বরিশালে সমন্বয়ক পরিচয়ে হয়রানি, বসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আল্টিমেটাম

বরিশাল অফিস :: ছাত্র ও সমন্বয়ক পরিচয়ে হয়রানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বসিক) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

বসিকের প্রশাসক বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী বরাবর সোমবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে সকল বিভাগের ৩৪৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী স্বাক্ষর দিয়ে ওই দাবি জানান। এর অনুলিপি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও সেনা ক্যাম্প কমান্ডারকেও দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জনসংযোগ কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন। হয়রানি বন্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ এসেছে। সহস্রাধিক ছাত্র জনতার তাজা রক্তের বিনিময়ে দ্বিতীয় স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরিতে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের সন্তান-স্বজনরা সহযাত্রী ছিল। কিন্তু গুটি কয়েক বিপথগামী ছাত্র পরিচয় দিয়ে সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ওই ছাত্ররা নগর ভবনের বিভিন্ন শাখার প্রধানদের সঙ্গে খারাপ আচরণ ও আইন বর্হিভূত কাজের জন্য চাপ দিচ্ছে।

তারা হাট বাজারশাখার সুপারিটেনডেন্টকে রুপাতলী ও সাগরদী বাজারের খাজনা উত্তোলন করার জন্য সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া এক ছাত্রের আত্মীয়কে দেওয়ার জন্য চাপপ্রয়োগ করেন। সুপারিনটেনডেন্ট তাতে অস্বীকৃতি জানালে ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে সুপারিনটেনডেন্টকে হয়রানি করে। অবৈধ উচ্ছেদ শাখার শাখা প্রধানকে জলাশয়, পুকুর, ডোবা, বালু দিয়ে ভরাটের জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। আইনে জলাশয় পুকুর, ডোবা ভরাটের আইনগত বিধান নাই বলে জানালে সেই সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ছাত্র টাকার বিনিময়ে হলেও ভরাট করার প্রস্তাব দেন।

সমন্বয়ক পরিচয় দেওয়া ওই চক্রটি বিভিন্ন শাখায় গিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীর হাজিরা খাতা এবং গোপনীয় নথিপত্র দেখতে চান। বর্তমান প্রধান নির্বহী কর্মকর্তা ও প্রশাসককে জড়িয়ে বিভিন্ন দরণের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বেড়াচ্ছেন। মূলত ছাত্র নামধারী সমন্বয়কদের অযৌক্তিক দাবি না মেনে নেওয়ায় প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মনগড়া অভিযোগ তুলে অপসারণের দাবি তোলা হচ্ছে।

এসব সুযোগসন্ধানী নামধারী সমন্বয়কদের হয়রানির বিরুদ্ধে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সিটি কর্পোরেশনের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতিসহ বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবেন।

উল্লেখ্য, এর আগে সোমবার সকালে ছাত্র পরিচয় দিয়ে কয়েকজন তরুণ সিটি কর্পোরেশনের গেটের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। তারা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহীর অপসারন চেয়ে ওই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।




সাড়ে ৪ কোটি ডিম আমদানির অনুমতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অস্থির ডিমের বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। সাময়িকভাবে সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ কোটি ৫০ লাখ পিস ডিম আমদানির অনুমতি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, প্রতিদিন দেশে ডিমের চাহিদা ৫ কোটি পিস। সীমিত সময়ের জন্য দেশের সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ডিম আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

৭টি প্রতিষ্ঠান হলো, দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির মিম এন্টারপ্রাইজ ১ কোটি পিস, যশোরের তাওসিন ট্রেডার্স ১ কোটি পিস, সাতক্ষীরার সুমন ট্রেডার্স ২০ লাখ পিস, রংপুরের আলিফ ট্রেডার্স ৩০ লাখ পিস, ঢাকার মতিঝিলের হিমালয় ১ কোটি পিস, শান্তিনগরের প্রাইম কেয়ার বাংলাদেশ ৫০ লাখ পিস ও তেজগাঁওয়ের জামান ট্রেডার্স ৫০ লাখ ডিম আমদানি করতে পারবে।

ডিম আমদানির জন্য বেশকিছু শর্তও দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এগুলো হলো—

>> বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী বার্ড ফ্লু মুক্ত জোনিং বা কম্পার্টমেন্টালাইজেশনের স্বপক্ষে রফতানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জোনিং বা কম্পার্টমেন্টালাইজেশনের সার্টিফিকেট বা ঘোষণা দাখিল করতে হবে।

>> আমদানিকৃত ডিমের প্রতিটি চালানের জন্য রফতানিকারক দেশের সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত এভিয়ান ইনফ্লুয়েঞ্জা বা বার্ড ফ্লু ভাইরাস ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া মুক্ত মর্মে সনদ দাখিল করতে হবে।

>> সরকার কর্তৃক নির্ধারিত শুল্ক-কর পরিশোধ ও অন্যান্য বিধি-বিধান প্রতিপালন করতে হবে।

>> ডিম আমদানির প্রতি চালানের অন্যূন ১৫ দিন পূর্বে সংশ্লিষ্ট সংগনিরোধ কর্মকর্তাকে অবহিত করতে হবে।

>> আমদানির অনুমতি পাওয়ার পরবর্তী ৭ দিন পর পর অগ্রগতি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দাখিল করতে হবে।

>> আমদানির অনুমতি এর মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।

আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এ আদেশ বহাল থাকবে। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের দেওয়া ছয়টি শর্ত মানতে হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।




প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে পোস্ট, যা বললেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের বরখাস্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির মা নাসরিন জাহান বলেন, আমার মেয়ে চাকরির বিধি লঙ্ঘন করছে। এটা তার ঠিক হয়নি। এটা একটা বড় অপরাধ। সব জায়গাতেই চাকরি বিধি মানতে হবে।

গতকাল সোমবার রাতে মুঠোফোনে তাপসী তাবাসসুম ঊর্মির মা নাসরিন জাহানকে নিজের মেয়ের বরখাস্তে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এসব কথা বলেন।

নাসরিন জাহান বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ করি নাই, যুদ্ধ দেখি নাই, যে যুদ্ধ হয়েছে, সেটা ইতিহাস। ইতিহাসকে অস্বীকার করার উপায় নেই। আমরা আমাদের মা-বাবাকে অস্বীকার করতে পারবো কি?’

তিনি আরও বলেন, ‘ঊর্মি ছাত্রজীবনে কোনো রাজনৈতিক সংঘঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল না। তবে ২০১৮ সালে কোটা আন্দোলনের সম্পৃক্ত ছিল। তখন তার ৪০তম বিসিএস পরীক্ষা ছিল। সে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করেছে। সেখান থেকে মাস্টার্স করেছে। আমার সন্তানরা কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেই। আমরা খুব সাধারণ জীবনযাপন করি।’

ঊর্মির মা নাসরিন জাহান বতর্মানে হাজী কাশেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মুক্তাগাছায় গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।

প্রসঙ্গত, গত শনিবার ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ। কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।’

এরপর তার এই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব‍্যাপক সমালোচনায় মুখে পড়েন ঊর্মি। এ ঘটনায় গত রবিবার ঊর্মিকে ওএসডি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়। এরপর সোমবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।




দুর্গাপূজার ছুটি নিয়ে নতুন ঘোষণা

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: দুর্গাপূজার ছুটি বৃহস্পতিবার একদিন বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম। এনিয়ে আজ মঙ্গলবারই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জানান তিনি।

সকালে ঢাকাশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মাহফুজ আলম এ কথা জানান।

এর ফলে শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে চলতি মাসে টানা চার দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

এর মধ্যে বিজয়া দশমীর সরকারি ছুটি থাকবে আগামী ১৩ অক্টোবর। তার আগে বৃহস্পতিবার, শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

দেশের সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস এবং স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানেও এ ছুটি থাকবে।




চিকিৎসাশাস্ত্রে নোবেল পেলেন ভিক্টর অ্যামব্রোস ও গ্যারি রাভকুন




মাদক কারবারির আস্তানায় যৌথ বাহিনীর অভিযান, গ্রেফতার ৫

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: ভোলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল ও গাঁজাসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার (২ অক্টোবর) রাত ১২ টার দিকে ভোলা সদরের বাপ্তা পাইলট এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

তারা হলেন- রিপন (২৪), আরিফ (২২), রাজিব (২২), শাকিব (২৫) ও সহিদ (৪৫)। তাদের বাড়ি ওই এলাকাতেই।

জব্দ করা মাদকের মধ্যে সাড়ে ২৮ কেজি গাঁজা ও ১৮৭ বোতল ফেনসিডিল রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে ১৭ পিস ইয়াবা, একটি রাম দা, ছয়টি মোবাইল ফোন, নগদ ৩২ হাজার ৮০ টাকা।

ভোলা নৌ কন্টিনজেন্টের লে. মুফতাদি উল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদে যৌথ বাহিনীর একটি দল সদর উপজেলার বাপ্তা ইউনিয়নে অভিযান চালায়। সেখানকার পাইলট সংলগ্ন মাদক কারবারি শহিদুলের গোপন আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে।

মিডিয়া ব্রিফ করে যৌথ বাহিনী আরও জানায়, ভোলা সদর উপজেলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় পুলিশের তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি শহিদুলের নেতৃত্বে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে নৌবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালায়।

রাতেই গ্রেফতারদের এবং জব্দ করা মাদক ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভোলা সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনসাধারণের জান ও মালের নিরাপত্তায় এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানায় যৌথ বাহিনী।




বাংলাদেশে আসছেন নেইমার, দেখা করার সুযোগ পাবেন ভক্তরা




পাকিস্তানের ম্যাচসহ টিভি-অনলাইনে যেসব খেলা দেখবেন




আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ করে ব্রাজিলের ঘরে ফুটসাল বিশ্বকাপ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: বিচ সকারের পর এবারে ফুটসালেও বিশ্বকাপের হেক্সা পূরণ করলো ব্রাজিল। সেটাও আবার নিজেদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে হারিয়ে। ফুটসালে এর আগে দুইবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অন্যের মুখোমুখি হয়েছিল। সবশেষ আসরে ব্রাজিলকে হারিয়েই সেমিফাইনালে গিয়েছিল আর্জেন্টিনার ফুটসাল টিম। এবার সেই প্রতিশোধটা বেশ ভালোভাবেই নিয়েছে সেলেসাওরা। 

ফিফার ফুটবল বিশ্বকাপ বাদে বাকি দুই আসরেই হেক্সার চক্রপূরণও তাই হয়ে গেল ব্রাজিলের জন্য। রোববার (৬ অক্টোবর) উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দের হুমো অ্যারেনায় বসে এবারে ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ। ৪০ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডির ফাইনালে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় সেলেসাওরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই দাপট দেখাতে থাকে সেলেসাওরা। দুর্দান্ত আক্রমণে ম্যাচে পঞ্চম মিনিটে মার্সেনিওর বাড়ানো বল থেকে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান ফেরাও। এর খেলায় ফিরতে আক্রমণ চালাতে থাকে আলবিসেলেস্তারা। কিন্তু ১২তম মিনিটে রাফা সান্তোসের গোলে ব্যবধান দ্বিগুন করে ব্রাজিল। ২-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিলের রক্ষণের পরীক্ষা নিতে থাকে আর্জেন্টিনা। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা দলটির গোলরক্ষকও উঠে আসে আক্রমণে। খেলার শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক রোসার নেয়া শট ব্রাজিলের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে যায় জালে। তবে তাতে ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফুটসালে নিজেদের হেক্সা মিশন পূরণ করে ব্রাজিল।

উল্লেখ্য, এবারের আসরে কোনো ম্যাচই হারেনি ব্রাজিল। নিজেদের প্রথম খেলায় কিউবাকে ১০-০ গোলে হারায় দলটি। দ্বিতীয় খেলায় ক্রোয়েশিয়াকে ৮-১ গোলে পরাজিত করে তারা। তৃতীয় ও শেষ খেলায় থাইল্যান্ডকে ৯-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে জায়গা করে নেয় ব্রাজিল।

শেষ ষোলোর ম্যাচে কোস্টারিকাকে ৫-০ গোলে হারায় তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিপক্ষে ৩-১ গোলে আর সেমিফাইনালে ইউক্রেনের বিপক্ষে ৩-২ গোলের জয় পায় ব্রাজিল।

 




ভোলায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি

বরিশাল অফিস :: কালের বিবর্তন আর আধুনিক প্রযুক্তির ফলে দ্বীপ জেলা ভোলা থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ঢেঁকি শিল্প। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এখন দেশের প্রতিটা অঞ্চলে পৌঁছে গেছে । বদলে যেতে বসেছে শহর থেকে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবন যাত্রার মান। মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে তৈরি করা হয়েছে নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি, ব্যবহার হচ্ছে নানা রকম প্রযুক্তি।

বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে সেসব পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। কালের বিবর্তনে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতিবহন করে। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের কোন উদ্যোগ নেই।

প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি শিল্প। পাল্টে যেতে বসেছে গ্রামের সেই নিত্য দিনের চিত্র।

জেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন আর ঢেঁকিতে ধান ভাঙার দৃশ্য চোখে পড়ে না, তেমনি শোনা যায় না ঢেঁকির ধুপধাপ শব্দ। শহরে তো বটেই আজকাল অনেক গ্রামের ছেলে মেয়েরাও ঢেঁকি শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হলেও বাস্তবে দেখেনি।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি এখন আর চোখে পড়ে না। ঢেঁকিই ছিল এক সময়ের গ্রামীণ জনপদে চাল, চালের গুঁড়া ও আটা তৈরির একমাত্র মাধ্যম। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্র আবিষ্কারের ফলে ঢেঁকি এখন শুধু ঐতিহ্যের স্মৃতি বহন করে। দিন দিন ঢেঁকি শিল্প বিলুপ্ত হলেও একে সংরক্ষণের আর কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। এখন ঢেঁকির আর দেখাই মেলে না। আধুনিক যুগে সেই ঢেঁকির জায়গা দখল করে নিয়ে বিদ্যুৎচালিত মেশিন, যার মাধ্যমে মানুষ এখন অতি সহজেই অল্প সময়ে ধান থেকে চাল পাচ্ছে। গ্রামে গ্রামে বসছে চাল তৈরির কল। হাতের কাছে বিভিন্ন যন্ত্র আর প্রযুক্তি সহজলভ্য হওয়ায় ঢেঁকির মতো ঐতিহ্যবাহী অনেক কিছুই এখন হারিয়ে যাচ্ছে।

ভোলা সদর পূর্ব ইলিশার স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, আগে প্রায় সবার বাড়িতে ঢেঁকি ছিল। সেই ঢেঁকিছাঁটা চাল ও চালের পিঠার গন্ধ এখন আর নেই। পিঠার স্বাদ ও গন্ধ এখনো মনে পড়ে। আধুনিক প্রযুক্তির ফলে গ্রামবাংলায় ঢেঁকির ব্যবহার কমে গেছে।

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের গুলুনুর বেগন বলেন, আগে আমরা ঢেঁকি দিয়ে বিভিন্ন খাদ্যদ্রবাদী মাড়াই করেছি। আগে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ঢেঁকিতে চালের আটা তৈরি করতে আসত। কিন্তু এখন আর তেমন কেউ আসে না। এখন সবাই মেশিনে চাল মাড়াই করে।

মনপুরা উপজেলার সাকুচিয়া গ্রামের সাফিয়া খাতুন বলেন, ঢেঁকি চাটা চাল খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যসম্মত। এখন ডাক্তাররা আমাদের এ চালের ভাত খাওয়ার পরামর্শ দেন। ঢেঁকি চাটা চালের গুঁড়ো দিয়ে তৈরি পিঠা অনেক সুস্বাদু হতো। যদিও এখন আর আগের মতো প্রতি বাড়িতে কাঠের ঢেঁকি পাওয়া যায় না, যার কারণে একটু কষ্ট করে হলেও কয়েক বাড়ি পেরিয়ে নিজেদের ইচ্ছে মত প্রয়োজনের সময় আমাদের ঢেঁকিতে চাল ও পিঠার গুঁড়ো ভানতে হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে আগামী প্রজন্ম যাতে বাংলার এসব সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মেলবন্ধন স্থাপন করতে পারে, সে জন্য সরকারি বা বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।