বরিশাল-ঢাকা নৌপথসহ দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলো এখন নাব্য সংকটে। খনন কার্যক্রমের এক বছর না ঘুরতেই আবারও ডুবোচর দেখা দিচ্ছে কীর্তনখোলা নদীতে। লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, লোকদেখানো ও অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে নদীপথে চলছে দুর্ভোগ, আর নৌযানগুলো পড়ছে চরম বিপাকে।
লঞ্চ মালিকদের ভাষ্য, প্রতি বছর ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে সুফল মিলছে না। খননের বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশই আত্মসাৎ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ড্রেজিং বিভাগ। এতে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলো একে একে অচল হয়ে পড়ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘনা, গজারিয়া, বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-পাতারহাট-লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন নদীপথে শুকনো মৌসুমে পানি তলানিতে নেমে যায়। এতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বরিশাল নৌবন্দরেও একই রকম নাব্য সংকট বিরাজ করছে।
ঢাকা, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা জানান, প্রতিবছরই ড্রেজিং করা হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। বরং ডুবোচরে লঞ্চ আটকে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে নৌযাত্রীদের পাশাপাশি লঞ্চ মালিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ লঞ্চমালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “আগে ড্রেজিংয়ের সময় বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি রাখা হতো। এখন তা বাদ দিয়ে একচেটিয়াভাবে খনন কাজ করছে ড্রেজিং বিভাগ। ফলে চাহিদা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না, বরং সরকারি অর্থ লোপাটের পথ খুলে গেছে।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ভাটায় এক ফুট বালি কাটে আর জোয়ারে এসে মাপে পাঁচ ফুট—এভাবেই বিল উঠানো হয়। নদীর বালি নদীতেই পড়ে থাকে।”
লঞ্চমালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট আক্কাস সিকদারও ড্রেজিং কার্যক্রমের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, “ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। তাই একে একে বন্ধ হচ্ছে দক্ষিণের নৌপথ। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দরকার। নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, ডুবোচর খননের বিষয়টি জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশীদ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এখন সব কিছুই স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে। আগের পরিস্থিতি কেমন ছিল জানি না, তবে সামনে বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি নিয়ে ড্রেজিং করা হবে।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম