডিপ্লোমাধারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বর্তমান বৈষম্যহীন বাংলাদেশে আমরা অনতিবিলম্বে অন্যান্য সকল ডিপ্লোমা-ইন- ইঞ্জিনিয়ারিং এর ন্যায় ডিপ্লোমা ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং ( সার্ভয়িং) পাশকৃতদের সার্ভেয়ার/সমমান পদে কর্মরত/ নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন স্কেল ১০ ম গ্রেডে উন্নীত করার জন্য অর্ন্তবর্তীকালিন সরকারের কাছে আমরা জোরদাবী জানাচ্ছি। এ দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলেও হুশিয়ারি করেন।




যুক্তরাষ্ট্রে নিহতের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ৬০০




বরিশালে ইলিশ আড়তে’ কেন ইলিশের সংকট

বরিশাল অফিস :: ভরা মৌসুমে বরিশাল নগরীর ‘ইলিশ মোকাম’ হিসেবে পরিচিত পোর্ট রোডের আড়তে ইলিশ নেই। জেলেরা নদীতে নামলেও অনেকে খালি হাতে ফিরছেন। আবার অনেকে নদীতে জাটকা ধরছেন। সাগরে বড় ইলিশ না পাওয়ায় দাদনের টাকা পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলেরা। ইলিশ সংকটের জন্য বৈরী আবহাওয়াকে দায়ী করছেন তারা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, বড় ইলিশ সমুদ্র থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছেন জেলেরা।

এদিকে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে ইলিশ রফতানি শুরু হয়েছে। প্রতি কেজি রফতানি হচ্ছে ১০ মার্কিন ডলার বা এক হাজার ১৮০ টাকায়। তবে দেশের বাজারে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ ভারতে যে দামে রফতানি হচ্ছে, তার চেয়ে প্রতি কেজিতে ৮০০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে দেশের ক্রেতাদের। ফলে রফতানি মূল্য নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

তবে রফতানির খবরে দেশের বাজারে ইলিশের দাম বেড়ে গেলেও সেটিকে প্রধান কারণ মনে করছেন না বরিশালের আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মূলত বাজারে মাছের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেশি। কেন সরবরাহ কম সে প্রশ্নের জবাবে তারা জানালেন, নদী ও সাগরে মাছ কম ধরা পড়ছে। কীভাবে বুঝলেন, কারণ সাগরের মাছ পোর্ট রোডের আড়তে আসছে না।

জেলে, আড়তদার ও মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে রফতানির খবরে সাগরের ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। তাও সরবরাহ কম থাকার কারণে। তবে নদীর ইলিশের দাম অপরিবর্তিত আছে। নগরীর ইলিশ মোকামের আড়তদারদের দাবি, এবার মাছের দাম এমনিতেই বেশি। কারণ সংকট। তবে রফতানির খবরে দাম ততটা বাড়েনি, যতটা প্রচার হচ্ছে। নদীর ইলিশ আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। দাম বেশির কারণে ক্রেতাও কম।

বাজারে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে বাজারে খুচরা পর্যায়ে এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে

নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকামের আড়তদার মো. মোবারক হোসেন ও জহির সিকদার জানিয়েছেন, এবার নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ শিকার শুরু হলেও তেমন কোনও সুবিধা পাননি বরিশালের আড়তদার ও জেলেরা। কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য আড়ত গড়ে উঠেছে। এ কারণে দাদন দেওয়া হলেও সাগরের জেলেরা এখন আর এই বাজারে আসেন না। তারা তাদের সুবিধামতো স্থানে অর্থাৎ যেখানে বেশি দাম পান, সেখানে ইলিশ বিক্রি করে দিচ্ছেন। পোর্ট রোড মোকামে শুধুমাত্র নদীর ইলিশ আসছে। তাও এবার অনেক কম। এজন্য মূলত দাম বেশি। তবে মাঝেমধ্যে সাগরের ইলিশের সরবরাহ বেড়ে গেলে তখন দাম কিছুটা কমে আসে। এবার তা হয়নি।

মোবারক হোসেন বলেন, ‘ভারতে রফতানির বিষয়টি প্রচার হওয়ার পর সাগরের ইলিশের দাম বেড়েছে। কিন্তু নদীর ইলিশের দাম বাড়েনি। কারণ আমাদের মোকামে যে পরিমাণ ইলিশ আসছে, সেখান থেকে রফতানি করার মতো নেই। আমরা নিশ্চিত করে বলছি, গত দুই মাস ধরে একই দামে মাছ বিক্রি করছি।’

জহির সিকদার বলেন, ‘এবার সাগরের ইলিশ আমাদের আড়তে না আসায় কর্মচারীদের বেতন দিয়ে চলতে খুব কষ্ট হচ্ছে। পোর্ট রোড মোকামের বেশিরভাগ আড়তদার যেসব এলাকায় সাগরের মাছ উঠছে, সেখানে নতুন ব্যবসা বসিয়েছেন। এর মধ্যে বেশিরভাগ আড়তদার মহিপুর থেকে সাগরের ইলিশ কিনছেন। বরিশাল মোকামের লোকসান মহিপুর থেকে পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আমার সেখানে মোকাম নেই।’

নগরীর বাংলা বাজারের মাছ বিক্রেতা হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘বরিশালের আড়তে সাগরের মাছ আসা বন্ধ হয়েছে অনেক দিন হলো। এখন নদীর ইলিশ আসে। সেখান থেকে পাইকারি কিনে আমরা বাজারে এনে খুচরায় বিক্রি করছি। তবে বড় ইলিশের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কম হয়। এ কারণে জাটকাসহ ছোট সাইজের ইলিশ এনে তা বিক্রি করি। তবে এবার বাজারে ইলিশের সংকট মনে হচ্ছে।’

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলা বাজারে প্রতি কেজি জাটকা বিক্রি হয়েছে ৫৫০ টাকা কেজি দরে। ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের বিক্রি হয়েছে এক হাজার ২০০ টাকা কেজিতে। এক কেজি বা তার চেয়ে কিছুটা বেশি ওজনের মাছ বিক্রি হলো ১৮০০-১৯০০ টাকায়। সোয়া কেজি ও তার চেয়ে কিছুটা বেশি ওজনের মাছ বিক্রি হয়েছে ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা কেজি দরে। এসব মাছ পোর্ট রোড আড়ত থেকে এনে বিক্রি করছেন এই বাজারের ব্যবসায়ীরা। এজন্য পোর্ট রোড থেকে কিছুটা দাম বেশি বলে জানালেন হেমায়েত উদ্দিন।

একই দিন পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে জাটকা ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে এক হাজার থেকে এক হাজার ১০০ টাকা কেজি দরে। ‍তার চেয়ে একটু বড় সাইজের ইলিশ বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৪০০-৫০০ এবং এক কেজি ওজনের বিক্রি হচ্ছে ১৭০০-১৮০০ টাকায়।

নগরীর সাগরদী বাজারের খুচরা মাছ বিক্রেতা মো. জুনায়েদ হোসেন বলেন, ‘এক কেজির ইলিশ বিক্রি করতে হয় ১৭০০-১৮০০ টাকায়। এত দাম দিয়ে কিনতে চান না ক্রেতারা। তা ছাড়া দাম বেশি হওয়ার কারণে বড় সাইজের ইলিশের ক্রেতা কম। বড় ইলিশ আনলে আমরা বিক্রি করতে পারি না। তাতে বরফ দিয়ে রাখলে খরচ বেড়ে যায়। এজন্য ছোট সাইজের কিংবা ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের মাছ এনে বিক্রি করছি।’

এবার নদীতে মাছ কম ধরা পড়ার কথা জানিয়েছেন ভোলার মেঘনা নদীতে মাছধরা জেলে মো. আশরাফুল ইসলাম। বলেন, ‘যেসব আড়তে ভালো দাম পাওয়া যায় সেখানেই আমরা ইলিশ বিক্রি করি। অনেক আড়তে ৪০ কেজিতে মণ ধরা হলেও বরিশাল মোকামে ৪৩ কেজিতে ধরা হয় মণ। এমনকি আড়তে মাছের পরিমাপ করতে মণপ্রতি ৪০০-৫০০ টাকা গুনতে হয়। এসব কারণে বরিশাল মোকাম থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছি আমরা। তবে যেসব জেলে দাদন নিয়েছেন তারা বরিশাল মোকামে মাছ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তারপরও তারা সুযোগ পেলে কিছু ইলিশ নদীতে বসেই বিক্রি করে দেন। বরিশাল মোকামে ইলিশ টানতে হলে জেলেদের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।’

নগরীর পোর্ট রোড ইলিশ মোকামে মাছ কিনতে আসা আবু জাফর বলেন, ‘নদীর মিঠা পানির ইলিশের চাহিদা আছে। তবে দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তারপরও বাধ্য হয়ে বেশি দামেই কিনতে হচ্ছে আমাদের। ইলিশের দাম আরও কমলে আমাদের জন্য ভালো হতো।




শেখ হাসিনার ছেলে জয়, মেয়ে পুতুলের ব্যাংক হিসাব জব্দ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ::সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। আজ সোমবার ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের ব্যক্তিগত ও ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব স্থগিত থাকবে। আগামী ৩০ দিন এসব হিসাবে কোনো ধরনের লেনদেন করতে পারবে না। প্রয়োজনে লেনদেন স্থগিত করার সময় বাড়ানো হবে। তাদের লেনদেন স্থগিত করার এ নির্দেশের ক্ষেত্রে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা সংশ্লিষ্ট ধারা প্রযোজ্য হবে।

ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে জয় ও পুতুলের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হলে তাদের হিসাব সংশ্লিষ্ট তথ্য বা দলিল যেমন হিসাব খোলার ফরম, কেওয়াইসি ও লেনদেন বিবরণী ইত্যাদি তথ্য পাঠাতে বলেছে বিএফআইইউ।




বরিশালের ৬ লেন প্রকল্প পায়রা সেতু পর্যন্ত সীমিত করার সিদ্ধান্ত

এস এল টি তুহিন :: ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘ কালক্ষেপন সহ ব্যায় বৃদ্ধির কারণে রাজধানী সহ সারা দেশের সাথে বরিশাল অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের মূল সেতুবন্ধন ৮ নম্বর জাতীয় মহাসড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরন প্রকল্পটি নতুন করে অনিশ্চয়তার কবলে। অর্থ বরাদ্দ থাকার পরেও নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ের ৩ বছর পরেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্ভব হয়নি। ৩গুন ব্যায় বৃদ্ধির প্রস্তাব পরিকল্পনা কবমিশনে আটকে যাবার পরে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিকভাবে বরিশাল সীমান্ত পর্যন্ত ৬ লেন প্রকল্পের জন্য ভূমি হুকুম দখলের প্রস্তাবনা পেশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

ভূমি অধিগ্রহণে ব্যায় বরাদ্দ বৃদ্ধির একটি প্রস্তাবনা সম্প্রতি একনেক-এর সভায় উপস্থাপনের কথা থাকলেও তা ফেরত পাঠানোর পরে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিয়ে পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে ভূমি অধিগ্রহণে নতুন সিদ্ধান্তের ফলে বরিশাল মহানগরী পেরিয়ে লেবুখালীতে পায়রা সেতু পর্যন্ত লেন মহাসড়ক প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণের ডিপিপি দাখিল করা হবে। পরবর্তিতে মহাসড়কটির পটুয়াখালী-পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা অংশের ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


বরিশাল-ফরিদপুর ও বরিশাল-পটুয়াখালী-পায়রা বন্দর-কুয়াকাটা মহাসড়কটির উপরই সারা দেশের সাথে দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার সড়ক পরিবহন নির্ভরশীল। এমনকি প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ‘পদ্মা সেতু ও সংযুক্ত এক্সপ্রেসওয়ে’র সুফলও নির্ভর করছে এ মহাসড়কটির উন্নয়নের উপর। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু চালু হবার পরে বরিশাল অঞ্চলের জাতীয় এ মহাসড়কটি ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের বাড়তি চাপ ইতোমধ্যে দুর্ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি সহ নানা বিড়ম্বনার সৃষ্টি করেছে। এমনকি বাড়তি যানবাহনের কারণে এ মহাসড়কের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার মহাসড়কে যানবাহনের গতি এখন অনেক ধীর। ফলে আগের চেয়ে বাড়তি সময় লাগছে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ২০১৫ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বরিশাল-ফরিদপুর ও বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাড়কটি ৬ লেনে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সহ পথনকশা তৈরী করা হয়।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সুপারিশ ও সমীক্ষার পথনকশা অনুযায়ী প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে ২০১৮ সালে একটি আলাদা প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণের কাজটি শেষ করার কথা থাকলেও ২০২৪ সালের জুনে চাহিদার অর্ধেক ভূমিও অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। ইতোমধ্যে ভূমির দামও প্রায় ৩গুন বেড়েছে। ফলে অধিগ্রহণকৃত জমির মূল্য পরিশোধে বাড়তি টাকার প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে বাস্তবতার আলোকে বরিশাল মহানগরীর পরিবর্তে প্রায় ১৬ কিলোমিটার বাইপাস নির্মানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হওয়ায় বাড়তি জমি অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে। পটুয়াখালীতেও পথনকশায় কিছু পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এছাড়া বরিশাল বিমানবন্দর ডাইভার্শন ও ফরিদপুরে একটি প্রতিবন্ধী স্কুলের পুনর্বাসনেও অতরিক্ত অর্থ ব্যায় হবে। সব মিলিয়ে আরো অন্তত ২শ হেক্টর বাড়তি ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকার প্রকল্পব্যায় ৫ হাজার ৮০০ কোটিতে উন্নীতকরনের লক্ষ্যে ‘সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি’ সড়ক অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয় হয়ে পরিকল্পনা কমিশনে উপস্থাপনের পরে তা অনুমোদন না দিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) বৈঠকে বসেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা।

জমির বর্তমান বাজার মূল্য বৃদ্ধি সহ নতুন পথনকশা অনুযায়ী বাড়তি প্রায় ২শ হেক্টর সহ ৩ হাজার ৭শ হেক্টর জমির মূল্য পরিশোধেই বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। তবে এপর্যন্ত বরিশাল সড়ক বিভাগের ৩৩ কিলোমিটার ও মাদারীপুর অংশে মাত্র ৭ কিলোমিটার অংশে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে । ইতোমধ্যে অধিগ্রহণকৃত ভূমির অর্থ পরিশোধ হলেও সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরে অধিগ্রহণ বাবদ বরাদ্দকৃত ৮৯০ কোটি টাকার পুরোটাই ফেরত গেছে বলে জানা গেছে। ফলে গত প্র্রায় ৭ বছরে বরিশাল-ফরিদপুর ও বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়কটির ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতিও তলানীতে।

তবে কি করণে নির্ধারিত সময়ের ৩ বছর পরেও ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলোনা এর জবার নেই কারো কাছে। সড়ক অধিদপ্তরের বরিশাল জোনের এক কর্মকর্তা বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ একটি জটিল বিষয় হলেও এত দীর্ঘ সময় ব্যায় হওয়া উচিত ছিল না। তাদের মতে ৬টি জেলার জেলা প্রশাসন এ ভূমি অধিগ্রহণের সাথে জড়িত। বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের ল্যান্ড এক্যুইজিশন দপ্তর সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে অনেক কিছু পিছিয়ে গেছে।




চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে আগ্রহী সরকার: উপদেষ্টা নাহিদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধু উল্লেখ্য করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে আগ্রহী অন্তর্বর্তী সরকার।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অফিস কক্ষে চীনা রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম পাঠানোয় চীনের রাষ্ট্রদূতকে ধন্যবাদ জানান।

উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান লক্ষ্য রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার এবং পুনর্গঠন। বিপ্লবের পর চীন যেভাবে অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে, বাংলাদেশ সে বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে চায়। কারণ, সম্প্রতি বাংলাদেশও বিপ্লবের মধ্য দিয়ে নতুনভাবে স্বাধীন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কারকাজে চীনের পরামর্শ ও সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উপদেষ্টা নাহিদ বলেন, ‘বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির প্রসারে চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বিশ্বাস করি।’

চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ইয়েন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসছে, যা সামনের দিকে আরও উন্নত হবে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যা–ই থাকুক, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক অটুট থাকবে।

চীন বিশ্বাস করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের মাধ্যমে একটা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে পারবে বলে জানান সে দেশের রাষ্ট্রদূত। তিনি উপদেষ্টাকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।

সাক্ষাৎকালে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. মুশফিকুর রহমান, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, দূতাবাসের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক কাউন্সিলর সং ইয়াং এবং দূতাবাসের প্রথম সচিব চুই উইফেং উপস্থিত ছিলেন।




আশুলিয়ায় শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাভারের আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে কাউসার হোসেন খান (২৭) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও দুইজন গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্তত ৫টি গাড়ি।

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১১টার দিকে টঙ্গী-আশুলিয়া-ইপিজেড সড়কের জিরাবো এলাকার মন্ডল গ্রুপের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অপারেশন ইনচার্জ নাসির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত কাউসার হোসেন খান ম‍্যাংগো টেক্সট লিমিটেড নামের কারখানায় কাজ করতেন।

প্রাথমিকভাবে আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ দুই জনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন ন্যাচারাল ডেনিমসের শ্রমিক হাবীব ও ন্যাচারাল ইন্ডিগো কারখানার শ্রমিক নাজমুল হাসান। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।

শ্রমিকরা জানায়, অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আজ সকালে মন্ডল গ্রুপের শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ত্রিপক্ষীয় মিটিং চলছিল। এসময় সমঝোতা না হওয়ায় শ্রমিকরা কারখানার বাইরে এসে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে অন্যান্য কারখানার শ্রমিকরা সেখানে জড়ো হতে থাকে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও শ্রমিকরা মুখোমুখি অবস্থান নিলে শ্রমিকরা র‌্যাব ও পুলিশের পাঁচটি গাড়ি ভাঙচুর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা লাঠিচার্জ শুরু করে। পরে শ্রমিকরা আরও উত্তেজিত হলে পুলিশ গুলি চালায়। এসময় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হলে তাদের স্থানীয় পিএমকে হাসপাতাল ও সাভারের এনাম মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। এসময় এনাম মেডিকেলের কর্তব্যরত চিকিৎসক কাউসার হোসেনকে মৃত ঘোষণা করে।

ঘটনার বিষয়ে শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।




শেবাচিমে পড়ে আছে ৯ কোটি টাকার যন্ত্র, রোগীদের ছুটতে হয় ঢাকায়

বরিশাল অফিস :: ‘গভীর রাতে বুকব্যথা ওঠার পরই প্রচণ্ডভাবে ঘামাচ্ছিলাম। মনে করেছিলাম গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা। কিন্তু কোনোভাবেই ব্যথা কমছিল না। স্বজনরা দ্রুত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলো। সঙ্গে সঙ্গে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি হতে বললেন চিকিৎসক। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানালেন স্ট্রোক করেছি। বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে তিন দিনের বিশ্রাম দিলেন। আমার প্রয়োজন ছিল এনজিওগ্রাম করে হার্টে কোনও ব্লক আছে কিনা দেখে চিকিৎসা দেওয়ার। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা ছিল না এই হাসপাতালে। পরে চিকিৎসক আমাকে ঢাকায় পাঠান।’

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থার এমন বর্ণনা দিয়েছেন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ক্যামেরাপারসন নারায়ণ সাহা। তিনি বরিশাল নগরীর বাসিন্দা।

নারায়ণ সাহা বলেন, ‘ওই হাসপাতালে হৃদরোগের কোনও ধরনের চিকিৎসা না পেয়ে স্বজনের কাছ থেকে ধারদেনা করে ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যাই। সেখানে গিয়ে পরীক্ষা করে হার্টে একটি ব্লক ধরা পড়ে। চিকিৎসক রিং পরিয়ে দেন। ঢাকায় রিং পরানোর খরচের চেয়ে সবচেয়ে বেশি টাকা ব্যয় হয়েছে আসা-যাওয়া ও থাকা-খাওয়ায়। অথচ শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যবস্থা থাকলে অল্প টাকায় হয়ে যেতো। শুধুমাত্র রিং পরানোর চিকিৎসক না থাকায় প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতালে এনজিওগ্রাম কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

একই দুরবস্থার কথা জানালেন ওই হাসপাতালে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন মো. লিটু, বজলুর রহমান ও আসাদসহ একাধিক রোগী। হার্টের চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন তারা। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হাসপাতালে এনজিওগ্রাম এবং রিং পরানোর কার্যক্রম বন্ধ আছে। তাদের ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

মো. লিটু ও বজলুর রহমান জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা ঢাকায় যাওয়ার পরামর্শ দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছেন। কিন্তু তাতে যে খরচ হবে সে খরচ কোথা থেকে আসবে, তা তারা বলছেন না। এই হাসপাতালে এনজিওগ্রাম ও রিং পরানোর ব্যবস্থা থাকলে স্বল্প সময়ে অল্প খরচে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারতেন তারা। এখন খরচ জোগাতে জমি বিক্রি করতে হবে, নয়তো ধারদেনা করতে হবে। এ ছাড়া কোনও উপায় দেখছেন না তারা।

হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগের সিনিয়র টেকনিশিয়ান গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘২০১৩ সালে হৃদরোগ বিভাগে প্রায় ৯ কোটি টাকার এনজিওগ্রাম মেশিন সরবরাহ করেছিল সরকার। কিন্তু মেশিনটি পরিচালনায় চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন রোগীদের কোনও উপকারে আসেনি।

পরবর্তীতে ইন্টারভেনশনাল হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. এম সালেহ উদ্দীনকে বরিশালে পদায়ন করা হলে মেশিনটির কার্যক্রম শুরু করেন। ২০১৪ সালের ২৪ জুলাই থেকে তিনি রোগীদের হার্টে রিং পরানো শুরু করেন। সেই থেকে কার্যক্রম সচল ছিল। রোগীদের শুধু রিং কিনতে হতো। এ ছাড়া আর কোনও খরচ দিতে হতো না।’

ডা. সালেহ উদ্দীন এনজিওপ্লাস্টি করার পাশাপাশি হৃৎপিণ্ড ও কিডনিতে রিং সংযোজন করতেন উল্লেখ করে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘তার কাছে বহু রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ আছেন। গত ২৬ নভেম্বর ডা. সালেহ উদ্দীনকে সহকারী অধ্যাপক পদ থেকে সহযোগী অধ্যাপক করে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পদায়ন করা হয়। তিনি সেখানে চলে গেলে স্থবির হয়ে পড়ে শের-ই-বাংলা হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগ।’

হাসপাতালের সিসিইউতে ১৬টি সিটের বিপরীতে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন হাসপাতালের সিসিইউতে ১৬টি সিটের বিপরীতে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন

হাসপাতালের সিসিইউতে ১৬টি সিটের বিপরীতে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন জানিয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘যাদের বেশিরভাগের হার্টে এনজিওগ্রাম করা জরুরি। এজন্য কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়। এদের মধ্যে যারা টাকা জোগাড় করতে পারেন তারা ঢাকায় যান। আর যাদের সামর্থ্য থাকে না তারা ওষুধ খেয়ে ব্যথা নিরাময়ের চেষ্টা করেন। অনেকে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যান।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক এক সহযোগী অধ্যাপক হার্টের রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। এ ছাড়া হাসপাতালের জুনিয়র ১১ জন চিকিৎসক কার্ডিওলজি বিভাগে দায়িত্ব পালন করছেন। রিং পরানোর চিকিৎসক নেই এখানে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিভাগের ছয় জেলাসহ পদ্মা সেতুর এপারের ১১ জেলাবাসীর চিকিৎসার আশ্রয়স্থল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। এ কারণে ঢাকায় না গিয়ে সবাই চিকিৎসার জন্য চলে আসেন। কিন্তু রিং পরানোর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর থেকে বিপাকে পড়েছেন রোগীরা।

এ ব্যাপারে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক এইচ এম সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ডা. সালেহ উদ্দীন থাকাকালীন হাসপাতালে এনজিওগ্রাম থেকে শুরু করে হার্টে রিং বসানোর কাজ হতো। স্বল্প খরচে তা হয়ে যেতো। কিন্তু তার বদলির পর ওই পদ শূন্য। তার মতো অভিজ্ঞ চিকিৎসক না পাওয়ায় এনজিওগ্রাম থেকে শুরু করে হার্টে রিং বসানো বন্ধ রয়েছে। এমনকি ওই বিভাগের টেকনিশিয়ান গোলাম মোস্তফা অবসরে যাওয়ার পরও তাকে ধরে রাখা হয়েছে। যাতে অভিজ্ঞ চিকিৎসক আসার পর কোনোভাবে রোগীদের সমস্যায় পড়তে না হয়। আমার তরফ থেকেও বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয় চিকিৎসক দিলেই যেকোনো সময় কার্যক্রম শুরু করা যাবে।’

প্রসঙ্গত, ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও গুরুত্ব সহকারে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইয়েস, ইউজ হার্ট ফর অ্যাকশন’ অর্থাৎ ‘হৃদয় দিয়ে হৃদরোগ প্রতিরোধের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।’

হার্টের বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার উদ্দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে মিলে বিশ্ব হার্ট ফেডারেশন ১৯৯৯ সাল থেকে প্রতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ‘বিশ্ব হার্ট দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়।

স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি বছর বাংলাদেশে দুই লাখ ৭৭ হাজার মানুষ হৃদরোগে মারা যায়, যার ২৪ শতাংশের জন্য দায়ী তামাক। এ ছাড়া হৃদরোগে মৃত্যুর ২৫ শতাংশের পেছনে বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণজনিত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে বছরে ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, বিশ্বে বছরে ১৯ লাখ মানুষ তামাকের কারণে হৃদরোগে মারা যায়। গ্লোবাল বারডেন অব ডিজিজ স্টাডি (জিবিডি) ২০১৯-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশে মৃত্যু ও পঙ্গুত্বের প্রধান চারটি কারণের একটি তামাক। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ (৩ কোটি ৭৮ লাখ) তামাক ব্যবহার করছে, যা হৃদরোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।




অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে ঢাকায় আসছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী




বরিশালে শিশু অধিকার সপ্তাহ ও বিশ্ব শিশু দিবস পালিত

বরিশাল অফিস :: বরিশালে শিশু অধিকার সপ্তাহ ও বিশ্ব শিশু দিবস-২০২৪ উপলক্ষ্যে শিশু সমাবেশ, উদ্বোধন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার সকালে জিলাস্কুল মিলনায়তনে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক লুসিকান্ত হাজং। দিবসটির এ বছরের নির্ধারিত প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘প্রতিটি শিশুর অধিকার, রক্ষা আমাদের অঙ্গীকার।

জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মো. রিয়াদুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মেহেরুন নাহার মুন্নি, জেলা ক্রীড়া অফিসার মো. সাইদুল ইসলাম, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. জাহাঙ্গীর হোসাইন, জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক অনিতা রানি হালদার বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইউনিসেফের দেওয়া তথ্যমতে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় নয় হাজার শিশু পানিতে ডুবে মারা য়ায়। শিশুদের আদর-স্নেহে আমরা বড় করি, কিন্তু তাদের সাঁতার শিখানো প্রয়োজন তা আমরা একবারও ভাবি না। শিশুদের নিরাপত্তার জন্য সাঁতার শিখাতে হবে।

আজকের শিশু আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক, দেশ সংস্কারক ও উদ্যোক্তা উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, শিশুর জন্মের পর জন্মনিবন্ধন ও নাম পাওয়া তার অধিকার। এ অধিকার বাস্তবায়নের জন্য বাবা-মা, পরিবার, শিক্ষকের অগ্রণী ভূমিকা রয়েছে। শিশুদের আনন্দ দিতে হবে। আনন্দের মধ্য দিয়ে নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ, শিষ্টাচার ও পড়াশোনা শেখাতে হবে। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীল  কাজ শেখাতে হবে। এতে তার চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি পাবে। শিশুদের কোন ভুলের জন্য শাস্তি দেওয়া যাবে না। মায়া-মমতা দিয়ে বুঝাতে হবে। সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে হবে। তবেই তারা সুনাগরিক হিসেবে বেড়ে উঠবে।