বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না: মাহফুজ আলম

বাংলাদেশ কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

বুধবার (২৭ নভেম্বর) তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই মন্তব্য করেন। পোস্টে তিনি চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আইনজীবীদের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি সহিংসতায় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, “হঠকারিতা, নেতিবাচকতা ও ভাঙনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আমাদের সৃজনশীল ও ইতিবাচক মানসিকতায় এ রাষ্ট্রকে গড়তে হবে। এ রাষ্ট্র পরিগঠন করলেই কেবল শহিদ আলিফের শাহাদাতসহ শহিদানদের রক্তের মূল্য হতে পারে।”

পোস্টে তিনি ছাত্র-জনতাকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, “দায়িত্ব ও দরদের নজির দেখিয়ে আপনারা বাংলাদেশকে গর্বিত করেছেন। বাংলাদেশ আর কারো ষড়যন্ত্রের সামনে পরাস্ত হবে না। ইনশাআল্লাহ।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ব্যক্তি ও সমষ্টির ‘শক্তি’ সাধনায় দরদি ও দায়িত্ববান হয়ে রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী হয়ে ওঠা মোক্ষ। আমাদের এই অভ্যন্তরীণ শক্তি যেকোনো বহিঃশত্রুকে পরাজিত করবে। আমরা আর উপনিবেশযোগ্য (Colonizable) হবো না।”

দেশের ‘প্রাজ্ঞ আলেম ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের’ ‘বিশেষ ধন্যবাদ’ প্রাপ্য উল্লেখ করে মাহফুজ আলম লিখেছেন, “আপনারা এ গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে বাঙালি মুসলমানকে দায়িত্বশীল আচরণে অনুপ্রাণিত করেছেন। ধর্ম, বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আপনাদের আজ ও আগামীর প্রাজ্ঞ উদ্যোগ বাংলাদেশ রাষ্ট্রে আপনাদের ইজ্জত ও শরিকানা নিশ্চিত করবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




থ্রি হুইলার বন্ধের দাবিতে ঝালকাঠি থেকে ১১ রুটে বাস চলাচল বন্ধ

মহাসড়কে অবৈধ থ্রি হুইলার চলাচল এবং দূরপাল্লার বাসে লোকাল যাত্রী পরিবহনের প্রতিবাদে ঝালকাঠি থেকে ১১টি রুটে বাস চলাচল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করা হয়েছে। আকস্মিকভাবে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করায় যাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ভোগান্তি।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকাল থেকে ঝালকাঠি বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়।

জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি টিপু সুলতান জানান, ঝালকাঠির আঞ্চলিক মহাসড়কে অবৈধ মাহিন্দ্রা এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল বে-আইনি হলেও তা অবাধে চলছে। একই সঙ্গে, দূরপাল্লার বাসে স্থানীয় যাত্রী পরিবহনের কারণে বাস মালিকরা লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। এর প্রতিবাদ হিসেবে বাস মালিক সমিতি গতকাল সকালে মহাসড়কে চেকপোস্ট বসানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ঝালকাঠি থেকে বরিশাল, ভান্ডারিয়া, পিরোজপুর, মঠবাড়িয়া, বাগেরহাট, খুলনা সহ মোট ১১টি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ধর্মঘটের কারণে এসব রুটে বাস চলাচল কবে পুনরায় শুরু হবে তা এখনো নির্ধারিত হয়নি।

বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়ন তাদের দাবি পূরণের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে। তবে এই সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে তারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভারতের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতীয় গণমাধ্যমের মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবঃ) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, “ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিনিয়ত আমাদের নিয়ে মিথ্যাচার করছে। এই পরিস্থিতিতে আমাদের গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ভারতের মতো কোনো মিথ্যা রিপোর্ট যেন আমাদের গণমাধ্যম প্রকাশ না করে, এটি আমাদের সকলের প্রতি অনুরোধ।”

সভায় তিনি বরিশালের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রশংসা করে বলেন, “দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বরিশালের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো। তবে, আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও জনবান্ধব করে তুলতে হবে। জনবান্ধব আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “আগে পুলিশ বাদী হয়ে অনেক আসামী দিতো, কিন্তু এখন পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে না। বরং সাধারণ মানুষই বাদী হয়ে মামলা করে আসামী করে। এই পরিবর্তন জনবান্ধব পুলিশিংয়ের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।”

বরিশাল জেলা পুলিশ লাইন্সের গ্রাটিটিউড হলে অনুষ্ঠিত এই সভায় বরিশাল বিভাগের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মঞ্জুর মোর্শেদ আলম এর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন: বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ ময়নুল ইসলাম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী র‌্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদু রহমান,বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওছার,ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমিরুল আজিম,বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম
,জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা।

সড়কপথে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বরিশাল সার্কিট হাউজে পৌঁছান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এরপর পুলিশ লাইন্সে পৌঁছালে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা শেষে, বিকেলে তিনি বরিশাল কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে একটি বিশেষ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। সেখানে তিনি কৃষি উন্নয়ন, প্রযুক্তি সম্প্রসারণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আসিফ নজরুলকে হেনস্তা: চাকরি হারালেন কাউন্সেলর

সুইজারল্যান্ডের জেনেভা বিমানবন্দরের সামনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে হেনস্তার ঘটনায় লেবার কাউন্সেলর মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম চাকরি হারিয়েছেন।

এছাড়া, সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী মিজান, যিনি লোকাল স্টাফ হিসেবে জেনেভা মিশনে কর্মরত ছিলেন, তার চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর, সরকার এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র বলে মনে করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুইজারল্যান্ডের বাংলাদেশ দূতাবাস ও স্থায়ী মিশনের মাধ্যমে কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে বিষয়টির ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং জানতে চেয়েছে কেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রটোকল থাকার পরও এমন একটি ঘটনা ঘটল, এবং এর সঙ্গে কাদের যোগসাজশ রয়েছে।

জেনেভার বাংলাদেশ দূতাবাসের তথ্যমতে, আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া একজন কর্মকর্তা এবং এক লোকাল স্টাফের মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মিশনের প্রতিবেদনের আলোকে মুহাম্মদ কামরুল ইসলামকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং তাকে দ্রুত ঢাকায় ফিরতে বলা হয়েছে।

হেনস্তার ঘটনার তিন হোতা শনাক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম জমাদার, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল খান এবং ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সুইজারল্যান্ড শাখার আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জেনেভায় আসিফ নজরুলের হেনস্তার পর, বাংলাদেশ সরকারের সব মিশনে একটি জরুরি পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। পরিপত্রে দুটি বিষয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে: এক, বিদেশে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরের সময় যথাযথ প্রটোকল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, এবং দুই, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাষ্ট্রদূতসহ মিশনের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বসুন্ধরা গ্রুপের চাকরি ছাড়লেন শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাই

বসুন্ধরা গ্রুপের দেওয়া চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদের দুই ভাই। বুধবার রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন।

গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) তারা ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ই-মেইল ও ডাকযোগে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেওয়ার বিষয়টি বসুন্ধরা গ্রুপের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন।

গত ৯ অক্টোবর বসুন্ধরা গ্রুপ রমজান আলীকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের রংপুর ব্যুরো অফিসের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী এবং আবু হোসেনকে টিভি চ্যানেল নিউজ-২৪ এর রংপুর ব্যুরো অফিসের জ্যেষ্ঠ নির্বাহীর পদে নিয়োগ দেয়। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যেই তারা উভয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিলেন।

আবু হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, আমরা দুই ভাই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চাকরি ছেড়ে দিয়েছি। বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইল এবং ডাকযোগে জানিয়েছি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের রংপুরের নিজস্ব প্রতিবেদক নজরুল মৃধা বলেন, রমজান আলীকে বাংলাদেশ প্রতিদিনের রংপুর ব্যুরো অফিসের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে চিহ্নিত হন। তার হত্যার পর সারা দেশে আন্দোলন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলস্বরূপ গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে।

আবু সাঈদের আত্মত্যাগের পর তার পরিবারও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। চাকরি ছাড়ার এই সিদ্ধান্তও সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




আদালত চত্বরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিছিল

বরিশালের বাকেরগঞ্জে বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা মামলায় বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত বুধবার (১৩ নভেম্বর) ১৮ জন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে কারাগারে প্রেরণ করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, সাবেক ৩ জন পৌর কাউন্সিলরসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় নেতা।

সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ তানভীর আসামিদের জামিন আবেদন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। জামিন বাতিলের পর আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আদালত ভবনের নিচতলা থেকে স্লোগান দিতে দিতে মিছিল শুরু করে। স্লোগানগুলোতে ছিল “জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” এবং “শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা”।

মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন ডাকুয়া, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোখলেছুর রহমান, এবং পৌর যুবলীগ সভাপতি খন্দকার জিয়াউর রহমান রিপন। হ্যান্ডকাপ পরিহিত অবস্থায় তারা মিছিলের সামনের সারিতে ছিলেন। তাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মীও অংশগ্রহণ করেন।

মিছিলের সময় এক মিনিট ৩৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, নেতাকর্মীরা প্রিয়জন ভ্যানের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন।

আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো ব্যক্তিরা হলেন: পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আকন। উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মোখলেছুর রহমান। পৌর যুবলীগ সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর খন্দকার জিয়াউর রহমান রিপন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুজন চন্দ্র দেবনাথ। যুবলীগ নেতা মাহফুজ মুসুল্লি, নূরুল আমিন মাহাবুব, সৈয়দ আরিফুর রহমান। ভরপাশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক লিটন গাজী।গারুড়িয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কুদ্দুস নান্টু। সাবেক ইউপি সদস্য ফারুক হাওলাদার, সোহেল রানা ওরফে ছাগল রানা। শফিক ডাকুয়া, হাফিজুল ইসলাম, পংকজ এবং আরও কয়েকজন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিএনপির একটি সমাবেশে হামলার অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




২৭ বছর পর অসুস্থ মাকে দেখতে এসে গ্রেপ্তার হলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

২৭ বছর পর অসুস্থ মাকে দেখতে এসে গ্রেপ্তার হলেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি

বরিশাল অফিস: পিরোজপুরের নাজিরপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি আব্দুল কুদ্দুস (৫২) ২৭ বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ বুধবার ভোরে, উপজেলার ১ নম্বর মাটিভাংগা ইউনিয়নের উত্তর বানিয়ারী এলাকায় অসুস্থ মাকে দেখতে আসলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

আব্দুল কুদ্দুস উত্তর বানিয়ারী গ্রামের মান্নান হাওলাদারের ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনি ঝালকাঠির মানপাশা গ্রামে আনোয়ার মোল্লার বাড়িতে দীর্ঘদিন ডেইলি লেবার হিসেবে কাজ করতেন। সেই সুবাদে আনোয়ার মোল্লার মেয়ে শাহনাজের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে চট্টগ্রামে নিয়ে গিয়ে ২০ হাজার টাকা মোহরানা বেঁধে ইসলামি বিধান অনুযায়ী তাকে বিয়ে করেন কুদ্দুস।

তবে শাহনাজের পিতা আনোয়ার মোল্লা কৌশলে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান এবং আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৮ সালে ঝালকাঠি জেলার বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত আব্দুল কুদ্দুসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ফরিদ জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা কুদ্দুস মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তাকে দেখতে আসেন। এ সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। ওসি ফরিদ বলেন, “আমরা সোর্সের মাধ্যমে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওয়ারেন্ট কারী অফিসারকে দিয়ে অভিযান পরিচালনা করি। এরপর আসামিকে থানায় এনে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

আব্দুল কুদ্দুস দাবি করেন, মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। বিয়ের পর শাহনাজের পরিবারই কৌশলে তাকে আলাদা করে মামলা দায়ের করে। ওই সময় বাড়ি ত্যাগ করার পর আর ফিরে আসেননি তিনি। অবশেষে ২৭ বছর পর অসুস্থ মাকে দেখতে এসে তার গ্রেপ্তার নিশ্চিত হলো।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ফ্রান্স ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপ হল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: জেরুজালেমে ফ্রান্স নিয়ন্ত্রিত একটি সম্পত্তিতে সশস্ত্র ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশ ও কূটনীতিক কর্মকর্তাদের আটক নিয়ে চটেছে ইউরোপের দেশটি। এ ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তা নিয়ে সতর্কের পাশাপাশি ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়। এর আগে ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল ব্যারোট বলেছেন, জেরুজালেমে সশস্ত্র ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রবেশের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে।

জেরুজালেমে ফ্রান্স পরিচালিত চারটি স্থান রয়েছে। গত ৭ নভেম্বর শহরের মাউন্ট অব দ্য অলিভস নদীর প্যাটার নস্টার চার্চের কম্পাউন্ড পরিদর্শনে যান ফ্রান্সের কূটনৈতিক মর্যাদাসম্পন্ন দুই কর্মকর্তা। পরে ইসরায়েলি পুলিশ তাদের আটক করে।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তারা ইসরায়েলি সশস্ত্র বাহিনীকে এই অঞ্চলে প্রবেশ সহ্য করবে না। এই ঘটনা যেন আর কখনো না ঘটে।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গাজায় ব্যবহৃত আক্রমণাত্মক অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানানোর পর থেকে ফ্রান্স ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। ফরাসি সরকার প্যারিসে একটি বাণিজ্য মেলায় ইসরায়েলি অস্ত্র সংস্থাগুলোকে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করেছিল। গাজা ও লেবাননের যুদ্ধে ইসরায়েলের আচরণে ক্রমবর্ধমান অস্বস্তি হয়ে উঠেছে ইউরোপের দেশটি।




শেষ ম্যাচের আগে বাংলাদেশ দলে বড় ধাক্কা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: পার্টনারশিপ দিয়েছিল জয়ের ভিত। কিন্তু সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে পাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের। আগের ম্যাচে ফিল্ডিং করতে গিয়ে চোট পেয়েছিলেন অধিনায়ক শান্ত। সেটার জেরেই তৃতীয় ম্যাচে তিনি থাকছেন দর্শক হয়ে।

দ্বিতীয় ম্যাচে শর্ট কাভারে ফিল্ডিং করতে গিয়ে কুচকিতে ব্যথা পেয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন টাইগার অধিনায়ক। পরে মাঠে বাকিটা সময় অধিনায়কত্ব করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ম্যাচ শেষেই শান্ত বলেছিলেন, খানিকটা ব্যাথা তখনো আছে। শেষ ম্যাচের জন্য আজকের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলেছিলেন তিনি। তবে ম্যাচের দিন সকালে শারজাহ থেকে আসেনি কোনো সুসংবাদ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবির একটি সূত্র। সেই সূত্রের খবর অবশ্য আরও খানিকটা ধাক্কা দিতে পারে বাংলাদেশকে। শান্ত শুধু এই ম্যাচেই না, মিস করতে পারেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টও। যদিও স্পষ্ট করে এই বিষয়ে বিসিবির মেডিকেল বিভাগ এই সম্পর্কে কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ করেনি।




সরকারি চাকুরিজীবীর নাতি-নাতনিরাও পেনশন, গ্রাচুইটির সুবিধা পাবেন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: সংশোধনীর ফলে এখন থেকে কোন সরকারি চাকরিজীবীর স্বামী বা স্ত্রী এবং পুত্র-কন্যা জীবিত না থাকলে; কিংবা ছেলের বয়স ২৫ বছরের বেশি হলে— চাকরিজীবীর মৃত ছেলে বা মেয়ের পুত্র, কন্যা বা হিজড়া তথা তৃতীয় লিঙ্গের নাতি-নাতনিরা পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবের মৃত্যুর পর তাঁর পেনশন ও গ্রাচুইটি সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার মনোনয়ন নিয়ে সৃষ্ট আইনী জটিলতা দূর করতে ‘পেনশন রুলস এন্ড রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস’ সংশোধন করেছে সরকার।

সংশোধনীর ফলে এখন থেকে কোন সরকারি চাকরিজীবীর স্বামী বা স্ত্রী এবং পুত্র-কন্যা জীবিত না থাকলে; কিংবা ছেলের বয়স ২৫ বছরের বেশি হলে— চাকরিজীবীর মৃত ছেলে বা মেয়ের পুত্র, কন্যা বা হিজড়া তথা তৃতীয় লিঙ্গের নাতি-নাতনিরা পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন।

একইভাবে চাকরিজীবী যদি তাঁর পেনশনের নমিনি বা উত্তরাধিকারী হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করে না যান, তাহলে তাঁর পরিবারের সকল সদস্য সমানহারে প্রাপ্য আনুতোষিক সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে, নাতি-নাতনির বয়স ১৮ বছর হলে তাঁরা এ সুবিধা পাবেন না। এছাড়া, পেনশনারের মৃত ছেলের বিবাহিত বোন কিংবা স্বামী জীবিত আছে, এমন কোন বোন আনুতোষিক সুবিধা পাবেন না।

এক্ষেত্রে মৃত ছেলে বা মেয়ে জীবিত থাকলে যে অনুপাতে পেতেন– তাদের সন্তানেরাও একই অনুপাতে পেনশন বা আনুতোষিক সুবিধা ভোগ করবেন।

বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী, পারিবারিক পেনশন কমপক্ষে ১৫ বছর পাওয়া যায়। দ্য ফ্যামিলি পেনশন রুলস ১৯৫৯-এ মনোনয়ন প্রদান বাধ্যতামুলক করা হলেও এটি কার্যকর না থাকায়– চাকরিজীবীর মৃত্যুতে তাঁর ছেলে সন্তানের বয়স ২৫ বছরের বেশি হলে এ সুবিধা দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেয়ে সন্তান বিবাহিত হলে তারাও এ সুবিধা পান না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সানজিদা সোবহান মারা যাওয়ার পর এই শর্ত অনুযায়ী, তাঁর ছেলে বা মেয়ে কেউই পেনশন সুবিধা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না। তাহলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাপ্য পারিবারিক পেনশন সুবিধা কে পাবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গত কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিকভাবে মিটিং করে আসছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সানজিদা সোবহানের নাতি-নাতনিরা যাতে অবশিষ্ট মেয়াদকালে পারিবারিক পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা পান, সেজন্য পরিবারের সংজ্ঞা পরিবর্তন করে মৃত ছেলে বা মৃত মেয়ের সন্তানদের পরিবারের মধ্যে অনুর্ভূক্ত করে ‘পেনশন রুলস এন্ড রিটায়ারমেন্ট বেনিফিটস’ সংশোধন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।