পিরোজপুরে সুপারির খোল থেকে তৈরি হচ্ছে পরিবেশবান্ধব তৈজসপত্র

এস এল টি তুহিন, বরিশাল : বনে-জঙ্গলে পড়ে থাকা অপ্রয়োজনীয় সুপারি গাছের পাতা বা খোল এখন আর ফেলনা নয়। এক সময় বাগানে পড়ে থেকে নষ্ট হয়ে গেলেও এখন সেই খোল দিয়ে তৈরি হচ্ছে থালা, বাটি, ট্রে, নাশতার প্লেট সহ নানা রকমের তৈজসপত্র। বাজারে বিদ্যমান প্লাস্টিকের ওয়ানটাইম ব্যবহার উপযোগী প্লেটের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব এসব সামগ্রীর ব্যবহার শুরু হয়েছে রাজধানী ঢাকা, বরিশাল ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
আর পরিবেশ বান্ধর এসব তৈজসপত্র তৈরি করা হচ্ছে পিরোজপুরের স্বারুপকাঠী উপজেলায়।নতুন এ শিল্পের উদ্যোগ দেখে আলোড়ন
সৃষ্টি হয়েছে জেলাজুড়ে। গোটা উপজেলায় রয়েছে সারি সারি সুপারি গাছ। এসব গাছ থেকে ঝরে পড়া সুপরির খোল বা বাইল বেশিরভাগই বাগানে পড়ে থাকে।
কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করেন। কিন্তু জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলার মাহমুদকাঠি গ্রামে সেই সুপারি গাছের শুকনো খোল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পরিবেশবান্ধব ওয়ানটাইম প্লেট তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন আকরাম হোসেন উজ্জ্বল নামের এক ব্যক্তি। আকরাম হোসেন উজ্জ্বল স্থানীয় আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য।
তার প্রতিষ্ঠিত ‘এ আর ন্যাচালার প্লেট’ নামের খোল কারখানায় ইতিমধ্যে ৮ জন কাজ করছে। সুপারি খোল দিয়ে তৈরি এসব থালা, বাটি, ট্র, নাশতার প্লেটের প্রচুর চাহিদা রয়েছে ঢাকাসহ স্থানীয় পার্যায়ে।
স্থানীয়রা ও এই কারখানায় কর্মরতরা বলছে এই শিল্পটি অত্র অঞ্চলের জন্য একটি সম্ভবনাময় শিল্প। এটির বানিজ্যেক ভাবে আরো বড় করতে পাড়লে এলাকার অনেক মানুষ কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে। দূর-দুরন্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে কারখানা থেকেই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এই পণ্য। মানের দিক থেকেই ভালো মজমুদ দাবি ক্রেতাদের।আর আকরাম হোসেনের কারখানায় কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করছেন ৮ জন শ্রমিক। তারা ধরছেন পরিবারের হাল,পড়াশোনা করাচ্ছেন ছেলেমেয়েদের।
পরিবেশবান্ধব ও ন্যাচারল হওয়ার কারনে সচেতন মানুষের কাছে এই পন্যটির চাহিদা অনেক। তাই সরকারি বিভিন্ন সহযোগীতা পেলে এই শিল্পকে আরো বৃহৎ আকারে প্রতিষ্ঠা করা যাবে বলে আশা করছেন উদ্যোক্তা আকরাম হোসেন উজ্জল।
পিরোজপুর সহ দক্ষিণাঞ্চলে এটা একটি সম্ভবনাময় শিল্প। সুপারি খোল নিয়ে যারা ন্যাচালার প্লেট তৈরির কাজ করছে এবং যা আগ্রহী তাদের প্রশিক্ষণ সহ ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করবে সরকার। এমন আশ্বাস বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন বিসিক।
এদিকে পরিবেশের উপরের ভারসম্য রক্ষায় পরিবেশবান্ধন এই তৈজসপত্র তৈরি ও ব্যবহারের জন্য সরকারি ভাবে সহযোগীতা করা হবে সেই সাথে এশিল্পকে স্থায়ী ভাবে গড়ে তুলতে পারলে অনেক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও হবে বলে জানান জেলাপ্রশাসক ।





