বরিশাল-ফরিদপুর এবং বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি)। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুপ্রতীক্ষিত এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার যাতায়াত ব্যবস্থা এই প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণে দেরির কারণে প্রকল্পের ব্যয় ১,৮৬৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত ডিপিপি আটকে থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একাধিক বৈঠক করলেও এখনো প্রকল্প চূড়ান্ত হয়নি।
২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এডিবি’র অর্থায়নে ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা তৈরি হয়। তখনই ধরা হয় প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে আলাদা একটি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১,৮৬৭ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময় ছিল ২০২১ সালের জুন, যা পরে বাড়িয়ে ২০২৪ করা হয়। তবুও অর্ধেক জমিও অধিগ্রহণ হয়নি।
তথ্য মতে, জমির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন বাইপাস নির্মাণ, বরিশাল বিমানবন্দর ডাইভার্শন এবং কিছু স্থাপনা পুনর্বাসনের প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত ২০০ হেক্টরের মতো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৬,৫০০ কোটির বেশি। ইতোমধ্যে বরিশালের ৩৩ কিমি ও মাদারীপুরের ১০ কিমি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু গত অর্থবছরের বরাদ্দের ৮৯০ কোটি টাকার প্রায় সবটাই ফেরত গেছে।
সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সড়ক অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা এবং ছয়টি জেলার প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে এডিবি পুরনো সমীক্ষা ও নকশা বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরুর শর্ত দিয়েছে, কিন্তু সে দিকেও অগ্রগতি নেই।
পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মহাসড়কের দুরবস্থা এবং বাড়তি যানবাহনের কারণে বরিশাল থেকে ফরিদপুর অংশে ৯১ কিমি রাস্তা অতিক্রম করতে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনাও।
পরিকল্পনা কমিশনের উচ্চ পর্যায় থেকে সরেজমিন পরিদর্শনে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেলেও এখনো প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী হলেও বাস্তবতা এখনো হতাশাজনক।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /