দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে বরিশালের সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ আলোচনায়

বরিশাল প্রতিনিধি :: বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয় হওয়ায় বরিশালজুড়ে একসময় তার ছিল একচ্ছত্র প্রভাব। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বরিশালের ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, এবং সাধারণ মানুষের ওপর সাদিকের ভয়ভীতি ও চাঁদাবাজির খবর এখন সব মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সাদিক আব্দুল্লাহর রাজনৈতিক ক্ষমতার ভিত্তি গড়ে উঠেছে তার পারিবারিক পরিচয়ের ওপর। তার বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে, ছিলেন বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। ২০১৮ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে সাদিক মেয়র নির্বাচিত হন। মেয়র হওয়ার পর তিনি বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন।

সাদিকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের বরিশাল মহানগর কমিটি পুনর্গঠন করা হয়, যেখানে তার পছন্দের ব্যক্তিরাই স্থান পায়। সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিজের সমর্থকদের নিয়োগ দিয়ে পুরো প্রশাসনকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তিনি।

মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সাদিকের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করে। নগরীর নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের কারণে ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি করে তিনি মোটা অঙ্কের কমিশন আদায় করতেন। নগরীর বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন যে, নকশা অনুযায়ী ভবন তৈরি না করলে বুলডোজার দিয়ে ভবন ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ ও অন্যান্য দপ্তরের মাধ্যমেও ফ্ল্যাট ও কমিশন নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এক ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, যদি সাদিকের নির্দেশ অনুযায়ী না চলতাম, তাহলে আমাদের ভবনগুলো বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হতো। বরিশালে তার বিরুদ্ধে কিছু বলার সাহস কেউ রাখত না।

সাদিক আব্দুল্লাহর শাসনামলে বরিশালের হাটবাজার, লঞ্চঘাট, খেয়াঘাট এবং বাস টার্মিনালসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোও ছিল তার অনুগতদের নিয়ন্ত্রণে। নগর আওয়ামী লীগের শিল্পবিষয়ক সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুলকে দিয়ে তিনি এসব স্থানে নিয়মিত চাঁদা তুলতেন। টুটুল বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। শ্রমিক লীগ নেতা রঈজ আহমেদ মান্নার নামেও বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ছাত্রলীগ নেতা সাজ্জাদ সেরনিয়াবাতের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, সিটি করপোরেশনের প্ল্যান পাস করানোর বিনিময়ে ঘুষ নিতেন। এমনকি, রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর হামলা, নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগও সাদিকের বিরুদ্ধে রয়েছে।

সাদিকের ক্ষমতা ও প্রভাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হলো বরিশাল ক্লাব দখলের অভিযোগ। নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবের সভাপতি হতে হলে ১০ বছরের সদস্যপদ থাকা আবশ্যক, কিন্তু মাত্র তিন বছরের সদস্য থাকাকালীন তিনি ক্লাবের সভাপতি হন। তিনি তার সমর্থকদের ক্লাবের সদস্য করে পুরো ক্লাবের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।

সাদিক আব্দুল্লাহ এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব এবং সেখানে সম্পদ লুকানোর অভিযোগ রয়েছে। তার মনোনয়নপত্রে এসব তথ্য গোপন করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষত, নিউ ইয়র্কের কুইন্স ভিলেজে সাদিকের একটি বাড়ি রয়েছে বলে জানা গেছে, যার ঠিকানা ৮৯-৬৮, ২১৬ স্ট্রিট, কুইন্স ভিলেজ, নিউ ইয়র্ক সিটি, ১১৪২৭।

নির্বাচনী মনোনয়নপত্রে এসব সম্পদের তথ্য গোপন করায় সাদিকের রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সাদিক আব্দুল্লাহর পরিবর্তে তার চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহকে (খোকন সেরনিয়াবাত) মনোনয়ন দেয়। এই নির্বাচনে সাদিককে সরিয়ে দেওয়া এবং নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার পর বরিশালের মানুষ সাদিকের শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম বলেন, বরিশালের মানুষ সাদিকের সময়ে ভয় এবং শোষণের মধ্যে ছিল। এখন তারা মুক্ত হয়েছে।

সাদিকের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে বরিশালে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনীতিবিদ এবং ব্যবসায়ীরা সাদিকের শাসনামলের দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিষয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন। অনেকেই মনে করছেন, সাদিকের শাসনের সময়কালের ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচিত হলে বরিশালের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও স্বচ্ছ হবে।

সদ্য সমাপ্ত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে সাদিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে মনে করছেন, তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। বরিশালের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।




বরিশালে সূর্যের দেখা, স্বাভাবিক হচ্ছে জনজীবন

বরিশাল অফিস :: প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ সরাসরি আঘাত না করলেও বরিশাল ও এর আশেপাশের এলাকায় কয়েকদিন ধরে বিরাজমান বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টিপাতের ফলে জনজীবনে নেমে এসেছিল চরম দুর্ভোগ। তবে শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) সকাল থেকে বরিশালে আবারও সূর্যের দেখা মেলায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে।

ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলীয় অঞ্চল থেকে অনেকটা সরে যাওয়ায় আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি ঘটেছে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ৬৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। নদীবন্দরগুলোতে সতর্ক সংকেত কমিয়ে ২ থেকে ১ নম্বরে আনা হয়েছে, যদিও পায়রা সমুদ্র বন্দরে এখনো ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল রয়েছে।

বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান,বৈরী আবহাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) বরিশালের অভ্যন্তরীণ রুটে লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে আবহাওয়া স্বাভাবিক হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দেশে পুনরায় লঞ্চ চলাচল শুরু হয়েছে, যা যাত্রীদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমিয়েছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনের ছন্দ ফিরে আসতে শুরু করেছে। বৃষ্টির কারণে বাধাগ্রস্ত হওয়া ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে। বরিশাল শহরের বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে সূর্যের আলোতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, ঘূর্ণিঝড় দানার প্রভাবে কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বড় কোনো ঝুঁকি নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।




হোয়াটসঅ্যাপের যে ৬ কৌশল আপনার জানা থাকলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: সম্প্রতি বেশ কিছু ফিচারের অফার দিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ। এছাড়া ম্যাসেজিং প্লাটফর্মের এই অ্যাপটি নিত্য নতুন ফিচার সংযুক্ত করে যাচ্ছে। এ সকল ফিচারগুলো আপনার জানা নাও থাকতে পারে। এজন্য আপনার জানার সুবিধার ক্ষেত্রে আমরা কিছু ফিচারের নাম উল্লেখ করছি। এ ফিচার ব্যবহারের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে আপনি আরও স্বচ্ছন্দবোধ করবেন।

১. ফোন ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপের বহুমুখী ব্যবহার
মাল্টি ডিভাইজ বেটা পোগ্রাম চালু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। সেটিংয়ে গিয়ে লিংকড সিলেক্ট করলেই দেখা যাবে। এজন্য ফোন ছাড়াই ব্যবহার করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপ। একসঙ্গে চারটি ডিভাইজে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া হোয়াটসঅ্যাপে একবার সংযুক্ত হয়ে নিলে ফোনে ইন্টারনেট না থাকলেও ১৪ দিন পর্যন্ত চলবে।

২. ক্রিয়েট কাস্টমাইসড স্টিকার্স অ্যাপ
এক্ষেত্রে অনলাইন থেকে নিজের মতো করে স্টিকার্স ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারবেন। যদিও ফিচারটি ডেস্কটপ ভার্সনে রয়েছে, কিন্তু মোবাইলে ভার্সনে এখনও চালু হয়নি। এ ফিচার ব্যবহারের জন্য পেপার ক্লিপ আইকনে ক্লিক করুন এরপর স্টিকারে ক্লিক করুন। এখান থেকে যে কোনো ফটো এবং ইমোজি আপলোড করে নিজের মতো করে এডিট করে ব্যবহার করুন।

৩. একসঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ থেকে সব ছবি ডাউনলোড করুন
এজন্য শুরুতে যে ব্যক্তি বা গ্রুপ থেকে আপনাকে ছবি পাঠানো হয়েছে তা ওপেন করুন, তারপর ওপরে থাকা তিনি ডটে ক্লিক করুন। এরপর সিলেক্ট ম্যাসেজে ক্লিক করুন, পরে যে ছবিগুলো ডাউনলোড করতে চান তার ওপর টিক দিন। ডানপাশের দিকে নিচে থাকা ডাউনলোড আইকনে ক্লিক করুক। তাহলেই সব ছবি একসঙ্গে ডাউনলোড হবে। এটি শুধু ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে করা যাবে। মোবাইলে সম্ভব নয়।

৪. একবার মিডিয়া দেখুন
এই ফিচারের মাধ্যমে কারো কাছে কোনো ভিডিও কিংবা ছবি পাঠালে সে তা অন্য কারো কাছে শেয়ার করতে পারবে না। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপ থেকে বের হয়ে গেলে আর দেখাও যাবে না।

৫. নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ
অনেক সময় হোয়াটসঅ্যাপের নোটিফিকেশন বিরক্ত লাগতে পারে। এক্ষেত্রে নোটিফিকেশন বন্ধ রাখতে চান, এজন্য হোয়াটসঅ্যাপ ওপেন করে প্রোফাইল পিকচারের পাশে থাক তিনটি ডট বিশিষ্ট আইকনে ক্লিক করুক। তারপর সেটিংসে গিয়ে নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। আবার চালু করতে একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করুন।

৬. অটো কনফিগার ডাউনলোড
হোয়াটসঅ্যাপে অনেক গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থাকলে অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও অটোমেটিক ডাউনলোড হতে থাকে। এ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সেটিংসে গিয়ে অটোডাউনলোড কনফিগার বন্ধ করে দিতে পারেন। কিংবা চাইলে নিজের ব্যবহৃত ফোনের যে কোনো ফোল্ডারে স্টোরেজ করে রাখতে পারেন। এজন্য WhatsApp > tap on the three-dotted button > Settings > Storage and data > Media auto-download.




গুজব প্রতিরোধে ফেসবুকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেকিং চালু

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক ::সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং একটি নতুন ফ্যাক্ট চেকিং ফেসবুক পেজ চালু করেছে। এই পেজটির মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড পেজে এক পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

পোস্টে বলা হয়েছে, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে একটি ফ্যাক্ট চেকিং ফেসবুক পেজ চালু করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। সবাইকে পেজটির সঙ্গে যুক্ত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

ফ্যাক্ট চেকিংয়ের প্রথম তথ্য

পেজটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া দুটি তথ্যের ফ্যাক্ট চেক করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এ প্রকাশিত একটি ভুয়া প্রতিবেদন।

প্রতিবেদনটি ভুয়া জানিয়ে বলা হয়েছে, “সম্প্রতি জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টায় একটি কুচক্রী মহল ওয়াশিংটন পোস্টের নামে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে একটি ভুয়া প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।”

এতে আরও বলা হয়, “ওয়াশিংটন পোস্ট প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংকে নিশ্চিত করেছে যে, প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। সবাইকে কোনো ধরনের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যাতে জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।

 




ত্বকের সমস্যা দূর করতে আগে যত্ন নিন অন্ত্রের

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ত্বকের সমস্যার সমাধানে ময়েশ্চারাইজার, সিরাম, টোনার, ফেসওয়াশ, ফেসিয়াল এবং বিউটি ট্রিটমেন্টের মতো নানা পণ্য ব্যবহৃত হলেও, সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের গুরুত্বও অস্বীকার করা যায় না। বর্তমান সৌন্দর্য সচেতন সমাজের মধ্যে এসব স্কিন কেয়ার পণ্য জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও, ত্বককে সুস্থ রাখতে অভ্যন্তরীণ যত্ন অধিক কার্যকর।

আমাদের খাদ্যাভ্যাস শুধু স্বাস্থ্যের উপরই নয়, বরং ত্বকের উপরও প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, ভাজা-পোড়া খাবার বেশি খেলে ত্বকে পিম্পল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে হলে আগে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ভারতীয় চিকিৎসক কর্ণ রাজন সম্প্রতি তার ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এ বিষয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। তিনি বলেন, “ত্বকের উন্নতি করতে চাইলে স্কিনকেয়ার ছাড়াও অন্ত্রের স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে হবে। রঙিন ফল ও শাক-সবজি অন্ত্রের জন্য উপকারী, যার প্রভাব ত্বকেও পড়ে। টমেটো, বেল পেপার, গাজর খেলে ত্বকে লক্ষণীয় পরিবর্তন আসে।”

একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, যেসব শিশু একজিমা রোগে ভুগছে তাদের অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ঘাটতি রয়েছে। প্রোবায়োটিকসে পর্যাপ্ত পরিমাণ ল্যাকটোবাইসিলি এবং বাইফিডোব্যাকটেরিয়াম পাওয়া যায়, যা একজিমা আক্রান্ত শিশুদের ত্বকের উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করে।

ডাক্তার রাজন আরও বলেন, “খাদ্যে প্রিবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো সিদ্ধান্ত। এই ধরনের খাবারে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, ফলে প্রাকৃতিকভাবে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি যৌগের উৎপাদন বেড়ে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রভাবিত হয়।”

বিশেষজ্ঞরা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো খাবার ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানোর নিশ্চয়তা দেয় না। তবে রঙিন ফল ও শাক-সবজি এই ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে। বিশেষ করে উচ্চ প্রিবায়োটিকস সম্পন্ন এবং বিভিন্ন রঙের খাবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্ষমতা বাড়ায়।

সুতরাং, পেটের যত্ন নিলে ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখা অনেকাংশে সহজ হয়ে যায়। ত্বকে সমস্যা দেখা দিলে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে খাদ্যতালিকা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। জীবনধারা পরিবর্তনের মাধ্যমে ত্বকের সমস্যাগুলি সমাধান করা সম্ভব।

**তথ্যসূত্র:** হিন্দুস্তান টাইমস

 




অতীতের ভুলে পুঁজিবাজার আজ দুর্বল অবস্থানে: ডিএসই চেয়ারম্যান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, অতীতের অনেক ভুল সিদ্ধান্ত, অনিয়ম ও অদক্ষতার ফলস্বরূপ পুঁজিবাজার আজ একটি দুর্বল অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বাজার সংশ্লিষ্ট সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সোমবার (২১ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ শীর্ষ ৩০ ব্রোকারেজ হাউজ এবং ডিএসই ব্রোকারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে চলমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।

ডিএসইর প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএসই পরিচালক অধ্যাপক মেজর জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, সৈয়দ হাম্মদুল করীম, মোহাম্মদ ইশহাক মিয়া, শাহনাজ সুলতানা, মো. শাকিল রিজভী, রিচার্ড ডি রোজারিও, ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম এবং ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) সাত্ত্বিক আহমেদ শাহ।

ডিএসইর চেয়ারম্যান বলেন, এটি আমাদের জন্য একটি দুর্লভ সুযোগ পুঁজিবাজারকে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও অর্থনীতির জন্য কল্যাণকর লক্ষ্যে গড়ে তোলার। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত পরিবর্তন, অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত ও বিচারের পাশাপাশি বিনিয়োগকারী এবং মধ্যস্থতাকারীদের আস্থা অর্জনে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি গতিশীল পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজগুলোর দায়িত্ব অনেক বেশি। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের পুঁজিবাজার একটি অস্বাভাবিক সময় অতিক্রম করছে। এ অবস্থা থেকে বাজারে কীভাবে উত্তরণ ঘটানো যায় সে বিষয়ে সকলের সহযোগিতা ও পরামর্শ জরুরি।

তিনি ডিবিএ ও ব্রোকারেজ হাউজগুলোর প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে বলেন, ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্সের উপর কর অব্যাহতি সুবিধা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, লভ্যাংশের উপর উৎসেকর কর্তনকে চূড়ান্ত কর হিসেবে বিবেচনা করা এবং ক্যাপিটাল লসের সমন্বয় বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

ডিবিএ প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি করা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমান বাজারে আস্থার অভাব রয়েছে। পুঁজিবাজার উন্নয়নে আস্থা বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি অগ্রিম আয়কর (এআইটি) গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ব্যক্তিগত পর্যায়ে রোহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

সভায় শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং ভবিষ্যতে বাজারকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা, তারল্য সংকট, ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স, মার্কেট মেকার, ক্যাটাগরি, পলিসি সাপোর্ট, নগদ উত্তোলনের সুবিধা দেওয়া, ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং সিস্টেম, ফ্লোর প্রাইজ প্রয়োগ না করা, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আইপিও পদ্ধতির সংস্কার, মার্জিন লোন সংস্কার, সিসি অ্যাকাউন্টের ইন্টারেস্ট, সিসিবিএল, মন্দ আইপিও না আনা, মার্জিন ঋণ রেশিও, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন স্কিম পর্যালোচনা এবং ক্যাপিটাল মার্কেট স্টাবিলাইজেশন ফান্ড সম্পর্কে আলোচনা করেন।




শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো নথিপত্র আমার কাছে নেই : রাষ্ট্রপতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নিজের কাছে নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। দৈনিক মানবজমিন পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, তিনি শুনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু তার কাছে এ সংক্রান্ত কোনো দালিলিক প্রমাণ বা নথিপত্র নেই।

সাক্ষাৎকারটি শনিবার মানবজমিন পত্রিকাটির রাজনৈতিক ম্যাগাজিন সংস্করণ ‘জনতার চোখ’- এ প্রকাশিত হয়। পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী এই বিশেষ সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন।

মতিউর রহমান চৌধুরীর মতে, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র যদি সত্যিই জমা দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে সেটির অনুলিপি কারও না কারও কাছে থাকার কথা। কিন্তু তিন সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালালেও এর খোঁজ কেউ দিতে পারেনি তাকে। এমনকি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও যোগাযোগ করা হয়েছে, যেখানে সাধারণত প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের পদত্যাগপত্র সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু সেখানেও কিছু পাওয়া যায়নি। তাই শেষমেষ রাষ্ট্রপতির কাছেই সরাসরি এর উত্তর জানার সুযোগ মেলে।

৫ আগস্ট ছাত্র-আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের মুখে দেশত্যাগ করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবিধানের ৫৭ (ক) ধারা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, তার কাছে শেখ হাসিনার কোনো পদত্যাগপত্র বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রমাণ পৌঁছায়নি।

রাষ্ট্রপতির ভাষ্যে, ‘আমি বহুবার পদত্যাগপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। হয়তো তার সময় হয়নি’।

সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, ৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বঙ্গভবনে ফোন আসে, যেখানে বলা হয়েছিল যে প্রধানমন্ত্রী প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আসবেন। এরপরই বঙ্গভবনে প্রস্তুতি শুরু হয়। কিন্তু এক ঘণ্টার মধ্যে আরেকটি ফোন আসে যে তিনি (শেখ হাসিনা) আসছেন না।

তিনি বলেন, ‘চারদিকে অস্থিরতার খবর। কী হতে যাচ্ছে জানি না। আমি তো গুজবের ওপর নির্ভর করে বসে থাকতে পারি না। তাই সামরিক সচিব জেনারেল আদিলকে বললাম খোঁজ নিতে। তার কাছেও কোনো খবর নেই। আমরা অপেক্ষা করছি। টেলিভিশনের স্ক্রলও দেখছি। কোথাও কোনো খবর নেই। এক পর্যায়ে শুনলাম, তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। আমাকে কিছুই বলে গেলেন না।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার যখন বঙ্গভবনে এলেন তখন জানার চেষ্টা করেছি প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন কি না? একই জবাব। শুনেছি তিনি পদত্যাগ করেছেন। মনে হয় সে সময় পাননি জানানোর।’

তিনি বলেন, ‘সব কিছু যখন নিয়ন্ত্রণে এলো তখন একদিন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এলেন পদত্যাগপত্রের কপি সংগ্রহ করতে। তাকে বললাম, আমিও খুঁজছি’।

মতিউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে আলাপের এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বিষয়ে আর বিতর্কের সুযোগ নেই। প্রধানমন্ত্রী চলে গেছেন এবং এটাই সত্য। তবুও এই প্রশ্নটি যাতে আর কখনও না ওঠে তা নিশ্চিত করতে আমি সুপ্রিম কোর্টের মতামত চেয়েছি।

রাষ্ট্রপতির পাঠানো রেফারেন্সের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ৮ আগস্ট এ সম্পর্কে তাদের মতামত দেন। এতে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক শূন্যতা দূর করতে এবং নির্বাহী কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে। প্রেসিডেন্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টামণ্ডলীকে শপথবাক্য পাঠ করাতে পারবেন বলে আপিল বিভাগ মতামত দেন।

তবে গত ৫ আগস্ট জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘প্রিয় দেশবাসী আসসালামু আলাইকুম, আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং আমি তা গ্রহণ করেছি।




আপিলের অনুমতি পেলেন ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশ আত্মসাতের মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আবেদন খারিজের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

সোমবার (২১ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

আদালতে ড. ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এর আগে গত ২৪ জুলাই গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশ আত্মসাতের মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এক বছরের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেন আদালত।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকতার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন ড. ইউনূস।

এর আগে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশ আত্মসাতের মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আবেদনে অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চাওয়া হয়।

গত ১২ জুন গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক-কর্মচারীদের লভ্যাংশ আত্মসাতের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।




প্রতিদিন লিপস্টিক ব্যবহারে ঠোঁটের ক্ষতি হতে পারে?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: নারীর সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ লিপস্টিক। প্রতিদিন লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটে কোনো ক্ষতি হয় কি না, তা নিয়ে অনেকের মনে সংশয় রয়েছে। বিশেষ করে, অনেকেই মনে করেন যে প্রতিদিন লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁট কালো হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু লিপস্টিকের মধ্যে থাকা রাসায়নিক উপাদান ঠোঁটের মতো স্পর্শকাতর অঙ্গে ক্ষতি করতে পারে। তবে সব লিপস্টিকের ক্ষেত্রে এই ক্ষতির আশঙ্কা নেই। ঠোঁটের স্বাস্থ্য এবং লিপস্টিকের গুণাগুণের ওপরই মূলত নির্ভর করে এ সমস্যাগুলো।

#### যেসব সমস্যায় লিপস্টিক ব্যবহার থেকে সতর্ক থাকতে হবে:

1. **শুষ্ক ঠোঁট:** কিছু লিপস্টিক ঠোঁটকে শুষ্ক করে তুলতে পারে। বিশেষ করে শুষ্ক ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এই সমস্যা গুরুতর হতে পারে। তবে তেল বা মাখনযুক্ত লিপস্টিক ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

2. **অ্যালার্জি:** যাদের বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের লিপস্টিক ব্যবহারের আগে সতর্ক হওয়া উচিত। নতুন প্রসাধনী ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ‘প্যাচ টেস্ট’ করে নেওয়া জরুরি।

3. **কালচে ছোপ:** রোদের অতিবেগুনি রশ্মি বা জিনগত কারণেও ঠোঁটে কালচে ছোপ পড়তে পারে। শুধুমাত্র লিপস্টিক ব্যবহারের কারণেই ঠোঁট কালো হয়ে যাবে এমন ধারণা সঠিক নয়।

#### ঠোঁটের স্বাস্থ্য রক্ষায় করণীয়:
1. **হাইড্রেশন:** পর্যাপ্ত পানি খাওয়ার মাধ্যমে ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখা উচিত। এছাড়া, ঠোঁটের জন্য নিরাপদ এবং UV সুরক্ষার উপযোগী লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে।

2. **এক্সফোলিয়েশন:** নিয়মিত ঠোঁটের মৃত কোষ দূর করতে নরম স্ক্রাব দিয়ে এক্সফোলিয়েট করা উচিত।

3. **প্রাইমার ব্যবহার:** লিপস্টিক ব্যবহারের আগে প্রাইমার ব্যবহার করলে ঠোঁটে রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।




শেখ হাসিনার পতন: বদরুদ্দীন উমরের মন্তব্য

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক :: শেখ হাসিনার পতনের বিষয়টি ভারতের জন্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দীন উমর। তিনি বলেছেন, “ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক এখন খারাপ।”

শনিবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: জনগণের হাতে ক্ষমতা চাই, জনগণের সরকার-সংবিধান-রাষ্ট্র চাই’ শীর্ষক আলোচনায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, ভারত শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে যে চেষ্টা করেছে, তা থেকে তারা এখন অস্বস্তিতে রয়েছে।

বদরুদ্দীন উমর বলেন, “আওয়ামী লীগের সংগঠনগুলো এখন দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা যদি ভাবেন আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় আসবে, তাহলে সেটা বাস্তবসম্মত নয়। ১৯৫৪ সালে মুসলিম লীগ যেভাবে শেষ হয়েছিল, ঠিক তেমনই আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎও দেখতে পাচ্ছি।”

তিনি উল্লেখ করেন, “গত সাড়ে ১৫ বছরে জনগণের ওপর যে অত্যাচার হয়েছে, তার জন্য গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে। নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে।”

শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা এবং তার বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন বদরুদ্দীন উমর। তিনি বলেন, “মুজিবের নামকে ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো হয়েছে, যার ফলে এই প্রতিবাদের সৃষ্টি।”

তিনি রাজনৈতিক সংস্থা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বলেন, “বর্তমান সরকার জনগণের অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারবে না। বিএনপি নির্বাচিত হলেও পূর্বের কার্যক্রমের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।”