ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ দুই বছরে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫, আহত শতাধিক
ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরগুনার আমতলী অংশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাত্র ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে গত দুই বছরে ঘটেছে ৫০টিরও বেশি দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক।

বাঁক, বাজার ও থ্রি-হুইলারের কারণে বিপজ্জনক অবস্থা :
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকদের মতে, সড়কের একাধিক বাঁক, যত্রতত্র বাজার বসা এবং থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল মহাসড়কটিকে কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। যদিও মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ, বাস্তবে আমতলী উপজেলার চৌরাস্তা থেকে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার দিকে প্রতিনিয়ত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা চলাচল করছে।
সড়ক পরিদর্শনে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট, ট্রাক্টর ও টমটমের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি কোনো গ্রামীণ সড়ক বলেই মনে হয়।

বরিশাল থেকে কুয়াকাটাগামী বাসচালক মিজান বলেন, “অবৈধ দোকানপাটের কারণে পথচারীরা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।”
শ্যামলী পরিবহনের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “থ্রি-হুইলারগুলো হঠাৎ রাস্তা পার হয়। তখন আমাদের গাড়ি বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।”
চালক সোহেল জানান, “রাস্তায় প্রচুর বাঁক রয়েছে। কুয়াশার সময় এগুলো দেখা যায় না। চিহ্নিত করার জন্য লাইট বসানো হলে দুর্ঘটনা কমবে।”
আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, “বাঁক, বাজার ও থ্রি-হুইলার—তিনটির সম্মিলিত কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশের ব্যবস্থা নেই। তারপরও আমরা ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল অফিস জানিয়েছে, মহাসড়কের এই অংশকে চার লেনে উন্নীত করতে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এস এল টি /








